ঋগ্বেদ ০৮।০৬৯

ঋগ্বেদ ০৮।০৬৯
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৮ম মণ্ডল সূক্ত ৬৯
একাদশ ঋকের প্রথমার্ধের বিশ্বদেবগণ দেবতা; শেষার্ধের বরুণ দেবতা; অবশিষ্ট

ঋকগুলির বরুণ দেবতা। প্রিয়মেধ ঋষি।

১। যিনি বীরগণের হর্ষ উৎপন্ন করেন, সেই ইন্দ্রের উদ্দেশে তোমরা তিনটী স্তোভবিশিষ্ট অন্ন সংগ্রহ কর। তিনি যজ্ঞভোগার্থ বহুপ্রজ্ঞাবিশিষ্ট, কৰ্ম্মদ্বারা তোমাদিগের সৎকার করিতেছেন।

২। উষাগণের উৎপাদক, নদীগণের শব্দ উৎপাদক, গোসমূহের পতি ইন্দ্রকে আহ্বান কর, যেহেতুক তিনি ক্ষীরপ্রদ গাভী হইতে উৎপন্ন অন্ন ইচ্ছা করিতেছেন।

৩। দেবগণের জন্মস্থানে, আদিত্যের দীপ্তিযুক্ত প্রদেশে যাহারা প্রবেশ লাভ করিতে পারে, যাহাদের দুগ্ধে কূপ পূর্ণ হয়, সেই গাভী সকল সবনত্রয়ে ইন্দ্রের সোম মিশ্রিত করিতেছে।

৪। ইন্দ্র গোসমূহের স্বামী, যজ্ঞের পুত্র, সাধুলোকের পালক, তিনি যাহাতে জানিতে পারেন, সেইরূপে স্তুতিবাক্য দ্বারা তাহার অর্চনা কর।

৫। হরি নামক অশ্বগণ দীপ্তিযুক্ত হইয়া কুশোপরি ইন্দ্রকে ত্যাগ করিয়াছেন, আমরা কুশস্থিত ইন্দ্রকে স্তুতি করিব।

৬। ইন্দ্র যখন চারিদিক হইতে সমীপস্থিত মধুলাভ করেন, তখন গোসমূহ সেই বজ্রযুক্ত ইন্দ্রের উদ্দেশে সোমের সহিত মিশ্রিত করিবার উপযুক্ত মধু দোহন করেন।

৭। যখন ইন্দ্র ও আমি সূর্যের গৃহে গমন করি, তখন আদিত্যের এক বিংশতি স্থানে (১) মধুপান করিয়া উভয়ে মিলিত হই।

৮। হে প্রিয়মেধগণ! তোমরা ইন্দ্রকে অর্চনা কর। বিশেষরূপে অর্চনা কর, পুত্রগণ পুরবিদারীকে যেরূপ অর্চনা করে, সেইরূপ ইন্দ্রের অর্চনা করুক।

৯। গর গর ধ্বনিযুক্ত বাদ্য ভয়ঙ্কর শব্দ করিতেছে, গোধা (২) চতুর্দিকে শব্দ করিতেছে। পিঙ্গলবর্ণ জ্যা শব্দ করিতেছে, অতএব ইন্দ্রের উদ্দেশে উৎকৃষ্ট স্তুতি কর।

১০। যখন শুভ্রবর্ণ, সুন্দর দোহনবিশিষ্ট নদীসকল অত্যন্ত প্রবৃদ্ধ হয়, তখন ইন্দ্রের পানাৰ্থ অত্যন্ত প্রবৃদ্ধ সোম গ্রহণ কর।

১১। ইন্দ্র পান করিলেন, অগ্নি পান করিলেন, বিশ্বদেবগণ তৃপ্ত হইলেন, বরুণ এই গৃহে বাস করুন, বৎসের সহিত মিলিত গোসকল যেরূপ বৎসের জন্য শব্দ করে, সেইরূপ উদকসমূহ বরুণের স্তুতি করিতেছে।

১২। হে বরুণ! তুমি সুদেব, রশ্মিসমূহ যেরূপ সূৰ্য্যাভিমুখে ধাবিত হয়, সেইরূপ তোমার তালুতে সপ্তনদী অনুক্ষণ প্রবাহিত হইতেছে।

১৩। যে ইন্দ্র বিবিধ গমনবিশিষ্ট রথে সম্বদ্ধ অশ্বগণকে হব্যদাতার নিকটে গমনার্থ ছাড়িয়া দেন, যে ইন্দ্র উপমাস্থল, যাহাকে সকলে পথ ছাড়িয়া দেন, সেই ইন্দ্র সকলের নেতা হন।

১৪। শত্রু সংগ্রামে শত্ৰুদিগকে অতিক্রম করিয়া চলিয়া গেলেন, সমস্ত দ্বেষকারিগণকে অতিক্রম করিয়া গমন করেন। কমনীয় উৎকৃষ্ট ইন্দ্র বাক্যদ্বারা তাড়না করতঃ মেঘ ভেদ করেন।

১৫। এই ইন্দ্র, ক্ষুদ্ৰশরীর কুমারের ন্যায় নুতন রথে অধিষ্ঠান করিতেছেন। ইন্দ্র পিতামাতার জন্য প্রকাণ্ড মৃগস্বরূপ, বহুকৰ্ম্মা মেঘকে পরিপক্ক করিতেছেন।

১৬। হে সুন্দর হনুবিশিষ্ট রথস্বামী! তুমি স্বচ্ছন্দগমনকারী, দীপ্ত, সহস্রপাদবিশিষ্ট, উজ্জ্বল হিরন্ময় রথে আরোহণ কর, পরে আমরা দুজনে মিলিত হইব।

১৭। অন্নবানগণ আপনিই দীপ্ত ইন্দ্রকেই এই প্রকারে সেবা করিতেছে। পরে যখন গমনার্থ এবং হব্যদানার্থ ইন্দ্রকে আবর্তিত করে, তখন সুস্থাপিত ধন প্রাপ্ত হয়।

১৮। প্রিয় মেধাগন ইহাদিগের পুরাতন স্থান প্রাপ্ত হইয়াছেন, তাঁহারা পূর্বপ্রদানের নিমিত্ত কুশ বিস্তীর্ণ করিয়াছেন এবং হব্য স্থাপন করিয়াছেন।


(১) একবিংশতি স্থান যথা—দ্বাদশমাস, পাঁচঋতু, তিনলোক আর আদিত্য।

(২) হস্তঘ্ন্য। সায়ণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *