• Skip to main content
  • Skip to header right navigation
  • Skip to site footer

Bangla Library

Read Bengali Books Online (বাংলা বই পড়ুন)

  • Login/Register
  • Account

বরিশালের যোগেন মণ্ডল – দেবেশ রায়

লাইব্রেরি » দেবেশ রায় » বরিশালের যোগেন মণ্ডল – দেবেশ রায়
বরিশালের যোগেন মণ্ডল – দেবেশ রায়
লেখক: দেবেশ রায়বইয়ের ধরন: উপন্যাস

বরিশালের যোগেন মণ্ডল – দেবেশ রায়

বরিশালের যোগেন মণ্ডল – উপন্যাস – দেবেশ রায়
প্রথম প্রকাশ : বৈশাখ ১৪১৭, এপ্রিল ২০১০
প্রচ্ছদ : নিবেদিতা সেন-এর অঙ্কিত একটি চিত্র তাঁর অনুমতি নিয়ে ব্যবহার করা হয়েছে।
লিপি : তৃপা রায়

.

উৎসর্গ

বেণুমাসিকে

বেণুমাসি ছিলেন আমাদের মাতৃসমা। তিনি সারাজীবন আমাদের লালনপালন করেছেন।

দেশ থেকে জলপাইগুড়িতে যখন চলে আসি আমরা, ৪৩-এ, বেণুমাসি তো তখন আসবেনই। ১৯৫৩ পর্যন্ত সমরেশ ছিল আমাদের সবচেয়ে ছোটভাই। সমরেশের জন্মের পর মা এমন অসুখে পড়েন যে তাঁকে স্থানান্তরে নিয়ে যেতে হয়। আমরা ভাইবোনরা কখনো-সখনো ভাবতাম মা আর বেঁচে নেই। কিন্তু বেণুমাসি আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন।

সমরেশকে লালন করেছেন। সমরেশ তার ছোট মা-র কাছেই খেত-শুত। আমার মা-কে বেণুমাসি ডাকতেন ‘বৌমা’ বলে। এমন ভাবতে চাই এখন, এমন ভাবতে ভাল লাগে, আমরা ভাইবোনরা শূদ্রাণী-পালিত বংশ।

এই উপন্যাসটির গল্পটুকুতে আমার সেই বাল্য-কৈশোর-প্রথম যৌবনের পারিবারিক শূদ্রপ্রচ্ছায়া চিনতে পেরেছি, রচনার সময় জুড়ে বেণুমাসির গলার স্বর শুনতে পেয়েছি ও ভারী কাজের ওতপ্রোত বিষণ্ন ক্লান্তিতে বেণুমাসির অদৃশ্য হাতের ছোঁয়ায় সেরেও উঠেছি।

এ-লেখাটি বেণুমাসি ছাড়া কাউকে দেয়া যায় না।

নববর্ষ ১৪১৭

.

কৃতজ্ঞতাজ্ঞাপন

যে-কোনো আক্কেলে মানুষই বুঝবেন—পুরনো একটি সময়, অনেকেরই জানা ঘটনা ও মানুষজন নিয়ে এত জনবহুল ও পৃষ্ঠাবহুল একটি লেখা কত মানুষের কত রকম সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। শিল্পকর্মের তেমন কোনো কৃতজ্ঞতার দায় স্বীকার করা অনর্থক। কিন্তু যদি কারো শারীরিক শ্রম নিয়ে থাকি, তা স্বীকার না-করা ঋণখেলাপি।

সমরেশ রায়, আমার ভাই, যা খেটেছে সেটাই এই বইটি লেখা হয়ে ওঠার প্রধান একটি কারণ। বাংলাদেশের শামীম রেজা ও অন্যান্য বন্ধুরা হাত-উজাড় সাহায্য করেছেন। অধ্যাপক বন্ধু স্বপন পাণ্ডা, শাশ্বতী মজুমদার, মণিময় মুখোপাধ্যায় এঁরা নিজেদের শরীরের অসুবিধে, ও শেষ দু-জন কলকাতা আসা-যাওয়ার নিত্য বাধা, যে-অনায়াসে উৎরে এই এত বড় লেখার প্রুফ একাধিক বার দেখে দিয়েছেন সেটা যেন রহস্যময় ঠেকে। শাশ্বতীই একমাত্র নানা আকারে পুরো পাণ্ডুলিপি অনেকবার পড়েছেন ও তাঁর স্বাধীন মত-অমত জানিয়ে আমাকে সংস্কারে সাহায্য করেছেন। অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বদলি, টানা ও পাকা প্রুফের ও অনবরত বদলের ঝামেলা মিটিয়েছেন। সিতশ্রী ভড় ম্যাপগুলো এঁকে দিয়েছেন আমার আবছা ইচ্ছে অনুমান করে। বর্তমানে দিল্লিবাসিনী নিবেদিতা সেন-এর আঁকা অনেক ছবি দেখছিলাম—তাঁর কল্পনা ও সামর্থ্যে মুগ্ধ হয়ে। এই ছবিটি তিনি প্রচ্ছদে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন।

সবচেয়ে বেশি রাত জাগতে হয়েছে মুদ্রক দিলীপ দে-কে। দিলীপ কিছুতেই কেন যে হাল ছাড়েননি!

আমার প্রধান প্রকাশক সুধাংশুশেখর দে আমাকে শুধু আরো নির্ভরশীল করে তুললেন দু-বছরের বেশি সময় ধরে বইটি ছাপানোর প্রক্রিয়া সয়ে।

আমার বন্ধু অরুণ সেন লেখালিখি সংক্রান্ত সব ব্যাপারেই আমার ভরসা ও চিরসখা। ফোন, ইন্টারনেট, বইপত্র, ম্যাপ জোগাড়, লোকজনের হদিশ এত সব জটিলতা অরুণই সামলেছেন।

দেবেশ রায়
নববর্ষ, ১৪১৭
বল্মীক আবাসন
কলকাতা ৭০০ ০৫৯

.

এই নভেলটি ১৯৩৭ থেকে ৪৭-এ বাংলায়। একমাত্র বাংলাতেই, যা সব ঘটনা ঘটেছে ও সে-সব ঘটনার ফলে বাংলা সারা ভারতের শাসননীতি ও রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে থাকে, তার নানা গল্প।

.

যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল প্রায় সম্পূর্ণ বিস্মৃত এখন। ১৯৩৭ থেকে ৪৭ এই দশটি বছরে তিনি ছিলেন বাংলার নমশূদ্রদের অবিসংবাদী নেতা। বাংলার ও ভারতের রাজনীতিতে পরে তিনি প্রধানতম বিসংবাদী নেতা হয়ে ওঠেন। ১৯৪৩-এ খাজা নাজিমুদ্দিনের প্রাদেশিক মন্ত্রিসভায় তিনি ছিলেন। ৪৬-এ পুনর্নির্বাচিত হয়ে সারওয়ারদির মন্ত্রিসভাতেও। ১৯৪৬-এ তিনি মহম্মদ আলি জিন্না কর্তৃক অন্তর্বর্তী মন্ত্রিসভায় মুসলিম লিগের প্রতিনিধি মনোনীত হওয়ায় হিন্দু ও মুসলিম দুই জাতেরই শত্রু হয়ে পড়েন। তিনি পাকিস্তানের প্রথম মন্ত্রিসভায় আইনমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৫০-এ কলকাতায় চলে আসেন। আম্বেদকর ও যোগেন মণ্ডল তাঁদের শূদ্রতার কারণে কোনো জাতীয়তাবাদেই গৃহীত হন নি। কিন্তু বহু নিন্দা ও বিরোধিতার পর কংগ্রেস দলিত-ভোটের জন্য আম্বেদকরকে জাতীয়-আখ্যানের দেবমণ্ডলিতে জায়গা করে দেয়। বাংলা বিভক্ত হওয়ায় যোগেন মণ্ডল সম্পর্কে তেমন কোনো দায় বা ভয় জাতীয়তাবাদীদের ছিল না। তাঁকে তাই ইতিহাস থেকে স—ম্—পূ—র্ণ মুছে দেয়া হয়েছে। তাঁর নাম এখন কোনো স্থানীয় ইতিহাসের ফুটনোটেও থাকে না।

.

বাংলা ছিল মুসলিম প্রধান ও তপশিলিজন অধ্যুষিত। কংগ্রেসের হিন্দুওয়ালা নেতারা সুভাষচন্দ্রকে কংগ্রেস থেকে তাড়ালেন। মুসলিম লিগের অবাঙালি নেতারা ফজলুল হককে লিগ থেকে তাড়ালেন। ব্রিটিশ যুদ্ধনীতি পূর্ব পরিকল্পনামত সিঙ্গাপুর, মালয়, ব্রহ্মদেশ ও থাইল্যান্ড থেকে পশ্চাদপসরণ করে বাংলাকে যুদ্ধের পূর্ব রণাঙ্গন করে তোলে। ফলে, নিম্নবঙ্গকে ধ্বংস করে দেয়া হল ও যুদ্ধের রেশন চালাতে বাংলায় ঘটল ৪৩-এর দুর্ভিক্ষ। ৪৫-এ ম্যালেরিয়া মহামারী। ১৯৪০ পর্যন্ত ও ১৯৪৫-এর পর হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা ছিল বাংলার নিজস্ব রাজনীতি।

ভারতের অন্য কোনো প্রদেশ থেকে বাংলা কোনো প্রকার সাহায্য পায়নি। এমনকী সর্বাধিক সংখ্যক রাজবন্দীদের জন্যও তারা জেলখানায় জায়গা দেয়নি।

এই নতুন সময়ে বাংলার তপশিলি নেতা বরিশালের যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল ছিলেন অবিসংবাদী শূদ্রনেতা। তিনিই প্রথম বলেন, উচ্চবর্ণ হিন্দুদের রক্ষা করা শূদ্রদের কাজ নয় ও মুসলমানদের সঙ্গে শূদ্রদের শ্ৰেণীগত মিল অনেক বেশি। এই শূদ্র যোগেন মণ্ডলই একমাত্র ভারতীয় যিনি পাকিস্তানকে তাঁর স্বদেশ বলেছিলেন ও সেই কালবেলায় ভারতবর্ষ-ধ্যানটিকে রক্ষা করেছিলেন।

Book Content

১
১. যোগেন মণ্ডল : ‘বরিশালের মেগাস্থিনিস’
২. যোগেনের ভোটপ্রচার
৩. যোগেনের ভোটপ্রচার : ইসারদির হাট
৪. ভোটের সাতসকালে দুঃসংবাদ
৫. ১৯৩৭-এ বরিশালে সাইকেল
৬. সাইকেলে ব্যক্তিত্ব : অশ্বিনী দত্ত ও যোগেন মণ্ডল
৭. সাইকেলে ইতিহাস : বীরনগর, কাশীপুর, লাখুটিয়া, শিকারপুর, মাধবপাশা, চাঁদপাশা, দেহের গতি…
৮. সাইকেল : জলপথে ওপারে, বাটাজোড়ে
৯. কংগ্রেসের পৈতে-তিলকের নখদাঁতের বদলা
১০. বাটাজোড় থেকে দলবলে ফিরে, একলা
১১. প্রভু জগবন্ধু জয়, যোগেনো মণ্ডলো জয়
১২. কাটা জিভের ভাষা
১৩. দুর্গা সেনের কাছে
১৪. নৌকাপথে মৈস্তারকান্দি
১৫. যা জিগ্যাইবেন তা সত্যি তো?
১৬. মিলনশয্যায় যোগেনের জাগরণ ও কিছু পুরনো কথা
১৭. বরিশালে ঝালাই নাই?
১৮. যোগেনের সংবর্ধনা
১৯. যোগেনের রিস্টওয়াচ ও ফাউন্টেন পেন লাভ ও নানা বাবুসাক্ষাৎ
২০. যোগেনের প্রিপজিশন
২১. হরির লুট
২২ : ফজলুল হকের বার্তা
২
২৩. হকশাহেবের বাড়ি
২৪. সরষের তেল ও বেগুনের কাঁটা
২৫. হকশাহেবের গান-তোলানো
২৬. ফজলুল হকের মাথা ও যোগেনের সন্দেহ
২৭. যোগেনেরা এল কোত্থেকে? যায় না-হয়–কলকাতায়
২৮. একটা কোরাস তৈরি হওয়ার আগেই ভেঙে গেল
২৯. একটু হয়ত দেরিতে, কিন্তু পৌঁছে গেল যোগেন
৩
৩০. যোগেন এমএলএ কলকাতায়
৩১. তপশিলিদের মিটিং
৩২. শুধু হিন্দুও নয়, শুধু মুসলমানও নয়
৩৩. শুদ্দুর থাইকলেও নাই
৩৪. যোগেনের বোঝাবুঝি
৩৫. সেক্রেটারি : শিডিউল্ড কাস্ট অ্যাসেম্বলি পার্টি
৪
৩৬. কংগ্রেস-হক আলোচনা
৩৭. এক কংগ্রেসের কটা ঘর
৩৮. হকশাহেবের জনসাধারণ ও তুলসী গোঁসাইয়ের বক্তৃতা
৩৯. নলিনী সরকার মাঠে নামেন
৪০. হকশাহেব-সামসুদ্দিন-নাজিমুদ্দিন-সারওয়ারদিদের নৈশভোজ
৪১. নলিনী সরকারের অসাম্প্রদায়িক ডিনার
৪২. খবর ফাঁসাতে সামসুদ্দিন অমৃতবাজারে
৪৩. কংগ্রেস-এর হকত্যাগ ও হকশাহেবের লিগ প্রবেশের ফলাফল
৪৪. বড়লাট লিনলিথগোকে লেখা ছোটলাট অ্যান্ডারসনের গোপন চিঠি
৫
৪৫. নবাব ফারুকির প্রস্তাব : স্যার রহিমকে মন্ত্রিসভা গড়তে ডাকুন
৪৬. হকশাহেবকে ডাকেন ছোটলাট, পরদিন মন্ত্রী হওয়ার লাইন
৪৭. আইনসভার প্রথম অধিবেশন ৭ এপ্রিল, ১৯৩৭ : নামাজহেতু বিলম্ব
৪৮. ‘কংগ্রেস যেন স্পিকারপদে প্রার্থী না দেয়’
৪৯. স্পিকার ভোট ঠেকে থাকে : অনাস্থার কাগজে কংগ্রেস সই জোগাড়ে লাগে
৫০. যোগেন আইনসভায় রপ্ত হচ্ছে
1 of 4
তিস্তাপারের বৃত্তান্ত – দেবেশ রায়

তিস্তাপারের বৃত্তান্ত – দেবেশ রায়

Reader Interactions

Comments

  1. Megh

    December 13, 2025 at 7:58 am

    Please upload দ্রোণ written by Sandeep Das

    Reply
  2. Megh

    December 13, 2025 at 10:34 am

    Please upload ঋজু দ্য স্পাই written by শাশ্বতী চৌধুরী

    Reply
  3. Megh

    December 13, 2025 at 10:38 am

    Please upload রুহানা written by সায়ন বন্দোপাধ্যায়

    Reply
  4. Suchana Mukherjee

    December 17, 2025 at 2:15 am

    সুচিস্মিতা ধর এর লেখা কোনো ভৌতিক উপন্যাস upload করুন please

    Reply

Leave a Reply Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

লেখক

সিরিজ

বইয়ের ধরণ

বাংলা ডিকশনারি

বাংলা জোক্স

বাংলা লিরিক্স

বাংলা রেসিপি

বিবিধ রচনা

বাংলা হেলথ টিপস

Download PDF


My Account

Facebook

top↑

Login
Accessing this book requires a login. Please enter your credentials below!

Continue with Google
Lost Your Password?
এভারগ্রিন বাংলা লোগো
Register
Don't have an account? Register one!
Register an Account

Continue with Google

Registration confirmation will be emailed to you.