1 of 4

৪৩. কংগ্রেস-এর হকত্যাগ ও হকশাহেবের লিগ প্রবেশের ফলাফল

৪৩. কংগ্রেস-এর হকত্যাগ ও হকশাহেবের লিগ প্রবেশের ফলাফল

ভোট নিয়ে, ইউনাইটেড মুসলিম পার্টি নিয়ে, কৃষক-প্রজা নিয়ে, এর সঙ্গে ওর ঐক্য হওয়া ও না-হওয়া নিয়ে, কী কী সরকার তৈরি হতে পারে তা নিয়ে আর সবার ওপরে পটুয়াখালিতে নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে ফজলুল হকের লড়ালড়ি নিয়ে কলকাতার ইংরেজি-বাংলা কাগজগুলোতে ১৯৩৬-এর পুজোর পর থেকে ১৯৩৭-এর এই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত

খবরের আর শেষ ছিল না। আকরাম খাঁ-র সাপ্তাহিক ও মাসিক ‘মোহম্মদী’, আকরাম খাঁর ‘আজাদ’, নাজিমুদ্দিনের ‘স্টার অব ইনডিয়া’, বসুমতী সাহিত্য মন্দিরের ‘বসুমতী’, সুরেশ মজুমদারের ‘আনন্দবাজার পত্রিকা, ঘোষদের ‘অমৃতবাজার পত্রিকা’ শরৎ বোসদের ‘ফরোয়ার্ড’–এদের প্রত্যেকটা কাগজই ছিল কোনো-না-কোনো পার্টির প্রচারপত্র ও বলা বাহুল্য পরস্পরের স্বার্থবিরোধী। কিন্তু এতসব কাগজের এতসব পুরনো ও জিয়নো স্বার্থ এমন এক হয়ে গেল কী করে ও কেন যে কংগ্রেস প্রজাপার্টির আলোচনা ভেঙে যাওয়ার খবর ১১ তারিখের সকালেও কোনো কাগজে বেরল না।

এমনকী নবাব হবিবুল্লাহের সঙ্গে ফোনাফুনির খবরও ১১ তারিখের সকালে বেরল না।

এমনকী নলিনী সরকারের বাড়ির ১০ তারিখের নৈশভোজের খবরও কোথাও বেরল না।

এমনকী ১২ তারিখের সকালের মিটিংয়ের খবর পর্যন্ত না।

বাংলায় রাজনীতি ও সমাজসংস্কার নিয়ে সেই ১৮১৮ সাল থেকে নানা মতের খবরের কাগজ বেরিয়েই আসছে। মুসলিম মালিকানায় দায়িত্ববান কাগজ বেরতে-বেরতে হয়ত উনিশ শতক পেরিয়ে গেছে কিন্তু মুসলিম সমাজের স্বার্থ নিয়ে কাগজে লেখালেখিও বাংলা খবরের কাগজ শুরু হওয়ার সময় থেকেই আছে। সিপাহি বিদ্রোহের সময় বাংলা কাগজে মুসলমানদের বিপক্ষে প্রকাশ্য লেখা হয়েছিল। তারপরই নীলবিদ্রোহ, সাঁওতাল বিদ্রোহ (বিভিন্ন পর্যায়ের), চুয়ার বিদ্রোহ, পাবনা বিদ্রোহে কৃষক ও রায়তদের সম্পর্কে কিছুটা পক্ষপাতী লেখার সুবাদে মুসলমান-বিরোধিতা প্রধান হয়ে উঠতে পারেনি। উনিশ শতকের শেষ বিশ-পঁচিশ বছরের নব্য হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার লক্ষ ছিল, হিন্দু সমাজের সংরক্ষণ। বিশ শতকের শুরু থেকেই, বিশেষ করে প্রথম বঙ্গভঙ্গে হিন্দু ও মুসলিম সাংবাদিকতা আলাদা হয়ে যায় ও সাম্প্রদায়িক হয়ে পড়ে।

সাংবাদিকতার এত পুরনো ইতিহাস ও বিদ্বিষ্ট সাম্প্রদায়িক প্রচারে খবরের কাগজকে কাজে লাগানোর কায়দাকানুন আয়ত্তে থাকা সত্ত্বেও কংগ্রেস আর প্রজা পার্টির আলোচনা ভেস্তে যাওয়া ও লিগপ্রজা কথা-শুরু খবরটা ১৩ ফেব্রুয়ারি ‘স্টার অব ইনডিয়া’র টেলিগ্রাফ-সংস্করণে ফজলুল হক, ইস্পাহানি, সামসুদ্দিন আমেদ, সারওয়ারদি ও ঢাকার নবাব খাজা হবিবুল্লাহের বিবৃতির আগে কোথাও বেরল না। সেই ইংরেজি বিবৃতিতে ছিল, ‘বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেমব্লির নির্বাচিত সমস্ত মুসলমান সদস্য ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করুন—সারা প্রদেশে ব্যস্ত অত্যন্ত গভীর আবেগপ্রসূত এই আকাঙ্ক্ষার প্রতি স্বীকৃতি জানিয়ে ও এই প্রস্তাব কার্যকর করার সম্ভাবনা সম্পর্কে সদস্যদের পূর্ণ বিশ্বাস জ্ঞাত হওয়ার পর, লিগ ও প্রজাপার্টির নেতাগণ মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সংবিধানকে কার্যকর রাখার উদ্দেশ্যে এ কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে সহযোগিতা করার সম্মতিতে পৌঁছেছেন, পার্টি দুইটির অনুমোদন সাপেক্ষে।

এই বিবৃতি বেরল ১৩ তারিখ সকালে। পরদিনই ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রজা পার্টির কর্মসমিতি ও তার পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গীয় প্রাদেশিক মুসলিম লিগের কর্মসমিতি নেতাদের এই প্রস্তাব অনুমোদন করল। দশদিন পর ২৬ ফেব্রুয়ারি একে ফজলুল হক ও ঢাকার নবাব এক যৌথ বিবৃতিতে জানান যে এ-বিষয়ে আইনসঙ্গত চুক্তি সম্পাদিত হয়ে গেছে।

মাঝখানে ২২ ফেব্রুয়ারি ‘ফরোয়ার্ড’ কাগজে লেখা হল, ‘এ-কথা জানাবার অবস্থায় আমরা পৌঁছেছি যে বাংলাপ্রদেশে, প্রথম মন্ত্রিসভা তৈরির জন্য কংগ্রেস পার্টি ও প্রজাপার্টির মধ্যে সমঝওতার প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত হয়েছে। প্রজা পার্টির কর্মসূচিতে রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির দাবি অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এই প্রত্যাশা জাগরুক হয়েছিল যে কংগ্রেস পার্টি ও প্রজা পার্টি বিরোধীপক্ষেই হোক আর সরকারপক্ষেই হোক একযোগে কাজ করতে পারবে কিন্তু দেখা গেল যে প্রজানেতারা রাজবন্দীদের মুক্তিদাবিকে গভর্নরের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার একটি বিষয় করতে চায় না, তাঁরা শুধু রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে আইনসভায় নানা প্রস্তাব গ্রহণ পর্যন্ত যেতে রাজি।…এই শর্ত মেনে নেয়া কংগ্রেসের পক্ষে অসম্ভব। কারণ এই শর্ত মেনে নেয়ার অর্থ দাঁড়ায় কংগ্রেস সদস্যরাও পরোক্ষত মনে করেন যে রাজবন্দীদের মুক্তি দেয়াটা বিপজ্জনক হতে পারে।’

১৯৪৭-এ দেশভাগের ভিত্তিতে স্বাধীনতা মেনে নেয়া উচিত হয়েছিল কী অনুচিত-এমন একটা নীতিগত প্রশ্নের মীমাংসা থেকে তখনকার বাস্তব বিকল্পগুলি খোঁজাই যাবে না।

এটা তো প্রমাণ হয়ে গেছে—ইসলাম আনুগত্যের প্রাদেশিক জনসংখ্যার কমবেশি ধরে যে পাকিস্তান কল্পনা করা হয়েছিল, সে কল্পনা এক দশকও অটুট থাকেনি। পাকিস্তানের কোনো সংবিধান বা গণতন্ত্র গড়েই উঠতে পারেনি। গণতন্ত্রকে অনিশ্চিত করে দেয় আর-একটি কোনো বিকল্প সমাবেশ—সেনাবাহিনী।

এখন হয়ত এ-কথাও বলা যায়, ভারত-পাকিস্তানের স্বতন্ত্র স্বাধীনতা দিয়ে উপনিবেশ-মুক্তির প্রথম প্রহর শুরু হয়েছিল। মাত্র বার-চোদ্দ বছরের মধ্যে নতুন-নতুন সব স্বাধীন দেশ তাদের সত্তা হারিয়ে ফেলল সেনাবাহিনীর সমর্থিত কোনো এক প্রেসিডেন্ট বা প্রধানমন্ত্রীর দৈত্যাকার ছায়ার ভিতরে। সেসব সেনাবাহিনীও বেশিরভাগ সময় বাইরের দেশ থেকে আসা ও কোনো বাইরের দেশের ইচ্ছেতেই রাষ্ট্রগুলির বদলে রাষ্ট্রের ছায়াগুলি এমন সত্তাগ্রাসী আকার পায়। এই দেশগুলির মধ্যে এখন পাকিস্তান প্রবীণতম। সে হিশেবে পাকিস্তানকে এখন ষাট বছরের পুরনো বিশ্বব্যবস্থার স্মারকচিহ্ন বা রেলিকও বলা যায়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরের পৃথিবীর নতুন দেশবিন্যাসে পাকিস্তানই প্রথম দেশ যারা নিজেদের ইসলামি ঘোষণা করেছিল। প্রবীণ পাকিস্তানের একটি অংশ এখন দুনিয়ার অন্যতম নবীন রাষ্ট্র। বাংলাদেশ। সেখানে ভাষা স্বাদেশিকতার বোধ রাজনৈতিক ক্ষমতার আধার হয়েছে বটে—যেমন মধ্য ইয়োরোপে ঘটেছে— আলবানিয়া, রোমানিয়া, সারাজেভো সার্বিয়ায়, তবু বাংলাদেশে তাদের ভাষা-স্বাদেশিকতা থেকে স্থায়ী কোনো রাষ্ট্ররূপ তৈরি হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশের মানুষের মনে একটা অস্পষ্ট অপরাধবোধ কাজ করে যে জিন্না-র নেতৃত্বের পাকিস্তান পরিকল্পনার অনুগামী হিশেবে তারাও তো দেশভাগের পক্ষেই কাজ করেছে। ফলে যে-মধ্যবিত্ত তার উত্থানের সমস্ত শক্তি দিয়ে বাংলাভাষাকে আন্তর্জাতিক করে তুলছে, তারা বাংলাদেশের সহযোগী সত্তা হিশেবে পশ্চিমবঙ্গকে পাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গের ব্যবসায়-রাজনীতি-পঠনপাঠন-গবেষণা, প্রতিষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাভাষা অধস্তন হয়ে রয়েছে।

ইতিহাস তো বিচারক নয়। হবেই-বা কী করে? তামাদি ঘটনা ছাড়া তো ইতিহাস হয় না। আর এখনকার ঘটনা ছাড়া তো কোনো বিচার হয় না। হ্যাঁ—আ, এখনকার দরকার থেকেই ইতিহাস খোঁজা হয়—এমন একটা গদগদে কথা যদিও-বা মানা যায়, ইতিহাস ছাড়া কার্যকারণ জানা যাবে না—এমন আহাম্মকি কথার এক পয়সারও ক্রয়ক্ষমতা নেই, যুদ্ধে পরাস্ত রাষ্ট্রের নোট বা খুচরোর মত। ইতিহাসের আছে মাত্র কতকগুলি পদ্ধতি। সে-পদ্ধতি থেকে সত্য তৈরি হয়, সত্য বাতিলও হয়। সত্যনির্মাণ ও সত্যবিনির্মাণের এই পদ্ধতির কারণেই ইতিহাসের ভিতরে নীতিগত ভালমন্দ, উচিত-অনুচিতের ভেজাল মিশে যায়। ভারতে আবার সেই নীতিবোধগুলি মিথ্যা দিয়ে ঠাসা। ভারতের নানা ধর্মের মানুষের বৈচিত্র্য আছে বটে কিন্তু সত্য কী হওয়া উচিত আর মিথ্যা কী হওয়া উচিত—সব ঠিক করা আছে। শুধু মিলিয়ে দিতে হয়। সেই ভেজাল থেকে আবার কতকগুলি সরবতা-নীরবতা তৈরি হয়। যন্ত্র বা যুক্তির শৃঙ্খলা। আসলে সে-সবের বালাই সেই সরবতা—নীরবতার সঙ্গতি রেখে নেতারা ঘটনা জানিয়ে দেন। বা, বানানো ঘটনার ব্যাখা বদলে দেন। সেই নতুন ঘটনা আবার নতুন সরবতা-নীরবতার দিকে চলে যায়।

ফজলুল হকের সঙ্গে কংগ্রেসের আপোশ প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেল। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি চেয়েছিল, বাতিল হোক। সে-চাওয়াটা নিয়ে তারা সরব হয়নি। শরৎ বোসের মত নেতারা চেয়েছিলেন, মন্ত্রিসভা তৈরি হোক। সে-চাওয়াটা নিয়ে তারা সরব হয়নি। সরব না-হওয়ার একটা কারণ হয়ত ছিল প্রদেশ কংগ্রেসের নেতাদের ভিতরে অমিল। সে মতানৈক্য এতই গভীর ছিল যে একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সেই নেতাদের থাকারই কথা নয়। মুসলিম লিগের নেতাদের মধ্যেও অনৈক্য ছিল কিন্তু তাদের পার্টি তখন এত ছোট যে সেই অনৈক্য সত্ত্বেও তাদের এক পার্টিতেই থাকতে হত। ফললুল হক তাঁর মতবদল, দলবদল, কোনো গোপন বাধ্যতার ওপর ছেড়ে দেননি। ইউনাইটেড মুসলিম পার্টির উদ্দেশ্য যে তিনি ধরে ফেলেছেন, তা, কোথাও গোপন করেননি। ইউনাইটেড মুসলিম পার্টিও গোপন করেনি।

এতটা প্রকাশ্যতা সত্ত্বেও প্রজা পার্টি ও কংগ্রেসের আলোচনার ব্যর্থতা নিয়ে কোনো একটি কথাও কেউ বললেন না কেন, মুসলিম লিগের সঙ্গে প্রজা পার্টির সমঝওতার খবর প্রকাশ্য বিবৃতিতে প্রচারিত হওয়ার আগে?

সে-নীরবতায় কি নিহিত ছিল বাঙালির সমষ্টিগত কোনো সদিচ্ছা বা সম্মতি। জমিদারি উচ্ছেদ হকশাহেবের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হলেও কংগ্রেসের সঙ্গে বাঁধা থাকলে মধ্যস্বত্ব আরো কিছুদিন থেকে যাবে—হিন্দুদের এমন একটা আশা ছিল? কিশোরগঞ্জ দাঙ্গা, নেয়াখালিতে হিন্দু মহাজনের বাড়ি আক্রমণ ও লুট—এই সব ঘটনা সত্ত্বেও কৃষক-প্রজা পার্টির নামকরণে ‘প্রজা’ বলে যাদের চিহ্নিত করা হয়েছিল, তারাও কিন্তু চাষি-জমিদার সম্পর্কের ধাঁচার বাইরে যেতে চায়নি। কংগ্রেসের ভিতরে থেকেই বামপন্থীরা—সোস্যালিস্ট ও কমিউনিস্টরা-জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বা কলেজের পড়াশুনো শেষ করে বাংলার বেশ দুর্গম জায়গাতেও জমিদার- জোতদারের নানা ছুতোর আদায় না দিতে কৃষকদের সংগঠিত করছে, জমিদার-জোতদার- মহাজনের হাট ভেঙে দিয়ে ‘দশের হাট’ বসাচ্ছে। হিন্দু মধ্যশ্রেণির একটা বড় ভরসা ছিল হকশাহেবের ওপর। সেই সম্মতির কারণেই কি ঐ নীরবতা রক্ষা করা হয়েছিল ১০ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি? সে-নীরবতার ভিতর কি ছিল এমন প্রত্যাশা যে কংগ্রেস সমর্থন না করলেও তপশিলি জাতিগুলির সংরক্ষিত আসনের মেম্বারদের মধ্য থেকে ও স্বতন্ত্র মুসলিম মেম্বারদের মধ্য থেকে কিছু সমর্থন হয়ত হকশাহেবকে একটা সুযোগ তৈরি করে দেবে।

এর উলটোটাও একইরকম সত্য হতে পারে।

বাংলার মানুষজন হিন্দু-মুসলমানে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। গ্রাম-শহরের হিন্দুরা ভয় পেয়েছিল। লিগ ও প্রজাপার্টির মধ্যে মুসলিম ভোটের ভাগাভাগিতে নতুন সরকারের ওপর মুসলমানদের আধিপত্য থেকে রেহাইয়ের একটা সম্ভাবনা হিন্দুরা হিশেবে এনেছিল। কংগ্রেস সমর্থন দিতে আপত্তি করায় হিন্দুদের তেমন কিছু আশা করার মত থাকল না। পরন্তু প্রজা পার্টি ও মুসলিম লিগ একত্র হওয়ায় মুসলমান জনসাধারণ নতুন আশা পেয়েছিল। ঐ নীরবতা তৈরি হয়েছিল সেই ভয়ে ও আশায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *