৪৪. বড়লাট লিনলিথগোকে লেখা ছোটলাট অ্যান্ডারসনের গোপন চিঠি
১৯৩৫-এর ভারত-শাসন আইন পাশ হওয়ার পর ভারতের ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো নিয়ম করেছিলেন প্রত্যেক প্রাদেশিক গভর্নর পনের দিন অন্তত নিজ-নিজ প্রদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জানিয়ে ভাইসরয়কে একটা গোপন রিপোর্ট দেবেন। ১৯৪৭-এর ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই নিয়ম মেনে চলা হয়েছে। ১৯৩৭-এর ২৬ ফেব্রুয়ারি ফজলুল হক ও ঢাকার নবাব যৌথ বিবৃতিতে প্রজালিগ মন্ত্রিসভা গঠনের সংবাদ দিলে ও তার আগে ‘ফরোয়ার্ড’ কাগজে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রজা-কংগ্রেস আলোচনার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিলে, বাংলার গভর্নর জন অ্যানডারসন এই চিঠি লিখলেন ভারতের ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগোকে।
৯ মার্চ, ১৯৩৭
গভর্নমেন্ট হাউস
ক্যালকাটা
মাই ডিয়ার লিনলিথগো,
কী হতে যাচ্ছে সে বিষয়ে নিশ্চিত জায়গায় না পৌঁছে তোমাকে কিছু জানাতে চাইনি বলে ফেব্রুয়ারির মাসিক রিপোর্টটা আমি আটকে রেখেছিলাম। আমি এখন ফজলুল হককে নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছি—মন্ত্রিসভা গঠন সম্পর্কে তাঁর মতামত জানাতে। তিনি সে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
২. ফেব্রুয়ারির পুরোটা জুড়ে বিভিন্ন পার্টি, গ্রুপ ও নানা ধরনের লোকজন দর কষাকষি করেছে, সে সমস্ত কথা জেনে তোমার খুব একটা লাভ হবে না। তাই আমি চাইছি—এ-রিপোর্টে শুধু প্রধান ঘটনাগুলি জানাব। তা থেকে বোঝা যাবে কী করে এখনকার পরিস্থিতিতে পৌঁছুনো গেল। যতক্ষণ-না পরিস্থিতি দানা বেঁধে ওঠে, ততক্ষণ আমি সব নেতাদেরই নিষ্ঠুরভাবে এক করে রেখেছিলাম। তারপর প্রধান দলগুলির সেক্রেটারিদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাঁদের নির্বাচিত সদস্যদের সম্পর্কে আমাকে তথ্য জানাতে অনুরোধ করি–এমএলএদের সংখ্যা, ও আপত্তি না থাকলে তাঁদের নাম—যাঁরা দলের হুইপ মেনে চলতে রাজি আছেন। যাতে গুজব না-ছড়ায় ও এক-এক পার্টি এমএলএদের সংখ্যা বাড়িয়ে না রটায়, সেই উদ্দেশ্যে আমি একটু ইশারাও দিয়েছিলাম যে প্রয়োজনে এই চিঠিপত্র প্রকাশ করা হতে পারে। কংগ্রেসসহ সব পার্টিই যথাযথ জবাব দিয়েছে। কংগ্রেস বলেছে, তারা এমএলএদের নাম দিতে পারবে না। আমি অনেক নেতার সঙ্গেই দেখা করেছি, কথা বলেছি ও মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে তাঁদের মত জানতে চেয়েছি। কংগ্রেসের শরৎ বোস জানালেন, তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেন কী না সেটা জওহরলালকে জিজ্ঞাসা না করে তিনি বলতে পারছেন না। তাছাড়া এআইসিসি অধিবেশনের আগে তাঁর পার্টির মত সম্পর্কেও তিনি কিছু বলতে পারবেন না। এসব সত্ত্বেও আমি যদি চাই, তাহলে তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। আমি তাঁকে আসতে আমন্ত্রণ করি। আমাদের দু-জনের মধ্যে বেশ সুন্দর ব্যক্তিগত কথাবার্তা হল। উনি বোধ হয় হাইকোর্টে যাচ্ছিলেন, একটা খুব সুন্দর সুট পরে এসেছিলেন। যা হোক, উনি অন্তত আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন বলেই তাঁর অনভ্যস্ত খদ্দর পরে আসেননি। রক্ষে।
৩. একই সময়ে ও প্রধান পার্টিগুলিকে আমার জিজ্ঞাসাবাদে উৎসাহিত হয়ে ২২ জন তপশিলি এমএলএ সাততাড়াতাড়ি এক পার্টি খাড়া করেছেন—একজন বেশ বড়লোক জমিদারকে প্রেসিডেন্ট বানিয়ে, লিডার বানিয়েছেন দু-জন ও আরো বেশ কয়েকজন মান্যগণ্য মেম্বারকে জুটিয়ে। এটা একটা দর-বাড়ানো কল। প্রধান পার্টিগুলির সঙ্গে আমার কথাবার্তার পর আমি দু-জন তপশিলি নেতার সঙ্গে দেখা করতে চাই, আইনসভায় একটি গুরুত্বশীল সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিশেবে। ইচ্ছে করেই চিঠিটি দেয়া হয়েছিল সেক্রেটারিকে। তিনি প্রেসিডেন্টকে বা আর কাউকে কিছু না-জানিয়ে স্বয়ং এসে হাজির।
৪. এখন, প্রধান পার্টিগুলির অবস্থা এরকম :
লিগ—বলছে ৬৯, সম্ভবত ৬০-এর মত।
প্রজা—বলছে তাদের টিকিটে জিতেছেন ৪৮ জন কিন্তু লিগের সঙ্গে মিলে তারা মোট ১১২ জনের সমর্থন পাবে বলে দাবি করছে—এদের মধ্যে কয়েকজন আবার স্বতন্ত্র।
কংগ্রেস—সব শুদ্ধু ৬০ বলছে।
ন্যাশন্যালিস্ট—বর্ণ হিন্দুদের একটা গ্রুপ, ১৪ জন বলে বলছে, কিন্তু আগে যে ২২ জন তপশিলি মেম্বারের কথা বলা হয়েছে, তাদের সঙ্গে এদের শর্তসাপেক্ষ বোঝাপড়া আছে—জানিয়েছে। এরা সাহায্যই করতে চায়।
ইয়োরোপীয়—২৫ জন।
সংক্ষেপে এটুকু বলা দরকার—কী করে এই গ্রুপগুলি তৈরি হয়েছে ও ভবিষ্যতে তারা কে কী করতে পারে।
৫. আগের চিঠিতে সাধারণ ও ব্যক্তিগত যেসব ঝোঁকের কথা বলেছিলাম, সেসবই প্রত্যাশামত জাহির হয়েছে, কিন্তু একটি ঝোঁক সম্পর্কে যা আন্দাজ করা গিয়েছিল সেটা অনেক জোরালো হয়ে উঠেছে। মুসলিমরা গভীর আশায় আছেন, যে-করেই হোক তাঁদের নেতাদের একসঙ্গে হতে হবে। ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হিশেবে যাঁরা জিতেছেন তাঁদের মনোভাব ফজলুল হকের কাছে স্যার নাজিমুদ্দিনের হার—নৈতিকভাবে স্থির করে দিয়েছে যে-কোনো মুসলিম মেম্বারদের নিয়ে মন্ত্রিসভা হলে, ফজলুল হকই তার নেতা হবেন। অন্যদিকে মুসলিম ঐক্য ও নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সুযোগ সত্ত্বেও, তাঁরা সে-সুযোগ নষ্ট করলেন—এমন অপরাধে তিনি বা মুসলিম লিগ কেউই মুসলিমদের কাছে দোষী হতে চান না। তাঁদের নিজেদের চেষ্টাতেই একটা কোয়ালিশন তৈরি হয়েছে। কলকাতার একটি উপনির্বাচনে তা হাতেনাতে বোঝাও গেল। তাঁর বিরুদ্ধ-প্রার্থী, কংগ্রেসের এক রিট্যায়ার্ড সরকারি চাকুরেকে গো-হারান হারিয়ে স্যার নাজিমুদ্দিন জিতেছেন।
৬. কোয়ালিশন যে মুসলিম মন্ত্রিত্বগুলি পাওয়া যাবে ও আরো যেসব পদ খালি আছে—সেসব জায়গাতেই দুই পার্টির প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের মধ্যে ভাগের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু ফজলুল হকের প্রধান কর্মসূচির দাবিগুলির ধার অনেক ভোঁতা করা হয়েছে। ‘দমননীতি বন্ধ করা ও রাজবন্দী ও নজরবন্দীদের মুক্তি দেয়ার* দাবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে, ‘জনসাধারণের নিরাপত্তার সঙ্গতিপূর্ণ।’ প্রাথমিক শিক্ষা বিনামূল্যে দেয়ার বদলে এখন ‘যে-গরিব মানুষজনের পক্ষে করের ভার বওয়া সম্ভব নয় তাদের জন্য বিনামূল্যে’-এ-কথা থেকে কিছুই স্পষ্ট করে বোঝা যায় না। চিরস্থায়ী বন্দবস্তের হালসুরত নিয়ে একটি অনুসন্ধান কমিটি নিয়োগ করা হবে। মন্ত্রিদের মাইনে একটা হাস্যকরস্তরে নামিয়ে আনা নিয়ে কোয়ালিশনের যুক্ত-ইশতেহারে কিছু বলা হয়নি। স্বভাবতই, কর্মসূচির স্বর নরম করা আর ফজলুল হকের সমর্থন তাদের হাতে থাকল।
৭. নিজেদের ভিতর থেকে কোয়ালিশনে ঝামেলা পাকতে পারে। ফারুকি শেষ দানও নিজের হাতে রেখে খেলেছে কিন্তু মুসলিম মনোভাবের চাপ এড়াতে না পেরে লিগের পক্ষে সই দিয়েছে, কোয়ালিশনের পক্ষে মত দিয়েছে কিন্তু যদি তাকে মন্ত্রিসভায় নেয়া না হয় তাহলে সর্বক্ষণ গোলমাল পাকানোর ফাঁক খুঁজবে। এক নবাব মুসারফ হোসেন, উত্তরবাংলায় এক বড়লোক ও ধুরন্ধর ব্যবসায়ী, কম দিনের জন্য মন্ত্রীও হয়েছিলেন, আজকাল তাঁর কথা খুব একটা শোনাও যাচ্ছিল না। কোয়ালিশনের মধ্যে এক ‘উত্তরবঙ্গ গ্রুপ’ নিয়ে খুব নড়াচড়া শুরু করেছেন—বেশ স্পষ্ট কারণেই। তদুপরি, আমি আগেই বলেছি ফজলুল হকই সবচেয়ে নড়বড়ে মাল। আজ হোক, কাল হোক, কংগ্রেস যদি ক্ষমতায় আসতে চায়, তাহলে ফজলুল হক নিজেই কোয়ালিশনের ভিতর কত কাঠি ঢোকাবে। এদের একসঙ্গে, রাখার সবচেয়ে বাস্তব কারণ—ভয়। যদি কাউকে প্রকাশ্যত মুসলিম ঐক্য নষ্ট করার জন্য দায়ী করা যায়—তাহলে মুসলিম জনসাধারণের কাছে তার আর কোনো উদ্ধার নেই। এই ভয় সত্ত্বেও মেম্বাররা যে গোপনে আখের গোছানোর বা পয়সা কামাইয়ের চেষ্টা করবে না তা নয়। সুযোগ পেলেই করবে।
৮. ন্যাশন্যালিস্ট পার্টির কথা আগে বলেছি। জে এন বসু বলে কলকাতার এক নামজাদা সলিসিটার ও লিব্যারাল এর নেতা। এদের ১৪ জন বর্ণ হিন্দু মেম্বার, বেশিরভাগই জমিদার। তপশিলি মেম্বারদের ২২ জনের একটা গ্রুপ ‘শর্তসাপেক্ষে’ এদের সঙ্গে কোয়ালিশন করতে চান—’শর্তগুলি এখনো জানা যায়নি।’ বলা বাহুল্য, লুটের বখরা চাই।
বর্ণহিন্দুদের মধ্যে স্যার বিজয়প্রসাদ সিংহ রায় (বর্তমানে মন্ত্রী) ও বেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের নলিনীরঞ্জন সরকার বিশিষ্ট লোক।…জে এন বসু মন্ত্রী হতে চান না। কিন্তু অন্য সব উচ্চাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আছেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও এক কুমার শিবশেখরেশ্বর—দু-জনেরই ঝোঁক কংগ্রেসের দিকে। প্রথম জন সম্পর্কে ধারণা—বিরোধী পক্ষে গেলে ওর দক্ষতার কারণেই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন। কিন্তু তিনি যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চালাচ্ছেন তাতে মুসলিমরা তাঁকে অন্তর থেকে অপছন্দ করে। আর, দ্বিতীয়জন ১৯৩০-এ অল্পদিনের জন্য মন্ত্রী হয়েছিলেন, বিশেষ কিছু করেননি, তারপর তাঁর কথা শোনা যায়নি।
৯. ন্যাশন্যালিস্ট পার্টি আর মুসলিম কোয়ালিফিকেশনের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—মন্ত্রিসভায় হিন্দুদের ভার কতটা থাকবে। মুসলিমরা বলছেন, একজনও নয়। বড়জোর দু-জন ডেপুটি মিনিস্টার। যাঁরা কোয়ালিশনকে সমর্থন দেবে তেমন হিন্দু মেম্বারের সংখ্যা এতই কম যে সরকারের টেকা-না-টেকার ওপর তাঁদের কোনো প্রভাবই পড়বে না, তা ছাড়া তাঁরা আলাদা-আলাদা সব লোকের মধ্যে বাছাবাছি করতে পারবে না ও তাছাড়াও মন্ত্রিসভায় মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা—এই যুক্তিতে মুসলিমরা কিছুতেই ৬ : ৩ অনুপাতের বেশি হিন্দুদের জন্য ছাড়তে রাজি না। হিন্দুরা মন্ত্রিসভায় সমানুপাত চায় ও কিছুতেই ৯-এর মধ্যে ৪-এর কম না। হিন্দুদের নিজেদের মধ্যেও গোলমাল—তপশিলি গ্রুপের চাপ নিয়ে।
১০. ফজলুল হককে আমি আমার মত বোঝাতে পেরেছি যে যতদিন—না হিন্দু মন্ত্রীরা দেশের কাছে প্রমাণিত হন যে তাঁরা কোনো কাজের যোগ্য নন, ততদিন পর্যন্ত এমন ভ্রাতৃপ্রতিম সম্প্রদায়কে এই ন্যায়সঙ্গত অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রিসভায় ডাকা যায় না—যে-অভিযোগের কারণে তাঁদের মধ্যে যাঁরা বিশিষ্ট ও যোগ্যতম, তাঁরা মন্ত্রিসভায় আসতে রাজি হবেন না। ৬ : ৩ অনুপাত বলা হয়েছে ভুল হিশেবের ওপর নির্ভর করে। সঠিক অনুপাত হবে ৫জন মুসলিম ও ৪জন হিন্দু। ফজলুল হক কথাটা ধরতে পেরেছেন। কিন্তু তাঁকেও তো স্বধর্মীদের সামলাতে হচ্ছে ও যাঁদের কথা দেয়া হয়েছে তাঁদের কাছে দায় আছে—নইলে তো কোয়ালিশনই টিকবে না।
১১. ইয়োরোপিয়ানরা আপাতত ফজলুল হক সম্পর্কে তাঁদের গভীর অপছন্দ ভুলে থাকতে চান ও তাঁর নেতৃত্বে একটা শক্তিশালী সাংবিধানিক সরকারকে সমর্থন দিতে চান যতদিন এই সরকার ইয়োরোপীয় স্বার্থে ও ধ্যানধারণার ওপর কোনো আক্রমণ না করেন। তাঁরা মন্ত্রী হতে চান না কিন্তু ফজলুল হক যদি অনুরোধ করেন, তাহলে, আইনশৃঙ্খলা ছাড়া যে-কোনো ‘জাতিনির্মাণ’–সংলগ্ন দপ্তর নিতে রাজি হতে পারেন। ওঁদের এই প্রস্তাবে হয়ত ফজলুল হক এই সাম্প্রদায়িক জট থেকে বেরবার একটা রাস্তা পেতেও পারেন। আমার অবিশ্যি মনে হয় এঁদের এখনই মন্ত্রিসভায় ঢোকা উচিত নয়।
১২. কংগ্রেসের শরৎ বোস তাঁর ব্যক্তিগত মতটুকুই জানাতে পারেন, বলেছিলেন। তিনি নিজে সরকারে যাওয়ার বিপক্ষে। কিন্তু কংগ্রেস যদি যে-প্রদেশে সংখ্যাগুরু সে-প্রদেশে সরকারের যেতে রাজি হয়, তাহলে কংগ্রেসের উচিত হবে অন্যত্রও কোয়ালিশনের চেষ্টা করা, প্রথমদিকে হয়ত কেউ রাজি হবে না। পরে অবস্থা বদলাতেও পারে। মন্ত্রিসভায় হিন্দুদের সংখ্যার অনুপাত বাড়ানোতে খুশি হলেও তাতে কংগ্রেসর মনোভাব কেন বদলাবে না—সেটাও তিনি বিস্তারিত বলেন। আমি অন্যদের কাছে শুনেছি, তিনি নিজে অবিশ্যি কিছু বলেননি যে তাঁর নিজের পার্টির দলাদলি ও লাগালাগিতে তাঁর মন খুব খারাপ আর তিনি মনেও করেন না যে বাংলায় কংগ্রেস চিরস্থায়ী বিরোধীপক্ষ হয়ে থাকবে।
১৩. আর কোনো কথা যে তোমাকে এখনই জানানো দরকার, তা তো মনে হচ্ছে না। আমি ফজলুল হককে বারবার বলেছি, পার্টিনেতাদের সঙ্গে ওঁর বিশদ আলোচনা খুবই দরকার। তাঁকে এ-ইশারাও দিয়েছি যে এক্ষুনি তেমন তাড়াহুড়োর কোনো দরকার নেই। এ-মাসের ২০ তারিখ নাগাদ যে সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য তা নিতে পারলেই বলা যাবে—যথেষ্ট তাড়াতাড়িই তো হল।
তোমার একান্ত
জন অ্যানডারসন
