স্বপ্নে দেখা জীবন

স্বপ্নে দেখা জীবন

রূপসী রতির ওষ্ঠে, চক্ষে, ভ্রূ-বিলাসে
পদতলে
কতদিন, কতকাল আমি শুয়ে আছি;
কপিশ রাত্রির চোখ রক্তাক্ত দেহের স্বাদ বড় ভালবাসে
রক্ত জ্বলে
সিংহের মতন ঘোরে অন্ধকার হিংস্র কৌতূহলে।

বিপুল শ্রেণীর ভারে, স্তনের উদ্যত গর্বে, মুক্ত মেখলায়
ঈষৎ সম্মুখে ঝুঁকে দুর্লভ দণ্ডায়মান এই মূর্তিখানি
চিরকাল
আমাকে পায়ের নীচে রেখে হাসে, কুন্তল দোলায়;
খড়্গের মতন জঙ্ঘা, চন্দ্রের মতন ওই নাভি, আমি জানি
নিমেষেই ছিঁড়ে ফেলবে রহস্যের সব অন্তরাল,
মুছে দেবে অন্য সব দৃশ্য, শোভা, আকাশের শান্ত নীল বাণী।

সব গ্রন্থ শেষ হলে, পুরানো গ্রন্থেরই মতো নিসর্গের স্বাদ
যুবক-জিহ্বায় লাগে বড় নষ্ট, বড়ই ধূসর;
মানুষের দিকে ফিরলে চোখে পড়ে মানুষেরই ধ্রুব-পরমাদ!
আত্মার কান্নার মতো দণ্ড-পল-মুহূর্তের শর
চকিত-বিদ্যুৎ সম বুকে বেঁধে, আমি ঘুরে ঢলে পড়ি
সেই পদতলে
সিংহের মতন এসে অন্ধকার শুঁকে যায় হিংস্র কৌতূহলে।

পৃথিবীর শেষতম নির্জনতা মনে হয় রমণী শরীরে
আমি তার স্তন্য, স্বেদ, অশ্রু পান করি,
চক্ষু ঘিরে
লক্ষ লক্ষ ঢেউ ওঠে, ভেঙে যায়, স্বপ্নে দেখা সমুদ্রের তীরে।