নির্বাসন

নির্বাসন

বারবার ভেঙে যায় নীল শঙ্খ, সমস্ত দৃশ্যের মূল বিভা
অন্তহীন ধ্বনি ওঠে তীব্র কণ্ঠে না না না না না না
ক্ষোভ, না স্মৃতি, তৃপ্তি, না প্রেমের অমর প্রতিভা
বারবার মুছে যায় রক্তের ধারক এই শরীরের কৃতার্থ সীমানা।

কী বিদ্রোহে মত্ত আছি মন্ত্রজিসম নির্বিকার সিদ্ধ সাজে
আলো কিংবা অন্ধকার সমার্থক এক বর্ণে কেঁপে কেঁপে ওঠে
একটি সূর্যমুখী ফুল ঝবে গেলে লক্ষ বৎসরের দুঃখ বাজে
স্বয়ং সূর্যেরও ঘুম কখনও বা মুছে যায় অভিমান, মেঘের সংকটে।

আমার দুঃখেরা আজ দেবতার আসনে বসেছে, অমলিন
রৌদ্রের পার্থিব চিহ্ন কে তাদের মসৃণ ললাটে, ভ্রূ সন্ধিতে
এঁকে দিয়ে গেছে, আমি, শৃঙ্খল আবদ্ধ নতজানু, কীর্তিহীন
দণ্ডিতের মতো বসে আছি, কোনও অনির্দিষ্ট দূর রাজ্যে নির্বাসন দিতে

এসেছে প্রহরীবৃন্দ, কোথাও বাজে না ক্ষীণ প্রতিবাদধ্বনি
যেদিকে তাকাই শুধু ভ্রান্তি, প্রৌঢ়, হিম, ক্লান্তি, অমোঘ শূন্যতা
ধূলায় লুণ্ঠিত নেই আকুল মূৰ্ব্বজা কোনও রোদসী রমণী
সন্ধ্যার করুণ রশ্মি নেমে আসে, যেন কাঁপে লক্ষ দ্রাক্ষালতা!

অবিশ্বাস, অতৃপ্তির, অপ্রেমের শুদ্ধ অন্ধকারে ড়ুবে থেকে
আমার বিদ্রোহী আত্মা জেগে উঠবে শিল্পের উজ্জ্বল অভিষেকে।