একটা চিঠি

একটা চিঠি

বলাকা, তোমার শুভ্র চোখেতে পায়নি ঘুম?
জানো নাকি এটা কুয়াশায় ঢাকা
রাত নিঝুম!
স্বপ্ন দেখো না? এখনো কি তার
সময় নয়?
বলাকা, তুমি কি পেয়েছ ভয়?
জানো নাকি আমি পথে ঘুরে ঘুরে, দিশে হারা।–
আকাশের মায়া গান গেয়ে করে
গৃহ ছাড়া।
তোমার বাঁশিতে ফুঁ দিয়েছি আমি
সেই ধ্বনি—
বলাকা এই কি জাগরণী?
মরু পর্বতে ঘূর্ণি ঝড় যে হল শুরু।
আকাশের বুকে মেঘ শিশুদের
গুরু গুরু
হিংস্র নখর এখনো লুকোয় বাঁকে বাঁকে
সরল কুমারী বোবা চোখে শুধু
চেয়ে থাকে।
সমুদ্রঝড় আসেনি এখনও
মনে মনে?
বলাকা-হৃদয় এখনো কি শুধু দিন গোনে?
মন উত্তাল পাখি শুধু ডাকে বোবা যুগে,
ফেরারি বাহিনী বছর কাটায়
উদ্যোগে।
মনের সূর্য তবুও ভাঙবে
অন্ধ ঘোর
বলাকা, তুমি কি দেখোনি ভোর?
হৃদয় জাগানো পরশমণির সন্ধানেই
তাইতো অলস দুপুর যাপনে
শঙ্কা নেই।
স্বপ্ন-সাগরে দিয়েছি নিজেকে
বিসর্জন
বলাকা, তোমার গ্রন্থি হবে না উন্মোচন?

******
ঈগল পাখি ঝড়েতে উৎসুক
আসুক ঝড় তবুও আমি ঋজু ॥

অন্ধকারে নগ্ন করো তনু
সমুদ্রের মুকুরে দেখো মুখ
হঠাৎ যদি মত্ত তোলপাড়ে
অজানা কোনো কাঁপনে কাঁপে বুক
আমাকে পেতে হয়ো না উন্মুখ।
যদিও ঝড়ে ঈগল উৎসুক
আসুক ঝড় তবুও আমি ঋজু
সমুদ্রের মুকুরে দেখো মুখ!

তিন
রাত্রি, বৃষ্টির মত্ত বৈশাখে চন্দ্রাতপ
স্বপ্ন মনে হয়– স্বপ্ন মনে হয় অরণ্য
নিবিড় বাসনার রূপান্তর বুঝি কলাপিনী।
নিবিড় কুন্তল ছড়ানো, মুখখানি বিস্মৃত—
মাটিতে চোখ ঢেকে ক্লান্ত দিবসের বিরহিণী
করুণ কান্নায় অমন করে কেন বুক ভাঙো!

আকাশে লাখো হাত তুলেছে বৈশাখে অরণ্য
স্বপ্ন মনে হয়, স্বপ্ন মনে হয় অরণ্য।
তোমাকে বিরহিণী একদা মনে হত অরণ্য।

চার
তোমার মহিমা জীবনের মতো মনোলোভা
অয়ি মায়াবিনী ন্যগ্রোধ পরিমণ্ডলা
আমার বিশাল জীবন সাজাও প্রতীক্ষায়
অয়ি বিরহিণী ন্যগ্রোধ পরিমণ্ডলা।
*****