১০. বাটাজোড় থেকে দলবলে ফিরে, একলা
যোগেন ভেবেছিল, দুপুরের আগেই বরিশালে ফিরে আসবে। দুপুর দূরের কথা, ফিরতে-ফিরতে তার রাত হয়ে গেল। সঙ্গে লোকজন ছিল—একটা ট্যাবইরা-তে সকলে মিলে উঠে খালে-খালে চলে এল সন্ধের পর। তখন কালেক্টরিতে ভোট গোনা চলছে। যোগেন সাইকেলটা রেখে আসতে চেয়েছিল। স্থানীয় এক মাতব্বর বলল—’ঐ একখান ভাঙা-জোয়ালের বলদ রাইখ্যা যাওয়ার কাম কী? একদিকে কাত তো একদিকে কাত। এতগুলা মানুষ এড্ডা সাইকেল কুল্যাবার পারব না? ও ঝামলা সঙ্গে নিয়া চলো।’
‘কইল্যা তো দুষ্ট বলদ। নাওয়ের মইধ্যে ঝাঁকি তুইল্যা নাও না-ডুবায়?’
‘গোবদ্যি তো সঙ্গেই আছে’, সুতরাং সাইকেলও ট্যাবইরাতে ঢুকল। ট্যাবইরা-র মাঝি ছিল দুইজন। তারা এই ভিড়ে হারিয়ে গেল। সবার হাতেই একটা করে হাত-বৈঠা, কারো হাতে কলাগাছের খোল, বৈঠার মত কাটা। যার হাতে বৈঠা নেই সে হাতটাকেই বৈঠা করে নেয়। নৌকা ছাড়তে-না-ছাড়তেই সদরঘাট এসে যায়। সাইকেলটাকে আগে নামিয়ে ফেলার জন্য দুজন মিলে সেটাকে তুলতেই যোগেন বলে ওঠে, ‘শুনেন। কথাডা ঐখানেও সবাগো কয়্যা দিবেন। আইজ যে গনা হচ্ছে তার কুনো দাম নাই। একবার গুইন্যা জিলা ম্যাজিস্ট্রেট সব সিল কইর্যা রাইখ্যা দিব। ছয় তারিখে, বাইশে মাঘ, আসল গনা হইব, গেজেট হইব, কে জিতল কে হারল ঘোষণা হইব। আপনারা কালেক্টরিতে গনার যা খবর শুইনবেন, যাই শুইনবেন, হারা জিতা যাই হোগগিয়া কুনো আওয়াজ কইরবেন না। হাইরলে তো জব এমনিতেই বন্ধ হইয়া যাবে নে। জিতলে বাইচজিতার ধ্বনি তুইলবেন না। এইডা নিষেধ থাইকল।’
কার নিষেধ কে শোনে? যোগেন নিষেধ করল দুটি কারণে। এর মধ্যেই নিশ্চয় বাটাজোড়ের ঘটনা টাউনে-চরে-নদীতে-খালে-বিলে রটে গেছে। বাটাজোড় পৌঁছুবার আগে রহমতপুরের খেয়াতেই স্বয়ং যোগেন শুনেছিল—খুনোখুনি হয়েছে। বরিশালে কোনো হাঙ্গামা থেকে খুনোখুনি হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। বাটাজোড় বলেই যা একটু সন্দেহ! খুনোখুনি হয়েছে জানলে বুঝে নিতে হয় গোলমাল বেশ ভালই পাকিয়েছে। যে-গোলমালে খুনোখুনির খবর থাকে না, সে-গোলমালের খবরে কেউ বড় একটা কান পাতে না। যদি যোগেন জিতেই যায়—তাহলে তার লোকজন বাটাজোড়ের বদলা নিতে শুরু করে দিতে পারে। যোগেন যে সারা দিনই বাটাজোড়ে ছিল—এই খবর সবার জানা হয়ে গেছে বা যাবে। তারপর এইসব বদলাবদলির সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে যায় যা ইচ্ছে রটাবে। যোগেন এটা চায় না।
দ্বিতীয় কারণ হল যদি সে হারে, তাহলেও তার লোকজনের সব রাগ গিয়ে পড়বে বাটাজোড়ের ওপর। আবার, বাটাজোড়ে যোগেনের ভোট আটকানোর যে-চেষ্টা হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যাওয়ার পরও জিতে গেলে কংগ্রেসিরা তার লোকজনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে। জিতে যাওয়ার ফূর্তিতে কংগ্রেসিরা বাটাজোড়ের ঘটনাটা উলটে দিয়ে যোগেনের ঘাড়ে দোষ চাপাতে পারে। যেন, যোগেন নিজে বাটাজোড় হাঙ্গামা পাকানো সত্ত্বেও সরল দত্ত জিতেছে, কারণ সরল দত্ত—সরল দত্ত আর কংগ্রেসি। যোগেন এটাও চায় না।
যোগেন তার বাসায় এসে দেখে—সব ভোঁ-ভোঁ। কেউ কোথাও নেই। একটা ঘরে একটা লন্ঠন টিমটিম করছে। ওটা কেষ্টামাসির ঘর। যাঁর বাড়িতে যোগেন থাকে, সেই প্রহ্লাদ দত্ত মোক্তারের মা। কেষ্টামাসি ঝিমচ্ছে হয়ত, যোগেন তাকে কিছু জিজ্ঞাসা করলে একেবারে হুলস্থুল বাধিয়ে বসবে। মাসি ঝিমচ্ছেই যদি, ঝিমক। তাও পরীক্ষা করার জন্য যোগেন খুব চাপা স্বরে একবার ডাকে, ‘কেষ্টা, জাইগ্যা আছ নি?’ কোনো জবাব না পেয়ে যোগেন তার ঘরের দিকে যায়। তার ঘর মানে, বাড়ির বাইরের দিকের ঘরটা–সেরেস্তা বললে সেরেস্তা, প্রহ্লাদ দাও বসে, যোগেনও বসে। রাতে প্রহ্লাদদার ছেলে আর যোগেন ঐ ঘরেই শোয়। একটা দড়ি ঝোলানো আছে—তার ওপরই যোগেনের প্যান্ট-শার্ট—কাল কোট আর ধুতিপাঞ্জাবি গামছা ঝোলে।
যোগেন তাকিয়ে দেখে—গোটা বাড়িটাই অন্ধকার। তার তো একটা লন্ঠন চাই–হয়ত ঘরে রাখা আছে, জ্বালাতে হবে তো! কেষ্টামাসি টের পেলে? যোগেন বাইরে ও আকাশের দিকে চোখটা বুলিয়ে আনে—জল থেকে এসেছে, তাই চোখে আলো লেগে আছে, হ্যাঁ, আলোই তো।
যোগেন খানিকটা পা-টিপে-টিপেই কেষ্টামাসির ঘরে ঢুকে গলা নামিয়ে বলে, ‘কেষ্টা, ঘুমাওনি?’ না, তাহলে বুড়ি সত্যিই একটু ঘুমিয়ে আছে। যোগেন লণ্ঠনটা তুলে শিখাটা একটু বাড়িয়ে নিয়ে হাতে দোলাতে-দোলাতে তার ঘরের দিকে চলল। তার ঘরে যদি লণ্ঠন থাকে, তাহলে সেটা জ্বালিয়ে কেষ্টার লন্ঠন কেষ্টার ঘরে রেখে খালে যাবে।
কেষ্টামাসির সূত্রেই এ-বাড়ির সঙ্গে তার সম্পর্ক।
কেষ্টামাসির বাপের বাড়ি যোগেনদের গ্রাম মৈস্তারকান্দির পাশেই। মাসি ছিল মায়ের মিতেনি—নয়-ছয় মাসেও দেখাসাক্ষাৎ নেই, তবু মিতেনি তো মিতেনিই। মাসির শ্বশুরবাড়ি ছিল ঝাপরকান্দিতে, মাইল দশ পশ্চিমে। খালপথ বলেই মাসি তাও সারাজীবনে বার দুই-তিন মৈস্তারকান্দির পাশে তার বাপের বাড়িতে এসেছে। যোগেনের মা যে সেই বাপের বাড়ি ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি ঢুকেছে, সারাজীবনে আর কখনো বাপেরবাড়ি যায়নি। যোগেনের মা বলত, মৈস্তারকান্দি তো অভিমন্যুর ব্যূহ, ঢোকা আছে, বারান নাই। কেষ্টামাসি একবার জন্মাষ্টমীতে মৈস্তারকান্দিতে আসতে পেরেছিল। তখন যোগেন পড়ে ক্লাস সিক্সে না ফাইভে। গাঁয়ে ‘বংশীশিক্ষা’ গান হবে। লম্বা-লম্বা চুল, দিঘল গড়ন, একটু রোগা আর গানের গলার জন্য রাধার পার্ট ছিল যোগেনের বাঁধা। দানখণ্ড, নৌকাবিলাস, মানভঞ্জন—সব গানই যোগেনের কণ্ঠস্থ ছিল। এখনো আছে। সেই ‘বংশীশিক্ষা’-পালা শুনতে গিয়েছিল কেষ্টামাসি। তখন তো ‘কেষ্টা’ বলত না, বলত, ‘মিতেন’, মিতেনমাসি। মিতেনমাসি বংশীশিক্ষার গান শুনে কেঁদে ভাসিয়ে দিয়েছিল। যোগেনের মা তাকে বলেছিল, ‘সে কী রে মিতেন। বংশীতেই জোয়ার ডাকাইলি, বিরহে কী করবি রে। বংশীতে দানে নৌকাবিলাসে তো রগড় রে।’ মিতেনমাসি বলেছিল, ‘মিতেন রে, কাঁদনের কি কারণ লাগে? ধইরা নে না ক্যান—বিরহের কান্নাডাই বংশীতে কাইন্দ্যা থুইল্যাম। এর পর বিরহ শুইন্যা বংশীর হাসিডা হাসব। নে মিতান, তোর পোলার গান শুইন্যা তুই হাস, আমি কান্দি।
রাধাবেশী যোগেন তখন গাইছিল, পায়ে বাঁধা মলে আড়ে ঠেকা দিয়ে—
তোর ঐ ডাকাইত্যা বাঁশি
থামা রে মাধাই,
আমার সব ঘর-বাহির
পুইড়া হইল ছাই।
কৃষ্ণ আর রাধা মিলে গাইছিল—পরপর, একজনের পর আরেকজন,
এই ফুকাডা বন্ধ করো
চম্পক-আঙ্গুলে
এই ফাঁকড়ায় শ্বাসখান ফেলো
অধরোষ্ঠ মিলে।
এ বাঁশি শুধু ডাকে, ‘রাই’
আমি যতই-না ডাকি ‘কানাই’।
বাড়ি ফিরে কেষ্টামাসি তাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘বল তুই আমারই রাধা থাকবি যোগেন, আমি তোর কেষ্টা।’
তখন থেকেই কেষ্টামাসি। যোগেনকে সব সময় মনে রাখে। প্রহ্লাদ দত্তের বাড়িতে সেই সুবাদেই ঠাঁই গেড়েছে যোগেন—প্রহ্লাদ কেষ্টামাসির ছেলে। এখনও যোগেন কেষ্টামাসিকে ‘কেষ্টা’ বলে ডাকে আর মাসি যোগেনকে ডাকে, ‘রাই’ বলে। তেমন ফাঁক আর সুযোগ পেলেই কেষ্টা যোগেনকে পাকড়ে গান তুলে দিতে চাইবে—’হঠাৎ উইঠ্যা আইল গীতড়া, বুকে মোচড় মাইরা, কহন আবার ভুইল্যা যাব, তুইল্যা নে না রাই।’
‘আরে, আমি কি জজশাহেবের কাছে গান গাইয়্যা গাইয়্যা তোমার আর্জি জানাইব?’
‘হাকিমের যদি গানের কানই থাকব, তা হাইলে আর সে আবাগা হাকিম অইব ক্যান?’
যোগেন একটা গামছা পরে, একটা গামছা কাঁধে, দুই হাতে দুই লণ্ঠন ঝুলিয়ে ঘাটে চলল—কেষ্টার লন্ঠনটা কেষ্টার ঘরে রেখে। ঘাটের জল দেখে যোগেনের শরীরটার ভিতর ঝাঁপান এল, সাঁতারের মত কি আর-কিছু হয়, সারা শরীরের ভিতর-বাহির যেন নতুন হয়ে যায়। যোগেন নিজেকে সামলাল। সারাদিন যা গেল—সাঁতার কাটাটা ছিল অনিবার্য। কিন্তু একে মাঘমাস, তার ওপর তো ভোট গোনাগুনি চলছে। সেখানে কী হয় কে জানে। এখন যদি সাঁতার কেটে গরম ভাত গলা পর্যন্ত খেয়ে ঘুমুতে পারত—তাহলে না-হয় হত।
ঘাট সেরে ফেরার সময় হঠাৎ যোগেন যেন বহু মানুষের একসঙ্গে গলার আওয়াজ পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে কান খাড়া করে। আর-কোনো আওয়াজ এল না। যোগেন একটু পা চালিয়ে ঘরে ফেরে—কাছারিবাড়ি যেতে হবে, তাড়াতাড়ি, রাতে আর সাইকেল নিয়ে যাবে না। অঘটন যাতে কিছু না-হয়, যোগেনের হাজির থাকা দরকার। যদিও নিশ্চয়ই মিস্ত্রিপণ্ডিত, ভট্ট্চাযস্যার, সেনমশায়—এঁরা আছেন। দুর্গা সেন আসবেন না। এঁরা কোনো অঘটন ঘটতে দেবেন না। এঁরা তো বরিশালের মান্যগণ্য নেতা—যোগেন তো দুই দিনের ফকির, পুরো নেতা হয়েছে কী না তা নিজেই জানে না।
ছাড়া ধুতিটাই যোগেন পরে নিচ্ছিল, গিঁঠের জায়গাটা লন্ঠনের আলোয় খুঁজছিল। আবার সেই জনরব, এবার উঠে থামে না, আবার ওঠে, আবারও ওঠে। কী, এর মধ্যে কি গোনা শেষ, নাকী কোনো হাঙ্গামা বাধল? আওয়াজটা আর জোরে উঠছে না কিন্তু অনেক মানুষ যে কথা বলছে—তেমন একটা আওয়াজ, নদীর মত বা হাটের মত, ভেসে আসছিল। যোগেন গিঁঠখোঁজা ছেড়ে তাড়াতাড়ি ধুতিটা পরে নিয়ে, গেঞ্জিটা টানতেই, আবার সেই আওয়াজ—এবার অনেক কাছে। তাহলে আওয়াজটা কি এই তাদের রাস্তা দিয়েই এগচ্ছে? দত্তবাবু জিতে গেছেন, কংগ্রেসিরা বাটাজোড়ের বদলা নিতে তার বাড়ির সামনে দিয়ে মিছিল করে আসছে? যোগেন ভিতরে-ভিতরে বোঝে—বরিশাল শহরে এমন কাণ্ড কী হতে পারে? সমাজের তো একটা আচার-ব্যবহার আছে? এত বঙ্গভঙ্গ, আইনঅমান্য, পুলিশের লাঠির গল্প শুনে এসেছে, যোগেন সারাজীবন, কখনো কি এমন গল্প শুনেছে, এক নেতার বাড়ির সামনে অন্য নেতা দলবল নিয়ে প্রতিশোধ নিচ্ছে? যোগেন মনে করতে পারে না। তবে, এর আগে কখনো তো কোনো নমশূদ্র কোনো কুলীন কায়েত, তার ওপর জিলা কংগ্রেসের সভাপতি, তার ওপর দশ পুরুষের জমিদারের বিরুদ্ধতা করেনি! মুসলমান কারো সঙ্গে ভোট করতে হলে জিলা কংগ্রেস বা দত্তবাবুর হয়ত ততটা লাগত না। কিন্তু একটা নমো, মেথর, তার এতটা সাহস হয় কী করে?
যোগেন কি একবারও ভাবেনি—সে জিতেছে বলেই এই জনরব তার এই বাড়ির দিকে আসছে? তেমন ভাবাটাই তো সহজ ও স্বাভাবিক ছিল।
হয়ত ছিল সহজ, স্বাভাবিক ও সংগতও। এমন সম্ভাবনা না থাকলে সে ভোটে দাঁড়াবে কেন? আর, বর্ণহিন্দুরা অনেকেই তাকে তো সমর্থনও করেছে—সেটাই-বা সে এই সময় ভুলে যাবে কেন? এটা ঠিক ভোলাভুলি বা ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে দোষীবোধের ব্যাপারই নয়। হয়ত যোগেনের একার ব্যাপার নয়।
চিরকাল যাদের ‘নমো’ বলে ডাকা হয়, ‘চাড়াল’ বলে বর্ণনা করা হয় বা যাদের সঙ্গে হিন্দুরা খেতে বসে না বা যাদের ছোঁয়া কোনো খাবার খায় না বা হাতের দুই পাতা মিলিয়ে ঘটি বা পাউলি থেকে ঢালা জল যাদের খেতে হয় সেই নমোদের ভিতর অপরাধবোধ ও অনধিকারবোধ জন্ম থেকে, হ্যাঁ, জন্ম থেকে, এমনই শারীরিক, যে কখনো হয়ত আত্মরক্ষার সেই ভিতু চেষ্টা মুহূর্তে বদলে যেতে পারে মরিয়া আক্রমণে, তাও কখনো-কখনো, শ-খানেক বছরে দু-একবারের মত কখনো-কখনো, তার বেশি নয়, তারা এমন এগিয়ে আসা জনরবে, যেমন কোনো পশু, এমনকী গৃহপালিতও, কোনো হঠাৎ-আলোয় বা হঠাৎ-আওয়াজে খাড়া হয়ে যায় নিজেকে আক্রান্ত ভেবে আত্মরক্ষায়, তেমনি, পুরুষানুক্রমিক প্রতিবৃত্তক্রিয়ায় হয়ত প্রথমে নিজেকে আক্রান্তই মনে করে, যোগেন মণ্ডল হয়েও, পরমুহূর্তেই সে হয়ত ভেবে ফেলেছেও তার জয়ের কথা কিন্তু তেমন ভেবে-ফেলাও তো অপরাধ বা অনধিকার, এখন এমন একা-একা, এই স্থায়ী বোধ তাকে প্রত্যাঘাতে ফিরিয়ে দিয়েছে ভাবনার ঐ আত্মতা থেকে—সে একজন নমশূদ্র, সে কী করে নিজের জীবনে এমন আত্মতা খুঁজতে পারে, যে-আত্মতা খোঁজার অধিকার হিন্দুসমাজ তাকে দেয়নি, খোঁজার ক্ষমতা তো দেয়ইনি।
