ডঃ ডেথ – ১

রাতের নিস্তব্ধ পিচের রাস্তা যেন এক নিথর কালো স্বপ্ন।

এখন বাতাবরণে নিদ্রামিশ্রিত নেশা আর শূন্যতা মিলেমিশে আছে। জনমানবহীন পথের বুকে জমেছে অভিমানী একাকীত্ব। রাস্তার একপাশে ছায়াজড়ানো গাছগুলো এমনভাবে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে, যেন নৈঃশব্দকে কায়েম রাখার জন্য সতর্ক প্রহরারত। দূরে কোথাও একটা দুটো বেওয়ারিশ কুকুরের ডাক মাঝেমাঝে সেই নীরবতা ভেঙে দিলেও পরক্ষণেই আবার নিস্তব্ধতার পাল্লা ভারী হতেও সময় নেয় না। স্ট্রিটলাইটের ক্লান্ত হলুদ আলো ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে আলো ছায়ার অদ্ভুত ইশারাময় আবহ তৈরি করেছে যা বুঝেও বোঝা যায় না—অনুভব করা তো দূর। দু-পাশের গাছ, রাস্তা, দোকান-পাট, বাড়ি, ঘুমন্ত ফুটপাতের সম্ভান সম্ভতি—সবকিছুই থেমে আছে, শুধু একটু একটু করে সময় এগিয়ে চলেছে নিশ্চুপে, ধাপে ধাপে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। গভীর ও প্রগাঢ়।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গেই সবকিছুকে পেছনে ফেলে দ্রুতগতিতে পিচের রাস্তা বেয়ে এগিয়ে চলেছিল একটি ঝাঁ চকচকে ‘অডি’ গাড়ি। স্টিয়ারিঙে বসা দীর্ঘকায়, সুঠামদেহী চালক এতক্ষণ চুপচাপ জানলা বন্ধ করে এসির শীতলতার মধ্যেই গাড়ি চালাচ্ছিল। এবার কী মনে হতেই এসিটাকে অফ করে নামিয়ে দেয় কাচের জানলা। সঙ্গে সঙ্গেই একরাশ দামাল হাওয়া যেন সযত্নে আদর করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তার চোখে মুখে। সস্নেহ ভঙ্গিতে এলোমেলো করে ঘেঁটে দিল তার চুল। তাজা প্রাকৃতিক হাওয়ায় ফুসফুস ভরে নেয় সে। আঃ, কী আরাম!

আপনমনেই মৃদু হাসল অধিরাজ। বহুবছর অন্ধকার রাস্তার এই শূন্যতাময় সৌন্দর্য দেখেনি সে। কতদিন যে সূর্যোদয়ের রক্তিম আভা, সন্ধ্যার ধূসরতা, সূর্যাস্তের লজ্জারুণ গোলাপি আলো দেখা হয়নি তার হিসেব নেই। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই জিমে ওয়ার্ক আউট, পার্কোর, মার্শাল আর্ট এবং অন্যান্য প্র্যাকটিস, অফিস, কেস ফাইলের জটিলতায় ডুবে যাওয়া, কখনও নির্ঘুম রাত কাটিয়ে, আবার কখনও বা ক্লান্তদেহটাকে কোনোমতে বিছানায় ফেলে দেওয়া। একের পর এক কেসফাইল, ক্রিমিনাল, চেজিং, গোলাগুলি—এই তো জীবন। সেখানে প্রকৃতির জায়গা কোথায়!

কিন্তু আজ রাতের এই নৈঃশব্দ তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছিল সে। নির্জন পথের দৃশ্যাবলীকে খুব মন দিয়ে দেখছে। এমন অনেক রাত জীবনে এসেছে, আবার চলেও গিয়েছে। কোনো রাত কেটেছে রেইড বা এনকাউন্টারে, কোনো রাত চলে গিয়েছে অপরাধীকে চেজ করতে করতে। প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে শ্বাসরুদ্ধকর উত্তেজনায়। অথচ একমুহূর্ত দাঁড়িয়ে এই নৈঃশব্দ উপভোগ করার কথা মনে হয়নি। মনে হয়নি, এর বাইরেও একটা জীবন আছে!

তবে গ্রীন ভ্যালি পার্কের সিরিয়াল কিলিঙের কেসটার পর বেশ কিছুদিন প্রকৃতির কোলে কাটানোর ফুরসত পেয়েছিল অধিরাজ। কিন্তু এবার পাহাড় নয়—সমুদ্র।

গ্রীন ভ্যাগি কেসের স্পেশাল ওয়াটার ডায়েট এবং ওজন কমানোর আসুরিক প্রক্রিয়া তাকে এতটাই দুর্বল করে দিয়েছিল যে কেস ফাইল ক্লোজ হওয়ার পরে আর তার সার দাঁড়ানোর মতো বিন্দুমাত্র শক্তিও অবশিষ্ট ছিল না। ডাক্তাররা সম্পূর্ণ বেডরেস্টে রেখেছিলেন। যদিও অধিরাজ ডাক্তারদের কথা শোনার পাত্র একেবারেই নয়, বরং উলটোটাই করার তালে ছিল, কিন্তু এবার অর্ণবের জেদের কাছে হেরে গিয়েছে। অর্ণব তাকে ধমকে-ধামকে, আদরে-শাসনে, চোখ পাকিয়ে, ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইলিং করে একদম সোজা করেই ছেড়েছে! সে রোজ অফিস আওয়ার্সের আগে সটান বাড়িতে হাজির হয়ে সরেজমিনে তদন্ত করত যে ডায়েট চার্ট ঠিকমতো ফলো করা হচ্ছে কী না। ওষুধের ফয়েলের ওষুধ, আর সিগারেটের প্যাকেটের সিগারেট গুণে গুণে হিসাব করে রাখত। নিজের অবাধ্য বসকে ও হাড়ে হাড়ে চেনে। তাই ওষুধগুলো ঠিকমতো পেটে যাচ্ছে কিনা, কিংবা সিগারেট কোটার থেকে বেশি টানা হল কিনা সেদিকে একেবারে তার সতর্ক দৃষ্টি। মেডিসিন পি করার চান্সই নেই! অফিস থেকে ফেরার পথেও সে তার ডেইলি ভিজিট দিয়ে যেত। ডঃ চ্যাটার্জিও দু-বেলা এসে খোঁজখবর নিয়ে যেতেন। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বাভাবিক ডায়েট চার্টের বাইরে গিয়েও ঘণ্টায় ঘণ্টায় পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। সেই লিস্ট মিলিয়ে মিলিয়ে তাজা ফল, ডেয়ারির বিশুদ্ধ ঘি, নানারকমের বাদাম—মোনাক্কা-পেস্তা, আখরোট, দই, নানাবিধ কার্বোহাইড্রেট, পুষ্টিকর শাক-সবজি পর্যন্ত বাজার থেকে তুলে নিয়ে চলে আসত অর্ণব। অধিরাজের প্রায় মাথায় হাত। সে ক্ষীণ প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে—

“এসব করার জন্য তো হিস্টো আছে অর্ণব। তুমি খামোখা ওভারটাইম করে মরছ কেন?”

অর্ণব নিরুত্তাপ মুখে পেটেন্ট বম্বাস্টিক আই সাইড স্টাইলে তার দিকে তাকায়, “গ্রীন ভ্যালি পার্ক কেসে ‘সরবজিতের’ রণদীপ হুডা স্পেশাল হুলিয়া বানানোর সময়ে আপনি ওভারটাইম করে আধমরা হননি?”

বেচারি অধিরাজ হতাশায় দু-হাত ছড়িয়েছে, “ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড ডার্লিং! ডিসগাইজ ছাড়া আর কোনো অপশনই ছিল না। আর তুমিই বলো, এই চেহারা আমি কীভাবে লুকোতাম? বার্নিং শিখের কেসের পর মিডিয়া আমায় হিরো বানিয়ে ছেড়েছে। গোটা শহর এই খানদানি বদনা চেনে! কোথাও গেলেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এই বদনখানি নিয়ে কার্লোসের র‍্যাকেট ধরতে গেলে র‍্যাকেট কিংবা খুনী তো দূর, গোটা পার্কটাই হাওয়া হয়ে যেত!”

অর্ণব মনে মনে স্বীকার করে যে কথাটা একশো শতাংশ সঠিক। এমন অপূর্ব রূপবান পুরুষকে এককোটি লোকের ভিড়েও দাঁড় করিয়ে দিলে ঠিক সবার চোখে পড়ে যাবে। অধিরাজের রূপ অনেক পুরুষেরই ঈর্ষার বস্তু। আর নারীদের কামনার। কিন্তু সত্যিই তাকে লুকিয়ে রাখা অসম্ভব। যে অসীম সৌন্দর্য তাকে সবার চোখে নায়কোচিত করে তুলেছে, সেটাই তার সবচেয়ে বড়ো নেগেটিভ পয়েন্টও বটে! তবু সে জমি ছাড়বে না।

“হাওয়া হলে হত!” অর্ণব মৃদু অথচ দৃঢ়স্বরে জানায়, “তাই বলে হাওয়া খেয়ে হাওয়ায় মিলিয়ে যেতে হবে এমন কেউ বলেনি! আপনি উলটোটাও করতে পারতেন। শেষপর্যন্ত রুণদীপ হুডাই আপনার মাথায় এল! অনন্ত আম্বানি আসেনি?”

সে সরু চোখে তার দিকে তাকায়, “তুমি বলতে চাও, যে লোক পাঁচ পা যেতে দশ মিনিট টাইম নেয়—আমার তাকে দেখে ইন্সপায়ার্ড হওয়া উচিত ছিল?” একটু থেমে ফের যোগ করে, “তাছাড়া তুমি আজ পর্যন্ত দু-শো আট কেজির ভিখারি দেখেছো? আরে, লোকে ভিক্ষা দেওয়ার বদলে ধরে র‍্যাম্পার্ট ক্যালানি দিয়ে ক্যালাইডোস্কোপ বানিয়ে দিত! বলত, ‘এই শালাই ভারতবর্ষের যত দুর্ভিক্ষ আর দারিদ্রের কারণ! সব পেটায় নম: করে ফের বাটি হাতে বসেছে। খিদে আর মেটেই না!”

“ইন দ্যাট কেস অন্য ডিসগাইজও নেওয়া যেত।” অর্ণব নাছোড়বান্দা, “এত বড়ো রিস্ক নেওয়ার দরকার কী ছিল?” সে এবার রাগতচোখে তার দিকে তাকায়, “দ্যাট ওয়াজ মাই ডিউটি অর্ণব।”

“অ্যান্ড নাও আই অ্যাম ডুইং মাই ডিউটি টু।”

এরপর আর কোনো কথাই বলা চলে না। তর্ক করাও বৃথা। অগত্যা অধিরাজ সোনামুখ করে যত রাজ্যের অখাদ্য জিনিস গিলেও গেল। সবাই মিলে তাকে টেংরির বিস্বাদ ‘জুস’ আর কুলেখাড়া-র রস খাইয়ে খাড়া করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। ক্ষমতা থাকলে তখনই সে লোটাকম্বল নিয়ে হিমালয়ে পালিয়ে যেত। ওই কয়েকদিনেই বুঝতে পেরেছিল যে এ-সংসার বড়োই নির্মম। খুনীর প্রাণঘাতী বুলেট, বিষ বা ছুরির থেকেও টেংরির জুস, কুলেখাড়ার রস বা সেদ্ধ আপেল অনেক বেশি পোটেনশিয়াল মার্ডার ওয়েপন। কাউকে কিছু করতেই হবে না। সাতদিন খেলেই যে-কোনো মানুষ ঝুলে পড়তে বাধ্য। কিন্তু সে এস্কেপ প্ল্যান দুর্বলতার কারণে সাকসেসফুলও হল না। দুর্ভাগা আই জি-র কপালে শিকেও ছিঁড়ল না। তবে ডবল ডোজে কুলেখাড়া খাওয়ার ফল হাতেনাতে পেয়েছে সে। এখন অধিরাজ আর সেই ভয়াবহ কৃশকায় মানুষটি নেই। বরং আগের থেকে আরও মজবুত, আরও একটু বেশিই সুগঠিত হয়েছে। তার টান-টান গ্রীক ভাস্কর্যের মতো সেই প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও যত্নে আরও যেন বেশি স্বর্গীয় সৌন্দর্যে ঝলমলিয়ে উঠেছে। এখন তাকে দেখলে কেউ বলবেই না যে দু-মাস আগেও এই লোকটারই সিঁড়ি ভাঙতে সন্ধে যেত। কিংবা কেউ বিশ্বাস করবে না যে কয়েকমাস আগে তার চামড়ার নীচে ক-খানা হাড় ছাড়া আর কিছুই ছিল না!

এই সমবেত ষড়যন্ত্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড অবশ্য ডঃ চ্যাটার্জি এবং এডিজি সেনও ছিলেন। তাঁদেরই কল্যাণে এখনও ডিউটিতে জয়েন করতে হয়নি তাকে। বরং এডিজি সেন অর্ণবকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, “ব্যানার্জিকে একটু চেঞ্জে নিয়ে যাও। ঘরবন্দি হয়ে হাঁসফাঁস করছে। একটু বাইরের হাওয়া খেয়ে আসুক। তারপর দেখা যাবে।” ডঃ চ্যাটার্জি আবার আর এককাঠি ওপরে। তিনি রীতিমতো তোম্বা মুখ করে জানান, “খবর্দার, পাহাড় নয়! এ ব্যাটা কিন্তু পাহাড়ে চড়লেই শিম্পাঞ্জি জাম্পিং শুরু করবে। কোনো ভদ্র, সভ্য জায়গায় নিয়ে যাও, যাতে বাছাধন ট্যাঁ ফো না করতে পারে।”

শিম্পাঞ্জি জাম্পিং, বাঞ্জি জাম্পিং-এর ডঃ চ্যাটার্জি প্রদত্ত ডাকনাম। চেঞ্জের ব্যবস্থাও অবশ্য অর্ণবই দায়িত্ব নিয়ে করেছিল। ডঃ চ্যাটার্জির সাবধানবাণী মাথায় ছিল। তাই সমুদ্রই বেছে নিয়েছিল সে। গম্ভীর মুখে বলেছিল, “আপনি কেস হাতে পেলেই ফের ফোঁকাফুঁকি বিজনেস শুরু করবেন। তাই এবার আপনার ওজোন দরকার। আগেভাগেই লাংস মেরামত করে রাখুন।”

“মিশন ওজনের পর এবার মিশন ওজোন?” অধিরাজ বাচ্চা ছেলের মতো কাঁধ ঝাঁকিয়ে বাও করেছে, “হেইল মেডিক্যাল কলেজের দেওয়াল টপকানো স্পেশালিষ্ট ডঃ সরকার!”

ভাবতেই সেই অপূর্ব শিশুসুলভ হাসিটা অধিরাজের ঠোঁট ছুঁয়ে গেল। মন্দ কাটেনি সমুদ্রতীরের সেই দিনগুলো! কোনো লাশ, খুন, রক্তারক্তি কেস নেই। সমুদ্রতীরে বসে শুধু ঢেউ গুনে যাওয়া। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের স্বর্গীয় সৌন্দর্য। সঙ্গে অর্ণবের কবিতা আর শায়েরি, আর তার নিজের গানের সুরের মেলবন্ধন। মাঝেমধ্যে এটা ওটা রান্না করে সবাইকে খাওয়ানো। আর প্রচুর পরিমাণে সমুদ্রের ছবি আঁকা। বন্দুক ছেড়ে হাতা খুন্তি, রং-তুলি ধরার অপার স্বাধীনতা। জীবনের স্বর্গীয় দিকটা বুঝি উম্মোচিত হয়ে গিয়েছিল তার সামনে। ওই কয়েকটি দিন সে কোনোদিন ভুলবে না।

আর ভুলবে না অর্ণবের ভয়াবহ বাতিক। সমুদ্রতটে বালি থাকবে কেন তা নিয়ে ওর প্রবল বিরক্তি ও আপত্তি। বেচারার ডাস্ট অ্যালার্জিটা খুব জ্বালিয়েছে। হাঁচতে হাঁচতে ওর ফর্সা মুখ লাল টকটকে হয়ে গিয়েছিল। ওপরন্তু মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা সি-বিচের লাল কাঁকড়া। অর্ণবের পায়ে একটা কাঁকড়া কড়কড়িয়ে উঠে পড়ায় সে প্রায় নাচতেই শুরু করে দিয়েছিল। অথচ এত অসুবিধে থাকা সত্ত্বেও সে তার স্পেশাল ওয়ানের সঙ্গ একমুহূর্তের জন্যও ছাড়েনি।

স্মৃতিগুলো ভেসে উঠতেই অধিরাজ বাচ্চা ছেলের মতো হেসে ফেলল। অর্ণব আর শোধরাবে না। সে তো কাঁকড়ার সঙ্গেও আর্গুমেন্ট চালাচ্ছিল, “তোরা আমার পেটে বা প্লেটে থাকবি। গায়ে উঠবি কেন? নাম বলছি।”…কী যুক্তি!…

“হে-ল্প! হে-ল্প! বাঁ-চা-ও!”

রাতের নিস্তব্ধতা খান খান করে দিয়ে ভেসে এল এক নারীকন্ঠের তীক্ষ্ণ আর্তচিৎকার। অধিরাজ এতক্ষণ আরাম করে সুখময় স্মৃতির স্বাদ নিচ্ছিল। ঘটনার আকস্মিকতায় ঘাবড়ে গিয়ে দ্রুত ব্রেক কষল। এত রাতে কোন মেয়ে এভাবে চেঁচাচ্ছে! লক্ষণ ভালো নয়। তাঁর নরম, স্বপ্নালু দৃষ্টি মুহূর্তের মধ্যেই প্রখর হয়ে ওঠে। নিজের মনেই বিড়বিড় করে, “সামথিং ইজ রং!”

বেশি খুঁজতে হল না তাকে। চোখের সামনেই চিৎকারের উৎস ছিল। সে দেখল তার গাড়ির একটু পাশেই দাঁড়িয়ে আছে একটি বিশেষ কোম্পানির ক্যাব। তার ড্রাইভার একটি মেয়েকে রাস্তার ওপরেই জাপটে ধরে আছে। ছোটোখাটো চেহারার নমনীয় মেয়েটি শত চেষ্টাতেও তাকে ছাড়াতে পারছে না। তার হ্যান্ডব্যাগ, সালোয়ারস্যুটের ওড়না মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। যুবতী আপ্রাণ লড়ে যাচ্ছে তুলনামূলক শক্তিশালী ড্রাইভারের সঙ্গে আর অসহায়ভাবে চেঁচাচ্ছে, “হে-ল্প!”

“ইধর কোই নেহি হ্যায় জানু। কোই নেহি আয়েগা পরেশান করনে কে লিয়ে…!” ড্রাইভারটি নেশাজড়িত কণ্ঠে বলল, “আও জানেমন, থোড়া এনজয় কর লেতে হ্যায়…।”

মেয়েটিকে সে গায়ের জোরে ব্যাকসিটে প্রায় পেড়েই ফেলেছে। যুবতী বুঝতে পারে আজ তার আর নিস্তার নেই। কাল হয়তো তাকেও খবর হয়ে যেতে হবে। লোকটার বীভৎস ক্রুর হাসিতেই প্রকট, সে তাকে কিছুতেই ছাড়বে না। এখানে কেউ নেই তাকে বাঁচাবার। তবু কী এক আশায় সে আবার চেঁচিয়ে ওঠে, “প্লিজ, আমায় ছেড়ে দাও! বাঁচাও। হে–!” অসুরের মতো লোকটা ঝুঁকে পড়তেই যাচ্ছিল তার ওপরে। মেয়েটা ভয়ের চোটে চোখ বুজে ফেলতে যাচ্ছিল। তার বুকের পাঁজরে মৃত্যুভয়, কান্না, অসহনীয় যন্ত্রণা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। কতবার কত হতভাগিনীর শেষ মুহূর্তের আছাড়ি-পিছাড়ির বিস্তৃত বিবরণ খবরের কাগজে পড়েছে। আজ তার পালা। এই শেষ… এক ভয়াবহ যন্ত্রণাদায়ক অন্তিম মুহূর্ত…।

হঠাৎই তার প্রায় নিষ্প্রাণ দৃষ্টির সামনে যেন অন্ধকার ফুঁড়ে একটা দীর্ঘ, বলিষ্ঠ মানুষ আবির্ভূত হল। কোথা থেকে এল কে জানে। কিন্তু শিকার আর শিকারী–কেউ কিছু বোঝার আগেই তার ডানহাতটা ব্ল্যাক মাম্বার মতো বিদ্যুৎগতিতে ছোবল মারল দুষ্কৃতীর ঘাড়ে। শয়তানটা কিছু বোঝা তো দূর, টু শব্দটিও করার সুযোগ পায়নি। উলটে বরং তার মুখ থেকে একটা কাতরোক্তিও বেরোল না। চোখের পলক পড়ার আগেই কোনোরকম আওয়াজ না করে রাস্তার ওপরেই দড়াম করে লুটিয়ে পড়েছে সেই মনুষ্যরূপী জানোয়ার। দীর্ঘদেহী পুরুষ তার দিকে তাকিয়ে উষ্ণ ও সান্দ্র মৃদুস্বরে বলল, “স্কা-উ-ড্রে-ল।”

যুবতীর বিস্মিত চোখের সামনে একদম নিস্পন্দ, নিথর হয়ে পড়ে আছে সেই দানব। কোনোরকম নড়াচড়া তো দূর, নিঃশ্বাস নিচ্ছে কী না তাও বোঝা যায় না। সে কোনোমতে ধড়মড় করে নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে বসে। তখনও আতঙ্কে কাপছে মেয়েটা! গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোচ্ছে না। ঘটনাটা কী ঘটল, সামনের লোকটা কে, বন্ধু না শত্ৰু কিছুই বুঝে ওঠার মতো ক্ষমতা বা সময় ওর কাছে ছিল না। তবু কোনোমতে অবরুদ্ধ স্বরে বলল, “কী হল।… অ্যাঁ?… মরে গেল নাকি?”

সামনের মানুষটির হাসির শব্দ ভেসে আসে, “ওয়েল সেনোরিটা, ইন দ্যাট কেস আপনি কী ওর শোকে রুপালির রোল প্লে করতে চাইবেন? চাইলে করতে পারেন। আমার কোনো আপত্তি নেই।”

বলতে বলতেই দীর্ঘ মানুষটা একটু এগিয়ে যায়। ফোনে টকাটক একটা নম্বর ডায়াল করে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল সে। পরক্ষণেই বলল, “হ্যাঁ, ডার্লিং?… একজন সুযোগ্য দুঃশাসন এই মুহূর্তে আমার সামনে কাটা কলাগাছের অ্যাকটিং করছে…. ইয়েস… আ ড্যাম মলেস্টর… আমি লাইভ লোকেশন সেভ করছি… তুমি লোক্যাল পুলিস স্টেশনে কনট্যাক্ট করে ওকে মামাবাড়ি নিয়ে যাওয়ার বন্দোবস্ত করো।… না না, মরেনি, হালকা ডোজ দিয়েছি… ওকে বস! ওভার অ্যান্ড আউট—গুডনাইট।”

কথা শেষ করে নিজের লাইভ লোকেশন একটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে সেন্ড করে দেয় সে। যুবতীর আগেই সন্দেহ হয়েছিল। এই মখমলি কন্ঠস্বর, কথাবার্তার ধরন টিভিতে বেশ কয়েকবার শুনেছে। উপরন্তু মানুষটা যখন এগিয়ে গেল তখন ল্যাম্পপোস্টের আলোও ছলকে পড়ল তার মুখে। মুহূর্তের জন্য মেয়েটির মস্তিষ্কে বিদ্যুৎত্তরঙ্গ খেলে যায়। চোখও ধাঁধিয়ে গিয়েছে। না, চিনতে একটুও ভুল হয়নি। সেই শিশুসুলভ অপূর্ব মুখ, সেই উদ্ধত গ্ৰীক দেবতার সৌন্দর্য। সে আস্তে আস্তে উচ্চারণ করে, “অফিসার ব্যানার্জি।”

“ওয়েল সেনোরিটা…।” নিজের কাজ শেষ করে ফের মেয়েটির কাছে ফিরে এল অধিরাজ। নরম অথচ ব্যারিটোন স্বরে বলল, “আর উই ডান? নাকি ওর জন্য শোকসভার বন্দোবস্তও করতে হবে?”

এত দুঃখের মধ্যেও এবার হেসে ফেলে যুবতী। এতক্ষণে প্রাণে জল এসেছে। একটু ফ্যাকাশে হাসার চেষ্টা করে বলে, “না। মরেনি যখন তখন ওসবের দরকার নেই স্যার। আপনি বরং আমায় একটা ক্যাব ধরে দিন। এমার্জেন্সি আছে।”

“অ্যানাদার ক্যাব?” তার মুখের দুষ্টু হাসি ক্যানাইন টিথে ঝিলিক দিল, “একজন মাতাল ড্রাইভারে শখ মেটেনি যে আর একজনকে ইনভিটেশন কার্ড পাঠাচ্ছেন?”

যুবতীর মুখে চিন্তার ছাপ, “কিন্তু আমায় যে এখন হসপিটালে পৌঁছোতেই হবে। আর্জেন্ট কল এসেছে।”

“আপনি ডাক্তার। রাইট?”

বোকার মতো প্রশ্ন করল মেয়েটি, “কী করে বুঝলেন?”

“প্রথমত একজন সুযোগ্য রেপিস্টের মরার দুঃখে দুই প্রজাতির লোকই কান্নাকাটি করতে পারে। হয় মানবাধিকার কমিশনের লোক, নয় ডাক্তার।” অধিরাজ হাত ওল্টায়, “দ্বিতীয়ত, মাঝরাতে এমার্জেন্সির কল পেয়ে আর যাই হোক, মানবাধিকার কমিশনের কর্মী হসপিটালে দৌড়োবে না। ওঁরা খুনী বা রেপিস্টের ফাঁসির আগে এন্ট্রি নেন, কারওর প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি করে ছোটেন না। তাই ডাক্তার হওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল। তৃতীয়ত, আপনার গা থেকে জোরদার স্যানিটাইজারের গন্ধ এখনও আসছে। একটা পাঁচ বছরের বাচ্চাও বুঝবে।” বলতে বলতেই সে পকেট থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করে আনে। ঠোঁট দিয়ে একটা স্টিক টেনে বের করে বলল, “বাই দ্য ওয়ে, কোন্ হসপিটাল?”

“জেনিথ মাল্টিস্পেশালিটি হসপিটাল।”

অধিরাজ একদৃষ্টে কিছুক্ষণ যুবতীর দিকে তাকিয়ে থেকে না ভঙ্গিতে বলে, “ইফ ইউ ডোন্ট মাইন্ড, আমি আপনাকে লিফট দিয়ে দিতে পারি মাদমোয়াজেল। যদি না আবার একই অঘটনের শিকার হওয়ার ভয় আপনার মনে থাকে।”

মেয়েটি একটু চুপ করে থেকে কী যেন ভাবল। তারপর সংশয়ান্বিত কণ্ঠে বলল, “আপনি তা করতে পারেন না।”

“যাঃ। বলেন কী। পারি না! হোয়াই?” ওর ডানদিকের ভুরুটা একটু ওপরে উঠে গেল। অধিরাজ এবার গাড়ির গায়ে ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে হাত দুটো বুকের ওপর জড়ো করে রেখেছে। তার গলায় হতাশার ছাপ স্পষ্ট, “কেন পারি না সেনোরিটা? আপনি আমায় এত বড়ো অপদার্থ ভেবে বসালেন কেন? যা ওই মাতাল, অশিক্ষিত ড্রাইভার পারে, তা আমি পারব না? অ্যাম আই সো ইনকম্পিটেন্ট? ও ব্যাটা তো স্রেফ ঘাড়ে গর্দানে খ্যাপা মোষ পাব্লিক। আপনি রীতিমতো সুন্দরী। আমার হাইট ওয়েটও কম নয়। কম্ব্যাট টেকনিকও জানি। চেপে ধরলে পালাতে পারবেন?”

তার কথা বলার ভঙ্গিতে আবার ঘাবড়ে যায় সে। কপালের ঘাম মুছে বলে, “না, আপনি পারেন না। ইউ আর আ কপ!”

“সো হোয়াট? পৃথিবীতে লম্পট, চরিত্রহীন পুলিস নেই? নাকি পুলিস অ্যাকাডেমিতে ঢুকলেই সন্ন্যাস নেওয়া আবশ্যিক! যতদূর জানি তারা ইমপোটেন্টও নয়। তাহলে এই সামান্য কাজটা আমি পারব না?”

বলতে বলতেই অধিরাজ একমুখ ধোঁয়া ছাড়ল, “ইনফ্যাক্ট ওই ড্রাইভারটার থেকে রেপিস্ট হিসেবে আমি অনেক বেটার। কারণ আমি নিজেই পেশায় একজন পুলিস! ও মাথামোটা পাবলিক তো কালই ধরা পড়ে যেত। কিন্তু যেহেতু আমি পুলিস, তাই খুব ভালোভাবেই জানি যে কীভাবে কুকীর্তি করেও সেটাকে চেপে দেওয়া যায়। আইনের ফাঁকফোকর, পুলিসি তদন্তের এ টু জেড আমার জানা। কোথায় সিসিটিভি নেই, কীভাবে মোবাইলের লোকেশন হাইড করা যায়, কোন ভুলগুলো অপরাধীকে ধরিয়ে দেয়—সব জানি। ও ক্রাইম করলে ধরা পড়বে। কিন্তু আমি কোনো প্রমাণ রাখবই না, ধরা পড়া তো দূর। এবার আপনি নিজেই ভেবে দেখুন। যাবেন কী যাবেন না।”

বলতে বলতেই সে মেয়েটির পড়ে থাকা হ্যান্ডব্যাগ আর ওড়না তুলে নিয়ে এগিয়ে দিয়েছে তার দিকে, “নিন, আপনার সম্পত্তি।”

যুবতী হ্যান্ডব্যাগের ভেতর থেকে ওয়েট টিস্যু বের করে নিজের ঘর্মাক্ত মুখ মুছল। তারপর বোতল থেকে জল খেয়ে একটু আত্মবিশ্বাসী স্বরে বলল, “স্যার, আপনি এভাবে আমায় ভয় দেখাবেন না। আমি আপনাকে খুব ভালোভাবেই চিনি। টিভিতে, নিউজে দেখেছি। আপনি এমন অসভ্যতা করবেনই না!”

“নাও ইউ আর অ্যাবসোলিউটলি রাইট।” সে মনে মনে মিডিয়ার ওপর একচোট দাঁত কিড়মিড় করলেও প্রকাশ্যে ঠোঁট টিপে হাসল, “আমি ‘পারব না’ নয়, আমি ‘করব না।’ কেপেবিলিটি আর ইন্টেনশন—এই দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে। আপনি যদি আমার ইন্টেনশন সম্পর্কে কনফিডেন্ট থাকেন তবে…” সে দীর্ঘদেহটাকে ঝুঁকিয়ে নম্র বাও করে নিজের গাড়ির দরজাটা খুলে দেয়, “প্লিজ, অ্যাবোর্ড।”

মেয়েটি আর কথা না বাড়িয়ে উঠে বসে গাড়িতে। জানে এখন সে সম্পূর্ণ নিরাপদ। তবু আগের ঘটনার অভিঘাতে হাত-পা কাঁপছে। অধিরাজ সেটা লক্ষ করেই বোধহয় ড্যাশবোর্ড থেকে একটা চকলেট বার বের করে এগিয়ে দেয় তার দিকে, “খেয়ে নিন। ইউ উইল ফিল বেটার। চকোলেটের মতো মুড রিফ্রেশনার খুব কমই আছে।”

যুবতী কৃতজ্ঞভঙ্গিতে চকলেটটা নিয়ে আস্তে আস্তে বলে, “মাইসেলফ ডঃ সুজাতা রায়। আপনার পরিচয় না দিলেও চলবে।”

অধিরাজ কোনো কথা না বাড়িয়ে মৃদু হেসে গাড়ি স্টার্ট করল। কপালগুণে জেনিথ হসপিটাল তার বাড়ির পথেই পড়ে। নয়তো উলটোদিকে যেতে হত। সে চুপচাপ ড্রাইভিং-এ মন দেয়।

“আচ্ছা স্যার…।” সুজাতা বেশ খানিকক্ষণ নীরব থেকে ফের মুখ খুলল, “আপনি একটু আগে যে কথাটা বলছিলেন, সেটা যদি কোনোভাবে সত্যি হয়ে যায়?”

স্টিয়ারিঙে হাত রেখেই ধূমায়িত সিগারেটে সুখটান মারল অধিরাজ, “কোটা সত্যি হবে? আমার আই জি থেকে মাতাল ড্রাইভারের ট্রান্সফর্মেশন?”

সুজাতা হেসে ফেলল, “তা নয়। আপনি বলছিলেন যে পেশায় পুলিস হওয়ার দরুন ক্রাইম করলে আপনাকে ধরা যাবে না। তেমনই কোনো ডাক্তার যদি খুন করে তবে কী তাকে ধরা সম্ভব?”

অধিরাজ তার দিকে এবার পূর্ণদৃষ্টিতে তাকায়, “গুড কোয়েশ্চেন সেনোরিটা। একজন ডাক্তার যদি খুন র তবে সেটা প্রায় নিয়ার অ্যাবাউট পারফেক্ট ক্রাইমই হবে। পুলিস আর ডাক্তার যদি ক্রাইম করতে চায় তবে তাদের চেয়ে নিখুঁত অপরাধী খুব কমই আছে।”

“আপনি ডঃ ডেথের নাম শুনেছেন?”

সুজাতার প্রশ্নটা শুনে মাথা ঝাঁকায় সে, “এ নামটা কে না শুনেছে। বাট ডিপেন্ডস, আপনি কোনজনের কথা বলছেন। ডঃ হ্যারল্ড ফ্রেডরিক শিপম্যানের কথা? ডঃ জন বড়কিন অ্যাডামসের কথা? না ভারতের ডঃ ডেথ দেবেন্দ্র শর্মার কথা!”

“না। আমি এদের কথা বলছি না।” সুজাতা একটু দ্বিধাগ্রস্ত স্বরে বলল, “আমি সেই মানুষটার কথা বলছি যার জন্য একবছরে জেনিথের কার্ডিওলজি ডিপার্টমেন্টে প্রায় বিরানব্বইজন সিনিয়র সিটিজেনের মৃত্যু হয়েছে।”

“হোয়াট।”

অধিরাজ চমকে ওঠে। এসব কী বলতে সুজাতা। এরকম বাস্তবে হওয়া সম্ভব? না পুরোটাই এর উদ্ভট কল্পনা।

মেয়েটা আপনমনেই বিড়বিড় করে, “যে নাম্বারটা আমি আপনাকে বললাম, সেটা স্রেফ টিপ অন আইসবার্গ স্যার। আমার দৃঢ় সন্দেহ জেনিথে কিছু একটা গোলমাল হচ্ছে। একটু আগেই যে কলটা রিসিভ করে আমি হসপিটালে দৌড়চ্ছিলাম সেটা এস ও এস ছিল। এক পেশেন্টের দু-দিন আগেই পেসমেকার বসেছিল। কাল তাকে ডিসচার্জ করার কথা। অথচ এই মূহূর্তে শুনলাম তিনি কোমায় আছেন।”

উদ্বেগে ভরা দুটো চোখ অধিরাজের ওপর নিবদ্ধ করে বলল সে, “এটা শুধু ওঁর একার নয়, সবক -জনেরই গল্প। সেম মেডিক্যাল হিস্ট্রি। ওঁরা প্রত্যেকে বিপদ কাটিয়ে সুস্থ হরে উঠেছিলেন। কিন্তু তারপরই…।”

অধিরাজের চোখদুটো গভীর চিন্তায় মগ্ন। সে সুজাতার কথাকে একটুও হালকাভাবে নেয়নি। মেয়েদের সিক্সথ সেন্সকে অবজ্ঞা করার অভ্যাসও তার নেই। শুধু বলল

“কলকাতায় ডঃ ডেথ। কিউরিঅচ’সার অ্যান্ড কিউরিঅ’সার!”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *