১২
“আপনি মার্সিডেথকে সাপোর্ট করেন?”
প্রশ্নটা শুনেই অ্যানাস্থেসিওলজিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট রঞ্জন নায়েকের মুখে একটু বিরক্তির ছাপ ভেসে ওঠে।
“কেন? মার্সিডেথ কী অন্যায় কিছু? একটা লোক দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে। সে জানে যে আর জীবনে কিছু নেই। প্রতিমুহূর্তে মৃত্যু চাইছে। সেক্ষেত্রে ‘ডেথ’ কী তার ক্ষেত্রে ‘মার্সি’ নয়?” সে চোখ পিটপিট করে, “শুনেছিলাম এক ভদ্রলোক তাঁর কোমায় থাকা স্ত্রী-র ইউথানেসিয়া বা মার্সিডেথের জন্য কোর্টে গিয়েছিলেন। স্ত্রীয়ের চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ঘর-বাড়ি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ওঁর পক্ষে চিকিৎসা তো দূর পেশেন্টাকে দু-বেলা দু-মুঠো খাওয়ানোই দায় হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। এর চেয়ে তো মৃত্যু হওটি ভালো… ।”
রঞ্জন বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তার বিবর্ণ মুখে উদ্বেগ। যেন নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করছে। অধিরাজ একদৃষ্টে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর বলল, “হ্যাঁ। অনেকেই মার্সিডেথ বা ইউথানেসিয়ার দাবিতে স্পোর্ট গিয়েছেন। কিন্তু কোর্ট তাদের কথা শোনেনি।”
“অরুণা শানবাগের ক্ষেত্রে শুনেছিল। সেটা আপনি জানেন না? মার্সিকিলিং ভারতে এখন বৈধ। এসব খবর রাখেন না বুঝি?”
তার দৃষ্টিতে প্রচ্ছন্ন অবহেলা। অর্ণবের মনে হল লোকটাকে ধরে এক থাপ্পড় মারে! কীরকম ব্যঙ্গাত্মক ভাবে কথাটা বলল : যেন পৃথিবীতে ও-ই একা সবজান্তা টাওয়েলরাম। বাকিরা সব গামছা বেচতে বসেছে। মার্সিকিলিং নাকি ভারতে বৈধ!
“আমি অন্তত এই খবরটা জানি যে আমি জানি না, “ অধিরাজ ফিক করে হেসে ফেলেছে, “আপনি তো এটাও জানেন না যে আপনি কিছুই জানেন না।”
“মানে?”
রঞ্জন বিস্মিত। অধিরাজের পালটা উত্তরে যে তার ইগোর বেশ জোরদার আঘাত লেগেছে তা স্পষ্ট। সে একটু রাগতস্বরে বলে, “কী বলতে চান? আমি অশিক্ষিত?”
“না।” অধিরাজ মাথা নাড়ছে, “যারা কোনো কিছুই না পড়ে, না জেনে, না শুনে, গভীরে না গিয়ে বিশেষভাবে জ্ঞানগর্ভ মতামত দেন, তারা বিশেষ-অজ্ঞ। অশিক্ষিত তো আমি! পুরো অরুণা শানবাগ কেস মুখস্থ করে ফেললাম, ইউথানেসিয়ার ওপর যত আইন আছে সব পড়ে বসে থাকলাম। অথচ আজ আপনার মুখে শুনছি, ভারতে মার্সিকিলিং বা মার্সিডেথ বৈধ! স্বাভাবিকভাবেই বোঝা যাচ্ছে যে আইনের বইয়ের একটা অক্ষরও আমি বুঝিনি। সো আমিই এখানে একমাত্র ব্যক্তি যে নিরক্ষর ও অশিক্ষিত!”
বলতে বলতেই সে রঞ্জনের কাঁধে তার শক্তিশালী হাতের এক চাপড় মেরে বলে, “সেনর, অরুণা শানবাগের সেটাকে এমনি এমনি ল্যান্ডমার্ক কেস বলা হয় না। জার্নালিস্ট পিছি ভিরানি যে সরাসরি বা অ্যাকটিভ ইউথানেসিয়ার পিটিশন আর আর্গুমেন্ট দিয়েছিলেন তা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করেছিল। তার বদলে প্যাসিভ ইউথানেসিয়া অ্যালাউ করেছিল। তাও আবার একগাদা জটিল শর্তাবলী ও গাইডলাইনের সঙ্গে। আপনি দেখলেন একটা লোক কষ্ট পাচ্ছে আর অমনি ধড়াম করে একটা লিথাল ইঞ্জেকশন দিয়ে লোকটাকে যমের দোরে পাঠালেন—ওটা ভারতে মার্সিডেথ নয়, মার্ডার। প্যাসিভ ইউখানেসিয়ার ক্ষেত্রে কোর্ট, মেডিক্যাল বোর্ডের ওপিনিয়ন, আত্মীয়দের লিখিত অনুমতি, হসপিটালের অনুমতি, ‘দ্য রাইট টু ডাই উইথ ডিগনিটি’র সব শর্ত বসছে কী না, ‘স্যাংটিটি জব লাইফ’ হ্যাম্পারড হচ্ছে কী না—এতসব দেখার পরই পুরো প্রসেস কার্যকর হয়। প্রসেসও খুব কষ্টকর নয়। যে লোকটা স্রেফ লাইফসাপোর্ট-রাইলস টিউব-আর মেডিসিনের জোরে ফিজিক্যালি বেঁচে আছে, তার লাইফসাপোর্ট সিস্টেম, রাইলস টিউব বা মেডিকেশন বন্ধ করে দিলেই কাজ হয়ে যায়। অরুণা শানবাগকে প্যাসিভ মার্সিডেথ দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি বেয়াল্লিশ বছর ধরে স্রেফ ভেজিটেবল হয়েই পড়েছিলেন। আসলে ১৯৭৩ সালেই ওঁর ব্রেনডেথ হয়ে গিয়েছিল। বেয়াল্লিশ বছর ধরে স্রেফ দেহটাকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছিল। এত দীর্ঘ সময় ভেজিটেটিভ স্টেটে থাকার জন্যই অরুণা শানবাগকে জীবন থেকে মুক্তি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। লাইফ সাপোর্টিং সিস্টেম বন্ধ করে দেওয়া আর লিথাল ইঞ্জেকশন মেরে খুন করা—দুটো আদৌ এক নয় মেরে দোস্ত।”
এবার রঞ্জনের মুখ রক্তশূন্য হয়ে যায়। সে বিড়বিড় করে বলে, “আমি কাউকে লিথাল ইঞ্জেকশন দিইনি।”
“বিউপিভিকেইন, লিডোকেইন হাইড্রোক্লোরাইড বা এপিনেফ্রিন কোনোদিন কাউকে দেননি?”
“দেব না কেন?” রঞ্জন জানায়, “ওটা তো আমার কাজ!”
“এটাও কী আপনার কাজ?”
বলতে বলতেই তার নাকের সামনে মলয়ার দেওয়া সেই বিপজ্জনক চিঠিটা তুলে ধরল অধিরাজ। সেই ভয়াবহ মেন্টাল ম্যানিপুলেশনের দলিল! যেন শিকারীর অদৃশ্য ফাঁদ।
সেটা চুপচাপ বেশ কিছুক্ষণ দেখে রঞ্জন নায়েক জানায়, “এখানে ভুল কী লেখা আছে? ইন ফ্যাক্ট প্রত্যেকটা লাইনকে আমি সমর্থন করি। যে লিখেছে, ঠিকই লিখেছে।”
“বুঝলাম!”
অধিরাজ হতাশভাবে মাথা নাড়ে। তারপর তজনী দিয়ে চিবুকের কাটা দাগটা একটু ঘষল। হাতের ঘড়িটা একটু ঠিকঠাকও করে নিয়েছে। রঞ্জন নায়েক তার দিকে ভুরু কুঁচকে : বিরক্তি সহকারে এমনভাবে তাকিয়ে থাকে যেন বলতে চাইছে—ইডিয়টটা করতে কী চায়।
উত্তর ঠিক এক সেকেন্ড পরেই এল। সে কী করতে চায় তা অবশ্য মুহূর্তের ভগ্নাংশেই বোঝা যায়। অধিরাজের বাঁ-হাতের পাঞ্জা তড়িৎগতিতে নিষ্ঠুরভাবে রঞ্জনের টুঁটি টিপে ধরে তার শক্তিশালী হাতের চাপে মাথাও তুলতে পারছে না। ফণা থেতলে যাওয়া সাপের মতো ছটফট করছে। তবু ওই অবস্থাতেও আড়চোখে দেখল অধিরাজের ডানহাতে ফণা তুলেছে কোল্ট কোবরা, সার্ভিস রিভলবার নয়। সে খুব ঠান্ডাস্বরে বলে, “অর্ণব, যাও তো। ওয়েট টাওয়েল নিয়ে এস।”
“ওয়েট টাওয়েল স্যার?” অর্ণবের মুখে ছদ্মভয়ের ছাপ। সে একঝলক রঞ্জনের দিকে তাকায়, “ছেড়ে দিন না!”
“ডিসিশন মেকিং তোমার কাজ নয়।” অধিরাজ অবিকল নানা পাটেকরের ‘অব তক ছপ্পন’ মার্কা চোখে রঞ্জনের দিকে তাকিয়ে আছে, “যা বলছি চুপচাপ করো। দিস ইজ মাই অর্ডার।”
“ইয়েস স্যার…”
অর্ণব কয়েক পা এগিয়ে গিয়েও থমকে দাঁড়ায়, “মানে, স্যার কতটা ভেজাব?”
“এতদিন এ কাজ করছ আর জানো না?” অধিরাজ কোস্ট কোবরার আবেদনময় চকচকে দেহটাকে একঝলক সপ্রেমে দেখে নিল, “গান পাউডারের ট্রেস না এলেই হবে। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ নিচ্ছি। সো ডেনসিটি বেশি হতেই পারে। সেইভাবেই ভিজিয়ে নিয়ে এস। হাফবালতি জলে ভেজাও, কী ফুলট্যাঙ্কের জল ঢালো—আই ডোন্ট কেয়ার। কুইক।”
“ওকে স্যার…।”
অর্ণব ফের যেতে উদ্যত হয়। তার আগেই রঞ্জন ভয়ে, আতঙ্কে চেঁচিয়ে উঠেছে, “দাঁ-ড়া-ন।… এ কী করছেন স্যার!… এ কী…!”
অধিরাজ নিষ্ঠুর ইস্পাতকঠিন স্বরে বলে, “কেন? তোকে মার্সিডেথ দিচ্ছি। মরার খুব শখ না তোর? বেঁচে থাকার কোনো ইচ্ছে নেই। তাই আমার তোর ওপর ‘মার্সি’ হয়েছে। ডোন্ট ওরি, এটা লিথাল ইঞ্জেকশনের চেয়েও তাড়াতাড়ি কাজ করে। সরাসরি মাথায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে একটা গুলি-খেল খতম! তুই টেরই পাবি না। গুড়ুম অ্যান্ড ফিনিশ! অ-র্ণ-ব।”
“হ্যাঁ।”
অর্ণব ফের পা বাড়িয়ে বম্বাস্টিক আই সাইডে রঞ্জনের প্রতিক্রিয়া দেখে নিল।
“দিস ইজ ইললিগ্যাল… এটা ঠিক নয়… আপনি আমায় মার্ডার করতে পারেন না…।”
রঞ্জন ককিয়ে ওঠে। অধিরাজ এবার কোল্ট কোবরার নলটা ওর মাথায় চেপে ধরেছে, “কেন? মার্সিডেথ তো ভারতে লিগ্যাল। এইমাত্র উনি তাই বললেন না অর্ণব? নাকি আমিই ভুল শুনলাম?
অর্ণব ঘটঘট করে মুণ্ডু ওপরে নীচে নাড়ায়, “হ্যাঁ স্যার। এই ইনফরমেশন উনি নিজেই জাস্ট এইমাত্র দিয়েছেন।”
“সো ইটস নট ইললিগ্যাল দেন। প্রবলেম কোথায় সেনর? আপনি এতগুলো লোককে মার্সিডেথের নামে ওপরমহলে পাঠালেন, আর নিজের বেলায় ভয় পাচ্ছেন?”
“আমি কাউকে মারিনি… আমি কাউকে কোনো ইঞ্জেকশন দিইনি।”
“বটে?”
অধিরাজ এবার ব্যঙ্গাত্মক, “কত দুর্বুদ্ধি তোর ঘটে। শীলা কী জওয়ানি ছাড়া তোর দিন, রাত কিছুই কাটছে না! ওকে ফাঁসানোর জন্য কত কাণ্ড করেছিস তুই। ওকে দিয়ে সুহাসিনী মিত্রকে নিজেই বলিয়েছিলি না যাতে উনি বার্থডে কেকে আমন্ড পেস্ট দ্যান? এমনকি ওঁর তৈরি সাধারণ চিলি মাশরুমে নিজেই বিষাক্ত মাশরুম ঢেলে খেয়েছিলি! নিজেই নিজেকে মারার এত চেষ্টা করার মানে কী? এত কষ্ট করার দরকারই বা কী ছিল?”
“হ্যাঁ স্যার।” অর্ণব ফের পুতুলের মতো মাথা নাড়ছে, “এত কষ্ট করার বদলে আমরাই বরং ‘মা আমি চুরি করিনি’-র সঙ্গে রক্তজবা না কে একটা হিরোইন-—তার মেগাসিরিয়ালের ক্রিঞ্জ ওয়াচ করিয়ে দিতাম! তার সঙ্গে ডিশ হিসেবে ঝিঙে আর ঢ্যাঁড়স বিরিয়ানিও থাকত। বিষাক্ত মাশরুম আর আমভ পেস্টের দরকারই পড়ত না।”
অধিরাজ পূর্ণদৃষ্টিতে অর্ণবের দিকে তাকায, “সর্বনাশ করার জন্য তুমি বিরিয়ানিটাই পেয়েছিলে? হাক্কা নুডলস বাদ গেল কেন? আমারই এখন ফ্রাস্ট্রেটেড লাগছে। মার্সির খুব দরকার।”
বলতে বলতেই সে ট্রিগারে আঙুল রাখে, “ধুত্তোর। দিই শালাকে ঠুকে। গান পাউডারের নিকুচি করেছে…।”
“স্যার… দাঁড়ান… আমি এমন কিছু করিনি। ওটা শীলা আর সুহাসিনী ম্যাডামের চালাকি।”
“তাই?”
সে এবার তাকে ছেড়ে দিয়ে সজোরে ডাকল, “বিশ্ব!…এদিকে এসো তো ভাই। একটু ওকে বিশ্বদর্শন করিয়ে দাও।”
ডাক পাওয়া মাত্রই বিশ্বজিৎ স্টিল ফ্রেমের চশমা পরে, কান এঁটো করা একমুখ হাসি আর হাতে একটা ল্যাপটপ নিয়ে এসে হাজির হল। যে মুহূর্তে সুহাসিনী শীলা বসাক আর রঞ্জন নায়েকের ভিডিওর পোল খুলে দিয়েছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তেই সাইবার এক্সপার্ট বিশ্বজিতের কাছে নিঃশব্দে একটা মেসেজ পৌঁছে গিয়েছিল। মেসেজে একটা ফোন নম্বর দিয়ে বলা হয়েছিল, “হ্যাক দিস ওয়ান! যদি কোনো চ্যাট বা মিডিয়া ডিলিট হয়ে থাকে তবে সেটাও রিভাইভ করার চেষ্টা করো।”
বিশ্বজিৎ উত্তরে লিখেছিল, “যতই আমি নরকে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করতে চাই, আপনারা ততই আমাকে ‘গো টু হেল’ বলে তার গেটেই পৌঁছে দেন স্যার।”
অধিরাজের শান্ত উত্তর, “শয়তানকে ধরতে হলে নরকে যাওয়া জরুরি বিশ্ব। স্বর্গে তাকে তুমি পাবে না। কাজ হবে কী না বলো।”
বিশ্বজিৎ একটা ক্যাজুয়াল ইমোজি দিয়ে বলে, “কোনদিন হয়নি?”
আপাতত তার হাতের ল্যাপটপে রঞ্জনের প্রচুর ইন্টারেস্টিং জিনিসপত্র আছে। তার মধ্যে অন্যতম অনলাইন মেডিসিন অ্যাপের বেশ কিছু অর্ডার হিস্ট্রি। অধিরাজ সেগুলো দেখতে দেখতে বলল, “গত তিনবছরে আপনি প্রচুর পরিমাণে গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ, পাইপস, অ্যাক্টিভেটেড চারকোল আনিয়েছেন দেখছি!”
বলতে বলতেই সে থেমে গিয়েছে। সবিস্ময়ে বলল, “এ কী! এপিনেফ্রিন এই লিস্টে কী করছে? আপনি তো হসপিটালেই এপিনেফ্রিন পেয়ে যেতেন। তবে আলাদা করে আনানোর কারণ? এনি পার্সোনাল রিজন? মার্সিডেথের মতো মহান কাজ নয়তো!”
বিশ্বজিৎ চোখ গোল গোল করে ফেলেছে, “মার্সিডেধ? কার? নিজের নাকি। আফটার অল ওঁর জীবনে প্রচুর হতাশা, নিরাশা, দুঃখ। তাই রাত হলেই দারুণ দারুণ সব ছবি আর ভিডিও দেখেন। এমনকি ব্যুরোয় বসেও তো দেখছিলেন।”
“ছি: বিশ্বজিৎ, অমন বলে না!” সে দুষ্টু হাসে, “তুমি বরং ওঁকে ওঁর সুন্দর সুন্দর চ্যাট আর ভিডিওগুলো একটু দেখিয়ে দাও। অফকোর্স উইথ শীলা কী জওয়ানি।”
রঞ্জন বুঝতে পারছিল যে সে সম্পূর্ণ ফেঁসে গিয়েছে। বিশ্বজিৎ ততক্ষণে তার সামনে তারই ফোনের ভিডিও ল্যাপটপে চালিয়ে দিয়েছে। তার সঙ্গে প্রচুর চ্যাটও উদ্ধার করেছে। সি আই ডি হোমিসাইডের ব্যুরোতে সেদিন স্ট্রং জ্যামার লাগানো ছিল, যাতে কেউ কারওর সঙ্গে কথা না বলতে পারে। কিন্তু রঞ্জন সে রাতেও গ্যালারির একটি বিশেষ ফোল্ডার খুলে অনেকগুলো ভিডিও ও স্টিলছবি দেখছিল। বিশ্ব তার টাইমিংও দিয়ে দেয়। সে মৃদু হেসে বলে, “রাত বারোটা বেজে দশ মিনিট, বারোটা বেজে পঁচিশ মিনিট… এগেইন বারোটা বেজে পঁয়তাল্লিশ থেকে শুরু হয়ে যান এবং দুটো বেজে পঁচিশ মিনিট অবধি প্রচুর ছবি ও ভিডিও ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখেন। আবার ওঁর পুরোনো চ্যাটে কাকে যেন হুমকিও দিয়েছেন, ‘তোকে জেলের ভাত খাইয়েই ছাড়ব।’ আবার তাকেই বলেছেন, ‘আমন্ড ওঁর ফেভারিট। জন্মদিনে সে যেন আমণ্ড কেকের ব্যবস্থা করে। আবার চিলি মাশরুম খাওয়ার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন। বলেছেন, ‘তোর বরের তো অঢেল মাশরুমের স্টক। কোনোদিন রান্না করেও আন।”
অধিরাজের ঠোঁটে রহস্যময় হাসি। সে বলল, “ভেবে দ্যাখ, আগের দিনও আমি বলেছি, তোদের কাউকে অ্যারেস্ট করা হয়নি। তার মানে তুই পুলিস কাস্টডিতে নেই। অর্থাৎ তোর দায়িত্ব আদৌ আমাদের নয়। রিপোর্টে রিটনে আছে তুই এখানে এসেছিলি। আরও একটা রিটন রিপোর্টে থাকবে যে তুই এখান থেকে ঠিক দেড়ঘণ্টার মাথায় বেরিয়েও গিয়েছিস। তারপর যদি নিখোঁজ হয়েও যাস, আমরা কিস্যু জানি না!”
সে তাকে ছেড়ে দিয়ে ঠক করে টেবিলের ওপরে কোল্ট কোবরাটা রেখেছে, “ভেবে নে এবার কী করবি। তোর মতো একটা বজ্জাত লোককে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পারলে আমি খুশিই হব।”
রঞ্জন কোনোমতে ঘর্মাক্ত কলেবরে হাঁফাতে হাঁফাতে বলল, “আমি বলছি… সব বলছি… প্লিজ, কিছু করবেন না!”
“ইওর টাইম স্টার্টস নাও…।”
রঞ্জনের মুখে সেই প্রথম দর্শনের ভীতু ভীতু মার্কা অভিব্যক্তি ভেসে উঠল। সে কাঁপা গলায় জানায়,
“আমি এপিনেফ্রিন, গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ বা অ্যাক্টিভেটেড চারকোল কাউকে মারার জন্য আনিনি। বরং নিজের ওপরই ট্রায়াল দিচ্ছিলাম। যাতে ফুড পয়জনিং হলে প্রাণে বাঁচতে পারি!”
“সে কী!” অধিরাজ বুকের ওপর হাত জড়ো করে বিস্মিত কণ্ঠে বলে, “নিজের ওপর ফুড পয়জনিঙের ট্রায়াল। মানে নিজে নিজেই বিষ খাচ্ছিলি। কেন?”
“শীলার ওপর রিভেঞ্জ নেওয়ার জন্য” রঞ্জনের চিবুক প্রায় বুকে ঠেকেছে, “আমার অপমানের বদলা নেওয়ার জন্য।” অর্ণব নিশ্চুপে সব শুনছে। অধিরাজ জানতে চায়, “কী রকম অপমান?”
“ও আমায় প্রায় শেষ করে দিয়েছে স্যার।” এবার তার ভয়ার্ত মুখে ক্রুর প্রতিহিংসা আর রাগের ছায়া ভেসে ওঠে, “আপনি জানেন না, ও কী লেভেলের মিথ্যেবাদী! আমি ওকে ভালোবাসতাম। দু-জনে মিলে লুকিয়ে মন্দিরে বিয়েও করেছিলাম। কিন্তু ও শালি আমাকেই ফাঁসিয়ে দিল। ডঃ বসুর চোখে আমায় পুরো ক্রিমিনাল বানিয়ে দিল।”
রঞ্জন এরপর জানাল যে তার অতীতে একটা কলঙ্ক আগেই ছিল। অনেকেই জানে যে ইন্দ্রজিৎ সরকারের অ্যানাস্থেসিয়ার ডোসেজ ভুল দেওয়ার জন্য এক পেশেন্টের মৃত্যু হয়। কিন্তু ওটা ইন্দ্রজিতের ভুলই ছিল না। বরং রাগেরই গাফিলতির ফল। ইন্দ্রজিৎ সঠিক ডোসেজই দিয়েছিলেন। কিন্তু রঞ্জন পেশেন্টের আনকনশাস হতে দেরি হচ্ছে দেখে অধৈর্য হয়ে আরও কিছুটা অ্যানাস্থেসিয়া দিয়ে দেয় যার ফলে পেশেন্ট কোলান্স করে। ডঃ সরকার চুপচাপ নিজের পাড়ে দায় চাপিয়ে ওকে কভার করেন ও ব্যাপারটা ধামাচাপাও পড়ে যায়। তবে ওটা রঞ্জনের ভুলই, কোনোভাবেই মার্ডার নয়। হয়তো আর কখনও কেরিয়ার তৈরি করার সুযোগ পেত না। কিন্তু ডঃ বসু সব জেনেশুনেই ওকে নিজের টিমে নিয়ে নেন। যখন শীলার গাফিলতির ফলে আবার একজন পেশেন্ট মারা যায় তখন সমস্ত দোষ সে বেচারা রঞ্জনের ঘাড়েই চাপিয়ে দিয়েছিল। ক্ষণিকের আবেগে ও দুর্বলতায় রঞ্জন একবার শীলাকে বলে ফেলেছিল যে মার্সিডেথের কনসেপ্টটাকে সে সমর্থন করে। শীলা তার অতীতের দুর্ঘটনা আর এই বেসামাল উক্তির সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেছে, এবং তাকেই ডঃ বসুর চোখে অপরাধী প্রমাণ করে দিল। আর একটু হলেই তার হাজতবাস নিশ্চিত হয়ে যেত। কিন্তু ডঃ সরকার শেষপর্যন্ত সামাল দেন বলে সে এখনও টিকে আছে।
“শীলা ডেঞ্জারাস মেয়ে স্যার” রঞ্জন প্রায় চোখের জলে নাকের জলে হচ্ছে, “ও আমার থেকে বড়ো মুর্গি পেয়ে গিয়েছিল। তখন আমার হাত থেকে ওর মুক্তি দরকার। বিয়েটা কোর্টে করিনি, তবু ভয় ছিল যে ওর হবু বরকে বলে দিতে পারি। তাই আমাকেই ফাঁসিয়ে দিচ্ছিল, যাতে রাস্তা সাফ করে ও অন্য একটা তুলনামুলক মালদার পার্টিকে বিয়ে করতে পারে। আমি এ অপমান সহ্য করতে পারিনি…!”
“বুঝলাম। তাই বলে নিজেই নিজেকে মারার প্ল্যানিং করবি। স্রেফ একটা মেয়ের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।” অধিরাজের কণ্ঠে বিস্ময়ের অবধি নেই, “তুই ঠিক কোন পর্যায়ের পাগল?”
“স্যার, আমি নিজেকে মারার নয়, শীলাকে জেলে ঢোকানোর চেষ্টা করছিলাম।” এবার গোটা ব্যাপারটাই সে বুঝিয়ে বলে, “ওকে ব্ল্যাকমেইল করেও মন ভরেনি। ভেবেছিলাম যেমন ও আমাকে ডিচ করল, জেলে পাঠাতে চাইল–আমিও ওকে জেলে পাঠাব।”
“প্ল্যান কী ছিল?”
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে রঞ্জন জানায় যে সবার অজান্তেই সে একটু একটু করে আমন্ড পেস্ট খেতে শুরু করে। কিন্তু যাতে প্রাণে না মরে সেদিকেও তার খেয়াল ছিল। সে জানত, যে-কোনো টক্সিক বা অ্যালার্জিক খাবার খাওয়ার আধঘন্টা বা একঘণ্টার মধ্যে যদি গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ আর তারপরে অ্যাক্টিভেটেড চারকোল আর এপিনেফ্রিন নেওয়া যায় তবে সেগুলো প্রাথমিকভাবে স্টমাক ওয়াশ করে দেয়। অ্যাক্টিভেটেড চারকোল টক্সিক পদার্থ অ্যাবজর্ব করে নিতে ওস্তাদ। এই তিনটে জিনিস যদি সে আমন্ড বা টক্সিক কিছু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ে নেয়, তবে অসুস্থ হবে, হসপিটালাইজও হবে—কিন্তু মরবে না। শীলার বরের মাশরুমের বিজনেস হওয়ার দরুণ আমন্ড আর মাশরুমকেই টার্গেট করেছিল। শীলা তার আমন্ডে অ্যালার্জির হিস্ট্রিও জানত না। তাই ভেবেছিল যে যদি ব্ল্যাকমেইল করে শীলাকে দিয়ে আমন্ড পেস্ট দেওয়া কেক বা বিষাক্ত মাশরুম খেয়ে প্রাণে মরতে মরতে কোনোমতে বেঁচে যায়, তবে সবার সন্দেহ শীলার দিকেই যাবে। তার মোটিভও স্ট্রং! ইন্টারোগেশন হলে ভিডিওগুলোও সামনে আসত। এই ফাঁকে সবাই ভিডিওতে ওর কীর্তিও দেখতে পেত, আর বুঝতেও পারত যে এই ব্ল্যাকমেইলিং থেকে বাঁচার জন্যই শীলা তাকে খুন করার চেষ্টা করেছে। একদিকে ওই জাতের ভিডিও একবার ফাঁস হলে আগুনের মতো ভাইরাল হয়ে যায়। সমাজ কখনও পুরুষের দিকে আঙুল তোলে না—তোলে নারীর দিকে। তাই একদিকে চূড়ান্ত লোকলজ্জা, অন্যদিকে হয়তো ওর বরও ওকে তাড়িয়ে দিত, উপরন্তু অ্যাটেম্পট টু মার্ডারের জন্য অবধারিত হাজতবাস! এক ঢিলে তিন পাখি। শীলার মাথার ওপর ছাত তো দূব, দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও থাকবে না!
প্ল্যান একদম ফুল প্রুফ ছিল। কিন্তু একটাই সন্দেহ। এই তিনটে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করবে তো। সেটাই পরখ করার জন্য সে নিজেই বাদামের পেস্ট আর বিষাক্ত মাশরুম খেয়ে তার সঙ্গে সঙ্গেই ওই তিনটে জিনিস প্রয়োগ করে ট্রায়াল দিচ্ছিল যে প্রাণহানির সম্ভাবনা আছে কী না। যখন নিশ্চিন্ত হল যে বাদামের অ্যালার্জি বা বিষাক্ত মাশরুমের হাত থেকে গ্যাস্ট্রিক ল্যাভেজ, অ্যাক্টিভেটেড চারকোল আর এপিনেফ্রিন তাকে বাঁচিয়ে দেবে তখনই সে শীলাকে জন্মদিনে ওই কেক বানাতে বলে।
“কিন্তু চাল যে উলটো পড়ে গেল!” অধিরাজ কপাল চাপড়ায, “খামোখাই এত বড়ো রিস্ক নিলি, নিজেই ভুগলি। অন্যদিকে শীলার বদলে সুহাসিনী কেক খাইয়ে দিলেন। এমনকি মাশরুমও!”
“হ্যাঁ। ওখানেই ভুলটা হয়েছিল।” সে দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “শীলাও কম চালু নয়। বোধহয় আঁচ করেছিল যে এই দুটো জিনিস খাওয়ার আবদারের পেছনে কিছু গোলমাল থাকতেও পারে। আর ওর অভ্যাসই চিরকাল অন্যের কাঁধে বন্দুক রেখে চালানো। কিন্তু তাতেও অসুবিধে হত না। সুহাসিনী মিত্র যেরকম পি এন পি সি এক্সপার্ট তাতে বিপদে পড়লে উনিও কম যেতেন না। ঠিক তোতাপাখির মতো গড়গড়িয়ে শীলার নামই বলতেন। তাতে আমার আরও বেশি সুবিধা হত ওকে কোল্ডব্লাডেড মার্ডারার প্রমাণ করতে। প্রমাণ হত যে সুহাসিনীকে জাস্ট বোড়ে বানিয়ে ও নিজেই মার্ডার অ্যাটেম্পট করেছিল। আর আমি সফলও হয়েছিলাম। আপনারা ঠিক জেনে গিয়েছিলেন যে শীলা আমাকে মারতে চায়।”
“তা জেনেছিলাম।” অধিরাজ তাকে সমর্থন জানায়, “কিন্তু তুই জানতি না যে তোর অনুপস্থিতিতে তোরই ফ্ল্যাট সার্চ করে আমরা ফ্রিজে মাশরুম আর কিছুটা আমন্ডও পেয়েছিলাম। ইভেন মেডিসিন ক্যাবিনেট থেকে গ্যাসট্রিক ল্যাভেজ, অ্যাক্টিভেটেড চারকোল আর এপিনেফ্লিনের ভায়ালও পাওয়া গিয়েছিল। ইউজটা তখনও বুঝিনি। কিন্তু যে মুহূর্তে সুহাসিনী মিত্র ফাঁসলেন ও সবটাই খুলে বললেন, আমিও আমার মতো করে বুঝলাম। সুহাসিনীর ধারণা ছিল যে শীলা তোকে মারতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি বুঝেছিলাম যে তুই নিজেই আসলে ভিকটিম কার্ড প্লে করার জন্য রিহার্সাল দিচ্ছিলি। নয়তো একটা লোক ওভাবে দু দু-বার মিরাকিউলাসলি বেঁচে যায় না। শুধু এইটুকু জানা দরকার ছিল যে ভিডিও আর ব্ল্যাকমেইলিং-এর গল্প কতটা সত্যি, আর মেডিসিনগুলো তুই নিজেই কিনেছিলি কী না! সচরাচর যে এইরকম মাস্টার প্ল্যান বানাচ্ছে সে হসপিটাল থেকে বা দোকান থেকে এগুলো কিনবে না। অনলাইনই কিনবে। তাই এই জিনিয়াসকে দিয়ে তোর ফোন হ্যাক করিয়েছিলাম।”
অধিরাজের দৃষ্টি বিশ্বজিতের দিকে ফেরে, “বিশ্ব, থ্যাংকস ব্রো।”
“এনিটাইম স্যার।”
“তবে ভিডিওগুলো দেখ না। ছেলেমানুষদের ওসব না দেখাই ভালো।”
বিশ্বজিৎ কিছু বলতে গিয়েও হেসে ফেলে। তারপর বলল, “ডোন্ট ওরি স্যার। কীসের ভিডিও? আমি তো শুধু প্রবচনের ভিডিওই দেখি, আর ভজনের।”
“গ্রেট।”
বিশ্বজিৎ মাথা ঝাঁকিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। অধিরাজ তখনও সন্দিহান। সে কিছুক্ষণ রঞ্জনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, “ব্রিলিয়ান্ট প্ল্যান ইনডিড। ওয়েল এক্সিকিউটেড অলসো। কিন্তু নায়েক এত বড়ো লায়েক হতে পারে না। তোর দৌড় ওই ব্ল্যাকমেইল অবধিই। এত বড়ো কন্সপিরেসির পেছনে আরও বড়ো কোনো মাথা আছে। সেটা কে?”
“ডঃ কৌশিক চক্রবর্তী স্যার।” রঞ্জন আমতা আমতা করে জানায়, “উনিই আমায় পুরো প্ল্যানটা বুঝিয়েছিলেন। বিষাক্ত মাশরুমও এনে দিয়েছিলেন…।”
সে দু-হাত ছড়িয়ে অর্ণবের দিকে তাকায়, “হোয়াই অ্যাম আই নট সারপ্রাইজড অর্ণব। প্রত্যেকবার তো শক্তিমানের মতো উনিই টপকে পড়ে বাঁচিয়েছিলেন রঞ্জনকে! একজন এক্সপার্টের অবজার্ভেশন আর সার্ভেইল্যান্স ছাড়া রঞ্জন নীলকণ্ঠ হওয়ার প্র্যাকটিসও করতে পারত না। কিন্তু ডঃ চক্রবর্তীর এখানে মোটিভ কী? স্বার্থ?
এর উত্তর রঞ্জনই দিয়ে দেয়, “স্যার, শীলার ওপর ওর নাকি খারাপ নজর ছিল। অন্তত শীলা তাই বলে। আর উনি বলেছিলেন…।”
“কী?”
“ব্যাকস্ট্যাবারদের কখনও ছাড়তে নেই। বেইমানির উত্তর একমাত্র বেইমানিই হতে পারে।”
“কে বলছে কাকে!” অধিরাজ সোজা হয়ে বসল, “উনি এইভাবেই বলেছিলেন? বেইমানির উত্তর একমাত্র বেইমানিই হতে পারে!”
“হ্যাঁ!
রঞ্জন ঘাম মুছছিল। অধিরাজ তাকে টেবিলে রাখা গোটা টিস্যুপেপারবক্সটাই ধরিয়ে দিয়েছে, “নে। এটা রাখ। জেলে কাজে লাগবে!”
“জেল! কেন স্যার?” রঞ্জন প্রায় কেঁদেই ফেলল, “সব তো বললাম আপনাকে! আর আমার প্ল্যানে আমি নিজেই ভূগেছি, অন্য কারওর ক্ষতি হয়নি।”
“হ্যাঁ।” অধিরাজ উঠে দাঁড়াল, “কিন্তু ব্ল্যাকমেইল আর অন্যকে ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র করাটাও ইললিগ্যাল। আর তার জন্য—ইউ আর গোয়িং টু মামার ভোগ। তবে চাপ নিস না। তোর গুরুকেও ছাড়ব না! যে ঠান্ডা মাথায় এরকম ভয়াবহ প্ল্যানিং করতে পারে, সে সবকিছু পারে। ডঃ চক্রবর্তীও লাঠি ঠুকঠুকিয়ে তোর সঙ্গে সেল শেয়ার করতে চলে আসবেন। ইটস আ প্রমিজ।”
বলতে বলতেই সে তাকায় অর্ণবের দিকে, “চলো বস, ডঃ চক্রবর্তীকে খাঁচায় পোরা যাক। উনিও বদমায়েশি বুদ্ধিতে কিছু কম যান না। আর যে নিজেই বেইমান, সে অন্য একজনকে বেইমানির বিরুদ্ধে রিভেঞ্জ নিতে উস্কানি দিচ্ছে। এর পেছনে কোনো ইতিহাসও থাকতে পারে।”
“অবভিয়াসলি আছে স্যার।”
“আছে, সে তো আমিও জানি।” অধিরাজের চোখে আত্মমগ্নতা, “প্রশ্নটা হল ইতিহাসটা কী!”
