ঋগ্বেদ ১০।০১২

ঋগ্বেদ ১০।০১২
ঋগ্বেদ সংহিতা।। ১০ম মণ্ডল।। সূক্ত ১২
অগ্নি দেবতা। হবির্দ্ধান ঋষি।

১। দ্যুলোক ও ভূলোক ইঁহারা যজ্ঞের সময় সর্বপ্রথম অগ্নিকে আহ্বান করুন, তাঁহাদের সেই আহ্বান সত্য হউক। তখন অগ্নি যজ্ঞের জন্য মনুষ্যদিগকে প্রেরণ করিয়া আপন শিখা ধারণপূর্বক দেবতাদিগের আহ্বানের জন্য উপবেশন করুন।

২। হে অগ্নি! তুমি নিজে দেব, অন্যান্য দেবতাদিগের নিকট গমনপূর্বক আমাদিগের যজ্ঞ ও হোমের দ্রব্য বহন করিয়া লইয়া যাও। তুমি শ্রেষ্ঠ, তুমি বিজ্ঞ; ধূমই তোমার পতাকা; তুমি প্রজ্বলিত হইয়া সরল শিখা ধারণ কর; তুমি হোতা ও নিত্য বাক্য প্রয়োগসহকারে যজ্ঞ করিতে তোমার তুল্য কেহ নাই।

৩। অগ্নিদেব আপনা হইতে যে জল উপার্জন করেন, তাহাতে উদ্ভিজ্জগণ উৎপন্ন হইয়া পৃথিবীকে পালন করে। পরে সমস্ত দেবগণ তোমার সেই জল বিতরণের বিষয় গান করেন। তোমার শুভ্রবর্ণ শিখা স্বর্গের ঘৃতস্বরূপ বৃষ্টিবারি দোহন করে।

৪। হে অগ্নি! আমাদিগের যজ্ঞকার্য সম্পন্ন কর; হে দ্যাবাপৃথিবি! আমি তোমাদিগকে স্তব করি। হে ধৃততুল্য বৃষ্টি বর্ষণকারী। আমার স্তব শ্রবণ কর। যখন স্তবকর্তারা ঘরে সময় স্তব করলেন, হে জনকজননী! তখন মধুতুল্য জল বর্ষণ করিয়া আমাদিগের মালিন্য অপনয়ন কর।

৫। অগ্নি কি তবে আমাদিগের হোম গ্রহণ করিয়াছেন? আমরা কি তাঁহার উপযুক্ত পূজা করিতে পারিয়াছি? কেই বা তাহা জানে? বন্ধুকে আহব্বান করিলে তিনি যেমন আসেন, তদ্রূপ অগ্নি আসিতে পারেন। আমাদিগের এই স্তুতিবাক্য দেবতাদিগের নিকট গমন করুক। আর যাহা কিছু খাদ্যদ্রব্য আছে, তাহাও দেবতাদিগের নিকট গমন করুক।

৬। এক্ষণে অমৃতের আহুতি দুঃসাধ্য, কারণ এক বংশীয়া ও ভিন্ন রূপধারিণী দেবতা রহিয়াছেন। হে মহান অগ্নি! যে ব্যক্তি যমের প্রসন্নতা লাভ করিয়াছে, সাবধানতাসহকারে তাকে রক্ষা কর (১)।

৭। সেই অগ্নি উপস্থিত থাকিলেই যজ্ঞে দেবতাদিগের আমোদ হয়, এই নিমিত্ত অগ্নিকে যজ্ঞকর্তা ব্যক্তির গৃহে স্থাপনা করা হয়। দেবতারা সূর্যের আলোক সঞ্চয় করিয়া রাখিয়াছেন এবং চন্দ্রেতে রাত্রি সমস্ত সঞ্চয় করিয়া রাখিয়াছেন। তাহারা নিরন্তর দীপ্তি প্রাপ্ত হইয়া থাকে।

৮। যে নিগূঢ় জ্ঞানস্বরূপ অগ্নি উপস্থিত থাকিলে দেবতারা নিজ কার্য্য সম্পাদন করেন, তাঁহার বিষয় আমরা অবগত নহ। এই যজ্ঞে মিত্র ও অদিতি ও সবিতাদেব যেন আমাদিগকে বরুণদেবের নিকট নিরপরাধী বলিয়া জানাইয়া দেন।

৯। আমাদিগের গৃহে সৰ্ব্বদেবতার উদ্দেশে এই যে যজ্ঞ হইতেছে, ইহাতে হে অগ্নি! তুমি আমাদিগের কথা শ্রবণ কর। অমৃত ক্ষরণ করে, এতাদৃশ রথ যোজনা কর। দেবতাদিগের জনকজননী দ্যাবাপৃথিবীকে আমাদিগের নিকট লইয়া আইস। তুমি এই স্থানেই থাক, দেবতাদিগের নিকট হইতে অপসৃত হইও না (২)।

———-

(১) সায়ণ এই ঋক ব্যাখ্যা করেন নাই, ইহার অর্থ পরিস্কার।

(২) পূর্বের সূক্তের শেষ ঋকের সহিত এই ঋক একই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *