ঋগ্বেদ ০৮।০০৭

ঋগ্বেদ ০৮।০০৭
ঋগ্বেদ সংহিতা ।। ৮ম মণ্ডল  সূক্ত ৭
মরুৎগণ দেবতা। কণ্বগোত্র বৎস ঋষি।

১। হে মরুৎগণ! যখন বিজ্ঞ ব্যক্তি সবনত্ৰয়ে প্রশস্য অন্ন প্রক্ষেপ করেন, তখন তোমরা পর্বতসমূহে দীপ্তি পাও।

২। হে বলাভিলাষী শোভমান মরুৎগণ! তোমরা যখন রথকে অশ্বদ্বারা সংশ্লিষ্ট কর, তখন পর্বতগণ প্রচলিত হয়।

৩। শব্দকারী পৃশ্নিতনয় মরুৎগণ বায়ুগণের দ্বারা মেঘ উদগত করেন এবং বৃদ্ধিকর অন্ন দান করেন।

৪। যখন মরুৎগণ বায়ুগণের সহিত রথে গমন করেন, তখন তাঁহারা বৃষ্টি নিক্ষেপ করেন, পর্বতগণকে কম্পিত করেন।

৫। তোমাদের রথের জন্য গিরিসমূহ নিয়ত হয়, সিন্ধুগণ বিধরণের জন্য এবং মহৎ বলের জন্য নিয়ত হয়।

৬। আমরা তোমাদিগকে রাত্রিতে রক্ষার জন্য আহ্বান করি, দিবাভাগে তোমাদিগকে আহ্বান করি, যজ্ঞ আরম্ভ হইলে তোমাদিগকে আহ্বান করি।

৭। সেই অরুণরূপবিশিষ্ট, বিচিত্র, শব্দকারী মরুৎগণ রথযোগে দ্যুলোকের উপরিভাগে সানুপ্রদেশে উদগমন করেন।

৮। যে মরুৎগণ সূৰ্য্যের গমনার্থে রশ্মিযুক্ত পথ সৃষ্টি করেন, তাঁহারা তেজোদ্বারা অবস্থান করেন।

৯। হে মরুৎগণ! আমার এই বাক্য ভজনা কর। হে মহান মরুৎগণ! এই স্তোম ভজনা কর, এই আমার আহ্বান সেবা কর।

১০। পৃশ্নিগণ বজ্রীর জন্য উৎস, কবন্ধ(১) ও উদ্রি(২) এই তিন সরোবর হইতে মধু দোহন করিয়াছিলেন।

১১। হে মরুৎগণ! যখন আপনার সুখাভিলাষে আমরা স্বৰ্গ হইতে তোমাদিগকে আহ্বান করি, তখন শীঘ্রই আমাদের নিকট আগমন কর।

১২। হে সুন্দরদানশীল মহাতেজস্বী রুদ্রপুত্রগণ! তোমরা গৃহে আনন্দ সনরে কষ্ট জ্ঞানসম্পন্ন হও।

১৩। হে মরুৎগণ! স্বৰ্গ হইতে আমাদের জন্য মদস্রাবী, বহুনিবাসপ্রদ সকলের ভরণসমর্থ ধন আনাইয়া দাও।

১৪। হে শুভ্র মরুৎগণ! তোমরা যখন পর্বতের উপরিভাগে তোমাদের যান লইয়া যাও, তখন অভিযুত সোমের বলে প্রমত্ত হও।

১৫। স্তোতা স্তুতিদ্বারা অহিংসনীয় মরুৎগণের নিকট তাঁহাদের সুখ ভিক্ষা করেন।

১৭। পৃশ্নিপুত্রগণ শব্দ করতঃ ঊৰ্দ্ধে গমন করেন, রথদ্বারা উর্ধে গমন করেন, বায়ুদ্বারা উর্ধে গমন করেন এবং স্তোমদ্বারা উর্ধে গমন করেন।

১৮। যাহাদ্বারা তুৰ্ব্বসু ও যদুকে রক্ষা করিয়াছ, যাহাদ্বারা ধনকাম কণ্বকেও রক্ষা করিয়াছ, আমরা ধনের জন্য তাহারই ধ্যান করিতেছি।

১৯। হে উত্তম দানশীল মরুৎগণ! ঘৃতের ন্যায় পুষ্টিকর এই অন্ন কণ্ব গোত্রোৎপন্নের স্তোত্রের সহিত বৰ্দ্ধিত কর।

২০। হে মরুৎগণ! তোমরা দানশীল, তোমাদের জন্য বহিঃ ছিন্ন হইয়াছে, তোমরা এক্ষণে কোথায় মত্ত হইতেছে? কোন স্তোতা তোমাদের পরিচর্যা করিতেছেন?

২১। হে বৃক্তবর্হিঃ মরুৎগণ! তোমরা যে অন্য কর্তৃক পূর্বকৃত স্তোত্রদ্বারা যজ্ঞের বলসমূহ প্ৰীত করিতেছ তাহা নহে।

২২। সেই মরুৎগণ ওষধির সহিত অনেক জল মিলাইয়াছিলেন, দ্যাবাপৃথিবীকে স্ব স্ব স্থানে অবস্থিত করিয়াছিলেন, সূৰ্য্যকে স্থাপন করিয়াছেন। তাঁহারা প্রতিপর্বে বজ্র ধারণ করিয়াছিলেন।

২৩। রাজা শূন্য বৃষ্ণি ও বলকারক মরুৎগণ পৰ্ব্বতের ন্যায় বৃত্রকে পর্বে পর্বে বিনাশ করিয়াছিলেন।

২৪। মরুৎগণ, যুদ্ধকারী ত্রিতের বল রক্ষা করিয়াছিলেন, তাঁহার ক্রতুও রক্ষা করিয়াছিলেন, বৃত্রবধার্থ ইন্দ্রকে রক্ষা করিয়াছিলেন।

২৫। আয়ুধহস্ত, দীপ্তিমান শুভ্র মরুৎগণ শোভার্থে মস্তকে হিরন্ময় শিরস্ত্রাণ প্রকাশিত করেন।

২৬। হে মরুৎগণ! তোমরা কামনা করিয়া অভীষ্টবর্ষী রথের মধ্যস্থলে দূরদেশ হইতে আগমন করিয়াছিলে। দ্যুলোকবর্তী জনসমূহের ন্যায় ভূতসকল কম্পান্বিত হইয়াছিল।

২৭। দেবগণ আমাদিগের যজ্ঞদানার্থে স্বর্ণময় পাদবিশিষ্ট অশ্বে আরোহণ করতঃ আগমন করুন।

২৮। এই মরুৎগণের রথ, যখন বিন্দুচিহ্নিত, শীঘ্রগামী রোহিত বহন করে, তখন শোভমান মরুৎগণ গমন করেন এবং জল প্রবাহিত হয়।

২৯। নেতাগণ শোভন সোমবিশিষ্ট, যজ্ঞ গৃহোপেত, ঋজীকা দেশে শৰ্য্যণা তীরে রথচক্র নিম্নমুখ করিয়া গমন করেন(৩)।

৩০। হে মরুৎগণ! কখন তোমরা এই প্রকারে আহ্বানকারী যাচমান বিপ্রের নিকট সুখহেতুভূত ধনের সহিত গমন করিবে?

৩১। তোমরা স্তুতিদ্বারা প্রীত হইয়া থাক; তোমরা যে ইন্দ্রকে পরিত্যাগ করিয়াছিলে, সে কখন? তোমাদের সখ্য কে প্রার্থনা করিয়াছিল?

৩২। হে কণ্বগণ! অগ্নিকে বজ্রহস্ত ও স্বর্ণময়বাশীবিশিষ্ট মরুদগণের সহিত স্তব কর।

৩৩। আমি বর্ষণশীল ও যজনীয় ও বিচিত্রবলবিশিষ্ট মরুৎগণকে নবতর সুখলভ্য ধনের জন্য আবৰ্ত্তিত করি।

৩৪। গিরি সকল পীড্যমান ও বাধাপ্ৰাপ্ত হইলেও স্বস্থান ভ্রষ্ট হয় না। পর্বত সকলও নিয়মিত হয়।

৩৫। বহু দূরব্যাপী, গমনবিশিষ্ট অশ্বগণ আকাশমার্গে গমন করতঃ মরুৎগণকে আনয়ন করে। তাঁহারা স্তুতিকারীকে অন্ন দান করেন।

৩৬। অগ্নি তেজোবলে স্তুতিযোগ্য সূৰ্য্যের ন্যায় সকলের মুখ্য হইয়া জন্ম গ্রহণ করিয়াছেন। মরুৎগণ দীপ্তিবলে নানা স্থানে অবস্থিতি করিতেছেন।

————
(১) জল, সায়ণ।
(২) মেঘ। সায়ন।
(৩) অর্থাৎ ঋজীকা দেশে শর্য্যণা তীরে যদুবংশীয় তিরিন্দির রাজার যজ্ঞে অবতরণ করেন। শর্য্যণা সম্বন্ধে ৮।৬৪।১১ ঋক দেখ, এবং ৯।১৩৩।১ ঋক দেখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *