শান্তিকুঞ্জ
মহেন্দ্রবাবুকে এত লোক চেনে যে, মহেন্দ্রবাবু নিজে সময় সময় অবাক হয়ে যান৷ বাংলার বাইরে এই শহরটিতে বাস তাঁর কুড়ি বছরের হল৷ তাঁর সঙ্গে অবিশ্যি, তাঁর ছোটো ভাইও আছেন৷ এক বাড়িতেই থাকেন৷ কিন্তু দু-ভাইয়ের দেখা কোনো সময়েই হয় না৷ সুজয়বাবু কাজ করেন শহর প্রান্তের একটি কারখানায়৷ লম্বা-চওড়া৷ খাকি জামাকাপড় পরেন৷ ভোর বেলা ডিম, রুটি ইত্যাদি খেয়ে হইহই করে বেরিয়ে যান যখন, তার আধ ঘণ্টা বাদে মহেন্দ্রবাবু ঘুম থেকে ওঠেন৷
খবরের কাগজের সম্পাদক বলে মহেন্দ্র-বাবুকে প্রায়ই রাত জেগে কাজ করতে হয়, এবং উঠতেও তাঁর বেলা হয়৷ দু-ভায়ের মধ্যে দেখাশোনা হয় না বলে মহেন্দ্রবাবুর চাকর রাজেন্দ্র সিংকে দৌত্যকার্য করতে হয় প্রায়ই দু-ভায়ের মধ্যে৷ মহেন্দ্রবাবু বরাবর নানা বিষয়ে চিন্তা করতে ভালোবাসেন৷ নানাবিধ শখ করতে ভালোবাসেন৷ ঘরে একটি অর্কিড রেখেছেন, আশেপাশে ছড়িয়ে রেখেছেন কালীঘাটের পট, পুতুল, আসামের বেতের তৈরি কুলো, ডালা, এবং আরও সব শিল্পসৃষ্টি৷ ছোটোখাটো একটি লাইব্রেরি করেছেন, বাইরের ঘরে নানা রঙের পর্দা এবং কুশান রেখেছেন৷ সকাল আটটায় কাজে বেরিয়ে রাত এগারোটায় ফিরে, এসব দিকে মন দেবার সময় তাঁর কমই হয়৷ সেইজন্যে, যখন যেটুকু সময় পান, সেটুকুই এইসব দিকে ছড়িয়ে দেন মহেন্দ্রবাবু৷ রাত এগারোটায় নটরাজের মূর্তির চিবুক ধরে দাঁড়িয়ে থাকা, রাত তিনটেয় দু-লাইন রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া অথবা সময় পেলে ফুটপাথে দাঁড়িয়ে রজনীগন্ধার গোছা বুকে চেপে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকা, এর যেকোনো একটি বারবার করলে পরে পাড়াপ্রতিবেশী যে-কোনো লোককে পাগল বলবে৷ কিন্তু দীর্ঘদিন দেখে দেখে তারা বুঝেছে মহেন্দ্রবাবুর দৌড় এ পর্যন্তই৷ এমনিতে তিনি অভিনব৷ বিয়ে-থা করেননি, আনন্দময় পুরুষ, ঝামেলা নেই, না মনে না বাইরে৷ এহেন মহেন্দ্রবাবুও, তাঁর দেশবাসীর আশ্চর্য স্মরণশক্তিতে চমৎকৃত হতে আরম্ভ করেছেন এই আখ্যায়িকার প্রারম্ভে৷
গত কয়েক বছর ধরেই লক্ষ করছেন মহেন্দ্রবাবু৷ কলকাতা থেকে, তাঁর আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সবাই তাঁকে ভয়ানকরকম মনে করছেন৷ সমানেই তাঁরা আসছেন, থাকছেন, দুই ভাইয়ের নিরন্তর অনুপস্থিতি, এবং মহেন্দ্রবাবুর ভদ্রতার সুযোগ নিয়ে রাজেন্দ্র সিংকে হুকুম করে ইচ্ছেমতো চা, কফি, পরোটা, টোস্ট, গাজরের হালুয়া, মুরগির মনোহরা, কুমড়োর মোগলাই পরোটা যার যা রুচি খাচ্ছেন এবং যাবার সময় স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মহেন্দ্রবাবুর জামাকাপড়, কোনো কিছু নিয়ে যাচ্ছেন৷ সুজয়বাবুর কোনো কিছু নিয়ে যাচ্ছেন না কেন? সে প্রশ্ন একদিন মহেন্দ্রবাবু তাঁকে করেছিলেন৷ বিয়েবাড়িতে দু-জনের দেখা হয়েছিল সাত মাস বাদে৷ মহেন্দ্রবাবু সুজয়বাবুকে প্রশ্ন করে জানলেন, সুজয়বাবু ঘর বন্ধ করে চলে যান৷ মহেন্দ্রবাবু কিন্তু ঘর বন্ধ করতে পারলেন না কোনোদিনই৷ বহু লোক এসেছে, যারা বলেছে তারা তাঁকে চেনে৷ অথচ তাদের তিনি চিনতে পারেননি৷ তখন সেসব লোক তাঁর স্মৃতিশক্তির দৌর্বল্য দেখে ক্ষুণ্ণ হয়েছে৷ নিজেরাই তারা উপযাচক হয়ে পরিচয় দিয়েছে আপন জন৷ তাঁরা তাঁর একান্ত৷ এমনি ধারা যে মহেন্দ্রবাবু, তাঁর কাছে একদিন চিঠি লিখলেন তাঁর পুরোনো বান্ধবী শান্তিলতা৷ লিখলেন : কতবার বলেছ যে, আমার জন্যে তিলমাত্র উপকার করতে পারলেই ধন্য হয়ে যাবে তুমি, অথচ কোনোদিন কোনো সুযোগ দিতে পারিনি বলে না জানি কত রাগই করেছ৷ তাই তোমার কাছে পাঠাচ্ছি আমার দেওর কমলকে৷ আমার মেজোমেয়ে লীলার জন্য একটি পাত্র দেখতে যাবে৷ তোমার ওখানেই থাকবে দু-এক দিন৷ কমলকে মনে আছে তো? সেই যে খুব ভালো ভেনট্রিল্যোকুইস্ট! সবরকম জীবজন্তুর ডাক ডাকতে পারে৷ ভারি আমুদে৷
চিঠিখানা হাতে নিয়ে মহেন্দ্রবাবু মনে করবার চেষ্টা করলেন কোনোদিন শান্তিলতার কোনো উপকার তিনি করতে চেয়েছেন কি না! মনে পড়ল না৷ শান্তিলতার কাকা এবং মহেন্দ্রবাবুর বাবা একদা প্রতিবেশী ছিলেন৷ তখন শান্তিলতার সঙ্গে পরিচয় ছিল৷ কিন্তু সেরকম তো কত মেয়েই এসেছে তাঁর উনপঞ্চাশ বছরের জীবনে৷ এসেছে, এবং গিয়েছে, কেউই উদ্যোগ করে বিয়ে করেনি৷ মেয়েরা কেউ উদ্যোগী হয়নি বলেই বিয়ে করতে পারেননি মহেন্দ্রবাবু৷ কিন্তু এসব কথা, এই প্রান্ত বয়সে, এ যে প্রকাশ করা মুশকিল৷ তা ছাড়া শান্তিলতার কোনো কথার প্রতিবাদ করাই মুশকিল৷ কাজেই কমলের আসার অপেক্ষায় থেকে থেকে, তার আসবার সম্পর্কে সুজয়ের নামে একটি চিঠি লিখে রেখে গেলেন মহেন্দ্রবাবু৷ লিখলেন: খাতিরযত্ন কোরো, সে আমার বিশেষ বন্ধুস্থানীয়৷
মাঝরাতে ফিরে দেখলেন, সুজয়বাবু আর একখানি পালটা চিঠি লিখেছেন: আমার ছোটোবেলার বন্ধু আসবার কথা আছে, তাকে আমিই আসতে লিখেছি৷ দিন দুয়েক থাকবে, কাজেই খাতিরযত্ন কোরো দেখা হলে৷ রাজেন্দ্র সিংকে নির্দেশ দিলেন দু-ভাই৷ রাজেন্দ্র সিং গাড়োয়ালের লোক নানাবিধ রান্না, এবং সেবাযত্নে পারদর্শী৷ তা ছাড়া এখানে সাত বছর থেকে মহেন্দ্রবাবুর ওপর একটা ভালোবাসা পড়ে গেছে তার৷ বাবুর ওপর দিয়ে কত লোক আসে যায় খায়, রাজেন্দ্র সিং ধরেই নিয়েছে স্বদেশে তার বাবু রাজা-জমিদার কিছু হবেন৷
মহেন্দ্রবাবুর বোনকে যে ডাক্তার চিকিৎসা করেছিলেন, তিনি যে ক-মাস আগে স্ত্রী, মেয়ে, শালি, অ্যালসেশিয়ান, কাকাতুয়া নিয়ে মহেন্দ্রবাবুর বাড়িতে সপরিবারে বেড়িয়ে গিয়েছেন৷ ইনসিওরেন্স কোম্পানির অফিসার তাঁর মেয়ের ভাসুর, যখন তাঁকে অভিজ্ঞতা থেকে, সেখানে থাকবার ভালো হোটেল খোঁজ করলেন, তখন ডাক্তারবাবু বললেন, ‘আরে আরে…তুমিও যেমন পাগল! কলকাতা থেকে তেরো শো মাইল দূরে যাবে৷ তা বাজে হোটেলে থাকবে কেন? Peace Grove-এ থাকবে৷ Peace Grove!-তোফা খাবেদাবে, কোনো অসুবিধে নেই৷ সে একেবারে ফলাও বন্দোবস্ত৷ জামাকাপড়, দাড়ি কামানোর জিনিস সমস্ত পাবে! বুঝলে হে শৈলেন!’
শৈলেনবাবু বুঝলেন৷ স্টেশনে নেমে ট্যাক্সিকে ডেকে তিনি ডাক্তারবাবুর দেওয়া ঠিকানা যেমন বলতে যাবেন, ড্রাইভার তাঁকে ভাঙা ইংরেজিতে বলল, ‘বাঙ্গালি দেখে এমনিতেই Peace Grove-এ নিয়ে যাচ্ছে৷ তাই তার পনেরো বছরের অভ্যাস! শৈলেনবাবু বুঝলেন জায়গাটা অত্যন্ত সুপরিচিত সকলের কাছে৷ আশ্বস্ত হলেন৷ এসে দাঁড়ালেন, খুবই ভালো লাগল৷ এরকম ঘরোয়া হোটেল কখনোই তিনি দেখেননি৷ একেবারে বাড়ির মতন৷ চাকরটি এসে আদর-আপ্যায়ন করে নিয়ে গেল৷ ড্রেসিং টেবিলের লাগাও আলমারি থেকে ভালো একখানা ধুতি নিয়ে স্নান করতে গেলেন শৈলেনবাবু৷ খেলেনও ফলাও করে৷ চাকরটিকে একবার বললেন, ‘আমি কলকাতা থেকে’…’হ্যাঁ হ্যাঁ বাবু, ঠিক ঠিক…’ বলে চাকরটি বিনয়ে নত হয়ে পড়ল৷ বুঝলেন শৈলেনবাবু, সুশিক্ষিত চাকর কাকে বলে৷ সারাদিন কাজকর্মে ঘুরলেন৷ রাতে এসে ঘুমোলেন বাইরের ঘরের বিছানাটিতে৷ সুজয়বাবু সন্ধ্যা নাগাদ তাঁকে দেখলেন যখন, বুঝলেন, এ নিশ্চয়ই দাদার সেই অতিথি৷ মহেন্দ্রবাবু মাঝরাতে এক ঝলক দেখে বুঝলেন, সুজয়ের বাল্যবন্ধু৷ ভালো লাগল তাঁর৷ সত্যিই তো যারা আসে বরাবর তারা তাঁর কাছেই আসে কেউই তো সুজয়ের কাছে আসে না! তাঁকে আরও খাতিরযত্ন করা উচিত৷ রাজেন্দ্র সিং খাবার টেবিলের ওপর পাখা খুলে ঘুমোচ্ছিল৷ তার কান ধরে ফিসফিস করে বললেন,-‘গোস্ত, পরোটা, ফালুদা, বিরিয়ানি’, বরাবর মহেন্দ্রবাবু, এমনি করেই নির্দেশ দিয়ে থাকেন৷ অভ্যাসমতো রাজেন্দ্র সিং বাঁ কান নাড়ল৷ ঘুমের মধ্যেই৷ তখন নিশ্চিন্ত হয়ে মহেন্দ্রবাবু নীল আলোটি জ্বাললেন৷ জ্বেলে একটি আধুনিক ভাস্করের তৈরি ‘রাজকন্যা’ নামে, কাঠের একটা তিনকোনা ফ্রেম, যেটা প্রদর্শনী থেকে সত্তর টাকা দিয়ে কিনেছেন অথচ দেখেননি, তার চিবুক, অথবা তিনকোনার একটা কোণ ধরে রসবেত্তার হাসি হাসতে লাগলেন৷ খুটখাট শব্দে শৈলেনবাবুর ঘুম ভেঙে গেল৷ সর্বনাশ! এ লোকটাকে তো এতক্ষণ দেখিনি? এই নাকি, সেই তৃতীয় বোর্ডার? প্রথমটিকে দেখেছেন৷ দ্বিতীয়টি তিনি নিজে৷ এ বোধ হয় তৃতীয়টি৷ কিন্তু ও ওরকম করে হাসে কেন? পাগল নয় তো? রাত এখন ক-টা? ঘড়িতে দেখলেন পৌনে একটা৷ শৈলেনবাবুর সাড়া পেয়ে লোকটি এগিয়ে এল, এবং তাঁর দিকে চেয়ে আপ্যায়িতের মতো হাসতে লাগল৷ শৈলেনবাবু নেহাত ছা-পোষা গেরস্ত লোক৷ চোর এলে গিন্নিকে ঠেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন৷ এখন বিদেশে, বিভুঁয়ে, এমনি ধারা অবস্থায় পড়ে ভয় ভয় করতে লাগল তাঁর৷ লোকটি কিন্তু কিছু করল না৷ সেইভাবে হাসতে হাসতেই, মেঝেতে ধুতির খুট বিছিয়ে শুয়ে পড়ল৷
সকালে সুজয়বাবু যতক্ষণ থাকলেন খাতিরযত্ন করলেন শৈলেনবাবুকে৷ পঁয়তাল্লিশ বছর বয়েস হলেও দাদাকে আজও খুব শ্রদ্ধাভক্তি করেন সুজয়বাবু৷ দাদার বন্ধু…কাজেই শৈলেনবাবুকে পরম খাতিরযত্ন করলেন তিনি৷ মহেন্দ্রবাবু যখন উঠলেন, ততক্ষণে শৈলেনবাবু বেরিয়ে গেছেন৷ এমনি করে দিন চারেক কাটল৷ শৈলেনবাবু দেখেশুনে বুঝলেন, এরকম হোটেলও এ পর্যন্ত দেখেননি তিনি৷ খাকি পোশাক পরা, ইঞ্জিনিয়ার ভদ্রলোককে একদিন, তিনি খরচপত্রের একটা আভাস পেতে চেয়েছিলেন৷ কেমন করে কথাটা পাড়েন, বুঝতে পারলেন না৷ একটু মাথা চুলকে কিছু বলব কিছু বলব মুখ করে চেয়ে থাকলেন৷ সুজয়বাবু বুঝলেন ভদ্রলোক কিছু বলতে চান৷ বললেন, ‘কিছু বলবেন?’ ‘হ্যাঁ…বুঝলেন দাদা…এই খরচপত্তরের বিষয়টা…! কীরকম লাগে?’
শৈলেনবাবু অস্পষ্ট হাত চালিয়ে যেদিকে দেখালেন, সেদিকে রাজেন্দ্র সিং পেঁয়াজকে, পরমশত্রু হাতের মধ্যে পেয়েছি জ্ঞানে, পরম জিঘাংসার সঙ্গে কুচিকুচি করছিল৷ সুজয়বাবু বুঝলেন চাকরির বিষয়ে এই কৌতূহল৷ বললেন, ‘মাসে চল্লিশ টাকা৷’ ‘চল্লিশ টাকা৷’ এ যেন উনিশ শো দুই সালের সস্তাগণ্ডা দিনের হিসেব৷ পরম নিশ্চিন্তে শৈলেনবাবু বললেন, ‘খাওয়া থাকা? সবই?’ সুজয়বাবু বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘নিশ্চয়… এটা কম হল?’ তখন শৈলেনবাবু বললেন, ‘ঃও! তাহলে আমি দিন পনেরো আরও থেকে যাব৷’ তারপর মনে পড়তে বললেন, ‘নিশ্চয়…এটা কম হল?’ তারপর মনে পড়তে বললেন, ‘ওই আরেকজন যে আছেন তিনি বুঝি পয়সাকড়ি দেন না? পাগল নয় তো মশায়! কাল রাতে কীসব বিড়বিড় করছিল, গান করছিল কি মশায় বুঝি না! বোধ হয় টাকাপয়সা দেয় না৷ সুজয়বাবু স্তম্ভিত হয়ে বললেন, ‘অ্যাঁ? আপনার নাম কমলভুষণ মিত্র নয়?’
‘কী? আমার নাম কমলভূষণ? আমি বলে শৈলেন সান্যাল৷ জয়নগর মজিলপুরে আমাকে এক ডাকে সকলে চেনে-আপনি আমায় জেরা করবার কে মশায়?’
সুজয়বাবুর মাথা ঘুরতে লাগল৷ ইম্পস্টার, ডাকাত! জালিয়াত! ইম্পারসোনেশান৷ বললেন, ‘রাজেন্দ্র সিং, ইয়ে ডাকু হ্যায়, ইনকো গোসলখানামে কয়েদ করো৷’ বলে ছুটে, বেরিয়ে গেলেন দাদাকে খবর দিতে! মহেন্দ্রবাবু স্বভাবতই বুঝতে পারলেন না৷ ভীষণ ঘাবড়ে গেলেন৷ বললেন, ‘কে জানে কী মতলবে এসেছে! হ্যাঁরে ও কমল কি না, তাই বা কে জানে! আর কমল যদি হবে, তবে শৈলেন হবে কেন? এসব ভয়ানক গোলমেলে ব্যাপার!’
বাড়ি এসে দু-ভাই ভয়ে ভয়ে বাথরুমের কাছে গেলেন৷ রাজেন্দ্র সিং বলল, ‘ভয় নেই সাব, আমি হাত-পা বেঁধে ফেলেছি…৷’ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় শৈলেনবাবু বাথটবে পড়ে চোখ পাকাচ্ছিলেন৷ মহেন্দ্রবাবুকে দেখে ভয়ে তাঁর প্রাণ উড়ে গেল৷ একে পাগল, তাতে সঙ্গে গোঁয়ারটা রয়েছে৷ না জানি আজ-! মহেন্দ্রবাবু বললেন, ‘কমল ভাই…একবার কাকাতুয়ার মতো ডাকো তো?’ শৈলেনবাবু অজ্ঞান হয়ে গেলেন৷
শৈলেনবাবুকে জ্ঞান ফিরিয়ে আনার পর হয়তো-বা বোঝাপড়া, বা ভুল-বোঝাবুঝির কিনারা কিছু একটা হত, কিন্তু জ্ঞান পেয়েই শৈলেনবাবু ছুটে বেরিয়ে গিয়েছিলেন এবং পালিয়েছিলেন৷ মহেন্দ্রবাবু এবং সুজয়বাবু বহুদিন বাদে দেখা হওয়াতে অনেক গল্পগুজব হল৷ রাজেন্দ্র সিংয়ের উপর কড়া হুকুম হল-কোনো উটকো লোককে যেন ঢুকতে না দেয়৷ সুজয়বাবু বললেন, ‘কোনো লোককেই ঢুকতে দেবে না সে যেই হোক না কেন৷ ওসব অনেক হয়েছে, এবার বন্ধ৷’
সেদিন দুপুর বেলা অফিসে মহেন্দ্রবাবুকে ফোন করল রাজেন্দ্র সিং৷ হিন্দিতে বলল, ‘হুজুর৷ দোসরা কমল এসেছে৷ সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে বলছে আমি কমল আর কুকুরের মতো ডাকছে৷ কী করব?’
মহেন্দ্রবাবু বললেন, ‘একদম হোটেল দেখিয়ে দাও৷’
রাজেন্দ্র সিং বলল, ‘জী হুজুর!’
