গল্প
উপন্যাস
জীবনী

ন্যাদোশ – মহাশ্বেতা দেবী

ন্যাদোশ

গল্পের গোরু গাছে ওঠে, আর আমার মায়ের গোরু দোতালায় উঠত মাছ-মাংস খেত৷

মাকে যিনি মানুষ করেন সেই মণিমাসি, আমাদের মণিদিদিমা, এখন তিরানব্বই বছরেও বেঁচে আছেন৷

দেওঘরে থাকেন তিনি কয়েকটা গোরু নিয়ে৷ তাঁর গোরুরা শীতকালে চা খায়, বারো মাস আতপচালের ফেন ভাত খায়৷ ঠান্ডায় গায়ে কম্বলের জামা পরে৷ মা বোধ হয় গোরুপ্রীতি তাঁর কাছে পেয়েছেন৷ এখনও আমার মার গোরু থাকে৷ সে গোরু আমরা চোখে দেখিনি৷ কেননা সে পটলবাবুর বাগানে চরে, মেনকার বাড়িতে বাচ্চা দেয়৷ পুন্নির মা তার দুধ দুয়ে খায়৷

আমার বাবা মার জন্যে, সেই গোরুর জন্যে খড় খোল ভুসি কিনে চলেন৷ গোরু দেখাশোনা করতে যতীন আসে৷ গোরুকে অবশ্য বাড়িতে কেউ দেখেনি৷

১৯৪৪-এর শেষাশেষি বা ১৯৪৫-এর গোড়ায় বাবা মফস্বলের সেই শহরটায় বদলি হলেন৷ শান্ত শহরটিতে বাবার বদলি হওয়া উচিত ছিল কি না আজও মনে হয়৷ আমি থাকতাম শান্তিনিকেতনে৷ আমার এক ভাই এক বোন ফলওয়ালাদের জমা নেওয়া সব আম আর লিচুগাছ সাবাড় করে দিত৷ ফলওয়ালারা বাবার কাছে পয়সা নিয়ে নিত৷ বাবা প্রায়ই ভোর বেলা মাছ ধরতে স্টেশনে চলে যেতেন৷ স্টেশন থেকে সবচেয়ে বড়ো মাছটা কিনে তার মুড়ো থেকে ল্যাজা অব্দি নতুন বঁড়শি দশ-বিশ-পঁচিশটা বিঁধিয়ে নিয়ে চলে আসতেন৷ এসেই বলতেন, ‘পুকুরে যেই ছিপ ফেললাম…’

যাক, বাবার দু-জন চাপরাশি ছিল৷ তারা দুই ভাই৷ এখন তারা সে শহরের গণ্যমান্য লোক আর তাদের যাঁরা অফিসার ছিলেন, তাঁদের চেয়ে অনেক বড়ো বাড়ি হাঁকিয়েছে তারা, নামটা আর নাই বললাম৷ ছোটোভাই আমাদের দুধের জোগান দিত৷ সে দুধ মার পছন্দ নয়৷ বাবার পরামর্শের লোক ছিল মা বা আমরা নয়, আপিসের মালী, রিকশাওলা, আমের ব্যাপারী৷ তারাই সব গুরুত্বপূর্ণ জিনিস ঠিক করে দিত৷ কে কোন স্কুলে পড়বে, এ বছর কত মন চাল কিনে রাখা হবে, পুজোতে কোথায় যাওয়া হবে৷ বাবা যখন বাড়ি করলেন, তাও হয়েছিল রাজমিস্ত্রি আর গোরু দেখার লোক যতীনের পরামর্শে৷ সেইজন্যে সে বাড়িতে থাকার ঘর ছ-টা৷ ঢোকার আর বেরুবার ফটক আটটা৷ জানলা দরজা অগুনতি৷ জলের ট্যাঙ্কটা দশ-তলা বাড়ির ট্যাঙ্কের মাপের৷

মারও পরামর্শের লোক ছিল বাড়ির কাজের লোকেরা-সত্যনারায়ণ ঠাকুর, মেনকা আর নারাণ৷ তারা বলে দিত পুজোতে কার কীরকম জামাকাপড় কেনা হবে, কোন উৎসবে কী রান্নাবান্না হবে৷

মার দল আলাদা, বাবার দল আলাদা৷ দু-দলে অনেক এ-ওর ওপর অবিশ্বাসের ব্যাপার ছিল৷ বুদ্ধির লড়াইও চলত৷ যাক, মা তাঁর দলের পরামর্শে ছোটো চাপরাশির কাছ থেকে গোরু কিনলেন৷ শোনা গেল বাড়িতে দুধের সমস্যা এবার ঘুচল৷

এই প্রথম, মার কোনো গুরুত্বপূর্ণ কেনাকাটার ব্যাপারে নারাণের পরামর্শ নেওয়া হল না৷

নারাণ আবার আমাদের কাউকে বিশ্বাস করত না৷ ও সবসময়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে পরামর্শ করত আমার ভাইটি, যে চলে গেছে, সেই অবুর সঙ্গে৷ অবুর বয়স তখন দশ বছর৷ নারাণ বিয়ে করতে যাবে, পাত্রী দেখতে যেত অবু৷ নারাণ একবার অবুকে নিয়ে বেলডাঙার হাটে গিয়ে মার জন্যে গোরু কিনেছিল৷ গোরু কিনলে হাঁটিয়ে আনতে হয়৷

হাঁটিয়ে আনার সময়েই গণ্ডগোল হয়েছিল, কেননা নারাণ মাঝেমধ্যে গাঁজা খেতে বসে যেত৷ যাহোক, নারাণ কিনল কালো বকনা গোরু৷ মা যখন নতুন গাইয়ের খুরে জল আর কপালে সিঁদুর দেবেন বলে দাঁড়িয়ে আছেন, দেখা গেল এক পেল্লায় সাদা বলদ নিয়ে নারাণ আসছে৷

সেইজন্যেই নারাণের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি৷ তোমরা নিশ্চয় বুঝেছ গোরু কেনার টাকা বাবা দেবেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো পরামর্শ করা হবে না৷

তাই ছোটো চাপরাশির বকনা গাই মা কিনলেন৷ আর এই গোরু কেনার সময় থেকে বাবা আর নারাণের যেন কীরকম একটা আপোশ হয়ে গেল৷ দু-জনেই মুচকি হাসলেন৷ তারপর মা যখন সন্দেহ করে বললেন, ‘নারাণ! গাই কেনা হচ্ছে বলে হাসলে কেন? গাই ভালো নয়?’

নারাণ বলল, ‘তা কেন?’

বাবাকে মা কিছু জিজ্ঞেস করেননি৷

ইনকাম ট্যাক্স আপিসে কাজ করতে করতে বাবাই জানলা দিয়ে চেয়ে চেয়ে দেখেছিলেন ন্যাদোশকে ছোটো থেকে বড়ো হতে৷ বাবা সবই জানতেন৷ কিন্তু কিছুই বলেননি!

গাই বাড়িতে এল৷ এরকম কুচ্ছিত গাই তোমরা জীবনে দেখনি৷ পেট মোটা৷ চারটে ঠ্যাং বাইরের দিকে ছতরানো, ছেটানো, ল্যাগবেগে৷ ল্যাজটা শক্ত৷ চোখের চাউনিটা কেমন হিংস্র টাইপের৷

গাইকে বরণ-টরণ করে মা ছোটো চাপরাশিকে নতুন কাপড় দিলেন৷ ও সে কাপড়টা নিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে শীতে স্নান করতে নামল৷ ধুতিটা কেচে পাড়ে মেলে দিল৷ সঙ্গেসঙ্গে ন্যাদোশ কচরমচর করে ধুতির অর্ধেকটা খেল, অর্ধেকটা ছিঁড়ল, তারপর ছোটো চাপরাশি যতবার উঠতে যায়, ততবার ওকে জলে ফেলে দিল৷

মা বললেন, ‘আহা! মনের কষ্টে ওরকম করছে৷ ছেলেপিলেকে বাবা যদি পরের হাতে দিয়ে দেয়, তাদের কষ্ট হয় না?’

বাবা ভীষণ চিন্তিত হলেন৷ আপিসের মালীকে বললেন, ‘তোর মা যা করল, এর ফল বহুদুর গড়াবে৷’

কিন্তু সে গড়ানো যে কী গড়ানো তা বাবাও বোঝেননি৷ ন্যাদোশের সম্পূর্ণ জীবনী লেখা সম্ভব নয়৷ ন্যাদোশ লিখে গেলে তা লেখা হতে পারত কিন্তু ন্যাদোশ যদিও স্কুলের সব ক্লাসের পড়ার বই-ই খেয়েছিল (যেহেতু আমরা ন-জন ভাইবোন আর আমি একা তখন কলেজে পড়ি, সেহেতু সব ক্লাসের পড়ার বই-ই থাকত), ও কলম বা কালি খায়নি৷ কলম বা কালির প্রতি বিদ্বেষ বা সে বিষয়ে ভয় থাকলে লেখা যায় না৷ ন্যাদোশের লেখাটা হল না কলম খেল না বলে৷

যাক৷ অতি সত্বর দেখা গেল, ন্যাদোশ যেকোনো সময়ে ঘরে উঠে এসে (বাড়িটা এক-তলা ছিল) পড়ার বই খেয়ে ফেলেছে৷ বাবা বলতেন, ‘অমনি করেই তাড়াতাড়ি লেখাপড়া শেখা যায়৷ চেয়ে দেখ, কী ডিটারমিনেশনে বই খাচ্ছে৷’

সত্যি তাড়াতাড়ি সব জেনে ফেলার জন্যে ন্যাদোশ ব্যাকরণ থেকে ইংরিজিতে পত্র রচনার বই অবধি সব খেয়ে ফেলত৷ বুঝতেই পারছ, ন্যাদোশের জীবনের সে পর্যায় ওর গোবর থেকে ঘুঁটে দেওয়া যেত না কিছুতেই৷ অনীশ, অবু আর ফল্লুর বই ও ভালোবাসত৷ কিন্তু সবচেয়ে ছোটো ভাই টান্টুর বই-ই সবচেয়ে পছন্দ ছিল ওর৷ মেজো বোন মিতুল আর চতুর্থ বোন বুড়ি ছোটোবেলা থেকে বদ্ধ পাগল ছিল৷ ওদের বই খেত সাঁচিয়ে বাঁচিয়ে৷ ছোটো বোন শারীর আর সেজো বোন কাঞ্চর বই আর ফ্রক দুই-ই খেত৷ বাবার গেঞ্জি আর কয়েকটা টাই ছাড়া কিছু খায়নি৷ রঙের বিষয়ে ওর মতামত ছিল খুব (কোন বিষয়ে-বা ছিল না), আর নীল রঙের যা দেখত তাই খেত৷ বাবার গেঞ্জিতে সেই থেকে আজও নীল দেওয়া হয় না৷

এই খেয়ে ওর বোধ হয় জ্ঞান হয়েছিল মাছ-মাংস না খেলে শরীর ভালো হয় না৷ ওকে আমিষাশী করার জন্যে আমি আর মা দায়ী৷ সেবার বাসন মাজার লোক আসছিল না৷ আমরা কলাপাতায় খেয়ে এঁটো পাতা বাইরে ফেলে দিতাম৷

ইলিশ মাছের কাঁটামাখা পাতা খেয়ে ন্যাদোশের মাছ মাংসে রুচি এল৷ মা সব সময়ে ওকে বোঝাতেন গোরু মাছ খায় না৷

ন্যাদোশ তা মানবে কেন? একদিন ও খোল আর ভুসির মাটির গামলা লাথি মেরে ভাঙল৷ ভীষণ রাগে ফোঁসফোঁস করল৷ তারপর সোজা রান্নাঘরে ঢুকে ওবেলার জন্যে অল্প ভেজে রাখা সবগুলো ইলিশ মাছ খেয়ে ফেলল৷ বেড়ালের ভয়ে নয়, ন্যাদোশের ভয়ে মা শিকেতে মাছ-মাংস রাখা শুরু করেন৷ যতদিন তা করা হয়নি ও বড়োমাছ, ছোটোমাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া, মাংস সবই খেয়েছে৷ তবে ইলিশ মাছ আর মুরগিটাই পছন্দ করত৷

মাছ-মাংস খেলেই পেঁয়াজ রসুন খাবে, জানা কথা৷ তরকারির ঝুড়ি ঘেঁটে তাও খেত৷

বাবা আর নারাণ বলাবলি করত, ‘গোরুর গতিক খুব মন্দ দিকে যাচ্ছে দিন দিন৷’

নন্দন রিকশাওলাও বাবাকে বলেছিলেন, ‘সম্ভবত ন্যাদোশকে ভূতে পেয়েছে৷’

মাছ-মাংস খেলে বাঘের মতো পায়ের ওপর দখল হবে৷ শেষে ওকে গোয়ালে বন্ধ করে রাখা হত৷ মার গোরুদের সবসময়ে খোলা বাতাস দরকার হয়৷ তাই গোয়ালে সবসময়ে বেঁটে দরজা থাকত, ওপরটা তার কাটা৷ ন্যাদোশ সেই ফাঁক দিয়ে জিম করবেটের রুদ্রপ্রয়াগের চিতার মতো লাফ মারত৷ একবারও পা হড়কে যেত না৷ বেরিয়ে এসেই খটমট করে রান্নাঘরে উঠে আসত৷ কোনোদিন নিরিমিষ হলে রেগে যেত কী! চোখ লাল করে তাকাত৷

এরপরেই, একদিন ও সম্পূর্ণ নতুন পথ ধরল৷ ভোর হলেই বেরিয়ে যেতে থাকল৷ মা বলতেন, ‘ভোরের বাতাস খাচ্ছে৷’ কিন্তু ওযে এমন পুলিশ-বিরোধী তা কে জানত!

ভোরে গঙ্গার ধারে গিয়ে ও দাঁড়িয়ে থাকত৷ বিহারি কনস্টেবলরা গঙ্গা থেকে স্নান সেরে যতবার পাড়ে উঠত, ততবার ও ওদের ঢুঁ মেরে জলে ফেলে দিত৷ ব্রিটিশ পুলিশের সঙ্গে লড়া সোজা কথা নয়৷ ন্যাদোশ বোধ হয় পরাধীন ভারতের একমাত্র গোরু যার নামে অনেক পুলিশ কেস হয়েছিল৷ এ পর্যায়টাও বেশ কিছুদিন থাকে৷

সেবার ন্যাদোশ বছর খানেক বাড়ি ছেড়ে কোর্ট অঞ্চলে রইল৷ বাছুরও দিয়েছিল আদালতের মাঠে আর ওর দুধ কে খেয়েছিল জানি না৷ কেননা পাকা পাকা গোয়ালারাও ন্যাদোশের দুধ দোয়াতে পারেনি৷

এইভাবে, ভয়ংকর স্পিডে জীবনের তিন ভাগ কাটিয়ে একদিন খট খট করে ও বাড়ি ফিরল৷

মার সে কী আনন্দ! ‘ন্যাদোশ ফিরেছে, ন্যাদোশ ভালো হয়ে গেছে, ন্যাদোশের মনে পড়েছে ও বাড়ির গোরু!’

তখন ওর খড় টাল করে রাখা হত ছাতে৷ একদিন বেজায় খট খট শব্দ৷ দেখা গেল ন্যাদোশ গম্ভীরভাবে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে৷ গোয়ালের খড় নয়, ছাতের খড়ই ওর পছন্দ৷ অনীশ আর অবু, ছেলেরা যেমন যুক্তিবাদী হয়, মাকে বোঝাল, ন্যাদোশ নাকি বিজ্ঞানীদের মতো সব কিছুর উৎসে যেতে চায়৷ গোয়ালের খড়-টড় নয়, সে খড় যেখান থেকে আসছে, সে খড়ই ওর পছন্দ৷

তখন শীতকাল৷ পূর্ণিমার দিন৷ ন্যাদোশ সকালে বেরিয়ে গিয়েছিল, বিকালে ফিরল৷ খুব একটা নেশা নেশা ভাব৷

মেনকা খবর দিল, গাছিরা যে তালের রস জমা করছিল, ন্যাদোশ গাছিদের তাড়িয়ে দিয়ে সারাদিন রোদে বসে এন্তার তালের রস খেয়েছে৷ ওর বেজায় নেশাও হয়েছে৷ পা টলিয়ে টলিয়ে ও হাঁটছে৷

কিন্তু ন্যাদোশ সে অবস্থাতেই ছাতে উঠে গেল৷ খড় খেতে খেতে একসময়ে, যখন চাঁদ উঠেছে, ও ন্যাড়া ছাতের আলসেতে দাঁড়িয়ে গেল৷

সেই যে দাঁড়াল, আর ন্যাদোশ নড়ে না৷ আমরা বেজায় ভয় পেলাম৷ পাশের বাড়ির মেসোমশাইকে সবাই ভয় পায়৷ উনি চাঁদ দেখতে মাসে একবার জানলা খোলেন, জানা কথা৷ ন্যাদোশ ওঁর নজর থেকে চাঁদকে আড়াল করে রেখেছে, আর হলও তাই! মেসোমশাই জানলা খুলেই চেঁচিয়ে উঠলেন, এ কী! এ কী! আমি পূর্ণিমার চাঁদ দেখব, গোরুর শিল্যুয়েট দেখছি কেন? গোরু অল্প টলছে কেন? এ কী!’

সেদিন বাবাই ন্যাদোশকে নামিয়েছিলেন৷

এইরকম জীবনযাপনের ফলেই বোধ হয় ন্যাদোশের অসুখ হল৷ বিশ্বসংসারকে ভয় পেত না৷ কিন্তু মিতুল ওকে একটা ‘সিট’ দেখাত৷ বাবা, বাবার গ্রুপের পরামর্শে অনেক দরকারি জিনিস কিনে ফেলতেন৷ তখন যুদ্ধ শেষ হয়েছে৷ যুদ্ধের জিপগাড়িতে খাকি কাপড়ের গদি বা সিট থাকত৷ সেগুলো বাবা কার পরামর্শে কলকাতা থেকে অনেক কিনে নিয়ে যান৷

মিতুল সেইরকম একটা সিট দেখালে ন্যাদোশ একমাত্র ভয় পেত আর চারটে ঠ্যাং ছেতরে মাটিতে পড়ে যেত৷

ন্যাদোশের অসুখ হতে পশুচিকিৎসক বা ভেট এলেন৷ ‘কী হয়েছে বাবা?’ বলে কাছে এগোতেই ন্যাদোশ তাঁকে তাড়া করল৷ তিনি হাঁউমাঁউ করে বারান্দার থাম দু-হাত দু-পায়ে আঁকড়ে ধরলেন৷ ন্যাদোশ ওঁর প্যান্টের পেছনে টুঁ মারতে থাকল৷ সে কী কেলেঙ্কারি! শেষে ওঁকেই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হল৷

ওই অসুখেই ন্যাদোশ মরে যায়৷ কিছুই করা যায়নি ওর জন্যে৷ ওর কাছেই যেতে পারেনি কেউ৷ এখনও আমার ন্যাদোশের কথা খুব মনে হয়৷ ন্যাদোশকে ভোলা অসম্ভব৷

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *