৭
রাত গভীর। আজ পূর্ণিমা। চরাচর জ্যোৎস্নায় মাখামাখি। তিরবেগে ঘোড়া ছুটিয়ে বোকাইনগর দুর্গের দিকে ছুটে চলেছে এক ঘোড়সওয়ার।
ব্রহ্মপুত্রের তীরে অবস্থিত বোকাইনগর দুর্গ, ময়মনসিংহের জমিদারির অন্তর্ভুক্ত। দুর্গ এখন অবশ্য নামেই। জঙ্গলাকীর্ণ এলাকার মধ্যে কোনওরকমে এখনও অস্তিত্ব গৌড়ীয় ইট ও মাটি দিয়ে গড়া প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত এই সৌধ। এক সময়ে পরিখা বেষ্টিত দুর্গের প্রাকার মাটির মোটা প্রলেপ দিয়ে খুব মজবুত করে গড়া হয়েছিল। কালের যাত্রাপথে সেই মাটির প্রলেপ খসে পড়ে এখন ইট বেরিয়ে পড়ছে। কোনও কোনও জায়গায় প্রাকার সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে দুর্গের অভ্যন্তরকে বেআব্রু করে দিয়েছে। কথিত আছে বোকাই নামে এক কোচ-উপজাতি প্রধান এই দুর্গটি নির্মাণ করেন। তাঁর নামেই দুর্গের নাম। পরে পাঠানদের হাত ঘুরে জাহাঙ্গিরের আমলে এই দুর্গ মোগলদের দখলে আসে।
নদীর চরের অদূরে একটা উঁচু ঢিবির উপরে দুর্গ। একসময় সুবাদারের বিরাট এক বাহিনী মজুত থাকত এখানে। ঢাকা থেকে রাজধানী মুর্শিদাবাদে স্থানান্তরের পর বোকাইনগর কেল্লার গুরুত্ব কমে যায়। বর্ষাপ্রধান অঞ্চলে বাংলা ইট ও মাটি দিয়ে গড়া কেল্লাটা ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে। শেষে পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
পরিত্যক্ত সেই ইমারত এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাথার উপর ছাত অটুট থাকলেও জরার চিহ্ন এর দেহের সর্বত্র। চারিপাশ দিয়ে বেড়ে ওঠা আগ্রাসী সবুজ এই কেল্লাকে পুরোপুরি প্রায় আচ্ছাদিত করে ফেলেছে। দূর থেকে এর অস্তিত্ব বিশেষ চোখে পড়ে না।
পলাশির যুদ্ধের পর পাঁচ বছরের শিশুপুত্র শ্রীমন্তলালকে নিয়ে মুর্শিদাবাদ ছেড়ে পালিয়ে আসেন মোহনলাল। তাঁর সঙ্গে অনুগমন করে দুই দেহরক্ষী ও বহুদিনের বিশ্বস্ত সহচর বাসুদেব। দিনদুয়েক হল এই পরিত্যক্ত দুর্গে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন।
স্যাঁতস্যাঁতে মেঝেতে বিছানো শুকনো ঘাসের উপর সুজনির মতো বিছানো রয়েছে কলাপাতার আচ্ছাদন। তার উপরে শুয়ে ঘুমে অচেতন শ্রীমন্তলাল। মশালের আলোয় বড় মলিন দেখাচ্ছে মুখখানা। পাশে বসে পরম মমতায় তার গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন মোহনলাল। দুই রক্ষী বন্দুক হাতে বাইরে মজুত আছে পাহারায়। বাসুদেব গিয়েছে রসদের সন্ধানে। এখনও ফিরল না। গত দুদিনে আহার্য বলতে জুটেছে সামান্য কিছু বুনো ফল।
সন্ধের দিকে করুণ মুখে একবার ভাত চেয়েছিল খিদেয় কাতর শ্রীমন্তলাল। কথাটা শুনে সুবে বাংলার প্রাক্তন দেওয়ানের বুকের ভিতরটা মুচড়ে উঠেছিল।
শ্রীমন্তলালের মাথায় হাত বুলিয়ে মোহনলাল বলেছিলেন, ‘এই তো আর কয়েক পল ইন্তেজার করো বেটা। বাসুদেব চাউল খরিদ করতে গেছে। আসল বলে। তারপরে আমরা ভাত খাব।’
ভাতের অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত শ্রীমন্তলাল একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। অস্থির হয়ে কিছুক্ষণ অলিন্দে পায়চারি করেন মোহনলাল। তারপর জীর্ণ এক মিনারের উপর দাঁড়িয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করেন দূরে। ঝাঁকড়া গাছের ফাঁক দিয়ে তার চোখের সামনে প্রতিভাত হয় জোছনামাখা চরাচর। পূর্ণিমার চাঁদ। অশ্বের পদসঞ্চারের প্রতীক্ষা করে কান খাড়া করে থাকেন মোহনলাল।
নাঃ! চারিদিক নিস্তব্ধ। গেল কোথায় বাসুদেব? এত দেরি হচ্ছে কেন? কোনও বিপদ হল না তো? মিরজাফরের গুপ্তচরেরা তাঁদের খোঁজে চষে বেড়াচ্ছে গোটা বাংলা। তাদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে সুদূর এই ময়মনসিংহে পালিয়ে এসেছেন মোহনলাল। প্রতিমুহূর্তে তাড়া করে বেড়াচ্ছে ভয়। তবে সে ভয় নিজের জন্য নয়। যে করেই হোক বাঁচিয়ে রাখতে হবে শ্রীমন্তলালকে।
এই জীর্ণ দুর্গের অভ্যন্তরে কোনও শ্বাপদের ঢুকে পড়াটা অসম্ভব কিছু নয়। ঘরে একা ঘুমিয়ে রয়েছে শ্রীমন্তলাল। একথা মনে হতেই মিনার থেকে নেমে এসে দ্রুত কক্ষে প্রবেশ করলেন মোহনলাল। শ্রীমন্তলালের পাশে এসে বসলেন। তার মুখের উপর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে সহসা চমকে ওঠেন মোহনলাল। অবিকল সিরাজের মুখের আদল।
বহেন হিরার কথা মনে পড়ে গেল মোহনলালের। এখন কোথায় আছে সেই অভাগিনী? কী করছে কে জানে! সহসা মোহনলালের মাথার মধ্যে দপ্ করে যেন আগুন জ্বলে ওঠে। সে আগুন ছড়িয়ে পড়ে শিরায় শিরায়। সিরাজের প্রতি তীব্র বিদ্বেষে ভরে ওঠে মনটা। নিজের নির্বুদ্ধিতায় পলাশির প্রান্তরে অনেকের সৌভাগ্য-সূর্য নিভিয়ে দিয়েছেন সিরাজদ্দৌলা। যা হওয়ার ছিল না, তাই হয়েছে। খুশনসিবকে তিনি পায়ে ঠেলেছেন। মোহনলালের মনে হয়, আজ হিরা, শ্রীমন্তলালসহ আরও অনেকের এই বদকিসমতির জন্য দায়ী একমাত্র সিরাজদ্দৌলার হঠকারী সিদ্ধান্ত।
প্রবল ক্রোধে মোহনলালের দেহের সমস্ত রোমকূপ খাড়া হয়ে ওঠে। মনে হয়, এখন যদি তিনি সিরাজকে নাগালের মধ্যে পেতেন তো তাঁর বুকে তরবারি ঠেকিয়ে কৈফিয়ত চাইতেন—কেন সিরাজ সেদিন পলাশির প্রান্তরে প্রায় জিতে যাওয়া লড়াই ছেড়ে ফিরে আসতে তাঁকে বাধ্য করেছিলেন।
জয়ের সৌগন্ধ তখন যুদ্ধে অভিজ্ঞ মোহনলালের নাকে ভেসে আসছে। মোহনলালের কুদরতি তখন কহানি হয়ে ওঠার মুখে। পলাশির আমবাগানের ভিতরে ক্রমশ পিছু হঠছে ক্লাইভের বাহিনী। ক্রমশ হতাশায় ডুবছে ইংরেজরা। সিনফ্রের দাগা কামানের গোলায় ভেঙেচুরে পড়ছে ইংরেজ ঔদ্ধত্য। আমবাগানের আগল ফুরিয়ে যাবে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই। তারপর বেআব্রু হয়ে যাবে কোম্পানির ফৌজ। আতঙ্কের প্রহর গুনছেন ক্লাইভ-কিলপ্যাট্রিক-আয়ারকুট।
ঘোড়ার পিঠে দুর্বার গতিতে আগুয়ান মোহনলাল তখন চেঁচিয়ে উজ্জীবিত করে চলেছেন তাঁর বাহিনীকে—‘মারো! মারো! শেষ করে দাও এই টোপিওয়ালা বেতমিজদের। চিরকালের মতো বাংলা ছাড়া করে দাও এই ধূর্ত বণিকের দলকে।’
ক্লাইভ দিশেহারা। কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না। মোহনলালের আক্রমণের ঝাঁঝ আর বেশিক্ষণ ঠেকিয়ে রাখা কার্যত অসম্ভব। তিনি অলৌকিক কিছু ঘটার প্রত্যাশা করছেন। মনে মনে অভিসম্পাত দিচ্ছেন মিরজাফর ও রায়দুর্লভকে। এই দুঃসময়ে ফৌজ নিয়ে ইংরেজদের সাহায্য করতে কেন তাঁরা এগিয়ে আসছেন না?
এমন একটা সময়ে মোহনলালের কাছে চিরকুট পাঠালেন সিরাজ। আজকের মতো লড়াই থামিয়ে ফিরে এসো। ক্ষিপ্ত মোহনলাল ছুড়ে ফেলে সেই চিরকুট। নবাবের নির্দেশ উপেক্ষা করলেন। কিছুক্ষণ পর আবার বার্তা এল নবাবের কাছ থেকে। যা বলছি শোনো। ফিরে এসো। ফিরে এসো। নবাবের হুকুমত অমান্য করে নিজের ইচ্ছেয় তুমি লড়াই চালিয়ে যেতে পার না।
বিরক্ত মোহনলাল লড়াই থামিয়ে দিলেন। তারপরেই ঘটে গেল চরম বিপর্যয়। পিছন থেকে আচমকা আক্রমণ করে নবাবের ফৌজকে তছনছ করে দিল ইংরেজরা। সিরাজ পালালেন লড়াইয়ের ময়দান ছেড়ে। মোহনলালও বাধ্য হলেন ঘোড়ায় চড়ে পালিয়ে যেতে।
ঘুমের মধ্যে নড়েচড়ে ওঠে শ্রীমন্তলাল। ‘হিরা বুয়া! হিরা বুয়া! কোথায় তুমি?’
মোহনলালের সম্বিৎ ফিরল। হাত বোলাতে লাগলেন শ্রীমন্তলালের গায়ে।
পাশ ফিরে আবার গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে শ্রীমন্তলাল। তার মুখের দিকে মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইলেন মোহনলাল। এই বালকের মুখের আদল অবিকল সিরাজের মতো।
ক্ষণেক আগেই সিরাজের বিরুদ্ধে রাগে ফুসছিলেন মোহনলাল। সহসা সে রাগ যেন জল হয়ে গেল। সিরাজের প্রতি করুণায় আর্দ্র হল মোহনলালের মন। আহা রে! কোথায় এখন সিরাজ! কত কষ্টই না করতে হচ্ছে তাঁকে।
গরিবের ঘরে জন্ম মোহনলালের। জীবনে তাগদ, দৌলত, রওশন—যা ছিল তার কাছে আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো, সে সবই তিনি যে পেয়েছিলেন, সে তো কেবল সিরাজের জন্যই। অপরিণত যুবক সিরাজ বিভ্রান্ত হয়েছিলেন মিরজাফরের কূট চালে। সরলমতি সিরাজ তখনও ভাবছেন মিরজাফর তাঁর প্রকৃত শুভানুধ্যায়ী। বারবার যুদ্ধ থামানোর জন্য চাপ দিয়ে সিরাজকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছিলেন মিরজাফর। সেই চাপে দিশেহারা হয়ে মিরজাফরের প্রস্তাবই মেনে নিলেন সিরাজ। মস্ত বড় একটা ভুল। সেই ভুলের খেসারত সিরাজ নিজেও তো এখন দিচ্ছেন। মোহনলাল কি তাঁর উপরে দোষারোপ করতে পারেন, তাঁকে অভিসম্পাত দিতে পারেন? বরং তার কল্যাণকামনায় ঈশ্বরের কাছে তার দোয়া মাঙা উচিত। যেন বিশ্বাসঘাতকেরা তাঁর নাগাল না পায়।
আর বহেন হিরা? মোহনলালের চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ে।
কাশ্মীর থেকে পিতা-মাতার সঙ্গে ভাগ্যের খোঁজে সুবে বাংলায় এসেছিলেন মোহনলাল। হিরা তখন নিতান্তই শিশু। মোহনলাল সবে কৈশোরে পা দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদে আসার পর কিছুদিনের মধ্যেই পিতা ও মাতাকে হারিয়ে এ দুনিয়ায় একাকী হয়ে গেল ভাই ও বোন। জীবনে লড়াই ছিল বড় কঠিন। দু-বেলা দুমুঠো ভাত জোগাড় করা ছিল বড় কষ্টের। তবু বোনের গায়ে আঁচটুকুও লাগতে দেননি মোহনলাল। পরম যত্নে হিরা বহেনকে তিনি আগলে রেখেছিলেন।
কৈশোরে চন্দ্রকলার মতো একটু একটু করে বিকশিত হতে লাগল হিরার রূপলাবণ্য। মোহনলাল তখন ভিড়েছেন সিরাজের বাউন্ডুলে ইয়ারদোস্তদের দলে। কাশ্মীরি এই ছেলেটিকে বেশ পছন্দ করেন আলিবর্দির আদরের নাতি মির্জা মহম্মদ। তখনও সে সিরাজদ্দৌলা হয়ে ওঠেনি।
দরবারি সহবতের তোয়াক্কা না করে হঠাৎই একদিন মোহনলালের বাড়িতে এসে হাজির হল মির্জা। কড়া নাড়েন দরজায়। মোহললাল ঘরে ছিলেন না। ভাইয়া ফিরেছে ভেবে দরজা খুলে মির্জাকে দেখে চমকে উঠে দ্রুত উড়নির আচ্ছাদনে মুখ ঢাকে হিরা।
মির্জা স্তম্ভিত। বাক্যহারা। ক্ষণেকের জন্য যে রূপরাশি তার চোখের সামনে প্রতিভাত হল, তা যেন অপার্থিব। এ মোহনলালের বহেন না সুনহারি খোয়াবে দেখা বেহস্তের কোন হুরি?
মির্জা শুধোয়, ‘মোহনলাল কোথায়?’
উড়নির আড়াল থেকে ভেসে আসে খুশ ইলহান আওয়াজ, ‘ভাইয়া তো ঘরে নেই!’
মুগ্ধ চোখে মির্জা চেয়ে থাকে উড়নির আড়ালে ঢাকা মুখখানির দিকে।
প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে যায় হিরা। উড়নির আড়াল থেকে সিরাজের চোখের ভাষা পড়ে শরমে সে লাল হয়ে ওঠে, আনত চোখে অধর দংশন করে।
এখন কী করবে হিরা? মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। নবাব আলিবর্দির নাতি, দাঁড়িয়ে আছে কয়েক হাতের মধ্যে। তাকে কি ভাইয়া ঘরে নেই বলে দুয়ার থেকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়? ভিতরে আসতে বললেও এই গরিবখানায় কোথায় সে বসতে দেবে আলিবর্দির নাতিকে?
চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে হিরা।
মুশকিল আসান করে মির্জা নিজেই। বলে, ‘তুমি যদি নারাজ না থাক তো ঘরে একটু বসি।’
‘ভিতরে আসুন।’
খুশ ইলহান আওয়াজ ফের মির্জার বুকের রক্তে তুফান তোলে।
ঘরের অন্দরে সর্বত্র গরিবির ছাপ। ভালো একখানা কুরসিও নেই। হিরা সংকুচিত হয়ে পড়ে। এসব নিয়ে অবশ্য মির্জার মাথাব্যথা নেই। হোক না গরিবের ঘর। যে ঐশ্বর্যের সন্ধান সে পেয়েছে এই গরিবখানায় এসে, তার কাছে ধন-দৌলত, হিরে-জহরত, খানদানের গরিমা-ইজ্জত সব তুচ্ছ। মির্জা ভাবে, ভাগ্যিস সে এসেছিল মোহনলালের খোঁজে। না হলে এই সম্পদের হদিশই হয়তো সে কোনওদিনও পেত না।
হিরার হঠাৎ মনে হয় মেহমানের জন্য এক গেলাস পানি নিয়ে আসা উচিত।
এক ছুটে সে পাশের ঘরে যায়। পাথরের গেলাসে করে জল নিয়ে এসে উড়নির আড়াল থেকে মৃদু কণ্ঠে বলে, ‘পানি।’
মির্জা বরাবরই অস্থির ও অধৈর্য। মাঝে মাঝে আকাশের চাঁদ পেড়ে আনার মতো অসম্ভব কিছু সে দাবি করে নানাজির কাছে। এই চাঁদ তার নাগালের মধ্যেই রয়েছে। সহসা হিরার হাতটা ধরে এক ঝটকায় তাকে বুকের মধ্যে টেনে নেয় মির্জা। হিরা চমকে ওঠে। একই সঙ্গে শিহরন ও পুলকের অনুভূতিতে সে বিহ্বল হয়ে যায়। হাত থেকে পাথরের গেলাস মাটিতে পড়ে গড়িয়ে যায়।
মাথার উড়নি সরিয়ে হিরার অপার্থিব সুন্দর মুখমণ্ডলে পাগলের মতো চুমু খেতে থাকে মির্জা।
লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে হিরা। মৃদু বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
‘ছাড়ুন। ভাইয়া এসে পড়বে।’
‘আমি বুঝি ভয় পাই তোমার ভাইয়াকে?’ এই বলে হিরাকে দুই বাহু দিয়ে আরও নিবিড়ভাবে আকর্ষণ করে মির্জা। আর কথা বলার সুযোগ পায় না হিরা। তার অধরপল্লবে দৃঢ়ভাবে চেপে বসে সিরাজের পুরু ঠোঁটদুটো। এক অনাস্বাদিত অপার্থিব সুখে ভেসে যায় হিরা।
দরজা খোলা। দুজনে নিবিড় আলিঙ্গনে আবদ্ধ। হিরা তখন নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পণ করেছে মির্জার উন্মত্ত ভালোবাসার কাছে। এমন সময় দরজায় এসে দাঁড়ায় মোহনলাল। এই দৃশ্য দেখে চকিতে সে আড়ালে সরে যায়। মোহনলালের মন ভরে ওঠে অন্য এক খুশিতে। এবারে নসিবের চাকা ঘুরবে।
বেশ কিছুক্ষণ পর ঘরের বাইরে থেকে হিরার নাম ধরে ডেকে উঠেছিলেন মোহনলাল। যেন ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরে ফিরলেন। মোহনলালের গলার আওয়াজ শুনে সংযত হয় মির্জা। তার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে অন্দরমহলে ছুটে পালায় হিরা।
মোহনলাল ঘরে ঢুকেই সিরাজকে দেখে উষ্ণ গলায় বলেছিলেন, ‘সেলাম হুজুর! আপনি এই গরিবখানায় এসেছেন। বহুত খুশি কি বাত। মেরা খুশনসিবি।’
কুরসি ছেড়ে উঠে এসে মোহনলালকে বুকে জড়িয়ে ধরে মির্জা বলে, ‘খুশনসিবি কখন যে কার হাত পাকড়ে ধরে তা কে বলতে পারে মোহনলাল?’
সেই থেকে মোহনলালের সঙ্গে মির্জার ঘনিষ্ঠতার শুরু। কারণ যে বহেন হিরা তা বুঝতে পারেন মোহনলাল। অচিরেই তিনি হয়ে উঠলেন মির্জার পহেলা দোস্ত, ছায়াসঙ্গী। দিনে দিনে হিরার সঙ্গে মির্জার ঘনিষ্ঠতা বেড়ে চলল। কিছুদিন পরে সিরাজদ্দৌলা উপাধিতে ভূষিত হল মির্জা। তাঁকে মসনদের উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করলেন নবাব আলিবর্দি খাঁ।
মোহনলাল খুশিতে যেন প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। বাংলার হবু নবাবের বেগম হবে তাঁর আদরের বহেন। তিনি হবেন নবাবের রিসতেদার। এত সৌভাগ্য তার মতো এক মামুলি ইনসানের ললাটে লিখে রেখেছেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর! কী অসীম করুণা তাঁর!
সিরাজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ফলে কিছু কাল পরে গর্ভসঞ্চার হল হিরার। এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিল সে। সমাজে কী পরিচয় হবে পুত্রের? বেগমের স্বীকৃতি চাইল হিরা। ভাবনায় পড়লেন সিরাজদ্দৌলা। এ রিসতা আলিবর্দি মেনে নেবেন তো?
নাহ্। মানলেন না নবাব আলিবর্দি খাঁ। আদরের নাতির কাতর প্রার্থনাও তার মন টলাতে পারল না। আজনবি এক লেড়কি, বলার মতো কোনও পরিচয় নেই যার খানদানের, সে কী করে সিরাজের বেগম হবে? নানাজির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার সাহস ছিল না সিরাজের। বাধ্য হয়েই হিরার সঙ্গে সম্পর্কতে ইতি টানতে হল তাঁকে।
ম্লান মুখে এসব মেনে নিল হিরা। শুধু অনুরোধ করল শিশুপুত্রটিকে তাঁর কাছ থেকে যেন কেড়ে নেওয়া না হয়। এতে সম্মত হলেন আলিবর্দি খাঁ। নিদান দিলেন, সিরাজ ও হিরার অবৈধ পুত্র থাকবে হিরার কাছে মোহনলালের হাভেলিতে। সকলে জানবে এই শিশুপুত্রটি মোহনলালের। সিরাজ ও হিরার পুত্রের নামকরণও করে দিলেন আলিবর্দি—শ্রীমন্তলাল।
প্যাঁচার ডাকের বিকট আওয়াজে হুশ ফেরে মোহনলালের। সেই শ্রীমন্তলাল- নবাব সিরাজদ্দৌলার পুত্র। নসিবের ফেরে আজ পরিত্যক্ত বোকাইনগর দুর্গের অভ্যন্তরে এক কক্ষের মেঝেতে ঘাসের বিছানায় শুয়ে অকাতরে ঘুমোচ্ছে। মোহনলাল একদৃষ্টে চেয়ে থাকেন তার মুখের দিকে। সিরাজের রক্ত বইছে শ্রীমন্তের ধমনীতে। বইছে মোহনলালের খানদানের রক্তও। দুশমনেরা যেন তার খোঁজ না পায়। তাই মুর্শিদাবাদ থেকে পালিয়ে আসার সময় শ্রীমন্তলালকে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন মোহনলাল। তিনি কথা দিয়েছিলেন হিরাকে, একদিন মসনদের উপর শ্রীমন্তলালের অধিকারকে তিনি প্রতিষ্ঠা করবেন। হারতে রাজি নন মোহনলাল। এখনও তার শরীরের রক্ত উষ্ণ। তিনি বাঁচিয়ে রাখতে চান শ্রীমন্তলালকে, বাঁচিয়ে রাখতে চান হিরার গর্ভজাত সন্তানকে।
মুর্শিদাবাদ থেকে পালানোর সময় হিরার বুক থেকে শ্রীমন্তকে উপড়ে আনতে কম কষ্ট হয়নি মোহনলালের। কিন্তু সিরাজপুত্রের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ছাড়া অন্য উপায় যে ছিল না।
বাইরে থেকে ঘোড়ার খুরের শব্দ ভেসে আসে মোহনলালের কানে। মোহনলাল ব্যস্ত হয়ে ছুটে আসেন অলিন্দে। চাঁদের আলোয় তিনি স্পষ্ট দেখতে পান বাসুদেবকে। ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে এল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন মোহনলাল।
খানিকবাদে বাসুদেব এসে কুরনিশ জানায়।
মোহনলাল শুধোলেন, ‘রসদ?’
বাসুদেব বলে, ‘এনেছি হুজুর। তবে এক বস্তা চাল ও খানিকটা নুন ছাড়া আর কিছু মিলল না। তাও বহুত চড়া দাম দিতে হল। পলাশির হকিকৎ সবাই জেনে গিয়েছে। চতুর্দিকে ঘুরে বেড়াচ্ছে মিরজাফরের কসিদেরা। মান্ডিতে মান্ডিতে ঢোল-শোহরৎ হয়েছে—এলাকায় অপরিচিত কাউকে যেন রসদ বিক্রি করা না হয়। মান্ডিতে অচেনা কোনও মুখ দেখলেই যেন ফৌজদারের কাছে খবর পাঠানো হয়। এ জায়গা আর নিরাপদ নয়। অবিলম্বে আমাদের পালাতে হবে এখান থেকে।’
হতাশ গলায় মোহনলাল বলেন, ‘তাড়াতাড়ি ভাত চড়াও বাসুদেব। শ্রীমন্তলাল খিদেয় কাতর হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে।’
‘জি হুজুর।’
শ্রীমন্তলালকে ঘুম থেকে উঠিয়ে নুন মেশানো গরম ভাত নিজের হাতে খাওয়ালেন মোহনলাল। খুব খিদে পেয়েছিল। নুন মেশানো ভাতই গোগ্রাসে খেয়ে নিল শ্রীমন্তলাল। তারপর ঘাসের বিছানাতেই পরম তৃপ্তিতে ফের ঘুমিয়ে পড়ল। রাতের আহার শেষ করে বাসুদেবের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসলেন মোহনলাল।
নিজেকে নিয়ে নয়, মোহনলালের ভাবনা শ্রীমন্তলালকে নিয়ে। মোহনলাল জানেন ধরা পড়লে মিরজাফর খাঁ তাকে জিন্দা ছাড়বে না। মরতে ভয় নেই মোহনলালের। কিন্তু মিরজাফর ও ইংরেজদের প্রতিহিংসার হাত থেকে কী করে বাঁচাবেন শ্রীমন্তকে?
‘কী করা যায় বাসুদেব? এইটুকু ছেলে কাহাতক আর এই বনে জঙ্গলে পালিয়ে বেড়ানোর ধকল সামলাবে?’
‘উপায় একটা আছে হুজুর।’ বলে বাসুদেব।
‘কী উপায়?’
‘আমার কাকা বিনোদ রায় আমহাটি গ্রামে বাস করেন। তাঁর বাটিতে শ্রীমন্তকে রাখা যায়।’
‘তিনি কি রাজি হবেন?’
‘আমার প্রস্তাবে অমত করবেন না। কাকা যথেষ্ট স্নেহ করেন আমাকে।’
‘কিন্তু কী পরিচয় দেবে ওর?’
‘অনাথ ব্রাহ্মণ সন্তান। নদীর ঘাটে ভিক্ষে করছিল।’
‘যদি কোনও ভাবে সত্য প্রকাশ পায় যে সিরাজদ্দৌলা ও হিরার অবৈধ সন্তান শ্রীমন্তলাল?’
‘এ সত্য প্রকাশ হওয়া অসম্ভব। নবাব আলিবর্দি খাঁ গত হয়েছেন। নানি বেগম, নবাব সিরাজদ্দৌলা, আপনি, আমি আর হিরা বেগম ছাড়া আর কেউ তো জানে না একথা।’
‘তা অবশ্য ঠিক।’ এই বলে চিন্তিত মুখে মোহনলাল কালো মেঝের দিকে চেয়ে রইলেন।
বাসুদেব বলে, ‘আপাতত শ্রীমন্তলাল আমহাটিতে থাকুক। পরে অন্য ব্যবস্থা করা যাবে।’
চকিতে চোখ তুলে বাসুদেবের মুখপানে তাকালেন মোহনলাল।
হঠাৎই ঘুমের মধ্যে নড়েচড়ে উঠল শ্রীমন্তলাল। ‘হিরা বুয়া! হিরা বুয়া!’
মোহনলাল ঘুরে তাকালেন। ব্যস্ত হয়ে উঠল বাসুদেব। শ্রীমন্তলাল পাশ ফিরে শুল।
মোহনলাল সামনে ঝুঁকে পড়ে তার কপালে হাত বুলিয়ে দিলেন। ফের গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল শ্রীমন্ত। গায়ের উড়নি দিয়ে তাকে বাতাস করতে লাগল বাসুদেব।
ঘরের মধ্যে গুমোট গরম। একটুও হাওয়া নেই। রাত কয় প্রহর, ঠিক আন্দাজ পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা জানলা দিয়ে বাইরের দিকে তাকালেন মোহনলাল। আকাশে জেগে আছে পূর্ণিমার গোল চাঁদ। মেঘহীন কালো আকাশ নক্ষত্রখচিত। কালো বনাতের গায়ে অজস্র হিরের কুচি কেউ যেন সুতো দিয়ে গেঁথে রেখেছে। ঝিঁঝি ডেকে চলেছে একটানা। আশেপাশের কোনও গাছ থেকে বিকট সুরে ডেকে উঠল একটা হুতোম প্যাঁচা। কর্কশ বিশ্রী আওয়াজ। মোহনলালের বুক কেঁপে উঠল। এ কি আরও কোনও বিপর্যয়ের সংকেত? প্রতিহিংসাপরায়ণ শত্রুর হাত থেকে শ্রীমন্তলালকে তিনি রক্ষা করতে পারবেন তো?
মোহনলাল শুধোলেন, ‘অন্য কী ব্যবস্থার কথা বলছিলে বাসুদেব?’
‘কাকা দরিদ্র মানুষ। অভাবের সংসার। বিত্তের সিন্ধুর মধ্যে বড় হয়েছে শ্রীমন্ত। তার ভরণপোষণ করা কাকার পক্ষে সম্ভব নয়। আপাতত কিছুদিন সে থাকুক কাকার গৃহে, তারপরে না হয়—’
‘কী তারপরে?’ অধৈর্য হয়ে প্রশ্ন করেন মোহনলাল।
‘সে ব্যবস্থা আপনাকেই করতে হবে।’
‘যা বলতে চাইছ তা স্পষ্ট করে বলো বাসুদেব।’
‘বাসুদেব ইতস্তত করে বলে, নবাব সিরাজদ্দৌলার বিশেষ অনুগত ছিলেন ময়মনসিংহের জমিদার শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরী। আপনার সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে। তিনি যদি রাজি হন—’
‘কী বিষয়ে রাজি হবেন?’ কৌতূহলের সঙ্গে প্রশ্ন করেন মোহনলাল।
‘শ্রীমন্তকে তিনি যদি দত্তক নেন–’
মুচকি হাসেন মোহনলাল। খানিকটা হতাশা জড়ানো গলায় বলেন, ‘যা ভাবছ, বাস্তবে তার রূপায়ণ সম্ভব কি?’
‘কেন সম্ভব নয়?’
‘সনাতন হিন্দু জমিদার। ধার্মিক ব্রাহ্মণ। সিরাজের অবৈধ পুত্রকে কি দত্তক নিতে চাইবেন?’
‘শ্রীমন্তর আসল পরিচয় প্রচ্ছন্ন রাখলেই হল।’
এ তো ধর্মনিষ্ঠ ব্রাহ্মণ শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর সঙ্গে একপ্রকার তঞ্চকতা। বাইরের অন্ধকারের দিকে চুপ করে ক্ষণেকের জন্য চেয়ে থাকেন মোহনলাল। তারপর ভাবেন, বুদ্ধিটা মন্দ বাতলায়নি বাসুদেব। পথে পথে পালিয়ে বেড়ানোর ধকল শ্রীমন্ত আর সইতে পারছে না। চৌধুরীমশায়ের গৃহে সে ঠাঁই পেলে আর কোনও ভাবনা থাকে না। শ্রীমন্তের নিরাপদ জীবনের স্বার্থে এটুকু মিথ্যের আশ্রয় নেওয়াই যায়। আরেকটা ভাবনাও উঁকি দেয় মোহনলালের মনে। আজ সিরাজ ক্ষমতাচ্যুত। মোহনলাল আজ কোন পরিচয়ে গিয়ে দাঁড়াবেন শ্রীকৃষ্ণ চৌধুরীর কাছে?
হঠাৎ দূর থেকে অশ্বখুরের শব্দ ভেসে আসে। একটি নয়, অনেক অশ্বের পদসঞ্চার।
বাসুদেব ও মোহনলাল দুজনেই উৎকর্ণ হয়ে ওঠেন।
চকিতে ছুটে গিয়ে ঘরে জ্বলতে থাকা মশালটা নিভিয়ে দিয়ে বাসুদেব চাপা গলায় বলে, ‘নির্ঘাত মিরজাফরের গুপ্তচর বাহিনী।’
অলিন্দে ছুটে যায় বাসুদেব। দূরে দেখা যায় অনেক মশালের বিন্দু বিন্দু আলো। খানিকবাদে আলোকবিন্দু হারিয়ে যায় গহীন আঁধারের গর্ভে। ঘোড়ার খুরের শব্দ মিলিয়ে যায় দূরে।
কক্ষে ফিরেই বাসুদেব চাপা গলায় বলে, ‘চলুন আজ রাতেই বেরিয়ে পড়ি আমহাটির উদ্দেশে।’
‘ঠিকই বলেছ বাসুদেব। এ স্থান আর নিরাপদ বলে বোধ হচ্ছে না।’
মশালের আলো অনেক বেশি উজ্জ্বল। দুশমনের চোখে পড়ে যেতে পারে। সাবধানতার জন্য ছোট্ট একটি প্রদীপ জ্বালে বাসুদেব।
গায়ে মৃদু ধাক্কা দিয়ে শ্রীমন্তকে জাগিয়ে তোলেন মোহনলাল। সহসা কাঁচা ঘুম ভেঙে পরিত্যক্ত দুর্গের এই কক্ষের ভিতরে এই আলো আঁধারি পরিবেশে কেমন যেন ত্রস্ত হয়ে পড়ে শ্রীমন্তলাল।
স্নেহের সুরে মোহনলাল বলেন, ‘বেটা!’
মোহনলালকে আঁকড়ে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে শ্রীমন্ত বলে, ‘আমি হিরা বুয়ার কাছে যাব।’
পরম স্নেহে তার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে মোহনলাল বলেন, ‘চলো বেটা। এখনই যাব। জলদি বেরিয়ে পড়ি আমরা।’
প্রদীপের আলো হাতে পথ দেখায় বাসুদেব। শ্রীমন্তলালকে কোলে নিয়ে নীচে আগাছায় ভরা খাড়াই সিঁড়ি বেয়ে সন্তর্পণে নেমে আসেন মোহনলাল। চাপা গলায় ডাকেন দুই রক্ষীকে।
ব্যস্ত হয়ে ছুটে এসে তারা মোহনলালকে সেলাম জানায়।
মোহনলাল বলেন, ‘চলো এখনই বেরোতে হবে।’
কেল্লার পিছনে প্রায় ভেঙে পড়া আস্তাবলে বাঁধা আছে ঘোড়াগুলো। দুই রক্ষী দ্রুত ছুটে যায় আস্তাবলের দিকে।
দূর থেকে ফের ভেসে আসছে অনেকগুলো ঘোড়ার খুরের শব্দ। সেই সঙ্গে অন্ধকার ফুঁড়ে ভেসে উঠেছে অনেকগুলো আলোকবিন্দু। অশ্বারোহীর দল খুব দ্রুত এগিয়ে আসছে পরিত্যক্ত এই কেল্লার দিকে। ঘোড়ার খুরের শব্দ জোরালো হচ্ছে ক্রমশ।
মোহনলাল চাপা গলায় বললেন, ‘ওরা এদিকেই আসছে।’
শ্রীমন্তলালকে নিয়ে দ্রুত ঘোড়ায় চেপে বসলেন মোহনলাল। ঘোড়ায় চেপে বসল বাসুদেব ও সঙ্গের দুই রক্ষীও। চোখের নিমেষে চারটি ঘোড়া ক্ষিপ্রগতিতে মিলিয়ে যায় অন্ধকারে।
.
