২৫
আলোয় আলোয় ছয়লাপ হালসিবাগানে গোবিন্দরাম মিত্তিরের বাগানবাড়ি। আলোর জলুসে হার মেনেছে রাতের অন্ধকার। সদর দেউড়িতে নহবতখানায় বাজছে সানাই। রংমহল থেকে ভেসে আসছে ঘুঙুরের ঠুংঠাং শব্দ, তবলার আওয়াজ। কৃষ্ণনগর থেকে এসেছে খ্যামটার দল। তারা মহড়ায় ব্যস্ত। খানাপিনার পর সারারাত ধরে নাচগান হবে।
বাগানবাড়ির চৌহদ্দিতে রয়েছে বিরাট এক দিঘি। পাথর দিয়ে বাঁধানো তার চারদিক। দিঘির মাঝে রয়েছে অপূর্ব নকশায় তৈরি এক জলটুঙি। সরু সরু লাল ইট, পোর্সেলিন ও শ্বেত পাথরের তৈরি আটকোণা ইমারত। ইটালিয়ান মার্বেলে মোড়া মেঝের উপরে পাতা হয়েছে নকশাদার গালিচা। মাথার উপরে জ্বলছে বেলজিয়ান ঝাড়বাতি। ঘাট থেকে জলের উপর দিয়ে সেতুর মতো পাথর বাধানো পথ জলটুঙি পর্যন্ত চলে গিয়েছে। জলটুঙিতে চলছে গুলতানি আর আড্ডা। পলাশির প্রান্তরে কোম্পানির জয়ের খুশিতে গোবিন্দরামের বাগানবাড়িতে ফূর্তিতে মেতেছেন কলকাতার গণ্যমান্য মানুষেরা। লক্ষ্মী ধর, শোভারাম বসাক, নীলমণি মিত্র, শুকদেব মল্লিক, নয়নচাঁদ মল্লিক ও সুতানুটি-কলকাতা-গোবিন্দপুরের আরও অনেক গণ্যমান্য লোকেরা এসেছেন। খুশি নাচছে তাঁদের সকলের চোখেমুখে। কোম্পানির জয় যেন তাদেরই জয়।
আতরের গন্ধে ভুরভুর করছে চারিদিক। ফরাসের মাঝখানে সাজানো রয়েছে বিলিতি মদের বোতল আর বেলজিয়ান কাটগ্লাসের পানপাত্র। পানদানিতে থরে থরে সাজানো রয়েছে রুপোর তবকে মোড়া পানের খিলি। প্রত্যেকের বসার আসনের পাশে রাখা রয়েছে গড়গড়া। ফরসির নলটা টেনে নিয়ে ভুর ভুর করে খানিকটা অম্বুরি তামাকের ধোঁয়া ছেড়ে লক্ষ্মী ধর বললেন, ‘তা কী বুঝছ হে ভায়া গোবিন্দ?’
‘আমোদে আমার তো দিনরাত নেত্য করতে ইচ্ছে করছে ধরমশায়।’
‘বেড়ে বলেছ। কায়কারবার নিয়ে একরকম নিশ্চিন্ত হওয়া গেল।’
‘যাই বলুন, কোম্পানি যে গালেব হবে, তা কিন্তু আমি ভাবতেই পারিনি। পলাশিতে মাত্র কয়েক প্রহরের মধ্যে সব হেস্তনেস্ত হয়ে গেল? আলিবর্দির নাতি উটের পিঠে চেপে ধাঁ?’ নয়নচাঁদ মল্লিকের ভাঁড়সুলভ কথার ভঙ্গিমায় মজা পেয়ে হেসে উঠলেন সকলে।
‘না হে! কর্নেল ক্লাইভ সত্যিই বাহাদুর আদমি।’
‘এতদিনে এ কথা বুঝলে হে নয়নচাঁদ?’
‘যাই বলুন ধরমশায়, এত সহজে যে মুশকিল আসান হবে তা কিন্তু আমি ভাবতেই পারিনি।’
‘বল কী হে নয়নচাঁদ? হালসিবাগানের কীত্তির পরেও ক্লাইভ সাহেবের উপরে ভরসা ছিল না তোমার? আক্কেল তোমার আর হবে কবে?’ রুপোর তবকে মোড়া পান মুখে ফেললেন লক্ষ্মী ধর।
নীলমণি মিত্র যোগ করলেন, ‘হক কথা বলেছেন মশায়। কাকভোরে কয়েকশো মাত্র ফৌজি নিয়ে নবাবের পিলে চমকে দিলেন ক্লাইভ। সেদিনই বুঝেছি এ লোক বাহাদুর বটে।’
‘বাহাদুর বলে বাহাদুর! একেবারে ডাকাতের মতো বুকের পাটা।’
নয়নচাঁদ বললেন, ‘এই খুনজোশি কোত্থেকে আসে বলুন দিকি? এরা খায় কী?’
বিলিতি মদের পানপাত্র হাতে তুলে দেখিয়ে লক্ষ্মী বললেন, ‘এইটে।’
ফের হেসে উঠল সকলে।
‘ধরমশায় আমাদের রসিক চূড়োমণি।’ এই বলে মদের গেলাসে চুমুক দিলেন গোবিন্দরাম।
লক্ষ্মী ধর বলে উঠলেন, ‘ও হে গোবিন্দ তোমাকে তো কায়েত কুলের সাত্ত্বিক পো বলে জানতাম। এখন দেখছি তুমিও এ রসে মজেছ? ভালো ভালো। বুঝতে পারছি দিনকাল বদলাচ্ছে।’
‘অতঃপর এ শহরে কেতায় বাঁচতে হলে এ ছাড়া আর গতি কী ধরমশায়? গঙ্গাজলে তো আর সাহেবভজনা চলবে না। কী বলেন অ্যাঁ?’ গোবিন্দরাম সজোরে হেসে ওঠেন।
‘হ্যাঁ। এই হল গে হক কথা।’ ফরসির নলটা টেনে নিয়ে নকু ধর ফের বললেন, ‘কোম্পানিই যে কলকেতার ভবিতব্য, তা অবিশ্যি আমি আগেই বুঝেছিলাম।’
নীলমণি মিত্র বললেন, ‘আপনি ক্ষণজন্মা পুরুষ।’
‘ইংরেজরা নবাবের তাড়া খেয়ে ফলতায় গিয়ে উঠল, আর তোমরা হায়-হায়, গেল-গেল করে ঘরের দোর আটকে মাথা চাপড়াতে লাগলে।’
শোভারাম বসাক বেজার মুখ করে বলে উঠলেন, ‘এ ছাড়া আর উপায় কী ছিল ধরমশায়? আমার তিন-তিনখানা গুদাম, কাপড়ে ঠাসা। আগুনে পুড়ে একেবারে—তার উপরে এদ্দিন ধরে কারবার বন্ধ। উঁ-হু-হু-হু! লোকসান! লোকসান আর লোকসান!’
অম্বুরি তামাকের ধোঁয়া ছেড়ে লক্ষ্মী ধর বিরক্তির সঙ্গে বলে ওঠেন, ‘নাকে কেঁদো না তো হে শোভারাম। সমুখ পানে তাকাও।’
শুকদেব মল্লিক বললেন, ‘হ্যাঁ। হ্যাঁ। ঠিক কথা। লোকসান কার হয়নি শুনি? এবারে সব উশুল করে নেবেন। সুতানুটির ঘাটে কোম্পানির শয় শয় জাহাজ একেবারে হামলে পড়বে।’
নীলমণি মিত্র শুধোলেন, ‘তা আপনি কী করে এত নিশ্চিত ছিলেন ধরমশায় যে ইংরেজরা ফের কলকাতায় ফিরে আসবে?’
‘বাপু হে, আমি ভাবীকালের নাড়ির গতি টের পাই। আন্দাজ করেছিলাম, নবাবের সঙ্গে ঝামেলাটা সাময়িক। কোম্পানি আপোসে, উৎকোচে মিটিয়ে নেবে। কাঞ্চনবটিকা যে বিষহরি তা কে না জানে? তাছাড়া ইংরেজদের কারবার বন্ধ থাকলে নিজামতেরও তো শুল্ক খাতে মেলা লোকসান। ভাবলাম, সাহেবরা আতান্তরে পড়েছে, নবাবের সঙ্গে মিটমাট না হওয়া পর্যন্ত এদের বাঁচিয়ে রাখা দরকার। নবকেষ্টর হাতে টাকা গুঁজে দিয়ে বললাম—চুপিচুপি ফলতায় রসদ পৌঁছে দিতে পার? সাহেবগুলো যে বেঘোরে মরতে বসেছে।’
‘বলিহারি সাহস আপনার!’
‘তোমরা তো সব ঘরের দোরে খিল দিয়েই খালাস।’
‘নবাবের রোষে পড়লে যে গর্দান যেত। নাকের ডগায় ঘুরঘুর করছে মানিকচাঁদের কাসিদরা। ভয় করেনি আপনার?’ শুধোলেন শোভারাম।
‘আরে রাখো তোমার মানিকচাঁদ। অমন কত চাঁদকে দেখলাম। কাঞ্চনবটিকায় সব মাতব্বর ঢিট। নবকেষ্ট আমাদের ডাকাবুকো ছেলে। এককথায় ফলতায় রসদ পৌঁছে দিতে রাজি হয়ে গেল। তরে গেল সাহেবরা। তারপর ক্লাইভ সাহেব এলেন। বাকি সবই তো তোমরা জান।’
গোবিন্দরাম বললেন, ‘পলাশিতে চূড়ান্ত হেস্তনেস্ত হয়ে ভালোই হয়েছে।’
লক্ষ্মী ধর বললেন, ‘তা একপ্রকার ঠিক। আপাতত আপোসে-উৎকোচে কাজিয়া মিটলেও পরে নবাবের সঙ্গে ফের খিটিমিটি বাধত কোম্পানির। তার চেয়ে আপদ একেবারে বিদেয় হল। এবারে টাকা উড়বে কলকেতায়।’
নয়নচাঁদ মল্লিক বললেন, ‘শুনতে পাই ক্লাইভ সাহেবের মস্ত মুরুব্বি হয়েছে নবকেষ্ট।’
লক্ষ্মী ধর বলেন, ‘হবেই তো। ছোকরা তুখোড় বুদ্ধি ধরে। সে এবারে আসমানে উড়বে।’
গোবিন্দরাম মিত্তির বললেন, ‘ক্লাইভ সাহেবের হাত মাথায় থাকলে পাখা মেলতে আর অসুবিধা কোথায়?’
লক্ষ্মী ধর বললেন, ‘নবকেষ্ট দিশি সমাজের মাতব্বর হল বলে।’
শোভারাম বসাক বললেন, ‘নবকেষ্টকে দিয়ে তড়িঘড়ি আমাদের ক্ষতিপূরণের দাবিটা ক্লাইভ সাহেবের কানে তুললে হয় না?’
গোবিন্দরাম বলে ওঠেন, ‘হবে হবে। সব হবে। অত তাড়াহুড়ো কীসের? আগে তো সাহেবকে কলকেতায় ফিরতে দিন।’
নয়নচাঁদ মল্লিক প্রশ্ন করেন, ‘সাহেব ফিরছেন কবে? কিছু জানেন?’
‘দেরি আছে। এখন উনি ওনার পোষা মদ্দা গর্ধভটাকে জুত করে চানা খাওয়াচ্ছেন।’
নীলমণি মিত্র অবাক হয়ে শুধোলেন, ‘সাঁটে এ আবার কী বলছেন ধরমশায়?
‘ক্লাইভ সাহেব একখানা মদ্দা গর্ধভ পুষেছেন।’ এই বলে লক্ষ্মী ধরের দিকে তাকিয়ে চোখ টিপে ফিক করে ফিচেল হাসি হাসলেন গোবিন্দরাম।’
‘গৌরচন্দ্রিকা ছেড়ে আসল কথাটা বলুন দিকি।’
‘ও হে গোবিন্দ তুমিই বল।’
‘কর্নেল ক্লাইভের মদ্দা গর্ধভ—নয়া নবাবকে এই খেতাব দিয়েছেন দরবারের ভাঁড় মির্জা শামসুদ্দিন। ক্লাইভ সাহেবের হুকুম ছাড়া মিরজাফর খাঁ সাহেব নড়াচড়া করেন না। বড় বাধ্য পোষ্য। ধরমশায়কে এসব চিঠিতে লিখেছে নবকেষ্ট।’ বললেন গোবিন্দরাম।
‘ক্লাইভ সাহেব এখন তাঁকে খাইয়েদাইয়ে পুরুষ্টু করছেন। পরে সময় মতো জুত করে জবাই করবেন।’ এই বলে হ্যা হ্যা করে হেসে উঠলেন লক্ষ্মী ধর।
বাকি সকলে তার সঙ্গে যোগ দিল হাসিতে।
.
কাশিমবাজার, কাটোয়া, অগ্রদ্বীপ, কালনা, হুগলি পার হয়ে এগিয়ে চলেছে কোম্পানির নৌবহর। সামনে পিছনে যুদ্ধজাহাজ। মাঝে দুশো নৌকো। লুঠের মালে বোঝাই। পলাশির গনিমত। নদীর দুপাড়েই অজস্র কৌতূহলী মানুষের ভিড়।
নবাবকে এ যাবৎকাল সর্বশক্তিমান বলে জেনে এসেছে সাধারণ মানুষ। এতকাল সুবে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দৌলত পাড়ি দিয়েছে কেবল মুর্শিদাবাদের দিকে। আজ উলট-পুরাণ ঘটছে। অবশ্য বর্গিরা যে বাংলার দৌলত লুঠে নিয়ে যায়নি, তা নয়। তারা আসত ঘোড়ার পিঠে চেপে নবাবের সৈন্যদের তাড়া খেয়ে তস্করের মতো পালিয়ে যেত। কিন্তু আজ যে দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছে ভাগীরথীর দু’পাশের অগণিত মানুষ তা এককথায় অদৃশ্যপূর্ব। নবাবের দৌলত নিয়ে যুদ্ধ জাহাজের পহারায় রীতিমতো ব্যান্ড বাজিয়ে, নিশান উড়িয়ে কলকাতায় ফিরছে ইংরেজরা। তস্করের মতো লুকিয়েচুরিয়ে নয়, চারিদিকে রীতিমতো শোরগোল ফেলে চলেছে তারা।
তাজ্জব চুঁচুড়ার ডাচেরা। ফোর্ট গুস্তাভাসের আনাচকানাচ থেকে, চুঁচুড়ার ঘাটের আশপাশে অবস্থিত বাড়িগুলোর অলিন্দে, ছাতে, জানলায় উঁকি মারছে অজস্র কৌতূহলী মুখ। কতকটা ইচ্ছাকৃত ভাবেই শূন্যে পরপর তিনবার তোপধ্বনি করল ওয়াটসনের জাহাজ কেন্ট। যেন ডাচদের উদ্দেশে বলতে চাইল, ওহে দু’চোখ ভরে দেখে নাও, ইংরেজদের কুদরতি।
সূর্য পশ্চিমে ঢলছে। বিছানা থেকে উঠে এসে ডেকের উপরে আরামকেদারায় বসলেন অ্যাডমিরাল ওয়াটসন। শরীরটা বিশেষ ভালো নেই। খানিকবাদে অর্ডারলি এসে আরামকেদারার পাশে চৌপাইয়ের উপরে রেখে গেল বিয়ারের মগ। পেরিন পয়েন্ট অতিক্রম করছে নৌবহর। ওয়াটসনের কানে ভেসে এল জনতার হর্ষধ্বনি। বিয়ারের মগটা হাতে নিয়ে আরামকেদারা ছেড়ে উঠে এসে ডেকের রেলিং-এর পাশে দাঁড়ালেন ওয়াটসন। অবাক চোখে দেখতে লাগলেন নদীর পাড়ে জমায়েত হওয়া মানুষের প্রতিক্রিয়া। উত্তেজনায় সবাই যেন লাফাচ্ছে। দিশি লোকেদের মধ্যে কেউ কেউ ওড়াচ্ছে ইউনিয়ন জ্যাক। সেই একই দৃশ্য, যে দৃশ্য তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন বজবজ কেল্লা দখল করার পর নৌবহর নিয়ে কলকাতায় আসার পথে।
সেদিন চমকে উঠেছিলেন ওয়াটসন। এদেশের নবাবের হাত থেকে কেড়ে নিয়েছেন বজবজের কেল্লা, চলেছেন ফোর্ট উইলিয়াম পুনর্দখল করতে, তবু এদেশি মানুষদের এত উচ্ছ্বাস কেন? এরা তো সব নবাবের প্রজা। কলকাতায় কিছুকাল কাটিয়ে ওয়াটসন বুঝেছিলেন আজব এই শহরের মানুষগুলোর ভালোবাসার ঢেউ ইংরেজদের অনুকূলে বাড়াবাড়ি রকমের বেশি।
সে সময় রাজা-প্রজা, সাহেব-নেটিভ বিভাজনটা তত প্রকট হয়ে ওঠেনি ইংরেজ ও এদেশি লোকেদের মধ্যে। ভাবীকালের গর্ভে কী লেখা রয়েছে তা কেউ জানত না। ইংরেজরাও জানত না যে আগামী প্রায় দুশো বছর তারা শাসন করবে এই দেশকে। দিশি লোকেদের কাছে তখনও ইংরেজরা নিছকই একদল বণিক। যাদের কারবারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দিশি মানুষদের রুজি-রোজগারের ওতপ্রোত সম্পর্ক।
কেল্লাঘাটের দিকে যত এগোতে লাগল জাহাজ তত যেন উচ্ছ্বাস বাড়তে লাগল নদীর পাড়ে জমায়েত লোকেদের। শুধু অগণিত কালো কালো মাথা।
সূর্য তখন অস্ত গিয়েছে। পশ্চিমাকাশে নানা রঙের খেলা। দিনের আলো ফুরোতে অবশ্য এখনও বেশ কিছুটা দেরি আছে। কেল্লার ঘাটে এসে ভিড়ল ওয়াটসনের জাহাজ। তার পিছনে তখন একে একে পাড়ে ভিড়ছে লুঠের মালে বোঝাই নৌকোগুলো। ভাগীরথীর ধারা বেয়ে সুতানুটির ঘাটে এসে ভিড়ছে মুর্শিদাবাদের দৌলত। এ যেন এক অলীক স্বপ্ন। এও কী সম্ভব? এই অত্যাশ্চর্য দৃশ্য চাক্ষুস করার জন্য মেলা হুড়োহুড়ি ঠেলাঠেলি ঘাটে। হাজির সুতানুটি-গোবিন্দপুর-কলকাতার বিত্তবান মানুষেরাও। ভিড় ঠেলে ঘাটের কাছে পৌঁছতে খাবি খাচ্ছেন গোবিন্দরাম মিত্তির, লক্ষ্মী ধর, শোভারাম বসাক, নয়নচাঁদ মল্লিক, শুকদেব মল্লিক, নীলমণি মিত্র ও আরও অনেকে।
হঠাৎ ওয়াটসনের মাথাটা কেমন যেন চক্কর দিয়ে উঠল। চোখে অন্ধকার দেখলেন। হাত থেকে ডেকের কাঠের পাটাতনের উপরে ছিটকে পড়ল বিয়ারের মগ। মাটিতে টলে পড়ে যাচ্ছিলেন অ্যাডমিরাল। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ক্যাপটেন ওয়েলার জাপটে ধরে ফেললেন তাঁকে।
ওয়েলার দেখলেন অ্যাডমিরাল গায়ে ধুম জ্বর। তিনি বেহুঁশ হয়ে গিয়েছেন।
.
