অভিশপ্ত নগরী – ৩

তিন

ক্ষিপ্তের মত আর্তনাদ করে উঠলেন যেরেমিয়া, না, না, এ হয় না, এ হয় না অহিকম। এ আমি পারব না, কিছুতেই পারব না, এ অসম্ভব।

: কি অসম্ভব? কি তুমি পারবে না যেরেমিয়া? বাইরের দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে অহিকম যেরেমিয়ার মুখোমুখি দাঁড়ালেন।

: এ ভাবে কুকুরের মত পালিয়ে থাকতে পারব না আমি। ঐ-যে ভোর হয়েছে, সূর্য উঠছে। আমাকে বাইরে যেতেই হবে। ওই-যে, ওই-যে, দেখছ না তুমি? প্রভু-যে আমাকে ডাকছেন।

যেরেমিয়া বিস্ফারিত দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে রইলেন, যেন চোখের সামনে কাকে দেখছেন। তাঁর স্থির অপলক চোখের দিকে তাকিয়ে অহিকম শিউরে উঠলেন। অস্পষ্টভাবে অনুভব করলেন যেন কার অদৃশ্য উপস্থিতি ঘরটিকে পূর্ণ করে রেখেছে।

যেরেমিয়া শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে আপন মনেই বলে চললেন, প্রভু, তোমার চোখে অসন্তোষের কুঞ্চনরেখা দেখতে পাচ্ছি। আমি তোমার কথার অবাধ্য হয়েছি, তাই কি তুমি আমার দিকে অমন করে তাকিয়ে আছ? আহা, কি বলছ? –

: “যখন তোমাকে তোমার মায়ের গর্ভে ভ্রূণরূপে সৃষ্টি করে তুলি নি, তখনও তোমাকে আমি জানতাম যেরেমিয়া। যখন তুমি মায়ের গর্ভ থেকে বাইরে বেরিয়ে আস নি, তখনই আমি তোমাকে শুদ্ধিদান করেছিলাম আর তারই সাথে সাথে নবীর পবিত্র দায়িত্ব অর্পণ করেছিলাম। তুমি তার কি করছ?’

: হে প্রভু, ইসরায়েলের ঈশ্বর, দেখ, আমার দিকে চেয়ে দেখ, আমি-যে কথা বলতে পারি না। আমার কথা তো ওরা কেউ শোনে না। আমি-যে শিশু—

: আমি শিশু, এ কথা বোলো না। ও কথা আমি শুনতে চাই না। আমি তোমাকে যেখানে পাঠাব, তুমি সেখানেই যাবে। আমি তোমাকে যে-কথা বলতে বলব, তুমি সেই কথাই বলবে। আমি তোমার সঙ্গে আছি, আমি চিরদিন তোমার সঙ্গে থাকব। তবে আর তোমার ভয় কিসের? চলো, অনেক অনেক তোমার কাজ। বসে থাকবার সময় নেই।’

যেরেমিয়া যন্ত্রচালিতের মত দুয়ারের দিকে এগিয়ে চললেন। অহিকম তাঁকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বললেন, যেরেমিয়া! যেরেমিয়া! যেরেমিয়া চমকে উঠলেন। কে, কে, কে তুমি? ও অহিকম, তুমি? অমন করে আমায় ধরে আছ কেন অহিকম তুমি? আমি কি অসুস্থ?

: হ্যাঁ, তুমি অসুস্থ। তুমি শয্যায় শুয়ে থাকবে। উঠতে পারবে না। যেরেমিয়া, তুমি তোমার প্রতিশ্রুতির কথা ভুলে যেও না।

: কিসের প্রতিশ্রুতি অহিকম?

: তিন দিন তুমি বাইরে বেরোতে পারবে না। তিন দিন আমার নির্দেশমত তোমায় চলতে হবে। তিন দিনের দু’দিন বাকী আছে। যেরেমিয়া, আর মাত্র দুটি দিন।

: হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি প্রতিশ্রুত। তাই বটে আমি প্রতিশ্রুত। কিন্তু কেন অহিকন, কেন আর এ সব?

: প্রাসাদ আর মন্দিরের রক্ত-শোকা কুকুরগুলো তোমার খোঁজে পাগল হয়ে উঠেছে। এখন বাইরে বেরোলে মৃত্যু তোমার অবধারিত।

: মূর্খ, তুমি কি মৃত্যুকে ঠেকাতে পার? তুমি কি আমার জীবনের মালিক?

: না, তা নই, আমি সামান্য মানুষ। তুমি জ্বলন্ত আগুনের মধ্যে ঝাঁপ দিতে চলেছ। আমি তোমাকে তা করতে দেব না।

: অহিকম, শেষবারের মত বল আমাকে কি থাকতেই হবে?

: হ্যাঁ, তোমাকে থাকতেই হবে। যেরেমিয়া, তোমার নিজের জন্য নাই হোক, আমাকে দয়া করবার জন্য তুমি থাক। শুধু দুটি দিন আমাকে চেষ্টা করতে দাও।

: তবে এক কাজ কর অহিকম। আমাকে তুমি বেঁধে রাখো, হাতে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখো। আমার উপরে আমার কোনই হাত নেই। আমি তো আমার মালিক নই।

: হ্যাঁ, সেই কথাই ঠিক। আমাকে তাই করতে হবে। আমি তোমাকে বেঁধেই রাখব। জিল্লা! জিল্লা! অহিকমের স্ত্রী জিল্লা তার ডাকাডাকি শুনে ভেতরের দরজা খুলে ঘরের মধ্যে এসে ঢুকলো।

: কি গো, অত হাঁকডাক কিসের জন্য? আমি-যে এদিকে গোলায় ফসল তুলতে ব্যস্ত। ক্ষেত থেকে বোঝায় বোঝায় গম আসছে, যব আসছে, দেখছ না সেগুলোকে গোলাজাত করতে দস্তুরমত ঘেমে উঠেছি। এখনই আবার আঙুরগুলোর রস নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। সামনে আসছে নবান্ন উৎসব, কত কাজ জমে আছে হাতে। এখন কি আর তোমার সঙ্গে কথা বলবার সময় আছে আমার!

: আহা, তোমারই বা এত খাটুনির দরকার কি? এতগুলো দাস-দাসী তবে রয়েছে কিসের জন্য?

: হুঁ, তোমার যেমন কথা। দাস-দাসীদের দিয়েই সব কাজ চলে কিনা। তুমি একজন লোকপ্রধান, রাতদিন বাইরে বাইরে মোড়লী করে বেড়াও, এসব ঘর সংসারের কথা তুমি বুঝবে কি? কিন্তু সে কথা যাক, এখন বল তুমি আমাকে ডেকেছ কেন?

: তুমি বাড়ির গৃহিণী, আসল কথাই তো তোমাকে বলা হয় নি। এই এদিকে চেয়ে দেখ, এই-যে আমাদের মাননীয় অতিথি। এঁর আদর আপ্যায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের সমস্ত ভার তোমাকেই নিতে হবে। ফসল তোলার কাজ আপাতত দাস-দাসীদের হাতে ছেড়ে দাও। আমার এই বন্ধুটিকে এই দুই দিনের জন্য তোমার হাতে ছেড়ে দিলাম। খুব সাবধানে এঁকে রক্ষা করতে হবে।

অতিথির দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলেন জিল্লা। এতক্ষণ তিনি তাকে দেখতে পান নি। এ কি স্বপ্ন? তাঁর সামনে এ কে দাঁড়িয়ে আছে! আপনার অজান্তে তাঁর মুখ থেকে বেরিয়ে গেল-যেরেমিয়া-হিলফিয়ার পুত্র যেরেমিয়া।

: তুমি চেন? তুমি চেন এঁকে? আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন অহিকম। জিল্লা ততক্ষণে বিস্ময়ের প্রথম ধাক্কাটা কাটিয়ে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পেরেছেন।

: কি, মাননীয় অতিথি, বলুন, আমি কি আপনাকে চিনি না, আমি কি আপনাকে চিনি না?

অহিকম যেরেমিয়ার মুখের দিকে তাকালেন। যেরেমিয়ার মুখ যেন পাথরের মতই কঠিন। চাঞ্চল্যের সামান্য রেখাটুকুও সেখানে দেখা গেল না।

: তুমি এঁকে চিনলে কি করে জিল্লা? অহিকম আবার প্রশ্ন করলেন।

: বারে দেশশুদ্ধ লোক যাকে চেনে সেই নবী যেরেমিয়াকে চেনাটা কি এতই অস্বাভাবিক? তাছাড়া আমি-যে বিন্নামিন প্রদেশের এ্যানাথোয়ের মেয়ে, নবী যেরেমিয়ার একই গ্রামের অধিবাসিনী।

: বাঃ, তাহলে তো ভালই। কিন্তু তোমরা দুজনে-যে পরস্পর পরিচিত, যেরেমিয়ার মুখ দেখে এ কথা কিন্তু একেবারেই বোঝবার উপায় নেই। এই যেরেমিয়া, বর্বর কোথাকার, তোমার বন্ধুপত্নীর মুখখানি এমন কুৎসিত কিছু নয় যে, সে ঘরে ঢুকবার সঙ্গে সঙ্গেই জানালা দিয়ে বাইরে প্রকৃতির দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

যেরেমিয়া যেমন ছিলেন, তেমনিই বাইরের দিকে চেয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। এই কথার পরেও তাঁর কোন পরিবর্তন দেখা গেল না। অহিকম এবার হো হো করে হেসে উঠলেন

: ও বুঝেছি, বুঝেছি এইবার। নবীর দৃষ্টিতে নারী তো পাপের দ্বার, ভীতিপ্রদ বস্তু।

জিল্লার মুখে কৌতুকের মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল।

: ওঃ তাইতো, নারী পাপের দ্বার, মনেই ছিল না যে। প্রিয় আদম, তুমিও তো ভয় কর তোমার এই প্রলোভনময়ী ইভকে, কর না? অহিকম হেসে উঠলেন।

: আমি? আমি করব ভয়? আমি নিজেই তো পাপের কীট, জিল্লা, পাপের দ্বারে আমার আর ভয় কি? কিন্তু যেরেমিয়া, তুমি কি একটি কথাও বলবে না? তোমার ওই মুখের জিহ্বার উপর এমন করে পাথর বেঁধে দিল কে? জিল্লা কৌতূহলের দৃষ্টিতে যেরেমিয়ার মুখের দিকে একটু তাকিয়ে থেকে শেষে বললেন, আঃ অমন করে জোর করে কথা বলানো যায়? আমার উপর ভার ছেড়ে দিয়ে তুমি নিশ্চিত্ত হয়ে থাকো। আমি ওঁকে কথা বলাব।

: তা তুমি পারবে। তোমার অসাধ্য কিছুই নেই। যাদুকরী, তুমি বোবাকে কথা বলাতে পার।

: তার প্রমাণ?

: সখী, তার প্রমাণ আমি নিজেই।

: লোকপ্রধান, কথার গুণেই তুমি লোকের মন জয় করতে পার। আচ্ছা, এ কথা এখন থাক। এর নিষ্পত্তি পরেও করা চলবে। এখন মাননীয় অতিথির কথাই হোক। তুমি তাঁর আদর আপ্যায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলছ। সব কথাই বুঝলাম। কিন্তু ‘খুব সাবধানে এঁকে রক্ষা করে চলতে হবে’ তোমার এই কথাটা যেন কেমন শোনাচ্ছে। কার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে এঁকে? নবী তো শিশু নন।

: শিশুর চেয়েও সাবধানে ও সন্তর্পণে তাঁকে রক্ষা করে চলতে হবে। তুমি তো জান না, মাননীয় অতিথির মাথার উপর মৃত্যুদণ্ড ঝুলছে। শিকারী কুকুরগুলো তাঁর সন্ধানে সমস্ত নগর তোলপাড় করে বেড়াচ্ছে।

: মৃত্যুদণ্ড? তুমি বলছ কি?

: হ্যাঁ, মৃত্যুদণ্ড।

: কেন?

: সে অনেক কথা। এখন থাক। আপাতত দাস-দাসীদের চোখ এড়িয়ে তুমি এঁকে আমাদের মাটির তলার গোপন কক্ষে নিয়ে যাও। আজ আর কাল, এই দুটি দিন দিবারাত্র সেই ঘরের দরজা তালাবন্ধ করে রাখবে।

: তালাবন্ধ! কেন, তালাবন্ধ কেন?

: যেরেমিয়াকে আমি বিশ্বাস করি না। সে উন্মাদ, দেখ না, এখনই রাজপথে বেরিয়ে পড়তে চাইছে। কিন্তু সে আমার কাছে প্রতিশ্রুত এই দুটি দিন তাকে আমার নির্দেশ মত চলতে হবে। কিন্তু যেরেমিয়া, যে নিজেকে নিজে বিশ্বাস করতে পারে না। সে বলছে, আমায় বেঁধে রাখো।

: সে যদি নাই থাকতে চায়, তুমি কি তাকে ধরে রাখতে পারবে? সে তো মানুষ নয়, সে তো স্নেহ প্রীতি ভালবাসার মর্যাদা রাখতে জানে না। সে-যে যিহোবার মতই নিৰ্মম।

অহিকম সচকিত হয়ে জিল্লার মুখের দিকে তাকালেন। একটু সময় স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে শেষে বললেন, তুমি তাকে এমন করেই চিনেছ? কিন্তু না, যে যাই বলুক, এই দুটি দিন তাকে এখানে থাকতেই হবে। যেরেমিয়া, বন্ধু, শুনে রাখো তোমার প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্য প্রয়োজন হলে আমাকে বল প্রয়োগও করতে হবে। এই দুটি দিন অহিকমের অগ্নিপরীক্ষার দিন।

: যাও জিল্লা, এঁকে নিয়ে যাও, এক মুহূর্ত দেরী নয়। আমার কাছে এখনই হয়তো অনেক লোক আসবে।’

জিল্লা যেরেমিয়াকে উদ্দেশ্য করে বললেন, চলুন, মাননীয় অতিথি। স্বেচ্ছাবন্দী, চলুন আপনার কারাগারে। আসুন আমার সঙ্গে। আজ আমাকে আপনার কোন ভয় নেই। আজ আমি আপনার প্রহরী, আপনার রক্ষক।

যেরেমিয়া একটি কথাও না বলে জিল্লাকে অনুসরণ করে চললেন। সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে অবশেষে তাঁরা সেই পাতাল ঘরের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়ালেন। বাইরে পৃথিবী তখন সূর্যের আলোয় উজ্জ্বল, পাতাল ঘরে আবছা অন্ধকার অতীতের স্মৃতি তাও যেন এই রকমই আলোয় আঁধারে ধূসর। জিল্লা বাতি জ্বালালেন। পরিপাটি করে শয্যা বিছিয়ে দিলেন।

: প্রিয় অতিথি, আসন গ্রহণ কর।

বাধ্য বালকের মত যেরেমিয়া বিনা বাক্যব্যয়ে বসে পড়লেন।

: এবার মুখ খোল যেরেমিয়া। বল, তুমি কি আমাকে সত্যি চিনতে পার নি? যেরেমিয়া উত্তর দিলেন, পেরেছি।

: আমার ভাগ্য তোমাকে আমার কাছে টেনে এনেছে। বল, তুমি খুশী হয়েছ? উত্তর নেই।

: বল যেরেমিয়া।

: না।

: না? এই তোমার উত্তর? বেশ, তোমার সত্যভাষণের জন্য ধন্যবাদ, তোমার রূঢ়তার জন্য ধন্যবাদ, তোমার কঠিনচিত্ততার জন্য ধন্যবাদ! কিন্তু হে সত্যবাদী, হে পবিত্র আত্মা, আমার বহুদিনের একটি প্রশ্ন, আমি আজ তার সত্য উত্তর চাই। বল, আমি কি কোন দিন একটি মুহূর্তের জন্যও তোমার মনে কোন দাগ কাটতে পারি নি?

: কেন এই অসঙ্গত কৌতূহল জিল্লা? অহিকমকে পেয়ে আজ তুমি পূর্ণ ও সার্থক হয়ে উঠেছ। দূর অতীতের এক গলিত শবদেহকে কবর থেকে খুঁড়ে তুলে কেন তোমার আনন্দময় সুন্দর জীবনকে আবিল করে তুলতে চাইছ?

: তুমি ভয় পেয়ো না, মিথ্যে ভয় পেয়ো না যেরেমিয়া। আমি যিরূশালেমের সম্মানিত লোকপ্রধান অহিকমের স্ত্রী, তাঁর সন্তানের জননী। আর তুমি তাঁর মাননীয় অতিথি। আমি জানি কি করে আমার মর্যাদা রক্ষা করে চলতে হয়। আমি সেদিনকার সেই সপ্তদশী জিন্না নই, যে তার জীবনের এক বসন্ত রাত্রিতে তোমার এই দুটি পা তার বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে তাদের চোখের জলে ধুইয়ে দিয়েছিল, আর তুমি সেদিন তাকে প্রত্যাখ্যান করেছিল…

: আঃ জিল্লা, থাম থাম।

: আমাকে বলতে দাও যেরেমিয়া। যিহোবা এতদিন বাদে আজ আমাকে বলবার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু তোমার সেদিনকার সেই প্রত্যাখ্যানের মধ্যেও এমন একটি সুকোমল মাধুর্য জড়ানো ছিল, যা আমার অঙ্গে অঙ্গে জড়িয়ে রইল। তোমার চোখে সেদিন কি যেন আমি দেখেছিলাম যা তোমার মুখের উক্তিকে মিথ্যা বলে ঘোষণা করেছিল। আর তার পরদিন এ্যানাথোথের অধিবাসীরা জানতে পারল, হিলফিয়ার পুত্র যেরেমিয়া নিরুদ্দেশ। প্রভু তাঁকে তাঁর আপন পথে ডেকে নিয়েছেন। সবাই ধন্য ধন্য করল। জানি না, যিহোবা কেন সেদিন তোমাকে আমার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেলেন। জানি না, কেনই বা আজ এতদিন বাদে তিনি তোমাকে আবার আমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে এলেন।

: ওসব কথা ভুলে যাও, ভুলে যাও জিল্লা।

: এমন ভয় পাও কেন যেরেমিয়া? আমি আর কিছু নয়; শুধু তোমার মুখ থেকে এই কথাটুকুই জানতে চাই, সেদিন তোমার চোখে যা দেখেছিলাম, সে কি সবই ভুল, সবই মিথ্যে?

: আমাকে মেরে ফেল, মেরে ফেল তোমরা, আমাকে এমন করে উৎপীড়ন কোরো না।

: যেরেমিয়া, প্রিয় অতিথি আমার, তুমি দু’দিনের জন্য এসেছ। দু’দিন বাদেই চলে যাবে। তোমার কাছে আমি আর কিছুই চাই না। কিছুই চাইব না। শুধু এই কথাটুকুর উত্তর তুমি দাও।

: সে কথা জেনে তোমার কি হবে?

: কি হবে? যিহোবার প্রসাদ-বলে আমি তাকে মাথা পেতে গ্রহণ করব। সুখে- দুঃখে, আনন্দে নিরানন্দে সে চিরদিন আমার চলার সাথী হয়ে থাকবে। এই মাত্র। আর কিছু নয়।

এবার যেরেমিয়া আর্তকণ্ঠে বলে উঠলেন, শুনবেই তুমি? শুনবেই? তবে শোন। তুমি সেদিন যা দেখেছিলে, তা ভুল দেখ নি। তুমি যাও, যাও জিল্লা। দরজা বন্ধ করে দাও; তালা বন্ধ করে দাও, তুমি যাও, সরে যাও জিল্লা! হে প্ৰভু, এই সংকটে তুমি আমায় ছেড়ে চলে যেও না। সহায় হও প্রভু, তুমি আমার সহায় হও।

: ভয় নেই যেরেমিয়া, ভয় কি? আমাকে তুমি ভয় করবে কেন? আজ আমি তোমার প্রহরী, আমি-যে তোমার রক্ষক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *