অভিশপ্ত নগরী – ২০

কুড়ি

রাজা যেদেকিয়ার রাজত্বের একাদশ বর্ষের চতুর্থ মাসের নবম দিবসে প্রভুর নগরী যিরূশালেমের পতন ঘটল

রাজা, অধ্যক্ষগণ ও মন্দির-কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত সবাই একমত হলেন যে, নগরের দ্বার খুলে দেওয়া ছাড়া আর উপায় নেই। নয়তো এ দ্বার আপনি খুলে যাবে, শত বাধা দিয়েও ঠেকিয়ে রাখা যাবে না। মানুষ মরীয়া হয়ে উঠেছে। ক্যালদীয়েরাও খবর পেয়ে গেছে, আত্মসমর্পণের দিন আসন্ন। তাই যেরূশালেমের উচ্চপর্যায়ের অধ্যক্ষগণ সবাই উপস্থিত। সমগর-নেবো, সর সেকিম, নারগেল-কারেজের, রব-সারিস, রবমগ এবং আরও অনেকেই নগরের মধ্যম দ্বারে এসে জমায়েত হয়েছিলেন।

রাজা যেদেকিয়া অন্ধকার রাত্রিতে সদলবলে রাজ্যোদ্যানের পথ দিয়ে এগিয়ে দুই দেয়ালের মাঝখানে যেই দ্বার, সেই দ্বার দিয়ে চুপি চুপি বেরিয়ে পড়লেন। তারপর বরাবর প্রান্তরের মধ্য দিয়ে তাঁরা ছুটে চললেন। কিন্তু যত সতর্কতার সঙ্গেই করুন না কেন, অবরোধকারীদের দৃষ্টি এড়াতে পারেন নি। শিকারী কুকুরের মত তারা পেছন পেছন ধাওয়া করল। রাজা যেদেকিয়া আর তাঁর দলবল যেরিকোতে গিয়ে তাদের হাতে ধরা পড়লেন।

বাবিলরাজ নেবুকাডনাজার তখন হ্যামার্থ দেশের রিবলাহতে ছিলেন। সমস্ত বন্দীদের শৃঙ্খলিত করে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হল। বাবিলরাজের আদেশে রাজা যেদেকিয়ার চোখের সামনেই তাঁদের পুত্রদের হত্যা করা হল। কিন্তু অত সহজ মৃত্যু রাজা যেদেকিয়ার অদৃষ্টে ছিল না। নেবুকাডনাজার তাঁর দুই চোখ তুলে ফেলবার আদেশ দিলেন। তারপর তারা সেই দৃষ্টিশক্তিহীন হতভাগ্যকে নিয়ে বাবিলের পথে যাত্রা করল।

আর এদিকে বাকী ক্যালদীয় সৈন্যরা সেই খোলা দরজা দিয়ে ঢুকে পড়ে সমস্ত নগরে পঙ্গপালের মত ঝাঁপিয়ে পড়ল। তারা প্রথমেই মন্দির, রাজপ্রাসাদ ও ধনীদের ভবনগুলো লুটপাট করে একেবারে ঝাঁঝরা করে ফেলল। তারপর যিরূশালেমের বুক থেকে ইহুদীদের নাম নিশানা মুছে ফেলবার জন্য তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে সব ছাই করল। মন্দির গেল, রাজপ্রাসাদ গেল, সব গেল। নগরের প্রাচীর ভেঙ্গেচুরে মিশমার করে দিয়ে তবে তারা ক্ষান্ত হল।

তারপর নগরবাসীরা পশুর মত বাবিলে চালান যেতে লাগল। নিতান্ত নিঃস্ব, নিঃসম্বল ও নগণ্য যারা তারাই শুধু বাকী রইল। বিজেতারা অবজ্ঞা করে তাদের ফেলেই চলে গেল। শ্রীহীন এই মানুষগুলো কোনমতে মাটি কামড়ে পড়ে রইল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *