অভিশপ্ত নগরী – ১০

দশ

এর পরের ঘটনাগুলো অত্যন্ত দ্রুত ঘটে গেল। যেদিন সন্ধ্যার সময় রাজা যিহোয়াকীম মন্দিরে প্রবেশ করেছিলেন, তার পরদিনই নিশীথ রাত্রিতে ক্যালদীয়েরা নগরে প্রবেশ করল। কেউ বলল, ওরা প্রহরীদের অসতর্কতার সুযোগে প্রাচীর টপকে ঢুকে পড়েছিল। আবার কেউ বলল, ভেতর থেকে দরজা খুলে ওদের ডেকে আনা হয়েছে। একটা জিনিস সবাই লক্ষ করল ক্যালদীয়েরা যা যা করবার স্বচ্ছন্দে করে গেল, বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ তারা পায় নি 1 যিরূশালেমের সৈন্যরা নিরপেক্ষ দর্শকের মতই বসে বসে দেখল।

ক্যালদীয়দের ব্যবহারটাও আশাতীতরূপ ভদ্র দেখা গেল। তারা রাজপ্রাসাদ, মন্দির আর ধনী নাগরিকদের ঘর-বাড়ি লুণ্ঠন করে স্বর্ণ, রৌপ্য আর তামা প্রচুর পরিমাণেই আত্মসাৎ করল। মন্দিরের বহু স্বর্ণপাত্র ও রৌপ্যপাত্র বাবিলের দেবতার মন্দিরে পাঠিয়ে দেওয়া হোল। আর সেই সঙ্গে রাজা যিহোয়াকীমকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে তাদের সঙ্গে নিয়ে গেল।

বাবিলরাজ নেবুকাডনাজারের আদেশে রাজা যিহোয়াকীমের তরুণ পুত্র যিহোইয়াকানকে রাজপদে অভিষিক্ত করা হল।

কলঙ্কী রাজা যিহোয়াকীমের এই দুর্ভাগ্যে দুঃখ করবার মত লোক খুব কমই ছিল। নগরবাসীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল।

স্বর্ণময়ী সুন্দরী যিরূশালেমকে একবার ধর্ষণ করেই বাবিলরাজ নেবুকাডনাজারে স্বর্ণ-কামনার পরিতৃপ্তি হয় নি। তার শেষ মধুটুকু নিঃশেষ করে না নেওয়া পর্যন্ত তার সর্বগ্রাসী তৃষ্ণার নিবৃত্তি নেই।

প্রাচীন রাজবংশমালায় লেখা আছে, রাজা যিহোয়াকীমের রাজত্বের অষ্টম বর্ষে বাবিলের লুব্ধ পঙ্গপালগুলো যিরূশালেমের সোনার ফসলের উপর আবার এসে নামল। তরুণ রাজা যিহোইয়াকীন তাঁর সাধ্যমত বাধা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রবল বন্যার মুখে তাঁর সেই প্রতিরোধের বাঁধ কোথায় ভেসে গেল! বাবিলরাজ নেবুকাডনাজারের লুণ্ঠনরত দক্ষিণ হস্তকে বাধা দিয়ে ঠেকিয়ে রাখতে পারে এমন শক্তিধর কে? রাজপ্রাসাদের স্বর্ণ, রৌপ্য, মণি-মাণিক্য আর মহার্ঘ বিলাসোপকরণ সব কিছুই লুণ্ঠিত হোল। প্রভুর মন্দিরের যুগযুগসঞ্চিত বিপুল সম্পদ ভারবাহী বন্দীদের পিঠে চাপিয়ে বাবিলে চালান দেওয়া হতে লাগল। ভারে ভারে পবিত্র স্বর্ণপাত্র ও রৌপ্যপাত্র অসহায় ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের অশ্রুসজল চোখের সুমুখ দিয়ে চলে যেতে লাগল।

শুধু কি তাই? রাজা যিহোইয়াকীন, তাঁর মা নেহুশতা, তাঁর পত্নীগণ, কুলপতিগণ আর নগরের যোদ্ধাগণকে বন্দী করে বাবিলে পাঠানো হল। রজ্জুবদ্ধ পশুর মত হাজার হাজার বন্দী পায়ের শিকল টানতে টানতে তাদের পেছনে পেছনে চলল। তাদের মধ্যে ছিল অস্ত্রধারণক্ষম সাত হাজার পুরুষ আর এক হাজার কারিগর ও কর্মকার।

অভিজাত পরিবারের বাছা বাছা সুন্দরী মেয়েদের সঙ্গে করে নিয়ে গেল ওরা। যে-মেয়েরা কখনও পায়ে হেঁটে পথ চলে নি, তাদের অনাবৃত সুকোমল মুখমণ্ডল প্রখর সূর্যের তাপে ফুলের মতই শুকিয়ে উঠল। ভয়ার্ত হরিণীর মতই ওরা কাঁপছিল আর ব্যাকুল চোখে চারদিকে চাইছিল। ওরা চলতে পারছিল না, বারেবারেই হোঁচট খেয়ে পড়ছিল।

দুর্ভাগা নগরী শ্রীহীন বিধবার মূর্তি ধারণ করল। আর সেই ধর্ষিতা, লুণ্ঠিতা নগরীতে রাজপদে বসানো হোল রাজা যিহোইয়াকীনের পিতৃব্য মেতানিয়াকে। বাবিলরাজের প্রতি আনুগত্যের মুদ্রাঙ্কন স্বরূপ তাঁর পৈত্রিক নাম ‘মেতানিয়া’ অপসারণ করে তারা তাঁর নাম দিল যেদেকিয়া।

বছরের পর বছর ঘুরে চলে, শুকনো পাতা ঝরে গিয়ে আবার নতুন কিশলয় দেখা দেয়। পুরাতন ক্ষত একটু একটু করে সেরে আসতে থাকে ন্যুব্জপৃষ্ঠ মানুষগুলো আবার তাদের শিরদাঁড়া সোজা করে উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। বাবিলরাজের গুরুভার যোয়ালের চাপ অসহ্য হয়ে উঠছে। বার্ষিক একশত তালেও রৌপ্য আর এক তালেও স্বর্ণের করভারের দুর্বহ বোঝা থেকে মুক্তি পাবার জন্য য়িহুদীরা ছটফট করে মরে। কিন্তু উদ্ধারের পথ কি? কে না জানে শক্তিপ্রমত্ত বাবিলের বিরুদ্ধে রিহুদীদের দুর্বল প্রতিরোধ তৃণের মতই ভেসে যাবে। মুক্তির কি কোনই পথ নেই? মন্দির কর্তৃপক্ষ ও অধ্যক্ষদের প্ররোচনায় রাজা যেদেকিয়া গোপনে মিসর-রাজের সঙ্গে দূত চলাচল শুরু করলেন। সেই পুরাতন ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। একদিকে বাবিল আর একদিকে মিসর, মাঝখানে তাদের হাতের ক্রীড়নক হতভাগ্য য়িহুদী জাতি।

কিন্তু লোকপ্রধানদের মধ্যে মতবৈষম্য দেখা দেয়। কয়েকজন মিসরের কাছ থেকে আশ্বাস পেয়ে নতুন পথে পা বাড়াতে যায়। কিন্তু অধিকাংশ স্থিতাবস্থা রক্ষা করে চলবার পক্ষপাতী। একবার তাঁরা আগুনে হাত দিয়ে দেখেছেন তার কি জ্বালা। সে কি তাঁরা এরই মধ্যে ভুলে গেছেন? রাজা যিহোইয়াকীনের পতনের সময়কার মর্মান্তিক ইতিহাস তো এত অল্প দিনের মধ্যেই ভুলে যাওয়ার কথা নয়। সেই দুর্দিনে মিসর কোথায় ছিল? ঘন ঘন আবেদন পাঠাবার পরেও মিসর চোখ কান বুজে অসাড় হয়ে রইল। মিসর তো আলেয়ার আলো, সে শুধু সর্বনাশের পথেই টেনে নিয়ে যেতে পারে।

নবী যেরেমিয়ার সতর্কতার বাণী ঘোষিত হয়ে চলেছে। তাঁর কণ্ঠের বিরাম নেই। প্রভু বলছেন-”শোন আমার মূঢ় সন্তানগণ, অসম্ভবের আশায় হাত বাড়িও না। আমি যা ইচ্ছা করব, তাই ঘটবে। আমার আদেশ ছাড়া গাছের পাতাটিও বৃত্ত থেকে খসে পড়তে পারে না, সে কি তোমরা জান না? তোমাদের পাপের জন্য আমি যে-দণ্ড বিধান করেছি, তা থেকে অব্যাহতি লাভের কোনই পথ নেই। বাবিলরাজের এই কষ্টকর যোয়াল তোমাদের দীর্ঘদিন বহন করে চলতে হবে। যেদিন আমি তোমাদের মুক্তি দেব, দিনই তোমরা মুক্ত হবে। তার আগে নয়।

‘—কোন্ মিথ্যা আশার মরীচিকায় ভুলে তোমরা আজ মিসর রাজ্যের পদচুম্বন করতে চলেছ? বরঞ্চ বিষাক্ত সাপকে বিশ্বাস কর, কিন্তু ফেরাউনকে বিশ্বাস কোরো না। অত্যাচারী ফেরাউনের বজ্র বাঁধন থেকেই একদিন আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের মুক্ত করে এনেছিলাম, তোমাদের শাস্ত্রগ্রন্থে সে কথা কি তোমরা পড় নি? অবশেষে বহু মরু পর্বত অরণ্য অতিক্রম করে যে তোমাদের এই দুগ্ধ ও মধুর দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, সে কি আমি নই? আঃ অকৃতজ্ঞ সন্তানগণ, সে কথা কি তোমরা ভুলে গিয়েছ? এত দুঃখ দুর্ভোগের পরেও আজও কি তোমরা বুঝতে পার না যে, আমার ইচ্ছা ছাড়া তোমরা এক পাও চলতে পার না। আরও কি তোমরা দেখতে পারছ না মিসর কণ্টকতরু-সদৃশ, তাকে আলিঙ্গন করতে গেলে তার কাঁটা তোমার বুকে বিঁধে বসবে?…’

লোবপ্রধানদের অধিকাংশই এই মতের পোষকতা করে আসছিলেন। কিন্তু মন্দির-কর্তৃপক্ষ ও অধ্যক্ষেরা মিসরের সাহায্য নিয়ে বাবিলের প্রতি আনুগত্য অস্বীকারের পক্ষপাতী। মন্দিরের যিহোবা মিসরের দিকে, আর যেরেমিয়ার যিহোবা বাবিলের দিকে। যিরূশালেমের ভেতরে এই দুই শক্তির শক্তি পরীক্ষা চলেছে। ওদিকে বাবিলে যেই হাজার হাজার য়িহুদী নির্বাসিত জীবন যাপন করছিল, তাদের মধ্যেও অসন্তোষ ও বিক্ষোভ ধূমায়িত হয়ে উঠছিল। স্বদেশে ফিরে আসবার জন্য ওদের মন হাহাকার করে মরছিল। কবে আসবে সেই সুদিন, যেদিন তারা মুক্ত হয়ে দলে দলে স্বাধীন যিরূশালেমে ফিরে আসবে! মাতৃভূমি থেকে বহুদূরে বিচ্ছিন্ন হয়ে এক কঠিন প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে অত্যাচার ও লাঞ্ছনাময় জীবন যাপন করতে করতে হতভাগ্যের দল এই স্বপ্নই শুধু দেখছিল।

বাবিলে নির্বাসিত য়িহুদীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সঞ্চার হয়েছে এবং তারা যে-কোন সময় সেখানে একটা বিদ্রোহ ঘটিয়ে বসতে পারে, এ রকম জনশ্রুতি মাঝে মাঝেই শোনা যাচ্ছিল। যিরূশালেম থেকে এই ব্যাপারে উৎসাহ দেবার লোকের অভাব ছিল না। যেরেমিয়া ও তাঁর সমমতাবলম্বীগণ বাবিলের এই সংবাদ পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলেন। যে-ভাবেই হোক এই বিপদকে ঠেকাতেই হবে। বাবিলে এই ধরনের কোন কিছু যদি সত্য সত্যই ঘটে, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া-যে শুধু বাবিলেই ঘটবে তা নয়, তার প্রতিহিংসায় যিরূশালেমের অস্থি পর্যন্ত ওরা চূর্ণ চূর্ণ করে দেবে। তখন তাঁরা যেরেমিয়ার স্বাক্ষরিত এক লিপিত শাফোনের পুত্র এলাসাহ এবং হিলফিয়ার পুত্র গেমারিয়ার মারফৎ বাবিলের য়িহুদীদের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। নিম্নোক্ত এই লিপি নির্বাসিত প্রাচীন বর্গ, যাজকগণ, নবীগণ ও সাধারণ রিহুদীদের উদ্দেশে লিখিত হয়েছিল:

“ভ্রাতৃমণ্ডলী, ইসরায়েলের প্রভু আপনাদের সম্বোধন করে ডেকে বলছেন—”হে আমার নির্বাসিত সন্তানগণ, তোমরা তোমাদের এই নতুন আবাসভূমিতে গৃহ নির্মাণ করে শান্তিতে বসবাস কর। তোমরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে তরুলতা রোপণ কর; আর তাদের ফল ভোজন কর। তোমরা বিবাহ কর আর পুত্রকন্যার জন্ম দাও। আর তোমরা তোমাদের পুত্রদের জন্য বধূ ও কন্যাদের জন্য জামাতা সংগ্রহ কর, যাতে তারাও সৃষ্টির বিধান অনুসারে পুত্রকন্যার জন্ম দিতে পারে। এইভাবে দিনের পর দিন তোমরা সেখানে তোমাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাক। সংখ্যাই শক্তি। সংখ্যার বৃদ্ধিতেই জাতির বৃদ্ধি।

‘তোমরা যেই দেশে বাস করছ, সেখানকার শান্তি তোমাদের কাম্য। তোমাদের পরম প্রভুর কাছে তোমরা সেই দেশের শান্তির জন্য প্রার্থনা কর। কারণ সেই দেশের শান্তিতে তোমাদেরও শান্তি।

‘দীর্ঘদিন তোমাদের সেই দেশেই থাকতে হবে। যতই অধৈর্য হও না কেন, আমার নির্ধারিত কাল খণ্ডন করবার সাধ্য কার আছে? তারপর যখন সময় আসবে, আমি নিজেই তোমাদের কাছে সেই সুসমাচার ঘোষণা করবো। সেদিন আমিই তোমাদের হাত ধরে নিয়ে আসব, যেমন করে আমি তোমাদের পূর্বপুরুষদের ফেরাউনের হাত থেকে মুক্ত করে নিয়ে এসেছিলাম। তোমরা আমাতে নির্ভর রাখ।

‘সেদিন তোমরা আমাকে ফিরে পাবে। আমিও তোমাদের ফিরে পাব। সেদিন আমি নিজ হাতে তোমাদের বন্দীদশা ঘোচাব। ক্রোধ-পরবশ হয়ে আমি তোমাদের স্বদেশ থেকে বিতাড়িত করে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন জাতির মধ্যে বিকীর্ণ করে দিয়েছি। যখন সময় আসবে, আমি আবার তোমাদের এখানে এনে জড় করব, যেমন করে মেষ-পালক তার বিচ্ছিন্ন মেষগুলোকে একত্রে জড় করে।

‘তোমরা যিরূশালেমের কথা শুনে কাঁদছো? কিন্তু এই অবাধ্য নগরীকে তোমাদের চাইতেও অনেক বেশী কাঁদতে হবে। এই যিরূশালেমের বুকে দায়ুদের পরিত্যক্ত সিংহাসনে যেই হতভাগ্য রাজা সমাসীন আছে, আর এই নগরীর অধিবাসী যারা, তাদের ভাগ্যাকাশে ঘোর ঘনঘটা ঘনিয়ে এসেছে। আর দেরী নেই, অচিরেই মৃত্যুর তাণ্ডব শুরু হবে। তাদের জন্য ক্ষমা নেই। আমার অমোঘ বিধান তাদের উপর শাণিত তরবারীর আঘাত হয়ে নেমে আসবে। নেমে আসবে দুর্ভিক্ষ ও মহামারী। আর আমার নির্দয় তাড়নায় বিতাড়িত তারা আশ্রয়ের সন্ধানে দেশে দেশে ঘুরে বেড়াবে। আর পৃথিবীর জাতিবর্গ বিস্ময়ে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকবে, বিদ্রূপ করবে, গায়ে ধুলো দেবে, ব্যঙ্গ করে শিস দেবে আর অভিসম্পাত করবে।

‘কেন? তারা-যে আমার অবাধ্য। তারা-যে আমার কথা শোনে না। আমি প্রতিদিন প্রত্যুষে তাদের শুভবুদ্ধি উন্মেষের জন্য নবীদের আমার বাণী প্রচার করতে পাঠিয়ে দিই, কিন্তু তারা তাঁদের কথা শুনতে চায় না। তারা অবজ্ঞা করে মুখ ফিরিয়ে থাকে।’

এই লিপি যখন বাবিলে গিয়ে পৌঁছল, সেখানকার নির্বাসিত ইহুদীদের মধ্যে প্রবল আলোড়ন শুরু হয়ে গেল। কিছু কিছু লোক বলল : নবী যেরেমিয়ার কথা কোন দিনই মিথ্যা হয় নি। স্বয়ং প্রভু তাঁর মুখ দিয়ে কথা বলেন; একথা মানতেই হবে।

কিন্তু যারা এ কথা বলল, তাদের সংখ্যা নগণ্য। অধিকাংশ লোকই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। যখন তারা তাদের স্বদেশে ফিরে যাবার সোনালী স্বপ্নে ডুবে আছে, তখন এ কি বিপরীত কথা! এমন কথা শুনতে কার ভাল লাগে। তারা ক্রুদ্ধ হয়ে বলাবলি করতে লাগল-মিথ্যাবাদী, ভণ্ড যেরেমিয়া, আমরা তার কোন কথাই শুনতে চাই না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *