উনিশ
অবরোধের কিছু দিন পরে। নপুংসক এবেদমেলেফ রাত্রিবেলা যে-সময় যে- ভাবে এসে থাকে, আজও তেমনি এল। কিন্তু আজ সে একা নয়। তার পেছন পেছন আর একজন লোক এসে ঘরে ঢুকল। এমন তো কখনও হয় না। যেরেমিয়া বিস্মিত দৃষ্টিতে নবাগতের দিকে তাকালেন। বিস্ময়ের আরও কারণ ছিল। নবাগতের মুখের উপর একটা আবরণ, দেখে চিনবার যো নেই। ছদ্মবেশী অবনত মস্তকে যেরেমিয়াকে অভিবাদন জানালেন। মুখের আবরণ উন্মোচন করবার পর কারাপ্রকোষ্ঠের বাতির ক্ষীণ আলোকেও যেরেমিয়া তাঁকে চিনতে পারলেন। বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলেন : রাজা যেদেকিয়া?
: সেই হতভাগ্যই আপনার নিকট উপস্থিত। নবী, আপনার মঙ্গল তো?
: হ্যাঁ, এখনও জীবিত আছি।
: নবী, আমাকে আর লজ্জা দেবেন না, আমি অনুপায়।
: তা, আমি জানি রাজা। আমি কিন্তু মনে মনে আপনার কথাই ভাবছিলাম।
: আমার কথা? তা হলে হয়তো প্রভুই আমাকে পাঠিয়ে দিলেন। বলুন, এই বিপদ থেকে নিস্তারের পথ কি?
: নিস্তার? নিস্তারের কোন পথ নেই। আমি প্রথম থেকেই বলে আসছি না, যিরূশালেমের ধ্বংস অনিবার্য ও পূর্বনির্ধারিত! বাবিলের গ্রাস থেকে কেউ তাকে রক্ষা করতে পারবে না। প্রভুর বিধান অলংঘ্য।
: পিতা সন্তানের অপরাধে ক্রুদ্ধ হন, আবার সেই পিতাই কি তার কাতর ক্রন্দনে বিগলিত হয়ে তাকে মার্জনা করেন না? আপনি বলুন, আমরা কি করে তাঁর প্রসন্নতা লাভ করতে পারব।
: না, য়িহুদীর সীমাহীন অপরাধের মার্জনা নেই। রাজা, পরিণামকে যদি আরও ভয়াবহ করে তুলতে না চান, তা হলে আমি বলছি, এখনও বাবিলের কাছে আত্মসমর্পণ করুন। এখনও যদি আত্মসমর্পণ করেন, হয়তো নাগরিকদের উপর অত্যাচারের মাত্রাটা কম হবে, রাজ-অন্তঃপুরের মহিলাদের মর্যাদা রক্ষিত হবে, হয়তো বা আপনিও প্রাণে বাঁচবেন।
: কিন্তু তা-যে হবার উপায় নেই। মন্দির-কর্তৃপক্ষ বা অধ্যক্ষগণ তাতে রাজী হবেন না। তাঁরা-যে বড় আশায় মিসরের দিকে চেয়ে বসে আছেন। আর তাঁদের মতের বিরুদ্ধে দাঁড়াব, সে শক্তি কি আমার আছে? আজ আপনার কাছে আমার গোপন করবার কিছুই নেই, আপনি যেমন এই কারাগারে বন্দী, আমিও তেমনি বন্দী আমার ওই স্বর্ণ-সিংহাসনে। আপনি আমার অবস্থাটা বুঝে দেখুন। বলতে বলতে রাজা যেদেকিয়ার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে এল। সমবেদনায় যেরেমিয়ার মনটাও ভারী হয়ে উঠল 1
: তাই যদি সত্য হয়ে থাকে, তাহলে আমার আর বলবার কিছুই নেই।
রাজা কপালে করাঘাত করে বললেন : হ্যাঁ, এইটাই সত্য। বলবার কিছু নেই, করবার কিছু নেই, ঘটনার পর ঘটনা ঘটে চলবে, আর আমি দর্শকের মত তাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখব। কিন্তু একটা কথা। আমি-যে আপনার কাছে এসেছিলাম, আমি-যে এসব কথা বললাম, এ যেন আর কারও কানে না যায়। রাজার মত হতভাগ্য আর কেউ আছে কিনা আমি জানি না।
: না, এ কথা আর কেউ জানবে না, আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। রাজা চলে গেলেন। যেরেমিয়া স্তব্ধ হয়ে বসে ভাবতে লাগলেন। রাজার অসহায়, আর্তকণ্ঠ তাঁকে অভিভূত করে ফেলেছে। যেরেমিয়া, যেরেমিয়া, এ তোমার কি হয়েছে? পাষাণ ভেঙ্গে কোমলতার নির্ঝর বেরিয়ে আসতে চাইছে। এবারকার কারাগারের এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা কঠোরপ্রাণ নবীকে মানুষের পর্যায়ে নিয়ে আসছে। তাঁর হৃদয়মন্দির ছেড়ে প্রভু কোথায়-যে গেলেন, আর সেই সুযোগে মানুষ যেখানে গিয়ে প্রবেশ করছে।
দিনের পর দিন যায়, অবরোধ চলছেই। শত্রুদের ওঠবার নাম নেই, দিব্যি জাঁকিয়ে বসে আছে। প্রাচীরের বাইরের তাঁবুর পর তাঁবু খাটিয়ে তারা রীতিমত ঘরসংসারী শুরু করে দিয়েছে। তাদের কোন কিছুরই অভাব নেই। সমস্ত য়াহুদা লুণ্ঠন করে ভারে ভারে ফসল আসছে, খাদ্য আসছে, পালে পালে বৃষ, ভেড়া আর ছাগ আসছে, দুগ্ধবতী গাভী আসছে। পাকশালে ধোঁয়া উঠছে, উঠছেই। তন্দুরে রুটি সেঁকা হচ্ছে, স্তূপীকৃত মাংস আগুনে ঝলসানো হচ্ছে। সুগন্ধে বাতাস ভারী হয়ে উঠছে।
গ্রামের য়িহুদীরা দলে দলে বেগার খেটে মরছে। তারা কাঠ কাটছে, জল টানছে, বোঝা বইছে, ক্যালদীয় সৈন্যদের অঙ্গ সংবাহন করছে। আর আসছে দলে দলে মেয়ে। গ্রামের য়িহুদী মেয়েদের ধরে এনে সৈন্যদের ক্ষুধার্ত মুখের সামনে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সুন্দরী-অসুন্দরী, কচি-কিশোরী, যুবতী-প্রৌঢ়া সবই এসে যাচ্ছে। সৈন্যদের অত সূক্ষ্ম রুচি আর বাছ-বিচার নেই। ক্ষুধার মুখে সবই ভাল লাগে।
বাবিল থেকে দেব-বিগ্রহেরাও এসেছেন তাঁদের আশীর্বাদ বহন করে। সব দেবতার বড় দেবতা বালমেরোডাকের পূজোর জন্য অস্থায়ী মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে। দেবতাদের ভোগের জন্য দলে দলে বলির পশু উৎসর্গ করা হচ্ছে। বালমেরোডাক সর্বশক্তিমান। কোন জাতির কোন দেবতা তাঁর সামনে দাঁড়াতে পারে না। বহুবার বহু রণক্ষেত্রে এই সত্য পরীক্ষিত হয়ে গেছে। তাঁর সেবকেরা পরাজয় কাকে বলে জানে না।
মাঝে মাঝে এই একঘেয়ে অবস্থার মধ্যে একটু বৈচিত্র্য সৃষ্টি করবার জন্য দু’পক্ষে কিছু কিছু তীর আর বর্শা ছোড়াছুঁড়ি হয়ে থাকে। কিন্তু দু’পক্ষই জানে, এগুলো কিছুই নয়, আসল কথা ধৈর্য। এ লড়াই ধৈর্যের লড়াই। কিন্তু প্রাচীরের বাইরে ক্যালদীয়দের প্রাচুর্যে ভরা সহজ জীবন। স্বদেশে মাংস আর মেয়ে এত সুলভ নয়। কাজেই তাদের ধৈর্যের অভাব নেই। এদিকে প্রাচীরের এপারে যিরূশালেমে খাদ্যের ভাণ্ডার নিঃশেষিত। দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে। নগরবাসী অনাহারে মরতে শুরু করেছে। তারা এভাবে আর কত দিন ধৈর্য ধরে থাকতে পারবে? নগরের সংকটজনক অবস্থা অবরোধকারীদের কাছে অজ্ঞাত থাকে না। তাই তারা নিশ্চিন্ত মনে কাল কাটায়।
কারাগারে যেরেমিয়ার কাছে সমস্ত সংবাদই আসে। মুমূর্ষু যিরূশালেমের হৃৎপিণ্ডের অন্তিম আছড়ানি তিনি অনুভব করতে পারেন। মিসরের কাছে সাহায্যের জন্য প্রথমেই বার্তা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কোন সাড়া নেই। তাদের পথের দিকে চেয়ে চেয়ে প্রতীক্ষারত লোকগুলোর চোখে ক্লান্তি ধরে গেছে। এখন আর তারা সেদিকে তাকায় না। অবশেষে একদিন এবেদমেলেফ এসে সংবাদ দিল, সময় আসন্ন, মানুষ ক্ষুধার জ্বালায় পাগল হয়ে উঠেছে। নগরের দ্বার খুলতেই হবে। তা না হলে কেউ বাধা মানবে না, তারা নিজেরাই খুলে দেবে।
এর দু’দিন বাদেই রাত্রিশেষে যেরেমিয়া সচকিত হয়ে জেগে উঠে বসলেন। কে যেন তাঁকে ঘুম থেকে হিচড়ে টেনে তুলেছে। ও কিসের শব্দ গো, যেন বাঁধ ভেঙ্গে বন্যার জল ঢুকছে। একটা বিকট কোলাহল দূর থেকে ক্রমেই কাছে, আরও কাছে এগিয়ে আসছে। এবার একেবারে কারাগারে বাইরেই এক সঙ্গে অনেকগুলো ঘোড়ার খুরের খট্ খট্ শব্দ শোনা গেল। আর তার সঙ্গে সঙ্গেই কাদের বুকফাটা আর্তনাদ। যেন দলে দলে লোক প্রাণভয়ে ছুটে চলেছে। কোথায় চলেছে ওরা? কি যেন ভেঙ্গে পড়ল, কি যেন ধ্বসে পড়ছে, কি যেন গুঁড়িয়ে যাচ্ছে, আবার মুহুর্মুহু বজ্রপাতের মত শব্দ হচ্ছে। সমস্ত নগর জুড়ে এ কোন দৈত্যের তাণ্ডব চলেছে! এমনি করে রাত্রিটা কেটে গেল। তারপর সারাদিন এমনই চলল। এই মহাতাণ্ডবের যেন আর শেষ নেই। থেকে থেকে সমস্ত নগরটাকে ধরে কোন দৈত্য যেন ঝাঁকুনি মারছে।
যেরেমিয়ার কম্পিত কণ্ঠ থেকে একটা আর্তনাদ বেরিয়ে এল : প্রভু, প্রভু, তোমার অভিসম্পাত কি অবশেষে সত্য সত্যই নেমে এল।
কারাগার ছেড়ে প্রহরীরা পালিয়েছে। কয়েকজন বন্দী ছাড়া জনমানুষের চিহ্ন মাত্র নেই। খাওয়ার সময় পার হয়ে গেল, কিন্তু কেউ খাবার নিয়ে এল না। জলটুকু পর্যন্ত না। সারাদিন অনাহারে কাটল। রাত্রিবেলা চোখে ঘুম আসে না। মাঝে মাঝে চোখের পাতা বুজে আসতে চায়। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই কাদের তীক্ষ্ণ বুকফাটা কান্নার শব্দে উৎকর্ণ হয়ে ওঠেন। জেগে জেগেও কানের কাছে শুধু কান্না, শুধু কান্নার শব্দই শোনেন। একি সত্য, না কল্পনা? দীপহীন অন্ধকার কারারক্ষে চোখের সামনে ভেসে ওঠে, এক ক্ষতবিক্ষত দেহ উলঙ্গিনী নারী দু’হাতে আপনার মাথার চুল ছিঁড়ছে, বুকে ঘন ঘন করাঘাত করছে, আর ঊর্ধ্বে তারাখচিত আকাশের দিকে চেয়ে দীর্ণকণ্ঠে হাহাকার করছে।
এইভাবে দুই দিন দুই রাত্রি কেটে গেল। যেরেমিয়া ভাবলেন, কে জানে, হয়তো বা এখানেই জীবন্ত সমাধি ঘটে যাবে। কেউ দেখবে না, কেউ জানবে না, অনাহারে তিলে তিলে শুকিয়ে মরতে হবে। দু’দিন ধরে পেটে একটি দানা পড়ে নি, এক বিন্দু জল না। কারাপ্রকোষ্ঠে অসহ্য গরম। তৃষ্ণার ছাতি ফেটে আসছে। প্রভু, এ সংকটে তুমি কোথায়?
আরও একদিন কাটল। যেরেমিয়া আচ্ছন্নের মত পড়ে রইলেন। কখন চোখের পাতায় একটু ঘুম নেমে এল। কোথায় যেন ঝরণার জল ঝরছে- ঝিরঝির, ঝিরঝির ঝিরঝির! কোথা থেকে একটা পাখি মিষ্টি সুরে গান গাইছে। সেই বহু পেছনে ফেলে-আসা ছোট্টবেলায় এই পাখির গান তিনি শুনেছেন, তারপর আর শোনেন নি। শুনতে পেলেন কে যেন তাঁর শিয়রের কাছে ঘুমপাড়ানী সুরে গান গাইছে। এমন সময় তিনি যেন চোখ মেলে চাইলেন। কি দেখলেন? দেখলেন, তিনি, ছোট্ট যেরেমিয়া, তাঁর মায়ের কোলে শুয়ে স্তন্য পান করছেন। মা তাঁর গায়ে হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। তাঁর হাত থেকে স্নেহ ঝরে পড়ছে। কি সুন্দর মায়ের মুখখানি! মায়ের কোমল বুকে মাথা গুঁজে দিয়ে স্তন্যপানে বিভোর যেরেমিয়া বলে উঠলেন-”মা, তুমি কি সুন্দর!”
—মা হাসলেন। যেন এক টুকরো জ্যোৎস্না খসে পড়ল। যেরেমিয়া মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগলেন। একি, মায়ের মুখখানি যেন একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে- আরও, আরও, আরও-ও কে, জিল্লা না? হ্যাঁ, জিল্লাই তো। পূর্ণযৌবনা সপ্তদশী জিল্লার কোমল কঠিন আলিঙ্গনে আবদ্ধ তরুণ যেরেমিয়া।—এই নরম দু’টি হাতের বজ্রবাঁধন তাঁকে ক্রমেই অভিভূত করে ফেলছে। বিজয়িনী জিল্লা। তার ঠোঁটে বিদ্রূপ- মাখানো তীক্ষ্ণ মধুর হাসি। অমন হাসি হেসে কি বলছে জিল্লা? বলছে-ওরে নিরুদ্দেশের যাত্রী, এবার তুমি ফিরে এসেছ। কোথায় যাবে তুমি? ওরে আমার বন্দী পাখি, এইখানেই তোমার বাসা বাঁধতে হবে।
ঝন্-ঝন্-ঝনাৎ! যেরেমিয়া চমকে জেগে উঠলেন। সঙ্গে সঙ্গেই উঠে বসলেন। কোথায় গেল জিল্লা? ও কিসের শব্দ? এই অন্ধকার ঘরে এ কিসের আলো এসে পড়েছে? অবাক হয়ে দেখলেন কারাকক্ষের বন্ধ দরজাটা খুলে গেছে। দশ বারো জন সৈনিক ঘরের মধ্যে এসে ঢুকল। তাদের পোশাক দেখে যেরেমিয়া বুঝলেন যে, তারা ক্যালদীয় সৈনিক। তাদের মধ্যে বিশিষ্ট ধরনের একজন এগিয়ে এসে সম্ভ্রমের সঙ্গে অরামীয় ভাষায় প্রশ্ন করলেন : আপনি কি যেরেমিয়া?
যেরেমিয়া উত্তর দিলেন : হ্যাঁ, আমিই যেরেমিয়া।
: আপনি এখন মুক্ত। কিন্তু আপনাকে আমাদের সঙ্গে যেতে হবে।
: আপনাদের সঙ্গে? কোথায়?
: আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, আমরা কে? আমাদের সেনাপতি নেবুজার- আদান এখন রামাতে অবস্থান করছেন। সেখানে আপনার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হবে। আপনার সঙ্গে দেখা করা তাঁর বিশেষ প্রয়োজন।
: প্রয়োজন? আমার সঙ্গে?
: হ্যাঁ, আপনার সঙ্গেই।
যেরেমিয়া ক্যালদীয় সৈনিকদের সঙ্গে কারাগারের বাইরে বেরিয়ে এলেন। এ কি, এ কি দৃশ্য! চমকে উঠলেন যেরেমিয়া। এ কোথায় এসেছেন তিনি? এ কোন্ দেশ? কোথায় গেল যিরূশালেম? যেরূশালেম নেই, নেই, কোথাও নেই। যেই দৃঢ় ও উচ্চ প্রাচীরের জন্য যিরূশালেম দুর্ভেদ্য বলে আখ্যাত, সেই প্রাচীর ওরা ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এখনও ভাঙ্গছে? কারা ভাঙ্গছে? ক্যালদীয় সৈন্যদের নির্দেশে যিরূশালেমের নাগরিকেরা নিজেরাই তাদের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলছে। যেন রমণীর গা থেকে তার আচ্ছাদন কেড়ে নিচ্ছে। তার লজ্জা বাঁচাবার উপায় নেই। কোথায় গেল প্রভুর মন্দির? মন্দির অদৃশ্য হয়ে গেছে। খালি জায়গাটা খাঁ খাঁ করছে। আর মন্দিরের স্মৃতিচিহ্নের মত একরাশি অঙ্গার ও ভস্ম স্তূপীকৃত হয়ে পড়ে আছে।
শৈশব থেকে এপর্যন্ত যে-নগরীর সঙ্গে তিনি পরিচিত, কোথায় সেই নগরী? সুরম্য গৃহগুলোকে পুড়িয়ে ছাই করে দেওয়া হয়েছে। যেদিকে তাকাও, দেখ, বাতাসে শুধু ছাই উড়ছে। কিছু দূরে গিয়েই থমকে দাঁড়ালেন যেরেমিয়া। আর তিনি এগোতে পারেন না। পথের এধারে, ওধারে, সামনে রাশি রাশি মৃতদেহ পড়ে আছে। আর মাংসভুক শকুনিগুলো তাদের নিয়ে টানাটানি, ছেঁড়াছেঁড়ি করছে। দুর্গন্ধে বাতাস ছেয়ে গেছে। হায় যিহোবা, এ তুমি কি দেখালে? যেরেমিয়ার মাথাটা কেমন করে উঠল। পা টলতে লাগল। চোখের সামনে অন্ধকার নেমে এল, তিনি কাঁপতে কাঁপতে দুই হাতে মাটি ধরে বসে পড়লেন। -নবী, তোমার ভবিষ্যদ্বাণী এতদিনে পূর্ণ হয়েছে।
