আঠার
রাজ-অন্তঃপুরের ইথিওপীয় ক্রীতদাস নপুংসক এবেদমেলেফ ইঁদুরের মতই সন্ধানী লোক। শুধু রাজ-অন্তঃপুরের কথাই নয়, অনেক মহলের অনেক খবরই তার নখদর্পণে। পরের পেটের কথা টেনে বের করতে সে সিদ্ধহস্ত। কিন্তু নিজেরটা সহজে ছাড়তে চায় না। নবী যেরেমিয়াকে-যে হ্যালেলেফের পুত্র ম্যালাফিয়ার সেই কূয়োটার মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে, এই খবরটা তার কানে এসে পৌঁছতে একদিনের বেশী সময় লাগল না।
এবেদমেলেফ বড়ই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠল। যেরেমিয়ার উপর তার অগাধ ভক্তি। তাঁর এই সংকটে সে কিছুতেই স্থির হয়ে বসে থাকতে পারল না। কিন্তু এক্ষেত্রে কিই বা সে করতে পারে! যেই কুচক্রীদের ষড়যন্ত্রের ফলে যেরেমিয়া আজ মৃত্যুর মুখে, রাজা স্বয়ং-যে তাদের মুঠোর মধ্যে। ক্রীতদাস এবেদমেলেফের কথা সেখানে কোন কাজে লাগবে?
কিন্তু একথা জেনেও চুপ করে বসে থাকা তার পক্ষে সম্ভব হল না। চুপি চুপি রাজার কাছে গিয়ে সে সমস্ত কথা জানাল। আর বলল, আপনার মন্ত্রণাদাতারা আপনার সর্বনাশ না করে ছাড়বে না। আজ যদি এ ভাবে নবীর মৃত্যু হয়, তা হলে প্রাণের বদলে প্রাণ দিয়েও তার ক্ষতিপূরণ করা চলবে না। তাঁর অনুগৃহীত মানুষের হত্যার ফলে প্রভুর যেই ক্রোধাগ্নির সৃষ্টি হবে, তাতে সমস্ত নগরী জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। আপনার প্রাণে কি ভয় নেই? আপনি জেনে শুনে এভাবে প্রভুর অভিসম্পাত ডেকে আনবেন না।
নবী যেরেমিয়াকে এভাবে ওদের হাতে ছেড়ে দিয়ে রাজা যেদেকিয়ার এমনিতেই দুশ্চিন্তার অবধি ছিল না। তার উপর এবেদমেলেফের বাক্পটুত্বে চিন্তার বোঝাটা আরও কিছু বাড়ল। নাঃ, কাজটা সত্যিই ভাল হয় নি। এ খবর কি আর চাপা থাকবে, লোকের মুখে মুখে বেরিয়ে পড়বেই। রাজা জিজ্ঞাসা করলেন : বেঁচে আছেন তো এখনও?
: তা হয়তো আছেন। কিন্তু কাল রাত্রি থেকে সেই কাদার মধ্যে ডুবে আছেন। তার উপর না খাওয়া, না কিছু। এভাবে মানুষ আর কয়দিন বেঁচে থাকতে পারে!
: আচ্ছা, তুমি এক কাজ কর। আমি দু’জন বিশ্বাসী লোক দিচ্ছি তোমার সঙ্গে। তুমি তাদের সাহায্যে তাঁকে কূয়োর ভেতর থেকে তোল। কিন্তু তাঁকে ছেড়ে দিও না যেন। আমি তোমার সঙ্গেই কারারক্ষককে নির্দেশ পাঠাচ্ছি। সে তাঁকে কারাগারের মধ্যে আবদ্ধ করে রাখবে। খুব সাবধান, যেমন গোপনে ওরা তাঁকে কুয়োর মধ্যে ফেলেছে, তেমনি গোপনেই এই কাজ করা চাই। আর কেউ যেন এ কথা টের না পায়। আর কারাগারের মধ্যে তাঁর খাওয়া-দাওয়ার যাতে কোনই কষ্ট না হয়, সেদিকে তুমি বিশেষ দৃষ্টি রাখবে।
এবেদমেলেফের ঐকান্তিক চেষ্টার ফলেই যেরেমিয়া নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেলেন। সেই থেকে কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে তাঁর দিন কাটতে লাগল। এবেদমেলেফ মাঝে মাঝে এসে বাইরের খবরাখবর দিয়ে যেত। নগরের মোটামুটি সমস্ত খবরই তিনি পাচ্ছিলেন।
ক্রীতদাসদের সংঘর্ষের সংবাদ বিস্মিত করে তুলল তাঁকে। এ সবের মানে কি? তাঁর যিহোবা এ-সম্পর্কে ভাল মন্দ কোন কিছুই বলছেন না তাঁকে। অহিকমের মৃত্যুর সংবাদটা তাঁকে কিছু দিনের জন্য মুহ্যমান করে রাখল। অহিকম তাঁর জীবনের কতখানি ছিল, তাঁর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তিনি সে কথা বুঝতে পারলেন। গেদালিয়াকে ধরবার জন্য নাকি খুবই খোঁজাখুঁজি চলেছে। লোকে বলে, একদল বিদ্রোহী ক্রীতদাসদের নিয়ে সে নাকি নগরের বাইরে কোথায় পালিয়ে গেছে। হতভাগিনী জিল্লা, কে তাকে দেখাশোনা করবে? তার স্বামী নিহত, পুত্ৰ পলাতক, আপনার জন বলতে আর রইল কে? আর কি কেউ নেই? বৃদ্ধ যেরেমিয়া আপনাকে আপনি প্রশ্ন করেন। হ্যাঁ, আছে বই কি; একজন আছে। কিন্তু সেও তো কারাগারে বন্দী।
কিন্তু ক্রীতদাসেরা এমন করছে কেন, যেরেমিয়া একথা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারেন না। স্ত্রী কি তার স্বামীকে অস্বীকার করতে পারে? পুত্র কি তার পিতাকে অস্বীকার করতে পারে? য়িহুদী কি তার প্রভুকে অস্বীকার করতে পারে? তবে ক্রীতদাসই বা কি করে তার মালিককে অস্বীকার করবে? আর গেদালিয়া? অহিকম আর জিল্লার ছেলে, সোনার ছেলে গেদালিয়া, সেই বা কি করে ক্রীতদাসদের সঙ্গে এমন ভাবে জড়িয়ে পড়ল?
সাথে সাথেই যেরেমিয়ার মনে পড়ে যায় এই ক্রীতদাসেরাই একদিন অহিকমকে আর তাঁকে কারাগার থেকে মুক্ত করে নিয়ে গিয়েছিল; তাঁদের দু’জনকে সামনে রেখে, তাঁদের নাম জয়ধ্বনি করে নগরের রাজপথে মিছিল করেছিল। কিন্তু কেন? কেন? এই প্রশ্নের উত্তর সেদিনও তিনি খুঁজে পান নি, আজও পান না। এদের সঙ্গে তাঁর সম্বন্ধটা কি?
মনে পড়ে অহিকম একদিন তাঁকে বলেছিল, যেরেমিয়া, এই ক্রীতদাসেরা তোমাকে তাদের সবচেয়ে আপন মানুষ বলে মনে করে। সবচেয়ে আপন মানুষ! এ কি বিশ্বাস করবার মত কথা? কিন্তু অহিকম তো বাজে কথা বলবার লোক নয়। অহিকমই তো অনেক দিন আগে রাজা যিহোয়াকীমের রাজত্বকালে তাঁকে বলেছিল, যেরেমিয়া, বিচারে মৃত্যুদণ্ড তোমার অনিবার্য ছিল। কিন্তু নগরের ক্রীতদাস ও দরিদ্র লোকেরাই সেদিন অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলল।
সেই সব কথা আজ বারে বারেই মনে পড়ছে। যেরেমিয়া, তারা তোমাকে জীবন দিয়েছে, তারা তোমাকে মুক্তি দিয়েছে, তারা তোমাকে নিয়ে মিছিল করেছে, তারা তোমার নামে জয়ধ্বনি করেছে, তারা তোমাকে তাদের সবচেয়ে আপন মানুষ বলে মনে করেছে! আর তুমি কি করছ? তাদের জন্য কি করেছ? দিনান্তে একবারও তাদের কথা মনে জাগে নি। আজ কোথা থেকে, কেন এই ব্যথা জেগে ওঠে, যে-ব্যথার নাম জানা নেই? প্রভু বল, তুমি বল, কিসের এই ব্যথা? প্রভু কোন উত্তর দেন না।
কারাগার- বিচিত্র তার রহস্য। পুরানো দিনের ঘটনাগুলো কেমন করে আবার প্রাণ পেয়ে ফিরে ফিরে আসে! স্মৃতির পটে মুছে যাওয়া কত কথা, কত ছবি কেমন করে আবার বর্ণোজ্জ্বল হয়ে ফুটে ওঠে! কে বলবে, কেন এমন হয়? যখন তুমি কালের প্রবহমান ধারায় গতিশীল জনসমাজের অংশ হয়ে এগিয়ে চলতে থাকত, তখন বর্তমান আর ভবিষ্যৎ, এই তোমার কাছে উজ্জ্বল সত্য, পেছনের কথা তুমি ভুলে যাও। আর যেইমাত্র তুমি অবরোধের মধ্যে গতি হারিয়ে নিশ্চল হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লে, তখন পেছনে ফেলে-আসা অতীত জীবন তোমার কাছে জীবন্ত হয়ে ওঠে। তুমি পেছন দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেল, আর ফিরে ফিরে তাকেই স্বপ্ন দেখ।
কারাগারের একটি প্রভাত। ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছে, কিন্তু আচ্ছন্ন ভাবটা এখনও কাটে নি। যেরেমিয়া তাঁর বিছানা হাতড়ে হাতড়ে কাকে যেন খুঁজছেন।—কই, নেই তো! বারে, আমাকে একলা ফেলে তুমি চলে গেছ। কাকে তুমি খুঁজছ যেরেমিয়া? কে তোমাকে ফেলে চলে গেছে? কার সঙ্গে তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কথা বলছ? যেরেমিয়া চমকে উঠলেন। এতদিন বাদে আজ তাঁর মায়ের কথা মনে পড়েছে! যে মা ভোর হতে না হতেই ঘরের কাজের জন্য তাঁকে ফাঁকি দিয়ে বিছানা ছেড়ে চলে যেতেন। মা, মাগো, কোথায় তুমি? যেরেমিয়া, তুমি কাঁদছ? তোমার আজ মায়ের কথা মনে পড়েছে? এত দিন বাদে?
একদিন একটা পরিচিত গানের সুর যেন তাঁর ভেতর থেকে গুণ-গুণিয়ে উঠল। আহা, এ সুর-যে তাঁর কাছে বড় চেনা, যেন তাঁর রক্তের সঙ্গে মিশে আছে! কিন্তু কোথায়, কবে, কার কাছে শুনেছেন? স্মৃতির সমুদ্রে ডুবে গেলেন যেরেমিয়া। খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ একদিন এই অ-ধরা সুরটা ধরা পড়ে গেল। এই যেরেমিয়া যখন ছোট্ট যেরেমিয়া ছিলেন, তখন তাঁর মা তাঁকে বুকে নিয়ে দোলাতেন, দোলাতেন আর এই ঘুমপাড়ানী সুরে কি একটা গান গাইতেন। ওরে আমার মায়ের মুখের গান, এত দিন তুই কোথায় ছিলি? যেরেমিয়া, তুমি কাঁদছ? তোমার আজ মায়ের কথা মনে পড়েছে। এত দিন বাদে?
দেয়ালের গায়ে দুটো পতঙ্গ বাসা বাঁধছে। উজ্জ্বল, সবুজ রঙের পতঙ্গ দু’টি। বাইরের আলো পড়ে ওদের হালকা পাখা ঝিলমিলিয়ে ওঠে। ওরা ওদের বাসা বাঁধছে। কতটুকুই বা ওদের সামর্থ্য, তবু একটু একটু করে বাসাটা গড়ে উঠছে। সারাদিন ওদের কর্মচঞ্চল ব্যস্ততা, এতটুকু বিশ্রাম নেই। দু’জনে মিলে কেবলই বাইরে যাচ্ছে, আর মালমশলা সংগ্রহ করে বয়ে নিয়ে আসছে। দু’জনের মিলিত শ্রম বাসাটা একটু একটু করে গড়ে ওঠে। যেরেমিয়া তাই চেয়ে চেয়ে দেখেন। দেখতে বড় ভাল লাগে। দেখেন আর দেখেন।
পতঙ্গ দু’টির একটি পুরুষ, একটি মেয়ে। ওরা দু’টিতে মিলে সারাদিন খেলা করে। ওরা মুখে মুখ ঠেকায়, ওরা পাখায় পাখা ঘষে, ওরা পালায়, ধরা দেয়, লুকোচুরি খেলে ওরা। ওদের নিজেদের ভঙ্গীতে পরস্পরের আলিঙ্গনে বাঁধা পড়ে। আহা ছোট্ট দু’টি প্রাণীর মিলন-খেলা, আর কত না লীলা! যেরেমিয়া মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকেন। দেখেন আর দেখেন। যেরেমিয়া, যেরেমিয়া, ও কি! দীর্ঘশ্বাস ফেলছ তুমি? কেন?
শেষে যখন সময় হল, ডিম পাড়ল, বাচ্চা ফুটল, ওদের দু’জনের সংসার পূর্ণ হয়ে উঠল। ওরা আবার কর্মচঞ্চল, আবার ব্যস্ত। ওরা ওদের শিশুগুলোকে খাওয়ায়, একটু একটু করে বড় করে তোলে, বাইরের শত্রুর আক্রমণ থেকে বুক দিয়ে রক্ষা করে। মুগ্ধ পতঙ্গ আপনাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রবহমান ধারাকে অবিচ্ছিন্ন করে রাখবার জন্য তিল তিল করে আপনাকে দান করে নিঃশেষ হয়ে চলেছে। যেরেমিয়া দিনভর ওদের দিকে চেয়ে থাকেন। ভাবেন আর ভাবেন।
কোন্ কথা থেকে কোন্ কথা মনে পড়ে যায়! অতীতের এক পর্দা সহসা খসে পড়ে। যেরেমিয়া চমকে ওঠেন। সে অনেক দিন আগেকার কথা। একদিন জিল্লা বলেছিল : যেরেমিয়া, তোমাকে ঘিরে যে-স্বপ্ন আমি রচনা করে তুলেছি, নিষ্ঠুর, তুমি তা মনে করে ভেঙ্গে দিও না। আমি তো বেশী কিছু চাই না। আমি বাহুল্য চাই না, প্রাচুর্য চাই না, ঐশ্বর্য চাই না, আমি শুধু তোমাকে আর আমাকে নিয়ে সংসারের এক প্রান্তে ছোট্ট একটি মধুচক্র গড়ে তুলতে চাই।
যেরেমিয়া, তুমি আমার দিকে চোখ তুলে তাকাও, প্রসন্ন হও, তুমি আমাকে দূরে ঠেলে দিও না।
—আর তার উত্তরে তুমি কি বলেছিলে যেরেমিয়া? তুমি বলেছিল- না, প্রভু আমায় আহ্বান করেছেন, তাঁর পথ আমার পথ। ঘরে আমার মন বসে না। না জিল্লা, আমি ঘর বাঁধবো না।
জিল্লা আবার বলেছিল : তবে আমাকে নিয়ে যাও তোমার সাথে, তোমার পথে। তুমি যেখানে যাও, আমি তোমার সাথে সাথে যাব। আমি হব তোমার পথের সাথী। তুমি যখন প্রভুর বন্দনা করবে, আমি তখন সেই সুরে বীণা বাজিয়ে গান গাইব, আর আমাদের মিলিত বন্দনা প্রভুর চরণকমল স্পর্শ করবে। যেরেমিয়া, আমাকে নিয়ে চল, আমাকে কর তোমার চলার সাথী। আমি পথের ধুলো থেকে মধু আহরণ করে তুলব, আর পথে পথে তোমাকে ঘিরে মধুচক্র রচনা করে চলব। যেরেমিয়া, আমি যে মৌমাছির জাত, আমি সৃষ্টির কামনায় উন্মুখ। আমার সমস্ত স্বপ্ন সফল হবে, শুধু যদি তোমাকে আমার সঙ্গে পাই। তখন তুমি কি করলে যেরেমিয়া? তুমি একদিন তাকে কোন কিছু না বলে চোরের মত নিরুদ্দেশ হয়ে গেলে।
সম্মুখের দরজা বন্ধ। পেছনের দরজা খুলে গিয়েছে। অতীতের বৃত্তচ্যুত শুকিয়ে-যাওয়া ফুলগুলো উদ্দাম বাতাসে উড়ে এসে চোখে মুখে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যেরেমিয়া, যেরেমিয়া, তোমার কি হয়েছে? কোন্ অদৃশ্য ফুলের গন্ধে তুমি এমন চঞ্চল হয়ে উঠেছ? এ কি কামনা? একি তৃষ্ণা? তোমার ঐ শান্ত, সংযত, থিতিয়ে আসা শীর্ণ শোণিতধারায় এই উন্মাদ বন্যার বন্য আবেগ থেকে সঞ্চারিত হয়েছে? হায় যেরেমিয়া, এই রহস্যময়ী পৃথিবীর অনেক রহস্যই তো তোমার জানা নেই।
যেরেমিয়া কেঁদে উঠলেন : প্রভু, আমাকে বাঁচাও, বাঁচাও। শত্রু-যে আমার ভেতরেই সংগোপনে বাসা বেঁধে আছে। আমি তার সঙ্গে কেমন করে লড়াই করব, তা-যে আমি জানি না। প্রভু, তুমি কোথায়, এ দুর্দিনে আমাকে ছেড়ে যেও না। প্রভু সে কথার কোন উত্তর দেন না।
হঠাৎ একটা প্রবল নাড়া খেয়ে তাঁর স্বপ্ন-দেখা ভেঙ্গে গেল। এবেদমেলেফ এসে সংবাদ দিয়ে গিয়েছে যে, ক্যালদীয়েরা বিপুল বাহিনী নিয়ে আবার হানা দিয়েছে। এবার শুধু তারাই নয়, প্রতিবেশী আরও কয়েকটি জাতি তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। য়াহুদার নগরের পর নগর তাদের আক্রমণে ধ্বসে পড়েছে। যিরূশারেম অবরুদ্ধ। এমন দ্রুত ও সম্মিলিত আক্রমণের মুখে নগরের নিঃশেষিতপ্রায় খাদ্যভাণ্ডার পূর্ণ করে তোলবার সুযোগ পাওয়া যায় নি। এবার আর নিষ্কৃতি নেই।
যেরেমিয়া স্বপ্নশয্যা ছেড়ে উঠে বসলেন। প্রত্যক্ষ কঠিন বাস্তব তাঁকে চুলের ঝুঁটি ধরে টেনে তুলেছে।
যেরেমিয়া বলে উঠলেন : ধ্বংসের দূত শৃঙ্গনিনাদ করে উঠেছে। অভিশপ্ত নগরী, এইবার মহাসংহারের জন্য প্রস্তুত হও।
