কালবেলা – সমরেশ মজুমদার
সাহিত্য আকাদমি পুরস্কার প্রাপ্ত ১৯৮৪
প্রথম সংস্করণ: বৈশাখ ১৩৯০
প্রকাশক: আনন্দ পাবলিশার্স প্রাইভেট লিমিটেড
প্রচ্ছদ: সুনীল শীল
.
শ্রীযুক্ত সন্তোষকুমার ঘোষ
শ্রদ্ধাস্পদেষু
.
ভরদুপুরে নিজের ছায়া দেখা যায় না। ছায়া যখন দীর্ঘতর হয় তখন তার আদল দেখে কায়াকে অনুমান করাও সহজ কাজ নয়। এই সেদিন যেসব ঘটনা ঘটে গেল এ—দেশে তাই নিয়ে কিছু লিখতে বসার সময় হয়েছে কি না এ সংশয় থাকতেই পারে। সমসাময়িক কিছু নিয়ে লেখার মুশকিল হল আমাদের দেখাটা অন্ধের হস্তিদর্শন হয়ে যায়।
তবু ‘উত্তরাধিকার’—এর পর ‘কালবেলা’ লিখতে বসে আমাকে এই সময়টাকেই বাছতে হয়েছে। আমি যেভাবে দেখতে চেয়েছি তার সঙ্গে অনেকেরই মতে মিলবে না, মিলতে পারে না। ওই সময়টাকে আমি ঘনিষ্ঠভাবে জানতাম এই দাবি করি না কিন্তু আঁচ গায়ে না—লাগুক মনে লেগেছিল। ‘দেশ’ পত্রিকায় ধারাবাহিক লেখার সময় আমি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এই সিদ্ধান্তে এসেছি, কেউ কাউকে স্বীকার করতে চায় না। অতএব, আমার বিশ্বাসটাই আমার কাছে সত্য।
‘কালবেলা’ কি রাজনৈতিক উপন্যাস? আমি জানি না। কারণ এ ধরনের সাইনবোর্ডে আমি বিশ্বাসী নই। আমরা এক দারুণ অবিশ্বাসের কালে বেঁচে আছি। কেউ যদি বিশ্বাস করে ভুল করেন তবে তিনি কিন্তু আমাদের থেকে প্রাণবন্ত। অনিমেষরা যদি ভুলটা বুঝতে পেরে সঠিক পথটাকে খুঁজে পায় তা হলে কিন্তু ভুলটা মূল্যবান হয়ে যাবে।
কিন্তু ‘কালবেলা’ ভালবাসার উপন্যাস। দেশ, মানুষ এবং নিজেকে। কারণ নিজেকে যে ভালবাসতে পারে না সে কাউকেই গ্রহণ করতে পারে না।
উপন্যাসটি লেখার সময় আমি অনেক গ্রন্থের সাহায্য নিয়েছি। পৃথকভাবে উল্লেখ না—করলেও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ‘দেশ’ পত্রিকার অজস্র পাঠক—পাঠিকা যেভাবে আমাকে উৎসাহিত করেছেন তাতে আমি ধন্য।
উপন্যাসটি প্রকাশ করার ব্যাপারে শ্রীযুক্ত সাগরময় ঘোষ যে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন তা একমাত্র তাঁকেই মানায়। আমার বন্ধু কল্যাণ সর্বাধিকারী প্রতিনিয়ত যে উপদেশ দিয়ে গেছেন তা স্মরণ থাকবে।
শেষ কথা, এই উপন্যাসে সময়টাকেই ধরতে চেয়েছি, কোনও মানুষ কিংবা ঘটনার সরাসরি ছবি তুলতে চাইনি।
সমরেশ মজুমদার






Leave a Reply