শকুনির অস্ত্র – প্রমিত গুপ্ত

শকুনির অস্ত্র

দু’দিন বাদে এক সকালে ব্রেকফাস্ট সেরে নিজের ঘরে বসে খাতা চেক করছি, এমন সময় বিক্রম এসে ঘরে ঢুকল। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘কী রে, তোর খাতা দেখা শেষ হল, না কি এখনও ব্যস্ত?’

‘না চলছে এখনও। কোনো দরকার ছিল?’ আমি ওর দিকে না তাকিয়েই জিগ্যেস করলাম। অনেকক্ষণ উলটো দিক থেকে কোনো কথা না আসায় আমি মুখ তুলে তাকালাম। দেখলাম, বিক্রম জানালার দিকে তাকিয়ে আছে।

‘কী রে, কিছু বলবি?’ আমি হালকা তাগাদার সুরে বললাম।

বিক্রম চটকা ভেঙে তাকিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, না, পরে বলব, তুই বরং কাজ কর।’

‘আচ্ছা বল, কী বলবি?’ আমি সামনে রাখা খাতাগুলো একপাশে সরিয়ে রেখে ওর দিকে একটু ঘুরে বসে বললাম।

‘বোধি, কেসটা যা ভেবেছিলাম তার থেকেও বেশি জটিল। কোনো দিশা পাচ্ছি না রে।’

আমি একটু সহানুভূতির সুরে বললাম, ‘দ্যাখ, কথায় বলে “যে সয় সে রয়”, একটু সময় লাগলেও আমার বিশ্বাস তুই ঠিক পথ খুঁজে পাবি। আর এই কেস বাইরে ঘুরে নয়, ঘরে বসেই সমাধান হবে।’

‘বলছিস?’ বিক্রম হেসে আমার দিকে তাকিয়ে বলল।

‘আলবাত।’ আমি বেশ জোর দিয়েই বললাম, ‘দ্যাখ, একটা ব্যাপার তো কনফার্ম, খুনি হচ্ছে ওই মহিলার দাদা যে কিনা আবার পুলিশের লোক। সেই জন্যই তাকে ধরা এত মুশকিল। যে আইনের লোক, সে আইনের মারপ্যাঁচ জানবেই, কী করলে ধরা পড়বে আর কী করলে পড়বে না-এসব তো একজন পুলিশ অফিসারের নখদর্পণে থাকে।

হয়তো এত বছর ধরে নিজেকে প্রস্তুত করেছে, তাই বোনের বদলা নিতে দেরি হয়ে গেল। আর তাছাড়া ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে- “রিভেঞ্জ ইজ আ ডিশ বেস্ট সার্ভড কোল্ড”। তুই খালি ওই পুলিশ অফিসারকে খুঁজে বের কর।’

বিক্রম আমার দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, ‘আচ্ছা এই যে প্রবাদটা বললি, এর একটাও উদাহরণ দেখাতে পারবি? সিনেমা, সিরিয়াল বা গল্প-উপন্যাস হলে চলবে না। বাস্তব থেকে নেওয়া উদাহরণ দে।’

‘বেশ তাই দিচ্ছি, মহাভারতে শকুনির গল্পটা নিশ্চয়ই জানিস?’

‘ওই দ্যাখ, এক্ষুনি বললাম গল্প-উপন্যাস চলবে না। আর তুই মহাভারত টেনে আনলি।’

‘টানলাম, কারণ মহাভারত গল্প বা উপন্যাস নয়, মহাকাব্য। যার প্রমাণ সারা ভারতবর্ষ জুড়ে ছড়িয়ে আছে। একটা ঘটনা বলি শোন, মাধ্যমিক শেষ হওয়ার পর বাবা-মার সঙ্গে সেবার উত্তর ভারত বেড়াতে গিয়েছিলাম। জম্মু ছাড়িয়ে শেষনাগের হ্রদ মানসার ছুঁয়ে হিমাচল প্রদেশের ডালহৌসির দিকে চলেছি। পাঠানকোটের আগে মুক্তেশ্বর বলে একটা জায়গায় রাস্তার ধারে একটা বোর্ড চোখে পড়ল, পাণ্ডব গুহা… দিস ওয়ে!

‘বাবা ড্রাইভারকে গাড়ি ঘোরানোর নির্দেশ দিলেন। রাভি নদীর ধারে পাহাড়ের গায়ে প্রায় ১৮৬টা সিঁড়ি নীচে নেমে প্রবেশ করেছিলাম এই গুহা মন্দিরে। গুহায় প্রবেশ করেই চোখে পড়ল বিশাল শিবলিঙ্গ। তার পাশেই আরেকটা আসন, তার সামনে জ্বলছে ধুনি। সেই আসনের পিছনে দেওয়ালের গায়ে হিন্দিতে লেখা রয়েছে-যুধিষ্ঠিরের ধুনি।

‘কথিত আছে, বারো বছরের বনবাস শেষে পাণ্ডবরা যখন অজ্ঞাতবাসে বিরাট রাজ্যের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন এই গুহায় ওনারা কিছুদিন ছিলেন এবং শিবলিঙ্গের প্রতিষ্ঠা করেন। এই ধুনি যুধিষ্ঠির জ্বালিয়ে ছিলেন এবং প্রায় পাঁচ হাজার বছর ধরে ভক্তবৃন্দ এই ধুনিকে অনির্বাণ রেখেছেন।

খুব বিশ্লেষণ করে যদি মহাভারত পড়া যায়, তাহলে এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকে না।

‘কোনোদিন যদি মুক্তেশ্বর মহাদেব মন্দির যাস, যুধিষ্ঠিরের ধুনি দেখে আসতে ভুলিস না। প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো মহাকাব্য আজও নিজের অস্তিত্ব সদর্পে জানান দিচ্ছে। এছাড়া কেরালার কোল্লাম জেলায়কুরুবার নামে একটা বিশেষ সম্প্রদায় আছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিজেদের কৌরবদের বংশধর বলে দাবি করেন। ওখানে মালানাদা মালাদেবা বলে একটা মন্দির আছে। যেখানে কৌরবদের মামা শকুনি পূজিত হন।

‘এবং ওই মন্দিরের কাছেই কোট্টারক্কারার পবিত্রেশ্বরমে অবস্থিত আরেকটি মন্দির আছে, নাম পুরুভাজি পেরুভিরুথি মালানাদা মন্দির। এখানে পূজিত হন জ্যেষ্ঠ কৌরব দুর্যোধন। শোনা যায়, পাণ্ডবদের বনবাসের সময় দুর্যোধন ও তাঁর সঙ্গীরা পাণ্ডবদের খুঁজতে খুঁজতেকেরালার এই অঞ্চলে এসেছিলেন। ক্লান্ত এবং তৃষ্ণার্ত দুর্যোধনকে কুরুবার সম্প্রদায়ের এক নারী তাড়ি খেতে দেন, যা স্থানীয় পাম গাছের রস থেকে তৈরি মদ। তৎকালীন প্রচলিত বর্ণপ্রথাকে উপেক্ষা করে, সেই নারীর এই আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে দুর্যোধন সেই ভূমি ও তার জনগণকে আশীর্বাদ করেছিলেন। তিনি মন্দিরের পুরোহিতের দায়িত্বও কুরুবার সম্প্রদায়ের হাতে তুলে দেন, যা আজও পালিত হয়ে আসছে।

‘এই ঐতিহাসিক সংযোগই কৌরবদের প্রতি এই সম্প্রদায়ের শ্রদ্ধার ভিত্তি তৈরি করে। তারা দুর্যোধনকে খলনায়ক হিসেবে না দেখে একজন দয়ালু রাজা হিসেবে দ্যাখে, যিনি তাদের পূর্বপুরুষদের সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছিলেন। কুরুবার সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যের নিজেদের কৌরবদের বংশধর বলে দাবি করার বিষয়টি, এই গভীর সম্পর্ক এবং প্রজন্ম ধরে চলে আসা মৌখিক ঐতিহ্য থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। তারা শকুনিকে কোনো অশুভ চরিত্র হিসেবে পুজো করে না, বরং তার বুদ্ধিমত্তা এবং কৌশলগত দক্ষতার জন্য সম্মান জানায়।

‘এই দুই মন্দিরে মহাভারতের সেই দুটি চরিত্রকে সম্মান জানানো হয়, যাদের ঐতিহ্যগতভাবে খলনায়ক হিসেবে দেখা হয়। এখানকার আচার-অনুষ্ঠান এবং পুজোর পদ্ধতিও মূলধারার হিন্দু রীতিনীতির থেকে আলাদা, যা কুরুবার সম্প্রদায়কে বাকিদের থেকে আলাদা করে।’

বিক্রম চোখ বড় বড় করে বলল, ‘বা-বা, তুই কি মহাভারত দিয়ে ভাত মেখে খাস নাকি রে? ব্যাটা ছুপা রুস্তম!’

আমি হেসে বললাম, ‘আমি কিছুই করিনি, বাবা খুব মহাভারত পড়তেন। আমাকেও পড়ে শোনাতেন। সেখান থেকেই আমার ইন্টারেস্ট।’

‘শুনলাম,’ বিক্রম বলল, ‘বুঝলাম, জানলাম, শিখলাম। শকুনিকে নিয়ে কী একটা বলবি বলছিলি, সেটা বল?’

আমি একটু ভেবে বলা শুরু করলাম ‘শকুনি ছিল দ্বাপরের অবতার, তার জন্মই হয়েছিল কুরু বংশের পতনের জন্য। তখন গান্ধার রাজ্য আপন ছন্দে চলছিল। ছন্দপতন ঘটল যেদিন, অন্ধ নরপতি কুরুরাজ ধৃতরাষ্ট্রের জন্য রাজকন্যা গান্ধারীর পাণিপ্রার্থী হিসেবে হাজির হলেন স্বয়ং গঙ্গাপুত্র ভীষ্ম। সে সময় কি আর্যাবর্ত কি দাক্ষিণাত্য- ভার্গবশিষ্য ভীষ্মের সমকক্ষ যোদ্ধা গোটা ভূ-ভারতে কেউ ছিল না।

‘কথিত আছে, রাজা সুবল বা শকুনি কেউই এই বিয়ের পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু কুরু রাজ্যের সঙ্গে শত্রুতা মানে নিজের শমন নিজেই ডাকা। সুতরাং গান্ধাররাজ সুবল প্রবল অনিচ্ছাসত্ত্বেও রাজনীতির দাবায় হেরে কুরুবংশের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ হলেন। এই সময় একটা সমস্যা দেখা দিল। বিয়ের আগে রাজ জ্যোতিষীরা জানালেন-গান্ধারী মাঙ্গলিক, এই মিলন অমঙ্গলের। সমাধান একটাই, প্রথমে গান্ধারীর বিয়ে দিতে হবে একটা ছাগলের সঙ্গে। পরে সেই ছাগলের বলি দিলেই দোষ কেটে যাবে। সেই অনুসারে সেই বিবাহও সম্পন্ন হয়, ছাগলটাকে বলিও দেওয়া হয়, এবং গোটা ঘটনাটা নিপুণভাবে ভাবী শ্বশুরবাড়ির থেকে লুকিয়ে ফেলা হয়।

‘কিন্তু সত্য চিরকাল চাপা থাকে না। যেদিন ধৃতরাষ্ট্র জানতে পারলেন, তাঁর রানি একদা বিধবা ছিলেন। ভাবলেন, গান্ধারী বুঝি তাঁকে প্রতারণা করেছেন। জন্মান্ধ ধৃতরাষ্ট্র রাগে অন্ধ হয়ে গান্ধাররাজ সুবল ও তাঁর পরিবারকে বন্দি করে কারাগারে পাঠালেন। গান্ধাররাজকে শায়েস্তা করতে প্রতিদিন মাত্র একজনের খাবার দেওয়া হতো। ক্ষোভে অপমানে সুবল সিদ্ধান্ত নিলেন, কনিষ্ঠ পুত্র শকুনি বাঁচবে।

‘শকুনি, সেই সিদ্ধান্তে একমত হতে পারলেন না। কিন্তু পিতার আদেশ অলঙ্ঘনীয়। সুবলরাজ তাকে বললেন, “তুই বাঁচবি… শুধু বেঁচেই থাকবি না, তুই এই কুরুবংশ নাশ করবি।”

শকুনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলেন।

আমরণ নিজের প্রতিজ্ঞা মনে রাখার জন্য রাজা সুবল তার হাঁটু ভেঙে দিলেন। উদ্দেশ্য, এই যন্ত্রণাই হবে তার প্রতিজ্ঞার স্মৃতি। এক এক করে চোখের সামনে খিদের তাড়নায় মারা গেলেন পিতা ও ভাইয়েরা।

একসময় দেহ পচে গলে পড়ে রইল তাদের অস্থি, আর সেই অস্থি দিয়েই শকুনি গড়লেন পাশার ছক্কা। শকুনি দ্যূতক্রীড়া বা পাশা খেলায় ওস্তাদ ছিলেন। কিন্তু এই অস্থিনির্মিত পাশার ছক্কা তাকে অপরাজিত ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল।

‘এরপর যা যা ঘটেছে, ভীমকে বিষ খাওয়ানো থেকে শুরু করে যুধিষ্ঠিরের পাশায় হার, দ্রৌপদীর অপমান, কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ-সবই ছিল এক সূক্ষ্ম পরিকল্পনার ফল। এখানে একটা ব্যাপার খেয়াল কর, প্রতিশোধ নেওয়ার কথা ছিল কৌরবদের থেকে, অথচ সেই কৌরবদের পক্ষে থেকেই পাণ্ডবদের বিরুদ্ধে লড়াই করলেন শকুনি। তিনি জানতেন, যে পক্ষে স্বয়ং জগৎপালক বিষ্ণু শ্রীকৃষ্ণ রূপে উপস্থিত আছেন, তাদের হারানো সম্ভব নয়।

‘প্রতিশোধের এই খেলায় তিনি না নিজের বোনের কথা ভেবেছেন, না নিজের পরিবারের। নিজের বোনকে সন্তানশোক দিয়েছেন। নিজে সন্তানশোক পেয়েছেন। শেষে সহদেবের হাতে কুরুক্ষেত্রের শেষদিনে নিহত হয়েছেন। একবার ভাব তো, বছরের পর বছর অপেক্ষা করে কী সূক্ষ্ম উপায়ে তিনি কুরুবংশ ধ্বংস করেছিলেন। একভাবে দেখলে গোটা মহাভারত এবং কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ-সবকিছুই শকুনির মস্তিষ্কপ্রসূত। এবার বল দেখি, এটা রিভেঞ্জ কোল্ড সার্ভড হল না?’

বিক্রম সব শুনে মাথা নেড়ে বলল, ‘শকুনির গল্পটা আমিও কোথায় যেন পড়েছিলাম। কিন্তু এত ডিটেইলে জানতাম না। ভেরি ইন্সপায়ারিং।

একটা ব্যাপার বুঝলাম না, তুই একটা বাহান্ন তিপ্পান্ন বছরের লোককে এত স্কিলড বানাচ্ছিস কেন?’ বিক্রম হেলান দিয়ে বসে বলল।

‘আমি বলছি মানে? তুইও তো বলছিস। এখন আবার বলিস না যে, ওই লোকটার খুনি হওয়া সম্ভব নয় শুধু বয়সের কারণে।’ আমি অবাক হয়ে বললাম।

বিক্রম বলল, ‘না শুধু বয়সের কারণে বাতিল করছি না। একটা কথা ভেবে বল তো, ডাক্তার আকাশ মিত্র কারও সঙ্গে একটা গোপন চুক্তি করেছিল, আ সিক্রেট ফর আ সিক্রেট। প্রশ্ন হল, কী এই সিক্রেট?

খুনির বোনকে কেউ ধর্ষণ করে হত্যা করেছিল? কিন্তু এই ঘটনার কথা তো খবরের কাগজেই ছেপে গেছে, তাহলে কি এটাকে আর সিক্রেট বলা চলে? আর এটা যদি সিক্রেট না হয়, তাহলে সিক্রেটটা কী? আর সাজিদ জামাল মাত্র দশ বছর ধরে কলকাতায় রয়েছে, তার আগে জীবনভর রানিগঞ্জে থাকত-তাকে মারল কেন?’ বিক্রম আনমনে কথাগুলো বলছিল।

‘এই শেষ ভিক্টিম সাজিদ জামাল। এই লোকটা তো কি একটা ঘটনার কথা বলেছিল না? কোন একজন পুলিশ অফিসার আরেকজন পুলিশ অফিসারকে মারতে বলেছে। সেইটার কী ব্যাপার?’ আমি জিগ্যেস করলাম।

বিক্রম খানিকক্ষণ ভেবে বলল, ‘খুব জরুরি একটা ইনফরমেশন। কিন্তু খাপছাড়া এই ইনফরমেশনের আমি কী করব? কোথায় খুঁজব? কে কাকে মারতে বলেছে? সেই কাজটা আদৌ হয়েছিল কিনা? আর রানিগঞ্জের সঙ্গে কলকাতার এই কেসের কোনো যোগাযোগ আছে কি না? কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।’ শেষ কথাগুলো বলে বিক্রম নিজের চুলের মুঠি ধরে মাথা নিচু করে বসে রইল। খানিক বাদে উঠে বলল, ‘নাহ্, বাজে কথা বলে সময় নষ্ট করছি, তুই কাজ কর আমি চলি। একটু বেরোতে হবে, না হলে মাথা খুলবে না।’ বিক্রম উঠে পড়ল।

আমি পিছন থেকে জিগ্যেস করলাম, ‘কোথায় চললি? ফিরবি কখন?’

বিক্রম না ঘুরেই বলল, ‘জানি না, ঠিক নেই।’

অগত্যা আমি আবার নিজের কাজে মন দিলাম।

খাতা দেখা শেষ করে যখন উঠলাম, ঘড়িতে তখন দেড়টা। স্নান করতে যাব, এমন সময় কাজের মাসি মালতিদি এসে হঠাৎ আমার হাতে একটা অদ্ভুত জিনিস দিয়ে বলল, এটা নাকি সে বিক্রমের ঘরের সামনে পেয়েছে। ঠিক দরজার কাছটায়। আমি জিনিসটা হাতে নিলাম, প্রথম নজরে মনে হল একটা পিস্তল, যার নলটা নেই। আমি জিনিসটার একটা ছবি তুলে গুগলে গিয়ে ইমেজ সার্চ করলাম।

গুগল অনুযায়ী যেটা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, সেটাকে বলে অসিলিয়েটিং স। এটা ডাক্তারেরা ব্যবহার করে অপারেশনের সময় হাড় কাটতে। মনে পড়ে গেল আর. জি. করের সেই আইনস্টাইন ডাক্তারের কথা। সার্জিকাল ইন্সট্রুমেন্ট প্রয়োগ হয়েছিল তোর্সা দেব রঞ্জনের হাতের আঙুল কাটতে আর ডাঃ আকাশ মিত্রের মুখ খুলতে। কিন্তু এটা এখানে কী করছে? ভাবতেই গা-টা শিরশির করে উঠল।

আমি মালতিদির দিকে ঘুরে জিগ্যেস করলাম, বিক্রমের ঘরের জানালা খোলা ছিল কি না?

সে বলল, একটু আগে নাকি সে নিজেই খুলেছে। জিনিসটা তার হাতে দিয়ে বললাম, ‘ঠিক যেখান থেকে তুলেছ,সেইখানে সেইভাবে রেখে এসো।’

মালতিদি বলল, ‘এইটা কী দাদা?’

আমি বললাম, ‘কী তোমায় বোঝানো যাবে না। যেটা বললাম সেটা করো।’ আমি জিনিসটা ওর হাতে দিয়ে স্নানে গেলাম। বাথরুমে ঢুকে শাওয়ার চালিয়ে দাঁড়ালাম। বারবার মনে হতে লাগল, কেউ যেন পিছনে দাঁড়িয়ে আছে। একটা চোরা আতঙ্কে জলের তলায় দাঁড়িয়েও যেন শরীর গরম হয়ে যাচ্ছে। দুপুরবেলা টেনে জ্বর এল। সামান্য একটু ভাত, ডালের জল দিয়ে খেলাম। তারপর একটা ক্যালপল খেয়ে শুয়ে পড়লাম। 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *