চিলেকোঠার অভিশাপ
সন্ধেবেলায় আমরা বালিগঞ্জ থানায় গেলাম। সেখানে প্রদীপ্তর নির্দেশে এসে উপস্থিত হয়েছেন আকাশ মিত্রের জ্যাঠতুতো ভাই আনন্দ মিত্র। বিক্রম প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু করল, ‘মিস্টার মিত্র, আমি বিক্রমজিৎ চক্রবর্তী। আমরা আপনার বেশি সময় নষ্ট করতে চাই না, তাই সোজা পয়েন্টে আসছি। আপনার দাদার সঙ্গে পঁচিশ বছর সংসার করার পরেও আপনার বউদির ধারণা-ওনার থেকে অনেক কিছু লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আর হওয়াটাই স্বাভাবিক, আপনার দাদার মতো একজন নির্বিবাদী মানুষকে কেউ এরকম নৃশংসভাবে খুন করবে কেন? সুতরাং কিছু না লুকিয়ে সব পরিষ্কার করে খুলে বলুন।’
আনন্দ মিত্র টেবিলে রাখা জলের গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে বলা শুরু করলেন, ‘বেশ, সবই বলছি। দাদার একটা ইতিহাস আছে, সেটা আগে বলি। দাদা ছেলেবেলা থেকে খুব প্রাণোচ্ছল মানুষ ছিল। খেলাধুলা, হই-হট্টগোল এসব নিয়েই থাকত। আমি আর দাদা দু’বছরের ছোট বড়, ফলে আমি ছিলাম দাদার পার্টনার ইন ক্রাইম।
‘সময়টা ‘৬৪ সাল। সে সময় আমাদের আপন পিসি বিয়ের তিন বছরের মাথায় স্বামীকে হারায়। তার উপর নিঃসন্তান! শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে ঝামেলায় সে বাপের বাড়িতে এসে ওঠে। আমরা সে সময় অনেক ছোট ছিলাম। পিসির ভেতরে যে কী ভীষণ যৌন খিদে লুকিয়ে ছিল বুঝিনি। তার কুনজর পড়ল দাদার ওপর। দ্যাট ব্লাডি কাউগার। প্রথম প্রথম দাদার সঙ্গে খুব সময় কাটাত, দাদার প্রিয় খাবার রান্না করে দিত, ছুটির দিনে দুপুরবেলা গল্প শোনাত। এইভাবে দাদাকে নিজের মুঠোয় বন্দি করা শুরু করল।
‘কিছুদিন পর থেকে দাদার মধ্যে আস্তে আস্তে একটা পরিবর্তন আসা শুরু হল। সেই প্রাণোচ্ছল ব্যাপারটা কোথায় যেন হারিয়ে যেতে লাগল। আমার কাকিমা এ সময় একটা ভীষণ ভুল করে বসলেন। ছেলের দায়িত্ব দিয়ে দিলেন নিজের বিধবা ননদকে। ফলে ধীরে ধীরে দাদার অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে দিল। সেবার এক টিচারের অবসর উপলক্ষ্যে আমাদের স্কুল হাফ-ছুটি হয়ে গিয়েছিল। দাদা সেদিন কী কারণে যেন স্কুলে যায়নি। বাড়িতে ফিরে দেখি সবাই ঘুমাচ্ছে।
‘কী মনে হওয়ায় দাদার খোঁজে ওপরের চিলেকোঠার ঘরে চুপি চুপি গেলাম। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখলাম, পিসি নগ্ন অবস্থায় একটা অজগর সাপের মতো দাদাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিজের যৌন খিদে মেটাচ্ছে। আমি খানিকক্ষণ ওখান থেকে নড়তে পারিনি। একসময় দাদার ওপর নজর পড়ল, ঘেন্নায় আর ভয়ে কাঁদতে পর্যন্ত পারছিল না।’
ভদ্রলোক দম নেওয়ার জন্য একটু থামলেন। তারপর আবার বলা শুরু করলেন, ‘আমি পরে দাদাকে চুপিচুপি সবকিছু জিগ্যেস করি। ও ভয়ে প্রথমে কিছু বলে না। পরে আমায় বলেছিল, কাউকে কিছু না বলতে। আমি বলেছিলাম, কিছু যদি না বলি, তাহলে তো ও তোকে প্রতিদিন এইভাবে কষ্ট দেবে। দাদা হাতজোড় করে অনুরোধ করে মুখ বন্ধ রাখার।
‘কিন্তু আমি বেশিদিন চুপ করে থাকতে পারিনি। তারপর থেকেই আমার ভীষণ রাগ হতো পিসিকে দেখলে। এক দিন কী কথায় রাগের চোটে আমি একটা জলের গ্লাস ছুড়ে মারি পিসির দিকে। মা আমাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে খুব দু’চার ঘা দেওয়ায় সেদিন আমি মা’কে সবকিছু খুলে বলেছিলাম। পরে মায়ের থেকেই সবাই ধীরে ধীরে ব্যাপারটা জানতে পারে। পিসিকে এক দিন সবাই মিলে কনফ্রন্ট করে। ততদিনে সে একটা নিম্ফোমেনিয়াকে পরিণত হয়েছে। সেদিন আমি আর দাদা লুকিয়ে চিলেকোঠার ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম। পিসি বজ্রাঘাতের মতো জানান দেয়, ওর পেটে নাকি দাদার…।’
‘তারপর?’
‘পাপের ফল ভূমিষ্ঠ হয়নি। পিসির প্রেগনেন্সি সামনে আসতেই কাকিমা ভীষণ ভয় পেয়ে যান। বাবা কাকা দুজনেই ঠিক করেন যে, বাচ্চাটাকে অ্যাবর্ট করিয়ে পিসিকে একটা হোমে পাঠিয়ে দেবেন। কিন্তু ক’দিন পরে পিসির ঝুলন্ত দেহ চিলেকোঠার ঘরে পাওয়া যায়। আমার বাবা ছিলেন সেই সময়কার একজন নামকরা ক্রিমিনাল লইয়ার। গোটা ব্যাপারটা তিনি সামলে নেন। বাইরে রটিয়ে দেওয়া হয় পিসি বৈধব্যজনিত কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। আর পুলিশকে জানানো হয়, কোনো এক অজানা প্রেমিকের পাল্লায় পড়ে মুখ পুড়িয়ে পিসি আত্মহত্যা করেছে। এর পরে দাদাকে হোস্টেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এই হল গোটা ঘটনা।’ ভদ্রলোক থামলেন। এতক্ষণ টানা কথা বলে হাঁপিয়ে গিয়েছেন।
বিক্রম এবার আনন্দবাবুর দিকে সামান্য ঝুঁকে জিগ্যেস করল, ‘মিস্টার মিত্র, আমরা এতক্ষণ কারণ শুনলাম। এবার ফলাফলটা বলুন।’
আনন্দবাবু অবাক হয়ে বললেন, ‘ফলাফল মানে?’
‘মানে এই ঘটনা কীভাবে আপনার দাদার ওপর প্রভাব ফেলেছিল-সে বিষয়ে বলুন। আপনার দাদা বাইরে চুপচাপ থাকতেন, আপনার কাছে নিশ্চয়ই নয়। আপনি তো ওনার রিডেম্পশন পয়েন্ট ছিলেন। ভালো কথা, আপনার ভাইপো জন্মায় কত সালে?’
‘বাবলু? ও তো বোধহয় ‘৯৩… হ্যাঁ ‘৯৩-এর ২২শে অক্টোবর। আমার মেয়ে তিতলি ২৫ আর বাবলু ২২।’
‘ওই বছরের জুলাই মাসে কী হয়েছিল? যে সময় আপনার বউদি শিলিগুড়িতে ছিলেন!’
‘এটা কি আপনাকে বউদি জানিয়েছে?’ ভদ্রলোক গম্ভীর হয়ে প্রশ্ন করলেন।
‘কে জানিয়েছে সেটা জেনে আপনার লাভ নেই। যেটা জিগ্যেস করা হচ্ছে, তার উত্তর দিন।’ প্রদীপ্ত রূঢ়ভাবে বলল।
ভদ্রলোক মাথা নিচু করে বললেন, ‘দেখুন, পিসির ঘটনাটা দাদার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। সেক্স ব্যাপারটাই ওর কাছে একটা ভয়ের ব্যাপার হয়ে গিয়েছিল। আমি ভেবেছিলাম, ও বুঝি অ্যাসেক্সুয়াল হয়ে গেছে, কিন্তু সে ভুল আমার ভাঙে। দাদা একবার আমায় বলেছিল, ও সমবয়সি কারও প্রতি কোনো যৌন আকর্ষণ অনুভব করে না, করে শিশুদের প্রতি। হি ওয়াজ আ পেডোফাইল। ওর বিয়েটাও একরকম জোর করে দেওয়া হয়েছিল।
‘কিন্তু তারপরেই একটা জঘন্য ঘটনা ঘটে। আমি তখন দিল্লিতে, এক দিন দাদা ফোন করে ভয়ে প্রায় কাঁদতে কাঁদতে বলেছিল, একটা বিশ্রী কাণ্ড করে ফেলেছে। ওদের কাজের মেয়েটার একটা ছোট্ট বাচ্চা মেয়ে… সে নাকি খালি গায়ে একটা ছোট প্যান্ট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। আর বারবার দাদার ঘরে ঢুকে দাদাকে বিরক্ত করছিল। দাদা বেশ কয়েকবার বারণ করেছিল, কিন্তু বাচ্চাটা নাকি কথা শোনেনি।
‘একসময় দাদার টেম্পটেশন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বাচ্চার মা নাকি দাদাকে নিজের মেয়ের সঙ্গে বিশ্রী অবস্থায় ধরে ফেলে। তারপর দাদার বিরুদ্ধে পুলিশ কমপ্লেইনও হয়। আমি ঠিক করি কলকাতায় আসব। যেদিন আসব, ঠিক তার আগেরদিন রাতে দাদা আবার ফোন করে। বলে, গোটা ব্যাপারটা নাকি সামলে নেওয়া হয়েছে। কে সামলাল, কীভাবে সামলাল কিছুই বলল না। শুধু একটাই কথা বলেছিল, “আরকানাম প্রো আরকানো”… ব্যাপারটা ওখানেই চাপা পড়ে যায়, পারিবারিক সম্মানের স্বার্থে আমি কোনোদিন এ বিষয় মুখ খুলিনি। আমার নিজের পরিবারও দাদার অতীত সম্পর্কে জানে না। আপনাদের কাছে অনুরোধ, দয়া করে আমাদের এই পারিবারিক লজ্জার কথা বাইরে প্রকাশ করবেন না।’
‘কথা দিলাম মিস্টার মিত্র, একান্ত নিরুপায় না হলে এই গুহ্য পারিবারিক ইতিহাস গোপনই থাকবে।’ বিক্রম আনন্দবাবুকে আশ্বস্ত করল।
আনন্দবাবু উঠে বেরিয়ে গেলেন। আমরা খানিকক্ষণ থানায় চুপ করে বসে রইলাম। একসময় প্রদীপ্ত বলল, ‘লালন ফকিরের একটা গান আছে-তিন পাগলে হইল মেলা নদে এসে, আমাদের এখন তাই অবস্থা।’
বিক্রম অনেকক্ষণ ধরে চুপচাপ কী যেন ভাবছিল, এবারে মুখ খুলল ‘আচ্ছা প্রদীপ্ত, আনন্দবাবু একটা কথা বললেন, কাজের মেয়ে লক্ষ্মী ডাঃ মিত্রের বিরুদ্ধে পুলিশে রিপোর্ট করেছিল। আর তুমি বললে যে কয়েক বছর আগের একটা সিগন্যাল ভাঙা ছাড়া ওনার বিরুদ্ধে নাকি কোনো কেস নেই। এটা কী করে সম্ভব?’
প্রদীপ্ত খানিক ভেবে বলল, ‘কারেক্ট, এই ব্যাপারটা তো ভাবিনি। আর আমি কোনো টাইম ফিল্টার করেও সার্চ করিনি, তাহলে কেন দেখাল না?’
‘কোনোভাবে ডিলিট করা সম্ভব?’ বিক্রম জিগ্যেস করল।
প্রদীপ্ত খানিকক্ষণ কী যেন ভাবল। তারপর বলল, ‘ওহ্, আমারই বোকামি, ঘটনাটা ঘটেছিল অ্যারাউন্ড ১৯৯৩। সে সময় কম্পিউটার কোথায়? সেই কারণেই পাইনি। তবে পুলিশ ফাইল ঘাঁটলে কিছু পাওয়া যেতে পারে। হয় লালবাজার নয়তো সাউথ ইস্ট ডিভিশন অফিস।’
‘আমি তোমাকে নিরুৎসাহ করতে চাই না প্রদীপ্ত, তবে আমার স্থির বিশ্বাস তুমি কিচ্ছু খুঁজে পাবে না।’ বিক্রম বলল।
প্রদীপ্ত একটা শুকনো হাসি হেসে বলল, ‘কথাটা তুমি এইজন্য বললে তো কারণ ডাঃ মিত্রের কোনো সাজা হয়নি? ওয়েল, সাজা না হলেও দ্য রিপোর্ট ওয়াজ ডকুমেন্টেড। সেটা পুরোনো স্টেশন রেজিস্টারে চেক করলেই পাওয়া যাবে।’
‘না প্রদীপ্ত, কথাটা আমি সেইজন্য বলিনি। আনন্দবাবুকে তার দাদা কলকাতা আসতে বারণ করার সময় কী বলেছিলেন?’
‘কী যেন একটা অদ্ভুত কথা… ইংরেজিতে…’
বিক্রম হালকা হেসে বলল, ‘ইংরেজি নয়, ওটা একটা ল্যাটিন ইডিয়ম “আরকানাম প্রো আরকানো”, রাফ ট্রান্সলেশন করলে “আ সিক্রেট ফর আ সিক্রেট”। অর্থাৎ উনি একটা চুক্তি করেছিলেন। সম্ভবত কোনো পুলিশ অফিসারের সঙ্গে যে এই কেসের রেকর্ড এবং লক্ষ্মী ও তার পরিবারকে সরিয়ে দেয়। তোমায় সেই সময়কার পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, যারা এই বালিগঞ্জ থানার দায়িত্বে ছিলেন। তারা যদি কেউ কিছু মনে করতে পারেন তো ভালো, নয়তো দিস ইজ দ্য ডেড এন্ড।’
‘ডেড এন্ড কেন বলছ? কোনো না কোনো সাক্ষী নিশ্চয়ই আছে। আমি এত সহজে হার মানতে চাই না।’ প্রদীপ্তর গলায় দৃঢ়তা প্রকাশ পেল। আর আমি ভাবছিলাম এত বছর আগের ঘটনা যদি কারও মনে না পড়ে, তাহলে তো তাকে দোষও দেওয়া যায় না। সে সময় সিসিটিভিও ছিল না। এমন সময় বিক্রমের কথায় আমার ভাবনার জাল ছিন্ন হল। ও বলল, ‘তুমি এক কাজ করো প্রদীপ্ত, ডাঃ মিত্রের কেস ফাইলগুলো ভালোভাবে সার্চ করো। দ্যাখো ওখানে কোনো পুলিশ অফিসারের কেস হিস্ট্রি পাও কি না। সিক্রেট ফর আ সিক্রেট যখন, তখন কেউ নিশ্চয়ই যেচে নিজের গোপনতম কথাটা কাউকে বলতে যাবে না। সুতরাং কিছু না কিছু নিশ্চয়ই পাবে।’
‘যদি সেখানেও পাওয়া না যায়?’
‘ডাক্তারের কাছে ডিটেইল পাওয়ার চান্স সবচেয়ে বেশি, কারণ লোকটা ভিতু প্রকৃতির। দ্যাট হিস্ট্রি অ্যাজ আ ফাইল ওয়াজ হিজ ইনস্যুরেন্স পলিসি।’
প্রদীপ্ত খানিকক্ষণ বিক্রমের দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর এগিয়ে এসে বিক্রমের কাঁধে হাত রেখে বলল, ‘তুমি ফোর্স জয়েন করলে আমরা একজন দুর্দান্ত বুদ্ধিমান অফিসারকে পেতাম। তোমার কাকা লেজেন্ড ছিলেন, কিন্তু তুমিও কম যাও না। ইটস অ্যাকচুয়ালি অ্যান অনার ওয়র্কিং উইথ ইউ।’ কথাটার শেষে প্রদীপ্ত নিজের হাতটা বিক্রমের দিকে বাড়িয়ে দিল্ল। বিক্রম হেসে হাতটা ধরে ঝাঁকিয়ে করমর্দন করল।
তবে আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হল না। কারণ দু’দিন বাদে প্রদীপ্ত ফোন করে বেশ কয়েকটা খারাপ খবর দিল। প্রথমেই জানাল, দু’দিন ধরে খুঁজেও ডাঃ মিত্রের কম্পিউটারে বা হার্ড ডিস্কে সেরকম কিছুই পাওয়া যায়নি। এমনকী তোর্সা দেব রঞ্জনের ফাইলও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সঙ্গে এ-ও জানাল, প্রিলিমিনারি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে-ডাঃ আকাশ মিত্র, এক নির্মম এবং যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুবরণ করেছেন। মুখে টেডি গুঁজে দেওয়ার আগে নাকি দুই গালের পাশ থেকে কোনো সার্জিকাল স ব্যবহার করে কেটে সেটাকে চওড়া করা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ, দুটো চোখে কলম ঢোকানোর ফলে সৃষ্ট গুরুতর আঘাত! আর ফরেন্সিক টিম অনেক খুঁজেও খুনির ফেলে যাওয়া কোনো সূত্র পায়নি। সমস্ত শুনে বিক্রম গুম হয়ে বসে রইল।
