লালবাজারে লাল আলো
লালবাজারের সামনে দিয়ে বেশ কয়েকবার গেলেও ভিতরে ঢোকা এই প্রথমবার। পুরোনো ব্রিটিশ আমলের বিল্ডিং। বিক্রমের থেকে জানলাম, এই ধরনের বিল্ডিংকে নিও-ক্লাসিকাল আর্কিটেকচার বলে। শেখর সেনের অফিসের বাইরে বড় বড় করে লেখা-ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট। আর নীচে তার জন্মসাল ১৮৬৮। ভেতরে ঢুকতেই একজন সিভিল-ড্রেস পরা অফিসার জিগ্যেস করলেন, ‘বলুন, কী ব্যাপার?’
বিক্রম সপ্রতিভ স্বরে বলল, ‘আমরা ডিসিডিডি শেখর সেনের সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে?’
‘না, তবে উনি আমায় চেনেন আর তাছাড়া…’
অফিসার হাত তুলে বললেন, ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা হবে না। স্যার প্রচণ্ড ব্যস্ত।’
‘দেখুন আমার নাম বিক্রমজিৎ চক্রবর্তী। উনি আমাদের ফ্যামিলি ফ্রেন্ড, আমায় খুব ভালো করে চেনেন। আপনি প্লিজ একবার…’
‘আরে দাদা, উনি সবাইকে চেনেন-তাই বলে সবাইকেই যদি ঘরে ঢুকিয়ে দিই, তাহলে আমার চাকরিটা থাকবে এদিকে এত বড় ভিআইপি মার্ডার হয়ে গেল, নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই, আর আপনি এসেছেন ফ্যামিলি ফ্রেন্ড মারাতে। কাজের সময়ে যত্তসব উটকো ঝামেলা!’
বিক্রম আর কথা না বাড়িয়ে শান্তভাবে পকেট থেকে ফোন বের করে একটা নম্বর ডায়াল করল।
‘হ্যালো শেখরকাকু, আমি রনি।… বলছিলাম তুমি কি অফিসে?… আমি দেখা করতে এসেছিলাম… হ্যাঁ, খুব আর্জেন্ট, একটু সময় হবে?… আমি তোমার অফিসের বাইরেই দাঁড়িয়ে আছি।… হ্যাঁ।… না মানে… তুমি একটু অনুমতি দিলে ভেতরে আসতে পারি আর কী।… ওহ্, থ্যাঙ্কস আ লট কাকু।’
বিক্রম ফোনটা পকেটে রাখার আগেই ওই অফিসারের ইন্টারকমে আমাদের প্রবেশের অনুমতি এসে গেল। ভেতরে যেতে যেতে আমি বিক্রমকে বললাম, ‘প্রথমেই যদি ফোনটা করতিস, তাহলে ওই লোকটার থেকে এত মিষ্টি মিষ্টি কথা শুনতে হতো না।’
বিক্রম ঠোঁটের কোণে সেই হাসিটা এনে বলল, ‘তাহলে মিষ্টি মানেই ভালো এমনটা নয়, কি বল?’ এই অবস্থায় বিক্রমের খুনসুটি করতে ইচ্ছে করছে। সত্যি! এটা ও বলেই সম্ভব।
বাইরের দরজায় দু’বার নক করতেই ভেতর থেকে গম্ভীর স্বর শোনা গেল, ‘কাম ইন।’
অনুমতি পেয়ে আমরা দুজনে ভেতরে ঢুকলাম।
শেখর সেনের অফিস ঘরটা বেশ বড় এবং পরিপাটি। ভেতরে ঢুকতেই প্রথমেই নজরে পড়ল এক বিশাল কাঠের এক্সিকিউটিভ টেবিল, পুরোনো কিন্তু চমৎকার পালিশ করা। ডেস্কের ওপর সাজানো কয়েকটা নথি, একটা কালো রঙের ল্যান্ডলাইন ফোন, আর একপাশে একটা নেমপ্লেট-শেখর সেন, ডেপুটি কমিশনার, ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট।
আমাদের দেখে শেখর সেন একগাল হেসে উঠে দাঁড়ালেন। বিক্রমের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তারপর রনিবাবু, অবশেষে এই বুড়োটাকে মনে পড়ল? আমি তো ভেবেছিলাম, মড়ার পর যদি মালা-টালা দিতে আসিস!’
বিক্রম কোনো উত্তর না দিয়ে সোজা এগিয়ে গিয়ে ঢিপ করে একটা প্রণাম করল। দেখাদেখি আমিও করলাম।
‘এই, থাক থাক, বোস বোস।’ খুশি খুশি মুখে বললেন শেখর সেন।
বিক্রম চেয়ারে বসেই নাটকীয় ঢঙে বলে উঠল, ‘শেখরকাকু, সব দোষ আমার। আমায় আলসেমিতে পেয়ে বসেছিল। আমি তোমার অপরাধী। যা শাস্তি দেবে, সব মাথা পেতে নেব।’
‘যাক, অপরাধী যখন নিজেই অপরাধ স্বীকার করছে, তখন তো তাকে গ্রেফতার করতে কোনো বাধাই নেই।’ কথাটা বলেই টেবিলের পাশে রাখা ল্যান্ডলাইনে একটা নম্বর ডায়াল করলেন, তারপর কারও উদ্দেশে বললেন, ‘আমার ঘরে তিন কাপ চা পাঠাও।’
ভদ্রলোককে দেখে বুঝলাম বেশ আমুদে মানুষ। এত উঁচু র্যাঙ্কের অফিসারকে যেরকম কল্পনা করেছিলাম, সেরকম নন।
‘যাক! এবার বল রনি, তোর খবর কী? এখানে কী মনে করে?’ তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আর একে তো ঠিক চিনতে পারলাম না।’
আমি বিক্রমের দিকে তাকাতেই সে বলে উঠল, ‘ওহ্! তোমার সঙ্গে আলাপ করানো হয়নি। ও হচ্ছে বোধিসত্ত্ব ঘোষ। আমার বন্ধু। আমরা একসঙ্গে স্কুলে পড়েছি। ওদের আদি বাড়ি খড়গপুরে, ওর মা ওখানেই থাকেন। আর ও চাকরিসূত্রে এখন আমার বাড়িতে থাকে। প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেল।’
‘বাহ! বেশ বেশ। তাহলে এবার তোর এখানে আসার কারণটা শুনি?’
বিক্রম কিছুটা গম্ভীর হয়ে বলল, ‘শেখরকাকু, আমি অযথা ভণিতা করে তোমার সময় নষ্ট করব না, তাই সরাসরি কাজের কথায় আসি। আজ সকালে আমি তোর্সা দেব রঞ্জনের খবরটা শুনলাম। এই কেসটায় আমি একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটর হিসেবে পুলিশকে সাহায্য করতে চাই। আর তার জন্য তোমার অনুমতি লাগবে।’
শেখর সেন কিছুক্ষণ চুপ করে বিক্রমের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীর গলায় বললেন, ‘তোর হঠাৎ এই মতিভ্রম হল কেন?’
‘আসলে কাকু, আমি অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করব। ছোটকার মতো পুলিশ অফিসার তো আর হওয়া হল না। অবশ্য চেষ্টা যে করিনি তা নয়, কিন্তু ইউপিএসসি ক্লিয়ার করা আমার কম্ম নয়-এই সহজ কথাটা হজম করতে একটু সময় লেগে গেল। তাছাড়া তোর্সা দেব রঞ্জনকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনতাম। ছোটকার সঙ্গে ওনার পরিচয় ছিল। সেই সূত্রে আমাদের বাড়িতেও এসেছিলেন। তখন অবশ্য আমি অনেক ছোট, তবুও…। সব মিলিয়ে ধরে নাও, খানিকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাচ্ছি।’
শেখর সেন এবার ঠান্ডা স্বরে বললেন, ‘দ্যাখ রনি, তুই দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে চাস, নাকি জলে মেটাতে চাস-সেটা আমার লুক আউট নয়। বাট অ্যাজ আ রেসপন্সিবল পুলিশ অফিসার, আ চাইল্ড কান্ট প্লে উইথ আ লোডেড গান আন্ডার মাই ওয়াচ। আয়াম আফ্রেড ইউ জাস্ট টার্ন আউট টু বি দ্যাট চাইল্ড বাই ইওর ব্লেটেন্টলি ইমম্যাচিওর ওয়ার্ডস।
‘কিছু জিনিস তোকে বুঝতে হবে রনি-এক, তুই আমার কর্মজীবনের গুরু আকাশ চক্রবর্তীর ভাইপো, তাই তোর থেকে এই ধরনের চাইল্ডিশ কথা আমি আশা করি না। দুই, তোর্সা দেব রঞ্জন কোনকালে তোদের বাড়িতে গিয়েছিল বলে আমি তোকে এরকম একটা হাই-প্রোফাইল কেসে গোয়েন্দা গোয়েন্দা খেলতে দেব-এটা হতে পারে না। গল্পে ফেলুদা, ব্যোমকেশ কাউকেই জবাবদিহি করতে হয় না। কিন্তু আমাদের করতে হয়। তার ওপর মিডিয়ার চাপ, অপোজিশনের প্রেসার। অসম্ভব… আয়াম সরি, বাট নো!’
পরিস্থিতি বেশ থমথমে। আমি একবার আড়চোখে বিক্রমের দিকে তাকিয়ে নিলাম। দেখলাম, ওর চোয়াল শক্ত হয়ে গেছে। ও আস্তে আস্তে বলল, ‘তোমার কেন মনে হচ্ছে শেখরকাকু আমি এখানে গোয়েন্দা গোয়েন্দা খেলতে এসেছি? আমায় বা আমাদের তুমি যতদিন ধরে চেনো, জানো, তারপরেও যদি ভাবো এটা কোনো ছেলেখেলা, তাহলে আমার আর কিছু বলার নেই। আমি কিন্তু আইপিএস আকাশ চক্রবর্তীর ছায়ায় বড় হয়েছি। পুলিশ প্রোটোকল সম্বন্ধে আমার ক্লিয়ার ধারণা আছে। আমি জানি আমি কী করছি। আমি শুধু একটা সুযোগ চাই মাত্র।’
‘বুঝলাম। ইটস পার্সোনাল দেন। আয়াম শিওর আকাশদা তোকে অনেক কিছু শিখিয়ে গেছে, ঠিক যেমন আমাকেও শিখিয়েছিল, কিন্তু দিনের শেষে আকাশ চক্রবর্তী ইজ আকাশ চক্রবর্তী আর আমরা হচ্ছি আমরা। একজন মানুষ আর তার ছায়া এক জিনিস নয়।’ শেখর সেন খানিকটা নরম গলায় বললেন।
‘ছায়া ছাড়া কায়া হয় না শেখরকাকু। দ্যাখো, একটা কথা তো আমরা দুজনেই জানি যে, আকাশ চক্রবর্তী আমাদের দুজনেরই গুরু। আমি গুরুদক্ষিণা দেব এই কেসটা সলভ করে, আর তুমি দাও আমায় সুযোগ দিয়ে।’
শেখর সেন চেয়ারে হেলান দিয়ে বললেন, ‘বটে!’
‘একদম। এবার বলো অনুমতি কি পাব?’
‘কিন্তু রনি, এই কেসটাই কেন?’
‘এককথায় বলতে গেলে এটা ইন্টারেস্টিং তাই।’
‘বুঝলাম, কিন্তু তুই আদৌ পারবি কি না, সেটাও তো যাচাই করা দরকার।’
‘তোমার যাচাই করা হয়ে গেছে শেখরকাকু, এবারে আমায় দেওয়ার জন্য যে ফাইলটা গুছিয়ে রাখলে ওটা দাও। আমি একটু স্টাডি করি।’
এই শেষ কথাটা শুনে হো হো করে হেসে উঠলেন ডিসিডিডি শেখর সেন। ঘরের গুমোট আবহাওয়াটা এক নিমেষে বদলে গিয়ে একটু রোদের দেখা মিলল।
‘সাবাস! বেশ, অনুমতি দিলাম। কিন্তু যদি রেজাল্ট দিতে না পারিস, তাহলে মনে রাখিস, হোয়াট ইজ গিভেন ক্যান বি টেকেন ব্যাক অ্যাট এনি পয়েন্ট অফ টাইম। আর দুজনকেই বলছি, এটা পাঁচকান করিস না। ঠিক আছে?’
কথাটা বলেই আবার ওই কালো ফোনটা তুলে কাকে যেন ডায়াল করলেন, তারপর বললেন, ‘একটু প্রদীপ্তকে পাঠাও।’
কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন বেশ ঝকঝকে, স্মার্ট পুলিশ অফিসার ঘরে প্রবেশ করলেন। বয়স আমাদের কাছাকাছি হবে। শেখর সেনের উদ্দেশে একটা লম্বা স্যালুট ঠুকে জিগ্যেস করলেন, ‘আমায় ডেকেছিলেন স্যার?’
‘হ্যাঁ প্রদীপ্ত, তোমার সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিই এ হল বিক্রমজিৎ চক্রবর্তী আর তোমার নামটা যেন কী ভাই?’
‘আমি বোধিসত্ত্ব ঘোষ স্যার।’ আলতো হেসে বললাম।
‘হ্যাঁ, ও হল বোধিসত্ত্ব। বিক্রমের ছোটবেলার বন্ধু। বিক্রম হচ্ছে আইপিএস আকাশ চক্রবর্তীর ভাইপো।’
‘আকাশ চক্রবর্তী? মানে নওলাখা মার্ডার কেস, বিডন স্ট্রিট মার্ডার কেস আর ‘৯৫-র পুরুলিয়া আর্মস ড্রপ কেস… সেই আকাশ চক্রবর্তী?’
‘একদম ঠিক।’
ইন্সপেক্টর প্রদীপ্ত উজ্জ্বল চোখে বললেন, ‘ওরেব্বাস! উনি তো লালবাজারের এরকুল পোয়ারো।’
‘আর ইনি হচ্ছেন এরকুল পোয়ারো ভার্সান ২.০। আমাদের এই কেসে অ্যাজ আ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটর হিসাবে কাজ করবে। তুমি ওকে সবরকমভাবে সাহায্য কোরো। পরিবর্তে ও আমাদের সবরকমভাবে সাহায্য করবে। কিন্তু আমায় জিজ্ঞাসা না করে কোনো স্টেপ নেবে না। এটা এই কেসের ফাইল। গুড লাক জেন্টেলমেন। ডিসমিস।’
শেষ কথাটার পর আমরা সবাই ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। ইন্সপেক্টর প্রদীপ্ত হেসে আমাদের দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘আমি কিন্তু আপনার কাকার একজন গুণমুগ্ধ ভক্ত, অ্যাকাডেমিতে ওনার কথা এত শুনেছি। এনিওয়ে লেট মি ফর্মালি ইন্ট্রোডিউস মাইসেল্ফ, আই অ্যাম সিনিয়র ইন্সপেক্টর প্রদীপ্ত সান্যাল। এই কেসের ইনচার্জ।’
‘ইটস আ প্লেজার টু মিট ইউ।’
আমরা একে-অপরের সঙ্গে করমর্দন করলাম। প্রদীপ্ত সান্যাল বললেন, ‘কেসের ব্যাপারে ডিসকাস করবেন তো? চলুন আমার অফিসে গিয়ে বসা যাক।’
আমরা তিনজন ওনার ঘরে গিয়ে বসলাম। এই ঘরটা শেখর সেনের ঘরের প্রায় চারগুণ সাইজ, তবে এটা প্রদীপ্তবাবুর একার ঘর নয়। এখানে অনেকেই বসে আছেন। প্রদীপ্তবাবু তাঁর টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারদুটোয় আমাদের বসতে বললেন। তারপর প্রশ্ন করলেন, ‘আচ্ছা মিস্টার চক্রবর্তী…’
বিক্রম হাত তুলে বলল, ‘অনলি বিক্রম, আর এসব আপনি-টাপনি নয় প্লিজ।’
‘বেশ, তাহলে আমার ক্ষেত্রেও কিন্তু তুমিটাই চলবে। দুজনকেই বললাম। আচ্ছা বিক্রম, তোমার কাকা… উনি তো অন ডিউটি মারা যান র্যাদার শহিদ হন। সরকার থেকে তোমাদের কোনো চাকরি অফার করেনি?’
বিক্রম হালকা হেসে বলল, ‘করা হয়েছিল। কিন্তু ছোটকা খুব এথিকাল মানুষ ছিলেন। সবসময় বলতেন, “নিজের নৈতিক প্রাপ্য ছাড়বে না আর অনৈতিক প্রাপ্য ছোঁবে না” কথাটা এতবার শুনেছি যে, একেবারে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। তাই সে সময় অফারটা ডিক্লাইন করে দিই।’
‘বুঝলাম। এবার কেসের কথায় আসি?’
‘নিশ্চয়ই।’
‘সবার আগে বলে রাখি, এর আগে এরকম নৃশংস ঘটনা আমি কোনোদিন দেখিনি। দাঁড়াও, সবার আগে তোমাদের কয়েকটা ছবি দেখাই, তাহলে বুঝতে সুবিধা হবে।’
প্রদীপ্ত তার পাশে রাখা ল্যাপটপ থেকে বেশ কয়েকটা ছবি আমাদের সামনে খুলল। অত্যন্ত ভয়াবহ এবং বীভৎস। আমি কয়েকটা ছবি দেখেই অন্য দিকে তাকালাম। বিক্রমকে দেখলাম, বেশ মনোযোগ দিয়ে জুম করে প্রতিটা ছবি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। দেখা শেষ হলে প্রদীপ্তকে জিগ্যেস করল, ‘আচ্ছা, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেতে কতদিন লাগবে?’
‘প্রাইমারি অটোন্সি রিপোর্টটা আশা করছি কালকের মধ্যেই পেয়ে যাব। তবে টক্সিকোলজি, হিস্টোপ্যাথোলজি, ডিএনএ আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট অ্যানালাইসিস আসতে মিনিমাম দু’সপ্তাহ লাগবে।’
‘ফাস্ট ট্র্যাক করা যাবে না?’
প্রদীপ্ত একটু হেসে বলল, ‘ফাস্ট ট্র্যাক করেই এই সময়টা লাগছে। সাধারণ কেসে কয়েক মাস সময় লেগে যায়।’
‘ওকে, ভিক্টিমের পরিবার কি এখন ওই বাড়িতেই আছে?’
‘হ্যাঁ, আছে।’
বিক্রম একটু ভেবে নিয়ে বলল, ‘একবার সকলের সঙ্গে কথা বলা যাবে?’
‘তা যাবে, তবে আমি একবার স্যারকে জিগ্যেস করে নিই?’
‘অবশ্যই।’
অনুমতি পেতে অসুবিধা হল না। আমরা তিনজনে একটা পুলিশের জিপে উঠে রঞ্জন পরিবারের উদ্দেশে রওনা দিলাম।
