আইনের আর্তনাদ – প্রমিত গুপ্ত

আইনের আর্তনাদ 

আজ সারাদিন মেঘলা করে আছে, শহরটা যেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে ভয়ংকর কিছুর জন্য অপেক্ষা করছে। ডাঃ মিত্রের খুনের তিন দিন কেটে গেছে। খবরের কাগজগুলো অবিরাম চিৎকার করে চলেছে। বিক্রমের সব সূত্র, ধারণা, বুদ্ধি… যেন বালির স্তূপের মতো ভেঙে পড়েছে। তার ওপর ওপরমহলের চাপ-এক অসম লড়াইয়ের সামনে পড়ে ওর স্বাভাবিক তীক্ষ্ণতাও যেন কেমন ভোঁতা হয়ে গিয়েছিল। তারপর বিকেলে ফোনটা এল… 

ফোনের ওপার থেকে প্রদীপ্ত বলল, ‘বিক্রম, বো ব্যারাকসে চলে এসো এক্ষুনি। আরেকটা খুন। নিকোলাস জেমস রজার্স, ক্রিমিনাল লইয়ার।’ বলেই ফোনটা কেটে দিল। বিক্রম কোনো কথা না বলে আলনা থেকে একটা শার্ট তুলে নিল। 

বো ব্যারাকস, কলকাতার বুকে এক টুকরো ইউরোপ। শোনা যায়, এইটা তৈরি হয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে ব্রিটিশ সেনাদের জন্য, বিশেষ করে যাঁরা ভারতীয় উপমহাদেশে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এটি অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান কর্মচারীদের বসবাসের জন্য ব্যবহৃত হতে থাকে। নিকোলাস রজার্সের বাড়িটা একটা গলির শেষে। দোতলা একটা কাঠামো, যার রং খোসা ছাড়ছে, জানালাগুলো শাটারে ঢাকা। বাইরে থেকে দেখে মনে হয় না, এখানে কেউ থাকে। পুলিশের গাড়ি আর কয়েকজন কৌতূহলী লোক গলিটাকে ভিড় করে রেখেছিল। প্রদীপ্ত আমাদের দেখেই এগিয়ে এল, ‘ভেতরে এসো। এটা আগেরগুলোর চেয়েও বীভৎস।’ 

ভেতরে ঢুকতেই নাকে এল তীব্র মড়াপচা গন্ধ। যত এগোচ্ছি, দুর্গন্ধ ততই প্রবল হচ্ছে। প্রদীপ্ত বলল, ‘তিন দিন আগে মরেছে। আজ বিকেলে এক সহকর্মী দেখা করতে আসে। দরজা ধাক্কালে কেউ উত্তর না দেওয়ায়, আর দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।’ 

আমরা কোনোরকমে নাকে রুমাল চাপা দিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করলাম। ভেতরটা অন্ধকার, আসবাবপত্রে পাতলা ধুলোর আস্তরণ, দেওয়ালে কয়েকটা পুরোনো ফ্রেমে ঝাপসা ছবি। 

নিকোলাস রজার্সকে তার বেডরুমে পাওয়া গেল। যা দেখলাম, তাতে বোধ করি নরকও একবার কেঁপে উঠবে। হত্যাকারী নৃসংশতা ও নিষ্ঠুরতার সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছে। আমাদের সামনে একটা পুরোনো আমলের খাট, তার দু’কোনায় দুটো খুঁটির সঙ্গে মৃতের হাতদুটো বেঁধে রাখা হয়েছে। ঠিক যেন ক্রুশবিদ্ধ যীশু। শরীরটা ঝুলছে, বুকটা চিরে খোলা, পাঁজরের হাড়গুলো বাইরে বেরিয়ে এসেছে; যেন কেউ জোর করে টেনে আলাদা করেছে। পায়ের পাতাদুটো পুড়ে কালো হয়ে গেছে। আর সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল তার পেট, আড়াআড়িভাবে চেরা, ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো বাইরে ছড়িয়ে রয়েছে। বিছানা, মেঝে, এমনকী দেওয়াল পর্যন্ত রক্তে ভরে গেছে। 

আমি আর নিতে পারলাম না। একছুটে বাইরে এসে নর্দমার ধারে বমি করলাম। আমার অবস্থা দেখে একজন কনস্টেবল এগিয়ে এসে এক বোতল জল দিলেন। আমি একটু চোখে-মুখে জল দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। আর ভেতরে যাওয়ার সাহস পেলাম না। প্রায় আধ ঘণ্টা পর বিক্রম আর প্রদীপ্ত বেরিয়ে এল। ওদের মুখে শুনলাম, ঘরের এক কোণে একটা পুরোনো গ্রামোফোন ছিল, তার পাশে একটা রেকর্ড ঘুরছিল, তাতে ১৯৬৪ সালের একটা ছবি ‘বিভাস’ থেকে যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাটে-এই রবীন্দ্রসঙ্গীতটা চলছিল। 

ঘরের কাগজপত্র যা ছিল, সব অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে ফরেন্সিক টিম নিয়ে গেছে। প্রদীপ্ত বলল, ‘লোকটা ছিলেন প্রায় ভূতের মতো। কারও সঙ্গে মিশতেন না, কোনো সামাজিক জীবন ছিল না। আত্মীয়-পরিজন বলে কেউ আছে কি না জানি না। বিয়েও করেননি। চেনা-পরিচিত বলতে দীর্ঘ দিনের বন্ধু কাম পার্টনার অ্যাডভোকেট তন্ময় চ্যাটার্জি। রিপন স্ট্রিটে ওনাদের অফিস আছে রজার্স অ্যান্ড চ্যাটার্জি অ্যাসোসিয়েটস। ওখানে গেলে হয়তো কিছু পাওয়া যেতে পারে।’ 

বিক্রম মাথা নাড়ল। প্রদীপ্তর কাছ থেকে রজার্স সাহেবের অফিসের ঠিকানাটা নোট করে নিল। ঠিক হল পরদিন তন্ময় চ্যাটার্জির সঙ্গে দেখা করা হবে। 

কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তিনদিনের আগে ভদ্রলোকের সাক্ষাৎ পাওয়া গেল না। প্রদীপ্ত বলল, ‘ওনার একটা কেস চলছে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে, সেই জন্যেই সময় দিতে পারছেন না।’ 

এই তিনদিনের মধ্যে আমরা আশেপাশের প্রায় সবাইকেই জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। কিন্তু কেউ সেরকম কোনো প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে পারল না। ফরেন্সিক আর পোস্টমর্টেম থেকেও আশানুরূপ কিছু পাওয়া গেল না। 

তাই অনেক আশা নিয়ে চতুর্থ দিন আমরা ৬/১, রিপন স্ট্রিটে রজার্স অ্যান্ড চ্যাটার্জি অ্যাসোসিয়েটসে এসে পৌঁছলাম। একটা পুরোনো দিনের অফিস। ভেতরে বেশ কিছু লোক বসে আছে। মিনিট দশেক বাদে এক আরদালি এসে আমাদের মিস্টার চ্যাটার্জির কাছে নিয়ে গেল। এনার বয়সও বোধ করি ওই পঞ্চান্ন কি ছাপান্ন হবে। চোখে একটা মোটা কালো ফ্রেমের চশমা, তামাটে গড়ন, স্থূলকায় শরীর। সামনে রাখা তিনটে কাঠের চেয়ারে আমাদের বসতে বললেন। তারপর বললেন, ‘প্রথমেই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, আপনাদের আগে সময় দিতে পারিনি বলে। আসলে হিয়ারিং ডেটটা ওই সময়েই পড়েছিল। বলুন কীভাবে আপনাদের সাহায্য করতে পারি?’ 

বিক্রম চারিদিকটা খুব মন দিয়ে দেখছিল। মিস্টার চ্যাটার্জির প্রশ্ন শুনে আশপাশ দেখতে দেখতেই জিগ্যেস করল, ‘আপনাদের এই অফিসটা কতদিনের?’ 

‘বহু বছরের পুরোনো, তবে আমি আর নিক মানে নিকোলাস এটা কিনি ২০০০ সালে। আমি সিভিল প্র্যাকটিস করি আর ও ক্রিমিনাল… করত।’ ভদ্রলোক কথার শেষে একটা পাস্ট টেন্স বসিয়ে দিলেন। 

‘আপনার বন্ধু কাম পার্টনার সম্বন্ধে কিছু বলুন। সত্যি কথা বলতে আমরা এখনও ক্লু-লেস।’ 

বিক্রমের কথায় মিস্টার চ্যাটার্জি শুকনো হেসে বললেন, ‘জানি, ও খানিকটা… খানিকটা বলছি কেন, ভীষণ রকমের টিমিড একটা লোক ছিল। আমার সঙ্গে আলাপ হয় কলেজে। আমরা এই কাছেই সুরেন্দ্রনাথ ল-কলেজের ছাত্র ছিলাম। এখানকার পাট শেষ হলে আমি এলএলএম করতে বম্বে যাই। পাশ করার পর কয়েক বছর একটা ল-ফার্মে কাজও করেছিলাম। কিন্তু বম্বের জল হাওয়া সহ্য হল না। ফেরত এলাম। 

‘তারপর এখান-ওখান করতে করতে ‘৯৭-তে হঠাৎ নিকের সঙ্গে দেখা। তখন তাকে প্রায় চেনা দায়। অত সুন্দর চেহারাটা শুকিয়ে কী অবস্থা! জিজ্ঞাসা করায় হেসে বলেছিল, কাজের চাপ। ফোন নাম্বার আর ঠিকানা নিলাম। তারপর মাঝে মাঝে কোর্ট চত্বরে দেখা হতো। একসময় আমিই ওকে অফারটা দিই। ও রাজি হয়ে যায়। সেই শুরু।’ একটানা বলে উনি একটু চুপ করলেন। 

বিক্রম জিগ্যেস করল, ‘উনি কখনও কোনো বিপজ্জনক কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন?’ 

‘দেখুন, ওর কেস ও দেখত, আমার কেস আমি। খুব প্রয়োজন না হলে আমরা নিজেদের কেস নিয়ে আলোচনা করতাম না। আমার জানার বাইরে যদি কোনো বিপদে জড়িয়ে পড়ে, আমি বলতে পারব না।’ 

‘উনি মানুষ কেমন ছিলেন?’ 

মিস্টার চ্যাটার্জি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, ‘বড় কঠিন প্রশ্ন করলেন। কী উত্তর দিই বলুন তো? ও মানুষটা যে ঠিক কী… সেটা আমি এত বছরেও বুঝতে পারিনি। তবে ভেতরে বহুদিনের একটা যন্ত্রণা লুকিয়ে ছিল। ক্রিসমাস বা থার্টি ফার্স্ট আমি আর নিক এই অফিসে একটু বোতল খুলে বসতাম। পেটে পানি পড়লে মাঝে মাঝে অনেক কথা বেরিয়ে আসত।

‘ওর বিয়ে হয়েছিল কি না জানি না, তবে একটা মেয়ে ছিল ওর জীবনে। নাম বলত অনু। অনু নাকি ওকে ছেড়ে চলে যায়, আর এই ব্যাপারটা থেকে ও কোনোদিন বেরোতে পারেনি। এখানে অনুর ছেড়ে চলে যাওয়াটা ঠিক কীরকম-সেটাও আমার কাছে ক্লিয়ার নয়। মানে সম্পর্ক ভেঙে গেছে নাকি মারা গেছে, সেটাও কখনও পরিষ্কার করে বলেনি। কিছু একটা… গিল্ট ছিল, যে কারণে কাজ করলেও সে কাজ যে খুব ভালোবেসে করত তা নয়। মোস্টলি বিকজ অফ হিজ ক্লায়েন্টস। আমাদের তো সব ধরনের লোকেদের সঙ্গে ওঠা-বসা করতে হয়। প্রফেশনাল হ্যাজার্ড। ও নিজের বার অ্যাডমিশন ওথ খুব সিরিয়াসলি নিয়েছিল। কিন্তু লাভ হয়নি। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ও আর নিজের এথিক্সের সঙ্গে থাকতে পারেনি। তবে কোন ঘটনা, কবেকার ঘটনা কিচ্ছু বলেনি।’

‘কোনো ক্লায়েন্ট কখনও কেস হারার ফলে ওনাকে থ্রেট করেছিল?’ বিক্রম জিগ্যেস করল।

‘এটা একটা ভালো প্রশ্ন করেছেন। এখানে একটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট কথা বলে রাখি। হি হ্যাস আ হান্ড্রেড পারসেন্ট ট্র্যাক রেকর্ড। যে কেস ওর ক্ষমতার বাইরে, তাতে ও পারতপক্ষে হাত দিত না। যত টাকাই অফার করা হোক না কেন! সুতরাং এদিক দিয়ে কেউ কিছু করেছে বলে তো মনে হয় না। আর তাছাড়া কোনো এক সূত্রে পুলিশের সঙ্গে ওর খুব খাতির ছিল। ফলে ওকে থ্রেট দিয়ে পার পাওয়া অসম্ভব।’

‘ওনার আত্মীয়-স্বজন কেউ আছে জানেন?’

‘না, কেউ নেই। মা মারা যান খুব কম বয়সে, আর বাবা মারা যান… তাও প্রায় পঁচিশ বছর তো বটেই। এক ভাই ছিল। ছিল কেন বলছি, এখনও থাকতে পারে। সে স্কুলজীবনেই উচ্ছন্নে গিয়েছিল। বাপের সঙ্গে ঝামেলা করে বাড়ি ছাড়ে। তারপর নাকি আর কখনও যোগাযোগ রাখেনি।’

‘উনি কোনো উইল করেছিলেন?’

‘ইয়েস। তবে সেটা তো এক্ষুনি বলা যাবে না। কোর্টের অর্ডার লাগবে। আচ্ছা ভালো কথা, তোর্সা দেব রঞ্জনের কেসটাও কি আপনারাই দেখছেন?’

বুকটা ধক করে উঠল। বিক্রম ভ্রু কুঁচকে বলল, ‘হ্যাঁ আমরাই দেখছি, কেন বলুন তো?’

‘কাল ওনাদের সল্টলেকের বাড়িতে ওনার উইলটা আমিই পড়ব। পরিবারের পারমিশন পেলে আপনারাও থাকতে পারেন।’ মিস্টার চ্যাটার্জি স্মিত হেসে বললেন।

এবার প্রদীপ্ত অবাক হয়ে জিগ্যেস করল, ‘তোর্সা দেব রঞ্জন আপনার ক্লায়েন্ট? আমরা তো কোথাও আপনার কোনো ডিটেইল পাইনি!’

ভদ্রলোক হেসে বললেন, ‘সে না পাওয়াটাই স্বাভাবিক, আমার সঙ্গে উনি কোনোদিন ফোনে কথা বলেননি। তিন-চার বার এসেছিলেন, নিজের যা বলার বলে পেমেন্ট করে চলে যান। আরেকটা কথা, উনি কোনোভাবে নিককে চিনতেন। কীভাবে চিনতেন, জানি না।’

আমাদের আর কিছু জানার ছিল না। আমরা মিস্টার চ্যাটার্জিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বেরিয়ে এলাম।

বাড়ি ফিরে আমি আর বিক্রম আমার ঘরে খাটের ওপর চুপ করে বসেছিলাম। কিছুক্ষণ বাদে বিক্রম নীরবতা ভেঙে জিগ্যেস করল, ‘কী রে, চুপ করেই থাকবি? কিছু বল?’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘কী বলব?’

‘তোর কী মনে হচ্ছে সেটাই বল।’ বিক্রম শান্তস্বরে বলল।

‘অনেকগুলো জিনিস মনে হচ্ছে রে, একটা একটা করে বলি?’

‘তাই বল।’

আমি সোজা হয়ে বসে বলতে শুরু করলাম, ‘আমার মনে হচ্ছে, এটা কোনো সিরিয়াল কিলারের কাজ। যার খুনের প্যাটার্নটা আমরা পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি। আবার ভিক্টিমরা সবাই কোনো এক অদ্ভুত উপায়ে তোর্সা দেব রঞ্জনের সঙ্গে জড়িত। প্রত্যেকের কোনো না কোনো একটা কালো অতীত আছে। যার মধ্যে শুধু ডাঃ মিত্রেরটাই আমরা এখনও পর্যন্ত জানতে পেরেছি। কেউ মনে হয়, এদের পুরোনো পাপের সাজা দিচ্ছে। কিন্তু কে?’

‘এক্সেলেন্ট, ব্রিলিয়ান্ট, ভেরি ভেরি গুড।’ বিক্রম দরাজ কণ্ঠে আমার প্রশংসা করল। তারপর বলল, ‘ঠিক এইখানেই আমরা এতদিন ভুল করছিলাম। যে খুনি, সে এদের প্রত্যেকের সেই গোপন অতীত সম্বন্ধে জানে। তোকে বলছিলাম না আমরা কোথাও একটা ভুল করছি? সেটা ধরতে পেরেছি।’

‘কী ভুল?’ আমি উত্তেজিতভাবে জিগ্যেস করলাম।

‘দ্যাখ, তোর্সার সব বই বাজার থেকে উঠে যায় তিন বছর আগে, মানে ওই ২০১২ সাল নাগাদ। আর ওনার মানসিক চিকিৎসাও শুরু হয় ওই সময়ে। এবার প্রশ্ন, যদি ওনার আসল ভয় ওনার সাহিত্য চুরিই হয়ে থাকে, তাহলে যা ধরা পড়ার, তা তো পড়ে গেছে। তারপরেও আর ওনার কী সে ভয়! ডাঃ মিত্র থেকে শুরু করে ডাঃ ব্যানার্জি অবধি প্রত্যেকে এই একই কথা বলেছেন-ওনার কোনো একটা ভয় ছিল। আর অলমোস্ট একই সমস্যা ছিল নিক রজার্সেরও, এমনকী আকাশ মিত্রও একটা গোপন চুক্তি করেছিল নিজেকে বাঁচাতে। অতীতের কোনো এক সুতোয় এরা প্রত্যেকে বাঁধা। বোধি, উই নিড টু ডিগ ডিপার। কাজ আগের চেয়ে অনেক কঠিন হতে চলেছে। দুটো গোটা দশকের টাইমলাইন ধরে চলতে হবে।’

আমার মনে হল, আমি আর বিক্রম একটা বিরাট গোলক ধাঁধার মধ্যে পড়েছি। ভবিতব্য আগামীতে কোন চমক নিয়ে অপেক্ষা করছে… কে জানে! 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *