পাতাঝরার মরশুমে – ১১

মাঘের শীত বাঘের গায়ে, কিন্তু পৌষের শীত কার গায়ে? মৌষের গায়ে। ধুর মোষকে কি মিল দেবার জন্য মৌষ বলা যায়? কিন্তু যেটা ঘটনা সেটা হল শীত। হ্যাঁ, এবার এই ডিসেম্বরের থার্ড উইকেই হাড় অবধি ঠান্ডা কুরিয়্যর করে পৌঁছে দিচ্ছে পৌষমাস। আশ্চর্য এই, যে পয়লা বৈশাখ এলে বৈশাখ বোঝা যায়, বৃষ্টি শুরু হলে বোঝা যায় আষাঢ়, দুর্গাপুজোর জন্য আশ্বিনের হেভি রং, আর পৌষ-মাঘ বোঝা যায় শীত, পিঠে আর সরস্বতী পুজোর জন্য। অন্য বাংলা মাসগুলো মহাভারতের নকুল সহদেবের মতো ভিড় বাড়াতে আছে, কিন্তু তেমন গুরুত্ব নেই। ছেলেরাও যে উপেক্ষিত হতে পারে নকুল-সহদেব তার প্রমাণ। অবশ্য নকুলদানার মধ্যে দিয়ে হয়তো নকুলকে ইমমরটালাইজ করা গেছে কিন্তু সহদেব বেচারার মরুভূমি অবস্থা। যাঃ বাব্বা শীত থেকে কোথায় সহদেব এসে পৌঁছে গেছে। এই হচ্ছে ডুডুর সমস্যা। একবার চিন্তা করতে শুরু করলে আফ্রিকার আদিবাসীদের সঙ্গে ইগলুর সম্পর্কও স্থাপন করে ফেলতে পারে ও।

“কী রে আবার মাথার পোকাগুলো ছটফট করছে নাকি? নে তাড়াতাড়ি ব্যাগদুটো গাড়িতে তুলে দে।” মেঘাদি লিপস্টিকটা ‘টুইস্ট ইন’ করে ডুডুকে হুকম করল। আজ রবিবার, প্র্যাকটিস বন্ধ। কিন্তু তা বলে ডুডুর ছুটি নেই। ডুডু ভেবেছিল দুপুরে বাড়িতে বসে অঙ্ক করবে। ওদের কমার্সে পঞ্চাশ নম্বরের ম্যাথস্ আছে। আর ডুডু মোটামটি পারেও সাবজেক্টটা। কিন্তু গোলমাল হয় কোঅর্ডিনেট জিওমেট্রি নিয়ে। কোঅর্ডিনেট জিওমেট্রি এক বিশাল জিনিস। কিছুতেই বাগে আনতে পারে না ডুডু। কিন্তু তা বলে ফেলে পালায় না। এটা ডুডুর একটা ব্যাপার। কেউ কেউ গুণও বলে। ওর যা কঠিন লাগে সেটাকে যতক্ষণ না বাগে আনতে পারে ডুডুর শান্তি হয় না। কিন্তু অঙ্ক করবে কী, কাজ পড়ে গেছে যে, মেঘাদি ডেকে পাঠিয়েছে।

আজ সন্ধেবেলা মেঘাদি আর ওর নাচের ট্রুপের অনুষ্ঠান আছে রবীন্দ্রসদনে। মেঘাদির নাচের ট্রুপ মানে মেঘাদি আর ওর আটজন ছাত্রী। সবাইকে মেঘাদি নাচের অনুষ্ঠানে নিয়ে যায় না। মেঘাদির কথা হল ঠিকমতো নাচ না-শিখে নাচতে গেলে স্টেজ বাঁকা মনে হবে। মেঘাদি যোগ্যতা অনুযায়ী ছাত্রীদের সুযোগ দেয়।

একটা ব্যাপার অবশ্য ডুডুকে আনন্দ দিয়েছে, আজ সায়েকা নেই। কিন্তু ঠিক আনন্দ কি? মানে, আনন্দ নয়, বলা যেতে পারে স্বস্তি। মেয়েটার সামনে এলেই কেন জানি না সব কিছু গোলমাল হয়ে যায় ডুডুর। পেটের মধ্যে কেমন বোলতা উড়তে শুরু করে। মাঝে মাঝে ডুডু ভাবে এটা কি অন্য কিছুর সিগন্যাল? কিন্তু অন্য কিছুটা যে কী সেটা আর নিজের কাছে ভাবসম্প্রসারণ করে না। সায়েকার টাইটেল ‘জানা’ আর ও ‘ব্যানার্জি’ ফলে ভাবসম্প্রসারণ করলে অসবর্ণ কেস আছে। তাই ভাবসম্প্রসারণে একটা বিশাল বড় ‘শূন্য’ দেখতে পায় ডুডু। আর একটু বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলেই শূন্যটা ক্রমশ ওর ঠাকুরদার মুখের আদল নেয়। তাই ডুডু রিস্ক নেয় না। সায়েকার থেকে পালিয়ে পালিয়ে থাকে।

ডুডু দুটো ব্যাগ নীচে দাঁড়ানো স্করপিও-তে তুলে ফিরে এল। ব্যাগ দুটোয় নাচের ড্রেস আর প্রপ আছে। কিন্তু যা ওজন তাতে পাথরটাথর কিছু থাকাও আশ্চর্য নয়। ব্যাগদুটো রেখে আবার ঘরে এসে দাঁড়াল ডুডু। যতক্ষণ না মেঘাদিরা যায় ওকে এখানে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। কখন কী কাজের হুকুম আসবে কে বলতে পারে। তবে দাঁড়িয়ে থাকতে খারাপ লাগছিল না ডুডুর। একঘর মেয়ের মধ্যে দু’পায়ে কেন এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতেও খারাপ লাগে না ছেলেদের। কিন্তু ডুডুর খারাপ না-লাগার পিছনে কারণটা অন্য। ও মুগ্ধ হয়ে দেখছিল আটটা মেয়ের সাজগোজের কম্পিটিশন। মেঘাদির ড্রেসিং টেবিলটার দখল কে নেবে সেই নিয়ে এক খণ্ডযুদ্ধ চলছে সামনে। এ ওর ঘাড়ের ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছে, ও এর হাতের তলা দিয়ে মাথা গলিয়ে দিচ্ছে, কেউ আবার স্ট্রেট কনুই দিয়ে গুঁতিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে। একবার বনগাঁ লোকালে ওঠার অভিজ্ঞতা হয়েছিল ডুডুর। ওর সামনে অবিকল বনগাঁ লোকালের সিন চলছে। ডুডু ভাবল একবার ড্রেসিং টেবিলের আয়নাটা ভেঙে সবার হাতে এক টুকরো করে ধরিয়ে দেবে কিনা। আর মেয়েগুলোরও বলিহারি। এখানে এত সেজেগুজে লাভ কী? এখান থেকে গাড়ি করে রবীন্দ্রসদনে পৌঁছোতে পৌঁছোতে চোখের মাসকারা গলে তো ঠোঁটে নামবে। ওখানে গিয়ে তো অনুষ্ঠানের আগে সাজতেই হবে। এদের ব্যাপার স্যাপার বিশেষ বোঝে না ডুডু। ওর নিজের তো আয়না দেখলেই খালি জেমস বন্ডের মতো নিজের নামটাই শুধু বলতে ইচ্ছে করে। আচ্ছা এটা কি কোনও পাগলামো? ঠিকুজিতে দ্বাদশে চন্দ্র আর শনির কী একটা কেস থাকলে নাকি মাথার তার কাটা হয়। ওর নাকি সেটা আছে। কথাটা মনে পড়াতে ডুডুর অস্বস্তি হতে লাগল। আচ্ছা ডুডুর তো প্রায় আঠারো বছর হল, তবে এমন ছেলেমানুষি চিন্তা আসে কেন? না এবার থেকে গম্ভীর হতে হবে, মনে মনে ঠিক করল ডুডু।

“কী রে এই গুণটা কবে থেকে হল তোর? এখানে কেষ্ট ঠাকুরের মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মেয়ে দেখা হচ্ছে। সে যদি জানতে পারে না, কেষ্ট থেকে শিশুপাল করে ছাড়বে।” মেঘাদি কপটভাবে চোখ পাকিয়ে বলল। ডুডু দেখল মেঘাদির সাজগোজ কমপ্লিট, এবার বেরোবার অপেক্ষা। ডুডু জিজ্ঞেস করল, “মানে? কার কথা বলছ তুমি?”

“ন্যাকা, বোঝে না যেন। তবে যাই বলিস মেয়েটা ভাল। তোর সঙ্গে মানাবেও খুব।” মেঘাদি সবজান্তার মতো হেসে বলল।

“আচ্ছা মুশকিল! কার কথা বলছ তুমি?” ডুডু একটু বোকা সাজবার চেষ্টা করল।

“নামটা না শুনলে হচ্ছে না, না? সায়েকার কথা বলছি। এখানে আসলেই তোর কথা, আমার তো সন্দেহ হয় এখানে ও নাচ শেখার জন্য আসে, না তোকে দেখবে বলে?”

ডুডুর কান লাল হয়ে উঠল। ও বলল, “দূর কী যে বলো না। আমাকে দেখলেই তো হ্যাটা করে।”

“ও-সব অন্য হ্যাটা। তবে রিসেন্টলি তোর ওপর একটু রেগে আছে মনে হচ্ছে, কী রে কিছু করেছিস?” মেঘাদি চোখ সরু করে জিজ্ঞেস করল।

“কই না তো। কিচ্ছু করিনি।” ডুডু ঢোক গিলে বলল।

কথাটার মধ্যে সত্যি মিথ্যের মিক্সচার আছে। ডুডু কিছু করেওনি আবার করেছে। ব্যাপারটা হল ওদের টেস্টের আগে একদিন জ্যাকসন আর দিয়েগোর সঙ্গে গ্যাজনখানার থেকে ফিরছিল ও। সাহেব কলোনির সামনে হঠাৎ পরীর সঙ্গে দেখা। যা হয়, পরী ওকে খুঁজছিল একটা কাজে। ওকে দেখামাত্র পরীর নিজের স্বভাবমতো হামলে পড়ল ওর ওপর। পরীর এই একটাই দোষ। গায়েফায়ে হাত না দিয়ে কথা বলতে পারে না। ব্যস রাস্তায় দেখামাত্র হাত ধরে টানাটানি, ওর সঙ্গে যেতে হবে ওর মায়ের এক্সরে রিপোর্ট আনতে। ডুডু না না করলেও ততক্ষণে যা সর্বনাশ হওয়ার তা হয়ে গেছে। ডুডুর এমনই কপাল ঠিক সেই সময়ই সায়েকা আরেকটা মেয়ের সঙ্গে একটু দূরে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছিল। ডুডু যেমন ওকে দেখেছিল, ও-ও ডুডুকে দেখেছে। ডুডুর অবস্থা হয়েছিল সাপের ছুঁচো গেলার মতো। পরীর সঙ্গে সাইকেল করে যাওয়ার সময় একবার পেছন ফিরে ডুডু দেখছিল সায়েকা ফুচকাওয়ালার ওখান থেকে ওর দিকে জ্বলন্ত দৃষ্টি দিয়ে তাকিয়ে আছে। ফুচকাওয়ালার ওপর ভীষণ রাগ হয়েছিল ডুডুর। ক্যালানেটা ফুচকা বিক্রি করার আর জায়গা পেল না।

কিন্তু কেন সেদিন ফুচকাওয়ালার ওপর রাগ হয়েছিল ডুডুর। প্রশ্নটা ওর মনের মধ্যে দু’-একবার উঠলেও ও সেটা নিজেই এড়িয়ে গেছে। কারণ ‘প্রশ্নগুলো সহজ আর উত্তরটাও জানা।’ এক জ্যোতিষী ডুডুকে বলেছিল ওর ঠিকুজিতে শুক্র গোলমেলে জায়গায় আছে। তাই কি এইসব ঝঞ্ঝাট হচ্ছে? ডুডু নিজে একবার ডান হাতটা মেলে হাতের পাতাটা দেখতে লাগল। ‘বেনহাম’-এর হাত দেখার একটা বই মাঝে মাঝে ডুডু পড়ছে এখন। বুড়ো আঙুলের নীচের মাংসল অংশটা শুক্ৰক্ষেত্র। কিন্তু কই ও তো কোনও গন্ডগোল দেখতে পাচ্ছে না। বেশ গোলাপি, ফোলা ফোলাই তো জায়গাটা। জ্যোতিষীটা ঢপ মারেনি তো?

“কী রে সায়েকার নাম শুনেই তো অন্যমনস্ক হয়ে গেলি। দাঁড়া, কাকিমাকে বলব আমার ছাত্রীর মাথা খাচ্ছিস তুই।” মেঘাদি চোখ পাকিয়ে বলল।

ডুডু হেসে বলল, “মাথা খাব আমি? ও মাথা লোহার তৈরি। আচ্ছা তোমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে না?” ওর কথায় হুঁশ হল মেঘাদির। নিমেষে ঘরের ছাত্রীদের তাড়া দিতে লাগল। ডুডু অবাক হয়ে দেখল ইতিমধ্যে আটজন ছাত্রীই তৈরি হয়ে গেছে। অত বড় যুদ্ধ করে ওদের শাড়ির পিন, মাথার ফুল, শাড়ির কুঁচি সব ঠিকঠাক হয়ে আছে। মেয়েরা পারে, সত্যি, মেয়েরাই পারে। ছেলেগুলো একটুতেই হেদিয়ে বিরক্ত হয়ে যায়। ডুডু দেখল মেয়েগুলোকে দিব্যি ভাল লাগছে। হঠাৎই ওর মনে হল সায়েকা এমন সাজলে কেমন লাগত? ওঃ আবার? নিজেকেই ধমক দিল ডুডু। ওর ভেতরের ছেলেটা দেখছি গন্ডগোল না-পাকিয়ে ছাড়বে না। ডুডু আর দাঁড়াল না। ছাত্রীদের সঙ্গে নীচে নামতে লাগল। মেঘাদিদের যাওয়ার সময় হল।

গাড়ির সামনের সিটে মেঘাদি বসে। গাড়িটা চকচকে মেরুন রঙের। মেঘাদি নতুন কিনেছে। অবশ্য নিজে চালায় না, ড্রাইভার আছে। মেঘাদি জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে বলল, “তুই কিন্তু গেলে পারতিস ডুডু।”

“না মেঘাদি। অন্য আরেক দিন যাব।” ছোট্ট করে হেসে ডুডু বলল।

“অবশ্য একজন থাকলে হয়তো যেতিস, না?” বলেই মেঘাদি চোখ টিপল। ডুডু কিছু বলল না, হাসল শুধু। সত্যিই ওয়ান ট্র্যাক মাইন্ড মেঘাদির। অন্যদের প্রেমে কিউপিড হতে কী যে ভাল লাগে মেয়েদের কে জানে! ডুডু মাঝে মাঝে দেখেছে অন্য কেউ প্রেমে পড়লে মেয়েরা অসম্ভব উত্তেজিত হয়ে পড়ে যেন সে নিজেই প্রেমে পড়েছে। আর সত্যি কথা বলতে কী ছেলেদের একই খবর শুনলে, হিংসে হয়। সেটা তারা উদাসীনতা দিয়ে ম্যানেজ করে। ওঃ আবার ভাবতে শুরু করেছে ডুডু।

মেঘাদিদের গাড়িটাকে ছোট হয়ে মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত দেখল ডুডু। এবার বাড়ি যাওয়ার পালা। সবে তিনটে বাজে। ঘণ্টা দেড়েক অঙ্ক করাই যাবে। ডুডু বাড়ির দিকে চলল। গ্রিলের গেটটা খুলে ভেতরে ঢুকেই দেখে একটা সাইকেল স্ট্যান্ড করা আছে। গিয়ার চেঞ্জিং, লাল রেসিং সাইকেল। এরকম সাইকেল বাটানগরে আর একটাও নেই। ডুডু বুঝল জ্যাকসন এসেছে। বহুদিন ডুডুরও এরকম একটা সাইকেল কেনার শখ, কিন্তু ডুডু জানে বাবা কিনে দিলেও ঠাকুরদা আপত্তি করবেন। ঠাকুরদা অতিরিক্ত খরচ করতে সবসময় বারণ করেন। বলেন পিঁপড়ে যতটা গুড় খেতে পারে তার চেয়ে বেশি নিলে তার মধ্যে আটকে নিজেই মারা পড়ে। ফলে নো গিয়ার চেঞ্জিং সাইকেল।

ডুডু ড্রইংরুমে ঢুকে দেখল সর্বনাশের মাথায় বাড়ি। জ্যাকসন বসে আছে ঠাকুরদার সামনে। ঠাকুরদা ভীষণ সিরিয়াস মানুষ! আর জ্যাকসন সিরিয়াস বানানটা পর্যন্ত ঠিকমতো করতে পারে না। জ্যাকসন একবার ডুডুকে বলেছিল, “তুই ঠাকুরদাকে ঠাকুরদা না-বলে দাদু বলিস না কেন? ঠাকুর কথাটা শুনলেই শোলের সঞ্জীবকুমারকে মনে পড়ে। আর মাইরি তোর দাদু ওরকমই। এমন চেপে কথা বলে, সবসময় সিরিয়াস। কেমন পিকিউলিয়ার না?” সেই জ্যাকসন বসে ঠাকুরদার সামনে।

ডুডু ঠাকুরদার পাশে গিয়ে বসতেই জ্যাকসন ওকে লক্ষ করে বলে উঠল, “চল ডুডু, খুব ইমপর্ট্যান্ট একটা কাজ আছে।” ঠাকুরদা বললেন, “অত ব্যস্ত হচ্ছ কেন, বসো? গতবার বলেছিলাম সন্ধে আহ্নিক করতে। করছ?”

জ্যাকসন রেললাইনের পাথর গেলার মতো মুখ করে বলল, “হ্যাঁ, রোজ। সকালবেলা আর সন্ধেবেলা।”

“সকালবেলা সন্ধে আহ্নিক মানে?” ঠাকুরদা কড়া গলায় প্রশ্ন করলেন।

“না না, মানে সকালবেলা মুখস্থ করে সন্ধেবেলায় আহ্নিক।”

“মুখস্থ করে মানে?” ঠাকুরদা ভুরু কুঁচকে জ্যাকসনের মুখে ফোকাস ফেলেছেন।

“ওই আচমন মন্ত্র। আসলে আমি তো সংস্কৃততে খুব উইক। তাই রোজ মুখস্থ করি, রোজ ভুলে যাই।”

“ছি ছি ব্রাহ্মণের ছেলে সংস্কৃততে দুর্বল। লজ্জা করে না?”

জ্যাকসন ভীষণ লজ্জিত মুখে বলল, “না।”

ঠাকুরদা এবার অন্য দিক দিয়ে ধরলেন, “তা হলে কীসে স্ট্রং তুমি? কমার্সের কোনও সাবজেক্টে নিশ্চয়ই।”

জ্যাকসন দুম করে বলে দিল, “ফিজিক্সে।” ডুডু চোখ বন্ধ করে ফেলল। একেই বলে ‘বাঁশ আছ কেন বনে এসো আমার পিছনে।’ জ্যাকসন কমার্সের কোনও সাবজেক্ট বললে পার পেত। এবার ঠেলা বুঝবে। কারণ ঠাকুরদা ফিজিক্সেরই প্রফেসার ছিলেন। ছাগলটা কেন যে ভুলভাল কথা বলে সবসময়। ঠাকুরদা বললেন, “তা হলে কমার্স নিলে কেন? যাক গে বলো তো মহাকর্ষ বল-এর কথা কে প্রথম উল্লেখ করেন?”

জ্যাকসন চিন্তা করল খানিকক্ষণ। ডুডু ঠোঁট নেড়ে বোঝাবার চেষ্টা করল ‘নিউটন’। কিন্তু কে সেসব লক্ষ করে? জ্যাকসন বলল, “বিদেশে কে করেছেন বলতে পারব না। তবে ভারতবর্ষে করেছেন রবীন্দ্রনাথ।”

“অ্যাঁ? রবীন্দ্রনাথ? মহাকর্ষ বল?” ঠাকুরদাকে টপ করে ধরে ফেলল ডুডু। এই বয়েসে যদি অবাক হয়ে খাট থেকে পড়ে যান হাড়গোড় ভেঙে খুব ঝঞ্ঝাট হবে। ঠাকুরদা সামলে নিয়ে প্রশ্ন করলেন, “কী রকম?”

“কেন ওই যে গানটা ‘কী গাব আমি কী শোনাব…’ ওখানে আছে না, ‘রবি হতে গ্রহে ঝরিছে প্রেম, গ্রহ হতে গ্রহে ছাইছে।’ ওটাই তো মহাকর্ষ। ওই যে সূর্য আর গ্রহদের ভালবাসাবাসি, নিজেদের প্রতি টান, সেটাই তো বল। সত্যি, রবীন্দ্রনাথ ঝকাস্টিক কবি ছিলেন।”

“কী স্টিক?” ঠাকুরদা আরও অবাক হয়ে প্রশ্ন করলেন। ডুডু আবার ঠাকুরদাকে ধরে ফেলল।

আর না, ব্যাপারটা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে ডুডু উঠে দাঁড়াল, বলল, “অনেক করেছিস, কোথায় যেতে বলছিলি চল।”

বলেই জ্যাকসনকে টান মেরে ওঠাল ও। ঠাকুরদার সঙ্গে আর বেশিক্ষণ বসিয়ে রাখলে জ্যাকসন নির্ঘাত আইনস্টাইনকে শ্রেষ্ঠ ফুটবলার বানিয়ে ছাড়বে।

দু’জনে সাইকেল নিয়ে রাস্তায় নামল। ডুডু জিজ্ঞেস করল, “কোথায় নিয়ে যাবি?”

“কোথায় আবার, আমার বাড়িতে চল।”

“তোর বাড়ি? কেন? হঠাৎ এই বিকেলে তোর বাড়ি যাব কেন?”

“চল না একটা ব্যাপার আছে। গিয়েই বুঝতে পারবি।”

ডুডু আর কথা বাড়াল না। সাইকেলে উঠে পড়ল। ডুডু জানে জ্যাকসন কিছুতেই বলবে না কী ব্যাপার। ও এবার অন্য প্রশ্ন করল, “আচ্ছা জ্যাকসন, মাইরি তুই ঠাকুরদাকে ওসব ভুলভাল বলছিলি কেন?”

জ্যাকসন ওর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল, “এমনি একটু মজা করছিলাম। গ্র্যাভিটি আর নিউটন যে সিনোনিমাস আমাদের বাড়ির রান্নার লোকটাও জানে। জাস্ট মজা করছিলাম।”

ডুডু মাঝে মাঝে ভাবে জ্যাকসন কি একটু খ্যাপাটে, না ইচ্ছে করে এসব করে? হয়তো লোক হাসাবার জন্য এমন করে বা হয়তো সেন্টার অব অ্যাট্রাকশন হতে চায় বলে এমন বিহেভ করে। ঠিক বুঝতে পারে না ডুডু।

ঠান্ডাটা এবার সত্যিই বড় বেশি পড়েছে। ডুডু সাইকেল চালাতে চালাতেই এক হাতে জ্যাকেটের চেন গলা অবধি টেনে দিল। টমাস বাটা অ্যাভিনিউয়ের ধারে ধারে যে গুলমোহর গাছ সেগুলো প্রায় সব পাতা ঝরিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ও দেখল এখনও হালকা হাওয়ায় ছোট ছোট হলুদ পাতারা রঙিন কাগজের মতো নেমে আসছে মাটিতে। পাতা ঝরার মরশুম এখন। গোটা রাস্তার পাশে দুটো হলুদ মেরুন পাতায় ঢাকা আছে। লাল-সাদা একতলা কোয়ার্টারের সামনের মাঠগুলোয় কচিকাঁচারা রঙিন সোয়েটার পরে ক্রিকেট খেলছে। পাতিলেবু রঙের একটা রোদ যাই যাই করছে আকাশে। ডুডু বাটানগরকে যত দেখে তত মুগ্ধ হয়। মনে মনে বাটা কোম্পানিকে ধন্যবাদ দেয়। এত সুন্দর গোছানো একটা শহর কে বানাত ওরা ছাড়া।

জ্যাকসনের বাড়িতে পৌঁছে সাইকেল থেকে নামল ওরা। “কী, বউমা নেই?” প্রশ্নটা শুনে ডুডু পেছন ফিরে দেখল, রাধাকাকু। হাতে ইয়াব্বড় একটা লাল পাখির মতো দেখতে ঘুড়ি। দারুণ জিনিসটা। দেখলেই বোঝা যায় এখানে পাওয়া যায় না। ডুডু টিভিতে এরকম ঘুড়ি ওড়াতে দেখেছে মানুষজনকে। কিন্তু সে তো বিদেশে। রাধাকাকু বোধহয় ডুডুর মুখ দেখে কথাটা আঁচ করল। বলল, “কুশেশ্বরকে চেনো? প্রাণবল্লভ মিত্রের ভাইপো। সেই এনে দিয়েছে, ভাল জিনিস না? জানো তো ঘুড়িটা ফোল্ড করা যায়। এটা প্যারাসুট কাপড়ের তৈরি। নাইলনের সুতো দিয়ে ওড়াতে হয়। আজ ছুটির দিন। প্রথম ওড়াব।” সর্বনাশ! রাধাকাকু ঘুড়ির পেডিগ্রি নিয়ে পড়েছে। ডুডু কাতর মুখে জ্যাকসনের দিকে তাকাল। জ্যাকসন বলল, “সেসব বুঝলাম। এখন যাও টেস্ট করে দেখো ঘুড়িটা সত্যিই ওড়ে কিনা।” যেন হুঁশ হল রাধাকাকুর। “হ্যাঁ হাঁ” বলে রাধাকাকু মাঠের দিকে হাঁটতে লাগল।

জ্যাকসনদের বাড়িতে আজ কেউ নেই। ওর মা গেছে বোনের, মানে জ্যাকসনের মাসির বাড়ি ঢাকুরিয়ায়। রান্নার লোকটা আসে সকালে আর সন্ধেয়, ফলে এখন বাড়ি একদম খালি। ডুডু জিজ্ঞেস করল, “এবার বলবি কেসটা কী?”

জ্যাকসন হাসল। তারপর বলল, “একটু দাঁড়া আমি আসছি।” জ্যাকসনদের বাড়িতে বিদেশি জিনিসে ভরতি। সেগুলোকেই ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগল ডুডু। সাউন্ড সিস্টেম থেকে হোম থিয়েটার। প্লাজমা স্ক্রিনের মনিটর সমেত কম্পিউটার। বাবা জাহাজের রেডিয়ো অফিসার। প্রচুর রোজগার করেন।

“এই দেখ।” জ্যাকসনের হাতে দুটো সি ডি।

“কীসের সিডি এই দুটো?” ডুডু জিজ্ঞাসা করল।

“পর্নো।” চোখ টিপল জ্যাকসন।

“কোত্থেকে পেলি?” ডুডু চোখ ছানাবড়া করে জিজ্ঞেস করল।

“আছে আছে, সোর্স আছে। দেখবি তো?” জ্যাকসন জিজ্ঞেস করল।

ডুডু ধন্ধে পড়ে গেল। দেখতে ইচ্ছে করছে না তা নয়, তবে কেমন একটা বাধোবাধো ঠেকছে। কিন্তু এও জানে যে পর্নো দেখার একটা সাময়িক উত্তেজনা আছে কিন্তু খানিকক্ষণ পরেই ভীষণ বোরিং লাগে। ডুডু দেখল ওর কথার অপেক্ষা না করেই ডিভিডি প্লেয়ারে সিডি ঢুকিয়ে দিল জ্যাকসন! “ধুর বস না, তোর সবটাতেই এঁড়েমি। শালা লোকে দেখতে পায় না। আমি এনে দেখাচ্ছি আর তুই পেঁয়াজি করছিস। নে তেমন হলে টিভিতে চন্দনের ফোঁটা লাগিয়ে দে দুটো।”

কিন্তু পর্নো কই? কোনও ছবিই আসছে না। “কী হল বল তো? ছেলেটা বলল চামকি জিনিস আছে। এদিকে শালা চলছেই না।”

ডুডু বলল, “দেখ হয়তো সিডিতে গন্ডগোল আছে।” জ্যাকসন সিডিটা খুলে কম্পিউটারে ঢোকাল। সেখানেও ভোঁ ভোঁ। গোটা সিডিটাই ব্ল্যাঙ্ক। অন্য সিডিটা নিয়েও কসরত শুরু করল জ্যাকসন। কিন্তু সেটাও ব্ল্যাঙ্ক। জ্যাকসনের ফরসা মুখ লাল হয়ে উঠেছে। বাছা বাছা খিস্তি করতে শুরু করল এবার। খুব ক্ষার খেয়ে গেছে ব্যাটা। ডুডু হিহি করে হাসতে লাগল।

জ্যাকসনের সঙ্গে এই টাইপের অ্যাডাল্ট অ্যাডভেঞ্চার করতে গেলেই একটা না-একটা কেলো হয়। একবার টেন পাশ করার পর জ্যাকসন ডুডুকে পাকড়াও করে নিয়ে গিয়েছিল নিউ এম্পায়ারের গলিতে। বহু দরদাম করে একটা ‘প্লেবয়’ কিনেছিল ওরা। আসলে প্লেবয়-এর নাম প্রচুর শুনেছে ওরা, দেখেনি কখনও। তাই কৌতূহল ছিল খুব। ভারতে প্লেবয় খোলাখুলি বিক্রি হয় না। কিন্তু লুকিয়ে চুরিয়ে এখানে সব হয়। সেই ম্যাগাজিন নিয়েই খুব বিপদে পড়ে গিয়েছিল ওরা। দোকান থেকে সবে কিছুটা গেছে অমনি লাল গেঞ্জি পরা একটা লোক এসে দাঁড়িয়েছিল ওদের সামনে। আইডেন্টিটি কার্ড দেখিয়ে বলেছিল যে ও পুলিশ। ভগবান জানে সত্যি কিনা। এখন হাসি পায়। কিন্তু বছর খানেক আগের সেই বিকেলে খুব ভয় পেয়েছিল ডুডু। হাতের ঘড়িটা পর্যন্ত খুলে দিতে হয়েছিল ওদের। বাড়িতে কীভাবে ম্যানেজ করেছিল সে ডুডুই জানে।

“চল তো মালটার থোবনায় ছুড়ে মারব সিডিটা। মাজাকি? শালার দোকান বন্ধ করে দেব।” জ্যাকসন বাড়ির বাইরে এসে সাইকেলে উঠল। ডুডু দেখল জ্যাকসন বাড়িতে তালা না-দিয়েই চলে যাচ্ছে। বলল, “কী রে খেপে গেলি নাকি? বাড়িতে কেউ নেই, তালাটা দিয়ে যা।”

সিডির দোকানটা এক নম্বর গেটের কাছে। এক নম্বর গেট গঙ্গার কাছেই। জ্যাকসন মালটার এলেম আছে। দোকানে গিয়ে এসব চাইতেও পারে। ডুডু তো মরে গেলেও পারত না। সাহেব কলোনির গেটের সামনে থেকে বাঁ দিকের রাস্তাটাই এক নম্বর গেটের দিকে গেছে। ডুডু দোকানে যেতে চাইল না, কেউ যদি দেখে ফেলে? আর জ্যাকসন যা, কেউ না দেখলেও চিৎকার চেঁচামেচি করে লোক জড়ো করবে। জ্যাকসনও ওকে জোর করল না। এমন রেগে আছে যে এসব ও চিন্তাই করছে না এখন। জ্যাকসন টপ গিয়ারে এক নম্বর গেটের দিকে বেরিয়ে গেল। কিছু শুকনো পাতা খানিকটা উড়ে, খানিকটা ছুটে গেল ওর সাইকেলের সঙ্গে।

ডুডু সাইকেলে ঠেশ দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। রবিবার বলে রাস্তাঘাট ফাঁকা। ওর পেছনেই বাটা কোম্পানির লম্বা পাঁচিল। তাতে নানা রকমের জুতোর ছবি আঁকা, নাম লেখা। কী সুন্দর সব নাম—ব্যালেরিনা, বাবল গামার্স, নটি বয়, নর্থস্টার। ডুডু নঙ্গী স্কুলে ভরতি হওয়ার আগে এখানেরই বাটা নার্সারি অ্যান্ড কিন্ডারগার্টেন স্কুলে পড়ত। ছবির মতো স্কুল। মার্বেল পাথরের ক্লাসরুম। উঁচু সিলিংয়ে স্কাইলাইট। সারি সারি দেবদারু গাছ। সেই দেবদারু বীথিতে দাঁড়িয়ে ওরা গাইত—“আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর।” আজ এত বছর পরেও সেই ছোট্টবেলার স্কুলের কথা মনে পড়ায় হঠাৎই খুব ভাল লাগল ডুডুর। মনে মনে ও আবার বলল, “বিরাজ সত্য সুন্দর।”

হঠাৎই রাস্তার ওই দিকে চোখ চলে গেল ওর। খেয়েছে! যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধে হয়। রাস্তার ওই পারে একটা ছেলের সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে আসছে সায়েকা। হাতে ধরা বই। উনিশটা কাঠপিঁপড়ে একসঙ্গে কামড়াল ডুডুকে। ছেলেটা কে? সায়েকা ওর সঙ্গে এত হেসে কথা বলছে কেন? সায়েকার দাঁতগুলো না হয় সুন্দর তা বলে ওই ছেলেটাকে দেখাতে হবে? ডুডু আর পারল না। সাইকেলটা রেখে রাস্তা পার হয়ে ওই দিকে গেল।

আচমকা ডুডুকে দেখে থতমত খেয়ে গেল সায়েকা। সায়েকা থতমত খেল কেন? ডুডুকে কুড়ি নম্বর পিঁপড়েটা এবার কামড়াল। “তুমি?” সায়েকার ভুরু সেকেন্ড ব্র্যাকেটের মতো হয়ে গেল।

“হ্যা আমি। জানো তো মেঘাদিদের ফাংশন আছে আজ।” কোনও কথা না-পেয়ে আনতাবড়ি বলে দিল ডুডু। সঙ্গের ছেলেটা সায়েকাকে বলল, “তোরা কথা বল। আমি এগোচ্ছি।” বাহ্ পিঁপড়েগুলো নেই তো। ডুডু ভারী আরাম পেল।

সায়েকা জিজ্ঞেস করল, “তুমি এখানে কী করছ?”

ডুডু ইয়ারকি মেরে কায়দা করে বলল, “এই ধরো তোমার ওপর গোয়েন্দাগিরি। ছেলেটা কে?”

“মানে?” সায়েকার মুখ দেখে ডুডু বুঝল ভুল করে ফেলেছে। কারণ সায়েকা ইয়ারকিটা বুঝতে পারেনি।

“কী রে ডুডু, বেশ আছিস কী বল?” এই রে! জ্যাকসন এখনই ফিরে এসেছে। জ্যাকসন আবার বলল, “সত্যি, তোর মতো লাক ক’জনের হয় বল? এক বেলা পরীর মতো মেয়ের সঙ্গে হাত ধরে ঘুরছিস অন্য বেলায় আরেকজনের সঙ্গে গল্প করছিস। মাইরি তোকে দেখে যা হিংসে হয়।” খুব কৃতিত্বের কথা বলেছে এমন ভান করে জ্যাকসন হাসতে লাগল। ডুডুর ইচ্ছে হল জ্যাকসনের পেছনে এক লাথি মারে। কিন্তু তার উপায় নেই। টেনশন খেয়ে ডুডু লক্ষ করল সায়েকার মুখটা হঠাৎ গম্ভীর থেকে কেমন জানি শান্ত হয়ে গেল। ও ডুডুকে বলল, “তুমি ওই ছেলেটার কথা জিজ্ঞেস করছ? ওই ছেলেটা আমার বয়ফ্রেন্ড। লাভারও বলতে পারো। বুঝেছ?” সায়েকা আর না-দাঁড়িয়ে গটগট করে হাঁটতে লাগল।

সায়েকার লাভার? মানে? ডুডু তা হলে কে? এবার আর কুড়িটা নয়, লক্ষ লক্ষ পিঁপড়ে আক্রমণ করল ডুডুকে। একরাশ ঝরা পাতা, সন্ধে নেমে আসা একটা টাউন আর থতমত জ্যাকসনের পাশে একটা অসবর্ণ মেয়ের জন্য মনখারাপ করে দাঁড়িয়ে রইল ডুডু। আচ্ছা, যৌবনে ঠাকুরদার কি কোনওদিন কোনও অব্রাহ্মণ মেয়েকে ভাল লাগেনি?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *