নগরবধূ আম্রপালী – ৭

 সাত

বৈশালী রাজ্যের বিস্তৃতি হিমালয়ের পাদদেশ থেকে সমগ্র গাঙ্গেয় উপত্যকা। আটটি ক্ষত্রিয় গোষ্ঠীর সম্মিলিত গণসংঘের রাজধানী হল বৈশালী। যাকে বলা হয় বজ্জিয়ান প্রজাতন্ত্র। বৃজ্জি বা বজ্জিয়ান প্রজাতন্ত্র বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন প্রজাতন্ত্র। আটটি গোষ্ঠী নিজেদের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ ভাবে গড়ে তুলেছে এই বিশাল শক্তিশালী গণরাষ্ট্র। বৃজ্জি, লিচ্ছবি, বিদেহ, জ্ঞাতৃকা, উগ্র, ভোগ, কৌরব ও ঐক্ষবক। এই আটটি গোষ্ঠীর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল চারটি গোষ্ঠী। এরা হল বৃজ্জি, লিচ্ছবি, বিদেহ, জ্ঞাতৃকা। এই চারটি গোষ্ঠীর আবার আলাদা আলাদা রাজধানী রয়েছে। কিন্তু সমস্ত গোষ্ঠীর প্রধান রাজধানী হল বৈশালী।

এই বৈশালীতে শক্তিশালী লিচ্ছবি গোষ্ঠীর নেতারা। বৈশালী এক সুদৃশ্য নগরী। গোটা শহর জুড়ে সাজানোগোছানো অট্টালিকা। পরিষ্কার রাস্তাঘাট। শহরের বুকে বেশ কয়েকটি উদ্যান। সেগুলিতে রয়েছে টলটলে জলের সরোবর। সেই সরোবরের জলে ফুটে থাকে পদ্ম। শহরের তিনদিক উঁচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। আর একদিক দিয়ে বইছে গঙ্গা। প্রাচীরের গায়ে রয়েছে নজরমিনার। সেখানে মোতায়েন থাকে রক্ষীরা। ফলে বাইরের কেউ আক্রমণ করার আগে খবর পৌঁছে যায় গোষ্ঠীর নেতাদের কাছে। প্রতিটি গোষ্ঠীর আলাদা আলাদা রাজা আছে। রাজা নির্বাচন হয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। পরিবারতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই। মানে রাজার ছেলে রাজা হবে এমন কোনো নিয়ম নেই বজ্জিয়ান প্রজাতন্ত্রে। বিধানসভায় সদস্যরা উপস্থিত থাকেন। সভায় সংখ্যপূর্তির বিষয়টি দেখভাল করেন ‘গণপূরক’। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি মেনে। গোষ্ঠীগুলির নেতা বা রাজা নির্বাচন হয় ভোটাভুটির মাধ্যমে। ভোট নেন সমাজের একজন সম্মানীয় ব্যক্তি। যাঁর সততা, নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো দ্বিমত পোষণ করেন না কেউ। ওই বিশেষ ব্যক্তিকে বলা হয় ‘শলাকা গহপাক’। ‘শলাকা গহপাক’ নামের এমন বিচিত্র পদের নামকরণ হয়েছে অন্য একটি কারণ থেকে। রাজা নির্বাচন করতে ভোট নেওয়া হয় কাঠের শলাকা দিয়ে। অর্থাৎ সদস্যরা যাঁকে রাজা হিসেবে নির্বাচন করবেন তাঁর নাম লিখে কাঠের শলাকাটি জমা দেবেন শলাকা গহপাকের কাছে। সে অর্থে মুুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাজটি করেন শলাকা গহপাক। তিনি কাঠের শলাকা গুনে বিজয়ীর রাজার নাম ঘোষণা করেন।

আটটি সম্মিলিত ক্ষত্রিয় গোষ্ঠীর বন্ধন এতোই নিবিড় যে, এদের বিরুদ্ধে লড়াই করে কেউ জিততে পারেনি। তার ওপর কোশলরাজ ও মল্লরাজের সঙ্গে সখ্য লিচ্ছবিদের আরও শক্তিশালী করেছে। যদিও মগধরাজ বিম্বিসারের সঙ্গে লিচ্ছবিদের সম্পর্ক ভালো নয়। বেশ কয়েকবার যুদ্ধ লাগার উপক্রম হয়েছিল অতীতে। তাই লিচ্ছবিরা মগধের ওপর বিশেষ নজরদারি চালায়। কিন্তু মগধরাজ বিম্বিসারের বীরত্বের কাহিনি লিচ্ছবি গোষ্ঠীর নেতারাও জানেন। ফলে দু’ পক্ষই একে অপরকে সমীহ করে চলে।

বৈশালী নগরীতে অভাবের চিহ্ন নেই। বরং প্রাচুর্য রয়েছে। এখানকার মাটি উর্বর। ফলে শস্যের ফলন বেশ ভালো। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ পর্যাপ্ত। পরিখা কেটে সেখানে বৃষ্টির জল ধরে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। সেচ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার কারণে বছরভর চাষের জলের অভাব দেখা দেয় না। খাজনা দিতে এখানকার প্রজাদের খুব একটা অসুবিধে হয় না। এক কথায় বজ্জিয়ান গণতন্ত্রে সে অর্থে প্রজাদের কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু এই ক্ষত্রিয়গোষ্ঠীগুলির নেতাদের িবরুদ্ধাচরণ করলেই মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত। ক্ষত্রিয়রা একগুঁয়ে, জেদি। অস্ত্র চালনায় পারদর্শী। বৈশালীতে লিচ্ছবিদের কথাই সে অর্থে শেষ কথা। বিধানসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত রাজ্যবাসীকে মেনে চলতেই হবে। গঙ্গার ধার ঘেঁষেই লিচ্ছবিরাজের রাজপ্রাসাদ। এখন লিচ্ছবিদের রাজা জয়ন্ত। ইদানীং রাজা জয়ন্ত বেশ চিন্তিত। লিচ্ছবিদের অধীনে থাকা শ্রাবস্তীতে এক নতুন অশান্তি শুরু হয়েছে। এই অশান্তির খবর দ্রুত ছড়িয়েছে গোটা বৈশালীতে। এক কিশোরীকে বিবাহ করার জন্য সেখানে রীতিমতো হাঙ্গামা বেঁধে গিয়েছে। আশেপাশের রাজ্যগুলি থেকেও নাকি ক্ষমতাসীন পুরুষরা এসে ঘাঁটি গেড়েছে শ্রাবস্তীতে। সবাই চান ওই মেয়েটিকে বিবাহ করে নিয়ে যেতে। এই নিয়ে গোল বেঁধেছে। রীতিমতো যুদ্ধের বাতাবরণ। রক্ষী মারফত সে খবর পেয়েছেন জয়ন্ত। তিনি দ্রুত সভা ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সভার সিদ্ধান্ত ছিল বাইরের লোকজনকে অবিলম্বে শ্রাবস্তী ছেড়ে চলে যাওয়ার নিদান দেওয়া হোক। পাঠানো হয় সেনা। তারা গিয়ে লড়াই থামায়। বৈশালীর বাইরে থেকে আসা রাজা, উজির, ব্যবসায়ী ও গোষ্ঠীপতিদের ফিরে যেতে বলা হয়। অসন্তুষ্ট হলেও ক্ষমতাবান পুরুষরা ফিরে গিয়েছিলেন। কারণ তাঁরা জানতেন লিচ্ছবিদের চটিয়ে কিছু করা যাবে না।

এই অবধি ঠিকই ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে গিয়েছিল। কিন্তু এখন তো গৃহযুদ্ধ লাগার জোগাড়। তাই কপালে ভাঁজ পড়েছে জয়ন্তর। এ সমস্যার সমাধান করতে না পারলে বৈশালীতে এক নারীকে কেন্দ্র করে শুরু হবে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধ। যার পরিণাম হবে ভয়ঙ্কর। ভেঙে যাবে বজ্জিয়ান প্রজাতন্ত্রের ঐক্য। যে ঐক্যের ওপর ভিত্তি করেই ক্ষত্রিয়গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে এই বিশাল সাম্রাজ্য। ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে বজ্জিয়ান গণরাষ্ট্র। রাজা জয়ন্ত বুঝে উঠতে পারছেন না কী আছে ওই কিশোরীর মধ্যে? যার জন্য পাগল গোটা দুনিয়া। শেষে কিনা এক নারীর জন্য ক্ষত্রিয়গোষ্ঠীর নেতারা নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে মেতে উঠলেন?

বৃজ্জি গোষ্ঠীর রাজা দেবমাল্য পরিষ্কার তাঁকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি শ্রাবস্তীর ওই কৃষক পরিবারের মেয়েটিকে বিবাহ করবেনই। দেবমাল্যর বিরোধিতায় সামিল হয়েছেন লিচ্ছবি গোষ্ঠীর অন্য নেতারাও। তাঁদের দাবি বৈশালীর মেয়েকে বিবাহ করার অধিকার শুধুমাত্র লিচ্ছবিদেরই আছে। যে যার মতো ক্ষমতা প্রদর্শনে হাজির হয়েছেন শ্রাবস্তীতে। সেখানে তাঁবু গেড়ে চলছে যুদ্ধের প্রস্তুতি। গৃহযুদ্ধের এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেন মগধরাজ বিম্বিসার। গোপনসূত্রে সে খবর পেয়েছেন জয়ন্ত। তাঁর রাজত্বকালে এমন বিচিত্র সমস্যার মুখোমুখি হননি তিনি। মনে মনে তিনি একবার মেয়েটিকে দেখার ইচ্ছে পোষণ করছেন। অনেকেই তাঁকে বলেছেন, মেয়েটি নাকি ডানাকাটা পরী। স্বর্গের অপ্সরা।

বৈশালীর রাজপ্রাসাদের পাশেই বিশাল বিধানসভা। প্রশস্ত সভাগৃহ। চারদিক নিপুণভাবে সাজানো গোছানো। বড় বড় পাথরের খিলান। পাথরের দেওয়ালে খোদাই করা কারুকাজ। বিধানসভায় সদস্যদের বসার জন্য সুদৃশ্য কাঠের আসন। প্রত্যেকেরই বসার জায়গা নির্দিষ্ট করা আছে। প্রথম সারিতে বসেন বিভিন্ন গোষ্ঠীর নির্বাচিত রাজারা। পাশের আসনে থাকেন মন্ত্রীরা। তার পরের সারিতে গোষ্ঠীপতিরা। সভার সূচনা করেন গণপূরক। আটটি গোষ্ঠীর মিলিত এই গণপ্রজাতন্ত্রে বৃজ্জিরাও খুব শক্তিশালী। তাই বৃজ্জিগোষ্ঠীর রাজা দেবমাল্যর দাবিকে সভার আলোচনায় স্থান দেওয়া হয়েছে। সভায় বিষয়টি আলোচনার প্রস্তাব আকারে পেশ করেন গণপূরক।

প্রস্তাব পেশ হতেই বয়সে নবীন দেবমাল্য উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, “আমি আম্রপালীকে দেখেছি। আমার তাকে পছন্দ হয়েছে এবং আমি তাকে বিবাহ করতে চাই। কেউ বাধা দিলে আমি তাকে হত্যা করতেও দ্বিধা বোধ করব না।”

দেবমাল্য এ কথা বলতেই সভায় গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। তারপর তা ধীরে ধীরে কোলাহলের রূপ নিতে শুরু করে। লিচ্ছবিরাজ জয়ন্ত শুনেছেন মেয়েটির নাম আম্রপালী। তাঁরই এক প্রজার মেয়ে। কিন্তু ওই মেয়েটি কি জাদু জানে? এমন কী রূপ তার যে, এক সঙ্গে এ তো জন রাজপুরুষকে সে আকৃষ্ট করে রেখেছে?

সভায় হৈচৈ থামাতে গণপূরককে হস্তক্ষেপ করতে হল। কিন্তু তাতেও কাজ হল না। সভাজুড়ে শুরু হল তীব্র বিশৃঙ্খলা। আম্রপালীকে বিবাহ করার দাবিতে সভার মধ্যেই সরব হলেন আরও বেশ কয়েক জন রাজপুরুষ ও গোষ্ঠীপতি।

লিচ্ছবিরাজ জয়ন্ত বাকিদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়ে বৃজ্জিরাজ দেবমাল্যকে বললেন, “কী এমন আছে ওই কিশোরীর মধ্যে যে আপনি তার জন্য রক্তপাত ঘটাতেও প্রস্তুত? এ আপনাকে শোভা দেয় না।”

“লিচ্ছবিরাজ, আপনি ওকে দেখেননি বলেই একথা বলছেন। আমি ওকে দেখেছি এবং ওর প্রেমে পড়েছি। ওকে আমি বিবাহ করতে চাই। এর মধ্যে অশোভন কী আছে বুঝতে পারলাম না!” কথার শেষে খানিকটা বিরক্তি ঝরে পড়ল দেবমাল্যর গলায়।

জয়ন্ত বললেন, “একটি নারীকে বিবাহের প্রস্তাবে অশোভনের কিছু নেই, কিন্তু আপনি যেভাবে বাকিদের বিরুদ্ধে হুমকি দিচ্ছেন সেটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অশোভন।”

দেবমাল্য অসহিষ্ণু হয়ে উঠলেন। রীতিমতো সভায় চিৎকার করে ঘোষণা করলেন, আম্রপালী তাঁর কাঙ্ক্ষিত নারী। কেউ যেন তার দিকে হাত না বাড়ায়।

দেবমাল্যর এ হেন আচরণে হতাশ জয়ন্ত। তিনি নিজের আসনে বসে পড়ে ভাবতে লাগলেন এই সমস্যার সমাধান কী করে করা যায়? জয়ন্তকে ওভাবে হতাশ হয়ে বসে পড়তে দেখে সভায় ফের হৈচৈ শুরু হয়ে গেল। বিদেহ, জ্ঞাতৃকা, উগ্র, ভোগ, কৌরব ও ঐক্ষবক গোষ্ঠীর রাজারা দাবি জানতে থাকলেন আম্রপালীকে দেবমাল্য বিবাহ করলে তাঁরাও তাঁকে ছেড়ে দেবেন না। এমনকী লিচ্ছবি গোষ্ঠীর নেতারাও আম্রপালীকে বিবাহের দাবিতে সরব হয়ে উঠলেন।

রাজা জয়ন্তকে ওভাবে হতাশ হয়ে বসে পড়তে দেখে মন্ত্রী কোরক সত্যিই চিন্তিত হয়ে পড়লেন। ভাবলেন এর একটা বিহিত তো করতেই হবে। একটি নারীর জন্য এভাবে গৃহযুদ্ধ বাঁধতে দেওয়া যায় না। তাহলে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে বৈশালী। জয়ন্তর কানের কাছে মুখ নিয়ে তিনি বললেন, “মহারাজ এ জিনিস চলতে দিলে অচিরেই এই গণরাষ্ট্র ভেঙে পড়বে। এই দুর্বলতার সুযোগে বৈশালী আক্রমণ করবে শত্রুরা।”

“এ কথা তোমার থেকে আমি ভালো অনুমান করতে পারছি কোরক। কিন্তু উপায় কিছু জানা আছে কি তোমার?” রাগত স্বরে মন্ত্রী কোরকের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো বলে উঠলেন জয়ন্ত।

“আছে মহারাজ। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার একটাই পথ খোলা আছে।”

জয়ন্ত উত্তেজিত ভাবে জিজ্ঞেস করে উঠলেন, “বলো কী তুমি! কী সেই পথ? বলো, বলো, আমাকে বলো কী সেই উপায়!”

মন্ত্রী কোরক দেখলেন এই সেই সুযোগ। রাজা জয়ন্তকে খুশি করতে পারলে তাঁরও ক্ষমতা ও অর্থ বৃদ্ধি হবে। আর এখন যা অবস্থা তাতে করে বৈশালীর অস্তিত্বই বিপন্ন। ফলে বড় দাঁও মারতে পারাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তিনি বললেন, “মহারাজ, কিছু যদি মনে না করেন। একটা কথা বলি?”

“বলো, বলো কী কথা?” দ্রুত আগ্রহ দেখালেন লিচ্ছবিরাজ।

কোরক মিনমিন করে বললেন, “বৈশালীর এই ঘোর দুর্দিনে উপায় বাতলানোর পুরস্কার কি জুটবে না?”

“উফঃ কোরক তুমি দেখছি মহা ধুরন্ধর!”

কোরক মাথা নিচু করে হাত কচলাচ্ছেন। তিনি জানেন যতটা সময় তিনি এই মূহূর্তে নিতে পারবেন ততই তাঁর কদর বাড়বে।

সভায় তখন তুমুল গন্ডগোল চলছে। প্রায় হাতাহাতি হওয়ার জোগাড়। গণপূরক সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে চলেছেন। এই পরিস্থিতিতে মন্ত্রী কোরককে চুপ করে থাকতে দেখে অধৈর্য হয়ে উঠলেন জয়ন্ত। বললেন, “উপায় বাতলাও, সহস্র কার্ষাপণ দেব। খুশি? এবার বলো।”

কোরক বিগলিত কণ্ঠে বললেন, “মহারাজ আপনি বিচক্ষণ মানুষ। আপনার উপহার মাথায় করে রাখব। শুধু মহারাজ আমার ছেলে লুব্ধককে তালুকার জায়গিরদার বানিয়ে দিন।”

“ঠিক আছে সে দেব ’খন। এখন তোমার মাথায় কী উপায় আছে তা বলো দেখি।”

কোরক ভেবে দেখলেন তাঁর কাজ হাসিল হয়ে গেছে। তিনি জয়ন্তর কানে কানে একটা উপায় বাতলালেন।

জয়ন্তর চোখেমুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ল। তিনি ভাবলেন, আরে এই বিষয়টা তো তাঁর মাথায় আসেনি। উপায় তো তাঁর হাতেই রয়েছে।

জয়ন্ত উঠে দাঁড়িয়ে বিবাদমান সবাইকে শান্ত হতে বললেন। সেনাপতিকে বললেন, “শ্রাবস্তীর ওই কৃষক-দম্পতিকে অবিলম্বে বিধানসভায় হাজির হতে বলো। পেয়াদা দিয়ে সমন পাঠাও। আর হ্যাঁ, তাঁরা যেন সঙ্গে করে তাঁদের কন্যাটিকেও নিয়ে আসেন। আমিও তাকে দেখতে চাই। এমন কী আছে ওর মধ্যে যে তার জন্য আজ বৈশালীতে গৃহযুদ্ধ বাঁধতে বসেছে!”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *