জোনাকির রঙ – সায়ক আমান
উৎসর্গ
ছোটবেলার গল্পওয়ালা দীপদাকে। আর সেইসব
জ্যান্ত মানুষদের যাদের কাছে একটা অপ্রকাশিত
সুইসাইড নোট আছে।
.
ভূমিকা
‘পা দেবে, দেবে, দিল… দিল… দিল… ব্যাস!’
কাঁচা কাজটা করে ফেললেন মশাই। বইটা হাতে তুলেই ফেললেন। দামটা দেখেছেন? ডিসকাউন্ট কত কম খেয়াল করেছেন? তাও কিনবেন? আপনি তো বড়লোক মশাই! এই টাকায় এক প্লেট চিকেন বিরিয়ানি হয়ে যায় এবং আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিতে পারি এই বইটা বিরিয়ানির মতো উপাদেয় নয়। উহু, বিনয় করছি না কিন্তু, সত্যিই নয়।
বরঞ্চ এই বই পুড়ে যাওয়া ভাতের গল্প। একদিন এক খামখেয়ালী কিশোরীর হাত তার প্রিয়জনের জন্য চাপিয়েছিল সেই ভাত। তারপর কখন যেন মনের খেয়ালে নামাতে ভুলে গেছে। এখন সেই কিশোরীকে ঘিরে আছে শুধু পোড়া ধোঁয়ার গন্ধ। তার অন্তরের যত্নটুকু কেউ বিশ্বাস করে না আর, তার প্রিয়জন বলে আর কেউ নেই…
আমরা, যাদের ভেতরটা ক্ষয়ে যায় রোজ, একটা একটা করে মানুষ সরে গিয়ে নির্জনতা গ্রাস করে যাদের, যাদের জন্য অসংখ্য শহরের ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে কোন নিশ্চিন্দিপুরের কুঁড়েঘরে ছোট্ট হ্যারিকেন হাতে কেউ অপেক্ষা করে না, এ গল্প সেই সব মানুষদের। তাদের অন্য জগতে পালিয়ে যাওয়ার গল্প…
এমন কোন জগত যেখানে ফুটফুটে চালের গন্ধ আছে, আঁচলের আশ্রয় আছে, রঙিন কাগজের চরকি আছে, যেখানে জোনাকির রঙে হ্যারিকেন জ্বেলে সত্যি কেউ অপেক্ষা করছে তাদের জন্য…
‘নিকুচি করেছে, যা ইচ্ছা তাই লিখব…”
ওই যে তিনটি শব্দ আছে না? যেগুলো দিয়ে ছেলেছোকরার প্রেম অফিশিয়ালি শুরু হয়, লেখক কিংবা শিল্পীর জীবন শুরু হয় এই তিনজোড়া শব্দ দিয়ে। তাই আপনাকে বিরিয়ানির বদলে পোড়া ভাত তুলে দেওয়ার আগেই বলে রাখলুম, আপনার ভালোলাগার কথা ভেবে এই উপন্যাসের একটা শব্দও আমি লিখিনি। কোন্ ঘরে মন্ত্রী এগিয়ে দিলে আপনি আড়াই প্যাঁচ ঘোড়ার চালে সেটাকে বোর্ডের বাইরে পাঠাতে পারবেন, তা আমি ভেবে দেখিনি একবারও… এই গোটা উপন্যাসটা একটা আস্ত সুইসাইড নোটের মতো। যা লিখতে গিয়ে লেখককে একবারও ভাবতে হয়নি লোকে কী ভাববে, কোথায় বাক্য খেলছে না, কোথায় ভাষা কাঁচা রয়ে যাচ্ছে… তার সবকিছু নিংড়ে বলে ফেলাটুকু ছাড়া আর কোন ভাবনা নেই। তার কিছুতেই আর কিছু যায় আসে না…
এই পৃথিবীর প্রত্যেকটা সুইসাইড নোট কি মৃত্যুকে লেখা প্রেমপত্র নয়?
এ বই আমি নিজেই লিখেছি। কেউ সাহায্য টাহাজ্য করেনি মশাই। তবে হ্যাঁ, কয়েকজনের কথা বলা দরকার।
এক, বানান ভুল ও বিভ্রান্তিতে ভরা পাণ্ডুলিপি পাইলস অপারেশন টেবিলে রুগীর মতো প্রথমবার পড়ার জন্য যাদের দিকে এগিয়ে দিয়েছি তাদের একটাই কথা বলার, ‘মাস্টারমশাই, আপনি কিন্তু কিছু দেখেননি….
দুই, এই উপন্যাস লিখতে গিয়ে যে ক’দিন আমার অডিওর জগত থেকে বিদায় নিয়েছিলাম সেই সময়ে মিডনাইট হরর স্টেশনের সিংহভাগ সামলেছে তমাল।
তিন, এবার একটা বই না লিখলে লেখকদের উপস্থিতির খাতায় আমার নামের পাশে ট্যাড়া পড়ে যাবে সে কথা আমাকে দু-মাস অন্তর মনে করিয়ে দিয়েছেন পৌলমি দেবী।
চার, বিভা পাবলিকেশন এখনও আমার লেখা ছাপছে! ওদের কি ভালো লেখকরা পান্ডুলিপি পাঠান না?
পাঁচ, এ বইয়ের প্রায় কোন চরিত্রই কল্পনার ফসল নয়। সেই অগুনতি মানুষ, যাদের আমি কাঁদতে দেখেছি বা দেখিনি, যাদের বুকের চামড়া সরিয়ে উকি মারলে, খানিকটা রক্তমাংস, নির্জনতা আর একাকীত্ব সরালে একটা অদ্ভূত সুখ আর নিশ্চিন্ত জগতের খোঁজ পাওয়া যায়, তাদের না দেখলে হয়তো এ বই লিখতে পারতাম না।
বই পড়ুন ও পড়ান। কেউ পড়তে না চাইলে জবরদস্তি হাতে গুঁজে দিন, মাথায় চাঁটা মারুন। আর ভালো কথা, যারা বই না কিনে বিরিয়ানিই খাবেন বলে ঠিক করেছেন তারা একা পুরো প্লেট না খেতে পারলে… যাক গে…
সায়ক আমান
কলকাতা
৩১শে জানুয়ারি, ২০২২






Good
আঁধার জলের কোলাহল ও জোনাকির রঙ, বই দুটি আপলোড করুন প্লিজ।
এই গল্পটা কবে আপলোড করবেন??? একটু তাড়াতাড়ি করুন
FD
Hi
Want this book। Plz help
আঁধার জলের কোলাহল ও জোনাকির রঙ, বই দুটি আপলোড করুন প্লিজ।
Operation blue wings please…