জোনাকির রঙ – ৭

(সপ্তম অধ্যায়)

প্রতিটা মানুষই আসলে সংখ্যালঘু। কেউ আবেগের দিক থেকে, কেউ ধর্মের দিক থেকে, কেউ যৌনতার দিক থেকে। যে যত বেশি সংখ্যালঘু, সে তত নিজেকে একা মনে করে। ছোটবেলায় আমি সংখ্যালঘু ছিলাম আমার গাছের জন্য। আমার কাছে এমন কিছু গাছ ছিল, যা এ দেশের কারও কাছে ছিল না। আমার বারান্দার টবে দোল খেত ওরা। কথা বলত।

বাড়িতে যখন মা-বাবা কেউ থাকত না, আমি জানলার কাছে এসে বসতাম। টবের গাছগুলো তখন মাথা নাড়াত। আমার মনে হত, ওরা আমার সঙ্গে কথা বলতে চায়। মা অনেক খুঁজে খুঁজে কোনও বিদেশি ক্লায়েন্টের থেকে জোগাড় করেছিল গাছগুলোকে। আমাদের দেশে সাধারণত অমন গাছ পাওয়া যায় না। লোকটা মা-কে বলেছিল, গাছগুলো বেশি দিন বাঁচবে না। এ দেশে বেশি দিন বাঁচে না ওরা। তা-ও কীভাবে টিকে গিয়েছিল।

আমার মতো এ দেশে ওরাও সংখ্যালঘু ছিল। ফলে আমাদের মিলেছিল বেশ। রোজ দুপুরের দিকে আমি গাছগুলোতে জল দিতাম। গাছের প্রত্যেকটা পাতা উপরে তুলে পাতার তলার দিকটা দেখতাম। মানুষ হোক কি গাছ, আমরা উপর থেকে সৌন্দর্য দেখতে ভালোবাসি। পাতার উপরের দিকটা সবাই চোখ দেয়। কিন্তু আসল সৌন্দর্য থাকে পাতার তলায়। সেখানে বাহার থাকে না, তবে আশ্রয় থাকে, ছায়া থাকে, ঢেকে রাখা থাকে অনেক কিছু।

এই গাছগুলোর মধ্যে আমার সব থেকে প্রিয় ছিল যে গাছটা, তার নাম আমি দিয়েছিলাম মৃণালিনী। মৃণালিনীকে মনের সব কথা খুলে বলতাম। ভারী পলকা গাছ ছিল ও। বাইরে মৃদু হাওয়া দিলেও এমনভাবে নড়ত যেন এই বুঝি উপড়ে মাটিতে পড়বে। একবার ঝড়ের সময় আমি টবের পাশে বসে আগলে রেখেছিলাম মৃণালিনীকে। ঝড় এলে ও ভয় পেত, আমাকে খুঁজত, আমি জানি। বাবা বেল্টের বাড়ি মারতে মারতে যখন ক্লান্ত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যেত, আমি গিয়ে চুপ করে বসতাম মৃণালিনীর পাশে। তখন ওর পাতার উপর জল ফুটে উঠতে দেখতাম। আমি আলতো হাতে মুছে দিতাম জলটুকুনি। গাছ ভারা অদ্ভুত, তা-ই না? যতই দুঃখ হোক, তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরা যায় না। কুকুরকে যায়, বিড়ালকে যায়, মানুষকে যায়, আমাদের দুঃখে আরও যাদের চোখে জল আসে, তাদের সবাইকে জড়িয়ে ধরা যায়, কেবল টবের গাছকে যায় না।

ওই গাছগুলো ছাড়া তেরো বছর বয়স পর্যন্ত আমার কোনও বন্ধু ছিল না। কেবল রুমিনা বলে একজন ছিল। রুমিনার আসল নাম আমি জানি না। তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি কোনওদিন। কেবল ওর মুখ চিনতাম। একটা ছোট্ট কুকুরকে নিয়ে এসে দাঁড়াত আমার জানলার ঠিক পাশে। আমি গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে ওর চোখের দিকে চেয়ে থাকতাম। ও-ও থাকত আমার দিকে চেয়ে। কুকুরটা ডেকে উঠত মাঝে মাঝে। তারপর কুইকুই করে ইঁদুরকে তাড়া করত।

রুমিনার চোখের দিকে তাকালে আমার ভেতরে কোথায় যেন একটা ব্যথায় মলম লাগত। কাউকে বিষ দিয়ে মারতে ইচ্ছা করত না, মায়ের চিৎকার কানে আসত না, কোথাও ছুটে চলে যেতে ইচ্ছা করত না।

কোনও কোনওদিন ওর হাতে বিস্কুট কিংবা লজেন্স থাকত। আমার জন্য নিয়ে আসত ওগুলো। তারপর গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে হাত বাড়িয়ে আমার দিকে বাড়িয়ে দিত খাবারগুলো। আমি অর্ধেকটা নিতাম, বাকি অর্ধেকটা রেখে দিতাম ওর জন্য।

ওর চোখ তুলে চেয়ে-থাকা সেই অদ্ভুত নরম দৃষ্টি আমার আজও মনে পড়ে। ও মনে হয় বোবা ছিল। আমার গাছেদের মতো। মৃণালিনীর মতো। যেদিন ওর কচি দেহটাকে চারটে লোক একটা সাদা বিছানায় করে নিয়ে গেল, সেদিন ওর নরম চোখটা বন্ধ ছিল। আমি বুঝতে পারছিলাম ওই বন্ধ চোখের নীচে অনেকটা নিরাপত্তা আর আশ্রয় আছে, ছায়া আছে, মৃণালিনীর ছায়ার মতো। তারপর থেকে আর দেখতে পাইনি রুমিনাকে। আর ঠিক সেইদিনই আমার প্রিয় বন্ধু, আমার মৃণালিনীর পাতা শুকিয়ে গিয়েছিল। আমি মৃণালিনীকে টব থেকে তুলে ভীষণ শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিলাম বুকে। সেদিন আর ওর মরে যাওয়ার ভয় ছিল না। সেদিন মৃণালিনীকে। জড়িয়ে ধরে খুব কেঁদেছিলাম।

কাউকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে গেলে তার মরে যাওয়া কি খুব দরকার?

*

ফাঁকা রাস্তা বলে একটু দ্রুতই চলছিল গাড়িটা। হঠাৎ শতরূপ চিৎকার করে উঠতেই থতোমতো খেয়ে ব্রেক কষল বিনয়। একটা ঝাঁকুনিতে শতরূপের শরীরটা প্রায় ছিটকে এসে লাগছিল সামনের সিটে। কোনওরকমে একটা হাত দিয়ে নিজেকে সামলে নিল সে। বিনয় মুখ ফিরিয়ে বলল, “কী হল, দাদা?”

“কিছু একটা ছিল সামনে। জঙ্গলের ভেতর ঢুকে গেল…” ঢোঁক গিলে বলল শতরূপ।

দরজা খুলে গাড়ির বাইরেটা একবার উঁকি দিল বিনয়— “চাপা-টাপা কিছু পড়েনি মনে হচ্ছে।”

শতরূপের মাথার পাশের উইন্ডোটা খোলা ছিল। সেটা দিয়ে জঙ্গলের ভেতরে বিরাট গাছ আর তার ফাঁকে ফাঁকে জমাট অন্ধকার চোখে পড়ছে। একবার সেদিকে তাকালে গা-টা কেমন শিউরে ওঠে। মনে হয় এ জঙ্গলের শেষ নেই। এর ভেতর দিয়ে একবার হাঁটতে শুরু করলে মহাকাশের কোনও অজ্ঞাত প্রান্তে পৌঁছোনো যাবে।

এতক্ষণে কানটা সতর্ক হয়ে উঠেছে শতরূপের। দীর্ঘদিন রেডিয়োতে কাজ করার জন্যই হয়তো কানটা একটু বেশি সজাগ থাকে তার। আপাতত বাইরে একটা অদ্ভুত একটানা ঝিঁঝির ডাক ছাড়া আর কোনও শব্দ নেই। বিরাট জঙ্গলটা যেন মরে আছে। তার ভেতরের সমস্ত বন্যপ্রাণী উধাও হয়েছে অন্ধকার নামতেই।

পাশে তাকিয়ে ঐন্দ্রিলার মুখটা একবার দেখল শতরূপ। সে-ও জানলা দিয়ে বাইরে জঙ্গলের দিকটা দেখছে। সমস্ত মুখ জুড়ে উৎসাহ দেখে বোঝা যায় না এ জায়গায় সে আগেও বহুবার এসেছে।

বিনয় কান পেতে কী যেন শোনার চেষ্টা করছিল। খানিকক্ষণ সময় নিয়ে বলল, “রাতে এলাম বটে, তবে কাজটা কিন্তু ঠিক হচ্ছে না, দাদা। এখানে রাতবিরেতে হাতির পাল বেরোয়। এ কলকাতার সার্কাসের হাতি নয়, এরা মানুষ দেখলে তাড়া করে…” একটু থেমে যোগ করল, “কেয়ারফুল থাকবেন। কোথাও অল্প একটু ডালপালা ভাঙার শব্দ পেলেই সোজা গাড়ির দিকে ছুট লাগাবেন।”

গাড়ির দরজা খুলে বাইরে এসে নামে শতরূপ। নির্জন জঙ্গলের ফাঁকে একচিলতে রাস্তায় একটা নিষিদ্ধ গন্ধ আছে।

“আমি এখানে এসেছি আগে?” চাপা গলায় প্রশ্ন করে ঐন্দ্রিলা।

“অনেকবার। বলা যায়, এটাই ঘরবাড়ি ছিল তোর।”

“এই জঙ্গলের মধ্যে! তুই আমার সঙ্গে আসিসনি?”

“উঁহু।”

“কেন?”

“তুই কাউকে নিতে চাইতিস না…” শতরূপ কথাটা শেষ করার আগেই জঙ্গলের ভেতরে একটা বিশেষ দিকে আঙুল তুলে দেখায় ঐন্দ্রিলা। তারপর বলে, “মন্দিরটা ওইদিকে না?”

বিনয় উপর-নীচে মাথা নাড়ে।

“এইটা মনে আছে তোর?”

“কী জানি…” ঠোঁট ওলটায় ঐন্দ্রিলা, “মনে হল, ওই জায়গাটা চিনি। কী একটা আছে ওখানে।”

“হ্যাঁ, মহাকালদেবের মন্দিরটা ওখানেই…”

“উঁহু, মন্দির নয়…”

“তাহলে?”

“বুঝতে পারছি না।”

শতরূপ অবাক চোখে তাকায় তার দিকে— “আর কী মনে আছে?”

“আরেকটু এগিয়ে দেখলে বুঝতে পারব।”

গাড়িটা রাস্তার একধারে দাঁড় করিয়ে তিনজনে এগিয়ে যায় জঙ্গলের ভেতরে। মাটিতে খসখস করে পায়ের শব্দ হয়। জঙ্গলের নিস্তব্ধতা বিঘ্নিত হয় তাতে। আজ হালকা জ্যোৎস্নার আলো আছে। সেই আলোয় ওদের শরীর ভিজছে।

“আমি এখানে আসতে চাইতাম না, তার আরও একটা কারণ ছিল।” ঐন্দ্রিলার দিকে না তাকিয়েই চাপা গলায় বলে শতরূপ।

“কী কারণ?”

“আমার ভয় লাগত। রাত্রিবেলা জঙ্গলটাকে দেখলেই কেমন গা শিরশির করে না?”

“এ বাবা, তুই ভিতু!” কৌতুকের গলায় হেসে ওঠে ঐন্দ্রিলা। “উঁহু, তুই আমার থেকে একটু বেশিই সাহসী ছিলি।”

ঐন্দ্রিলা খোলা চুলগুলো মাথার পেছনে বাঁধতে বাঁধতে বলে, “পৃথিবীতে সাহসী মানুষ বলে কিছু হয় না। তারাই সাহসী হয়, যাদের হারানোর মতো কিছু নেই।”

“তাহলে তুই সাহসী হলি কী করে? তোর কাছে তো সব কিছু ছিল। বাবা-মা, এতগুলো মানুষ, নিজের….”

ঐন্দ্রিলা হাসে— “এই জানিস, আমারও গা শিরশির করছে। মনে হয়, আগের সব কিছু ভুলে যাওয়ার পর ভীতু হয়ে গেছি।” কথাটা বলে কিছুক্ষণ কী যেন চিন্তায় ডুবে থাকে, তারপর বলে, “তোর মনে হয় না যে আমি আগের থেকে অনেকটা পালটে গেছি?”

“আগে আরেকটু বেশি হাসিখুশি ছিলিস। এখন সারাক্ষণ কেমন গম্ভীর হয়ে থাকিস। ভালো লাগে না।”

“আমি হাসিখুশি ছিলাম!” মেয়েটা ভুরু কুঁচকে তাকায় ওর দিকে— “কেমন যেন মেলাতে পারছি না।”

“না-মেলানোর কী আছে?”

“আমার কয়েকটা পুরোনো ছবি দেখছিলাম। প্রায় কোনও ছবিতেই আমি হাসছি না। আর…”

“আর কী?”

“আর কোনও ছবিতেই তুই নেই।”

“আমি অত ছবি-টবি তুলতে পছন্দ করি না…”

ঐন্দ্রিলা কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল। কিন্তু তার আগেই জঙ্গলের ভেতরদিক থেকে একটা খসখস শব্দ ভেসে আসে। একটু আগের সাবধানবাণী মনে পড়ে যায় ওদের। তিনজনেই শিউরে ওঠে। স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে কান পেতে শোনার চেষ্টা করে।

শব্দটা কিন্তু আর হয় না। বিনয় কিছুক্ষণ পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে আবার সামনের দিকে চলতে শুরু করে— “ও কিছু নয়। শুয়োর-টুয়োর হবে হয়তো। হাতি হলে আরও জোরে আওয়াজ হত।”

শতরূপ হাঁটতেই যাচ্ছিল এমন সময় হঠাৎ খেয়াল করে, একটু আগে আওয়াজটা শোনামাত্র ঐন্দ্রিলা খামচে ধরেছে ওর কনুইয়ের নীচটা। মেয়েটার হাতটা এখনও ঠান্ডা হয়ে আছে। আবার হাঁটতে শুরু করে সে। তবে হাতটা ছাড়ে না।

একটা অদ্ভুত শিরশিরানি হতে থাকে শতরূপের। সেটা জংলি হাতির ভয় নাকি অন্য কোনও কারণে, তা সে বুঝতে পারে না। ঠিক যে জায়গায় ঐন্দ্রিলা হাতটা পেঁচিয়ে আছে, সেখানে প্রায় কিছুই অনুভব করতে পারছে না। বাকি পথটা দুজনের কেউ আর কোনও কথা বলে না।

মিনিট দশেক চলার পর একটা জায়গায় গিয়ে থমকে দাঁড়ায় বিনয়। তারপর ডানদিকে দুটো গাছের আড়ালে হাত দেখিয়ে বলে, “ওই গাছ দুটো পেরোলেই মন্দির। তবে একটুখানি জায়গা খোঁড়া আছে। নীচের দিকে খেয়াল রাখবেন….”

শতরূপ তাকিয়ে দ্যাখে, সত্যিই জঙ্গলের সেই জায়গাটায় ছোটখাটো একটা মন্দিরের চূড়া দেখা যাচ্ছে। অন্ধকার আর গাছপালার মধ্যে এমনভাবেই ঢেকে আছে যে একবার তাকিয়ে বোঝা যায় না। মোবাইলের আলো জ্বেলে সামনে ফেলে শতরূপ মন্দিরটা দেখতে পায়।

মোটামুটি ভাঙাচোরা একটা দোতলা বাড়ির সমান উচ্চতার মন্দির। উপরের দিকটা গম্বুজের মতো, তার পাশেই একটা লাগোয়া ছাদ। একতলার থেকে দোতলা বেশি ভেঙে পড়েছে।

জঙ্গলের মাটির উপরে একচিলতে চাতাল। সেখান থেকে দশ ধাপ সিঁড়ি উঠে গেছে মন্দিরের একতলায়। ভেতরে গর্ভগৃহের দরজা দেখা যাচ্ছে। তার ভেতর মোবাইলের আলো গিয়ে পৌঁছোচ্ছে না।

শতরূপের মনে হয়, জঙ্গলের এই জায়গায় ঠান্ডাটা যেন হঠাৎ করেই একটু বেড়ে গেছে। কয়েকটা বাদুড় ওদের দেখতে পেয়ে বিরক্ত হয়ে উড়ে গেল। “এ মন্দির কে তৈরি করে, কিছু জানো?” বিনয়ের দিকে চেয়ে জিজ্ঞেস করে শতরূপ।

“কে তৈরি করে, কিছু জানা যায় না, দাদা। তবে বছর তিরিশেক আগেও এদিকে মন্দির আছে বলে কেউ জানত না। শুনেছি, মন্দিরের চাতালে নাকি কয়েকটা কঙ্কালও পাওয়া গিয়েছিল। তবে ওসব বোধহয় গুজব…”

“বাবা!” শতরূপ ভুরু কুঁচকোয়, “পুরোনো পরিত্যক্ত মন্দিরের চাতালে কঙ্কাল! ভৌতিক ব্যাপারস্যাপার, কী বলো?”

ঐন্দ্রিলার দিকে ফেরে শতরূপ, “কী রে? তোর কিছু মনে পড়ছে নাকি?”

“আমি আগেও এসেছি এখানে।” ঐন্দ্রিলার চোখে-মুখে একটু আগের উৎসাহটা আবার ফিরে এসেছে। সে শতরূপের কনুই থেকে হাত সরিয়ে দ্রুত কয়েক পা হেঁটে এগিয়ে যায় মন্দিরের দিকে।

আবার চাপাস্বরে সাবধান করে বিনয়, “দিদি, সামনে কিছুটা খোঁড়া আছে… দেখে যাবেন…”

শতরূপ এবার বিনয়ের পাশে চলে আসে, নিচু গলায় বলে, “এখানে কি ও একাই আসত?”

“একেবারে ছোটবেলার কথা জানি না। তখন হয়তো একাই আসত। স্যারের কাছে যবে থেকে আছে, বেশির ভাগ দিন আমাদের মধ্যে কেউ জঙ্গলের বাইরে অবধি দিয়ে যেত। দিদি ঘণ্টাখানেক থেকে আবার ফিরে এসে গাড়িতে উঠত। একদিন অনেকক্ষণ ফিরছে না দেখে আমি এসেছিলাম মন্দিরের কাছে। দেখি বাইরে কেউ নেই। ভেতরে উঁকি মেরে দেখি, কার সঙ্গে যেন কথা বলছে…”

“কথা বলছে! এখানে? কার সঙ্গে?”

“কার সঙ্গে তা তো বলতে পারব না…”

“এটা তো শিব মন্দির। ওর ধর্মে-টর্মে ভক্তি ছিল নাকি?”

“ধুর, কী যে বলেন। দিদি ছোট থেকে ওসবে নাকি বিশ্বাসই করে না….”

“তাহলে মন্দিরে আসায় এত আগ্রহ কেন?”

বিনয় আবার এগোতে যাচ্ছিল। থেমে গিয়ে বলে, “মন্দির থেকে ফেরার পর না, দিদি কেমন একটা হয়ে যেত….”

“হয়ে যেত মানে? মন খারাপ করত?”

“না। উলটো। মন্দির থেকে ফিরে কিছুদিন খুব হাসিখুশি থাকত। মানুষ মদ খেলে যেমন হঠাৎ করে জোরে জোরে হাসতে থাকে, গান গায়, ফূর্তি করে, সেরকম হয়ে থাকত ক-দিন। আমরা প্রথম প্রথম আসতে দিতাম না। তারপর…”

শতরূপ মনে করার চেষ্টা করে, এখনও পর্যন্ত যে ক-টা ডায়েরি ও পড়েছে, তার মধ্যে এই মন্দিরটার কোনও উল্লেখ নেই। ও ভালো করে তাকায় মন্দিরটার দিকে। সত্যিই এটা কবে তৈরি তা দেখে বোঝার উপায় নেই। যেটুকু আলো আসছে, তাতে বোঝা যায়, বেশির ভাগ জায়গায় ইট ভেঙে পড়েছে। চুন-বালি ছড়িয়ে আছে জঙ্গলের মাটিতে। ঠিক যেন বহু বছরের পুরোনো অযত্নে ভাঙাচোরা একটা কবরস্থান। সাবধানে পা ফ্যালে শতরূপ। “এই, ছাদে কে?” আচমকা ঐন্দ্রিলার চিৎকারে মুখ তুলে তাকায় ওরা দুজনে। সঙ্গে সঙ্গে চোখ চলে যায় ছাদের দিকে।

না, কেউ নেই সেখানে। কেবল ভাঙা রেলিং-এর উপরে চাঁদের আলো ঝিমিয়ে রয়েছে।

“কে একটা আছে ওখানে। এক্ষুনি মুখ বাড়াচ্ছিল।”

বিনয় এগিয়ে যায়, অবাক হয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে বলে, “এখন ও ছাদে কে থাকবে, দিদি? তুমি ভুল দেখেছ…”

“ভুল দেখব!” ঐন্দ্রিলা রেগে ওঠে, “মাথাটা দেখা যাচ্ছিল কেবল, আমাকে দেখেই সরে গেল। চলো, দেখি গিয়ে।”

বিনয় আঁতকে ওঠে, “দেখবে মানে! আচ্ছা ধরেই নিলাম, কেউ উঠে বসে আছে ছাদে। এ ছাদে ওঠা তো বারণ নয়।”

“তা-ই যদি হয় তাহলে আমাকে দেখে লুকিয়ে পড়ল কেন? বেশ, তুমি নীচে থাকো। আমি গিয়ে দেখছি।”

কেমন যেন খটকা লাগে শতরূপের। ঐন্দ্রিলার হাবভাব হঠাৎ করেই বদলে গেছে। আচমকাই একটু বেশি প্রাণোচ্ছল দেখাচ্ছে তাকে। এক জায়গায় বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে না। দীর্ঘদিন পর ছাড়া পাওয়া কিশোরীর মতো উড়ে বেড়াতে চাইছে সমস্ত জায়গাটায়।

কথাগুলো বলেই ছাদের সিঁড়ির দিকে পা বাড়িয়েছে ঐন্দ্রিলা। বিনয় দু-একবার আপত্তি করে। তাতে লাভ হয় না। শতরূপও এগিয়ে যায় সেদিকে। ছাদটা দেখার একটা চাপা আগ্রহ তাকেও তাড়িয়ে নিয়ে চলেছে। তা ছাড়া ঐন্দ্রিলার স্মৃতি যদি আবছা ফিরে আসে তাহলে ওই ছাদে গিয়েও কিছু মনে পড়তে পারে তার। মোবাইলের আলোটা সামনে ধরে সে এগিয়ে যায়। “এখানে এসে থেকে সব থেকে বেশি কী মনে পড়ছে তোর?” এগোতে এগোতে কৌতূহলী গলায় প্রশ্ন করে শতরূপ।

“একটা সংখ্যা।”

“কোন সংখ্যা?”

“নয়…” কেমন যেন ঘোর-লাগা গলায় উত্তর দেয় ঐন্দ্রিলা, “এই নাম্বারটার সঙ্গে মন্দিরটার কিছু একটা সম্পর্ক আছে, যতদূর মনে পড়ছে ওই সংখ্যাটা লেখা আছে এখানে কোথাও। সেটা দেখতেই আসতাম আমি।” শতরূপের কৌতূহলটা বেড়ে ওঠে। পরে দিনের বেলায় এসে একবার দেখতে হবে মন্দিরটাকে। এই রাতের অন্ধকারে মন্দিরের ভেতরে কোথাও যদি সংখ্যা লেখাও থাকে, সেটা দেখা যাবার কথা নয়।

সিঁড়িগুলো ভয়ানক রকমের সরু। তার উপরে প্রায় সব ক-টা ধাপই এদিক-সেদিকে ভাঙা। শরীর সংকুচিত করে সাবধানে উঠতে থাকে। একটা ব্যাপারে খটকা লাগে তার। ঐন্দ্রিলার কাছে ফোন বা আলো নেই। তা-ও এই সিঁড়িগুলো ডিঙিয়ে গেল কী করে? অবশ্য সিঁড়ি দিয়ে যদি আগে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকে তাহলে অবচেতনে সে স্মৃতি রয়ে গেছে হয়তো। “একটু দেখে ওঠ। সিঁড়ির অবস্থা ভালো নয়….” নীচ থেকে উঁচু গলায় সাবধান করে ও।

মিনিটখানেকের কসরতের পর ছাদে উঠে আসে। খোলা ছাদ। কোথাও কেউ নেই। কেবল একদিকের ভাঙা পাঁচিল ধরে দাড়িয়ে আছে ঐন্দ্রিলা। মৃদু হাওয়ায় তার গাঁয়ের ঝুল জামা উড়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝে। চুলগুলো

খুলে দিয়েছে। পিঠের উপর এলিয়ে আছে চুল।

শতরূপ তা-ও একবার ভালো করে চারদিকটা দেখে নেয়। তারপর হতাশ গলায় বলে, “কই, কেউ তো নেই কোথাও।”

ঐন্দ্রিলা মুখ না ফিরিয়েই বলে, “অন্যদিক দিয়ে নেমে গেছে মনে হয়…” কী যেন মিশে আছে ওর গলার স্বরে। সন্দেহ হয় শতরূপের। মন দিয়ে দূরের দিকে কী দেখছে মেয়েটা?

ছাদের মেঝেটা সিমেন্টের। তার উপরে বহু বছরের ধুলো আরও খসখসে করে তুলেছে মেঝেটাকে। হাঁটতে গেলে বিচিত্র এক শব্দ হয়। বুনো গন্ধে ভরে আছে জায়গাটা। আশপাশের কয়েকটা গাছ ঝুঁকে পড়েছে ছাদের উপর। তাদের দুলন্ত পাতার মধ্যে দিয়ে চাঁদটাকে দেখা যাচ্ছে।

“তুই সত্যি কাউকে দেখিসনি, তা-ই না?” ছাদের মাঝামাঝি গিয়ে শান্ত গলাতেই প্রশ্ন করে শতরূপ।

ঐন্দ্রিলা উপর-নীচে মাথা নাড়ে, “না। শুধু এই জায়গাটায় আসতে ইচ্ছা করছিল।”

“বললেই হত। তুই এখানে আসতে চাইলে কেউ বাধা দিত না।” ঐন্দ্রিলা চোখ সরিয়ে নেয়। পাঁচিলের ভাঙা জায়গাটায় পিঠ রেখে হাঁটু মুড়ে বসে।

“ওখানে হেলান দিস না। পড়ে যাবি।”

মুখ তুলে তাকায় ঐন্দ্রিলা— “আচ্ছা, গাড়ির সামনে কী এসেছিল বল তো? হুট করে চলে গেল জঙ্গলের মধ্যে?”

“ঠিক বুঝতে পারলাম না, মনে হল একটা…”

“বাচ্চা ছেলে?”

কেমন একটা অদ্ভুত হাসি খেলে যায় ঐন্দ্রিলার মুখে— “মনে হচ্ছে, আমি আজই সকালে জন্মেছি। তারপর আমাকে বলে দেওয়া হয়েছে আমি একটা হাসিখুশি মেয়ে। আমার এতগুলো বছর এক নিমেষে লিখে দিল কেউ…… ঠিক গল্পের মতো, না?”

ভাঙা প্রান্তের আর-একদিকে বসে পড়ে শতরূপ— “মানুষের জীবন গল্প বই তো নয়। আমার কাছেই বা গল্প ছাড়া কী আছে?”

“বেশ, তাহলে সব থেকে ভালো গল্পটা আমাকে শোনা। যেটার কথা ভাবলে তোর সব থেকে বেশি আনন্দ হয়….

“ভালো গল্প আর আনন্দের গল্প এক জিনিস নয়, কোনটা শুনতে চাস….”

“যেটা তোর বলতে ইচ্ছা করছে।”

শতরূপ মাথাটা একটা বেরিয়ে-থাকা ইটের উপরে রাখে। তারপর ছাদের দিকে চেয়ে বলে, “আমার এরকম একটা ছাদ ছিল জানিস, ছোটবেলায় বাড়িতে মাঝে মাঝে আমার দাদু আসত। গ্রীষ্মের দিন সন্ধ্যাবেলা দাদু ছাদে মাদুর পেতে শুয়ে থাকত। লোডশেডিং হলে মোমের আলোয় চোখ খারাপ হয় বলে অজুহাত দেখিয়ে ছাদে চলে আসতাম। দাদু তখন মাদুরে শুয়ে শুয়ে আমায় গল্প বলত। রূপকথার গল্প… সে গল্পগুলো কখনও শেষ হত না, যেখানে শেষ হত, পরের দিন আবার সেখান থেকেই শুরু হত….”

ঐন্দ্রিলা হাসে— “তারপর?”

“তারপর আমি ঘুমিয়ে পড়তাম একসময়। দাদু তখনও গল্প বলে যেত। সারারাত একটা অদ্ভুত রুপোলি আলো খেলা করত ছাদে। কখন কারেন্ট এসেছে, খেয়ালই থাকত না।”

“ব্যাস! এটাই আনন্দের গল্প।”

শতরূপ মাথা নাড়ায়, “গল্পটা আনন্দের না, সময়টা…” ওর গলা দূরে হারিয়ে যাচ্ছে, “এমন একটা সময়… তুই ভাব, পাশে দাদু শুয়ে গল্প বলছে, নীচের ঘরে মা রান্না করছে, বাবা টিভি-তে খবর দেখছে, পাশের বাড়ির মেয়েটা সন্ধেবেলা গলা সাধতে বসেছে, পাশের বাড়ির বন্ধু বারান্দায় এসে দাঁড়িয়ে আমার বারান্দায় উঁকিঝুঁকি মেরে খুঁজছে আমাকে… ওই একটা মুহূর্তে জীবন যেন হাতে উপহারের ঝুলি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।”

ঐন্দ্রিলা কথা বলে না, কোনও কারণে সে একমনে চেয়ে আছে শতরূপের মুখের দিকে। সে একটু থেমে আবার বলে চলেছে, “সেই মুহূর্তটা থেকে বহু বছর পর এক-একদিন রাতে ঘুম আসতে চায় না। এক-একটা রাতে মরে যেতে ইচ্ছা করে। তখন মনে হয়, ধুর, এটা একটা মরার সময় হল? বেঁচে থাকার লোভ খুঁটে খুঁটে শেষে সফল না হয়ে মরে যাচ্ছি। এর মধ্যে বীরত্বের কিছু নেই, স্যাক্রিফাইসের কিছু নেই। তখন ভীষণ ইচ্ছা করে সেই অদ্ভুত মুহূর্তটায় ফিরে যেতে। মনে হয়, ওই সময়টায় ফিরে যেতে পারলে…”

“কী করতিস ফিরে যেতে পারলে?”

“ওই ঘুমটা থেকে আর উঠতাম না। আমার দাদু চিরকাল গল্প বলে যেত আমি জেগে আছি ভেবে, মা আর-একটু পরে ডাকবে ডাকবে ভেবে আর ডাকত না আমাকে ছাদ থেকে, বাবার মাথার চুলগুলো পেকে যেত না কোনওদিন, গুবলু অনন্তকাল ধরে আমাকে খুঁজে যেত বারান্দায়… কোনওদিন কারেন্ট আসত না আর…

“আজ এই সময়টায় ফিরতে ইচ্ছা করে যদি কোনওদিন?”

ঐন্দ্রিলার দিকে ফেরে শতরূপ— “মানে?”

“মানে আজ থেকে বহু বছর পরে যদি মনে হয়, আজকের এই সময়টায় ফিরতে পারলে এখানেই বসে থাকতিস আজীবন। আমার সঙ্গে, ওই চাঁদটা ডুববে না, বিনয় এসে তাড়া দেবে না, ছাদের উপর অন্ধকার একটুও পাতলা হবে না, আমি একটুও সরে যাব না তোর চোখের সামনে থেকে…”

শতরূপ কথা বলে না। একটু আগে যে কথাগুলো বলেছে, সেগুলো ওর বলার কথা ছিল না। হঠাৎ খেয়াল হয়, ও একটানা বেশ কিছুক্ষণ ঐন্দ্রিলার চোখের দিকে চেয়ে ছিল। এখনও চেয়ে আছে। মেয়েটা খুব চাপাস্বরে মন্ত্র পড়ার মতো বলে চলেছে, “ভেবে দেখ, সেই মুহূর্তটা যখন এসেছিল, তখন ইচ্ছা করেনি তোর মরে যেতে, করেছে পরে, অনেক পরে… আজ এই মুহূর্তটা ফিরে আসবে না আর কখনও, এই ছাদ, এই রাত, আমি… যদি আবার পরে কোনওদিন ইচ্ছা করে এই মুহূর্তটায়….”

“কেন আসবে না? আবার একটা নতুন দিন আসবে, আমরা চাইলেই এসে বসতে পারব এখানে…”

“আমাদের জীবনে এক রাত দুবার আসে না, রূপ, একই রকম কষ্ট আমাদের একইভাবে দুবার রক্তাক্ত করতে পারে না, আজকেই এই তীব্র ইচ্ছা, এটা আগে হারিয়ে ফেলিসনি কোনওদিন?”

“তুই কী বলছিস, আমি বুঝতে পারছি না।” শতরূপ চেষ্টা করে ওর চোখের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবার, কিন্তু কোন এক অদ্ভুত মায়াজালে ওকে জড়িয়ে নিয়েছে মেয়েটা। আশপাশের সমস্ত পরিবেশ কোথায় যেন মিলিয়ে গেছে। হাওয়ার স্রোতও থমকে আছে ছাদের উপরে।

এক ঝটকায় চোখ সরিয়ে নেয় শতরূপ। মুহূর্তে উঠে দাঁড়ায়। একবার নীচের দিকে চেয়ে দ্যাখে, বিনয় চাতালের উপরে বসে আছে। মাঝে মাঝে হাত চাপড়ে মশা মারছে।

নার্ভগুলো এখনও স্থির হয়নি। কানের পাশটা গরম হয়ে রয়েছে এখনও গলায় জোর এনে সে বলে, “চল, এবার ফিরতে হবে আমাদের।”

“হ্যাঁ, রাত হয়েছে অনেক।”

ঐন্দ্রিলা উঠে পড়তেই যাচ্ছিল। এমন সময় কী একটা চোখে পড়ে শতরূপের। জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে খুব দ্রুতগতিতে কী সরে গেল। যেন একটা ধোঁয়াটে শরীর মুহূর্তে জঙ্গলের একটা গাছের ফাঁক থেকে বেরিয়ে অন্যদিকে মিলিয়ে গেল।

চমকে উঠেছিল শতরূপ। ঐন্দ্রিলার দিকে না তাকিয়েই পাঁচিলের ভাঙা প্রান্তে আর-একটু ঝুঁকে পড়ল সে। বিড়বিড় করে বলল, “জঙ্গলে কিছু একটা আছে।”

“কী বল তো?” ঐন্দ্রিলার গলায় কিছু একটা বদলে গেছে। “কী জানি, দেখতে পেলাম না।”

“মনে হয়, বিনয় যেটা দেখেছিল সেটা…”

“বিনয়…”

শতরূপের কথা শেষ হল না। সিমেন্টের রেলিং-এর ভাঙা অংশটায় প্রায় ঝুঁকে পড়েছিল সে। পিঠে একটা শক্ত হাতের ধাক্কা অনুভব করল। পরমুহূর্তে ছাদ থেকে ছিটকে বেরিয়ে ওর শরীরটা নামতে লাগল নীচের দিকে। মুখটা মাটির দিকে থাকায় শেষ কয়েক মুহূর্তের জন্য পেছন তাকাতে পারল না শতরূপ…

*

“মানুষ জীবনে সব থেকে বড় কষ্টটা কীসে পায়?”

“মায়ের মৃত্যুতে…

“যাক গে, আমি পাইনি কখনও, সব স্মৃতি যদি ফিরে না আসে তাহলে আর পাব না হয়তো… ভারী অদ্ভুত লাগে না?”

“কোনটা?”

“এই যে ধর, আসলে কেউ মরে গেলে আমরা দুঃখ পাই না, পায় আমাদের স্মৃতিগুলো।”

“যার কাছে যত বেশি স্মৃতি, তার কাছে তত বেশি দুঃখ… সেভাবে দেখতে গেলে আমি রোজ রাতে তোকে দুঃখ দেওয়ার দরজাগুলো খুলে দিচ্ছি।”

“এই সত্যি! এটা তো ভেবে দেখিনি!”

“শুধু আমি কেন? সবাই তা-ই করে, আমরা শুধু স্মৃতি তৈরি করি, স্মৃতি মুছে ফেলার ক্ষমতা আমাদের কারও নেই…”

“থাকলে তুই কোনটা মুছে ফেলতিস?”

“তুই কী করে জানলি, মুছে ফেলিনি?”

বিনি অবাক হয়ে চায় রূপের দিকে, “এই যে বললি সেটা পারে না কেউ।”

“পেরেছি, কারণ আমার কাছে একটা ইরেজার ছিল….”

বিনির মাথায় ঢোকে না কথাগুলো— “বেশ তো, ইরেজার দিয়ে কী কী মুছে ফেললি?”

“ইরেজারটাকে….”

“ধুর, তুই কী বলছিস, কিছুই বুঝতে পারছি না…”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *