(শুন্য অধ্যায়)
“তো আজ থেকে অনেকদিন আগে এক দেশে…
“তুই আমাকে রূপকথার গল্প বলতে বসেছিস?”
“আসলে গল্প মানেই তো রূপকথার…”
“উঁহু, তুই বলেছিলিস, আমাকে সত্যি গল্প বলবি, একটুও মিথ্যে নয়….”
“গল্প আর সত্যি এক হয় না, বিনি। কোনও সত্যিকারের ঘটনা নিয়েও যদি লেখা হয় তা-ও সেটা সত্যি হয় না। সত্যি শুধু সত্যি, গল্প শুধু গল্প…”
“তাহলে আমি বুঝব কী করে কোনটা সত্যি?”
“মিথ্যে থেকে উলটোদিকে হাঁটলেই সত্যি পাওয়া যাবে। আমি যা বলব, তুই উলটে দিবি। কেমন?”
“কিন্তু সত্যির উলটোদিকে মিথ্যে থাকে, তুই তো আমাকে ঠিক মিথ্যে বলবি না, বলবি গল্প… গল্পের উলটোদিকে কে থাকে?”
“সত্যি তা-ই তো… গল্পের উলটোদিকে কে থাকে?” চিন্তায় পড়ে রূপ। কে থাকে গল্পের উলটোদিকে?
মাঝরাত। চরাচরে কেউ জেগে নেই। এক আধিভৌতিক অন্ধকার জ্বলছে কেবল ওদের সামনে। বড় বাগানটা পড়ে আছে সেই আঁধার মেখে। দূরে পাহাড়ের গায়ে টিমটিমে আলো জ্বলছে। যেন কোনও প্রাগৈতিহাসিক গুহামানব প্রথম আগুন জ্বালতে পেরে অহংকার করছে বুক বাজিয়ে। সঙ্গে আরও একটা আলো আছে বটে, তবে সেটা ভারী ছোট… উজ্জ্বল সবজে আলো… সেদিকে একটানা কিছুক্ষণ চেয়ে থাকে বিনি। তারপর কী মনে করে বলে, “আচ্ছা, ধর, গল্পের উলটোদিকে থাকে জোনাকি….”
“জোনাকি! কেন?”
“এমনি, আমার ইচ্ছা হল তা-ই…” ঠোঁট ওলটায় বিনি, “তুই একটা একটা করে সত্যিকারের গল্প বলবি আর আমি তার উলটোদিকে হেঁটে এক-একটা করে জোনাকি খুঁজে পাব, কেমন?”
“বেশ… তা-ই হোক….”
“আচ্ছা, তবে শুরু কর গল্প…”
রূপ সিগারেটে বড়ো করে একটা টান দেয়। তারপর চাদরটা আর-একটু ভালো করে গায়ে জড়িয়ে নিয়ে বলে, “এক দেশে এক সুখী রাজকন্যা ছিল…”
