জাহান্নমের সওদাগর – কাজল ভট্টাচার্য
Jahannamer Sawadagor by Kajal Bhattacharya
প্রথম প্রকাশ : ফেব্রুয়ারি ২০২১
প্রচ্ছদ : শুভ্র চক্রবর্তী
অলংকরণ : রাহুল ঘোষ
প্রূফ সংশোধন : অনমিত্র রায়
.
করোনা সংক্রমণে মৃত বিশ্বের সব মানুষের স্মৃতির উদ্দেশে
এবং
সেইসব করোনাযোদ্ধাকে যাঁরা লড়াই করে হারিয়ে দিলেন
এই মারণ-জীবাণুর ধ্বংসলীলা
.
এই কাহিনির সব চরিত্র ও ঘটনাবলি লেখকের কল্পনাপ্রসূত। বাস্তবের সঙ্গে কোনোরকম মিল সম্পূর্ণ আকস্মিক ও নিছক সমাপতন। সেজন্য লেখক দায়ী নন। বিভিন্ন চরিত্রের সংলাপ তাদের নিজস্ব বক্তব্য, লেখকের ভাবনার প্রতিফলন নয়।
.
কৃতজ্ঞতা স্বীকার
এ বইটি লিখতে যাঁরা আমাকে বিশেষ সাহায্য করেছেন তাঁদের মধ্যে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক প্রসূন চৌধুরি এবং দিল্লির সিএসআইআর-এর অন্তর্ভুক্ত ইনস্টিটিউট অফ জেনোমিকস অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড বায়োলজির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট (সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ চিহ্নিত করার জন্য ‘ফেলুদা’ কিটের উদ্ভাবক হিসেবে যাঁর খ্যাতি সুবিদিত) ড দেবজ্যোতি চক্রবর্তীর নাম বিশেষ উল্লেখযোগ্য। জীবনবিজ্ঞানের দুরূহ বিষয়গুলো আমার মতো একজন সাধারণ মানুষকে বুঝিয়ে বলার পরিশ্রম তাঁরা হাসিমুখে দিনের পর দিন স্বীকার করেছেন। আমার বন্ধু সম্রাট ঘোষ ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি এবং নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরোর কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। আমার আরেক বন্ধু, সুলেখক ঋজু গাঙ্গুলি, পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতির বিভিন্ন পর্যায়ে পরামর্শ দিয়ে লেখাটির সৌষ্ঠব নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে যে অজানা জ্বর ছড়িয়ে পড়েছিল, আমি নিজে তার প্রত্যক্ষদর্শী। সেই সময়ে দার্জিলিং এবং সন্নিহিত উত্তর দিনাজপুর জেলায় পুলিশ এবং গোয়েন্দা বিভাগের যেসব অফিসার কর্মরত ছিলেন, তাঁদের অনেকের কাছ থেকে শোনা অভিজ্ঞতা এ বইয়ে ব্যবহার করা হয়েছে। সাহায্য নেওয়া হয়েছে কয়েকজন চিকিৎসক, পুলিশ ও সাংবাদিক বন্ধুর। তাঁদের অনুরোধে এখানে তাঁদের নাম উল্লেখ করছি না, তবে তাঁরা সাহায্য না করলে এ বই লেখা হত না। আমার লেখায় সেইসব জায়গার বিবরণ থাকে যেখানে আমি নিজে গেছি। এ বইতে কিছু জায়গায় সেই রীতি লঙ্ঘিত হয়েছে। এ বিষয়ে বন্ধুবর পার্থ বসু আমাকে বেশ কিছু সাহায্য করেছেন। এঁদের সবাইকে আমার অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। এ বইতে বেশ কিছু বাস্তব চরিত্র ও ঘটনার পাশাপাশি কাল্পনিক ঘটনা ও চরিত্রর সমাবেশ হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর পর সোভিয়েত-মার্কিন জীবাণুযুদ্ধর প্রস্তুতি এবং পরবর্তীকালে জীবাণুযুদ্ধর কৌশল প্রাক্তন সোভিয়েত বিজ্ঞানীদের মারফত সারা বিশ্বের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের কাছে ছড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে কয়েকটি বই পড়া যেতে পারে। এর মধ্যে বিশেষ উল্লেখ্য কেন আলিবেক-এর ‘বায়োহ্যাজার্ড’, মাইকেল ক্রিস্টোফার ক্যারল-এর ‘ল্যাব ২৫৭’, জুডিথ মিলার, স্টিফেন এঙ্গেলবার্গ এবং উইলিয়াম ব্রড-এর ‘জার্মস’। এ ছাড়া ইন্টারনেটে এ বিষয়ে বহু তথ্য পাওয়া যায়। পাঠক উৎসাহী হলে খুঁজে দেখতে পারেন। আমি অল্প কয়েকটির নাম উল্লেখ করলাম যাদের লেখকের কাছে আমার প্রত্যক্ষ ঋণ রয়েছে। মেডিক্যাল ডিটেকটিভ-এর যে ধারণা এ বইতে লেখা হয়েছে, তা আমাদের কাছে আজগুবি মনে হলেও পাশ্চাত্যে অনেকদিন ধরেই মেডিক্যাল ডিটেকটিভের পেশা বিদ্যমান। এ বিষয়ে জানতে হলে পাঠক আলেকজান্দ্রা এম লেভিট-এর ‘ডেডলি আউটব্রেক’ পড়ে দেখতে পারেন। আফ-পাক মাদকচক্র এবং হাজি বশির নুরজাই সংক্রান্ত তথ্যের জন্য পাঠক স্টিভ কোল-এর ‘ডিরেক্টরেট এস’ বইটির পাতা উলটে দেখতে পারেন। বায়ো-ডিফেন্স নিয়ে নিত্যনতুন গবেষণাপত্র ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। তবে একটা বেসিক আইডিয়া পেতে হলে পাঠক এস কে প্রসাদ-এর ‘বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস’ এবং পি আর চারি ও অর্পিত রাজৈন কর্তৃক সম্পাদিত ‘বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস: ইস্যুজ অ্যান্ড থ্রেটস’ পড়ে দেখতে পারেন। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, আমি এ বইয়ে জৈব অস্ত্রর নির্মাণ, ডেলিভারি মেকানিজম এবং চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে যা কিছু লিখেছি, বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তা অবাস্তব বা অসম্ভব কোনোটাই নয়। লেজার রশ্মির সাহায্যে সংক্রমণ নিরূপণের উপায় প্রায় আমাদের প্রযুক্তির নাগালে এসে গেছে। আশা করা যায়, আমাদের জীবদ্দশায় এ ধরনের বায়োসেন্সর বাজারে চলে আসবে। যেসব গ্রন্থ বা পত্রপত্রিকা থেকে তথ্য আহরণ করেছি এই সুযোগে সেইসব গ্রন্থ বা পত্রিকার লেখকদের কাছে আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি আরও একবার।
এই বইয়ের প্রচ্ছদশিল্পী শুভ্র চক্রবর্তীকে অনেক ধন্যবাদ। তিনি তাঁর অনেক কাজের ব্যস্ততার ফাঁকে আমার বইয়ের মলাট এঁকে দিয়েছেন। প্রকাশক বুক ফার্ম-এর কর্ণধার শান্তনু ঘোষ ও কৌশিক দত্তকে অনেক ধন্যবাদ আমার বইটি প্রকাশ করার দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য। যত্ন করে এ বইয়ের প্রুফ দেখে দিয়েছেন অনমিত্র রায়। রাহুল েঘাষ িযনি বইটির অলংকরণ করেছেন। তাঁদের এবং প্রকাশনা সংস্থার প্রদীপ গরাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমাকে সাংসারিক কাজ থেকে অব্যাহতি দিয়ে লেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমার স্ত্রী সুস্মিতা এবং কন্যা ঐশ্বর্যকে সকৃতজ্ঞ ভালোবাসা জানালাম।
কাজল ভট্টাচার্য


মগজ দখল বইটা দিলে ভালো হয়।
অনেক ভালো
Ha please Mogoj dokhol ta deben