আলতাই স্তেপ, ইনার মঙ্গোলিয়া অটোনমাস রিজিয়ন। কয়েক মাস আগে।
‘কেন আলিবেক কে জানেন, কমরেড লি না?’
প্রশ্নটা ছুড়ে দিয়ে কাচের জানলার বাইরে তাকালেন চীনের মিনিস্ট্রি অফ স্টেট সিকিউরিটির সায়েন্টিফিক ডেভেলপমেন্ট ইউনিটের প্রধান জেনারেল ওয়াং দেমিন।
বাইরের তাপমাত্রা আজ মাইনাস আঠারো ছুঁয়েছে। ঝকঝকে নীল আকাশে এক টুকরোও মেঘ নেই। রোদ উঠেছে বটে, কিন্তু সেই রোদে তেজ নেই, মাটিতে পড়ে থাকা গতরাতের বরফ এখনও গলেনি। অনেক দূরে পাহাড়ের গায়ে একটু সবুজ আভা দেখা যাচ্ছে, ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে সেখানে কয়েকটা কালো বিন্দু ঘোরাফেরা করছে। জেনারেল ওয়াং জানেন ফিল্ড গ্লাস দিয়ে দেখলে বোঝা যাবে ওগুলো যাযাবর মেষপালকের দল। তা সত্ত্বেও জেনারেল ওয়াং সেদিকে তাকিয়ে ভুরু কুঁচকে চেয়ে রইলেন।
‘ওরা অনেক দূরে রয়েছে জেনারেল, এখান থেকে দেখতে পাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু আমাদের মাঝে রয়েছে বিদ্যুৎবাহী কাঁটাতারের বেড়া। তা ছাড়া, ওয়াচ টাওয়ারে সাব মেশিনগান নিয়ে রক্ষীরা প্রস্তুত আছে। আপনি নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।’
কর্নেল লি না বেশ কেটে কেটে শব্দ উচ্চারণ করেন যাতে কোনো শব্দ তার গুরুত্ব না হারায়। ঠিক সেভাবেই জবাব দিলেন। এই সুন্দরী তরুণী অফিসার ওপরতলার অফিসারদের সম্মান করেন, কিন্তু বাড়তি খাতির করেন না, সেকথা শুনেছেন জেনারেল। হাতেনাতে প্রমাণ পেলেন এখন। তিনি মৃদু হাসলেন। না, ল্যাব ৮৮-র প্রধান পদে এই মেয়েটিকে বসানোর সিদ্ধান্তটা ঠিক। ওপরওয়ালার মন রাখা কথা বলে যেসব অফিসার, তারা নিজেদের জীবনে উন্নতি করে অবশ্যই, কিন্তু তাদের দিয়ে কোনো বড়ো কাজ করা যায় না। হেডকোয়ার্টারে তারা প্রায়ই বড়োকর্তাদের খুশি করার জন্য ভুলভাল রিপোর্ট পাঠায়।
উহানে ঠিক এই ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার জীবাণু গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের কাছে কমিউনিস্ট পার্টির সুস্পষ্ট নির্দেশ ছি্ল, এমন একটা ভাইরাস সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে হবে যার সংক্রমণ ছড়ানোর ক্ষমতা প্রচণ্ড হলেও মারণক্ষমতা সীমিত। প্রচুর মানুষ মরে গেলে উপভোক্তা কমে যাবে। সুতরাং মানুষকে মারা যাবে না, সংক্রমণের ভয় দেখিয়ে আটকে দিতে হবে ঘরের মধ্যে। তাতে অর্থনীতি ধসে যাবে, লোকজন কাজকর্ম হারাবে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাবে। এই জায়গায় বাজার ধরতে নামবে চীন তার উৎপাদিত সস্তা সামগ্রী নিয়ে।
কিন্তু উহানের ইডিয়টগুলো যে সার্স কোভ টু ভাইরাস তৈরি করল, তা মোটেই চীনের সুবিধা করেনি, উলটে আন্তর্জাতিক দুনিয়ার সামনে মুখ পুড়ল নেতাদের। প্রথম দিকে ভয় পেলেও সারা বিশ্বের মানুষ অল্প কিছুদিনের মধ্যে টের পেয়ে গেল নাকমুখ মুখোশে ঢেকে রাখলে এবং সাধারণ কিছু স্বাস্থ্যবিধি পালন করলে সহজেই এই ভাইরাসকে জব্দ করা যায়। দশ মাসের মধ্যে টিকাও এসে গেল বাজারে। চীন বাজার ধরতে ব্যর্থ হল, বহু কোম্পানি চীনের পাট গুটিয়ে অন্যত্র পাড়ি দিল, উলটে এই বাণিজ্যিক যুদ্ধে সুবিধে পেয়ে গেল শত্রু দেশ ভারত।
এখন সারা বিশ্বের নজর উহানের ল্যাবের ওপর। যদিও সেখানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর এখনও পর্যন্ত ঠেকিয়ে রেখেছে চীন, কিন্তু একথা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট যে, উহানে আর জীবাণু অস্ত্র পরীক্ষা করার কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
কিন্তু প্রেসিডেন্টের স্বপ্ন সারা বিশ্বের অধিপতি হওয়া। সেজন্য ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ঢেলে সাজানো হয়েছে মিনিস্ট্রি ফর স্টেট সিকিউরিটিকে। বেজিং-এর তিয়েনানমেন স্কোয়ারে যেখানে ছাত্রদের বিক্ষোভ দমন করতে গুলি চালিয়ে এবং ট্যাঙ্ক নামিয়ে বর্বরতার অনন্য নজির তৈরি করেছিল চীন, ঠিক সেই জায়গার পাশেই ধূসর রঙের একটা বাড়ি হল চীনা গুপ্তচর সংস্থার সদর দফতর। করোনা ভাইরাসের ব্যর্থতার পর সেই বাড়ির প্রচুর লোকের মুখ বদলে গেছে। পরিবর্তে এসেছে নতুন মুখ। তাঁদের একজন জেনারেল ওয়াং দেমিন।
ওয়াং দেমিন তাঁর টিমে ইয়েসম্যানদের উপস্থিতি চান না। গবেষণায় সাফল্য এলে সেই রিপোর্ট যেমন মাথা উঁচু করে পেশ করতে হবে, ঠিক একইভাবে ব্যর্থতার রিপোর্ট মুখ না লুকিয়ে বলতে হবে। সব গবেষণায় সবসময় সাফল্য আসে না। সাফল্য বা ব্যর্থতা, দুটোর জন্য সমানভাবে প্রস্তুত থাকলে তবেই চূড়ান্ত সাফল্য আসবে। এসব কথা প্রেসিডেন্টকে বুঝিয়ে বলে তাঁর সম্মতি পেয়ে তবে তিনি কাজের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ইনার মঙ্গোলিয়া অটোনমাস রিজিয়নের এই নয়া গবেষণাকেন্দ্রের ডিরেক্টর পদের জন্য জেনারেল ওয়াং যখন একজন উপযুক্ত ব্যক্তির সন্ধান করছেন, তখন খবর পান সাউথ শিনজিয়াং মিলিটারি ডিস্ট্রিক্টের মেডিক্যাল কোর ইউনিটের ডাক্তার কর্নেল লি না-র। যেমন লোক খুঁজছেন, কর্নেল লি না নাকি ঠিক তা-ই।
ইন্টারভিউয়ে চমকে দিয়েছিলেন লি না। অন্যান্য প্রশ্ন করার সঙ্গে তাঁকে জেনারেল ওয়াং জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই গবেষণাগারের নাম কেন ‘ল্যাব ৮৮’ রাখা হয়েছে সে-বিষয়ে কোনোও ধারণা আছে কি না। একটুও না ঘাবড়ে গিয়ে লি না বলেছিলেন, ৮ সংখ্যাটার মান্দারিন উচ্চারণ ‘ফা’ যা কি না সৌভাগ্য বা সমৃদ্ধি বোঝায়। আবার চীনা প্রবাদ হল ‘গুড থিংগস কাম ইন পেয়ার্স!’ সেজন্য জোড়া ৮। ব্যাখ্যা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছিলেন জেনারেল। অনেক মাথা খাটিয়ে যে নাম তৈরি করা হয়েছে, সেই নামের মানে এত সহজে মেয়েটা বুঝে ফেলল? ইন্টারভিউ শুরু হয়ে যাওয়ার পরেও লি না জানত না গবেষণাকেন্দ্রর নাম কী।
‘কেন আলিবেক তো আমেরিকানদের দেওয়া নাম। ভদ্রলোকের আসল নাম তো কানাতজান আলিবেকভ। কাজাখস্তানের লোক। সোভিয়েত বায়ো-প্রিপেরাত প্রোগ্রামের ডেপুটি হেড। ১৯৯২ সালে আমেরিকায় পালিয়ে যান।’
লি না-র জবাব শুনে ফের একবার মনে মনে এই তরুণী অফিসারের মেধাকে কুর্নিশ জানালেন জেনারেল ওয়াং। তারপর বললেন, ‘ভেরি গুড, আপনি যখন কেন আলিবেকভের নাম জানেন, তখন আমার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিশ্রম কমে গেল। আপনার জন্য একটা ভালো খবর আছে কমরেড লি না!’
‘কীরকম ভালো খবর?’ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে জানতে চাইলেন কর্নেল লি না।
‘আমরা একজন সোভিয়েত সায়েন্টিস্টকে আমাদের সঙ্গে কাজ করার জন্য পেয়েছি। তিনি খুব নামিদামি ব্যক্তি না হলেও কেন আলিবেকভের সঙ্গে কাজ করেছেন, কমিউনিজমের প্রতি এখনও পুরোপুরি ডেডিকেটেড। এরকম একজন বিজ্ঞানী আমাদের সঙ্গে কাজ করলে আমাদের প্রচুর সুবিধে হবে, রিসার্চের বেশ কয়েকটা ধাপ এগিয়ে থেকে শুরু করতে পারব আমরা, ভদ্রলোকের ইন্টারন্যাশনাল কনট্যাক্টও আমাদের কাজে লাগবে। আজ আমি সেই বিজ্ঞানীকে এখানে নিয়ে এসেছি, আপাতত তিনি গেস্ট হাউসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আমাদের আলোচনা হয়ে গেলে আমি ওঁকে ডেকে আপনার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব।’
লি না-র মুখ দেখে বোঝা গেল তিনি স্পষ্টত হতাশ হয়েছেন। তাঁর কথার মধ্যে সেই হতাশা বেরিয়ে এল।
‘এটা কীভাবে ভালো খবর হল আমার বোধগম্য হচ্ছে না, জেনারেল! আমার ধারণা কানাতজান আলিবেকভের বয়স এখন সত্তর-বাহাত্তর হবে। আপনার সায়েন্টিস্ট যখন আলিবেকভের সহকর্মী, তখন তিনি বয়স্ক ব্যক্তি হবেন, অর্থাৎ তাঁর বয়স ওইরকম হবে। এত প্রবীণ একজন প্রাক্তন বিজ্ঞানীর কাছ থেকে আমরা কতটা সাহায্য পেতে পারি সে-বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। ডক্টর আলিবেকভ ১৯৯২ সালে দেশ ছেড়ে আমেরিকায় পালিয়ে যাওয়ার পরে নিজেও সক্রিয় গবেষণা থেকে সরে গেছেন, আমেরিকানরা ওঁকে প্রোপাগান্ডার জন্য যেভাবে ব্যবহার করেছে, গবেষণার কাজে তার এক শতাংশও কাজে লাগায়নি। সারা বিশ্বে কানাতজান আলিবেকভের বায়ো-ডিফেন্স বিশেষজ্ঞ হিসেবে যে ভাবমূর্তি আমেরিকানরা তুলে ধরেছে সেটা নিছক প্রচার, উনি নিজে নতুন কোনো রিসার্চের কাজ করেছেন বলে কেউ জানে না। সোভিয়েত ইউনিয়নের যেসব জীবাণু গবেষণাকেন্দ্র কাজাখস্তান বা উজবেকিস্তানে ছড়ানো ছিল, সেগুলো বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে, ইন ফ্যাক্ট, আমেরিকানদের রিপোর্ট ঠিক হলে অনেক ফেসিলিটিতে এখন গভীর জঙ্গল গজিয়ে গেছে! এই অবস্থায় একজন প্রবীণ বিজ্ঞানী আমাদের কী কাজে লাগবে, জেনারেল? হ্যাঁ, ওঁর কমিউনিজমের প্রতি ডেডিকেশনটা অবশ্য মাঝেমধ্যে আমাদের কাজে লাগতে পারে, এখানে আমাদের যেসব বিজ্ঞানী কাজ করছেন, উনি তাঁদের সামনে ছ-মাস অন্তর একটা লেকচার দিতে পারেন। ব্যস, তার বেশি কিছু নয়। আমার বিশ্বাস আমাদের বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট দক্ষ এবং তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। আমাদের শুধু সময় দিন, আর কিছু লাগবে না এই মুহূর্তে!’
লম্বা লেকচার শুনতে শুনতে জেনারেল ওয়াং মনে মনে বিরক্ত হচ্ছিলেন। স্মার্ট হওয়া ভালো, কিন্তু বেশি স্মার্টনেস দেখালে বিপদ! তাঁর মতো একজন ফোর স্টার জেনারেল বেজিং থেকে যখন একজন বিদেশি বিজ্ঞানীকে সঙ্গে নিয়ে উড়ে এসেছেন, তখন নিশ্চয়ই সেই বিজ্ঞানীর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে দেশের শীর্ষনেতৃত্ব নিঃসন্দেহ হয়ে তবেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, একথা যেকোনো মাথামোটা লোকেরও বোঝা উচিত। কিন্তু কর্নেল লি যেভাবে সব কিছু শোনার আগেই ব্যাপারটাকে উড়িয়ে দিতে চাইছেন তা শুধু বিরক্তিকর নয়, এটা সিনিয়র অফিসারের অবমাননা।
করোনা-পূর্ব কালে একজন জুনিয়ার অফিসার জেনারেল পদমর্যাদার একজন অফিসারকে এসব কথা বললে কোর্ট মার্শাল অনিবার্য ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্যরকম, তার ওপর এটা একেবারে নতুন প্রোজেক্ট, এত তাড়াতাড়ি উত্তেজিত হলে চলবে না।
‘বাহ, ভেরি গুড কমরেড লি, আপনি একজন ভালো ছাত্রীর মতো হোমওয়ার্ক করেছেন তা খুব পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। আমি আপনাকে চিনতাম একজন চিকিৎসক এবং সামরিক অফিসার হিসেবে, এখন দেখছি আপনি ইতিহাসেরও মনোযোগী ছাত্রী! আই রিয়েলি অ্যাপ্রিশিয়েট ইউ। আপনি যখন কেন আলিবেক সম্পর্কে এত কিছু জানেন, তখন আশা করব আপনি ‘বনফায়ার’ প্রোজেক্টের কথা শুনেছেন। আমাদের অনারেবল লিডারশিপ চাইছেন বনফায়ার প্রোজেক্টের মতো একটা প্রকল্প এখানে ইমিডিয়েটলি শুরু করতে। সেজন্য এই সোভিয়েত বিজ্ঞানীকে আমাদের প্রয়োজন।’
জেনারেল ওয়াং-এর গলার বিদ্রূপ ও চাপা অসন্তোষের সুর শুনে দমে গেলেন কর্নেল লি না। একটু আমতা আমতা করে বললেন, ‘আই অ্যাম সরি, জেনারেল। আমি নেতৃত্বের বিচক্ষণতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করছি না, শুধু বলতে চাইছিলাম—’
‘আমার প্রশ্নটা ছিল, আপনি “বনফায়ার” প্রোজেক্টের নাম শুনেছেন কি না, কমরেড লি।’
‘না, শুনিনি জেনারেল। আপনি বলুন।’
এবার কর্নেল লি-র স্বরে একটু ভয়ের ছাপ পড়ল।
মেয়েটাকে অবশেষে কিছুটা জব্দ করা গেছে। নিজেকে মনে মনে পিঠ চাপড়ে দিলেন জেনারেল ওয়াং দেমিন। পরিবেশ একটু লঘু করা যাক এবার, তাতে আলোচনার সুবিধে হবে। তিনি বললেন, ‘বলছি, কিন্তু তার আগে একটু চা বা কফি কিছু পাওয়া গেলে ভালো হয়। এখানে এসে এক কাপ চা খেয়েছিলাম, তা বোধ হয় ঘণ্টা দুয়েক হয়ে গেছে।’
লাফিয়ে নিজের আসন ছেড়ে উঠে কফি মেকারের দিকে এগোলেন কর্নেল লি না। চাপা সামরিক ইউনিফর্মে মেয়েটাকে বেশ আবেদনময়ী দেখাচ্ছে, এতক্ষণে খেয়াল করলেন জেনারেল। তিনি জানেন মেয়েটা অবিবাহিত, সেনাবাহিনীতে চাকরি করে যখন তখন বয়ফ্রেন্ড থাকার সম্ভাবনা খুব কম, সময় দেবে কখন? কর্নেল লি যতক্ষণ তাঁর দিকে পেছন ফিরে কফি বানাল, জেনারেল ততক্ষণ মেয়েটাকে নিজের শয্যায় কল্পনা করে নিলেন।
কফির ট্রে নিয়ে লি ফিরে এলেন। সঙ্গে কিছু মোচড়ানো কাঠির মতো জিনিস।
‘এগুলো স্থানীয় চিজ কুকিজ, খেয়ে দেখুন জেনারেল, সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যকর দুটোই।’
কফির কাপে লম্বা চুমুক দিয়ে তিনি ‘আহ’ বলে একটা আরামের আওয়াজ করলেন। তারপর বললেন, ‘কমরেড লি, আপনি সোভিয়েত বায়ো-প্রিপারত প্রোগ্রামের কথা জানেন বলেছেন। সংক্ষেপে একটু বলুন, আপনি এই প্রোগ্রাম সম্পর্কে কী জানেন।’
‘সেরকম কিছু নয়, জেনারেল,’ সতর্কভাবে কর্নেল লি বললেন, ‘এটা একটা গোপন বায়োলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার প্রোজেক্ট। সোভিয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ছাড়াও সরকারের আরও অনেকগুলো বিভাগের একটা যৌথ প্রকল্প ছিল বায়ো-প্রিপারত। ক্যাপিটালিস্টরা, প্রধানত আমেরিকা, মেরিল্যান্ডের ফোর্ট ডেট্রিক-এ জীবাণুযুদ্ধর জন্য যে গবেষণা শুরু করেছিল, তার মারাত্মক প্রভাব থেকে কমিউনিজমকে রক্ষা করার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়ন এই প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। প্লেগ, অ্যানথ্রাক্স, কিউ ফিভার, স্মলপক্স, টুলারেমিয়া ইত্যাদি ভয়ংকর রোগের জীবাণুকে কীভাবে যুদ্ধে কাজে লাগানো যায়, সোভিয়েত গবেষকরা এই প্রকল্পে তা-ই খুঁজতেন।’
‘রাইট। বায়ো-প্রিপারত-এর একটা সাব প্রোগ্রাম হল বনফায়ার। এই প্রোগ্রামটা অন্য প্রোগ্রামের চেয়ে আলাদা। কেন জানেন?’
‘না।’
‘আপনি নিশ্চয়ই জানেন ১৯৭২ সালে বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস কনভেনশনে বিশ্বের অনেকগুলো দেশ চুক্তি করেছিল তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জীবাণু অস্ত্র প্রয়োগ করবে না?’
‘জানি। কিন্তু আমেরিকা সেই চুক্তি মানেনি, সেজন্য বাধ্য হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন গবেষণা চালিয়ে যায়। মানে কমিউনিজমকে রক্ষা করার স্বার্থে—’
হাত তুলে কর্নেল লি-কে থামিয়ে দিলেন জেনারেল ওয়াং, ‘আমাদের ঘরোয়া আলোচনায় বার বার কমিউনিজমের জয়গান করার দরকার নেই, কমরেড লি। আমরা সবাই কমবেশি জানি, কমিউনিজমের প্রতি কার কত দরদ!’
ফের কিছুটা চুপসে গেলেন কর্নেল লি। বুকের ওপর দু-হাত ভাঁজ করে রাখলেন তিনি। জেনারেল ওয়াং জানেন, এটা আত্মরক্ষার ভঙ্গি। তিনি মেয়েটার ডিফেন্স ভেঙে দিতে পেরেছেন।
‘বনফায়ার এজন্য আলাদা যে, এই গবেষণা ১৯৭২-এর চুক্তিকে পাশ কাটিয়ে জীবাণু অস্ত্র তৈরি করার ছাড়পত্র এনে দিয়েছিল বিজ্ঞানীদের হাতে। জীবাণু অস্ত্র তৈরি করা যাবে না তো কুছ পরোয়া নেই, এমন কিছু বানাতে হবে যাতে মানুষের শরীরের নিজস্ব ডিফেন্স সিস্টেম ভেঙেচুরে মৃত্যু ডেকে আনে। আপনি নিশ্চয়ই জানেন পেপটাইড, যা কিনা অ্যামাইনো অ্যাসিডের একটা শৃঙ্খল, মানবদেহের অনেক শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া, যেমন খিদে-ঘুম-হজম-মেজাজ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। এই রেগুলেটরি বা নিয়ন্ত্রক পেপটাইডের কয়েকটা কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। শরীরে এগুলো কমবেশি হলে নানা সমস্যা হতে পারে, এমনকী খুব বেশি উত্তেজনার ফলে যদি রেগুলেটরি পেপটাইডের ক্ষরণ হঠাৎ খুব বেশি বেড়ে যায়, তবে হৃৎপিণ্ড বন্ধ হয়ে গিয়ে মৃত্যু ঘটে যাওয়া বিচিত্র নয়। সোভিয়েত সায়েন্টিস্টরা মায়েলিন টক্সিন বলে এমন একটা রেগুলেটরি পেপটাইড মানুষের শরীরে খুঁজে বের করেছিলেন যা স্নায়ুকোষের মায়েলিন পর্দা ভেদ করে স্নায়ুকোষের বৈদ্যুতিক সিগনাল আদান-প্রদান স্তব্ধ করে দেয়। ফলে মায়েলিন টক্সিনে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে। ক্রমশ পক্ষাঘাত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, হৃৎপিণ্ড অকেজো হয়ে মানুষ মারা যায়।
‘জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দৌলতে সোভিয়েত বিজ্ঞানীরা শরীরের বাইরে কৃত্রিম পদ্ধতিতে মায়েলিন টক্সিন তৈরি করতে পেরেছিলেন। এর পরের কাজটা ছিল কোনো একটা জীবাণুর মধ্যে সেই টক্সিন ঢুকিয়ে দেওয়া। প্লেগ-অ্যানথ্রাক্স-স্মলপক্স আউটব্রেক সন্দেহের উদ্রেক করবে, সেজন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল ইয়ারসিনিয়া সিউডোটিউবারকিউলোসিস নামে একটা ব্যাকটিরিয়াকে। ইয়ারসিনিয়া সিউডোটিউবারকিউলোসিস কিন্তু প্লেগের জীবাণু ইয়ারসিনিয়া পেস্টিস-এর জাতভাই, তবে অনেক কম ভিরুলেন্ট। প্লেগ হলে যেমন তীব্র জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হয়, ত্বকের রং কালচে হয়ে যায় বা শরীরের বিভিন্ন গ্ল্যান্ড ফুলে ওঠে, এক্ষেত্রে তা হয় না। যখন কোনো ব্যক্তির ওপর এই জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ইয়ারসিনিয়া সিউডোটিউবারকিউলোসিস প্রয়োগ করা হবে, তখন তার জ্বর আসবে আর গায়ে লালচে রাশ দেখা দেবে। কিন্তু তারপর সব কিছু সেরেও যাবে। লোকটা যখন নিজেকে সুস্থ ভাবতে শুরু করেছে, তখন আচমকা তার দেহের নিম্নাংশ পক্ষাঘাত আক্রান্ত হবে। চিকিৎসক হাজার পরীক্ষা করেও বুঝতে পারবে না মায়েলিন টক্সিন কাজ আরম্ভ করে দিয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে টক্সিন পৌঁছে যাবে হৃৎপিণ্ডের পেশিতে, ফলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে সে মারা যাবে।’
একটানা অনেকক্ষণ কথা বলে থামলেন জেনারেল ওয়াং। তিনি চুপ করতে কথা বলার সুযোগ পেলেন কর্নেল লি না। তিনি বললেন, ‘আমি এর আগে এই বনফায়ার প্রোজেক্টের নাম শুনিনি।’
‘অনেকেই শোনেনি, কমরেড লি, আপনি একা নন। এটা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের টপ সিক্রেট বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস প্রোগ্রাম, মস্কোর কাছে ওবোলেনস্ক বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস ল্যাবরেটরিতে এই কাজটা হত, একেবারে ক্রেমলিনের নাকের ডগায় এবং কেজিবির কড়া নজরদারিতে। ওই প্রোগ্রাম মনিটর করতেন কেজিবির তখনকার চিফ ইউরি আন্দ্রোপভ স্বয়ং। বুঝতেই পারছেন কতটা গুরুত্ব ছিল এই প্রোজেক্টের।’
‘ওবোলেনস্ক ফেসিলিটির নাম শুনেছি, জেনারেল। কিন্তু আমার ধারণা ছিল ওই ফেসিলিটিতে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটিরিয়া নিয়ে গবেষণা হত।’
‘একদম ঠিক শুনেছেন আপনি। পেনিসিলিন আবিষ্কারের পর দেখা গেছিল ব্যাকটিরিয়ার বাইরের প্রোটিনের মেমব্রেন ভেদ করে জীবাণুকে শায়েস্তা করে অ্যান্টিবায়োটিক। তারপর যখন আরও অ্যান্টিবায়োটিক একে একে আবিষ্কার হল, তখন দেখা যাচ্ছিল প্রায় সবরকম ক্ষতিকর ব্যাকটিরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের হাতে চলে এসেছে। কিন্তু তাহলে যুদ্ধে জীবাণুকে কাজে লাগানো হবে কীভাবে? শুরু হল জেনেটিক রিসার্চ, জিন মিউটেশন করে ব্যাকটিরিয়ার প্রতিরোধ ব্যবস্থা এমনভাবে বদলে দেওয়া হল যার ফলে অ্যান্টিবায়োটিক তার কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলল। এই কাজটা হয়েছিল ওবোলেনস্ক ল্যাবরেটরিতে। তবে ওই ফেসিলিটির এলিট প্রোগ্রাম কিন্তু ছিল বনফায়ার।’
‘আমি আন্দাজ করতে পারছি জেনারেল, আপনার সঙ্গে যে বিজ্ঞানী এসেছেন তিনি সম্ভবত এই বনফায়ার প্রোজেক্টে যুক্ত ছিলেন, তাই না?’
‘ঠিক ধরেছেন,’ জেনারেল মুচকি হাসলেন, ‘যিনি এসেছেন, তিনি ওবোলেনস্ক ল্যাবে কাজ করতেন, তেমন নামি মানুষ হয়তো নন, কিন্তু একজন অভিজ্ঞ মাইক্রোবায়োলজিস্ট। কেন আলিবেকের সঙ্গে কাজ করেছেন, তবে বয়সে আলিবেকের চেয়ে বছর দশেকের ছোটো। ভদ্রলোকের বয়স এখন ষাটের কাছাকাছি, কিন্তু ফিজিক্যালি দারুণ ফিট।’
‘এতদিন এই বিজ্ঞানী কোথায় ছিলেন, জেনারেল? কী করছিলেন উনি?’ প্রশ্ন করলেন কর্নেল লি।
‘সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে পালিয়ে আমেরিকায় আশ্রয় নেওয়া বায়ো-ওয়েপন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কেন আলিবেক সবচেয়ে পরিচিত নাম হলেও তিনি কিন্তু প্রথম বা শেষ কোনোটাই নন। কেজিবিকে ফাঁকি দিয়ে প্রথম আমেরিকায় পালিয়েছিলেন যে বিজ্ঞানী তাঁর নাম ভ্লাদিমির পাসেচনিক, সেটা ১৯৮৯ সালের ঘটনা। এর তিন বছর পরে ১৯৯২-এ আমেরিকায় চলে যান আলিবেক। কেজিবি হিসেব করে দেখে যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন টুকরো হয়ে যাওয়ার পরে প্রায় এক-শো চল্লিশজন সোভিয়েত বায়ো-ওয়েপন বিশেষজ্ঞর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে জীবাণু অস্ত্র গবেষকদের অনেকে ভাগ্যান্বেষণে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স ছাড়াও ইরাক, ইরান, কিউবা, উত্তর কোরিয়ার মতো বিভিন্ন দেশে গিয়ে হাজির হন অনেক সায়েন্টিস্ট। সেখানে বায়ো-ডিফেন্স রিসার্চের নামে ফের জীবাণু অস্ত্র তৈরি করার কাজ শুরু করে দেন। কেউ কেউ সরাসরি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন, নিজেরা বিভিন্ন ল্যাব থেকে যেসব ইনস্ট্রুমেন্ট এবং জীবাণু চুরি করে নিয়ে এসেছিলেন সেগুলো চড়া দামে টেররিস্ট অর্গানাইজেশনের কাছে বিক্রি করে দেন। আমি যে বিজ্ঞানীর কথা বলছি, তিনিও একসময় এভাবে অর্থোপার্জন করে পেট চালিয়েছেন—’
‘এক মিনিট, জেনারেল,’ উত্তেজিতভাবে কর্নেল লি হাত তুলে বললেন, ‘আপনি যা বলছেন তা ঠিক হলে এ তো সোভিয়েত ইতিহাসের সবচেয়ে বড়ো ইন্টেলিজেন্স ফেলিয়োর। এতগুলো লোক কেজিবিকে ফাঁকি দিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেল, কেজিবি টের পেল না? এমন কী করে হতে পারে, জেনারেল?’
‘ডেস্টিনি, ডিয়ার কর্নেল, ডেস্টিনি। কেজিবি এই সায়েন্টিস্টদের দিনের পর দিন হাতে ধরে শিখিয়েছিল কী করে সার্ভেইল্যান্সকে ফাঁকি দিতে হয়। সেই বিদ্যা যে কেজিবির ওপর প্রয়োগ করে এরা একদিন উধাও হয়ে যাবে সেকথা কেউ আন্দাজ করতে পারেনি। আর, ইতিহাসের এমনই পরিহাস, যখন এই ঘটনা সকলের জানাজানি হল, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার কেজিবি নামের দুর্ধর্ষ সিক্রেট সার্ভিস, কারো কোনো অস্তিত্ব নেই!’
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কর্নেল লি বললেন, ‘আপনার লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে জেনারেল, বাকিটা না হয় খেয়ে এসে বলবেন?’
‘নাহ, লাঞ্চের পর আমি এখান থেকে সোজা লিংঝিতে উড়ে যাব। সেখানেই আজকের দিনটা থাকব। পুরোটা বলে নিই, তারপর খেতে যাব।’
‘বলুন আপনি–’
‘যা বলছিলাম, এই বিজ্ঞানী কিছুদিন বিভিন্ন টেররিস্ট অর্গানাইজেশনের কাছে তাঁর সংগ্রহের জীবাণু অস্ত্র বিক্রি করেন। তারপর তিনি চলে যান উত্তর কোরিয়ায়, সেখানে বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস ফেসিলিটিতে কাজ করেন। আমরা উত্তর কোরিয়া গভর্নমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করে ওঁকে ধার নিয়েছি, বছরখানেক থাকবেন এখানে, তারপর পিয়ং ইয়ং চাইলে ফেরত যাবেন। না হলে থেকে যাবেন এখানে।’
‘সে কী, উত্তর কোরিয়া এরকম একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ছেড়ে দিতে রাজি হল?’
‘এটা উত্তর কোরিয়া বলেই সম্ভব হয়েছে,’ জেনারেল বললেন, ‘অন্য দেশ হলে প্রশ্নই ছিল না। তা ছাড়া, ওই সায়েন্টিস্ট প্রায় বিশ বছর ঘরছাড়া, এবার কাছাকাছি ফিরতে চান, সেজন্য তিনিও রাজি হয়েছেন।’
‘কিন্তু রাশিয়ায় ঢুকলে নির্ঘাত ওঁকে অ্যারেস্ট করবে,’ চিন্তিতভাবে কর্নেল লি বললেন, ‘ওঁকে রাশিয়ায় যাওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।’
‘উনি রুশ নন, উজবেকিস্তানের মানুষ। তাসখন্দের শহরতলিতে ওঁর বাড়ি। আলিবেক নিজে রুশ নয় বলে নিজের টিমে রাশিয়া বাদে সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যান্য স্যাটেলাইট দেশের বিজ্ঞানীদের বেশি প্রাধান্য দিত। এনিওয়ে, অনেক কথা বলা হয়ে গেছে, এবার আমি আপনার সঙ্গে ভদ্রলোকের পরিচয় করিয়ে দেব। আগে এই কথাগুলো বলে রাখলাম যাতে আপনার সুবিধে হয়, কারণ এখন থেকে উনি আপনার অধীনে কাজ করবেন।’
রিস্টওয়াচের কভার স্লাইড করে পাশে ঠেলে দিয়ে মুখের সামনে ধরে কাউকে জেনারেল ওয়াং দেমিন নির্দেশ দিলেন, ‘গেস্টকে ডিরেক্টরের চেম্বারে নিয়ে এসো।’
মিনিট দুয়েক পরে সেনার পোশাক পরা রক্ষীর সঙ্গে এক ব্যক্তি এসে ঘরে ঢুকল। কর্নেল লি না আন্দাজ করলেন, লোকটা প্রায় ছ-ফুট লম্বা, বলিষ্ঠ চেহারা। মাথার কালো চুল জায়গায় জায়গায় খয়েরি রং ধারণ করেছে। হাফ হাতা জ্যাকেটের আড়াল থেকে হাতের যে অংশ বেরিয়ে রয়েছে তার রং রোদে পুড়ে তামাটে হয়ে গেছে। লোকটার ভাঙা গাল, তীক্ষ্ণ নাক, চোখ অত্যন্ত উজ্জ্বল।
মুখে হাসি এনে জেনারেল ওয়াং বললেন, ‘প্লিজ টেক ইয়োর সিট। মিট দ্য ডিরেক্টর অফ আওয়ার রিসার্চ স্টেশন কর্নেল লি না হু উইল বি ইয়োর রিপোর্টিং অফিসার হেন্সফোর্থ।’
তারপর কর্নেল লি-র দিকে ফিরে জেনারেল ওয়াং বললেন, ‘আর যার কথা আপনাকে আগেই বলেছি, কর্নেল। হিয়ার ইজ ডক্টর রুস্তম কারিমভ।’
