স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, নর্থ ব্লক, ক্যাবিনেট সচিবালয়, দিল্লি।
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে উত্তেজনায় কুলকুল করে ঘামছিলেন প্রতীক্ষা রায়না। স্বরাষ্ট্র সচিব জরুরি তলব করে তাঁকে ডাকিয়ে এনেছেন দিল্লিতে, কিন্তু আপাতত মিনিট চল্লিশেক ধরে তাঁকে ঘরের বাইরে ওয়েটিং এরিয়ায় বসিয়ে রাখা হয়েছে। নিজে একজন শীর্ষস্তরের আমলা বলে প্রতীক্ষা রায়না বুঝতে পারছেন হোম সেক্রেটারি তাঁর ওপর বিরক্ত, বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বাইরে বসিয়ে রেখেছেন। এ হল আমলাতন্ত্রর পরিচিত কৌশল। কিন্তু প্রশ্ন হল ঠিক কতটা বিরক্ত?
মিটিংয়ের সময় দেওয়া হয়েছিল সকাল এগারোটায়। নির্ধারিত সময়ের দশ মিনিট আগে এসে পৌঁছেছেন তিনি, প্রাইভেট সেক্রেটারির মাধ্যমে ভেতরে খবরও পাঠিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত জবাব এসেছে ‘বসতে বলুন।’ সেই থেকে বসেই আছেন প্রতীক্ষা রায়না। তারপর আরও তিরিশ মিনিট কেটে গেছে, তাঁর ডাক আসেনি। প্রতিটি মিনিট পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎকণ্ঠা বাড়ছে তাঁর। মাঝখানে দু-বার ওয়াশরুমে গিয়ে চোখে-মুখে জল দিয়ে এসেছেন। সুগারের রুগি হিসেবে তাঁর এত টেনশন করা উচিত হচ্ছে না বুঝেও কিছুতেই স্বাভাবিক থাকতে পারছেন না তিনি।
ঠিক সাড়ে এগারোটার সময় এনআইএ-র চিফ অফ অপারেশন অমরনাথ পটেল এবং র-এর পূর্ব ভারতের জয়েন্ট ডিরেক্টর রতন মিশ্র এসে সরাসরি ঢুকে গেলেন স্বরাষ্ট্র সচিবের ঘরে। বড়োসাহেবের প্রাইভেট সেক্রেটারি বিনা প্রশ্নে এঁদের যেভাবে চেম্বারে ঢুকে যেতে বললেন, তা থেকে মনে হল অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা আছে। দু-জন ঢোকার মিনিটখানেকের মধ্যে ডাক পড়ল প্রতীক্ষা রায়নার। এবার তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন মিটিংয়ের সময় আসলে সাড়ে এগারোটা, তাঁকে অযথা হয়রান করার জন্য এগারোটায় আসতে বলা হয়েছিল।
ঘরে ঢুকে প্রতীক্ষা টের পেলেন যা ভেবেছেন পরিস্থিতি তার চেয়ে বেশি তেতে আছে। আগে যতবার মিটিংয়ে দেখা হয়েছে স্বরাষ্ট্র সচিব সত্যসুন্দর আগরওয়াল নিজে থেকে আগ বাড়িয়ে প্রতীক্ষার সঙ্গে প্রীতি বিনিময় করেছেন। ‘গুড মর্নিং’ বা ‘হাউ আর ইউ’ গোছের ছোটোখাটো শব্দর মধ্যে প্রচ্ছন্ন থাকত অনেক আন্তরিকতা। কিন্তু আজ পরিস্থিতি একেবারে অন্যরকম তা ঘরে ঢুকে টের পেয়ে গেলেন প্রতীক্ষা। তাঁর বলা ‘গুড মর্নিং, স্যার’ শুনতে পেলেন না স্বরাষ্ট্র সচিব। টেবিলের কাগজ থেকে মুখ তুলে সংক্ষেপে বললেন, ‘প্লিজ, বি সিটেড।’
বুকে একরাশ ধুকপুক নিয়ে বসলেন প্রতীক্ষা রায়না। অমরনাথ পটেল চেয়ারের হাতলে কনুই দিয়ে ভর রেখে গালে হাত ছুঁইয়ে রেখেছেন। প্রতীক্ষা ঘরে এসেছেন এই ব্যাপারটা যেন তিনি খেয়াল করেননি। রতন মিশ্রও একইরকম আনমনা। এখান থেকেই কি তাঁকে বদলির অর্ডার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হবে, না, ছুটিতে যেতে বাধ্য করা হবে? মনে মনে ভাবলেন তিনি। ডুবন্ত মানুষের খড়কুটো ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করার মতো হাতের ফাইলটাকে বুকের কাছে জোরে আঁকড়ে ধরলেন।
নীরবতা ভেঙে সত্যসুন্দর আগরওয়াল বললেন, ‘হোয়াট নেক্সট প্রতীক্ষাজি, ইয়োর গাই হ্যাজ মেল্টেড ইন থিন এয়ার? লোকটাকে খুঁজে বের করার জন্য সবরকম চেষ্টা করা হয়েছে। সব চেষ্টা আনসাকসেসফুল, কোনো ট্রেস পাওয়া যায়নি, যাকে সাসপেক্ট মনে করে তুলে আনা হয়েছিল সে জামিন পেয়ে গেছে। এদিকে ভাইরাস ছড়াচ্ছে, আরও দু-জায়গায় আউটব্রেক হয়েছে, মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। আমাদের কী করা উচিত?’
প্রতীক্ষা জানেন এসব প্রশ্নের উত্তর হয় না। উত্তর দিতে গেলে আরও বেশি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে হবে। তিনি নীচু স্বরে বললেন, ‘সায়ন্তনকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও আমাদের কাজ কিন্তু থেমে নেই, স্যার। শিবসাগর ভাইরাসের জন্য ডেডিকেটেড ভ্যাকসিন এবং ডিটেকশন মেকানিজম প্রস্তুত করার কাজ কিন্তু ডক্টর রণদীপ সচদেব এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আশা করছি, আমাদের স্থির করা টাইম ফ্রেমের মধ্যেই কাজটা শেষ হবে।’
স্বরাষ্ট্র সচিব মুখে কিছু না বলে যেভাবে ঠোঁট ওলটালেন সেটা দেখে প্রতীক্ষা রায়না বুঝলেন তাঁর কথায় অনাস্থা ব্যক্ত করলেন বড়োসাহেব। তিনি আবার মৃদু কণ্ঠে বলতে চেষ্টা করলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, স্যার—’
‘অমরনাথ, ইউ টেল দ্য এন্টায়ার স্টোরি। প্রতীক্ষাজি মনে হয় রিসার্চ নিয়ে খুব ব্যস্ত রয়েছেন, এদিককার ডেভেলপমেন্ট উনি জানেন না।’ সত্যসুন্দর আগরওয়াল বললেন।
এনআইএ চিফ অফ অপারেশন যা বললেন শুনে মোটামুটি স্তব্ধ হয়ে গেলেন প্রতীক্ষা রায়না। কলকাতার ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে ন্যাশনাল বায়ো-ডিফেন্স এজেন্সির টিম থাকাকালীন সেখান থেকে ঘন ঘন স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে বিদেশে কথা বলা হয়েছে। সব নম্বর পাকিস্তান এবং চীনের। যেসব ফোনের মধ্যে কথোপথন হয়েছে তার সবক-টার কোড ৮৮১ দিয়ে শুরু, অর্থাৎ ইরিডিয়াম ফোন। তা ছাড়া, সায়ন্তনের মোবাইলের সার্ভিস প্রোভাইডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফরেনসিক টিম জানতে পেরেছে যেদিন সায়ন্তনকে অপহরণ করা হয় সেদিন তার ফোনে একাধিক ভিওআইপি কল এসেছিল।
ভার্গব চৌধুরি জানিয়েছে, কলকাতায় পৌঁছোনোর পর সায়ন্তন তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল। কাজের সময়টুকু ছাড়া সারাক্ষণ ভার্গবকে না জানিয়ে হোটেলের বাইরে যেত, মোবাইলে লোকেশন শেয়ার করার কথা বললে রেগে যেত। দলের আরেক সদস্য বেণুগোপালকে নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি, ভার্গবের যাবতীয় পরামর্শ পালন করেছে সে। কিন্তু সায়ন্তন ভার্গবকে না জানিয়ে হোটেলে মোবাইল রেখে বান্ধবীর বাড়িতে চলে গেছিল। তাকে ট্যাক্সিতে উঠতে দেখে ভার্গব তাকে অনুসরণ করে দক্ষিণ কলকাতার একটা জায়গায় পৌঁছোয়। সায়ন্তন যতক্ষণ বান্ধবীর বাড়িতে ছিল, ভার্গব ততক্ষণ ফুটপাথে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিল। হোটেলে ফেরার পর ভার্গব সায়ন্তনকে চেপে ধরে, দু-জনের মধ্যে তুমুল তর্কাতর্কি হয়। কিন্তু মাঝে একটা দিন ঠিকঠাক থাকার পর ফের সায়ন্তন মোবাইল না দিয়ে সল্টলেকে নিজের বাড়ি যাওয়ার জন্য জেদ করে। এবার ভার্গব তাকে শাসিয়ে বলে, লোকেশন শেয়ার না করে বেরোলে ডিরেক্টরের কাছে রিপোর্ট করবে। বাধ্য হয়ে সায়ন্তন মোবাইলে ভার্গবের সঙ্গে লাইভ লোকেশন শেয়ার করে। কিন্তু সায়ন্তনের সঙ্গে স্যাটেলাইট ফোন ছিল সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, কারণ সেদিন ওই ফোনটা সল্টলেক থেকে দু-বার ব্যবহার করা হয়েছে। শেষবার সায়ন্তন তথাকথিত অপহরণকারীদের পাল্লায় পড়ার একটু আগেই। দুটোই আউটগোয়িং কল।
ট্যাক্সি ড্রাইভারকে জেরা করে জানা গেছে, সায়ন্তন খুব ধীর পায়ে গাড়ির দিকে আসছিল। ড্রাইভারের মনে হয়েছে, সায়ন্তন যেন কাউকে খুঁজছিল। এরপর গাড়ির কাছে আসতে তার ওপর একজন ঝাঁপিয়ে পড়ে, অন্যজন ঘায়েল করে ড্রাইভারকে। ড্রাইভার সামান্য প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল, সেজন্য আততায়ীরা তার পেটে লাথি মারে। কিন্তু সওয়ারিবাবু বেশ বাধ্য ছেলের মতো গাড়িতে ঢুকে যায়। সামান্য জবরদস্তি তার সঙ্গে হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু পরে ড্রাইভারের মনে হয়েছে সবটাই যেন সাজানো।
এদিকে আরশি বসু নামে সায়ন্তনের বান্ধবী যে মেয়েটিকে অ্যারেস্ট করা হয়েছিল সে জামিন পেয়ে গেছে। মেয়েটি তদন্তে খুবই সহযোগিতা করেছে, এমনকী স্বেচ্ছায় নার্কো অ্যানালিসিস করার সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু নার্কো অ্যানালিসিসের ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। মেয়েটি সায়ন্তনের সঙ্গে শুধুমাত্র সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য যোগাযোগ করেছিল, তার বেশি কিছু নয়। তা সত্ত্বেও তদন্তকারী দল মেয়েটিকে আরও এক সপ্তাহ এনআইএ-র হেফাজতে রাখার জন্য আবেদন করেছিল। কিন্তু পাটিয়ালা হাউস কোর্ট-এর বিচারপতি নার্কো অ্যানালিসিসের ফলাফল নেগেটিভ জানার পরে মেয়েটিকে আর এনআইএ-র হেফাজতে রাখার অনুমতি দেননি। তাকে পাঁচদিনের জন্য জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়। তবে দু-দিন পরেই মেয়েটি দিল্লি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়ে গেছে। শুধু তা-ই নয়, হাইকোর্ট তদন্তকারী টিমের সদস্য ডিএসপি শিবানী পাণ্ডেকে তুলোধোনা করেছে।
প্রতীক্ষা রায়না শুনতে শুনতে আনমনা হয়ে যাচ্ছিলেন। সায়ন্তন মুখার্জিকে তিনি অত্যন্ত স্নেহ করেন, ছেলেটি যাতে এপিডেমিক ইনভেস্টিগেশন সার্ভিসে যোগদান করে সেজন্য তাঁর একান্ত চেষ্টা ছিল। সায়ন্তন তাঁকে ডোবায়নি, সাফল্যের সঙ্গে কোর্স শেষ করে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য আটলান্টার সিডিসিতে গিয়ে সেখানেও খুব ভালো পারফর্ম করেছে। আর এখন তিনি শুনছেন, সেই সায়ন্তন নাকি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে শত্রুদেশের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়েছে। কী বলেছে সায়ন্তন? কতটা ক্ষতি করেছে দেশের?
মাথা ঘুরছে প্রতীক্ষা রায়নার। গলা শুকিয়ে যাচ্ছে। হাতের তালুতে ঘাম জমছে। সুগার লেভেল নেমে যাচ্ছে নাকি! ন্যাশনাল বায়ো-ডিফেন্স এজেন্সির ডিরেক্টর হিসেবে তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না, কারণ সায়ন্তন মুখার্জিকে নেওয়ার সুপারিশ তিনিই করেছিলেন।
ক্ষীণ কণ্ঠে প্রতীক্ষা জানতে চাইলেন, ‘শুনেছিলাম মেয়েটি ফোনের চ্যাট ডিলিট করেছে, সেগুলো রিট্রিভ করা গেলে কি কোনো ক্লু পাওয়া যেত?’
‘নাহ্,’ অমরনাথ বললেন, ‘ডিলিট করা সব চ্যাট রিট্রিভ করা হয়েছে। কোনো লিড নেই সেখানে। সাধারণ কথাবার্তা। একটা মেসেজ একটু গোলমেলে, সেটা পাঠানোর পরেই সায়ন্তন মুখার্জি বান্ধবীকে রিকোয়েস্ট করেছিলেন চ্যাট ডিলিট করে ফেলার জন্য। তবে সেই মেসেজে যদি কোনো লিড থেকে থাকে তাহলে মেয়েটি তা বুঝতে পারেনি, কারণ নার্কো অ্যানালিসিসে কিছু ধরা পড়েনি।’
‘কী লেখা ছিল সেই মেসেজে?’ প্রতীক্ষা কৌতূহলী হলেন।
বড়োসড়ো একটা ডায়েরি খুললেন অমরনাথ পটেল, তার মধ্যে ভাঁজ করা ছিল চ্যাটের প্রিন্ট আউট। দু-জনেই ইংরেজি হরফে বাংলা লিখেছে। প্রতীক্ষা রায়না কষ্ট করে পড়লেন।
সায়ন্তন লিখেছে, ‘তোর সঙ্গে দেখা হয়ে যাওয়াটা নিতান্তই সমাপতন। একটা কথা তোকে অনেকবার বলব বলব ভেবেছি।’
আরশি লিখেছে, ‘ভণিতা না করে বলে ফেল।’
সায়ন্তনের জবাব, ‘একদিন তোর আর আমার সুর যেখানে এসে মিশেছিল, তার মাঝে লুকিয়ে রইল আমার কথা। পারলে খুঁজে নিস।’
আরশি লিখেছে, ‘আবোল-তাবোলের নিউ এডিশন?’
সায়ন্তন শেষ করেছে এই বলে, ‘তুই এবার এই চ্যাট হিস্ট্রি ডিলিট করে দে। এটা তোর ফোনে থাকলে ঝামেলা।’
আরশি লিখেছে, ‘আচ্ছা।’
প্রতীক্ষা রায়না কিছুটা বুঝলেন, কিছুটা বুঝলেন না। অমরনাথ পটেল বুঝিয়ে দিলেন, ‘আবোল-তাবোল’ হল ফেমাস ফিল্ম ডিরেক্টর সত্যজিৎ রায়ের বাবা পোয়েট সুকুমার রায়ের লেখা একটা খুব বিখ্যাত বাংলা ননসেন্স পোয়েমের কালেকশন।
‘আমার তো এটা পুরো রোমান্টিক আলাপচারিতা মনে হচ্ছে। ছেলেটা মেয়েটিকে প্রোপোজ করতে গিয়েও বলতে পারছে না, সামথিং লাইক দ্যাট।’
‘আমাদের ধারণাও তা-ই ছিল। কিন্তু নার্কো অ্যানালিসিস করে দেখা গেছে ওদের মধ্যে কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। ইন্টারোগেশনে মেয়েটিও এই মেসেজের কিছু মানে বলতে পারেনি। ওর মনে হয়েছে, সায়ন্তন মুখার্জি সেদিন খুব ব্যাড মুডে ছিল, কিছু একটা ওকে বলতে চেয়েছিল, কিন্তু বলে উঠতে পারেনি। ও চ্যাট ডিলিট করে দিয়েছিল, কারণ ওর মনে হয়েছিল কথাগুলো পরে জেনে নেবে।’
রতন মিশ্র এবার সত্যসুন্দর আগরওয়ালকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘আমার কিছু বলার ছিল, স্যার।’
‘বলো।’
‘আমাদের কয়েকটা ছোটো ছোটো অবজার্ভেশন আছে, স্যার। সায়ন্তন মুখার্জি আটলান্টার সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোলে এপিডেমিক ফিল্ড ইনভেস্টিগেশনের ওপর অ্যাডভান্সড কোর্স করার সময় রিসার্চের বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ২০০১ সালে ওয়েস্ট বেঙ্গলের শিলিগুড়ির নিপা ভাইরাস আউটব্রেক। ইন ফ্যাক্ট, সিডিসি-ই কিন্তু ২০০৬ সালে প্রথম জানিয়েছিল শিলিগুড়ির অজানা জ্বর আসলে নিপা ভাইরাস আউটব্রেক। কোইন্সিডেন্স কি না জানি না, এই আউটব্রেকের শুরুটা হয়েছিল আরশি বসুর বাবা ডক্টর ঋষিপ্রতিম বসুর নার্সিং হোম থেকে।
‘শিলিগুড়িতে অজানা জ্বরের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর আইবি থেকে আমাদের অ্যালার্ট করে এটা একটা বায়ো-টেররিজম অ্যাটাক হতে পারে। র-এর উত্তর দিনাজপুর এবং দার্জিলিং ডিস্ট্রিক্ট অফিস খোঁজখবর নিতে মাঠে নামে। আইবি আমাদের একটা লিড দিয়েছিল একজন নেপালি কাঁকরভিটা বর্ডার দিয়ে ইন্ডিয়ায় ভাইরাস নিয়ে প্রবেশ করেছে। লোকটা নেপালের রাজতন্ত্র বিরোধী আল্ট্রা-লেফট গোষ্ঠীর সদস্য। এদের টার্গেট ছিল শালুগাড়া আর্মি বেস-এ ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া, কিন্তু কোনো কারণে অপারেশন সফল হওয়ার আগেই ক্যারিয়ার লোকটা নিজেই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। লোকটা সেবক রোডে একটা গাছের নীচে অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিল, সেই অবস্থায় আরশি বসুর বাবা তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নিজের নার্সিং হোমে ভরতি করেন। এই লোকটার থেকেই সংক্রমণ সারা শহরে ছড়িয়ে পড়ে, অনেক মানুষ মারা যায়, সরকারি হিসেবে মৃতর সংখ্যা আটচল্লিশ, কিন্তু আসলে মারা গেছিল আরও বেশি মানুষ। আনফরচুনেটলি, মৃতদের মধ্যে একজন মিস বসুর বাবা।’
‘এতদিন এই তথ্যগুলো প্রকাশ্যে আনা হয়নি কেন, মিশ্র?’ স্বরাষ্ট্র সচিব জানতে চাইলেন।
‘স্যার, আমাদের এর মধ্যে আর এ নিয়ে মাথা ঘামাতে হয়নি। রাজা বীরেন্দ্রর হত্যাকাণ্ডর সময় যখন চীনের মদতে নেপালি মিডিয়া প্রচার করতে শুরু করে এই কাজ “র” করেছে, তখন প্রাইম মিনিস্টারের অফিস জানতে চায় সত্যি সত্যি সরকারকে লুকিয়ে এজেন্সি এরকম কোনো মিসঅ্যাডভেঞ্চার করেছে কি না। আমাদের সিনিয়র অফিসার যাঁরা সেই সময় ছিলেন তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর অফিসকে জানিয়ে দেন, সিআইএ বা কেজিবি যেমন নিজেদের দেশের সরকারকে অন্ধকারে রেখে সমান্তরাল বিদেশনীতি পরিচালনা করে, দায়িত্বশীল এজেন্সি হিসেবে রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং কখনো তা করে না। পিএমও কিন্তু মুখের কথায় বিশ্বাস করেনি, তারা প্রমাণ চেয়েছিল।
‘আমাদের অফিসারদের একটা টিম বহু পরিশ্রম করে ভাইরাসের উৎস এবং সংক্রমণ ছড়ানোর কারণ খুঁজে বের করে। পুরো ব্যাপারটা ছিল চীনের পরিকল্পনা। শিলিগুড়ি থেকে যে পথ ধরে আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোসহ নেপালের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের বাণিজ্য চলে, চিকেন নেক নামে সেই রাস্তায় অস্থিরতা সৃষ্টি করে চীন নেপালের ওপর কৌশলে এক ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধ নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিল। এই অবরোধ সফল হলে নেপালে জিনিসপত্রের দাম হু-হু করে বেড়ে যেত, দোষ গিয়ে পড়ত ভারতের ওপর। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে যে ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি হত তা পূরণ করতে এগিয়ে আসত চীন।
‘এই ষড়যন্ত্রর তদন্ত করতে গিয়ে র-এর টিম জানতে পারে ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য চীনারা একজন প্রাক্তন সোভিয়েত বিজ্ঞানীর সাহায্য নিয়েছিল। সেই লোকটির নাম রুস্তম কারিমভ। সোভিয়েত ইউনিয়নের বায়ো-প্রিপারেত নামে যে জীবাণু গবেষণা প্রকল্প ছিল এই কারিমভ সেখানে কাজ করত। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরে লোকটি আরও অনেক সোভিয়েত বিজ্ঞানীর মতো নানা দেশে ঘুরে জীবাণু অস্ত্র বিক্রি করা শুরু করে। কারিমভ ইস্তানবুলে থাকত, সেখানেই চীনারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। কারিমভ নিজে নিপা ভাইরাস নিয়ে নেপালে আসে। পোখরার একটা বার-এ ভাইরাস হাতবদল হয়। সেই ঘটনা সম্ভবত মধুমিতা নামে ওই বার-এর একজন ওয়েট্রেস কোনোভাবে জেনে ফেলেছিল। তাকে খুন করা হয়। মেয়েটাকে কে খুন করেছিল আমরা জানতে পারিনি, কারণ ঘটনার অন্তত ছ-মাস পরে র-এর টিম অনুসন্ধান শুরু করেছিল। ততদিনে বিশেষ কিছু প্রমাণ অবশিষ্ট ছিল না।’
ঘরে উপস্থিত সবাই খুব মন দিয়ে শুনছিলেন। রতন মিশ্র একটানা বলে থামার সঙ্গেসঙ্গে সত্যসুন্দর আগরওয়াল বলে উঠলেন, ‘থামলে কেন, বলে যাও। ভেরি ইন্টারেস্টিং!’
‘স্যার, একটু চা পেলে ভালো হত,’ কাঁচুমাচু মুখে বললেন রতন মিশ্র, ‘টানা কাজ করছি ছেলেদের নিয়ে। অমরনাথ জানে—’
এই প্রথম সত্যসুন্দর আগরওয়ালের মুখে হাসি দেখা গেল। তিনি বললেন, ‘থাক থাক, চায়ের জন্য অমরনাথকে সাক্ষী করার দরকার নেই, তোমরা সবাই প্রচুর খাটাখাটি করছ আমি জানি। আমারই ভুল, চা আরও আগে বলা দরকার ছিল।’
চা-পর্ব মিটতে রতন মিশ্র ফের বলতে শুরু করলেন, ‘আমরা রুস্তম কারিমভকে হাতে পাওয়ার জন্য কম চেষ্টা করিনি। ইন্টারপোল এবং সিআইএ-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। কিন্তু আচমকা লোকটা ইস্তানবুল থেকে রাতারাতি উবে যায়। দীর্ঘদিন তার কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু গত আটচল্লিশ ঘণ্টায় ভারত-নেপাল সীমান্তের ইলেকট্রনিক ইভসড্রপিং পোস্ট থেকে ফের জানা গেছে নেপাল সীমান্ত দিয়ে আবার একজন বিজ্ঞানীকে ভারতে ঢোকানোর চেষ্টা চালাচ্ছে চীন। একই সময়ে শিবসাগর ভাইরাসের আউটব্রেক এবং সায়ন্তন মুখার্জির কিডন্যাপিংয়ের সঙ্গে এই ঘটনার একটা কিছু সংযোগ আছে মনে হয়।’
‘আমি দু-জনের কাছেই জানতে চাইছি, তোমাদের ইন্টারপ্রিটেশন কী?’ অমরনাথ পটেল এবং রতন মিশ্র দু-জনের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব।
‘বলছি স্যার, তবে তার আগে প্রতিভা ম্যাডাম আমাদের যদি বলেন সায়ন্তন মুখার্জি এখন ঠিক কী গবেষণার কাজ করছিলেন তাহলে আমাদের হাইপোথিসিস যাচাই করতে সুবিধে হয়।’
‘আপনি বলুন,’ প্রতীক্ষা রায়নাকে বললেন স্বরাষ্ট্র সচিব, ‘একটু সোজা করে বুঝিয়ে বলবেন, যাতে আমাদের মতো সাধারণ লোক বুঝতে পারি।’
এতক্ষণে বড়োসাহেবের মেজাজ একটু ঠিক হয়েছে বলে মনে হল প্রতীক্ষার, আগের সেই তিরিক্ষিভাব নেই, তাকে দেখেও দেখছেন না, সেই উপেক্ষার মনোভাবও খুব একটা টের পাওয়া যাচ্ছে না। ভরসা পেয়ে তিনি সায়ন্তন মুখার্জির কাজ সম্পর্কে বলতে শুরু করলেন।
ন্যাশনাল বায়ো-ডিফেন্স এজেন্সির একটা ইউনিটে সায়ন্তন এবং রণদীপ সচদেব নামে আরেক বিজ্ঞানী কাজ করে। সায়ন্তন মলিকিউলার বায়োলজিস্ট, তা ছাড়া এপিডেমিয়োলজির বিশেষজ্ঞ। রণদীপ বায়ো-ফিজিসিস্ট। শিবসাগর ভাইরাস সংক্রান্ত কাজ এই ইউনিট দেখাশোনা করছে। এই কাজের মধ্যে রয়েছে ভাইরাসের জেনেটিক ইনফরমেশন সংগ্রহ এবং একটা কার্যকরী ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা। তিন নম্বর কাজটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হল মানবদেহে ভাইরাসের উপস্থিতি এবং ওষুধের কার্যকারিতা অনুসন্ধান করার জন্য একটা নতুন ধরনের বায়ো-সেন্সর নির্মাণ করা।
সায়ন্তনরা একটা মেকানিজম উদ্ভাবন করেছে যেখানে ভাইরাসের দ্বারা সংক্রামিত ব্যক্তির লালারস স্লাইডে ফেলে তার সঙ্গে কেমিক্যাল ডাই মিশিয়ে লেজার রিডারের মধ্যে ধরলে লেজারের রিফ্র্যাকশন দেখে বলা যাবে শরীরে আদৌ ভাইরাস আছে কি না এবং যদি থাকে তবে কী মাত্রায় আছে। একদম সহজ এই পদ্ধতিতে আধ ঘণ্টায় পরীক্ষার ফলাফল বলে দেওয়া যাবে। শুধু তা-ই নয়, বাতাস এবং জলের নমুনা পরীক্ষা করে একইভাবে জানা যাবে ভাইরাসের উপস্থিতি। সবচেয়ে ছোটো ভাইরাসের আয়তন দশ-বারো ন্যানোমিটারের চেয়ে কম নয়। এক ন্যানোমিটার হল এক সেন্টিমিটারের দশ লক্ষ ভাগের একভাগ। এই ক্ষুদ্র আয়তনের জন্য সবচেয়ে সূক্ষ্ম ফিল্টারের ফাঁক গলে ভাইরাস বেরিয়ে যেতে পারে। কিন্তু লেজারের ছাঁকনিকে ফাঁকি দিতে পারবে না কোনো ভাইরাস, তা সে যতই ছোটো হোক।
শিবসাগর ভাইরাস আস্তে আস্তে তার থাবা বসাচ্ছে দেশের নানা জায়গায়। সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসের জিন এডিট করে এই ভাইরাসের সংক্রমণ এবং মারণক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা হয়েছে। ভাইরাস কোন পথে আসছে বা কীভাবে তার সংক্রমণ ঘটছে, এসব খতিয়ে দেখার কাজ করে সায়ন্তনের মতো এপিডেমিক ইনভেস্টিগেশন সার্ভিসের অফিসারেরা যাদের চলতি কথায় মেডিক্যাল ডিটেকটিভ বলা হয়। সায়ন্তনের অনুপস্থিতিতে শিবসাগর ভাইরাস সংক্রান্ত কাজ ধাক্কা খেয়েছে। এই ভাইরাস যদি আরও ছড়িয়ে পড়ে মহামারির চেহারা নেয় সেক্ষেত্রে সায়ন্তন না থাকাটা বিরাট ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।
সত্যসুন্দর আগরওয়াল বললেন, ‘একটা ভ্যাকসিন বা বায়ো-সেন্সর তৈরি করার কাজ তো টিমওয়ার্ক হওয়া উচিত। সেক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি এত গুরুত্বপূর্ণ হয় কী করে?’
‘কাজটা টিমওয়ার্কই স্যার, কিন্তু যেকোনো গবেষণায় ব্রেকথ্রু শেষ পর্যন্ত একজনের হাত ধরেই হয়। এখানে সেই লোক হল সায়ন্তন মুখার্জি, ও ব্রেকথ্রুর খুব সামনে এসে গেছে।’
‘কী বুঝলে?’ স্বরাষ্ট্র সচিব এনআইএ এবং র-এর অফিসারদের দিকে তাকিয়ে জানতে চাইলেন।
‘আমাদের হাইপোথিসিস মিলে যাচ্ছে, স্যার। আটলান্টার সিডিসি-তে রিসার্চের সময় নিপা আউটব্রেক নিয়ে ফিল্ডওয়ার্ক করে সায়ন্তন মুখার্জি রুস্তম কারিমভ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পেরেছিল। সিডিসি-র কাউন্টার বায়ো-টেররিজম ইউনিট শিলিগুড়ি আউটব্রেকের ব্যাপারে সব কিছু জানে, ভারত সরকার ওদের সঙ্গে সমস্ত তথ্য আগেই শেয়ার করেছে। আগেই বলেছি, অজানা জ্বর যে আসলে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ সেই তথ্য সিডিসি ভারত সরকারকে ২০০৬ সালে প্রথম দেয়। বহুদিন লুকিয়ে থাকার পর রুস্তম কারিমভ আবার সক্রিয় হয়েছে, মানে চীন ওকে সক্রিয় করে তুলেছে। ভারত এবং নেপাল, কারো সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে চীন। হয় এদের ফাঁদে পড়ে গেছে সায়ন্তন মুখার্জি, নয়তো এদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছে।’
‘আমাদের কী করা উচিত এখন?’
‘আরশি বসুকে কলকাতায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, স্যার। আমরা ওর ওপর কড়া নজর রাখব। আমাদের ধারণা সায়ন্তন মুখার্জির কাছে ও আমাদের পৌঁছে দেবে।’
প্রতীক্ষা রায়না অমরনাথ পটেলকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আমি একটা প্রশ্ন করতে পারি?’
‘কী প্রশ্ন?’ একটু যেন বিরক্ত হলেন অমরনাথ।
‘আচ্ছা, সায়ন্তনকে যদি কেউ সত্যি সত্যি কিডন্যাপ করে থাকে, তাহলে কি ওকে বার্বিচুরেট বা ওইরকম কোনো নেশার জিনিস খাইয়ে গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য বের করে নেওয়া যেতে পারে?’
‘না,’ অমরনাথ বললেন, ‘নেশার ঘোরে লোকের মিথ্যে কথা বলার ক্ষমতা থাকে না, কারণ মস্তিষ্কের কোষগুলো শিথিল হয়ে পড়ে। কিন্তু এভাবে রিসার্চের ফর্মূলা বের করে নেওয়া সম্ভব নয়।’
‘আরেকটা কথা, রণদীপ সচদেবের নিরাপত্তা আমাদের কি বাড়ানো উচিত?’
‘ডেফিনিটলি। শুধু তা-ই নয়, বেণুগোপালের নিরাপত্তাও বাড়াতে হবে।’
‘হোয়াট অ্যাবাউট ভার্গব চৌধুরি?’
‘ভার্গব সিকিউরিটি সার্ভিসের লোক, ওর বাড়তি নিরাপত্তার দরকার নেই। তা ছাড়া, ওকে মেরে ফেললেও ওর কাছ থেকে রিসার্চ সংক্রান্ত খবর পাওয়া যাবে না। ও কিছু জানেই না।’
আচমকা অমরনাথ পটেলের মোবাইল বেজে উঠল। তিনি ফোন কানে ধরে কয়েক মিনিট নিবিষ্ট মনে শুনে ‘ওকে’ বলে ছেড়ে দিলেন।
‘একটা ব্রেকথ্রু, স্যার,’ ফোন ছেড়ে দিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র সচিবকে বললেন, ‘এইমাত্র খবর পেলাম সায়ন্তন মুখার্জির মোবাইল চালু হয়েছে। সিম কার্ড বদলে ফেলেছে, কিন্তু আইইএমআই নম্বর ট্র্যাকিংয়ে ফেলা ছিল, দেখা যাচ্ছে সেটা অ্যাক্টিভেটেড হয়েছে।’
‘সে কী, কোথায়?’ চেয়ার ছেড়ে উত্তেজনায় প্রায় লাফিয়ে উঠলেন সত্যসুন্দর আগরওয়াল।
‘পানিপতে, স্যার। স্টেশন থেকে কিছু দূরে ধরমপুর বলে একটা গ্রাম আছে, সেখানে টাওয়ার লোকেশন দেখিয়েছে।’
‘পানিপত, মানে হরিয়ানা? সে তো ঘরের কাছে!’
‘ইয়েস, স্যার। কিন্তু গ্রামটার খুব বদনাম আছে, গ্যাংস্টার ভিলেজ। প্রচুর ক্রিমিনাল থাকে ওই গ্রামে।’
‘আমি কিছু শুনতে চাই না, অমরনাথ। এখনই তোমার টিমকে মুভ করতে বলো।’
‘ওরা অলরেডি মুভ করতে শুরু করেছে, স্যার। আপনি অনুমতি দিলে আমিও বেরোব।’
‘অফকোর্স, তোমরা এগোতে পারো। আমি হোম মিনিস্টারকে ডেভেলপমেন্টটা জানিয়ে রাখি।’
সত্যসুন্দর আগরওয়াল টেলিফোনের দিকে হাত বাড়ালেন।
