ভিখারি – ৮

আট

বিশ্বাসঘাতকের মতো তার এই কাজটার প্রতিক্রিয়া আরো ক্ষিপ্র এবং দ্বিগুণ গতিতে প্রকাশ পেল। সে আরো তীব্রভাবে তার পাগলামাটো টের পেতে থাকল। শেষ পর্যন্ত হয়তো গাছের ঐ শাখাগুলো কথা বলতে থাকবে।

মোস্তফা তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কি মনে করছ যে এটাই তোমার একমাত্র প্রতিষেধক?’

ওমর বলল, ‘সম্ভবত এটাই একমাত্র বিষয় যা আমাকে অনেক বেশি সাহায্য করবে।’

সে কাবেরি ক্লাবের কাছে তার গাড়িটা থামালো।

গাড়ি থেকে বের হতে হতে বলল, ‘তুমি তো জানো আমি অনেক অকেজো নিস্ফলা বিষয় নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করেছি অভিজ্ঞতা অর্জনের চেষ্টা করেছি। মার্গারেটকে নিয়ে আমি আসলেই বুকের ভেতর একধরনের কাঁপন অনুভব করছি। তাকে নিয়ে যে অনুভূতি অতিক্রম হয়েছে সেটা আসলেই সত্যিকার অর্থে হৃদয় কাঁপানো অনুভূতি।’

তারা দুজনেই মাচা জাতীয় একটা ছাদের নিচে বসল। হাল্কা আলোতে ক্লাবে আসা আরো লোকজন অন্যান্য টেবিলে বসছিল।

মোস্তফা বলল, ‘এই ক্লাবের ম্যানেজার তোমার এক বন্ধু।’

সে হাত দিয়ে দূরে মঞ্চের এক কর্ণারে দাঁড়িয়ে থাকা একটা লোককে ইশারা দিয়ে দেখাল। ম্যানেজার দেখতে ছোট্টখাটো কলসির মতো। খুব মাংসল শাদা চেহারা। তার ঘন পল্লবের চোখদুটিকে তন্দ্রাচ্ছন্ন আর ভারী মনে হচ্ছিল। লোকটা যখন মোস্তফাকে দেখতে পেল তখন আশ্চর্য হয়ে খুব দ্রুতগতিতে তাদের টেবিলের দিকে আসতে থাকল।

ওমর লোকটাকে চিনতে পারল। এই লোকটা তার একজন মক্কেল। সে এই লোকটার হয়ে দুটো আইনি লড়াইয়ে জিতেছে। লোকটা খুব উষ্ণ সংবর্ধনার সাথে তাদের হাত দুটি ধরে অভিবাদন জানালো। তারপর পাশে বসতে বসতে বলল, ‘ওমর বেক এটা সত্যিই অভিভূত আর বিস্মিত হবার মতো ঘটনা।’

সে হুইস্কির অর্ডার দিয়ে তাদের দিকে আবার ফিরে বলল, ‘আমি কখনো স্বপ্নেও ভাবিনি আপনি এখানে আসবেন। বিশেষ করে আপনাদের মতো লোক যারা কঠিন খেলার কাজ করে থাকে।’

মোস্তফা তার কথার মাঝখানে বাধা দিয়ে ষড়যন্ত্রের সুরে বলল, ‘ফর্মালিটি ছাড়েন মি. ইয়াযবেক।’

তার কথায় ম্যানেজার একটু সতর্ক আর উদ্বেগের চোখে তার দিকে তাকাল।

মোস্তফা হেসে বলল, ‘আপনি যা সন্দেহ করছেন বিষয়টা তেমনই। সময় এসেছে আপনার ল ইয়ারকে উত্তম সেবা ফিরিয়ে দেয়ার।’

‘ওমর বেক?’

‘আমি ভাবছিলাম আপনাকে বলব তার জন্য ভালো উপযুক্ত একটা মেয়ের ব্যবস্থা করে দিতে।’

ম্যানেজার খুব প্রশস্ত হাসি দিয়ে বলল, ‘সতী, সুন্দরী মেয়ে… ভালো পরিবারের।’

‘আহা! আমি বলছিলাম ভালবাসার জন্য একটা মেয়ে। বিয়ের জন্য না। ‘মাননীয় আসলেই কি তেমন কিছু।’

‘আপনার কাছে তেমন সুন্দরী আকর্ষণীয় মেয়ে আছে নাকি?

ম্যানেজার তার ছোট্ট হাতটা কচলাতে কচলাতে বলল, এটাইতো কাবরির মূল আকর্ষণ।’

সে ওমরের দিকে সংশয়ের সাথে তাকাতে তাকাতে আরো বলল, ‘মেয়েটা ড্রামা ইনস্টিটিউটের ছাত্রী। তবে সে অভিনয়ে তেমন ভালো না। সে নাচতে ভালবাসে। কাবরি ক্লাবে সে ভালো অবস্থায় আছে।’

‘ওয়ারদা!’

‘সে ছাড়া অন্য কেউ।’

মোস্তফা একটু কৈফিয়তের সুরে বলল, ‘আমি আসলে এই মেয়েটাকে ভাবছি না। কারণ তার উচ্চতাটা স্বাভাবিকভাবে আমাকে নিরুৎসাহিত করেছে।’

ইয়াযবেক বেশ আত্মবিশ্বাসে মঞ্চের দিকে ইশারা করল সেখানে মিউজিশিয়ানরা প্রাচ্য একটা নাচ মঞ্চস্থ করছিল। মঞ্চে একজন নর্তকী পুরো ঝড় তুলে ফেলেছে। তাকে সবাই বেশ বাহবা দিচ্ছিল। খুব চমৎকার আকর্ষণীয় একজন রমণী তার দীর্ঘ পল্লবের চোখ, প্রশস্ত কপালে চেহারায় বিশেষ একটা অভিজাত ভাব ফুটে উঠেছিল।

মোস্তফা বিড়বিড় করে বলল, ‘চমৎকার। অসাধারণ।’

ইয়াযবেক বলল, ‘আপনি এর বিষয়ে যে কোনো ধরনের বিপদ থেকে নিরাপদ।’

‘আমার জন্য আমি নিজেই যথেষ্ট। এটা হলো আদর্শ স্বামীদের জন্য আনন্দপূর্ণ সময় কাটানোর একটা উপায়।’

মোস্তফার কথা শুনে ওমর একটু মুচকি হাসল। সে মনে করার চেষ্টা করল একবার মোস্তফা বলেছিল যে সে তার স্ত্রীর সাথে কখনোই বিশ্বাসঘাতকতা করবে না। এটা অবশ্য তখন মোস্তফা যখন তার স্ত্রী ছাড়া আর অন্য কোনো মেয়েকে পটাতে পারেনি।

ওমর হঠাৎ করেই তার পাশে বেশ সোরগোলের শব্দ শুনে চোখ তুলে তাকিয়ে খুব সুন্দর আকর্ষণীয় একটা শরীরের নড়াচড়া দেখতে পেল। মেয়েটার শারীরিক উচ্চতা সত্ত্বেও তার চলাফেরা ছিল খুব নমনীয় আর স্বাভাবিক। সে মেয়েটার হাসিটাকে খুব পছন্দ করল যেমন সে পছন্দ করে চিরহিরৎ গাছ। চিরসবুজ গাছের মতোই মেয়েটার হাসিটা ছিল সতেজ। ইয়াযবেক হাত নেড়ে ক্লাবের অন্যান্য সবাইকে বিদায় জানাল। তারা সবাই চলে যাওয়ার পর মোস্তফা খুব সতর্ক আর সিরিয়াস চোখে ইয়াযবেকের দিকে তাকাল।

‘ভালবাসার পরমানন্দগুলো খুব কদাচিৎ রাতের ক্লাবগুলোতে দেখতে পাওয়া যায়।’

ওমর বেশ শ্লেষাত্মকভাবে বিড়বিড় করে বলল, ‘যে চেষ্টা করে সেই পৌঁছাতে পারে। তুমিতো জানো এখন এই সময়গুলোতে আমি যখনই জয়নাবের মুখোমুখি হই তখনই আমার কষ্ট হয়।’

‘এই ব্যথা বেদনাগুলো অন্তরের বিলাসিতার চেয়ে আরো বেশি তীব্র।’

মোস্তফা সমস্যাটাকে প্রণয়ের সাথে যুক্ত হওয়ার ইশারা করল।

কিন্তু ওমর বলল, ‘আমি মেয়েদের সাথে দৈহিক বিষয়টাকে যেমন দেখেছি তাতে আমার মনে হয়েছে জীবনটা দুইটা পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে।’

ওয়ারদা নামের মেয়েটা সোজা তাদের দিকে হেঁটে আসল। কোনো রকম ভনিতায় না গিয়ে সে সরাসরি তার প্রশস্ত পল্লবের দীর্ঘ আর উজ্জ্বল চোখ দিয়ে এক দৃষ্টিতে ওমরের দিকে তাকাল। তার হাতের ব্রেসলেটে মাখা জেসমিন ফুলের সুঘ্রাণ বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল। মেয়েটা ওমরের হাতটা ধরে একটু ঝাঁকি দিয়ে বেশ খুশি খুশি ভাব নিয়ে বলল, ‘অবশেষে বেশ উঁচু দরের সম্ভ্রান্ত একজন লোকের সন্ধান আমি পেলাম।’

সে বসল ওমর আর মোস্তফার মাঝে। হাতটা রাখল টেবিলের উপর ছড়িয়ে। ফলে টেবিল ক্লথের উপর জেসমিন ফুলের আরো সুঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ল। শ্যামপেনের বোতল চলে আসল। ভেতর থেকে বুদবুদি উঠছিল।

ওয়ারদাকে খুব পরিপাটি লাগছে। সে মোস্তফার দিকে তাকিয়ে খুব আন্তরিকভাবে মুচকি হাসি দিল তারপর তার নাচ আর রূপগুণের প্রশংসা শুনতে থাকল।

ওমর যখন তার ধূসর বাদামি চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজছিল তখন ওয়ারদাও ওমরকে বেশ সম্ভ্রমের সাথে দেখছিল।

ওমর ভাবছে আমি এখানে এসেছি শুধু মাত্র ভালবাসার উদ্দেশ্যে। সব রকম জটিলতা আর অস্পষ্টতা পরিষ্কার। চারপাশের সুঘ্রাণটা ছিল মনোমুগ্ধকর আর তার চোখের দীর্ঘ পল্লব ছিল সম্মোহিত করার মতো।

‘তাহলে আপনি একজন বিখ্যাত আইনবিদ?’

‘আপনার যদি কোনো সমস্যা না থাকে তাহলে এটার গুরুত্ব খুবই কম।’

‘আমার সমস্যাগুলো দুর্ভাগ্যবশত কোর্টের মাধ্যমে সমাধান হয়ে যাবে।’

‘দুর্ভাগ্যবশত কেন?’

‘কারণ সেগুলো হয়তো আপনিই সমাধান করে দেবেন।’

মোস্তফা হাসতে হাসতে বলল, ‘তার বিশ্বস্ততা কোর্টের ভেতরে এবং বাহিরে এক সমান।’

ওমর মেয়েটার লম্বা উন্মুক্ত ফর্সা গলার দিকে তাকাল। সেখানে একটা সাধারণ মুক্তোর মালা পেচিয়ে আছে। তার বুকের উপরের অংশ বেশ প্রশস্ত আর অর্ধ উন্মুক্ত। রাঙানো ঠোঁট আর দীর্ঘ পল্লবের চোখের দৃষ্টি থেকে বেশ রহস্যপূর্ণ প্রায় অপরিচিত এক আকর্ষণ খুঁজে পাচ্ছিল। দুর্বোধ্য সেই আকর্ষণ যেন রাতের শেষ পর্যন্ত থেকে যাবে।

সে অনেক কিছুই এখানে দেখতে পেল। নিষিদ্ধ আনন্দ, অপরিমিত মদ পান, তার গ্লাসে ওয়ারদার হাত লাগার ফলে সেখান থেকে জেসমিন ফুলের সুঘ্রাণ, ওয়ারদার উত্তেজনাপূর্ণ দৃষ্টি এই সব কিছুই তাকে মোহিত করে ফেলেছে।

ক্লাব যখন বন্ধ হয়ে যাবে সে তখন বলল, ‘আমরা কি এখন যেতে পারি?’

মোস্তফা বিদায় জানিয়ে চলে গেল।

ওয়ারদা তার কেডিলাক গাড়িটা দেখে বেশ মুগ্ধ হয়ে গেল।

ওমর জিজ্ঞেস করল, ‘আপনার বাসা কোথায়?

‘এটা একটা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন। আপনারও নিশ্চই একটা ঘর আছে।’

‘হ্যাঁ। একজন স্ত্রী আর দুই মেয়ে।’

‘ঠিক আছে তাহলে আমাকে বাড়ি নিয়ে চলেন যেভাবে খেয়ালি লোকেরা নিয়ে যায়।’

সে পিরামিডের পাশ দিয়ে উন্মাদের মতো গাড়ি চালাল। খোলা আকাশের নিচে একটা আশ্রয় খুঁজছিল যেভাবে সে মার্গারেটের সাথে খুঁজেছিল।

পশ্চিমের আকাশে আধা চাঁদটা ডুবে যাচ্ছিল। সে তার দিকে ঝুঁকে খুব মোলায়েমভাবে একটা আলতো চুমু খেল। তারপর তারা দুজন একে অপরকে দীর্ঘ চুমু খেল।

ওয়ারদা ফিসফিস করে বলল, ‘এটা খুব চমৎকার।’

খোলা উন্মুক্ত মরুভূমিতে সে ওয়ারদাকে বেশ আসক্তির সাথে নিজের দিকে টেনে আনল।

তার হাতের আঙুলগুলো ওয়ারদার চুলের ভেতর বিলি কেটে দিচ্ছিল। সে খুব অদ্ভুত এক স্বরে বলল, ‘কখন সকাল হবে।’

সে তার গালকে ওয়ারদার গালের সাথে ঘষল। তারা তাদের চোখ বরাবর ডুবে যাওয়া ঘুমন্ত চাঁদটাকে দেখতে থাকল। বালুচরের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এর বিবর্ণ আলোটার দিকে চেয়ে থাকল। হৃদয়কে তৃষ্ণাতুর করে চাঁদের আলোটুকু

নিঃশেষ হয়ে যাবে। পৃথিবীতে এমন কোনো শক্তি নেই যে এই ঐশ্বরিক মুহূর্তটাকে ধরে রাখতে পারবে যে মুহূর্তটা গোপন রহস্যময় একটা অর্থ পৃথিবীকে জানিয়ে যাচ্ছে।

তুমি দরজার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে অন্ধকার দিগন্ত আর চাদের ডুবে যাওয়া গভীরতার দিকে মিনতি ভরা হাতকে বিস্তৃত করে দাঁড়িয়ে আছ। তোমার বুকের ভেতর জ্বলন্ত কাঠের টুকরা ধিকধিক করে জ্বলছিল।

‘তুমি কি স্বপ্নবিলাসী একজন মানুষ?’ ওয়ারদা জিজ্ঞেস করল।

‘না আমি খুবই বাস্তববাদী।’

ওয়ারদা হাসল।

‘কিন্তু তুমি মেয়েদেরকে পরাস্ত করতে পারো না।’

‘আমি কিন্তু পুরুষদেরকেও হারাতে পারি না।’

‘খুব ভালো।’

ওয়ারদাকে আরেকটু কাছে টেনে এনে সে বলল, ‘কিন্তু এক সময় আমি যে কাউকে হত্যা করতে পারতাম।’

‘একজন মেয়েমানুষের জন্য?’

‘না।’

‘থাক চাঁদের আলোতে এই সব কথাবার্তা বলার কোনো দরকার নেই।’

‘তুমি হয়তো জানো না একটা মুহূর্তে আমি নিজেকেই শেষ পর্যন্ত খুন করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’

‘আমার উপস্থিতিতেই?’

‘না তোমার বাহুর মধ্যে আবদ্ধ হয়ে।’

‘এই চাঁদের আলোতে?’

‘চাঁদের আলো এখন চলে গেছে।’

ওমর যখন বাড়ি ফিরে এসে তার শোবার ঘরের বাতির সুইচ জ্বালালো দেখল জয়নাব তার নিষ্প্রাণ চোখে তাকিয়ে আছে। সে জয়নাবকে উদাসীনভাবেই তার কথা জিজ্ঞেস করল।

কিন্তু জয়নাব বেশ উদ্বেগের সাথেই বলল, ‘এর মধ্যেই সকাল কিন্তু হয়ে গেছে।’

‘তো কি হয়েছে?’

জয়নাব বিছানায় বসে পড়ল। তার চোখ দুটি নামিয়ে নিল। চোখ ছলছল করছিল।

‘আমাদের বিয়ের পর এতগুলো বছরের মধ্যে আমি কখনোই তোমার কণ্ঠে এমন স্বর শুনিনি।’

ওমর কিছু না শোনার ভান করে তার প্যান্ট খুলতে লাগল। তখন জয়নাব প্রায় চিৎকার করে বলল, ‘আমি কখনোই তোমার কাছ থেকে এমন কিছু শুনিনি।’

ওমর বিড়বিড় করে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল, ‘অসুস্থতটা এরকমই।’

‘এরকম একটা জীবন আমি কিভাবে সহ্য করে যাব।’

‘আমার দিনগুলি নষ্ট হয়ে গেছে। রাতগুলো এখন আর নষ্ট করো না।’

‘তোমার মেয়েরা নানা রকম প্রশ্ন করছে।’

‘ঠিক আছে একটু সমজদারের মতো পরিস্থিতিটা সামাল দেয়ার চেষ্টা কর।’ জয়নাব দেয়ালের দিকে তার মুখটা ঘুরিয়ে নিয়ে বলল, ‘আমার যদি অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকত।’

সে বিছানায় শুয়ে বাতি নিভিয়ে দিয়ে চোখ বুজে ফেলল।

শুক্রবার সে দেখল বড় মেয়ে বাছিনা ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ফুলের টবে পানি দিচ্ছে। সে খুব মোলায়েমভাবে তার দিকে তাকিয়ে হাসি দিল। কিন্তু বাছিনা তাকে খুব উষ্ণ অভিবাদন জানাল। কাঁধটা বাড়িয়ে দিল বাবাকে চুমু খাওয়ার জন্য। বাছিনার হাসিখুশির মাঝেও একধরনের কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া আর তার প্রতি খুব মিহি একটা ভর্ৎসনা সে টের পেল।

‘বাবা আমি তোমাকে খুব মিস করছি।’ বাছিনা বলল।

সে মেয়ের থুতনিতে আলতো করে হাত রেখে বলল, ‘আমি খুবই দুঃখিত। কিন্তু দেখ আমি অবশ্যই ভালো হয়ে যাব। এখন আমার ক্ষমা দরকার।’

বাছিনা আবার তার ফুলের টবের দিকে চলে গেল।

ওমর বলল, ‘তুমি ঠিক আছ তো?’

‘হ্যাঁ।’ সে বলল। একটু থেমে তারপর আবার বলল, ‘কিন্তু মা ভালো নেই।’

‘সেটা অবশ্য বোঝা যাচ্ছিল। তবে সবকিছুই পরিবর্তিত হয়ে যাবে। একটু ধৈর্য ধারণ করো।’

বাছিনা জেসমিন ফুলের একটা কুড়ির দিকে তাকাল। মাত্র ফুটতে যাচ্ছে। সে খুব উল্লসিত হয়ে বলল, ‘প্রথম জেসমিন এটা। ফুলটা খুব ছোট কিন্তু এর ঘ্রাণ অনেক তীব্র। বাবা আমি কি এটা তোমার জন্য ছিঁড়ে আনতে পারি।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *