দুই
তারা একে অপরে সম্ভাষণ জানানোর আগে অনেকগুলো মুখ তার দিকে উৎসুক চোখে তাকিয়ে বেশ আশান্বিত হয়ে কিছু শোনার জন্য অপেক্ষা করছিল। কিন্তু একধরনের যন্ত্রণা বিরক্তি আর কষ্ট তার মনটাকে স্বস্তি দিচ্ছিল না। তাদের পাশেই জানালা দিয়ে দেখা যায় নীল নদ প্রবাহিত হচ্ছে। সে তার স্ত্রীর জামার সাদা কলারের উপর বের হয়ে আসা গলার দিকে তাকাল। তার পর তাকাল মাংসল মুখের দিকে। তার স্ত্রী বিশ্বাস আর স্বস্তির পাহাড়ের মতো দাঁড়িয়ে ছিল। স্ত্রীর সবুজ চোখ দুটি আশেপাশের মাংসের চাপে প্রায় বুজে আসছিল। কিন্তু তার হাসিটা সত্যিকার অর্থেই ছিল খুব নিষ্পাপ উদ্বেগ আর ভালবাসায় পূর্ণ।
স্ত্রী বলল, ‘আমার অন্তর বলছে সব কিছু ঠিক আছে।’
মোস্তফা মিনাবি বেশ কেতাদুরস্ত স্যুট পরে তার পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। মোস্তফা তার মলিন চেহারা নিষ্প্রভ চোখ নিয়ে ওমরের দিকে তাকাল। তারপর বলল, ‘তোমার স্কুল জীবনের বন্ধুর বিষয়ে আমাদের কিছু বলো। সে কি বলেছে? সে কি তোমাকে চিনতে পেরেছে?’
ওমরের মেয়ে বাছিনা একটা ব্রোঞ্জ মূর্তির কাঁধে তার কনুইটা রেখে দাঁড়িয়েছিল। মূর্তিটা ছিল একটা মেয়ে মানুষের। যে অভ্যাগতদের অভিবাদন জানানোর জন্য দুহাত বিছিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বাছিনার সবুজ চোখ দুটি বেশ জিজ্ঞাসু চোখে বাবাকে দেখছিল। তার শারীরিক গঠন তার মা যখন চৌদ্দ বছরের ছিল সে সময়কার মতো বেশ আকর্ষণীয় আর সুন্দর। কিন্তু দিনকে দিন সে বেশ বেঢপ হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে মেদ বৃদ্ধিতে তার কোনো আপত্তি নেই। তার চোখ দিয়ে সে বাবার দিকে এমনভাবে তাকিয়েছিল যে কোনো কিছু না বলেই যেন সে বাবার সাথে অনেক কিছু বলছিল। তার ছোট বোন জামিলা দুটো চেয়ারে বসে তার টেডি বিয়ারটাকে নিয়ে খেলাধুলা করছিল। বাবা এসেছে এদিকে তার খেয়ালই নেই।
তারা সবাই বসার পর ওমর খুব শান্তভাবে বলল, ‘কিছুই হয়নি।’
জয়নাব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বেশ জোরেসোরেই বলল, ‘আল্লাহর প্রশংসা করি। তাকে অনেক ধন্যবাদ। কতদিন তোমাকে বলেছি যে তোমার একটু বিশ্রামের প্রয়োজন।’
স্ত্রীর মন্তব্য তাকে আরো বিরক্ত করে তুলছিল। ওমর তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মোস্তফার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘সব দায়দায়িত্ব তার।’
তারপর সে ডাক্তার কি কি বলেছে তার একটা সারমম বর্ণনা করে আবারো স্ত্রীর দিকে লক্ষ্য করে বলল, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছুর জন্য দায়ী সে।’
মোস্তফা বেশ উল্লাসের সাথেই বলল, ‘এটাতো মনে হচ্ছে এক ধরনের খেলা চিকিৎসা। তবে খাবার আর পানীয়.. … ধ্বংস হোক এই দুটো।’
কেউ যখন বিপদের শিকার হলোই না তখন বিপদকে শুধু শুধু অভিশাপ দিয়ে লাভ কি। আর অন্ধকার অস্পষ্ট পথের যাত্রীর সাথে ভবিষ্যৎ কিই বা করতে পারে। যে কিনা ভালবাসা আর অতৃপ্তির মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে আছে। যে কিনা একটা পরিষ্কার রাস্তা থাকার পরেও স্পষ্ট করেও কিছু বলতে পারে না আসলে সে কি করবে।
ওমর মোস্তফার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ডাক্তার হামিদ আমাদের ছোট টেকোর কথা জিজ্ঞেস করেছিল।’ তারপর সে একচোট দম ফাটানো হাসি হেসে একটু জিরিয়ে নিয়ে বলল, ‘ছোট্ট টেকোকে ধন্যবাদ যে সে ডাক্তার বন্ধুর প্রশংসা অর্জন করতে পেরেছে।’
মোস্তফা বেশ প্রশস্ত হাসি হাসল। তার উজ্জ্বল দাঁতগুলো এতে বের হয়ে পড়ল। সে বলল, ‘টিভি এবং রেডিওকে ধন্যবাদ।’
ওমর তার অপর বন্ধুর কারাগারে থাকার খবরটাও বলল। ওমরও কোনো একদিন বিপদের মধ্যে ছিল। কিন্তু তার বন্ধু কখনো নতি স্বীকার করেনি। অনেক অত্যাচার অনেক যন্ত্রণার পরেও সে স্বীকারোক্তি দেয়নি। এখন সে এমন এক অন্ধকারে তলিয়ে গেছে যেটাতে সে আগে কখনো ছিল না। আর আজ তুমি ওমর! ক্রমশ অতি ঐশ্বর্য দিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছ। তোমার স্ত্রী রান্না ঘর আর ব্যাংকের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুমি নিজেকেই জিজ্ঞেস করো তোমাদের নিচে বয়ে যাওয়া এই নীল নদ এখনো কেন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে না।
‘বাবা আমরা কি কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি?’
‘আমরা খুব শিগগির অনেক মজা করতে যাব। তোমাকে একদিন যেভাবে সাঁতার শিখিয়েছিলাম সেভাবে তোমার ছোট বোনকেও সাঁতার শেখাব।’
‘এমনকি বাতাসভর্তি পিপাও থাকবে ..।’ মেয়ে বলল।
‘তোমার মা-ই সেরকম একটা পিপা। আর ঐ দিগন্ত আহ! মনে হয় একটা বেষ্টনী। বেষ্টনীর ঐ পারেই মনে হয় সুখ অপেক্ষা করছে। এক ধরনের অস্বস্তিকর কষ্ট ছাড়া মনে হয় আর কিছুই বাকি নেই।
মোস্তফা বলল, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার স্ত্রী রাসেল বারের সমুদ্র সৈকতটা পছন্দ করে। কিন্তু আমার মতো একজনের পক্ষে সেখানে কোনোভাবেই অবসর কাটাতে যাওয়া সম্ভব না।
ওমরের ছোট মেয়ে জামিলা তার টেডি বিয়ার থেকে মাথা তুলে বলল, ‘বাবা আমরা কবে যাব?’
মোস্তফা ওমরের ভালবাসা প্রেম, বিয়ের একজন চাক্ষুষ সাক্ষী আর স্মৃতি কবচ। সে সব কিছুরই প্রত্যক্ষদর্শী ছিল। প্রতিদিনই সে ওমর আর তার পরিবারের জন্য বন্ধুত্বকে মজবুত থেকে আরো মজবুত প্রমাণ করে চলেছে।
ডাক্তার আমাকে আমার কাব্য যৌবনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।’ ওমর বলল। মোস্তফা ওমরের কথা শুনে হাসল। সে বলল, ‘মনে হচ্ছে সে আমার সাম্প্রতিক নাটকগুলোর বিষয়ে কিছুই জানে না।
‘আমি ডাক্তারকে তোমার শিল্পসাহিত্যবিষয়ক দক্ষতার কথা বলেছি।’
‘বিখ্যাত এই চিকিৎসক যদি আর্টকে বিশ্বাস করে তাহলে সেটা আমার জন্য হবে অবাক করা বিষয়।
‘তার স্ত্রী তোমাকে পছন্দ করে। তুমি কি এতেও সন্তুষ্ট হচ্ছ না?’
‘সে তো বাদাম আর ভুট্টার খইও পছন্দ করে।
জয়নাব দরজা দিয়ে আসাযাওয়া ঘরের চাকরবাকরগুলোর প্রতি নজর দিচ্ছিল। তারপর সে বলল, ‘রাতের খাবার খেতে চলো।’
ওমর ঘোষণা দিল সে মোরগের এক স্লাইস মাংস, একটু ফল আর এক গ্লাস হুইস্কি ছাড়া আর কিছুই খাবে না। তখন মোস্তফা তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তাহলে মাছের ডিমের কি হবে। সেগুলো কি আমি একাই সাবার করব নাকি?’
তারপর সে প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের সকালের নাস্তার একটা বর্ণনা দিতে শুরু করল। সে যখন সাইপ্রাসে গিয়েছিল তখন একটা পত্রিকায় মোস্তফা এই খবরটা পড়েছিল।
ওমর যদিও প্রথম খাবারের সময় একটু অস্বস্তি দেখাচ্ছিল কিন্তু খাবার শুরু করার পর সে বিনা বিচারে টপাটপ খেয়ে যেতে লাগল। এমনকি জয়নাবও তাকে বাধা দিয়ে কিছু করতে পারল না যখন ওমর একাই এক বোতল বিয়ার সাবার করে দিল। তবে বাছিনা মার চোখেচোখে বেশ রাখঢাক করেই খাচ্ছিল।
মোস্তফা বলল, ‘খাবার মানুষের চরিত্রটাকে বেশ ভালো ব্যাখ্যা করতে পারে।’ রাতের খাবার শেষ করার পর সবাই আধঘণ্টার জন্য একসাথে ছিল। ওমরের ছোট মেয়ে শুয়ে পড়েছে। জয়নাব আর বাছিনা গেছে পাশের বাড়িতে তার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে। ওমর আর মোস্তফা একাকি ব্যালকনিতে বসে রইল। এক বোতল হুইস্কি, গ্লাসভর্তি বরফের টুকরো তাদের মাঝে একটা টেবিলের উপর সাজানো ছিল। গাছের একটা পাতাও নড়ছিল না। উঁচুতে গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে অনেক দূরে নীল নদ উঁকি দিচ্ছিল আর জীবন আনন্দ উৎসব এই সবের অর্থ কি তার বর্ণনা দিচ্ছিল।
মোস্তফা একাই পান করছিল। সে বলল, ‘এক হাতে কখনোই তালি বাজে না।’ ওমর একটা সিগারেট জ্বালাতে জ্বালাতে বলল, ‘আবহাওয়াটা খুবই বিরক্তিকর। কোনো কিছুই আমাকে আনন্দ দিচ্ছে না।
মোস্তফা হাসল। ‘আমার মনে পড়ছে তুমি একবারই আমার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলে।’
ওমর তার কথা শেষ হওয়ার আগেই বলল, ‘আমি ভয় পাচ্ছি কাজ নিয়ে আমার এই মানসিক অবস্থাটা আবারো হবে আর এটা চলতেই থাকবে।’
‘তুমি যদি ব্যায়াম আর খাবারের বিষয়ে সত্যিকার অর্থেই সচেতন হও আমার মনে হয় এই হতাশা তোমাকে আর গ্রাস করবে না।’
‘আমি আর এক গ্লাস হুইস্কি নিব।’
‘ঠিক আছে। কিন্তু তোমাকে ইস্কান্দারিয়ায় আরো বেশি অটল থাকতে হবে।’
‘তুমি কি বলেছিলে যে আমি একদিন তোমার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলাম। হ্যাঁ সেদিন তুমি তোমার অন্যান্য শিল্পী বন্ধুদের মতোই মিথ্যাবাদী ছিলে।
‘শিল্পের প্রতি আমার যে অঙ্গীকার ছিল তুমি তার সাথে খুবই বাজে আচরণ করেছিলে সেদিন।’
‘আমি সেদিন খুব মানসিক দৈন্যের মাঝে ছিলাম। নিজেই নিজের সাথে যুদ্ধ করছিলাম।’
‘হ্যাঁ এটা ঠিক। তুমি সেদিন নিজেই নিজের গোপন কোনো বেদনার সাথে ঝগড়া করছিলে। আর সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আমার উৎসুক দৃষ্টি তোমাকে আরো বিরক্ত করছিল।’
ওমর বলল, ‘কিন্তু দেখো বন্ধু আমি কিন্তু তোমাকে কখনোই ঘৃণা করিনি। আমি তোমাকে কষ্টদায়ক হলেও আমার বন্ধুই মনে করেছি।’
মোস্তফা বলল, ‘হ্যাঁ আমিও তোমার বিরক্তি আর ক্রোধকে সমীহের চোখে দেখেছি। শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি তোমার অনীহার সময় আমি চুপ থেকেছি।’
মোস্তফা এই কথা বলে হাসতে লাগল। তারপর বলল, ‘আমি যখন শিল্পকে ছেড়ে দেব তখন তোমাকে নিশ্চয়তা দিব। ভয় নেই। দেখ আমি এখন টিভি রেডিও আর মিডিয়ার মাধ্যমে কি করছি, শুধু মিষ্টি তরমুজ আর পপকর্ণ বিক্রি করছি। আর তুমি আল আজহারের প্রাঙ্গণে সমানে ওকালতি ব্যবসা করে যাচ্ছ।’
কিন্তু ওমরের মাথার ভেতর তখন পুরাতন স্মৃতি তপ্ত বাতাস, ধুলাবালির মতো বার বার ছড়িয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে যাচ্ছিল।
একটা কিশোর, হাসিখুশি, বসে আছে একটা তাগড়া জোয়ান ঘোড়ার পিঠে I
‘সে বিরক্ত হয়েছিল, সে হতাশ হয়েছে, তাকে বিষণ্ন করা হয়েছে, তারা সবাই বিরক্ত হয়েছে। আহ! সবাই অস্থির আর বিরক্ত।’
মোস্তফা বলল, ‘এখন একমাত্র ঔষুধ খাবারের নিয়ন্ত্রণ আর হাঁটা চলা, খেলাধুলা।’
ওমর বলল, ‘তুমি একটা জোকার।’
‘আমার জীবনের একমাত্র লক্ষ্যই হচ্ছে আনন্দ ফূর্তি করা। অনেক অনেক ফূর্তি আর আনন্দ। তবে একটা কথা কি অনেক আগে শিল্পকলার একটা দাম ছিল, কিন্তু বিজ্ঞান তার গুরুত্বকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
‘আমি কিন্তু শিল্পকলাকে বিজ্ঞান দিয়ে প্রভাবিত না হয়েই ছেড়ে দিয়েছি।’
‘আচ্ছা তুমি কেন শিল্প আর সৃজনশীলতাকে ত্যাগ করেছিলে?’ মোস্তফা বলল।
সেও মনে হয় গ্রীষ্মের উত্তাপের মতো ভালো চালবাজ। আজকের রাতটার কোনো বৈশিষ্ট্যই ছিল না। রাস্তায় চিৎকার আর মানুষের হাঁটাচলা কমে আসছিল। মোস্তফা বেশ চালবাজি করে প্রশ্নটা করেছে। সে ভালো করেই এর উত্তরটা জানে।
ওমর বলল, তুমিই বলো এর কারণটা কি?’
মোস্তফা বলল, ‘তুমি বলেছিলে তুমি বেশ শান্তি আর সফলতার সাথে জীবন কাটাতে চেয়েছিলে।’
‘তাহলে তুমি কেন আমাকে আবার সেই প্রশ্ন করছ?’
অনেক পুরাতন কোনো অসুখ থেকে এক ধরনের নতজানু হওয়ার প্রতিক্রিয়া তার দুই চোখের পাতায় ফুটে উঠল।
মোস্তফা বলল, ‘তুমি কিন্তু শুধু বিজ্ঞানের কারণেই শিল্পকে ত্যাগ করোনি।’
‘ঠিক আছে তুমি আমার জানার বিষয়টাকে বৃদ্ধি করে দাও।’
‘তুমি আসলে বিজ্ঞানের সমতালে শিল্প তৈরী করতে সক্ষম হওনি।’
মোস্তফা গ্লাসে হুইস্কির কারণে বেশ প্রফুল্ল বোধ করে হাসতে হাসতে আবার বলল, ‘পালিয়ে যাওয়া আসলে ব্যর্থতারই শামিল। কিন্তু তুমি আমাকে বিশ্বাস করো বিজ্ঞান শিল্পকলার সব কিছুই দখল করেছে। বিজ্ঞানের মাঝে তুমি কবিতার স্বাদ পাবে, ধর্মের নাড়াচাড়া পাবে, দর্শনের সম্ভাবনা খুঁজে পাবে। আমাকে বিশ্বাস করো শিল্পের জন্য শুধু বিনোদন ছাড়া আর কিছুই নেই। এমন একদিন আসবে যখন এটা শুধু মাত্র মধুচন্দ্রিমায় পরিধানের জন্য একরকম অলংকারে পরিণত হবে।
‘এটা শুনতে কতই না ভালো লাগছে। শিল্পের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ নেয়া আর বিজ্ঞানকে পরিত্যাগ করা।’ ওমর বলল।
মোস্তফা বলল, ‘তুমি জ্যোতির্বিজ্ঞানের বই পড়ো, পদার্থ বিজ্ঞানের বই পড়ো আর এইগুলোর সাথে তোমার ইচ্ছা মতো নাটক নভেল কবিতার বই পড়ে দেখ। তারপর যেই বিষয়টা তোমাকে পীড়াপীড়ি করছে সেটাকে খুব মনোযোগ দিয়ে গভীর অনুভূতি দিয়ে খুঁজে বের করে দেখ।’
‘এটা তো আমি যখন কোনো আইনি বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করি তার মতোই মনে হচ্ছে।’
‘এটা শুধুমাত্র একজন শিল্পীর অনুভূতি ছাড়া আর কিছু না।’
ওমর একটা হাই তুলে বলল, ‘ধ্যাৎ সব কিছুই ফালতু। আমি বাতাসে খারাপ কিছুর গন্ধ পাচ্ছি। আমি বুঝতে পারছি একটা বড় অট্টালিকা ভেঙে পড়তে যাচ্ছে।’
মোস্তফা আরেক গ্লাস হুইস্কি নিয়ে বলল, ‘আমরা সেই অট্টালিকা ভাঙতে দেব না।’
ওমর মোস্তফার কাছে ঝুঁকে এসে বলল, ‘আমার বিষয়ে তোমার ধারণা কি?’
‘অধিক পরিশ্রমে অবসন্নতা, একঘেয়েমি, আর সময়। এগুলোই তোমাকে ব্যতিব্যস্ত করে রেখেছে।’
‘তাহলে খাবারে নিয়ন্ত্রণ আর ব্যায়াম খেলাধুলাই কি আমার জন্য যথেষ্ট।’
‘এই কাজগুলিই এখন তোমার জন্য যথেষ্ট।’
