ভিখারি – ১৬

ষোল

নৈশভোজে চমৎকার সব খাবার, পানীয় আর সুন্দর সব স্মৃতি একত্র হয়েছিল। জয়নাব তার হাত ধরে অভিবাদন জানাল। জয়নাবের চোখ ভিজে উঠছিল। মোস্তফা তাকে দেখে বেশ উষ্ণভাবে আলিঙ্গন করল আলিয়াকে এই প্রথম ওসমান দেখল। খাবার টেবিলে বাছিনা তার পাশে বসার পর ওসমান বাছিনার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল যে তার মা যখন ছোট্ট কিশোরী ছিল বাছিনা দেখতে ঠিক সে রকম।

তাকে যখন খাবার শুরু করতে বলা হলো সে বলল, ‘এই সমস্ত খাবার চেখে দেখা আমার পক্ষে সম্ভব না।’

তার পর সে বাছিনার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তারা তোমাকে বলেছে যে আমি খুব পুরাতন একজন বন্ধু। এটা আসলে পুরোপুরি সত্য না। আংশিক সত্য। আসলে আমি পুরাতন বন্ধু যে মাত্র কয়েদখানা থেকে বের হয়ে এসেছে।’

বাছিনা এ কথায় মজা পেয়ে হাসল।

‘হ্যাঁ  এটা সত্য আমি একজন পুরাতন বন্ধু। কিন্তু আমি একজন পুরাতন কয়েদিও বটে।’

এই সময় জয়নাব বাধা দিয়ে বলল, ‘তাহলে বাছিনার এর সাথে সাথে এটাও জানা উচিত যে তুমি শুধু একজন কয়েদিই নও সাথে সাথে তুমি একজন রাজনৈতিক বীরও।’

বাছিনা তার দিকে খুব অবাক হয়ে তাকাল।

‘বীর, আর অপরাধী। বিপরীত দুইটা নাম।’

ওমর তাকে বলল, ‘ওসমান আমার খুব পুরাতন বন্ধু। এখন সে আমার ফার্মে আমারই একজন সহকর্মী। আমি অন্য কোনো সময় তার ব্যাপারে তোমাকে বিস্তারিত বলব। তুমি নিশ্চই এর মধ্যে রাজনৈতিক বন্দিদের বিষয়ে জেনেছ।’

‘রাজা কি তোমাকে বন্দি করেছিল?’ বাছিনা জিজ্ঞেস করল।

ঘরের পরিচারক ছেলেটি কিছু তুর্কি খাবার আর মটর সেদ্ধ তার প্লেটে রাখল।

ওসমান বলল, ‘না পুরো সমাজ আমাকে বন্দি করেছিল।’

‘তুমি কি এমন করেছিলে?’

এই প্রশ্নের উত্তর যখন সে দিল না তখন মোস্তফা হাসতে হাসতে বলল, ‘সে একজন সমাজতন্ত্রবাদী।’ মোস্তফা তার চোখটা একটু পিটপিট করে যোগ করল, ‘সে বোমা নিয়ে খেলতে পছন্দ করে।’

বাছিনার সবুজ চোখ দুটি প্রশস্ত হয়ে গেল। জয়নাব কৌশলে প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বলল, ‘বাছিনা কিন্তু কবি।’

ওসমান ওমরের দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলল, ‘এই পরিবারে কবিতা দেখি উত্তরাধিকারী সূত্রেই চলছে।’

মোস্তফা ওসমানকে সতর্ক করে বলল, ‘বাছিনার কবিতায় কিন্তু রহস্যময় সত্তার প্রশংসায় রচিত।’

সবাই বেশ রসিকতার হালেই ছিল। কিন্তু ওসমান বেশ আদবের সাথেই বলল, ‘আমি আশা করি তোমার কবিতা শুনে সেটা আমাকে আনন্দিত করবে।’

ওমর তার অস্বস্তিকে বেশ ভালভাবেই সামাল দিল। সে মুরগির একটা টুকরো নিতে নিতে মনে মনে ভাবল এটা যদি উড়তে পারত তাহলে তো এটাকে খাওয়ার টেবিলে আসতে হতো না। ওমর বেশ আনন্দের সাথে বাছিনা আর ওসমানের কথা বার্তাগুলো শুনছিল।

হঠাৎ করে বাছিনা জিজ্ঞেস করল, ‘কয়েদি জীবন তুমি কিভাবে সহ্য করেছিলে।’

‘এটা আমাকে সহ্য করতে হয়েছিল। কারণ এ ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না। এখান থেকেই আমি আরো ভালো পথটা চিনে নিয়েছিলাম। আমি বুঝতে পেরেছি সমাজ আমাদের সাথে ভালো ব্যবহার করেনি।’

সে হাসল। তারপর আবার বলল, ‘আসলে কয়েদি জীবনেরও কিছু সুবিধা আছে। তবে সেখানে বন্দিদের জীবনের কোনো স্তর নেই।’

‘আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।’

‘আমি যদি তোমার কবিতা পড়ে বুঝতে পারি তাহলে তুমিও আমার কথা বুঝতে পারবে।’

‘তুমি কি বাবার কবিতা পড়েছ?’

‘অবশ্যই।’

‘কবিতাগুলো কি তোমার ভালো লেগেছে?’

ওমর কথার মাঝখানে বাধা দিয়ে বলল, ‘খোদার দোহাই তোমরা যদি এভাবে কথা বলতেই থাকো তাহলে কিন্তু রাতের খাবার শেষ করতে পারবে না।’

কিন্তু ওসমান কথা চালিয়ে যেতে থাকল। মেয়েটার সাথে কথা বলতে তার খুব ভালো লাগছে।

‘তুমি কি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্য পড়বে?’

‘বিজ্ঞান।’

‘সাবাস। কিন্তু বিজ্ঞান কেন? যখন তুমি নিজেই একজন কবি?’

জয়নাব বেশ গর্বের সাথে বলল, ‘সে বিজ্ঞানেও খুব ভালো।’

বাছিনা বলল, ‘বিজ্ঞান পড়ার ব্যাপারে বাবার খুব আগ্রহ।’

ওসমান একটু দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে ওমরের দিকে তাকাল। তারপর বাছিনার দিকে তাকিয়ে আবার বলল, ‘একদিন তুমি বুঝতে পারবে বিজ্ঞানই আসলে সব।’

‘কিন্তু আমি কবিতাকে ছাড়তে চাই না।’

‘কেনইবা তুমি সেটা করবে?’

‘তুমি কত বছর জেলখানায় ছিলে?’

‘প্রায় বিশ বছর।’

ওসমান বাছিনার অবাক হওয়া দেখে হাসল।

‘সেখানে একজন লোককে আমি দেখেছি যে জেলখানা থেকে বের হয়ে আসতে চায় না। যখনই তার মুক্তির সময় কাছাকাছি চলে আসে তখনই সে কোনো একটা অপরাধ করে বসে শুধুমাত্র বন্দি জীবন দীর্ঘ করার জন্য।

‘কি রকম পাগলামি এটা।’

‘লোকজন তো প্রায় সময়ই নানা রকম পাগলামি করে থাকে।’

‘তুমি কি তাকে খেতে দিবে না?’ ওমর আবার বাছিনাকে বলল।

খাবার শেষ করে সবাই কফির জন্য বাইরে চলে গেল। কিন্তু বাছিনা আর ওসমান তাদের কথা চালিয়ে যেতে থাকল।

প্রায় দশটার দিকে মোস্তফার পরামর্শে তারা তিনজন পুরুষ বারান্দায় চলে গেল আর মেয়েরা গেল তাদের বসার ঘরে।

মোস্তফা এখন কি করছে সে বিষয়ে ওসমান জানতে চাইলে মোস্তফা বেশ খোলামেলাভাবেই তাকে সব বলল। কিন্তু ওসমান তাতে সন্তুষ্ট হলো না। মোস্তফা ওসমানকে জিজ্ঞেস করল, ‘আমরাতো আমাদের অবস্থায় আছি এখন তুমি নিজেকে নিয়ে কি ভাবছ? কি করবে এখন?’

বাছিনা যেহেতু নেই তাই ওসমান স্বাভাবিকভাবে একটু উদাসীন হয়েই বলল, ‘প্রথমেই আমি একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করব।’

‘ঠিক আছে কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করছি তোমার মাথায় কোন বিষয়টা ঘুরপাক খাচ্ছে।’

‘আমাকে এখন পরিস্থিতিটা ভালোভাবে দেখতে হবে।’

‘তুমি যেটা ভালো মনে করো। আমাদের পুরাতন অবস্থার কিন্তু কোনোই প্রয়োজন নাই।’

‘প্রয়োজন আছে।’ ওসমান একটু অসহিষ্ণুভাবে বলল।

‘আসলে আমি বলতে চেয়েছিলাম রাষ্ট্রতো এখন সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এটাইতো যথেষ্ট ঠিক না?’

ওমর বারান্দার বাইরে দূরে নীল নদের বয়ে যাওয়াটা খুব মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। আকাশে আধখানা চাঁদ ঝুলে আছে।

ওসমান একটু তিক্ত স্বরে বলল, ‘তুমি পরিবর্তিত হয়ে গেছ এর মানে কিন্তু এই নয় যে সত্য পরিবর্তন হয়ে গেছে।’

‘আমরা যতটুকু উন্নত হয়েছি ততটুকু কিন্তু পরিবর্তিত হইনি।’

‘তোমরা পেছনে পড়ে আছ।’

‘দেশ নিঃসন্দেহে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

‘হতে পারে। কিন্তু তোমরা পেছনে যাচ্ছ।’

ওমর তখনো চাঁদের দিকে তাকিয়ে মনোযোগ দিয়ে দেখছিল। মোস্তফা একটু রসিকতা করে ওসমানকে বলল, ‘তুমি তোমার জীবনে যা উৎসর্গ করেছ তাই নিয়ে কি এখনো সন্তুষ্ট নও।’

‘সত্য কখনো পরিতৃপ্তকর হয় না।’

‘প্রিয় বন্ধু এটা তোমার একার দায়িত্ব না।’

‘মানুষ সে সামগ্রিকভাবেই মানবিকতা নিয়ে আছে। এছাড়া একা একা সে কিছুই না।’

মোস্তফা হাসতে হাসতে বলল, ‘আমি যদি মোস্তফার বোঝাই বইতে না পারি তাহলে সমগ্র মানবজাতির বোঝা কিভাবে বইব।’

‘কি আফসোস। আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না তোমরা দুজন কি পরিমাণ অধঃপতনে গেছ।’

মোস্তফা খুব হাল্কাভাবেই আলোচনাটা নিয়েছে।

সে ওমরকে লক্ষ্য করে বলল, ‘ঠিক আছে ওমরকে দেখ। সে এখন খুব খারাপ একটা সময় কাটাচ্ছে। কাজ সফলতা পরিবার কোনো কিছুই তার কাছে এখন ভালো লাগছে না।

ওসমান জিজ্ঞাসু চোখে ওমরের দিকে তাকাল। কিন্তু ওমর তখনো নীল নদের দিকে তাকিয়ে আছে।

মোস্তফা বলল, ‘সে এখন নিজেকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।’

ওসমান বলল, ‘হতে পারে সে নিজেকে হারিয়ে এসেছে সেটাকেই এখন খুঁজে বেড়াচ্ছে।’

তারপর সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকেই বলল, ‘এই সব কিছুই একটা দার্শনিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে শেষ হতে পারে।’

মোস্তফা তার হাসিখুশি ভাবটা ফিরিয়ে আনতে আনতে বলল, ‘আমি প্রায় সময়ই বিশ্বাস করি তার মধ্যে লেখালেখির গোপন যে সৃজনশীলতা আছে সে ওখানে ফিরে আসতে চায়। সে চেষ্টাও করছে। কিন্তু মাঝে মাঝে সে খুব অদ্ভুত আনন্দ উল্লাসের কল্পনা করে।’

‘তুমি কি আমাকে বিষয়টা একটু খোলামেলাভাবে বলবে?’

ওমর তাদের দুজনার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘এটা ছাড়ো তো। মনে করো এটা একটা অসুখ।’

ওসমান তীক্ষ্ণ চোখে ওমরের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘এটা সত্যিকার অর্থেই অসুখ। কারণ তুমি তোমার আগের সেই প্রাণোচ্ছলতা হারিয়েছ।’

মোস্তফা বলল, ‘অথবা সে নিজে তার অস্তিত্বের খোঁজ করছে।

‘কিন্তু আমরা যখন লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রতি আমাদের দায়িত্ব নিয়ে সচেতন হব তখন ব্যক্তিগত বিষয় খুব অনর্থক হয়ে পড়বে।’

ওমর বেশ বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কি মনে করো যখন সর্বহারা শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে তখন এই জাতীয় প্রশ্নের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে।’

‘কিন্তু এটাতো এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

সে তাদের দুজনার উপর একবার চোখ বুলিয়ে নিয়ে তারপর বলল, ‘বিজ্ঞানীরা জীবন ও মৃত্যুর রহস্য খুঁজে বেড়াচ্ছে জ্ঞানের বিশ্লেষণের মাধ্যমে, অসুস্থতা দিয়ে নয়।

‘এবং যদিও আমি কিন্তু কোনো বিজ্ঞানী নই।’

তারপরেও তোমার কিন্তু উচিত হবে না শ্রমিকদের মুখের উপর কষ্ট আর যন্ত্রণার ধূলিকণা ছুঁড়ে মারতে।’

মোস্তফা বলল, ‘তুমি আমাদের বন্ধুর দিকে বেশ শক্ত কিছু ভাষা নিক্ষেপ করলে যখন সে সত্যিকার অর্থেই কষ্টে আছে।’

‘আমি দুঃখিত। আমি ভয় পাচ্ছি যে আমাকে সব সময় দুঃখিতই থাকতে হবে।’

ওমর জিজ্ঞেস করল, ‘হার্ট কি আমাদের রক্ষা করত না যদি আমরা বিজ্ঞানী নাও হতাম?’

‘হার্ট হলো একটা পাম্প যেটা নানা ধরনের টিস্যু শিরা উপশিরা দিয়ে কাজ করে। যদি তুমি সত্যকে উপলব্ধি করার জন্য এটাকে দেখতে চাও তাহলে সেটা হবে একটা অলীক কল্পনা। হ্যাঁ  সত্যিকার অর্থেই আমি তোমাকে বুঝতে শুরু করেছি। তুমি একধরনের আনন্দ উল্লাস,বেঁচে থাকার উপকরণ খুঁজে বেড়াচ্ছ। অথবা যেটাকে বলা যায় তুমি একটা নিরেট সত্যকে খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছ। যেহেতু তুমি কোনো নির্দিষ্ট পথে এগুচ্ছ না সে জন্য হৃদয়ের কার্যকলাপ কি বোঝার চেষ্টা করছ। আমি তোমাকে বলি এতে তোমার জীবন বিপন্ন হবে সাথে সাথে আমার জীবনও বিপন্ন হবে, যে জীবন দীর্ঘদিন কয়েদখানায় কাটিয়ে এসেছে আর কোনো কিছুর জন্যই উৎসর্গিত হতে পারে নি। তুমি শুধু জ্ঞান, বিতর্ক, আর কাজ দিয়ে সত্যকে বের করার চেষ্টা করেছ।’

সে তো মরুভূমিতে সকাল হওয়া দেখেনি, কিংবা এমন কোনো পরমানন্দ পায়নি যেটা কোনো রকম প্রমাণ ছাড়াই আত্ম তৃপ্তি দিতে পারে।

পায়ের নিচে কোনো মাটি কিংবা ময়লা ছুঁড়ে মারার মতো পৃথিবীটাকে এত সহজে ছুঁড়ে মারা হয়নি।

মোস্তফা বলল, ‘আমি বিজ্ঞান এবং প্রজ্ঞা দুটোতেই বিশ্বাস করি। কিন্তু আমার কাছে কিছু কাসিদা কবিতা আছে যেটা ওমর লিখেছিল কবিতাকে সর্বশেষ নিক্ষেপ করার আগে। এখানেও সে প্রজ্ঞার বিরুদ্ধে তার বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে।

ওসমান নিজেকে নিয়ন্ত্রণে এনে বলল, ‘আমি এগুলো শুনতে চাচ্ছি।’

ওমর বাধা দেয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু ততক্ষণে মোস্তফা লেখা কাগজগুলো খুলে পড়তে শুরু করেছে।

‘যেহেতু আমি বাতাসের উপর খেলতে পারি না
আর বাস করতে পারি না দিগন্তরেখায়।
কোনো কিছুই আমাকে মুগ্ধ করে না শুধু নির্ঘুম রাত
আর এমন একটা গাছ যে শত ঝড়েও ভেঙে পড়ে না
এমন এক প্রাসাদ যা কখনো কেঁপে উঠে না।’

কবিতা পাঠের পর গভীর একটা নিরবতা নেমে আসল।

নিরবতা ভেঙে ওসমান কথা বলল, ‘আমি অবশ্য এর কিছুই বুঝিনি।’

ওমর বলল, ‘আমি কখনোই বলিনি এটা কবিতা। এটা এক ধরনের হেলুসিনেশন যখন আমি মানসিকভাবে ব্যাধিগ্রস্ত ছিলাম তখনকার।’

মোস্তফা বলল, ‘কিন্তু আধুনিক শিল্পে এই ধরনের আন্দোলনই তো দেখা যাচ্ছে।’

ওসমান একটু অবজ্ঞার সুরে বলল, ‘এটা হলো মৃত্যু পথযাত্রী কারো কান্নার আর্তস্বর।’

মোস্তফা বলল, ‘এটা হয়তো সত্যি হতে পারে। কিন্তু পুরাতন শিল্পীদের মতো করে বলছি আমি এখানে একটা শিল্পগত সমস্যা দেখতে পাচ্ছি। সেটা হলো সবাই যে বিষয় নিয়ে কাজ করছে সেটার উপর বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে, আর তারা নতুন কোনো আঙ্গিক রূপ খুঁজে বেড়াচ্ছে।’

‘কেননা সে বিষয়বস্তু নিয়ে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছে?’

‘কেননা সে যাই পাচ্ছে অধিক ব্যবহারের কারণে সেগুলো ব্যর্থ মনে হচ্ছে।’

তাদের কথা শুনে ওমর মনে মনে বলল আমি কেন এমন একটা আলোচনায় নিজেকে জড়িত করে ক্লান্ত হয়ে যাচ্ছি যেখানে আমার কোনো আগ্রহই নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *