দশ
শুক্রবার ছুটির দিনে মেয়েটা তার সামনে মুখোমুখি বসল। ভাবনা চিন্তা করে সে মনে মনে নিজেকে বেশ উৎফুল্লতার সাথেই বলল ব্যাপারটাতো সত্যি যে আমি মেয়েটাকে এক সপ্তাহ ধরে দেখছি না।
সূর্যের আলো মেয়েটার জামার কিনারা আর পায়ের উপর এসে পড়ছে। নিচে বয়ে চলা নীল নদের উপর সূর্যের কিরণ লক্ষ মুক্তোর মতো ঝিকমিক করছিল।
তার ভেবে অবাক লাগছে যে সে মেয়েটার ছোটবেলার কথা একদম বেমালুম ভুলে গেছে। যখন সে জামিলার মতো ছোট ছিল আর দুষ্ট ছিল। মেয়েটা এখন বেশ সুন্দরী, বুদ্ধিমতী, আর কাব্যিক মনোভাব নিয়ে বড় হয়ে উঠেছে। তবে মেয়েটা তার মার কাছ থেকে যে সমস্ত গুণ আর আকৃতি হুবহু পেয়েছে সে চেষ্টা করে সেগুলো না দেখে ভুলে থাকত।
‘কবি ও কবিতার বিষয়ে তোমাকে বেশ সিরিয়াস মনে হচ্ছে।’
জামিলা বারান্দায় ঢোকার মুখেই দাঁড়িয়েছিল। সে বাবার দিকে চেয়ে বেশ শব্দ করে বলল, ‘কবি!’
সে জামিলার দিকে তার হাতটা একটু নাড়িয়ে আবার বাছিনার দিকে ফিরে তাকাল। বাছিনার চোখে মুখে কেমন একটা অসন্তুষ্টির ছাপ।
‘তুমি বেশ হাল্কা পাতলা কিন্তু তোমার বোন তুলনামূলকভাবে খুব মোটা। তোমরা দুজন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কি খাও?’
জামিলা আবার চিৎকার করে বলল, ‘বাছিনা শুধু খায়।’
উম্মে মুহাম্মদ জয়নাব তখন আসল আর জামিলাকে সাথে করে নিয়ে চলে গেল।
‘মা ভালো নেই। অসুস্থ।’ বাছিনা বলল।
‘তোমার মা ভালো আছে। তাকে নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমাকে তোমার বিষয়ে কিছু বলো।’
‘আমার বিষয়ে খুব বেশি বলার মতো কিছু নেই। কিন্তু আমি মাকে নিয়ে চিন্তিত। মা সুস্থ নেই।’
ঘরের ভেতর একজন দুষ্ট শিকারি সব সময় পেছন পেছন তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। অথচ তুমি আর বাছিনা কবিতা, গণিত, বিজ্ঞান, রসায়ন ছাড়া আর কোনো বিষয়ের প্রতিই তেমন আগ্রহী নও, উৎকণ্ঠিত নও।
একাকি স্রষ্টাই কি শুধু তোমার প্রেমের আধার।
বাছিনা বলল, ‘তুমি মার বিষয়ে কথা বলতে পছন্দ করো না। কিন্তু কেন?’
‘সে কখনোই আমার অসুস্থতাটা বুঝতে চায়নি।’
মেয়ে আর বাপ এক পলকের জন্য চোখে চোখে তাকাল। তারপর সে মেয়ের চোখ থেকে নিজের চোখটা ফিরিয়ে নিয়ে নিচে অনেক দূরে বয়ে যাওয়া নীল নদের দিকে তাকিয়ে থাকল।
‘কিন্তু বাবা ডাক্তার….’
সে খুব মোলায়েমভাবে মেয়েকে কথার মাঝখানে বাধা দিল।
‘আমিই চিকিৎসক। আর কেউ না।’
‘বাবা আমি দুঃখিত। কিন্তু তুমি আমাকে বলেছিলে তোমার সাথে যেন খোলামেলা কথা বলি।
‘অবশ্যই।’
তার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই হঠাৎ করে একটা গলার স্বর শোনা গেল। ‘অবশ্যই!’
কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে সে মেয়ের হাতটা চেপে ধরল। এই সময় উম্মে মুহাম্মদ জয়নাবকে এক পলকের জন্য দেখা গেল। সে এসেই আবার চলে গেল।
‘আমরা কি তোমাকে খুব বেশি বিরক্ত করছি বাবা।’
‘আল্লাহ ক্ষমা করুক। কিন্তু মানুষ যখন নিজেই নিজের কাছে খুব সংকীৰ্ণ হয়ে পড়ে তখনই পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করে।’
‘মা কষ্ট পেয়ে অনেক কান্নাকাটি করেছে।’
‘তোমার উচিত তার ভুল বোঝাবুঝিগুলো ঠিক করে দেয়া।’
বাছিনা তার হাতের ব্রেসলেটটা নাড়াচাড়া করে খেলতে খেলতে বলল, ‘কিন্তু তুমি ইদানীং মায়ের সাথে একটু অন্যরকম আচরণ করছ। তুমি তার সাথে বেশ রুক্ষ্ম স্বরে কথা বলেছ।’
‘সে তোমাকে এই কথা বলেছে?’
‘সেতো এক মাত্র আমার কাছেই তার অভিযোগগুলো করে থাকে।’
ওমর বেশ হতাশ হয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘তুমি কি বুঝতে পারছ এটা এক ধরনের ক্ষোভ।’
বাছিনা বলল, ‘মা যেভাবেই হোক তোমাকে সাহায্য করতে চাইছে।’
‘এখানে তার করার কিছুই নেই।
বাছিনা একটা মুহূর্ত ইতস্তত করে বলল, ‘কিন্তু মাতো সব সময়ই তোমাকে নিয়ে চিন্তা করে…। যাই হোক আমাদের উচিত হবে এখন তোমার নতুন কাব্য ভাবনা নিয়ে কিছু বলার।’
‘এখানে আর বলার মতো নতুন কিছু নেই।’
‘তোমার বান্ধবী নিশ্চয়ই তোমাকে এই বিষয়ে প্রেরণা দিচ্ছে।’
‘হতে পারে সে ভাবছে… তুমি জানো সেটা।’
‘সে হয়তো তোমাকে হাস্যকর আর কাল্পনিক কোনো ভীতির মধ্যে রেখেছে।’
‘এটা আমাকেও খুব চিন্তায় ফেলেছে।’ওমর বলল। সে লাইটার দিয়ে একটা সিগারেট জ্বালিয়ে বলল, ‘হাস্যকর কল্পনা।’
বাছিনা একটু উৎকণ্ঠার সুরে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘বাবা আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। তুমি সব সময়ই আমার কাছে সত্যের প্রতীক হয়ে আছ। এগুলি কি আমার সত্য ভাবনা নয়?’
সে ঘরের একটা কোণায় ঘুরে গেল। তারপর মেয়েকে বলল, ‘তোমার মা তোমাকে খুব দুঃশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে বুঝতে পারছি।’
‘তার আগে তুমি বলো আমার ভাবনাগুলো কি শুধুই অলীক কল্পনা।’
ওমর মেয়ের দিকে একটু উপেক্ষার চোখে তাকাল। কিন্তু বাছিনা সেই দৃষ্টিকে পাত্তা দিল না। সে নিচে বয়ে চলা নীল নদের দিকে তাকিয়ে তারপর আবার বাবাকে জিজ্ঞেস করল, বাবা এখানে তোমার এই সমস্যার মাঝে অন্য কোনো মেয়েলোক আছে?’
‘একজন মানুষ!’ তার মুখ থেকে ছোট্ট করে শব্দটা বের হয়ে আসল।
সে মেয়েকে কাছে টেনে কোলে এনে বসাল। পিতৃসুলভভাবে মেয়ের সাথে একটু ঠাট্টা করার চেষ্টা করল। তার এই বিচ্ছু মেয়েটার সাথে এখন এইভাবেই আচরণ করতে হবে। কিন্তু বাছিনা সেটাকে পাত্তা না দিয়ে আবার জিজ্ঞেস করল, ‘বাবা আমি একটা উত্তর চাই। তুমি আমার কথার উত্তর দাও।’
‘তোমার বাবার বিষয়ে কি ধারণা তোমার?’
‘আমি তো বলেছি আমি তোমাকে বিশ্বাস করি। আমার জীবনের শপথ আমি সেটা করি।’
ওমর বেশ বিষণ্ণ হয়ে বলল, ‘তেমন কিছু হয়নি। চিন্তা করো না।’
বাবার উত্তর শুনে বাছিনার চোখে মুখে আনন্দ ঝিলিক দিয়ে উঠল। কিন্তু তার বুকটা কাঁপতে লাগল। বিজয়ী হওয়ার আনন্দে বুকের ভেতরে একটা প্রশান্তিতে বাছিনার চোখদুটি চকমক করে উঠল। বাইরের পৃথিবীর বাতাসে তখন শরৎ ভেসে বেড়াচ্ছে। হলুদের একটা আভা গাছের মাথার উপর দেখা যাচ্ছে। ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের প্রতিচ্ছবি ধুসর পানিতে প্রতিফলিত হচ্ছিল। শূন্যস্থানগুলো নিরব আর বিষণ্ন সুর দিয়ে পরিপূর্ণ হচ্ছিল। ক্লান্তিকর প্রশ্নগুলো খুঁজে বেড়াচ্ছে কঠিন কোনো উত্তর। তার মিথ্যাগুলো তাকে আরো বেশি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।
ওমরের হতাশা আর মানসিকতার সংকীর্ণতার সর্বশেষ প্রান্তে একদিন সে মোস্তফার অফিসে হাজির হল। দীর্ঘক্ষণ ব্যর্থ আলোচনার পর মোস্তফা বলল, আমি এত দিন তোমাকে সঙ্গ দিলাম তোমার সাথে চললাম শুধু তোমাকে বোঝাতে যে এই সমস্ত কাজে কোনো ফলাফল নেই। এইগুলো হলো নিস্ফলা কাজ। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে তুমি এর মধ্যে ডুবে গেছ।’
ওমর একটু দীর্ঘশ্বাস ফেলে মোস্তফার দিকে তাকিয়ে বলল, ‘তুমি জানো না আমি এমন এক শৈল্পিক সময়ে বাস করছি যেটা আমি সব সময় তৈরী করতে চেয়েছি।’
মোস্তফা তার লেখার কাজটা শেষ করে সেটাকে ছাপাখানায় মুদ্রণের জন্য পাঠিয়ে দিল। তারপর বলল, ‘তুমি যেই সমস্যাটা দীর্ঘ দিন ধরে অনুভব করছ এটা নিয়ে আমি সব সময় ভেবেছি। আমার মনে হয় এটা তোমার গোপন অদমনীয় শিল্প আর সৃজনশীল তাড়নার ফল।’
সে মোস্তফার কথাটা মাথা ঝাঁকিয়ে উড়িয়ে দিল। তারপর বলল, ‘না এটা শিল্প নয়। বরং এটা আমরা যে বিষয়টা অন্বেষণ করার জন্য শিল্পের প্রতি ঝুঁকে পড়ি তার ফল হতে পারে।’
তার কথা শুনে মোস্তফা এক মুহূর্ত থেমে বলল, ‘আমরা যদি কোনো বিজ্ঞানী হতাম আর অঙ্কের একটা সমাধানের জন্য বিশটা বছর পার করে দিতাম তাহলেও হতাশা আর দুর্বিপাক আমাদের আচ্ছন্ন করত।’
কিন্তু তার কথা শুনে ওমর আবারো মাথা নেড়ে বলল, ‘আমার দুর্ভাগ্য হয়তো এই জন্য যে আমি কোনো বৈজ্ঞানিক যোগ্যতা বা পদ্ধতি ছাড়াই একটা অঙ্কের সমাধান খুঁজছি।’
তার কথা শুনে মোস্তফা হাসতে হাসতে বলল, ‘এই জন্যই আমাদের সময় আমরা কোনো প্রত্যাদেশ পাইনি। আর তোমার মতো লোকগুলো শুধু সাহায্য প্রার্থনার জন্যই যেতে পারে।’
দিন রাত শুধু লক্ষ্যহীন পড়াশুনা, নিস্ফলা কবিতা, প্রকৃতি পূজারীর প্রার্থনা আর নাইট ক্লাবে হৈ হুল্লোড়ের মাঝে আশ্রয় খুঁজে বেড়ানো, সাহায্য প্রার্থনা করা।
মোস্তফা জয়নাবের বিষয়ে তার সাথে কথা বলল। জয়নাব মানসিকভাবে খুব বিপর্যস্ত অবস্থায় আছে। আবার সে এর মধ্যে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। সে সত্যিকার অর্থেই খুব বাজে অবস্থায় আছে।
মোস্তফার কথা শুনে তোমার মনের চাপ আরো বেড়ে গেল। তোমার কাছে মনে হল এই মহিলাটা তোমাদের মৃত ভালবাসা থেকে তোমাকে মুক্তি দিতে পারে।
‘হ্যাঁ জয়নাব আরেকজন মহিলা যাকে তুমি চেনার চেষ্টা করছ।’
অস্বস্তি আর একধরনের বাজে বিরক্তিভাব তোমার মনের মধ্যে গাছপালার শাখার মতো ছড়িয়ে পড়ছে। তোমার আত্মাটা যেন একটা অশুভ কলসের মধ্যে সিল মেরে দেয়া হয়েছে। তোমার হৃদয়টা যেন উদাসীনতা আর নোংরা ধোঁয়ার আস্তরণে দম বন্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে।
অনাসক্তিতা সব কিছুকেই ধ্বংস করে ফেলে। কখনো কখনো কিছু প্রশ্ন জীবনের ভিতকে কাঁপিয়ে দেয়।
‘আমি তাকে বলেছিলাম, ‘ধরুন আগামীকাল আপনারা আইনি লড়াইয়ে জিতে গেলেন আর সরকার আপনাদের জমিটার দখল নিয়ে নিল।’ তখন তার উত্তরে লোকটা বলল, ‘আমাদের ভাগ্য নিয়ে খোদা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন এটা জেনেও কি আমরা সামনে এগুচ্ছি না?’
ওমর একদিন তার অফিসে বসে একটা স্মারকের উপর চোখ বুলিয়ে বৃথাই সময় পার করছিল। তখন অফিসের ছেলেটা বলল মি. ইয়াযবেক এসেছে।
লোকটা হেঁটে তার সামনে আসল, মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানিয়ে বসে পড়ল। তারপর বলল, ‘আল আযহার স্কয়ার পার হওয়ার সময় মনে হলো আপনাকে একটু দেখে যাই।’
ওমর তার দিকে তাকিয়ে একটু ঠাট্টাচ্ছলে হেসে বলল, ‘আপনি অনেক দূর পৃথিবী থেকে শুধুমাত্র ওয়ারদার সন্ধানের জন্যই আমার কাছে এসেছেন। আমি কি ভুল বললাম?’
‘মাননীয় আপনিতো জানেন আমার বাগানটা অনেক অনেক ওয়ারদা (গোলপ ফুল) দিয়ে পরিপূর্ণ।’
‘খুব ভালো কথা। তাহলে ওয়ারদার বিষয়ে কোনো কথা বলবেন না।’ সে কথা শেষ করে ইয়াযবেকের দিকে একটু হেসে আবার বলল, ‘আমি আপনাকে প্যাচে ফেলে দেব বা পরাজিত করব এটা চিন্তা করাটা বোকামি হবে। তার চেয়ে ভালো আসুন আপনার আর আমার মাঝে যে দূরত্ব তৈরী হয়েছে সেটাকে ঘুচাতে চেষ্টা করি।’
‘জি মহামান্য?’ ইয়াযবেক কিছু না বোঝার মতো করে বলল।
ওমরের চোখ দুটি সরু হয়ে আসল। সে খুব গুরুত্বের সাথেই বলল, ‘ওয়ারদাকে তার দায়িত্ব ঠিক মতো পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। নাচ ছাড়া কি তার আর কোনো দায়িত্ব আছে?’
‘মহামান্য সে রাতে আপনি আমাদেরকে নাচ দেখা বা সেবা করার তেমন কোনো সুযোগই দেননি।’
‘তাহলে?’
‘তাহলে আমি নিজেই বড় মানুষটার কাছে তার ব্যাপারে অভিযোগ করতে পারি।’ ওমর একটু ভ্রূকুটি করে তার দিকে তাকিয়ে থাকল কিন্তু কিছু বলল না। কিন্তু ইয়াযবেক কথা বলে যেতে লাগল।
‘ব্যবসা ব্যবসাই স্যার। এখানে আমি পছন্দ করি না কোনো ধরনের… ‘
ওমর বেশ দৃঢ়ভাবেই তার কথার মধ্যে বাধা দিয়ে বলল, ‘আপনার যা ইচ্ছা আপনি করতে পারেন।’
‘স্যার আমি আপনাকে রাগাতে চাইনি।’
‘কিন্তু আমি আপনাকে তার আগেই ক্ষমা করে দিলাম।’
ইয়াযবেক কৃতজ্ঞতায় তার মাথাটা আরেকবার নুইয়ে বলল, ‘স্যার আমি প্ৰতিজ্ঞা করছি ভবিষ্যতে আপনার কাছে তার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলেও আমি ওয়ারদাকে আবার তার কাজে ফিরিয়ে নিয়ে আসব।’
‘মি. ইয়াযবেক ঐ দিনটা আর কখনোই আসবে না।’
‘আমি আপনার সুখী জীবন কামনা করছি স্যার।
ইয়াযবেক চলে যাওয়ার জন্য যেই উঠে দাঁড়িয়েছে তখন হঠাৎ করেই ওমর তাকে তীব্রভাবে প্রশ্ন করল।
‘মি. ইয়াযবেক আমাকে বলুন জীবন আপনার কাছে কী অর্থ নিয়ে এসেছে?
ইয়াযকে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে তার চোখ দুটি বড় করে ফেলল। তারপর ওমরের প্রশ্নের গুরুত্বটা বোঝার চেষ্টা করে বলল, ‘জীবনতো জীবনই ..’
‘আপনি কি সুখী?’
‘প্রশংসা আল্লাহর। ব্যবসা কখনো কখনো খুব ধীর গতিতে চলে। আবার কখনো কখনো অহেতুক প্রেমঘটিত সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ায়। যেমন ওয়ারদা। কিন্তু সব কিছুই চলতে থাকে।’
‘তাহলে খোদা আপনার ভাগ্য নিয়ে যাই করুক না কেন সেটা জেনেই আপনি জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।’
‘অবশ্যই এটাকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। কিন্তু আমার খুব সুন্দর একটা ঘর আছে, ভালো একটা স্ত্রী আছে। একটা ছেলে আছে যে সুইজারল্যান্ডে রসায়নে উচ্চতর পড়াশোনা করছে। সেখানেই সে স্থায়ী হয়ে যাবে।’
ওমর তার কথা শুনে হাসল। তারপর বলল, ‘আপনি কি আল্লা খোদাতে বিশ্বাস করেন?’
ইয়াযবেক অবাক হয়ে উত্তর দিল।
‘স্বাভাবিক। এটা আবার কেমন ধরনের প্রশ্ন।’
‘তাহলে আমাকে বলুন সে কেমন?’
ইয়াযবেক তার এই ধরনের উদ্ভট কথা শুনে হাসতে লাগল।
‘মনে হচ্ছে ওয়ারদার প্রতি আপনার মোহটা এখনো কাটেনি।’
‘অবশ্যই।’
‘এটাকে দূর করা সম্ভব না .. ..?’
কিন্তু ওমর তার কথার মাঝখানে বাধা দিয়ে বলল, ‘আমি আপনার কাছে প্রতিজ্ঞা করছি আপনি যদি বলতে পারেন স্রষ্টা কি তাহলে আমি আপনার ওয়ারদাকে আবার আপনার কাছে ফিরিয়ে দেব।
ইয়াযবেক উঠে দাঁড়াল। একাধিকবার মাথাটা নুইয়ে অভিবাদন জানিয়ে বের হওয়ার সময় বলল, ‘আমি সব সময় আপনার সেবায় আছি স্যার।’
