ভিখারি – ১৭

সতেরো

সকালটা ছিল নির্বাক।

নীলনদের তীর, কিংবা বারান্দা এমনকি মরুভূমিতেও সকালটা ছিল চুপচাপ নিরব। ভাঙা ভাঙা স্মৃতিগুলো প্রত্যক্ষদর্শীর মতো ঘুরে ফিরে কথা বলছে। লক্ষ্যহীনভাবে আকাশের দিকে তাকানো, অন্তরের পোড়া যন্ত্রণা আর এর চিৎকার শোনা, আশাহীনভাবে আকাশের বুকে চাপড়ানো ছাড়া আর কিছুই ছিল না।

ঠাট্টাচ্ছলে কবিতা, মার্গারেটের সোনালী চুল, ওয়ারদার বাদামি চোখ আর জয়নাবের চার্চ ছেড়ে বেরিয়ে আসা এই সমস্ত ভাঙা স্মৃতি অস্পষ্ট ভূতের ছায়ার মতো মাথার ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছিল। মোস্তফা হাসছিল একটা কিছু নির্দেশ করে। আর ওসমান যেন হাজির হয়েছে নাস্তিবাদীর প্রচারক হিসেবে।

আমি কথা বলেছি ঘরের চেয়ারের সাথে, দেয়ালের সাথে, নক্ষত্র এবং অন্ধকারের সাথে। আমি শূন্যের সাথে তর্কবিতর্ক করেছি, আমি এমন কিছুর সাথে প্রেম করেছি যার আসলে কোনো অস্তিত্ব নেই। আর সবশেষে আমি আনন্দ খুঁজে পেলাম আমার সম্পূর্ণ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার মধ্যে। যে নিয়ম দিয়ে পৃথিবী চলে এমনকি সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত সব কিছুই ব্যর্থ হয়ে গেছে। এর পরে আমি কিভাবে অফিসের ফাইল নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে পারি, অথবা ঘরের খরচপাতি নিয়ে আলোচনা করতে পারি, ভাবতে পারি 1

আমি আমার ঘরের চার দেয়ালকে বলেছিলাম কি ভুলটাই করেছি এই বিরতি চুক্তি করে আর বাড়িতে ফিরে এসে।

আমি আমার বেড়ালটাকে বলেছি যে আমার পা চাটছিল, শোনো তোমার কথাই আমার আদেশের মতো। আমি আবেগে আর অনুভূতিপূর্ণ এই অস্থায়ী শরণার্থী আবাস ছেড়ে যাব যেটা সব সময় আমাকে বিরক্ত করছে আর বাধা দিচ্ছে।

কোন শান্তি নেই যদি না পিরামিডের চূড়ায় দাঁড়িয়ে নাচানাচি করা যায়, কিংবা অনেক উঁচুতে ঝুলন্ত কোনো ব্রিজ থেকে লাফিয়ে নীল নদের একেবারে গভীরে পড়ে যাওয়া যায় রোম আগুনে পুড়ে গিয়েছিল তার প্রবল প্রেমানুভূতির কারণে। নিরোর জন্য নয়।

এভাবেই পৃথিবী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে আর আগ্নেয়গিরির লাভা বিদীর্ণ হয়ে ফেটে বের হচ্ছে।

ওয়ারদা একবার ফোন করে টেলিফোনে বলল, ‘আমি অবাক হয়ে ভাবছি তুমি আমার গলার স্বরটা ভুলে গেছ।’

সে অনীহার সাথে বলল, ‘হ্যালো ওয়ারদা।’

‘তুমি কি বছরে একবারের জন্য হলেও আমাদের দেখতে আসবে না?’

‘না। কিন্তু তুমি যখনই প্রয়োজন মনে করবে আমি তখনই তোমার সেবায় প্রস্তুত।’

‘আমি কিন্তু তোমার সাথে হৃদয়ের গভীর থেকে কথা বলছি।’

‘হৃদয়। ওটাতো একটা পাম্প যন্ত্র।’

উদ্বেগ আর বিষণ্ণতা থেকে মুক্তি পেল দ্রুতগতিতে কায়রোর রাস্তাগুলোতে তার ক্যাডিলাক গাড়িটা চালিয়ে কিংবা ফাইউম, তানতা অথবা আলেকজান্দ্রিয়ায়।

প্রায় সময়ই সে সকালে কায়রো থেকে বের হয়ে যায় সারা রাত ঘুরেফিরে আসে তার পরের দিন। ঘুরতে ঘুরতে সে কখনো কোনো দোকানে সুরা পানের জন্য ঢুকে পড়ে, অথবা কারো জানাযায় গিয়ে অংশগ্রহণ করে যাকে সে চেনে না কিংবা সেও তাদের চেনে না। শেষ রাতের দিকে যখন ঘুমে সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন নিজের গাড়িতেই ঘুমিয়ে যায় কিংবা নীল নদের তীরে শুয়ে পড়ে। সকাল পর্যন্ত ঘুমায়।

একদিন সে অফিসে ফিরে দেখে ওসমান খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে।

অফিসের একজন তাকে জিজ্ঞেস করল, ‘এই কয়দিন আপনি কোথায় ছিলেন?’

ওমর তাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলল, ‘এমন জায়াগায় ছিলাম যার কোনো সীমা নেই।’

‘আপনি অনেক ক্লান্ত। আমি অবাক হচ্ছি ভেবে যে আপনার কি হয়েছে।’

তার যন্ত্রণাপীড়িত মাথা তাকে নিজের উদ্বেগ আর সচেতনতা, ভয় থেকে মুক্ত করেছে। এমনকি ওসমান মুখোমুখি বসে আছে তাতেও কিছু মনে হচ্ছে না।

সে বলল, ‘আমি ভাবছি কোনো পারমাণবিক বোমা ধ্বংস করে ফেলব। যদি ব্যর্থ হই তাহলে অন্তত আত্মহত্যা করব।’

ওসমান হাসল।

‘কিন্তু তোমার অফিসের কি হবে?’

‘তুমিতো আমার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে আছ আমাকে বোঝার জন্য।’

‘আমাকে বলো তুমি কি পরিকল্পনা করছ।’

সে বলল, ‘যা আমি এর আগে করি নাই এখনই সময় কিছু একটা করার। আর সেটা হলো কোনো কিছুই না করা।

‘তুমি নিশ্চই ঠাট্টা করছ।’

‘আমি কখনোই খুব বেশি সিরিয়াস ছিলাম না।’

ওমরের এই ধরনের মনোভঙ্গি দেখে ওসমান তার গলার স্বর পাল্টে বলল, ‘তুমি কি তোমার ডাক্তারের সাথে কথা বলেছ?’

‘আমি কখনোই কারো সাথে কথা বলিনি এমন বিষয় নিয়ে যে বিষয়ে সে অজ্ঞ।’

ঘরের ভেতর জমাট একটা নিরবতা নেমে এল।

‘হ্যাঁ  আইনপেশা করতে এসে কি তোমার শ্রম নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে?’ ওমর চূড়ান্ত ভাবে জিজ্ঞেস করল।

‘হ্যাঁ। কিন্তু আমি চিন্তাভাবনা করা বন্ধ করিনি।’

‘তাহলে তুমিও দেশের নিরাপত্তায় আবার উদ্বেগের কারণ হবে।’

ওসমান হাসল। ‘আমি দাবি করব না যে এটা ভালো।’

সত্যিকার অর্থেই তার আশেপাশে যা হচ্ছিল সেগুলো চুপচাপ শ্রবণ করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠছিল। তাকে সব ছেড়ে দিতে হবে। তার স্নায়ু ছিল খুব উত্তেজিত। সে নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। তাই সে একদিন জয়নাবকে বলল যে সে তার সমস্ত সহায় সম্পত্তির পুরো ক্ষমতা জয়নাবকে দিতে চায়। অফিসের দায়িত্ব থেকে সে মুক্তি চায়। সে তার কাঁধ থেকে পৃথিবীর সমস্ত বোঝা নামিয়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর ছিল। জয়নাব তার এই আচরণকে একটা অসুখ বলে ধরে নিল। যদিও সে কিছুই বুঝছিল না। এমন কোনো মহিলা ছিল না যে ওমরকে বিশ্বাস করতে পারে।

জয়নাব তাকে কাকুতিমিনতি করে বলেছিল, ‘ঠিক আছে আমরা তোমাকে একা থাকতে দেব। যদি তোমার কাজ করতে না ভালো লাগে তাহলে সেটা ছেড়ে দাও। যদি তোমার সৃজনশীল কাজ করতে ইচ্ছা জাগে তাহলে সেটা করো। কিন্তু আমাদের ছেড়ে যেও না। তোমার ছেলে মেয়ের দোহাই।’

তার কথাগুলো ওমরকে বেশ প্রভাব ফেলল। কিন্তু সে বলল ‘অপরিহার্য ভাগ্যের মতো এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার কোনো উপায় নেই।’

কথা শেষ হওয়ার পর জয়নাব বলল, ‘মোস্তফা আমার সাথে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেছে। অমি খুব দুঃখ পেয়েছি যে তুমি আমাদের কাছে যেটা লুকিয়েছ সেটা অনায়াসে মোস্তফার কাছে প্রকাশ করেছ। তোমার বর্তমান এই অবস্থায় তোমাকে দোষ দেয়া যাবে না। তোমার এই আত্মঅনুসন্ধান বিষয়টা আমি বুঝতে পারছি না। সে জন্য আমাকে ক্ষমা করো। আমি বুঝতে পারছি না এর সাথে কিভাবে তোমার অফিস, পরিবার, ভবিষ্যৎ সব কিছু ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারটা জড়িত হল। তুমি তোমার ডাক্তারের সাথে আবার কেন সাক্ষাৎ করছ না?’

‘এই জন্যই আমি তোমার সাথে খোলামেলা কথা বলতে পারি না।’

‘কিন্তু তোমার এই অসুস্থতাটাতো কোনো লজ্জার কিছু না।’

‘তুমি আমাকে পাগল মনে করছ।’

জয়নাব কাঁদতে শুরু করল। কিন্তু সে খুব শান্তভাবেই আবার বলল, ‘আমি যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি সেটাই আমাদের সবার জন্য মঙ্গল।’

জয়নাব বলল, ‘ঠিক আছে তুমি যেখানে ইচ্ছা যাও। কিন্তু তোমার মানসিক আর শারীরিক সুস্থতার পর আবার ফিরে এসো।

‘আমার মনে হয় আমাদের দুজনার মাঝে একটা স্থায়ী বিরতি করাটা সবচেয়ে ভালো হবে।’

এ কথা শুনে জয়নাব আবার কাঁদতে শুরু করল। কিন্তু ওমর বলল, ‘আমি যদি তেমন কিছু না করি তাহলে হয় আমি পাগল হয়ে যাব না হয় আত্মহত্যা করব।’

জয়নাব দাঁড়িয়ে গেল। তারপর বলল, ‘বাছিনা এখন কচি খুকি নয়। তোমার উচিত তার কথা শোনা।’

ওমর চিৎকার করে বলল, ‘আহ! আমার যন্ত্রণা আর বাড়িও না।’

সে কল্পনা করতে পারছে যে তার অসুস্থতা আর মানসিক সুস্থতা নিয়ে কি কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এর তেমন কোনো গুরুত্ব নেই। হতে পারে এর চিকিৎসা সম্ভব।

সে প্রাণীর সাথে কথা বলেছে, তার চারপাশে যেসব বস্তু আছে তাদের সাথে কথা বলেছে। কখনো কখনো সে যখন দ্রুতগতিতে গাড়ি চালিয়েছে তখন বাইরের পৃথিবীটা তার কাছে অনেকগুলো খণ্ডখণ্ড অংশ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, মনে হচ্ছে অণু পরমাণুতে ভাগ হয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীনভাবে সে তখন কেঁপে কেঁপে উঠেছে। তাকে থামতে হয়েছে। আবার কখনো কখনো সে যখন নীল নদের তীর ধরে হেঁটেছে, কিংবা কোনো গাছের নিচে বসেছে তখন তার কাছে মনে হয়েছে এরা জীবিত হয়ে উঠছে। এরা একটা একটা প্রতিকৃতি হয়ে তাদের সাথে তুলনা করে তার নিজের অস্তিত্বের ব্যাপারে প্রশ্ন করছে। এইসব কিছু আসলে কিসের নির্দেশ দিচ্ছে?’

তার কাজ, পরিবার, বন্ধু সব কিছু ছেড়ে আসতে হয়েছে কেন?

তাকে সতর্ক হতে হবে আরো নয়তো সে কোনোদিন দেখবে নিজেকে মানসিক হাসপাতালে পড়ে আছে।

মোস্তফা আর ওসমান তাকে একদিন দেখতে আসল। সে বুঝতে পারল জয়নাব তাদের আসতে বলেছে। মোস্তফার প্রাণবন্ত হাসি তার উদ্বেগ কমাতে পারল না। ওমর নিজে তাদেরকে বিড়বিড় করে অভিবাদন জানালো। যখন হুইস্কি আসল তখন ওমর বন্ধুদের সম্মানে একটুখানি পান করল। তারা একটু অস্বস্তির সাথে ওমরের দিকে তাকাল। ভেতরে ওমরকে নিয়ে যে উদ্বেগটা ছিল সেটাকে ঢেকে রাখতে পারল না।

জয়নাব তাদেরকে অভিবাদন জানানোর জন্য এক মুহূর্তের জন্য হাজির হলো। কিন্তু সাথে সাথেই চলে যাওয়ার সময় আবার বলল, ‘আমরা খুব সুখী পরিবার ছিলাম। এই লোকটাও খুব ভালো মানুষ ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই কি থেকে কি হয়ে গেল।

জয়নাব এমনভাবে কথাগুলো বলছিল যে লুকানোর মতো কিছু ছিল না। ‘যা শুনেছি এগুলো কি আসলেই সত্যি।’ মোস্তফা জিজ্ঞেস করল।

সে কোনো উত্তর দিল না। কিন্তু তার চুপ থাকার মনোভঙ্গি থেকেই বিষয়টার সত্যতা বোঝা যাচ্ছিল।

‘তাহলে তুমি চলে যাচ্ছ।’

‘হ্যাঁ।’ সে খুব তীব্রভাবে বলল।

‘কোথায়?’

‘কোথাও হয়তোবা।’

‘কিন্তু কোথায়?’

ওমর চুপ থাকল। কোনো জায়গার যদি উদ্দেশ্যহীন কোনো সীমানা না থাকে তাহলে সেটা তো হলো কয়েদখানা।

মোস্তফা বোকার মতো অর্থহীন কিছু কথা বলে ফেলল।

‘এখন আমাদেরকে একটা জঞ্জালের সিন্দুকের মধ্যে নিক্ষেপিত হতে হবে।’

সে মুখ ফিরিয়ে বলল, ‘গতকাল বাছিনা কান্নাকাটি করেছিল। কিন্তু সে এই উত্তরটাই শুনেছিল।’

মোস্তফা ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘তাহলে তোমার সাথে আমাদের বন্ধুত্ব কি শেষ হয়ে যাচ্ছে?’

‘এটা হলো পৃথিবীর সব কিছুর সাথে আমার সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়া।’

‘তাহলেতো হৃদয় আর আত্মা দিয়ে তোমার জন্য আমাদের শোক করতে হবে।’

‘আমি যে যন্ত্রণায় আছি সেটা আরো কঠিন।’

মোস্তফা জিজ্ঞেস করল, ‘এটা কোন উদ্দেশ্যে?

সে বিরক্ত হয়ে বলল, ‘মাথা ঠুকে পাহাড় ভাঙার জন্যে।’

ওসমান বলল, ‘আমিতো কিছুই বুঝতে পারছি না।’

মোস্তফা বলল, ‘যাই ঘটুক না কেন তুমি আমাদের সাথে থাকতে পারো।’

‘আমি অবশ্যই যাব।’

ওসমান ওমরের দিকে পলকহীন তাকিয়ে থেকে বলল, ‘তুমি কি ডাক্তারের সাথে কথা বলোনি?

সে বিরক্ত হয়ে বেশ তীব্রভাবে বলল, ‘আমার কারো প্রয়োজন নেই।’

‘তুমি একটা ভালো অবস্থানে আছো কোনো কিছুর জন্য এটা নষ্ট করা ঠিক হবে না।’

‘আসল কথা হলো আমি এখন কিছুই না।’

‘মানুষের মাঝে থেকে একজন মানুষ ভালোভাবে চিন্তা করতে পারে না।’

‘আমি কোনো কিছুই ভাবতে চাই না।’

‘তাহলে তুমি কি করবে?’

সে বিরক্ত হয়ে বলল, ‘আমরা একে অপরকে কিছুতেই বুঝতে পারি না।’

‘কিন্তু আমি নিশ্চিত তুমি ধ্বংস হওয়ার জন্য ঝাপ দিচ্ছ।’

হতে পারে তুমি নিজেই তোমাকে ধ্বংসের দিকে ফেলে দিচ্ছ।’

‘ঠিক আছে ধ্বংসটাই যখন অপরিহার্য তখন ভালো হয় আমরা এক সাথেই সেদিকে আগাই।’

সে বেশ বিতৃষ্ণায় বলল, ‘আমি কিছুতেই পিছনে তাকাতে চাই না।’

‘যখন তুমি আসলে কোনো কিছুর জন্যই ছুটে বেড়াচ্ছ না।’

আহ মরুভূমিতে সকালের সেই অপূর্ব আনন্দ কি কিছুই না? তাহলে সত্য কি কোনো শূন্যের মাঝেই মিলিয়ে আছে। এই যন্ত্রণা কবে শেষ হবে?’

ওসমান বলল, ‘ভেবে দেখ পৃথিবীর সমস্ত বুদ্ধিমান জ্ঞানী লোকেরা যদি তোমার অনুসরণ করা শুরু করে তখন কি হবে?’

বুদ্ধিমান লোকদেরকে এই পৃথিবীসহ তাদের নিজেদের বিষয়ে ভাবতে দাও।’

‘কিন্তু তুমিওতো তাদের একজন।’

ওমর হাত দিয়ে তার কপালটা মুছে নিয়ে বিরক্তির সাথে বলল, ‘আমার মাথাটা তোমার পায়ের নিচে ধরো।’

ওসমান বেশ দুঃখিত হয়ে বলল, ‘এই ধরনের আলোচনায় কোনো লাভ নেই।’

‘এটা শুধু নিস্ফলা চেষ্টা। এতে কোনো উপকার নেই। আগামীকাল তুমি আমাকে আর দেখবে না।’

মোস্তফা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘যে সমস্ত কথা বলা হয়েছে আমি তার একটা কথাও বিশ্বাস করি না।’

সে তার চোখ দুটি নিচের দিকে রেখে বলল, ‘তোমার জন্য সবচেয়ে ভালো হয় আমি যে কখনো বেঁচে ছিলাম সেটা ভুলে যাওয়া।’

মোস্তফা বলল, ‘অনেক হয়েছে। আর সহ্য করতে পারছি না।’

ওসমানের চেহারাটা রাগ আর দুঃখে কঠিন হয়ে গেল। ওমর তার চেহারায় অপরিচিত এক উদাসীনতার মুখোশ ঝুলিয়ে দিল। সে যখন তাদের দিকে তাকাল তখন সবাইকে দুটো ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের গ্রুপ মনে হল। এর সাথে সাথে একটা সংঘাত তৈরী হলো। সে তাদের প্রতি ভালবাসা টের পেল। তার পরিবারের প্রতি ভালবাসা যেটা তার অন্তরের গভীরে গিয়ে প্রোথিত হয়েছে সেটা তাকে এত বেশি যন্ত্রণা দিতে লাগল যে সে আর সহ্য করতে পারল না। কিভাবে তার অন্তর সেই যন্ত্রণাকাতর বিজয় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। কিভাবে সেই পরিপূর্ণ স্বাধীনতা পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *