অধ্যায় ৮
বেভারলি দরজা খোলার সাহস করল না, বরং জানালার ভাঙা অংশ দিয়ে উঁকি দিল বাইরে। মধ্যরাতের বৃষ্টির পর্দা ছাড়িয়ে কিছু দেখা যাচ্ছে না। গাছপালা, আগাছা আর সমাধিসৌধের ছাদে অবিরাম বৃষ্টির শব্দে ঢাকা পড়ে গেছে চরাচরের অন্য সব আওয়াজ।
ইথান নিস্তব্ধ, নেশার ঘোরে হারিয়ে গেছে। বেভারলির একটু হিংসেও হলো তাকে। কারণ ঘুম এলে স্বপ্নরা ফিরে আসে। তার আগের জীবনের স্বপ্ন। সেই মানুষটার স্বপ্ন, যার সাথে হয়তো তার বিয়ে হয়েছিল। বোইজির সেই বাড়ির, যেখানে আজীবন তার সঙ্গে থাকার ইচ্ছে ছিল। হাজারটা পরিকল্পনা ছিল। পৃথিবীতে সন্তান আনার আশা ছিল। এমনকি এখনো, মাঝে মাঝে, সেই অনাগত সন্তানদের মুখগুলোও দেখতে পায়।
কিন্তু ঘুম ভাঙলে ফিরে আসে ওয়েওয়ার্ড পাইনস।
এই সুন্দর নরক।
সে প্রথম যখন এই শহরে আসে, চারপাশের পাহাড়গুলো দেখে বিস্ময়ে, মুগ্ধতায় ভরে গিয়েছিল মন। কিন্তু এখন সে ওগুলোকে ঘৃণা করে, কারণ সে জানে ওগুলো আসলে এই মনোরম কারাগারের দেয়াল, যেখান থেকে কেউ কখনো বেরোতে পারে না। আর যারা বেরোবার চেষ্টা করেছিল…
এখনো সেসব রাত তার দুঃস্বপ্নে আসে।
একসঙ্গে বাজতে থাকা পাঁচশো ফোনের শব্দ। মানুষের চিৎকার।
না, আজ রাতে না… আজ রাতে ওসব ভাবব না।
বেভারলি তার পঞ্চো খুলে রাখল, তারপর ইথানের পাশে গিয়ে দেয়ালের সাথে ঠেস দিয়ে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পড়ল কম্বলের নিচে। ইথানের নিঃশ্বাস যখন ভারি, দীর্ঘ হয়ে এলো, বেভারলি উঠে ডাফল ব্যাগটা কাছে টেনে নিল। বাইরের একটা পকেট হাতড়ে বের করে আনল তার কাঙ্খিত জিনিসটা। একটা ছুরি—ভাঁজ করা, মরিচাধরা, ধারহীন। কিন্তু এরচেয়ে ভালো কিছুর ব্যবস্থা করতে পারেনি সে।
সে কম্বলটা সরিয়ে ইথানের হাসপাতালের গাউনটা একটু তুলে দিল। তারপর বাম পায়ের পেছনের দিকে আঙুল চালাতে লাগল যতক্ষণ না ত্বকের নিচে একটা ছোট্ট উঁচু অংশে হাত ঠেকে। একটু বেশি সময়ের জন্য তার হাতটা থমকে রইলো সেখানে। নিজেকে সে ঘৃণা করতে পারত এই দুর্বলতার জন্য, কিন্তু একমাত্র ঈশ্বর জানে কত দিন হয়ে গেল সে কোনো পুরুষকে স্পর্শ করেনি।
সে ভেবেছিল আগেই ইথানকে জানাবে, কিন্তু ওষুধের ঘোরের কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি। হয়তো সেটাই ভালো হয়েছে। ইথান ভাগ্যবান, কারণ বেভারলির ক্ষেত্রে কাজটা তার নিজেরই করতে হয়েছিল, এবং তখন কোনো অ্যানেস্থেসিয়া তার কপালে জোটেনি।
বেভারলি টর্চলাইটটা পাথরের মেঝেতে এমনভাবে রাখল যাতে আলোটা ইথানের বাম উরুর পেছনে পড়ে। জায়গাটা পুরনো ক্ষতচিহ্নে ভরা। উঁচু অংশটা দেখা যায় না, কেবল অনুভব করা যায়, তাও খুব সামান্য। যদি জানা থাকে ঠিক কোথায় খুঁজতে হবে, কেবলমাত্র তাহলেই ধরা সম্ভব। নতুবা নয়।
সে ছুরিটা খুলল। দুই ঘণ্টা আগে এটা তুলো আর অ্যালকোহলে যতটা সম্ভব জীবাণুমুক্ত করে রেখেছিল। যা করতে যাচ্ছে সেই চিন্তায় মোচড় দিয়ে উঠল পেট। প্রার্থনা করল, যন্ত্রণা যেন ইথানের ঘুম না ভাঙিয়ে দেয়।
