হৃদয়ের পদ্মবনে – ৯

৯

চিতার আগুন আকাশ ছুঁয়েছে। এখানে মরলে নাকি নিশ্চিত স্বর্গলাভ হয়। ঋজুর ছোট পিসি বারাণসীতে এসে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করেছিলেন দু’বছর। শ্মশান দেখলে তো ভয় লাগত তার। দিনের বেলা বলেই হয়তো এখন আর অতটা লাগছে না।

সোমনাথ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। অম্বালিকাকে নৌকো থেকে নামতে দেখে চোটপাট শুরু করে দিল, ‘কী করো তুমি? ফোনটা নিয়ে যাবে না? এদিকে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে গেল।’

অম্বালিকা সোমনাথের কথায় পাত্তা না দিয়ে চা-ওয়ালাকে আবার ডেকে ঋজুকে বলল, ‘চা খাবেন ঋজুবাবু?’

ঋজু মাথা নাড়ল, ‘না। আপনি খান।’

সোমনাথ হতাশ গলায় বলল, ‘দেখেছিস অবস্থা? এর মুড সুইং সামলাতে সামলাতে আমি পাগল হয়ে যাব। আজ এলাহাবাদ যাবার কথা ছিল, হল না। অ্যাডভান্সের টাকাও ফেরত দেবে না বলছে।’

অম্বালিকা বলল, ‘কী আর করা যাবে? টাকা মাটি, মাটি টাকা।’

সোমনাথ বলল, ‘আমার ক্ষেত্রে না। আমি নেতা না। গাদা গাদা টাকা খাটের তলায় থাকে না আমার। সামান্য চাকুরে। যে-কোনো সময় সে চাকরিও নট হয়ে যেতে পারে। তোমার সেটা বোঝা উচিত।’

অম্বালিকা চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, ‘বুঝি তো। কখনো তোমার কাছে কোনো কিছুর জন্য বায়না করি, দেখেছ?’

ঋজু বলল, ‘আমি বরং আসি এবার। তোরা ঝগড়া কর।’

সোমনাথ বলল, ‘সে ঠিক আছে, নৌকোয় কত টাকা লাগল বল, আমি দিয়ে দিচ্ছি।’

ঋজু মাথা নাড়ল, ‘না না, আমি ঘুরেছি। ওসব ছাড়। এখন যাই।’

সোমনাথ বলল, ‘এখানেই থাকবি তো? আজ গঙ্গারতি দেখতে আসবি সন্ধ্যায়?’

ঋজু বলল, ‘হ্যাঁ, ইচ্ছে আছে।’

অম্বালিকা বলল, ‘ঋজুবাবুর সঙ্গে তখন কথা হল। আমি বললাম বিয়ে করে নিন। নইলে এসব ঝগড়া মিস করবেন তো! দেখেছেন বউকে ফিরে পাবার পর কেমন ঝগড়া করতে হয়?’

ঋজু হাসল, ‘আমি তো সে রসে বঞ্চিত হইনি কোনোদিন। আমিও আপনাদের মতোই ঝগড়া করেছি। আমার ঝগড়া শেষ হয়ে গেছে। আর ঝগড়া করতে হয় না। আসি এবার?’

সোমনাথ বলল, ‘তুই যা ভাই। ওর কথা শুরু হলে আর শেষ হবে না।’

ঋজু হেসে ফেরার পথ ধরল। ফেরার পথে আবার সেই সাধুর সঙ্গে দেখা হল তার। তাকে দেখে আবার একইভাবে হেসে উঠলেন।

দশাশ্বমেধ ঘাটে চেয়ার পাতা হয়েছে। এখন দুপুর দেড়টা বাজে, অথচ এখনই লোকজন চেয়ার দখল করে বসতে শুরু করে দিয়েছে। এ যেন দূরপাল্লার ট্রেনে জেনারেলের সিট দখলের লড়াই। গোটা রাস্তায় কেউ বাথরুম করতে উঠলে সে সিট দখল হয়ে যাবে। একা মানুষের পক্ষে এ চেয়ার দখল করে রাখা কঠিন। দলবল নিয়ে এলে সেটা সম্ভব।

এতক্ষণ দৌড়াদৌড়ি করে ঋজুর খিদে পেয়ে গেছিল। একবার ভাবল অন্নপূর্ণা মন্দিরে গিয়ে খাবে। পরক্ষণে মনে হল, এই খিদের মুখে সে যদি মন্দির খুঁজে না পায় কিংবা সেখানে লাইন যদি খুব বেশি থাকে? খিদে পেলে তার আর মাথার ঠিক থাকে না। সে রেগে যায়। এই খিদের চোটেই সিমলায় আঁখির সঙ্গে তুমুল ঝগড়া হয়ে গেছিল।

দিল্লি থেকে গাড়ি করে সিমলা পৌঁছাতে পৌঁছাতে সেদিন বিকেল হয়ে গেছে। রাস্তায় আঁখি চিপস খেয়েছে, পপকর্ন খেয়েছে, ঋজু কিছুই খায়নি। এমনকী রাস্তাতেও কিছু খায়নি।

ছোটবেলায় বাবা-মা’র সঙ্গে গিয়ে হোটেলের ফ্রায়েড রাইস, চিলি চিকেন খেয়েছিল। তার ইচ্ছে হয়েছিল সিমলায় আঁখির সঙ্গে সে খাবার আবার খাবে। সিমলা পৌঁছে আঁখি বলে দিল তার পেট ভর্তি। ব্যস। ঋজুর সে কী রাগ! রেগে মেগে হোটেল ছেড়ে ম্যালে গিয়ে বসেছিল।

এখন মনে হচ্ছে, এই তো সেদিনের কথা! আঁখি যে এখন অন্য একজনের বউ, মাঝে-মাঝেই মাথায় থাকে না তার।

গোধূলিয়া রোডের একটা ভাতের হোটেলে ঢুকে খেয়ে নিল ঋজু। সন্ধ্যারতি যখন দেখতেই হবে, তখন দশাশ্বমেধ ঘাটের চেয়ারে গিয়ে বসতে হবে এখন থেকেই। ঘড়ি দেখে খানিকটা দমে গেল সে। এখন বাজে দুটো পনেরো। এই দীর্ঘ সময় বসে থাকতে হবে? একটু ভেবে ঘাটে পৌঁছে অবাক হয়ে গেল। প্রায় সব চেয়ার ভর্তি হয়ে গেছে।

‘এদিকে আয়, এদিকে আয়।’

সোমনাথ হাত নেড়ে ডাকছে। শ্বাস ছাড়ল ঋজু। সেই সোমনাথদের কাছেই বসতে হবে। কী আর করা, এখানে আর কোনো অপশন নেই। দল থাকলেই সিট থাকবে। সে সোমনাথের পাশের চেয়ারে গিয়ে বসল। সোমনাথ বলল, ‘হোটেল থেকেই বলল এখন চলে আসতে। কী ভাগ্যি এসেছিলাম ভাই! কী ভিড় দেখেছিস?’

ঋজু বলল, ‘হ্যাঁ, আমি যাবার আগে এত ভিড় দেখিনি। এর মধ্যেই এই ভিড় হয়ে গেল ভেবেই অবাক লাগছে।’

অম্বালিকা বলল, ‘চা খেতে হবে।’

সোমনাথ ধমক দিল, ‘আরে থামো তো, সব সময় শুধু চা। এত চা খায় কী করে লোক কে জানে। তাছাড়া এত চা খেলে বাথরুম পেয়ে যাবে। বসে থাকো।’

অম্বালিকা বলল, ‘পেলে পাবে। চা খেতে ইচ্ছে করছে যখন, তখন দেখলে ডাকো।’

সোমনাথ চুপ করে গেল। ঋজুর ঘুম পাচ্ছিল। শীতের রোদ এসে লাগছে গায়ে। এই জায়গায় ফোনে একটুও টাওয়ার পাওয়া যাচ্ছে না। অদ্ভুত তো! অনেক বাঙালি এসেছে। এক বাঙালি আরেক বাঙালির সঙ্গে তুমুল ঝগড়াও শুরু করে দিয়েছে। ঝগড়ার বিষয় ওই চেয়ার নিয়েই। একজন উঠেছিল, আরেকজন বসে পড়েছে। ভদ্রলোকের ছেলে রুমাল দিয়ে জায়গা রেখেছিল। অপরজন চেয়ারে বসেই চিৎকার করছে, ‘লোকাল ট্রেন পেয়েছেন নাকি মশাই যে রুমাল দিয়ে জায়গা রেখেছেন? আমি জানি না, আমি কিছুতেই উঠব না।’

‘আপনি উঠবেন না, আপনার বাপ উঠবে।’

‘বাপ তুলবেন না, খাল খিচে নেব।’

ঝগড়ার পারদ চড়ছে। দু’জনেরই মাথায় টিকা দেওয়া, তীর্থস্থানে এসে পার্থিব চেয়ার নিয়ে এত ঝগড়া কি এদের মানাচ্ছে?

ঋজু বোঝার চেষ্টা করল। অনেক বিষয়ই তাকে ভাবতে বাধ্য করে। কমিউনিস্ট নেতার দামি জীবনযাপন থেকে ধর্মীয় নেতার অনর্গল মিথ্যে বলার ক্ষমতা, কোনো কিছু দেখেই অবাক হয় না আজকাল। এই সময়, সমকালীন সময়ের রাজনীতি তার অবাক হবার ক্ষমতা ব্লটিং পেপারের মতো শুষে নিয়েছে।

অম্বালিকা খিলখিল করে হাসছে। সোমনাথ অপ্রস্তুত হয়ে বলল, ‘এ কী, হাসছ কেন?’

অম্বালিকা বলল, ‘পাচ্ছে হাসি, হাসছি তাই।’

লোক দুটোও ঝগড়া থামিয়ে দিয়েছে, একসঙ্গে বলে উঠল, ‘এ কী, হাসছে কেন?’

একজন দাঁত খিঁচিয়ে উঠল। সেটা দেখে অম্বালিকা হিস্টিরিয়াগ্রস্তের মতো হাসছে, অম্বালিকাকে দেখে তার ছেলে-মেয়েরাও হাসছে।

সোমনাথ গরুচোরের মতো মুখ করে বলল, ‘ঠাকুর, আমাকে তুলে নাও। এরা আমার প্রেস্টিজ গ্যামাক্সিন করে ছেড়ে দিচ্ছে।’

একটা লোক বলল, ‘অসভ্যতা, সব অসভ্যরা এসেছে। হাসার কী আছে?’

ঋজুর কী হল সে নিজেও জানে না, বলে উঠল, ‘বেশ করেছে হেসেছে। আপনাদের দেখে হাসি পেলে হাসবে না? একটা জায়গায় এসে অহেতুক ঝগড়া করে যাচ্ছেন, হাসবে না তো কী করবে?’

জায়গা দখল করা ভদ্রলোক সুযোগ বুঝে অন্য দিকে মুখ করে নিলেন। জায়গা হারানো ভদ্রলোক হাত-পা তুলে তড়পাতে শুরু করলেন, ‘সব বুঝে নেব, থানায় যাব, দরকার হলে সুপ্রিম কোর্টে যাব, আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। চল।’

ছেলেকে চেয়ার থেকে তুলে হম্বিতম্বি করতে করতে ভদ্রলোক চলে গেলেন। অম্বালিকা বিষম খেয়ে একাকার। সোমনাথ ঋজুকে বলল, ‘তোর কী হল? তুই আবার চিৎকার করতে গেলি কেন?’

ঋজু বলল, ‘ছাড় তো, ফালতু লোকজন। বাদ দে, নদী দ্যাখ, ওই দ্যাখ ওপারে উট, দেখতে পাচ্ছিস?’

সোমনাথের ছেলে চেয়ারে উঠে দাঁড়িয়েছে। বাচ্চাদের বেশিক্ষণ এক জায়গায় থাকতে ভালো লাগার কথা না। সে ছটফট করছে। সোমনাথ বলল, ‘বস বস। তোদের দাদু-দিদার কাছে হোটেলে রেখে এলেই ভালো হতো। এখানে এতক্ষণ বসে থাকবি কী করে কে জানে। দেখি, ঘুমা তো। চোখ বোজ।’

সে ছেলে কথা শোনে না। চিৎকার জুড়ল, সোমনাথ কোনোমতে বুঝিয়ে সুঝিয়ে চেয়ারে বসিয়ে বলল, ‘কোথাও যাওয়া যাবে না, বসে থাক, উঠলেই জায়গা চলে যাবে।’

অম্বালিকা বলল, ‘তোমার ফোনটা দাও। গেম খেলুক বসে বসে।’

সোমনাথ বলল, ‘না, ফোন দেবার দরকার নেই। ফোন ছাড়াই বসুক।’

অম্বালিকা বলল, ‘কেন বলো তো? তুমি কিছুতেই নিজের ফোন দিতে চাও না। কেসটা কী? এক্সট্রা-ম্যারিটাল আছে?’

সোমনাথ বলল, ‘এক্সট্রা-ম্যারিটালের কী হল? আমি চাই না আমার ছেলে-মেয়েরা এখনই ফোন দেখে চোখ খারাপ করুক।’

অম্বালিকা বলল, ‘বেশ, আমাকে দাও।’

সোমনাথ বলল, ‘আমি কাউকেই দেব না। চুপ করে বসে থাকো।’

অম্বালিকা বলল, ‘বুঝলাম, কিছু আছে। আমি জানলেই সমস্যা। চা খাওয়াও তবে।’

সোমনাথ বিরক্ত হয়ে চা-ওয়ালাকে ডাকল।

বেলা পার হচ্ছে ধীরে ধীরে, দুপুর গড়িয়ে বিকেল হল, বিকেল গড়িয়ে সন্ধে। শুরু হল সন্ধ্যারতি। যেদিকে দেখতে পাওয়া যায়, ঘাটে শুধু মাথা আর মাথা, নদীতেও নৌকোয় করে অসংখ্য মানুষ সন্ধ্যারতি দেখতে এসেছেন। এক ভদ্রলোক এসে অনেকক্ষণ ধরে শঙ্খ বাজালেন, পরমুহূর্তে শুরু হল আরতি।

সব মিটতে মিটতে সন্ধে সাতটা বেজে গেল। ভিড়ের মধ্যে সোমনাথ বাচ্চাদের সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। অম্বালিকা বলল, ‘ঋজুবাবু, আপনি আমাদের সঙ্গে চলুন, একসঙ্গে খেয়ে ফিরবেন।’

সোমনাথ মেয়েকে কোলে নিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, চল। এখনই তোকে ছাড়ব না, আমাদের হোটেলে চল। দারুণ রান্না করে ওখানে। নিরামিষ হলেও শুধু ডাল দিয়েই ভাত খেয়ে নিবি। হরিদ্বারের দাদা-বউদি হোটেলের কথা মনে করিয়ে দেবে। চল চল।’

ঋজু বলল, ‘না না, তোদের হোটেল একবারে উলটো দিক। এখন যাব না। এই ভিড়ের মধ্যে রাতে পথ হারিয়ে ফেলব তারপরে। রাতে আমি রাস্তাঘাট অত চিনতে পারি না। তোরা যা।’

অম্বালিকা বলল, ‘পথ হারিয়ে ফেলবেন কেন? আমি পৌঁছে দেব না হয়।’

সোমনাথ এমন জোর করল আর বারণ করতে পারল না ঋজু। বাধ্য হয়ে ওদের সঙ্গেই হাঁটতে শুরু করল। সোমনাথের মেয়ে বাবার কাঁধে ঘুমিয়ে পড়েছে। ছেলেটা হাঁটতে হাঁটতে বিভিন্ন প্রশ্ন করছে।

এখানে রাত নামলেই একটা প্রবল শৈত্যপ্রবাহ চলে, এই ঠান্ডাটায় অভ্যস্ত না ঋজু। কলকাতায় সেরকম ঠান্ডা পড়েই না। ওখানে ফ্যানেদের বিশ্রাম নেই। কলকাতা থেকে কেউ বেনারসে এলে তার ঠান্ডা লাগবে।

অম্বালিকার এখন মুড ভালো আছে সম্ভবত, হাঁটতে হাঁটতে শুধু একবার বলল, ‘আরতির সময় একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম। একবারে সামনের দিকে অনেকে বসেছে। শুনলাম এক হাজার টাকা দিলে ওরকম সামনে দু’জন করে বসতে দেয়।’

সোমনাথ বলল, ‘তাহলে তো ভালো হল বলতে পারো। আমাদের হাজার টাকা বেঁচে গেল। আমরা কি খারাপ দেখলাম?’

অম্বালিকা বলল, ‘খুব ভালো দেখেছি। আচ্ছা ঋজুবাবু, ফেরার পর আমাদের বাড়ি যাবেন কিন্তু।’

ঋজু বলল, ‘যাব।’

কোথা থেকে একটা ঠুমরির সুর ভেসে আসছে, স্থান মাহাত্ম্যের জন্যই সে সুর শুনতে অপূর্ব লাগছে।

সোমনাথ বলল, ‘ “জয় বাবা ফেলুনাথ” মনে পড়ে যাচ্ছে। সেই যে সিনেমা দেখেছিলাম, আর এখন এই গলির মধ্যে দিয়ে হাঁটছি, খুব একটা পার্থক্য মনে হচ্ছে না কিন্তু। কাল আমরা চলে যাব, জায়গাটা বড় মায়ায় জড়িয়ে নিল যাই হোক। বাচ্চাগুলোকে আবার পড়াতে বসাতে হবে। আবার পড়ানোর সময় চিৎকার-চ্যাঁচামেচি। আর ভালো লাগে না। সেই একই জীবন। দিনের পর দিন, উফ।’

সোমনাথদের হোটেলের কাছে পৌঁছে গেছিল তারা। খাবার সত্যিই ভালো। ঋজু তৃপ্তি করে খেল। সোমনাথ জোর করে বেশি ভাত খাইয়ে দিল। বাঙালিদের এই এক সমস্যা। যত্ন বলতে বোঝে বেশি খাইয়ে দেওয়া। ঋজুর শরীর আইঢাই করছিল।

খেয়ে উঠে অম্বালিকা বলল, ‘চলুন, আমি আর সোমনাথ আপনাকে পৌঁছে দিয়ে আসি।’

ঋজু বলল, ‘আরে না না। আমি চলে যেতে পারব। এখান থেকে চিনে ফিরতে কোন অসুবিধা হবে না আমার।’

সোমনাথ বলল, ‘না না, তোকে ছেড়ে আসা দরকার। এখানে অনেক গলি। কোথায় ঢুকতে কোথায় ঢুকে যাবি। চল না। দু’জনে মিলে হেঁটে আসি। হাঁটাও তো দরকার।’

ঋজু আর আপত্তি করল না। রাতে গলিঘুঁজি কিছুটা গুলিয়ে যায় তার। সোমনাথ তার বাচ্চাদের শ্বশুর-শাশুড়ির জিম্মায় দিতে গেল। অম্বালিকা বলল, ‘আপনাকে প্রেম করতে হবে। একা আপনি থাকতে পারবেন না।’

ঋজু অবাক হল, ‘সেটা আপনি বুঝলেন কী করে?’

অম্বালিকা বলল, ‘ও বোঝা যায়। একা থাকার মানুষরা একটু গোছানো হয়। তাদের সব কিছুর খেয়াল থাকে। আপনি নিজের মাফলারই ঠিক করে সামলাতে পারেন না। একা থাকবেন কী করে?’

ঋজু কী বলবে বুঝতে না পেরে চুপ করে গেল। এই বিষয়ে আর কারও সঙ্গেই আলাপ করার কোনো ইচ্ছে তার নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *