হৃদয়ের পদ্মবনে – ১৩

১৩

সকালে উঠেই ঋজুর মনে হল আজ একত্রিশে ডিসেম্বর। এই দিনে কী করা উচিত? সারা বছরের বোঝা গঙ্গায় ভাসিয়ে দেবে? তারপর?

নতুন জীবন ঠিক কীভাবে শুরু করা উচিত? নাহ। আবার বেশি ভাবছে সে।

যত কম ভাবা যায় তত ভালো থাকা যায়। ঘর থেকে বেরিয়ে ওদের ঘরের তালা দেখে বুঝল মেসো তার কথা রেখেছেন। ভোরেই পুজো দিতে বেরিয়েছেন।

ঋজু একবারে তৈরি হয়েই বেরোল। প্রথম দিন বাদে বাকি দিনগুলোয় তেমন কিছুই ঘোরেনি সে। শুধু হেঁটে বেরিয়েছে। কিছুদিন আগে একটা ভালো ক্যামেরাওয়ালা ফোন কিনেছিল। বেনারসের গলিঘুঁজি, ঘাটের ছবি তোলা যায়। ব্রেকফাস্ট সেরে রাস্তায় ঘুরতে গিয়ে বুঝল ফটো তোলার আশা যত কম করা যায়, তত ভালো। গত দু’দিনের তুলনায় ভিড় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এত লোক থাকছে কোথায়? এই শীতে তো যেখানে সেখানে থাকা যাবে না! তবে?

ফোন বাজছে। সোমনাথ ফোন করছে। ধরতেই ওপ্রান্ত থেকে সোমনাথের ছেলে-মেয়ের গলা পাওয়া গেল, ‘আমরা পৌঁছে গেছি!’

ঋজু হেসে ফেলল। বাচ্চাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে। খুব তাড়াতাড়ি তারা সবাইকে আপন করে নিতে পারে। সে বলল, ‘কখন পৌঁছলে?’

এবার সোমনাথ বলল, ‘রাতেই ঢুকে গেছি। তোর খবর কী? কবে ফিরবি?’

ঋজুর এবার কথাটা মনে পড়ল। এটাই হচ্ছিল। কাল সন্ধে থেকেই মনে হচ্ছিল কিছু একটা মিস করছে সে। তার ফেরার টিকিট কাটা হয়নি। অথচ ছুটি শেষ হয়ে যাবে। সোমনাথ সে কথা শুনে হতভম্ব হয়ে বলল, ‘সে কী রে, তাহলে ফিরবি কী করে?’

ঋজু বলল, ‘ও ঠিক চলে যাব। আজ একবার দেখব তৎকালে টিকিট কাটা যাচ্ছে নাকি। নইলে আসানসোল অবধি লোকাল ট্রেন যায়। ওতে উঠে পড়ব।’

সোমনাথ বলল, ‘তাতে তো খুব কষ্ট। সব স্টেশনে ট্রেন দাঁড়ায়। তুই আমাদের সঙ্গেই ফিরে আসতে পারতিস।’

‘না না। ও ঠিক আছে। ভাবিস না।’

ফোন রেখে ঋজু দেখল ঝিমলি থমথমে মুখে একা একা গোধূলিয়া চক থেকে ফিরে আসছে। সে জিগ্যেস করল, ‘কী হল? একা কেন?’

ঝিমলি বলল, ‘মা বাবার সঙ্গে মন্দিরের লাইনেই ঝগড়া শুরু করে দিয়েছে। বিরক্ত হয়ে চলে এলাম।’

ঋজু খানিকটা ভেবে নিয়ে বলল, ‘একা একা ঘোরাটা ঠিক হবে না। তুমি ওদের কাছেই ফিরে যাও।’

ঝিমলি বলল, ‘না। আমি যাব না। লোকজনের সামনে প্রেস্টিজ থাকে না।’

ঋজু বলল, ‘ঠিক আছে, চলো, দেখি ওরা কোথায় আছে।’

ঝিমলি মুখ গোমড়া করে হাঁটতে লাগল। রাস্তাটা কিছুটা যাবার পর বাঁ দিকে মন্দিরের সামনে চলে যায়। সে রাস্তায় গলিঘুঁজি আছে। ঋজু একবার জিগ্যেস করল, ‘এদিক থেকেই এসেছিলে তো?’

ঝিমলি বলল, ‘হবে কিছু একটা। জানো ঋজুদা, মা’র জন্য আমি আমার বন্ধুদেরও বাড়িতে আসতে বলতে পারি না। মা বোঝে না আমি বড় হয়েছি। সবার সামনে বিশ্রীভাবে কথা বলতে শুরু করে দেয়।’

ঋজু বলল, ‘সে কী করা যাবে? আমার মাও ওরকম করে। বাবা-মা তো বুঝতে পারে না বাচ্চা বড় হয়ে গেছে। তুমি সেই কতটুকু ছিলে আমাদের বিয়ের সময়, ওদের কাছে তুমি এখনো ওরকমই আছ।’

ঝিমলি বলল, ‘জানি না। আগে দিদি আসত। তখন খুব মজা হতো। মেয়ে হবার পর দিদিও খুব বেশি আসে না। ওদের বাড়িতে নাকি রাগ করে, বেশি দিন বাপের বাড়ি গিয়ে থাকলে। আচ্ছা শ্বশুরবাড়ি হয়েছে একটা। এটা করা যাবে না, সেটা করা যাবে না। খুব কনজারভেটিভ।

‘আসলে ব্যাপারটা তা না, আমি তো বুঝি। দ্বিতীয় বিয়ে জানে তো ওরা। চাপে রাখার চেষ্টা করে। ছেলেটারও তো সেকেন্ড ম্যারেজ। তাকে তো কেউ কিছু বলে না। সব চাপ দিদির উপর।’

ঋজু একটু অবাক হল। আঁখির ফেসবুক পোস্ট দেখে তো সেরকম কিছু বোঝা যেত না। অবশ্য মানুষের সোশ্যাল নেটওয়ার্কের পোস্ট দেখে সে মানুষ সম্পর্কে কী-ই বা বোঝা যায়?

ঝিমলি বলে যেতে লাগল, ‘আমার তো তেমন বন্ধু নেই। বাড়িতে কাউকে আসতেও বলতে পারি না। কীভাবে যে কাটে দিনগুলো! বেড়াতে এসে ভেবেছিলাম এখানে অন্তত ওসব করবে না। এখানেও সেই একই কাণ্ড। আর ভালো লাগে না।’

গলিতে কিছুটা যাবার পর মিষ্টির দোকান, পুজোর সামগ্রীর দোকান শুরু হবার কথা ছিল। অথচ হয়নি। ঋজু বুঝল তারা ভুল রাস্তায় চলে এসেছে। সে এক দোকানদারকে জিগ্যেস করে নিল। ঝিমলিকে বলল, ‘ওঁদের ফোন করে বলে দাও তুমি যাচ্ছ। নইলে ওঁরা চিন্তা করবেন।’

ঝিমলি বলল, ‘ফোন তো লকারে। নিয়ে আসিনি। ওদের ফোনও তাই।’

ঋজু বলল, ‘ওহ। ঠিক আছে। চলো দেখি। মন্দিরের কাছে গেলে নিশ্চয়ই পেয়ে যাব। তুমি রাস্তা চিনে ফিরলে কী করে বলো তো? এভাবে কেউ একা একা ঘোরে?’

ঝিমলি বলল, ‘কেন একা ঘোরা যাবে না? তুমি ঘুরলে আমি কেন পারব না?’

ঋজু চুপ করে গেল। ঝিমলিকে বেশি বুঝিয়ে লাভ নেই। ওদের বয়সে সেও এরকম বিপ্লবী ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিপ্লবের ঝাঁজ কমতে থাকে। এক সময় মনে হয় দেশ পালটাতে হবে, পরে যখন বুঝতে পারে সে ছাড়া এসব কেউ ভাবছে না, তখন প্রথমে দমতে শুরু করে। তারপর ভিড়ের একজন হয়ে যায়।

এতক্ষণে দোকানগুলোর দেখা মিলল। ঝিমলিকে নিয়ে খানিকটা এগোতেই দেখা গেল সুপর্ণামাসি দিশেহারার মতো এদিকেই আসছেন। ঝিমলিকে দেখে চিৎকার করে উঠলেন, ‘কোথায় গেছিলি তুই? তোকে বলেছিলাম না একা একা কোথাও যাবি না?’

ঝিমলি দু’হাত দিয়ে কান চাপা দিয়ে বলল, ‘ফিরছিলাম। ঋজুদার সঙ্গে দেখা হওয়ায় এখানেই নিয়ে এল। এবার চুপ করবে? এই চিৎকার করো বলেই আমি চলে গেছিলাম। দয়া করে থামো। এখানে অনেক লোক আছে।’

ঋজুর অপ্রস্তুত লাগছিল। সে মাসিকে বলল, ‘আমি তাহলে যাই।’

মাসি তাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, ‘আমরা পুজোটা দিয়ে নিই। তুমি বরং ঝিমলিকে সামলাও। তোমার মেসোকে সামলেই আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। পুজো দিয়ে নিয়ে আমরা দশাশ্বমেধ ঘাটের দিকে যাব। তোমরা ওদিকটায় থেকো।’

ঋজু কী বলবে বুঝতে পারল না। মাসি মন্দিরের দিকে চলে গেলেন।

গতকাল রাতের ঘটনায় ভদ্রমহিলার মন খানিকটা আর্দ্র হয়েছে। ঝিমলি বলল, ‘বাঁচা গেল। আমি জানতাম তুমি থাকলে মা রাগবে না। আগে তো খুব প্রশংসা করত তোমার। মাঝখান দিয়ে যে কী সব হয়ে গেল! আমরা কেউ ভাবতেই পারিনি এরকম কিছু হতে পারে। সবাই খুব শক পেয়েছিলাম।’

ঋজু বলল, ‘কী আর করা যাবে? যা হবার, হয়ে গেছে। এখন আমাদের হাতে আর কিছু নেই। চলো, ঘাটে গিয়ে বসি। চা খেতে ইচ্ছে করছে।’

ঝিমলি বলল, ‘তুমি তো চা খেতে না। আমাদের বাড়িতে যখন আসতে, বলতে চা খাও না, কফি খাও।’

ঋজু ঘাড় নাড়ল, ‘বছর খানেক হল চায়ের নেশা হয়েছে। আগে খেতাম না। বন্ধুরা খায়, ওদের সঙ্গে যাই, বসে থাকব? ওদের দেখাদেখি খাওয়া শুরু করলাম। তারপর অভ্যাস হয়ে গেল। তুমি মালাইও খাবে?’

ঝিমলি বলল, ‘হ্যাঁ। বাবা কাল এসবই খেয়েছে, তাই না?’

ঋজু বলল, ‘তাই হবে। মেসোর ইসিজি করার কথা ছিল না?’

ঝিমলি বলল, ‘পুজো দিয়ে যাবার কথা আছে। বাবা তো বলছে সব ঠিক আছে।’

মালাইও খেয়ে ঘাটে পৌঁছে ঋজু তৎকালে টিকিট করার চেষ্টা করল। হল না। প্লেনের টিকিটের অস্বাভাবিক দাম

দেখাচ্ছে।

ঝিমলি ঘাটে বসে বলল, ‘দিদির পুচকেটা দিদিকে ছাড়া কিছু বোঝে না। সারাক্ষণ মা মা করে যাচ্ছে। দিদির শাশুড়িটা এদিকে দিদিকে দিয়েই রান্না করাবে। দিদি শিওর রিগ্রেট করছে। মেয়েদের আসলে চাকরি না করে বিয়ে করা উচিত না বলো? কারো কাছে হাত পাততে হলেই দেখেছি সে মানুষের সেলফ- রেসপেক্ট কমে যায়। দিদিরও তাই হয়েছে।’

ঋজু বলল, ‘এসব কথা বলতে নেই ঝিমলি। দিদি তো আমার সঙ্গে ভালো ছিল না।’

‘কেন, তুমি তো ভালো ছেলে। তুমি বাকিদের মতো ভাবো না।’

‘আমি ভালো ছেলে নাকি জানি না, তবে আমার সঙ্গে তোমার দিদির থাকাটা হয়নি। এখন এই কথাগুলো আমায় না বলাই ভালো।’

‘আমি অত বুঝি না। ওরা দিদিকে আমার থেকে দূরে নিয়ে গেছে।’

‘এত সহজে কেউ কাউকে দূরে নিয়ে যেতে পারে না ঝিমলি, তোমার সামনে সারা জীবন পড়ে আছে। আজ দিদি একরকম সংসার করছে, চিরকাল তো আর ওর শাশুড়ি বেঁচে থাকবেন না। দিদিই সে বাড়ির কর্ত্রী হবেন। ওভাবে কি দূরে নিয়ে যেতে কেউ পারে?’

‘তাই? তোমার থেকে তো দূরে চলে গেছে দিদি। আর কি ফেরা সম্ভব? সেটা তো আর সম্ভব না।’

ঋজু হেসে ফেলল। মেয়েটা ভারি পেকেছে তো! বলল, ‘সেটা আমাদের মিউচুয়াল ডিসিশন। আমাদের সিনেমাটা ফ্লপ করে গেছে। অন্য কোনো হলে অন্য কেউ সেই সিনেমাটা চালিয়েছে। কী আর করা যাবে?’

ঝিমলি বলল, ‘ধুস, এটা কোনো এগজ্যাম্পল হল? অন্য হলে আবার কী কথা? প্রবীরদা তো শুধু সিনেমা দেখছে না, হি লিটারালি স্লেপ্ট উইথ হার, ওদের একটা বাচ্চা আছে। তুমি কি এখনও ছোটই থেকে গেছ ঋজুদা?’

ঋজু থমকে গেল। এই কথাটা ঝিমলির মুখ থেকে আসবে, সে কল্পনা করেনি। প্রথম যখন শুনেছিল আঁখির বিয়ে হচ্ছে, তখন তার এই কথাটাই মনে এসেছিল। আঁখি আরেক জনের হয়ে গেল। তার সঙ্গে শোবে।

একজন মাঝি এসে ডাকাডাকি শুরু করেছে। সে বারণ করে দিয়ে ঝিমলিকে বলল, ‘এসব কথা বলতে নেই ঝিমলি। তুমি অনেক ছোট আমাদের থেকে। দিদি, জামাইবাবু বা আমার, কারও সম্পর্কেই কিছু বলা উচিত না তোমার।’

‘তুমিও বাবা-মা’র মতো আমার কথা চেপে দিতে চাইছ। আমারও কিছু অ্যানালিসিস আছে। তোমাদের বলতে না পারলে কাকে বলব সেসব?’

‘আয়নাকে বলো। আমাদের কিছু বলার দরকার নেই।’

ঝিমলি বলল, ‘না। আমি বলব। তোমার শোনা উচিত।’

বাচ্চাগুলো আবার মাথায় তিলক পরাতে এসেছে। ঋজু দশ টাকা দিয়ে টিকা পরল। ঝিমলিও পরল।

ঋজু বলল, ‘শুনে কিছু হবে না ঝিমলি। ওই দ্যাখো, ওই চর থেকে নৌকোগুলো এ পাড়ে আসছে। যে নৌকো চর ছেড়ে দিয়েছে, সে অকারণে আর আগের জায়গায় ফিরে যাবে না। কেন যাবে? তার গন্তব্য তো এখন এপারেই। আমি আর পুরোনো গল্প কিছুই শুনতে চাই না। নতুন কিছু বলো। তোমার কলেজের সম্পর্কে বলো, কলেজে বন্ধু হয়নি তোমার? বয়ফ্রেন্ড হয়নি?’

ঝিমলি মাথা নাড়ল, ‘না হয়নি। তোমাদের ডিভোর্সটা আমার কাছে একটা শকের মতো এসেছিল। যাদের আদর্শ দম্পতি ভাবতাম, তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। তারপর এসবের উপর থেকে আমার সব ভরসা চলে গেছে। শুধু মনে হয় আজ যে ভালোবাসি বলছে, কাল সেই তোমাদের মতো ছেড়ে চলে যাবে। আমাদের কলেজে অবশ্য ভালোবাসা ছাড়াও সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেকগুলো টার্ম ইউজ করা হয়। ডু ইউ নো অ্যাবাউট দোজ টার্মস? ব্রেডক্রাম্বিং মানে জানো?’

ঋজু বলল, ‘এই সব টার্ম নিয়ে একটা স্ট্যাটাস পড়েছিলাম। জেন জি টার্মস না কী সব বলে।’

ঝিমলি বলল, ‘রাইট। আমার কোনো কোনো বন্ধু এই সো-কল্ড জেন জি টাইপ রিলেশনশিপেও আছে। আমি একটু ওল্ড স্কুল টাইপ ছিলাম। মনে করতাম আমার জীবনেও কেউ আসবে, যেমন দিদির জীবনে তুমি এসেছিলে। অ্যান্ড দেন, ইউ গাইজ… জাস্ট রুইন্ড ইট ফর মি। সব কিছু থেকে বিশ্বাস উঠে গেছে আমার।’

চা নিল ঋজু। এক দল সাধুবাবা এক কোণে বসে জোরে জোরে মন্ত্র পড়ছেন। চমৎকার একটা আবহসঙ্গীত তৈরি হয়েছে যেন।

ঋজু চায়ে চুমুক দিয়ে বলল, ‘তুমি খুবই বিপজ্জনক একটা বয়সে আছ ঝিমলি। আমার বোন নেই, আমি তোমাকে নিজের বোনের মতোই ভেবে এসেছি বরাবর। তোমাকে আমি একটা কথাই বলব…’

ঝিমলি বিরক্ত মুখে বলল, ‘জ্ঞান দিও না তো ঋজুদা। আমি জানি দিদি প্রবীরদাকে ভালোবাসে না। গাধাটা তোমাকেই ভালোবাসে। জাস্ট তোমাকে শিক্ষা দিতে বিয়েটা করে তোমার থেকে দূরে চলে গেছে। যাকে ভালোবাসে না তার সঙ্গে শুয়ে বাচ্চা নিয়েছে, সমস্ত রকম কম্প্রোমাইজ করে তার সঙ্গে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবে আর তুমি সেটা কোনোদিন জানবে না, বুঝবে না।

‘কারণ তোমার সেই সেন্সটুকুই নেই। তুমি এখানে এসেছ বলে ও ট্যুরটাই ক্যান্সেল করে দিয়েছে শুধু একটাই কারণে, যাতে তোমার মুখোমুখি হতে না হয়। এর পরেও আমি কী করে ওল্ড স্কুল প্রেমে বিশ্বাস করব বলো তো? বিশ্বাস করা সম্ভব?’

ঋজু কেঁপে উঠল এবার। ঝিমলি এটা কী বলল? চায়ের ভাঁড়টা কোনোমতে নামিয়ে রেখে বলল, ‘এসব কথা বোলো না ঝিমলি। আঁখি আমাকে ভালোবাসে না। তুমি একটু অন্য কিছু ভাবার চেষ্টা করো। নৌকোগুলো দেখেছ? কোনোটায় মাঝি দাঁড় বাইছে, কোনোটা আবার মোটরে চলছে। কতরকম নৌকো দেখেছ? বজরাও আছে। “জয় বাবা ফেলুনাথ”-এ মগনলাল মেঘরাজের বজরাটা কোথায় আছে খুঁজে দেখতে হবে।’

ঝিমলি কথা বলল না। থমথমে মুখ করে বসে রইল।

ঋজু বুঝল কথা ঘুরিয়ে লাভ নেই। সে চায়ে মন দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *