হৃদয়ের পদ্মবনে – ১০

১০

মানুষের সব থেকে বড় সমস্যা কী? মায়া? না পিছুটান?

একটা হোটেলের ঘরে দু’দিন থাকলেও মায়া জন্মে যায়। সোমনাথদের সঙ্গে দু’দিন আগে দেখা হল, ওরা চলে যাচ্ছে বলেও কেমন মন খারাপ হচ্ছে। ওদের হোটেলেই দেখা করতে গেছিল সকালে। টোটোতে জিনিসপত্র তুলে সোমনাথ তাকে জড়িয়ে ধরল, চোখের কোণেও কি একটু জল এসেছিল ওর? কে জানে। সোমনাথের শ্বশুর-শাশুড়িও তাকে ফিরে দেখা করতে বললেন। ছেলে-মেয়েরা যখন জানল সে ফিরবে না তখন মেয়েটা হঠাৎ কাঁদতে শুরু করে দিল।

সোমনাথ বলল, ‘যাস ভাই। কোভিডের সময় বুঝেছি, আমরা আসলে ভীষণ একা। তবু যে কেন লোকজন ঝগড়া করে কে জানে। আজ আছি, কাল নেই, তারপরও কত মারামারি সবার।’

ঋজু সোমনাথের কাঁধ চাপড়ে দিল। অম্বালিকা শুরু থেকেই টোটোতে উঠে বসেছিল। অদ্ভুতভাবে তার সঙ্গে একটা কথাও বলল না। সোমনাথ বলল, ‘মুড সুইং, বুঝতে পারছিস? কাল কত কথা বলল, এখন দ্যাখ, যেন চিনতেই পারছে না। এই হয় ওর। এটাই দ্যাখাতে হবে।’

ঋজু বলল, ‘দ্যাখা। সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করিস না।’

সে নিজেই টোটোর কাছে গিয়ে অম্বালিকাকে বলল, ‘আপনাকে যখন পাওয়া যাচ্ছিল না, সোমনাথ পাগলের মতো হয়ে গেছিল। আপনার ওই ধারণাগুলো কিন্তু একবারেই ভুল।’

অম্বালিকা হাসল, ‘যাবেন। দ্যাখা হবে।’

ওদের টোটো দুটো চলতে চলতে চোখের আড়ালে চলে গেল। ঋজুর হঠাৎ করে আঁখির কথা মনে পড়ল। শেষ হয়ে যাবার পরেও কিছুই শেষ হয় না। সব স্মৃতিই ছাইচাপা আগুনের মতো থেকে যায়। জীবনের বাকিটা সময় চেষ্টা থাকে সে আগুনে জল দিয়ে যাবার।

ডাক্তারবাবু যেমন বলেছিলেন—তার জীবনের এখন উদ্দেশ্য হল রাগ নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক বিষয়েই রাগ হতে পারে। সেটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই এখন আসল কাজ। মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সবই সীমায় বেঁধে রাখা দরকার। একটা জীবন কেটে যায় সব কিছু নিয়ন্ত্রণে আনতে আনতে। কেউ তাতে অত্যন্ত সফল, কেউ একেবারে ব্যর্থ।

হোমস্টে’তে ফিরে এল ঋজু। রাতে খুব একটা ভালো ঘুম হয়নি। চারটে কচুরি খেয়ে এসেছে। ঠিক করেছিল ঘণ্টা দুয়েক ঘুমাবে। দরজা খুলে খানিকটা চমকাল সে। যে দু’জন হলের চেয়ারে বসে আছে, তাদের খুব ভালো করে চেনে সে। আর ফ্ল্যাশব্যাকে তাদের বিয়ের দিনের অনেক ছবি চোখের সামনে চলে এল।

বিয়ে করতে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর সেদিন আঁখিকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। আঁখি পরে মেসেজ করে বলেছিল মেক-আপ করছে। এমনিতেই মাথা গরম হয়েছিল।

গাড়ি থেকে নামার পরই টাকার জন্য বিয়েবাড়ির গেটে আবার পনেরো মিনিট আটকে রেখেছিল ঋজুকে। আঁখির মাসি সুপর্ণা আর মাসির মেয়ে ঝিমলি। ঝিমলি কতটুকু ছিল তখন?

তাকে দেখে সুপর্ণা অন্য দিকে মুখ ফেরালেন, ঝিমলি পারল না, সে বলেই ফেলল, ‘তুমি কবে এলে?’

ঋজু গল্প করার জন্য দাঁড়ায়নি। ঘরের দরজা খুলতে খুলতে বলল, ‘এই তো দু’দিন হল। তোমরা কি আজই এলে?’

‘হ্যাঁ।’

‘ঠিক আছে।’

ঋজু ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করল। এ এক অদ্ভুত অস্বস্তির ব্যাপার।

বিয়ের পর আঁখির সঙ্গে ওদের বাড়িতেও গেছে। কত আড্ডা। এখানে এভাবে দেখা না হলেই ভালো হতো।

প্রেম আর বিয়ের মধ্যে বিস্তর তফাত আছে। ব্রেক-আপ হয়ে গেলে শুধু মেয়েটার সঙ্গেই ব্রেক-আপ হয়, যদি না আগে থেকে ও বাড়িতে যাতায়াত লেগে থাকে। বিয়ে মানে এর মধ্যে পরিবারের সবাই মিলেমিশে আছে। আঁখির যে মাসি সেদিন গেট ধরেছিল, যে মেসো তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রেশনে সাক্ষ্য দিয়েছিল, এখন তারা আর তার আত্মীয় নন।

ডিভোর্সের সময় অবশ্য তাদের সঙ্গে বেশি দেখাসাক্ষাৎ হয়নি। উকিলেরাই কাজটা মিটিয়ে নিয়েছিলেন, তবু আঁখির সঙ্গে আঁখির মাসির সম্পর্ক বরাবরই ভীষণ কাছের ছিল। বিয়ের প্রথম দিকে আঁখির সঙ্গে এই বিষয়েও ঝগড়া হয়েছিল। রাতে ঋজু যখন আঁখির সঙ্গে সময় কাটাতে চাইত, আঁখি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সুপর্ণামাসির সঙ্গে গল্প করে যেত। একদিন এই নিয়ে খুব রাগারাগি করেছিল ঋজু। আঁখিও ছেড়ে কথা বলত না। ফলে চারপাশে আর কাকচিল বসতে পারত না।

সেই সুপর্ণামাসিদের সঙ্গে এখানে দেখা হয়ে যাবে, ব্যাপারটা কল্পনাতীত ছিল। এই সময়, এই প্রবল ভিড়ে অনেকেই ঋজুর মতোই অ্যাপের মাধ্যমে ঘর বা হোমস্টে খোঁজেন। তবে ওরা এই অ্যাপের সন্ধান ঋজুর মাধ্যমেই আঁখির থেকে পেয়েছিল।

প্রকৃতির কাজ শূন্যস্থান পূরণ করা। কিন্তু সোমনাথদের পরিবর্তে সুপর্ণামাসিদেরই যে বেনারসে আনতে হবে, সেটা কেমন কথা?

এখানে কমন বাথরুম। হোটেলের মতো হলে চিন্তার কিছু ছিল না।

থাকার টাকা অ্যাডভান্স পে করা আছে, অন্য কোনো হোটেলে গিয়ে উঠবে? এই বাজারে অনেকগুলো টাকা চলে যাবে। যাবার হলে ওরা যাক। ঋজু ‘ধুত্তোর’ বলে কম্বল মুড়ি দিল। ঘুমাতে এসেছে, ঘুমিয়ে নিক। পরে দেখা যাবে।

এখানে আসার পর থেকে এটাই অভ্যাস হয়ে গেছে তার। সকালে এক পাক ঘুরে ব্রেকফাস্ট সেরে এসে দু’ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়া। তারপর আবার বেরিয়ে সারাদিন ঘুরে রাতে ডিনার সেরে এসে ঘুমিয়ে পড়া। ঠিক করল আজও তাই করবে। এর অন্যথা করার দরকার নেই।

সমস্যা হল, কম্বলের আরামে এবার চোখ বন্ধ করেও ঘুম এল না। বাইরে থেকে গলার স্বর পাওয়া যাচ্ছে। এখনো চেক-ইন না করিয়ে ওদেরকে সোফায় বসিয়ে রাখা হয়েছে বোঝা যাচ্ছে। মেসোর বয়স হয়েছে। মেসো তাকে একবার ভালো মানের স্কচ খাইয়েছিলেন। ভদ্রলোক বরাবর সুপর্ণামাসির ব্যক্তিত্বের তলায় চাপা পড়ে থাকেন। এভাবে তার শুয়ে থাকা কি ঠিক হচ্ছে?

দুই ঋজুর মধ্যে প্রবল দোলাচল শুরু হল। এক ঋজু বলছে, ‘না হয় আঁখির সঙ্গে তোর ডিভোর্স হয়ে গেছে, তা বলে আঁখির মেসোও কি তোর শত্রু হয়ে গেল? ওরা এখনো চেক-ইন করতে পারলেন না, তুই এখানে দরজা বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিস, এই বাজারে স্কচের দাম জানিস?’

আরেক ঋজু মুখ বেঁকিয়ে তাকে উত্তর দিচ্ছে, ‘ডিভোর্সের সময় তোর নামে ওই বাড়ি থেকে কী কী বলেছিল, খেয়াল আছে? এখন ন্যাকামি হচ্ছে? একটা বাজে কথা না ভেবে ঘুমা, নিজের মতো থাক, বেশি ন্যাকামো করলে তোর কপালে দুঃখ আছে।’

এমনিতে ঋজুর ব্লাডারের স্বাস্থ্য খুবই ভালো, কিন্তু এই সময় তার ব্লাডারটাও বিট্রে করে বসল। তার মনে হল, এখনই বাথরুমে যেতে না পারলে এখানেই কাপড়ে চোপড়ে হয়ে যাবে।

শেষমেশ তাকে উঠতেই হল। দরজা খুলতেই দেখল আঁখির মেসো গম্ভীর মুখে পায়চারি করছেন। ঝিমলি বা সুপর্ণা নেই। তাকে দেখে বললেন, ‘ওরা তোমার কথা বলল। একা একাই চলে এলে নাকি?’

ঋজু বলল, ‘হ্যাঁ। ইয়ার-এন্ডে ছুটি নিয়ে এসেছি। আপনাদের চেক-ইন হয়নি?’

মেসো বিরক্ত হয়ে গলা নামিয়ে বললেন, ‘যে ফ্যামিলি এসেছে, তারা এক ঘণ্টা বেশি থাকবে বলেছে। ওই কেয়ারটেকার আমাদের বলছে স্টোর রুমে বসতে। ওদের ওখানে বসিয়েছি। কিন্তু আমি এখানে পায়চারি না করলে এরা আরও দেরি করবে মনে হচ্ছে। ওই জন্য পায়চারি করে ওদের তাড়া দেবার ব্যবস্থা করছি।’

ঋজু বলল, ‘আপনারা আমার ঘরে রেস্ট করুন বরং। আমি বেরোব। ফিরতে ফিরতে সন্ধে হবে। ঘরের কাজ হয়ে গেলে চাবিটা কেয়ারটেকারকেই দিয়ে দেবেন।’

মেসো মাথা চুলকে বললেন, ‘সেটা কি ঠিক হবে? তুমি আর পুপাই… আচ্ছা দাঁড়াও।’

মেসো স্টোর রুমে হাঁটা লাগালেন। মাসির পারমিশন আনতেই গেলেন হয়তো।

ঋজু বাথরুম সেরে নিল। বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখল মেসো থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে আছেন, ‘ও বলল স্টোর রুমেই ঠিক আছে।’

ঋজু কাঁধ ঝাঁকাল, ‘ঠিক আছে তবে।’

মেসোর নামে মাসি এককালে আঁখির কাছে গাদা গাদা নালিশ করতেন। ঋজুর সেসব মনে পড়ে গেল। সে জিগ্যেস করল, ‘আপনারা কত দিন আছেন?’

মেসো ঠোঁটে আঙুল দিলেন, গলা নামিয়ে ফিসফিস করে বললেন, ‘তিন দিন। তোমার সঙ্গে কথা বলতেও বারণ করেছে। কিছু মনে কোরো না।’

ঋজু বলল, ‘ঠিক আছে।’

সে তার ঘরে ঢুকে গেল। এত কিছুর পরেও মেসোর মুখের উপর দরজা বন্ধ করতে ইচ্ছে করছে না। সে জ্যাকেটটা চাপিয়ে নিয়ে বেরোনোর প্রস্তুতি নিল। ঘর থেকে বেরিয়ে তালা দিতে দিতে দেখল মেসো মাথা নিচু করে পায়চারি করে যাচ্ছেন।

ঋজু বলল, ‘আপনারা খেয়েছেন?’

মেসো মুখ কাঁচুমাচু করে বললেন, ‘না। ও স্নান করে খাবে বলছে। ট্রেনের জামা-কাপড়, জানোই তো শুচিবায়ুগ্রস্ত মহিলা।’

ঋজু বলল, ‘সামনের দোকানেই ভালো কচুরি বানায়। খেয়ে নিতে পারেন।’

মেসো ভয়ে ভয়ে মাথা নাড়লেন।

ঋজু বেরিয়ে গেল। ঘুম না হওয়ায় রুটিনের হেরফের ঘটল। তার মনে পড়ল, ডাক্তারবাবু ঘুমের কথাও বলেছিলেন। এই বয়সে পর্যাপ্ত ঘুম হওয়া দরকার। আট থেকে আশি, সবাই মোবাইলের পাল্লায় পড়েছে, ঘুম কম হলে কিডনি, লিভার, হৃদযন্ত্র… কিছুই আর ঠিক থাকবে না। এখানে আসার পর ঘুমটা ভালোই হচ্ছিল। হঠাৎ করে ওরা এল, এখন আবার টেনশন হবে, পুরোনো কথা মনে পড়বে, ঘুমটাও কমে যেতে পারে…

মেজাজ খিঁচড়ে গেল তার। ঠিক করতে অনেকটা রসমালাই খেয়ে নিল। আসা ইস্তক মিষ্টিতে নিয়ন্ত্রণ রাখছিল, এখন মনে হল চাপ কমাতে মিষ্টি খাওয়াই দরকার। রসমালাইতে মিষ্টির পরিমাণ খুব একটা বেশি ছিল না। মিষ্টির রেশটা ধরে রাখতে দুটো জিলিপি খেয়ে নিল।

‘বাবা কি বাঙালি?’

এক বৃদ্ধ দোকানে তার পাশে বসেই কচুরি খাচ্ছিলেন। আচমকাই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন।

ঋজু বলল, ‘হ্যাঁ।’

‘কলকাতা?’

‘হ্যাঁ।’

‘ভালো। আমি দশ বছর হল কলকাতায় ফিরিনি।’

এ ক’টা কথা বলেই ভদ্রলোক আবার খাওয়ায় মন দিলেন। জিলিপির স্বাদ অপূর্ব। ঋজু মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। মিষ্টি ভালো লাগল মানে এবার মিষ্টি খেতেই ইচ্ছে করবে। আবার দুদ্দাড় ওজন বাড়বে। বাড়ার সময় শরীর কোনো দিকে না তাকিয়ে বেড়ে যায়। কমার সময় কিছুতেই কমতে চায় না। জিভকে শত চেষ্টাতেও নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। মনে হয়, দুনিয়ায় সে খুব বেশি দিন টিকবে না।

বৃদ্ধ বললেন, ‘বাবা মা’কে দ্যাখো?’

ঋজু বলল, ‘কেন বলুন তো?’

বৃদ্ধ বললেন, ‘ছেলেপিলের যন্ত্রণায় শেষ বয়সে কাশীবাসী হওয়া ভারি সুখের কথা তো! ওই জন্যই বললাম আর কী।’

ঋজু কথা না বাড়িয়ে টাকা দিয়ে দোকান থেকে বেরোল। ভদ্রলোককে কি ছেলে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন? এরকম খবর মাঝে মাঝেই বেরোয়। একবার খবরের কাগজে পড়েছিল অনেক বাঙালিই বয়স হলে কাশীতে এসে থাকেন। এত জায়গা থাকতে কাশীই কেন? এখানে মৃত্যুর মাহাত্ম্য আছে নাকি!

গোধূলিয়া চকের আশেপাশে ঠেলাগাড়িতে যেসব খাবারের দোকান আছে, সেখানে প্রবল ভিড়।

ঋজু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে সেই ভিড়টাই দেখল। কেন দেখল নিজেও জানে না। রাস্তার ধারের এক মন্দির থেকে খিচুড়ি প্রসাদ নিল। ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল তার।

পাড়ার সরস্বতী পুজোর দু’দিন পরে খিচুড়ি হতো। তারা থালা নিয়ে রাস্তাতেই বসে পড়ত। সে কী উৎসাহ! এখানেও সবাই প্রচুর উৎসাহ নিয়েই খিচুড়ি খাচ্ছে। খিচুড়ি এমন একটা খাবার, যেটা বর্ষাকাল থেকে পুজোর ভোগ, সব কিছুতে অনায়াসেই নিজের জায়গা করে নেয়।

কেরলে গিয়ে একবার সে খিচুড়ি অর্ডার করেছিল। বেশ কিছু দিন থাকার পর ওখানকার খাবার আর ভালো লাগছিল না। সে সময় খিচুড়ি অমৃতের মতো লেগেছিল।

দার্জিলিঙে এক রাতে প্রবল শীতে কাঁপতে কাঁপতে খিচুড়ি আর ডিম ভাজা স্বর্গীয় মনে হয়েছিল।

ভ্লগাররা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিডিও বানাচ্ছে। এক দোকানদারের সঙ্গে হঠাৎ করে তাদের বচসা শুরু হয়ে গেল। একদল কচুরি আর জিলিপি খেতে খেতে তারিয়ে তারিয়ে সেটাই দেখতে লাগল। ঋজু বোঝার চেষ্টা করল ঝগড়াটা কী নিয়ে হচ্ছে। ভ্লগ করতে দেবে না বলে বলছে, না টাকা নিয়ে কিছু হয়েছে? কিছুই বোঝা গেল না।

আর কিছুটা পথ হাঁটার পর একটা ষাঁড় পাশ থেকে যাবার সময় তার জ্যাকেটে খোঁচা মেরে চলে গেল। ঋজু একটু ঘাবড়ে গেল। পিঠে মারলে আর দেখতে হতো না। এখান থেকেই হাসপাতাল যেতে হতো।

ঘাটে পৌঁছে বসল সে। আগের দিন অম্বালিকাকে খোঁজার তাড়ায় ভালো করে বসা হয়নি। ওরা কি ট্রেনে ঠিক করে উঠতে পারল? সোমনাথের উপরেই দায়িত্ব এতজনকে নিয়ে ট্রেনে ওঠার। এখন মনে হচ্ছে তার যাওয়া উচিত ছিল। অম্বালিকার বাবা-মা দু’জনেরই অনেক বয়স। বেনারস মাঝের স্টেশন। এখানে ট্রেন বেশিক্ষণ দাঁড়ায় না। সে গেলে সুবিধা হতো সোমনাথের।

ঋজু বরাবরই এরকম। ওই সময়ে দাঁড়িয়ে তার কখনও মনে হবে না এটা করলে ভালো হতো। এসব পরে মনে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *