হৃদয়ের পদ্মবনে – ৩

৩

আটটা নাগাদ ঘুম ভেঙে গেল ঋজুর। উঠে বসে মনে হল খেয়ে আসা যাক। বেনারস আর কলকাতার তাপমাত্রার যে এত তফাত, সে আগে বোঝেনি। এখানের শীতটা ভীষণ তীব্র। ছুঁচের মতো শরীরে ফুটছে যেন।

অটোর হাওয়াটা ভালো মতন জাপটে ধরেছিল যা মনে হচ্ছে। মাথাটা একটু একটু ধরেছে। এরপরে জ্বর এলে আর দেখতে হবে না!

উঠে আরেকটা জ্যাকেট গায়ে দিয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে দেখল কেয়ারটেকার প্রৌঢ় ভদ্রলোক বসে আছেন। দেখে বললেন, ‘বাইরে যাচ্ছেন তো? এখানে কিন্তু কাউকে বিশ্বাস করবেন না, ফোন, মানিব্যাগ সাবধানে। খুব সাংঘাতিক জায়গা। কিছুদিন আগেই আমার কাছে এক ভদ্রলোক এসেছিলেন, তার ক্যামেরা চুরি হয়ে গেছিল। তাই চোখ কান খোলা রাখবেন।’

ঋজু হেসে বেরোল। বিল্ডিংয়ের উলটো দিকেই মিষ্টির দোকান। গরম গরম কচুরি পাওয়া যাচ্ছে। এক প্লেটে চার পিস। কলকাতার মতো না, এর রঙ ভিন্ন।

ঋজু এক প্লেট খেয়ে নিল। গাজরের হালুয়া দেখে বহু কষ্টে লোভ সংবরণ করল।

ডাক্তার রায় বলেছেন এখন আর মিষ্টি খাওয়া যাবে না। রেড মিট খাওয়া যাবে না। এই খাওয়া যাবে না, সেই খাওয়া যাবে না। রোজ হাঁটতে হবে, ব্যায়াম করতে হবে। বেঁচে থাকাটাই ঝকমারি আজকালকার দিনে। তবে ঋজু হাসপাতাল ভয় পায়, সে ভয়েই খানিকটা নিয়ন্ত্রণ করে নিজেকে।

সূর্য সেভাবে ওঠেনি, তবে এর মধ্যেই রাস্তাঘাটে গিজগিজ করছে লোক। কেউ গঙ্গা থেকে স্নান সেরে ফিরছে, কেউ আবার দলবল নিয়ে ওদিকেই যাচ্ছে।

সামনেই একটা বাস দাঁড়িয়েছে। পিলপিল করে লোক নামছে বাস থেকে। এত অসংখ্য মানুষ আসছে। সে তো তবু এই সিজনে একটা ঘর পেয়েছে, এই লোকগুলোকে দেখে মনে হয় তারা বাসেই রাত কাটিয়েছে।

পৌষালি বলেছিল মালাইও খেতে। শিশির-ছোঁয়া মিষ্টি। সে ঠিক করেছে যাওয়ার দিন খাবে। আগে খেয়ে ফেললে যদি বার বার খেতে ইচ্ছে করে, তবে আর কিছুই কন্ট্রোল হবে না।

ঋজু বরাবর বাবু টাইপ। পাবলিক ট্রান্সপোর্টের থেকে রিকশা বেশি পছন্দ করে। আগুপিছু না ভেবেই সে রিকশা নিয়ে অসসি ঘাটের দিকে রওনা দিল। সোজা গেলে দশাশ্বমেধ ঘাট। যে প্রবল ভিড় এখন দশাশ্বমেধ ঘাটের দিকে যাচ্ছে, সে ভিড়ে মেশার শক্তি এখন ঋজুর নেই। ঠিক করেছে সকাল দশটা নাগাদ ঘরে চেক-ইন করে সেখানে ব্যাগ রেখে স্নান-টান সেরে তারপরে দশাশ্বমেধ ঘাটের দিকে রওনা দেবে।

শহরটার মধ্যে একটা আলগা আলিস্যি লেগে রয়েছে। সেটা শীতের জন্যও হতে পারে। সবাই কেমন আড়মোড়া ভাঙছে। রিকশায় বসে ঋজু চারদিক দেখছিল মন দিয়ে। পুরোনো বাড়ি, পুরোনো বাড়িতেই নতুন হোটেল, যথাসম্ভব সেটাকে ঝকঝকে করে রাখা, একদিকে ইউনিভার্সিটি যাবার দিকনির্দেশ দেওয়া।

অসসি ঘাটে পৌঁছে রিকশাভাড়া মিটিয়ে হাঁটা শুরু করতেই দেখতে পেল ঘাটের সামনে প্রাণায়ামের আসর বসেছে। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সেখানে প্রাণায়াম করছে।

ঋজু কিছুক্ষণ সেসব দেখে ঘাটের কাছে গেল। অন্যান্য ঘাটে যাবার নৌকো ছাড়ছে। কী মনে হতে সে একটা বড় নৌকোয় উঠে গেল। নদীতে ঘুরে ঘুরে ঘাটগুলো দেখানো হবে। একের পর এক ঘাট। দূরে কিছুই দেখা যাচ্ছে না কুয়াশার জন্য, একটু পরে নৌকো ছাড়তে ঘাটগুলো একটু একটু করে স্পষ্ট হল।

সে এই প্রথম বেনারসে এসেছে। মণিকর্ণিকা ঘাটের নামটা শুনে তার মনে পড়ল ‘পথের পাঁচালী’-র কথা। এই নামের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় করিয়েছিলেন বিভূতিভূষণ—

‘মণিকর্ণিকার ঘাটে সৎকারঅন্তে সন্ধ্যাবেলা অপু স্নান করিয়া ঠান্ডা পশ্চিমে বাতাসে কাঁপিতে কাঁপিতে পৈঠার উপর উঠিল। রামকৃষ্ণ মিশনের একজন সেবক ও নন্দবাবু তাহাকে উত্তরীয় পরাইতেছিল। বেলা খুব পড়িয়া গিয়াছে, অস্ত-দিগন্তের স্নান আলো পাথরের মন্দিরগুলার আগাটুকুতে মাত্ৰ চিক্‌চিক্‌ করিতেছে। সারাদিনের ব্যাপারে দিশেহারা অপুর মনে হইল তাহার বাবার পরিচিত গলায় উৎসুক শ্রোতাগণের সম্মুখে কে যেন বসিয়া আবৃত্তি করিতেছে—

কালে বৰ্ষতু পর্জন্যং পৃথিবী শস্যশালিনী….

লোকাঃ সন্তু নিরাময়াঃ…

যে বাবাকে সকলে মিলিয়া আজ মণিকর্ণিকার ঘাটে দাহ করিতে আনিয়াছিল,—রোগে, জীবনের যুদ্ধে পরাজিত সে বাবা স্বপ্ন মাত্র—অপু তাহাকে চেনে না, জানে না—তাহার চিরদিনের একান্ত নির্ভরতার পাত্র, সুপরিচিত, হাসিমুখ বাবা জ্ঞান হইয়া অবধি পরিচিত সহজ সুরে, সুকণ্ঠে, প্রতিদিনের মতো কোথায় বসিয়া যেন উদাস পূরবীর সুরে আশীর্বাচন গান করিতেছে—

কালে বৰ্ষতু পর্জন্যং পৃথিবী শস্যশালিনী….

লোকাঃ সন্তু নিরাময়াঃ…’

অপু পিতৃহীন হল, একটা সংসারের মাথা চলে গেল। ঋজুর বাবার কথা মনে পড়ে গেল। বাবা ঠিক আছে তো? এই শীতের নরম রোদের বেনারসে বাবা কেন মাথায় আসবে? থাকুন না ভদ্রলোক, যত দিন বেঁচে আছেন, নিজের মতো থাকুন।

বাবা কোনোদিন বেনারসে আসেননি। এই সব মিষ্টি খেতে খুব ভালোবাসেন। হরিদ্বারে গিয়ে তৃপ্তি করে রাবড়ি খেয়েছিলেন ভদ্রলোক। সকালে আবার তাকে নিয়ে কফি খেতে যেতেন। গ্লাসে গরম দুধ-কফি। বড় হয়ে ঋজু শুনেছিল সে দুধ খেতে চাইত না বলে সামান্য কফি মিশিয়ে ওভাবে দুধ খাওয়ানো হতো তাকে।

এখন বাবা কোথাও যেতে চান না। বলেন, ‘কোথাও যাব না। বাড়িতেই থাকব। তুই ঘোর। আমাকে ডাকিস না।’

একটা গ্রুপ নৌকোয় উঠেছে, কলেজ পড়ুয়ার দল। বাংলাতেই কথা বলছে, কলকাতার ছাত্রছাত্রী হতে পারে। এরা নিজেদের মধ্যেই মগ্ন। কলেজ পড়ুয়ারা তা-ই হয়। সবার মুখের ভাষা নিজেদের নিয়ন্ত্রণেও থাকে না। এদেরও একই ব্যাপার। দেখে মনে হচ্ছে, তারা ছাড়া আর কেউ তাদের চারপাশে নেই।

একটার পর একটা ঘাট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে নৌকো থেকে। সব ঘাটই পরস্পর সংলগ্ন, তবু আলাদা। প্রত্যেকের আলাদা আলাদা ইতিহাস আছে, আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। কোনোটা জমজমাট, কোনোটা বিষণ্ণ। কিছুক্ষণের জন্য ঋজু মগ্ন হয়ে পড়েছিল নিজের মধ্যেই।

হুঁশ ফিরল যখন নৌকোর ছেলেটা বলল মণিকর্ণিকা ঘাটে কিছুক্ষণ দাঁড়াবে। অনেকেই মণিকর্ণিকায় নেমে গেল। সেও দলে পড়ে নামল। একদিকে মহাশ্মশান, অন্যদিকে ঝকঝকে তকতকে সিঁড়ি চলে যাচ্ছে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির অভিমুখে।

নৌকো থেকেই দেখা গেছিল এক ঘাট থেকে অন্য ঘাট অনায়াসে হেঁটে যাওয়া যায়। সে মণিকর্ণিকা ঘাট থেকে হাঁটতে হাঁটতে দশাশ্বমেধ ঘাটে পৌঁছাল।

হাঁটতে দিব্যি লাগছিল। ঘাটের রাস্তার পাশে বিকিকিনির হাট বসেছে, কতকগুলো বাচ্চা এসে দশ টাকা নিয়ে মাথায় টিকা পরিয়ে গেল। প্রথমে যে সে ঠিক করেছিল দশাশ্বমেধ ঘাটে যাবে না, বাস্তবে দেখা গেল সে ওই ঘাটেই পৌঁছে গেল।

আর এখানেই তার সঙ্গে সোমনাথের দেখা হয়ে গেল। সেই সোমনাথ, যার সঙ্গে মাধ্যমিক পাশ করার পর আর কোনোদিন দেখা হয়নি।

সোমনাথকে চিনলও অদ্ভুতভাবে। একইরকম আছে। শুধু প্রস্থে একটু বেড়েছে। মুখটার বয়স হয়েছে। তাছাড়া আর কিছুই তো বদলায়নি! সে দেখামাত্র ডাকল, ‘কী রে সোমনাথ, চিনতে পারছিস?’

সোমনাথ কয়েক সেকেন্ড তাকে চোখ পিটপিট করে দেখল, তারপর বলল, ‘ঋজু না?’

ঋজু হাসল, ‘হ্যাঁ। চিনতে পেরেছিস এই অনেক। কী খবর তোর? মাধ্যমিকের পর তো তোর সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ ছিল না!’

সোমনাথ বলল, ‘হ্যাঁ, তুই স্কুল বদলালি। কম্পিউটার সায়েন্স নিবি বলে তিন স্টেশন দূরের স্কুলে পড়তে গেলি। আর কোনো ব্যাচেও আমাদের আর পড়া হয়ে ওঠেনি। আমার সব মনে আছে।’

ঋজু বলল, ‘এতদিন ধরে এই ইনফরমেশনগুলো যে তোর মেমোরিতে আছে, এটাই অনেক। খবর কী তোর?’

সোমনাথ বলল, ‘এই তো বউ, দুই বাচ্চা, শ্বশুর, শাশুড়িকে নিয়ে ঘুরতে এসেছি। ওরা সব মন্দিরে গেছে। আমি ঘাটে বসেছিলাম। তুই কার সঙ্গে এলি?’

ঋজু বলল, ‘একাই এলাম।’

‘বিয়ে থা?’

‘করেছিলাম। সংসার হল না। এখন সন্ন্যাস নেবার প্ল্যান করছি।’

সোমনাথ মুখ কাঁচুমাচু করে বলল, ‘বেস্ট ভাই। এখন বুঝি এটাই বেস্ট। জীবন একবারে ঝরঝরে হয়ে গেল। একে খুশি করে চলো, তাকে খুশি করে চলো। দ্যাখ না, শ্বশুর-শাশুড়িকে এনেছি বলে বাবা-মা’র মুখ ভার। বোনটাকে কত ভালোবাসতাম, এখন সারাদিন বাড়িতে আমার নামে মা’র কান ভাঙায়। তার আবার বাড়ির ভাগ দরকার। ওর অত বড় শ্বশুরবাড়ি, তাতে শান্তি নেই, বাপের বাড়ির ভাগও চাই। জীবনটা ছোলাভাজা হয়ে গেল ভাই।’

ঋজু সোমনাথের কাঁধে হাত রাখল, ‘তাও ভালো আছিস। দূর থেকে আমাকে দেখে যত ভালোই লাগুক, আসলে

তুই-ই ভালো আছিস।’

সোমনাথ বলল, ‘ছাড় তো। স্কুলের বাকি সবার সঙ্গে যোগাযোগ আছে?’

ঋজু বলল, ‘নাহ, কারও সঙ্গে নেই। তোর?’

সোমনাথ বলল, ‘মাঝে মাঝে রক্তিমের সঙ্গে দেখা হয়। হাবড়া লোকালে। ব্যবসা করছে। আর কারও সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই। আসলে কী বল তো, এই সব বন্ধুত্ব ওই স্কুল লাইফ অবধিই থাকে। তারপর আর কিছুই থাকে না। যখন যার সঙ্গে দরকার হয়, তখন তার সঙ্গে পিরিত হয়। আসলে আমরা সবাই খুব ধান্দাবাজ।’

ঋজু বলল, ‘তা ঠিক। এখানে প্ল্যান কী তোর?’

‘আছি আপাতত। একদিন এলাহাবাদ মানে অধুনা প্রয়াগরাজে সকালে গিয়ে বিকেলে ঘুরে আসব। তোর কি কোথাও যাবার আছে? না থাকলে ঘাটে বস একটু। গল্প করি। প্রাণের কথা তো আর কারও সঙ্গে শেয়ার করা হয় না।’

ঋজু একটু ফাঁকায় বসল। এখন ঘাটে ভিড় বাড়ছে। গঙ্গায় প্রচুর নৌকো চলছে। ওদিকের চরে উট দেখা যাচ্ছে। উটের পিঠে চড়ে অনেকে ফটো তুলছে। ছোটখাটো মেলা বসে গেছে ওদিকে। বছরের শেষ, শীতকাল, এখন মেলার সময়। এখানে কি পাঁপড় ভাজা পাওয়া যায়? দেখতে হবে। হঠাৎ পাঁপড় ভাজা খেতে ইচ্ছে হল।

সোমনাথ বলল, ‘ছোটবেলাটাই ভালো ছিল বল? মাঝে মাঝে সেসব কথা ভাবলে চোখে জল চলে আসে। কত স্বপ্ন ছিল জীবনে। কিছুই করতে পারলাম না। একটা ফেইলিওর হয়ে গেলাম। অফিস, বাড়ি, অফিস। ছেলেকে পড়তে বসাই। মেয়েটা রোজ মা’র কাছে মার খায়। কী অশান্তি জীবনটায়, তোকে কী বলব! অথচ ওই সময়টা তো এসব কিছুই ছিল না। সব কেমন রূপকথার মতো মনে হয় এখন।’

ঋজু বলল, ‘সব বেলাই ভালো। বেঁচে থাকাটাই ভালো। পরে একদিন দেখবি আজকের দিনটাও নস্টালজিয়ায় ঢুকে গেছে। মনে হবে দুই বন্ধুতে মিলে কী সুন্দর গল্প করেছিলাম।’

সোমনাথের দু’চোখ হঠাৎই জলে ভরে উঠল। সে তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছে বলল, ‘সব বন্ধুরা মিলে একদিন দেখা করলে হয়। আমরা তো কেউই কারও সঙ্গে যোগাযোগ রাখি না। এর মধ্যে আবার দু’জন মারাও গেল। ভাবা যায় না রে। আমাদের ব্যাচমেট… একজনের আবার লিভার ক্যান্সার।’

ঋজু বলল, ‘ছাড় না এসব কথা। যত ভুলে থাকা যায় তত ভালো। আরও বল, শুনি তোর কথা। চাকরি করছিস?’

সোমনাথ বলল, ‘হ্যাঁ। প্রাইভেট চাকরি। সরকারি পেলে ভালো হতো। হেবি চাপ থাকে। বাড়ি ফিরে আবার পরিবারের চাপ। তুই কী করিস?’

ঋজু বলল, ‘আমিও চাকরি। আধা সরকারি বলা যায়। এখন একা থাকি বলে অতটা চাপ নেই।’

সোমনাথ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘আর বিয়ে করবি?’

ঋজু বলল, ‘বললাম না সন্ন্যাস নেবার কথা ভাবছি?’

ঘাটেই দু-তিনজন সন্ন্যাসী ধ্যান করছেন। কেউ জলে নেমেছেন। পুরোহিতরা ছাতার নীচে পুজো দিচ্ছেন।

পৃথিবীর প্রাচীনতম শহর, প্রাচীনতম সভ্যতা। এত লোক এসেছে এখন, দেখে মনে হচ্ছে না তাতে স্থান সংকুলানে কোনো অসুবিধা হচ্ছে।

সোমনাথ বলল, ‘সত্যি সত্যি ভাবছিস? পারবি না দেখবি শেষ অবধি। এসব বেড়াতে আসার খেয়ালে আসা চিন্তা, সন্ন্যাস নেওয়া কি এতই সোজা রে?’

ঋজু বলল, ‘কোনো কিছুই সোজা না, তুই যেটা করছিস সেটাও কঠিন কাজ। বেঁচে থাকাটাই আজকাল কঠিন কাজ।’

দুই বন্ধুতে চুপ করে বসে রইল কিছুক্ষণ। হঠাৎ সোমনাথের ফোন বেজে উঠল। সোমনাথ ব্যস্ত হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে তার কাঁধে একটা আলতো চাপড় মেরে জোরে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেল।

ঋজু ঘড়ি দেখল। সাড়ে ন’টা বেজেছে। এবার ফেরা যাক। ঘর দখল করে দেড়-দু-ঘণ্টার একটা ছোট ঘুম দরকার তার। রাতের ক্লান্তিটা এখনও আছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *