১২
অতএব মাতলা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ওরা। দুজনেই জিনস্-এর ওপর পাঞ্জাবী। কাঁধে ব্যাগ। ক্যানিং। না ‘শাকম্ভরীর দ্বীপ’ লেখা কোনও স্পেশ্যাল লঞ্চ হাজির নেই। সোনাখালি, সোনাখালি ভটভটিঅলারা হাঁকছে। গোসাবা চলুন, গোসাবা সেন্টার করে সুন্দরবন দেখে নিবেন আজ্ঞে— পাখিরালয়, সজনেখালি…চলেন, চলেন।’
সরিৎ বললো— শাকম্ভরীর দ্বীপ জানো মাঝি?
জানবো না কেন? পেরাইভেট দ্বীপ। রানিমা থাকেন। ওঁদের আলাদা লঞ্চ সার্ভিস।
এখানে থাকার কথা ছিল, নেই।
তালে তো মুশকিল!
সরিৎ বললো— দেখছো তো সুমনা! চলো ফিরে যাই।
সুমনা বললো— আমি এর শেষ দেখে ছাড়বো— এই মাঝি, শোনো। শোনো।
একটা বড় ভটভটি হাঁকছিল— শাকম্ভরী পেরিয়ে পীরখালি সাতজেলিয়া যাবো গো।
সুমনা দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরলো— শাকম্ভরী চেনো? নামিয়ে দিতে পারবে? লোকটি বললো— তা পারবো, একটু উজানে যেতে হবে দিদি, ডবল ভাড়া চাই। দেবো।— সরিৎদা তুমি এখান থেকে ফিরে যাও। তুমি নিমন্ত্রিত নও এটা মনে রেখো। বলতে বলতে সুমনা তার অ্যাথলিট পায়ে ভর করে চকিতের মধ্যে ভটভটিতে উঠে গেল।
সরিৎ তীরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলো সুমনার কথাগুলো— আমি প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে যুঝতে যুঝতে বড় হয়েছি সরিৎদা, আমার ওপর একটু বিশ্বাস রাখো।
— ওখানে মোবাইল কাজ করবে না সুমনা, হঠাৎ কোনও বিপদে পড়লে…
— কী ধরনের বিপদে পড়লে কী করতে হয় সে জ্ঞান আমার আছে। অতটা বোকা, অসহায় আমি নই। তুমি যাবে না ফর দা সিম্পল রীজন তোমায় ওঁরা ডাকেন নি। ডাকেননি বলেই রঞ্জন বরাবর একা গেছে। ওর প্রেসটিজ সেন্স ছিল ভীষণ স্ট্রং। তোমারও প্রেসটিজ যায় এমন কিছু তুমি করবে না। বিলীভ মি। আমি পারবো।
ভুটভুটি এগিয়ে যাচ্ছে। সুমনা হাত নাড়ছে, মুখে নির্ভীক হাসি। সরিতের চোখে অপার দুর্ভাবনা। দুশ্চিন্তায় মুখ কালো। ভুটভুটি মিলিয়ে যেতেই হঠাৎ যেন তার শরীরে একটা তৎপরতার জোয়ার এলো। সে লাফিয়ে পড়ে থাকা জালের স্তূপ পার হয়ে গেলো। স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ জমাতে জমাতে চললো। বেশ হাসি মশকরা করছে। সূর্য হেলে যাচ্ছে, সরিতের পাবলিক রিলেশন আর শেষ হচ্ছে না।
নদী ক্রমে বিস্তৃত হয়। এপার ওপার কতদূর! ভুটভুটিতে নানারকম যাত্রী। সবাই স্থানীয় গ্রাম্য বাসিন্দা।
একজন বললো— শাকম্ভরী চললেন? তো রানীমার সঙ্গে আগে কথা কয়ে নেন নি? ওঁর লঞ্চো আসে তো!
সুমনা বললো— কথা তো ছিল। কিন্তু আসেনি কেন তা তো আমি বলতে পারবো না।
— উনি খুব বড় রানী, আপনি যান কেন? ট্যুরিস্ট?
সুমনা জিজ্ঞেস করে— ট্যুরিস্ট যায়?
যায় বই কি কখনও সখনও। মন্দির আছে, টিলা আছে, রানীর প্রাসাদ দেখবার মতো। অট্টালিকা একেবারে। মিষ্টি জলের পুকুর আছে। মিষ্টি মাটি নিয়ে গিয়ে কত রকম গাছ গাছালি করেছেন। আবার আমাদের বাদাবনের গাছপালাও আছে। যেন এক বটানিক উদ্যান দিদি। আপনি কেন যান দিদি?
প্রশ্নটা এরা কিছুতেই ভোলে না?
একটা রিসার্চের কাজে যাচ্ছি। বনজঙ্গলের মন্দির নিয়ে, রিসার্চ বোঝেন তো?
দেখেই বুঝেচি। রিসার্চ বুঝি বইকি! ওখানের যে শাকম্বরীর দেউল আছে। লোকে তো বলে তিনশ চারশ বছরের পুরাতন। উনি যেমনটি তেমন রেখেচেন।
সুমনা বললো— জায়গাটা কেমন, মানুষগুলো কেমন কিছুই জানিনা অবশ্য।
কী জানেন? ওনারা হলেন বড়লোক রাজারাজড়া। আমাদের মতো গরিবগুরবোর সঙ্গে কারবার নাই। এদিকে বাদাবনেও ওঁদের প্রচুর জায়গা। প্রজা আছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে নিলে ভালো করতেন।
— জন্তু জানোয়ার আছে?
— আছে তবে ও-ই শেয়াল, হরিণ, খরগোশ, কাঁটাচুয়ো এইসব। ওদের পোষা ভালুক আছে শুনেছি।
অন্য একজন বললো— পাড়ের দিকটা খুব খতরনাক দিদি। কুমির উঠে কেঠো গুঁড়ির মতো পড়ে থাকে। মওকা পেলেই শিকার নিয়ে সড়াৎ।
সুমনা শিউরে উঠলো।
দিদি ভয় পাবেন না। খবর যখন পেয়েছেন, ব্যবস্থা ওঁরা ঠিক করবেন। আর আপনি উঠবেন বাঁধানো ঘাট দিয়ে, দুধারে মোটা তারের জালি, তার ভেতর কুমির আসতে পারে না।
আরেকজন বললো— খুব আদর-যত্ন করবে। হোটেলের মতো। রানীমার নাম বইয়ে উঠলে তো আরোই করবে।
বিকেল। মাতলার জলে বিস্তৃত বিকেল। শাকম্ভরীর দ্বীপের বাঁধানো ঘাটে ভুটভুটি তাকে নামিয়ে দিলো। পাথর বাঁধানো শক্তপোক্ত ঘাট ঢালু হয়ে ওপরে উঠে গেছে। একটু পরে সিঁড়ি, দুধারে সত্যিই তারের শক্ত জাল, লাল রং করা। সে কোথাও কোনও জনমানবের চিহ্ন দেখলো না। ভুটভুটি তাকে নামিয়ে অনেক দূরে চলে গেছে। ঘাট থেকে এগিয়ে দুপাশে গাছে ঢাকা বনপথ। সুমনা কাঁধে ব্যাগ হাঁ করে দাঁড়িয়ে। সে কিছুটা চলে, আবার দাঁড়ায়। বেশ কিছুক্ষণ পরে দেখলো দূরে একটি লোক, চাষী গোছের। তাকে দেখে থমকে দাঁড়ালো। হাত দেখালো ডানদিকে, ডাইনে গিয়ে বাঁয়ে। তাহলে মহিলা ধাপ্পাবাজ! কী উদ্দেশ্যে তাকে এখানে ডেকেছেন! শুধু অপমান করতে? না রঞ্জনের স্ত্রী ও মেয়েকেও খুন করতে! ভাগ্যিস সে টুকটুককে সঙ্গে আনে নি। ভাগ্যিস সরিৎদার কথা শুনেছিল! অবশ্য, সুন্দরবনের গহনে একটা অজ্ঞাতপরিচয় জায়গায় একটা বাচ্চাকে নিয়ে একা আসা যে উচিত না, সেটা সে-ও বুঝেছিল। কিন্তু ওই মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধার একান্ত অনুরোধ’ আর ‘রঞ্জনের স্ত্রী ও মেয়ে’ এই শব্দগুলো তাকে দ্রব করেছিল। টুকটুক ওঁদের বংশধর রঞ্জনের স্ত্রীর জন্য না হোক বংশধরের জন্য মানুষের মনে একটা আলাদা জায়গা থাকে। ঠিক আছে। দিন ধাপ্পা, করুন অপমান, তার জবাব সে দিতে পারবে, চেষ্টা করুন খুন করাতে, দেখা যাক কে জেতে! সে’এর শেষ দেখে ছাড়বে।
মনস্থির করে সে ডান দিকের পথ ধরে বেশ খানিকটা গিয়ে বাঁয়ে তাকাতেই দেখে মোরাম ঢাকা পথ চলে গেছে, দু পাশে কোনও অচেনা গুল্মের বেড়া এবং তার ওদিকে আলো করা ফুলবাগান, লন, সে পথ শেষ হয়েছে একটা লাল ইঁটের বিরাট বাড়িতে। দুপাশে দেবদারু মাঝে লম্বা চওড়া তিন পাট মেহগনি পালিশ দরজা। কোনও বেল সে দেখতে পেল না। বিরাট বিরাট পেতলের কড়া আছে। তাই তো, এখানে তো বিজলি থাকবে না। কড়া নাড়ছে, হঠাৎ বিকট ক্যাচ শব্দ করে খুলে গেল দরজা, অথচ কেউ নেই। লক্ষ্য করে দেখল ছিটকিনি থেকে একটা দড়িমতো কী চলে গেছে ওপর দিকে। তার সামনে অনেকটা চৌকো দালান, তারপর সিঁড়ি। সিঁড়ি দিয়ে এতক্ষণে উর্দিপরা একটি লোক নেমে আসে, হাত বাড়িয়ে দেয়। সুমনা তার ব্যাগ থেকে চিঠিটা বার করে দেয়। দেখে নিয়ে লোকটি ওপরের দিকে আঙুল দেখায়, নিচু হয়ে আপ্যায়নের ভঙ্গি করে। ব্যাপার কী? কথা বলে না কেন? সিঁড়ি দিয়ে উঠতে থাকে সে, পালিশ করা কাঠের সিঁড়ি। মাঝখান দিয়ে কার্পেট পাতা। উঠতে উঠতে প্রথম ল্যান্ডিং। হরিণের শিং শুদ্ধু মাথা। দ্বিতীয় ল্যান্ডিং— মুণ্ডুশুদ্ধু একটা গোটা বাঘের চামড়া ছড়িয়ে আছে দেয়াল জুড়ে। এদের সেই পুরনো কালের ধ্যানধারণা। জমিদার হলেই শিকার করতে হবে, হরিণ, হাতি, বাঘ। শিকারগুলো করেছে কে? রঞ্জন? না, রাজেশ্বরী দেবী স্বয়ং? দোতলায় তখন আধো-ছায়া। চওড়া করিডর চলে গেছে, দূরে একটা গ্রিল দেওয়া
চারপাটের জানলা। সুমনা চমকে উঠলো, জানলার মাথার দেয়ালে একটা বিরাট মুখোশ। মাসাই যোদ্ধা। মাথায় নানারঙের পালক গোঁজা মুকুটের মতো। এরই ছোট সংস্করণ সে একদিন কিনেছিল ঘর সাজাবার জন্যে এবং রঞ্জনের ভীষণ তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। এইজন্য?
দুপাশে চকচকে পালিশ করা সব বন্ধ দরজা। করিডরের দেয়ালে ছবি, ছবি, সে চিনতে পারে অবনীন্দ্রনাথ, অতুল বসু, নন্দলাল, গগ্যাঁ, ভ্যান গখ, রেমব্রান্টও… গাছও রয়েছে। চিত্রবিচিত্র পাতাবাহার, পাম। এসব এখানকার গাছ নয়। নিচের দেবদারুও নয়। মুখটা তার এবারে রাগে লাল হয়ে যাচ্ছে। ভুরু কুঁচকোনো, পিকচার গ্যালারি বা ফুলের বাগান দেখতে সে এখানে আসেনি।
এই সময়ে দূরের একটা দরজা খুলে গেল। জানলায় গোধূলি, খোলা দরজা দিয়ে গোধূলির দিকে পেছন করে একটি অপূর্ব সুন্দরী মেয়ে বেরিয়ে এল। আগাগোড়া কালো পোশাক। শাড়ি ব্লাউজ। হাতে কালো বালা, কানে কালো টপ। চুলগুলো খুব উঁচুতে গুচ্ছ করে বাঁধা। তাকে দেখে ভাবলেশহীন মুখে এগিয়ে এলো যুবতীটি।
— আপনি?
— সুমনা মুখার্জি— রাজেশ্বরী দেবীর চিঠিটা তার হাতে ধরাই ছিল।
— একটু পেছিয়ে যান, রুম নাম্বার থ্রি। সব রেডি আছে। …একবার তার মুখের দিকে তাকালো তারপর যেদিক থেকে এসেছিল সেইদিকেই চলে গেল পেনসিল হিলের খটখট আওয়াজ তুলে।
অপমান নাম্বার থ্রি। সুমনা আপনমনেই বললো।
তিন নম্বর ঘরের দরজায় চাবি ঝুলছে। খুলতেই একখানা চমৎকার ঘর ভেসে উঠলো। একটা ভালো হোটেলে যা যা সুবিধে থাকে, সেসব তো আছে বটেই। কিন্তু তার সঙ্গে বনেদিয়ানা। কারুকাজ করা খাট, ক্যাবিনেট, দোল চেয়ার, গদীমোড়া সোফা। দেয়ালে একটিমাত্র ছবি। হাতে আঁকা স্কেচ— রঞ্জন। অনেকদিন পরে ছবিটার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ ঢেকে কেঁদে ফেলল সুমনা। সঙ্গে সঙ্গে দপ করে জ্বলে উঠলো ইলেকট্রিক আলো। দরজায় নক। সে নিজেকে সামলে খুললো। উর্দিপরা একটি লোক। হয়তো সেই লোকটাই। হাতে একটা রুপোর ট্রেতে কার্ড। লেখা— শাকম্ভরীর দ্বীপে স্বাগত। রাজেশ্বরী দেবীর অনুরোধ, ১৪ নং ঘরে তিনি এখনই মিসেস রঞ্জননারায়ণ মুখার্জি ও মিস রঞ্জন নারায়ণ মুখার্জির সঙ্গে দেখা করতে চাইছেন।
লোকটি দাঁড়িয়ে রইলো। তার সঙ্গে ঘর থেকে বেরোল সে। লোকটি ঘরে চাবি দিয়ে চাবিটা সুমনার হাতে দিল। তার পেছন পেছন ১৪ নম্বর ঘরের সামনে এসে টোকা দিতেই খুলে গেল দরজা। এ ঘরটা তিন নম্বরের ডবল। সিটিং কাম অফিস মনে হয়। দেয়ালে দেয়ালে নানান অয়েলপেন্টিং, একটা কাঠের হাতির মাথা তার মুখোমুখি। নানা জায়গায় কিউরিও। থামের ওপর, টেবিলের ওপর। একটা বিরাট অর্ধচন্দ্রাকার সেক্রেটারিয়েট টেবল। ওপাশে সিংহাসনের মতো উঁচু চেয়ার। জেগে আছে কাঁচা পাকা চুলে ভরা একটি মাথা, চুল খুব স্টাইলে বাঁধা। তার ঢোকার শব্দ হতেই চেয়ার ঘুরে গেল। ভদ্রমহিলা শ্বেতপাথরের মতো ফর্সা। চোখে হালকা সুরমার ছোঁয়া। ঠোটে আলতো লিপস্টিক। শাদা সিল্কের সরু রুপোলি জরির পাড় দেওয়া শাড়ি আর ব্লাউজ পরা ভদ্রমহিলা। লেডি রাণুর মতো হয়তো নয়, কিন্তু আরও ক্ষুরধার ব্যক্তিত্বশালিনী। ভুরুতে সামান্য ভাঁজ। সুমনা দুহাত জড়ো করে নমস্কার করলো।
— একা কেন?
— চার বছরের বাচ্চাকে নিয়ে একটা লোকভর্তি ঝুড়ির মতো ভটভটিতে আসার দুর্বুদ্ধি আমার হয়নি। বিশেষত যেখানে আমাকেই হাতড়ে হাতড়ে একটা অচেনা ভূতুড়ে বাড়ির মধ্যে খুঁজতে খুঁজতে….
— মানে?— তীক্ষ্ণস্বরে বলে উঠলেন উনি।
— মানে কী? আপনিই বলুন! ক্যানিং-এ নদীঘাটে কোনও লঞ্চ ছিল না, এই দ্বীপে ফেরিঘাটে কোনও লোক ছিল না, এই বাড়ির ত্রিসীমানায় কেউ আমাকে ওয়েলকাম করেনি। আমার কোনও ইচ্ছেই ছিল না আসার। নেহাৎ আপনি…কথা দিয়ে কোনও কথা রাখবেন না …এতটা আমি ভাবতে পারিনি।— তার গলার স্বর তীব্র নয়, কিন্তু নীরস।
— হোয়াট ডু য়ু মীন? ক্যানিং-এ আমাদের লঞ্চ ছিল না? ফেরিঘাটে লোক ছিল না? বাড়িতে কেউ তোমাকে….
— না। দৃঢ় গলায় সে বললো।
— আই সি।— মহিলার মুখে একটা ধূর্ত হাসি ফুটে উঠেই মিলিয়ে গেল। সুমনা বললো— আমি কালই ফিরে যাবো। সম্ভব হলে এখনই যেতাম মহিলা একটা বেল টিপলেন। উর্দিপরা লোকটি ঢুকলো।
— তেজস্বিনী মেমসাবকো বুলাও।
লোকটি সেলাম করে চলে গেল।
— বসছো না কেন? না বসলে কিসের সমাধান হবে?
সুমনা যেমন দাঁড়িয়েছিল, দাঁড়িয়েই রইল।
খটখট শব্দ বাইরে, কালো শাড়ি পরা মেয়েটি এসে ঢুকলো। ওহ্, এই তাহলে রঞ্জনের সেই ওল্ড ফ্লেম! সুন্দরী, কিন্তু দাম্ভিক, জেদী, স্বার্থপর সেটা দেখলেই বোঝা যায়। এখন খুব সম্ভব রঞ্জনের স্ত্রীর মাপ নিচ্ছে।
— সুমনার ঘর দেখিয়ে দাও।
— হয়েছে।
— কোনও অযত্ন অসুবিধে যেন না হয়। ওর দেখাশোনার জন্যে রতনলালকে দাও। সব সময়ে থাকবে। সুমনা তুমি বিশ্রাম নাও। রাত্তিরবেলা আমরা একসঙ্গে খাবো। একটা কথা…হাতটা ওপর নিচ করলেন উনি এভাবে নয়, সাজগোজ করে আসবে।
