১১
স্মৃতিতে মগ্ন ছিল সুমনা। রঞ্জনের তথাকথিত মৃত্যুর পর তিনবছর কেটে গেল। সে এখনও বিশ্বাস করতে পারে না। মনে হয় যে কোনও মুহূর্তে রঞ্জনের বাইক গেটে এসে থামবে। কিংবা ট্যাক্সির ক্লিং আওয়াজটা হবে। বেল বাজবার আগেই দরজা খুলে দাঁড়াবে সুমনা। কিম্বা তার অফিস-আওয়ার শেষ হওয়ার মুখে কাঁচ-দরজা সজোরে ঠেলে ঢুকে আসবে রাজকুমার। হাসিতে বিজলি খেলছে। দুজনে চোখে চোখে চাইবে। বিদ্যুৎ বইবে, তারপর বাইকের পেছনে উঠে পড়বে সে। প্রথমে ক্রেশ। সেখান থেকে মেয়েকে তুলে সোজা বাড়ি। হঠাৎ হঠাৎ চমকে ওঠে সে বাড়িতে, অফিসে, রাস্তায়। রঞ্জনের গলার আওয়াজ না! রঞ্জনের গায়ের গন্ধ ভাসছে হাওয়ায়। নেই। নেই। নেই। সে তাকে শেষ দেখেছে এক শনিবারের সকালে। সুন্দরবন যাবে বলে বেরিয়ে যাচ্ছে। ইদানিং কোনও ওভারনাইট ব্যাগ-ট্যাগ নিত না। সবই ওর ওখানে আছে। হাসিমুখে উড়ন-চুমু ছুঁড়ে দিল। চলে যাচ্ছে। রঞ্জন চলে যাচ্ছে। সে জানত না চিরদিনের জন্য। তাই যেতে দিয়েছিল। যাবার ক্ষণটাকে আলাদা করে কিছু দেয়নি। ভালুক টিলা! তারা দেখতে দেখতে পা ফসকেছে! কুমির! ওহ, আই ডোন্ট বিলীভ ইট রঞ্জন, আই ডোন্ট বিলীভ ইট। কোনদিনও বিশ্বাস করবো না। সে দুহাতে মুখ ঢাকলো। কত দিন কেটে গেল টুকটুক কলকল করে কথা বলছে, নার্সারি স্কুলে যাচ্ছে। ওহ্ কতদিন! একেকবার মনে হয়— এই তো সেদিন! সেই প্রথম দেখা, লেক, রিচ হোটেল, অদ্ভুত পাগলের মতো বিয়ের প্রস্তাব, নাইটক্লাবে নাচ— রেজিস্ট্রি অফিস…এই তো সেদিন ঘটলো, এখনও ঘটনাগুলো ঘটে যাচ্ছে। ঘটেই যাচ্ছে। তারপরই মনে হয়, না। সে কত কত যুগ আগে ঘটেছিল। কিম্বা ঘটেইনি, সবই কল্পনা, স্বপ্ন, স্বপ্ন দেখেছিল। সেই স্বপ্নের দাম চোকাতে হবে সারাজীবন ধরে। টুকটুক কোনদিন জানবে না এক স্বপ্নে দেখা রাজপুত্তুর তার বাবা ছিল।
পাঁচ পাঁচ দিন পর যখন সব শেষ, পুড়িয়ে শেষ করে দিয়েছে সমস্ত নশ্বর চিহ্ন, তখন এসে খবর দিচ্ছে। কী? না দুঃসংবাদ দিতে কারো পা ওঠেনি। সেইজন্যে ঝড়ের রাতে প্রবল বৃষ্টি আর নিষ্প্রদীপ সময়টা বেছে নিয়েছিল, এতটাই বিবেচনা। রঞ্জনের বেচারা বিধবার জন্যে। রাজেশ্বরী আমি এতদূর থেকে টের পাচ্ছি এ তোমার কাজ। শেষবার রঞ্জন বলে গিয়েছিল— সুমন, তোমার হক আমি ছিনিয়ে আনবোই! এই জেদই কাল হল। কেন আমি তোমাকে যেতে দিলাম। একজন বৃদ্ধা, পিতামহী তিনি খুনী তাহলে! একটা পরিবারে এত অ্যাকসিডেন্ট সুইসাইড হয় কী করে? কে জানে ওই মহিলা এক রক্তপিশাচী উন্মাদিনী কিনা। নিজের কর্তৃত্বের মুঠি আলগা হয়ে যাচ্ছে দেখলেই ওঁর করাল হাত নেমে আসে। অ্যাকসিডেন্ট হয়। সুইসাইড হয়। ডমিনেটিং, পজেসিভ, বাবা-মার অত সম্পত্তি। ভাই ছিল ভাগীদার, সে-ও নাকি জলে ডুবে মারা যায়। কে জানে সেই জলের তলায় কার হাত ছিল? কী ভয়ংকর! কী নৃশংস
সরিৎদা না থাকলে?
সরিৎদা মাথায় জলের ছিটে দিচ্ছে। ওষুধ দিল। হাসপাতাল। ডাক্তার বলতেন— ইনি কি খান নাই অনেকদিন! এত ম্যালনিউট্রিশন।
বিষণ্ণ চোখে চেয়ে আছে সরিৎদা। সুমনার চোখে চোখ মিলল। সরিৎদার চোখে এত যন্ত্রণা। এত আকুলতা সে আগে কখনও দেখেনি। সুমনা আস্তে আস্তে চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।
সরিৎদা। তোমার মন এখন আমি বুঝি। জলের মতো স্বচ্ছ দেখতে পাই। তুমি না থাকলে টুকটুকের কী হত? দিনের পর দিন এসেছ, গেছ, টুকটুককে কখনও কনভেন্টে, কখনও নিজের বাড়িতে রেখে অঢেল যত্ন, আদর দিয়েছ, আজ আমাকে সুস্থ করতে প্রাণপণ করেছো। তোমার কাছে অশেষ ঋণ আমার। কিন্তু আমি যে পারি না। পারবো না। রঞ্জনের কাছে এখনও আমার মন, প্রাণ, শরীর সব গচ্ছিত আছে। তার জায়গায় আর কাউকে? না। আমি নিরুপায় সরিৎদা!…অথচ কী ভাবে, কোন হিসেবে তোমার এত সাহায্য নেবো! কোন মুখে? টুকটুক দাদা ছাড়া জানে না। তার চার বছর বয়সে সে সরিৎ ছাড়া আর কোনও পুরুষ মানুষের স্নেহ, ভালোবাসা, আদর পায়নি। আর তুমি? তুমি সুমনা? সে নিজেকে প্রশ্ন করে। আমিও তোমাকে না দেখে থাকতে পারি না। জীবনে কোথাও যদি নিঃশর্ত স্নেহ আর ভরসার জায়গা থাকে সে সরিৎদা। এখনও বেঁচে থাকবার প্রেরণা পাই। মেয়েকে বড় করে তোলার জোর পাই। কিন্তু আমি যে একেবারে নিরুপায়।
সে বারবার তার ফটো অ্যালবামগুলো দেখে। রঞ্জনের ছবি, তার ছবি, দুজনের ছবি। আশ্চর্য। একমাত্র বিয়ের পর স্টুডিওয় তোলা পোশাকি ফটোটা ছাড়া আর সর্বত্র সরিৎ রয়ে গেছে। হয় পাশে, নয় পেছনে, অস্পষ্ট। কিন্তু আছে। আর না হয় স্রেফ কাটা পড়ে গেছে। ভাগ্য যেন তাকে কেটে বাদ দিয়ে দিয়েছে।
অফিস থেকে ফিরে চান সেরে জামাকাপড় বদলে এলো সুমনা। মিনতি ওকে চা দিল।
ঠিক আছে মিনতি এবার তুমি টুকটুককে নিয়ে একটু বেড়িয়ে এসো।
— হ্যাঁ দিদি। ছটফট করছে বেবি, পার্কে কত বন্ধু হয়েছে।
শোনো, তুমি কিন্তু গল্পে জমে যাবে না। খেয়াল রাখবে। দূরে যেতে দেবে না।
— বেবিকে ছেড়ে আমি কোথাও যাই না দিদি।
মিনতি চলে যাচ্ছে হঠাৎ পেছন ফিরে বললো— তোমার একটা জরুরি চিঠি এসেছে দিদি। কুরিয়ার দিয়ে গেল। বইয়ের তাকে রেখে দিয়েছি।
চায়ে খুব আস্তে চুমুক দিচ্ছে সুমনা। অন্যমনস্ক। সে যখন হাসপাতালে, তখন সরিৎ— ওর প্রিয়নাথ মুখার্জির ফ্ল্যাট ছেড়ে দেয়। ফার্ন রোডের এক শান্ত পাড়ার দোতলায় এখন থাকে সে। ও বাড়ির একটা ফার্নিচারও এখানে আনেনি সরিৎ। জিজ্ঞেস করলে বলে— বাড়ি ভাড়া বাকি পড়েছিল, বাড়িঅলা ওগুলো ছাড়েনি। সুমনা বিশ্বাস করে না। সবই চুকিয়ে দিতে পারলো আসবাবগুলো আর পারলো না? আসল কথা, ওইসব স্মৃতিজড়িত জিনিস সুমনাকে প্রতিমুহূর্তে কষ্ট দেবে তাই, তাই এ বাড়িতে নতুন খাট, নতুন সোফা-কৌচ, নতুন ওয়ল ক্যাবিনেট, একটা কাপ-প্লেট পর্যন্ত নেই, যেটা ওখানকার। গোড়ার দিকে সুমনা লক্ষ্য করেনি। কিছুদিন সে তো মাদারের আশ্রয়ে ছিল। তখনই একটি একটি করে সব গুছিয়েছে সরিৎদা, তার দিদিকে নিয়ে। সে যখন এলো, একটা ঝকঝকে নতুন বাড়িতে। নতুন চাদর, নতুন পর্দা, নতুন বাসনপত্র। যখন খেয়াল হল— এটা কোথায় গেল, ওটা কেন? ওই এক কথা। বাড়িঅলা দেয়নি। কী করব বলো? সব বাদ দিলেও তো ফটো থেকে যায়, জামাকাপড় থেকে যায়। বাড়ি এসে সে একদিন ওয়ার্ডরোব খুলে রঞ্জনের জামাকাপড়গুলো গুছোবার নাম করে তার মধ্যে বুঁদ হয়ে বসেছিল। কখন সরিৎ এসেছে টের পায়নি। সেইদিন সরিৎদা তাকে বড্ড বকেছিল। কথাগুলো এখনও কানে বাজে তার— সুমনা, দুঃখটা সত্যি, অস্বীকার করছি না। কিন্তু তোমার এটা দুঃখবিলাস। পাছে দুঃখ তোমায় ছেড়ে চলে যায় তাই চারদিকে স্মৃতি ছড়িয়ে বসেছো। তুমি একটা ছাব্বিশ বছরের মেয়ে, পুরো জীবন তোমার সামনে পড়ে রয়েছে, সামনে রয়েছে চার বছরের একটা শিশু। তোমার দায়িত্ব নেই বাচ্চার প্রতি? নিজের প্রতি? কোনও কর্তব্যের কথা তোমার মাদার বা সিস্টাররা বলেননি? এ কী অসুস্থ মনোবিকার? তুমি একটা প্রাণ শক্তিতে ভরপুর, সাহসী, স্পোর্টস উওম্যান ছিলে, কত সহজে উঁচুতে উঠে যাচ্ছিলে। এই কি তোমার মৃত্যু নিয়ে অবসাদগ্রস্ত হবার সময়? আমরা জীবন পাই হয়ত বা একবার মাত্র সেই জীবনকে এইভাবে বাজে খরচ করছো?
এতসব কড়া কথা সরিৎদা আর কখনও তাকে বলে নি। সে অবাক হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সে লজ্জা পেয়েছিল। সত্যিই তো। একটা প্রাণকে সে এত ভালোবেসে পৃথিবীতে এনেছে। সে কি এমনি অবহেলা করবার জন্য? তা ছাড়াও একটা গোপন সংকল্প তার আছে। যদি সুযোগ পায়, এতটুকুও সুযোগ, সে রঞ্জনের মৃত্যুরহস্যের কিনারা করতে চায়। খুনীকে শুধু দাগিয়ে দেওয়া। শাস্তি চাই না। অশীতিপর এক বৃদ্ধাকে সে কী শাস্তি দেবে? আদালতের বাইরে, সমস্ত প্রিয়জন, প্রজা, দাস— দাসীদের সামনে তাঁকে খুনী বলে শনাক্ত করবে সে। কিন্তু মাঝে মাঝে সন্দেহও হয়, সত্যিই কি উনিই অপরাধী! আরও এতজন ওদের পরিবারে, আর কেউ যদি?…এই কথাটাই সে সরিৎকে একদিন বলে ফেলে।
সরিৎ আশ্চর্য হয়ে বলেছিল— তুমি কি পাগল হলে সুমনা? রাজেশ্বরী দেবীকে তুমি কতটুকু চেনো? তার চেয়ে বেশি চেনো না রঞ্জনকে? কী অসম্ভব বেপরোয়া ছিল ও! কীভাবে বাইক চালাতো? মনে নেই? কীভাবে আমার গাড়ি আর গাড়িশুদ্ধ মানুষগুলো নিয়ে ও ছিনিমিনি খেলতো! সুমনা, ওইরকম দস্যি বেপরোয়া হলে দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে। এটা মেনে নাও। ওকে খুন করে কার কী লাভ? এ সব ভেবো না।
আর কোনদিন এটা উচ্চারণ করে নি সে সরিতের সামনে। কিন্তু ভেতরের সন্দেহ যায়নি, যদিও সংকল্প মিইয়ে এসেছিল। কীভাবে এগোবে? এগোনোর সব পথই যে বন্ধ!
তাক থেকে চিঠিটা তুলতে গিয়ে যেন সাপের ছোবল খেল সে। খুনখারাপি রঙের একটা আয়তাকার বড় মোটা হ্যান্ডমেড পেপারের শৌখিন খাম। তার কোণে সোনালি মনোগ্রাম। টাইপ করা ঠিকানা। আস্তে আস্তে চিঠিটা খুললো সে। দামি হাতির দাঁতের রং হ্যান্ডমেন্ড পেপার। এক কোণে লেখা রাজেশ্বরী দেবী, শাকম্ভরীর দ্বীপ, সুন্দরবন, দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা, পশ্চিমবঙ্গ।
চিঠির বয়ান এইরকম,
কল্যাণীয়া সুমনা,
আগানী ১২ জুলাই আমার আশি বৎসর পূর্ণ হবে। তদুপলক্ষে আমার প্রিয়জনরা সব কয়েকদিন আমার কাছে আসবে। আমি আমার রঞ্জনের স্ত্রীকে, কন্যাকে দেখতে চাই। হয়তো এই আমার শেষ আমন্ত্রণ। আশা করি মৃত্যুপথযাত্রী বৃদ্ধার একান্ত অনুরোধ উপেক্ষা করবে না। তোমার জন্য ফেরিঘাটে লোক থাকবে। ৯ই জুলাই তারিখে দুপুর একটার সময়ে ক্যানিং থেকে লঞ্চ নেবে, তাতেও লেখা থাকবে দ্বীপের নাম।
ইতি,
রাজেশ্বরী দেবী
শাকম্ভরীর দ্বীপ
সঙ্গে পথের একটি ছোট মানচিত্র। চিঠির হাতের লেখা একজনের। স্বাক্ষর আলাদা লোকের। কৌণিক, বড় এবং জড়ানো, ভালো করে বোঝা যায় না।
চিঠিটা হাতে করে স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে সুমনা। এই আমার শেষ আমন্ত্রণ? যেন অনেক প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ছিল! কিন্তু এই সেই বহু প্রতীক্ষিত সুযোগ। ভেবেছিল পাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেলো। ঈশ্বর তার প্রার্থনা শুনেছেন। এখন শোক সুমনার হৃদয়ের মধ্যে একটা অচঞ্চল পাথরের মূর্তির মতো বসে থাকে। কিন্তু সে নিজের বাইকে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে গিয়ে অফিসে যায়। তাদের হোটেল এখন আরও বড় হয়ে গেছে। বিশাল হলে যদি কোনও বিশেষ অনুষ্ঠান থাকে তার জন্য সবরকম যোগাযোগ ও আপ্যায়ন ব্যবস্থা তাকেই করতে হয়। সরিৎ এখনও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার। কিন্তু আসলে ম্যানেজার সেই-ই। যে শিল্পপতির নাম ম্যানেজার হিসেবে আছে তিনি আরও নানান ব্যবসায় ব্যস্ত। হোটেলের চূড়ান্ত দায়দায়িত্ব সরিৎ বিশ্বাসের। এখন সুমনার কোনও য়ুনিফর্ম নেই। সে সাধারণত পুরোদস্তুর শার্ট প্যান্ট টাই পরে অফিস যায়। কোনও অনুষ্ঠান থাকলে শাড়ি বা ড্রেস। তার চেহারার মধ্যে সেই ছেলেমানুষি হয়ত আর নেই। কিন্তু বোঝা যায় এই তরুণী মেয়েটি অনেক দায়িত্ব পাবার যোগ্যতা অর্জন করেছে।
এই চেহারাতেই সে সরিতের মুখোমুখি হয় পরদিন সন্ধেবেলায়।
চিঠিটা উল্টে পাল্টে দেখে একেবারে নিস্পৃহভাবে সেটাকে টেবিলের ওপর রাখে সরিৎ। বলে— টুকটুকের যাবার প্রশ্নই নেই। তুমিও যাচ্ছো না।
সুমনা জেদি গলায় বললো— কেন?
সরিৎ পায়চারি করতে থাকে। যেন যা বলবে ভেবে নিচ্ছে বা বলবার শক্তি সঞ্চয় করে নিচ্ছে। একটু পরে দাঁড়িয়ে অদূরে সুমনার দিকে সোজা তাকিয়ে বললো— ওই ব্ল্যাক চ্যাপ্টারটা তুমি ভুলে যেতে পারো না সুমনা? মনে করো না ওসব কিছু ঘটেনি।
সুমনা কড়া গলায় বললো— কোনটা ব্ল্যাক চ্যাপ্টার সরিৎদা? রঞ্জনের অপঘাত মৃত্যুটা? না রঞ্জনের সঙ্গে আমার জীবনের পুরোটাই? সবটাকেই বোধহয় তুমি ব্ল্যাক বলতে চাইছো!
সরিৎ থমকে গেল।
সুমনার গলায় এবার রাগ এসে গেছে। সে বললো— বলো, চুপ কেন? আমি জানি, আমাকে জানতে হয়েছে রঞ্জনকে তুমি কোনদিন পছন্দ করেনি। হতে পারে সে একটু অন্যধরনের ছিল। অসাধারণ! তাকে আমাদের মাপকাঠি দিয়ে বিচার করা যায় না। কিন্তু সে আমার জীবনের উজ্জ্বলতম অধ্যায়। সে সময়টা ব্ল্যাক— আমিই বা ভাববো কী করে, আর তুমিই বা তা বলো কোন প্ৰাণে?
সরিৎ বিবর্ণ হয়ে যায়। যেন প্রতিটি কথা তাকে কুঁকড়ে দিচ্ছে।
অবশেষে সে আস্তে আস্তে বললো— তুমি যে রঞ্জনকে দেখেছো সে তোমারই রঞ্জন সুমনা। সেখানে কোনও কালো নেই। কিন্তু ওই দ্বীপ, ওদের পরিবার এ সমস্তই তোমার জীবনে দুর্দৈব নিয়ে এসেছে। এখন রঞ্জনকে তো আর ফিরে পাবে না। আমার মনে হয় ওদের সংস্রব তুমি ত্যাগ করো সুমনা। ওরা তো তোমায় চায়নি।
সুমনা বললো— তোমার মনে হয়, কিন্তু আমার তা মনে হচ্ছে না সরিৎদা। মনে হচ্ছে সেটা সত্য থেকে পালানো। টুকটুক রঞ্জনের পরিবারের অংশ। যদি বড় হয়ে কোনদিন বলে আমার বাবার পরিবারের থেকে আমার দূরে রেখেছিলে কেন? কেন লুকিয়েছিলে? কী জবাব দেবো তখন? তাছাড়াও, এ রহস্য আমায় ভেদ করতে হবে। রঞ্জনের খুনী কে— জানতে হবে। এটা রঞ্জনের প্রতি আমার কর্তব্য। এ-ও ভাবো। চাননি আগে। কিন্তু এখন চাইছেন। এর কারণই বা কী? এ রহস্যও না জানা অবধি আমার শান্তি নেই।
