আদি পর্ব
গঠন পর্ব

রাস্তা ও রাস্তার নাম

রাস্তা ও রাস্তার নাম

মহকুমা সদরের সাথে পাশের জনবসতিগুলির যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে পায়ে চলার রাস্তার যে ব্যবস্থা ছিল তা মোটামুটি ভালই। মহকুমা সদরের কাছারী ও প্রশাসক ভবনের সামনে দিয়ে একটা রাস্তা দীর্ঘ হয়ে নদীর ঘাট এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিকের ছোট দুটো সংযোগ রাস্তা ছাড়া আর কোন রাস্তা নির্মাণ হয়নি। এবং যদিও মহকুমা সদরে জেলা শহর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় পরিকল্পিত নক্সানুয়ায়ী নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল তথাপি মহকুমা সদরকে জেলা সদরে উন্নীত করার চল্লিশ বছরের মধ্যেও পরিকল্পিত শহর নির্মাণের কোন নক্সা প্রণীত হয়েছিল বলে জানা যায় না।

১৮৮২ সালে জেলা ঘোষিত হবার পর ওই সালেই রোড সেস বোর্ড আইনে জেলা রোড সেস বোর্ড গঠিত হয় এবং পদাধিকার বলে জেলা প্রশাসক মি: উব্লিউ, এম, ক্লে বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এই বোর্ড শহর ও জেলার রাস্তা নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। পরিকল্পিত শহর এলাকায় পূর্বের রাস্তা গুলিকে বিন্যাস ও সংস্কার সহ কিছু নতুন রাস্ত। এই সময়ে নির্মিত হয়। রূপসা খাল থেকে যশোর সড়ক সোজা ও পুব পশ্চিম লম্বা ছিল। এই রাস্তার উত্তর দিকে মহকুমা সদরের অনুরূপ একটা রাস্তা (কে, ডি, ঘোষ রোড) পূর্ব নির্মিত ছিল বলে এই রাস্তার পাশে যাবতীয় সরকারী স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কার্যালয় এবং পুব পশ্চিমে দীর্ঘ রাস্তা দু’টি বাসস্থানের ভিত্তিতে মুখর হয়ে ওঠে। যশোর রোডের দক্ষিণ পাশ দিয়ে আর একটা রাস্তা (সাউথ সেন্ট্রাল রোড) পুব পশ্চিম দিক করে নির্মিত হয়। এ রাস্তা পশ্চিম দিকে মধ্যবর্তী একটা রাস্তায় (সারদা বাবু রোড) মিলিত হয়ে সামান্য উত্তরে সরে (বি, দে, রোড) সোজা পশ্চিম- মুখো হয়ে শহর সীমানা রাস্তা ফেরীঘাট রোডে পঞ্চবীথির মোড়ে মিলিত হয়। অপর একটা রাস্তা রূপসা খেয়াঘাট থেকে পশ্চিমমুখী হয়ে ফেরীঘাট রোড নামে পঞ্চবীথির উত্তরে যশোর রোডের সাথে মিলিত হয়। সড়ক পরিকল্পনায় ফেরীঘাট রোড দীর্ঘ সড়ক ও শহর সীমানা রাস্তা বলে পরি- চিত ছিল। ফেরীঘাট রোডের পুরপ্রান্তে রূপসা ট্র্যাণ্ড রোড থেকে নদী পৰ্যন্ত ১৯১৮ সালে একটা ডাইভারসান রোড নির্মিত হয় (এল, এ কেস নং ২ তারিখ ১-৫—১৯১৮। জমির মালিক এরফান শেখ ও পূর্ণচন্দ্র চ্যাটার্থী) এ রোডের নাম হয় রূপসা এ্যাপ্রোচ রোড। উল্লেখ্য এই রাস্তা ছাড়াও আর একটা রাস্তা রূপ- সার ফেরীঘাট রোড থেকে রূপসার পাড় দিয়ে রূপসা ট্র্যাণ্ড রোড নামে নতুন বাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পৌরসভার প্রয়োজনে ফেরী ঘাট রোড থেকে ময়লাপোতা পৰ্য্যন্ত ফারাজীপাড়া রোড নামে অপর একটি রাস্তা তৈরী হয়। পুরাতন যশোর সড়ক ক্লে রোড থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত রেল এলাকার মধ্যে পড়ায় রেলের বাইরে দক্ষিণ পাশ দিয়ে বিকল্প যশোর সড়ক (বর্তমান সড়ক) জোড়াগেট পর্যন্ত নতুন ভাবে নির্মিত হয়।

এ ছাড়াও কয়েকটা ছোট রাস্তা আড়াআড়ি ভাবে মাঝে দীর্ঘ রাস্তাগুলির সাথে সংযোগ করা হয়। যেমন যশোর সড়ক থেকে কে, ডি, ঘোষ সড়ক পর্য্যন্ত জেলা স্কুলের পশ্চিম পাশের রাস্তা, ফরেষ্ট অফিসের পশ্চিম পাশের রাস্তা, জেলা প্রশাসন ভবনের পশ্চিম পাশের কে, ভি, চক্রবর্তী রোড। ‘ কে, ডি, ঘোষ সড়ক থেকে ভৈরব ট্র্যাণ্ড রোড পর্যন্ত হাসপাতালের পাশের রাস্তা হাসপাতাল ওয়েষ্ট রোড, পৌর উদ্যানের পশ্চিম পাশ দিয়ে যশোর সড়ক পর্য্যন্ত আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড, যশোর সড়ক থেকে সাউথ সেন্ট্রাল রোড পৰ্য্যন্ত পুলিশ লাইন ইষ্ট লেন এবং সিমেট্রি রোড থেকে ফেরীঘাট রোড পর্যন্ত রামচন্দ্র দাস লেন। অন্যান্য রাস্তাগুলির শহর মধ্যের অংশ বিন্যাস ও সংস্কার করে পরিকল্পনা ভুক্ত করা হয় এবং বাকী রাস্তাগুলি কোন কিছু না করেই পূর্ববৎ রেখে দেয়া হয়।

ভৈরবর্তীরের শিববাড়ী থেকে নদীর পাড় দিয়ে একটা রাস্তা বহু আগে থেকে বর্তমান জেলখানা খেয়াঘাট পর্যন্ত ছিল। (জেলখানা খেয়াঘাটের পূর্ব নাম জানা যায়নি) এই রাস্তার পশ্চিমাংশ চার্লিগঞ্জের হাট পর্যন্ত ষ্টিমার কোম্পানীভূক্ত রাস্তা হয় এবং বাজার মধ্যের অংশ ওল্ড বাজার রোড ও ডেলটা ঘাট থেকে খেয়াঘাট পর্যন্ত ভৈরব স্ট্র্যাণ্ড রোড নাম হয়। উল্লেখ্য বর্তমান কালিবাড়ী থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত রাস্তাটি নদীর স্রোতে ভেঙ্গে গেছে। এ ছাড়া টুটপাড়া-বেনে খামারের সাথে মির্জাপুর ও চার্লিগঞ্জের হাট এবং নদীর ওপারে যাতায়াতের যে সব সংযোগ রাস্তা ছিল পরিকল্পিত শহর অংশে সংস্কার ও প্রশস্ত করে শহর- ভূক্ত করে নেয়া হয়—যেমন, টুটপাড়ার পুবদিকে কবরখানা রোডের উত্তরাংশ প্রশস্ত করে যশোর রোড পর্যন্ত হাজী মহসীন রোড পুনঃ নির্মিত হয় এবং টুটপাড়ার মাঝের রাস্তা পূর্বে জেলখানা ঘাট পৰ্য্যস্ত ছিল। এই রাস্তার ফেরীঘাট রোড থেকে উত্তরাংশ বাবুখান রোড, সাউথ সেন্ট্রাল রোড পর্যন্ত অবহেলিত রেখে (সম্ভবতঃ পূর্ব বসতির অবস্থিতির জন্যে) সাউথ সেন্ট্রাল রোড থেকে যশোর রোড পর্য্যন্ত সংস্কার ও প্রশস্ত করা হয়। যশোর রাস্তা থেকে খেলার মাঠ (বড় মাঠ) একক করার জন্য কিয়দংশ বিলুপ্ত করে খেলার মাঠ ও সার্কিট হাউজ মাঠের মধ্য দিয়ে সোজা করে নির্মিত হয়। অনুরূপ পশ্চিম দিকের মিয়াপাড়া রাস্তার উত্তরাংশ সোজা ও প্রশস্ত করে যশোর রোড পৰ্য্যস্ত পুনঃ নির্মিত হয় (সারদা বাবু রোড)।

বেনেখামারের পুবদিকের দুটি রাস্তা একটি টুটপাড়া বেনেখামার সীমানা রাস্তার (টি, বি. বাউণ্ডারী রোড), ফেরীঘাট রোডের উত্তরাংশ মির্জাপুর রোড (ইউছুফ রো) অবহেলিত হয়ে পূর্ববং পায়ে চলার রাস্তা থেকে যায়। পরে ১৯২০ সালে বি, দে, রোড থেকে কিছু অংশ পৌরসভা কর্তৃক প্রশস্ত করে পুনঃ নির্মিত হয় (এল, এ কেস নং-২ তারিখ ৭-১০-১১২০)। অন্য রাস্তাটি বেনেখামার পূর্ব সড়ক (বি, কে, ইষ্ট লেন) বেনে পাড়া থেকে কালীবাড়ী পর্য্যন্ত দীর্ঘ ছিল। এই রাস্তার উত্তরাংশ ফেরীঘাট রোড থেকে বাইতী পাড়া সড়ক নামে বেনীবাবু রোড পর্যন্ত তেমন উন্নত করা হয়নি। পরে বেনীবাবু রোড থেকে বি, দে, রোড পর্যন্ত সংযোগ রাস্তা হিসাবে কিছু সংস্কার করা হয়, বাকী অংশ কালিবাড়ী পর্য্যন্ত প্রশস্ত করে নির্মিত হয়। আরও একটা রাস্তা বেনেখামারের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে সোজা উত্তরমুখী হয়ে দোলখোলার পাশ দিয়ে পঞ্চবীথি পার হয়ে বাজারের সাথে যুক্ত ছিল। রাস্তাটি পঞ্চবীথি থেকে ডাক বাংলার মোড়ে যশোর রোড পর্যন্ত সাহেবের কবরখানা রোড, তারপর ডেলটা ঘাট পর্যন্ত ক্লে, রোড নামে পরিচিত হয়। কোন কোন বিজ্ঞ প্রবীণের মতে এই রাস্তা পুরাতন যশোর সড়ক পর্যন্ত ছিল, সেখান থেকে বারে যশোর রোড ধরে কিছু দূর গিয়ে রেল এলাকার ষ্টিমার কোং বাংলোর পশ্চিম পাশ দিয়ে একটা রাস্তা হাটে গিয়ে মিশে ছিল। উল্লেখ্য বাংলোর পাশের রাস্তাটির (পূর্বে হেলাতলা জনপদের রাস্তা) কিছুদিন আগেও অস্তিত্ব ছিল। পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে যে পরিকল্পিত শহর এলাকায় সড়ক নির্মাণে পরামানিক পাড়া, নির্জাসুর এলাকা, ফকির বাড়ী লেন, বাবু খান রোড, প্রথম ও দ্বিতীয় গলি বাদে মুন্সিপাড। এলাকায় পূর্বের পায়ে চলার সরু রাস্তা গুলিতে উন্নয়ন বা সংস্কারের ছোয়া লাগেনি। পরবর্তীতে প্রয়োজনের তাগিদে এইসব পায়েচলা রাস্তার পাশের জমির মালিকরা কিছু কিছু জমি ছেড়ে দিয়ে প্রশস্ত করে নেন এবং এই শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত পৌরসভা এসব এলাকায় কোন কোন রাস্তায় কিছু খোয়া বিছিয়ে দিয়ে পাকা রাস্তা তৈরীর কৃতিত্ব অর্জন করেন।

শহরে সরকারী ও আবাসিক এলাকার সাথে বাজার এলাকায় পরিকল্পিত বাজার গঠনের সময় ক্লে রোড থেকে নড়াইল কাছারির পুর্বে পুরাতন বাজার রাস্তা পর্যন্ত প্রশস্ত করে সোজা একটা রাস্তা নির্মিত হয়। এই রাস্তা থেকে মাছের চাঁদনীর পশ্চিম পাশ দিয়ে একটা সংযোগ রাস্তা ও পূর্ব পাশ দিয়ে চালপট্টির সামনে থেকে পান চাঁদনীর পশ্চিম পাশ দিয়ে উক্ত রাস্তায় মিলিত হয়। সূতো পট্টির দক্ষিণাংশের কাপড় পট্টির সামনে দিয়ে আমঘাটের কাছে তুলো পট্টির সাথে যুক্ত ও পুব দিকে পুরাতন সড়বে সাথে নতুন সড়কের সরু সংযোগ রাস্তা ছাড়া বাজার এলাকায় আর কোন রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজন হয়নি। হেলাতলার মধ্য থেকে একে বেঁকে তুলোপট্টির মধ্য দিয়ে নদীর ঘাট পর্যন্ত যে রাস্তাটি গেছে এ রাস্তাটি এককালের সমৃদ্ধ হেলাতলার রাস্তা ছিল। হেলাতলা মোড়ের প্রশস্ত জায়গা রথযাত্রা, বৈশাখী মেলা ইত্যাদি কাজে ব্যবহৃত হোত। বিস্তীর্ণ রেল এলাকার সমস্ত বাড়ী-ঘর রাস্তা রেল কর্তৃক স্বতন্ত্র ব্যবস্থাধীনে নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করতেন। এই এল ‘কা রেল কর্তৃপক্ষ গৃহীত হওয়ায় স্টেশন রোড ও রেলওয়ে খেলার মাঠের পুব দিকের ডান পাশের পুরাতন রাস্তার পাশের পূরাতন রাস্তার বিকল্প দুটি নতুন রাস্তা নির্মাণ ও পুরাতন যশোর রোড ও পূর্ব বসতির যাবতীয় রাস্তা ছাড়া আর কোন রাস্তার প্রয়োজন হয়নি।

পরিকল্পিত শহর অংশ বাদে যে গ্রামগুলোকে নিয়ে পৌর এলাকা গঠিত হয়েছিল, সেখানে সরকারী উদ্যোগে রাস্তাঘাট নির্মাণের বা শহরের রাস্তার সাথে কোন সমতা রাখা হয়নি। পৌরসভা দু’একটি পাকারাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার, পরবর্তীতে শহর পাশের কিছু রাস্তার অংশ বিশেষ খোয়া বিছিয়ে পাকা করা ছাড়া কোন রাস্তা তৈরী হয়নি। ফলে শহরের সাথে লাগোয়া হয়েও শহুরে জীবনের ছোঁয়া লাগেনি এবং গ্রাম্য পরিবেশই রয়ে যায়।

শহরের রাস্তা নির্মাণের কাজ দ্রুততার সাথে হলেও একসাথে হয়নি এবং এ কাজ সম্পন্ন করতে বেশ সময় লেগেছিল। যতদূর জানা যায় প্রধান সড়কগুলি পাকা করার কাজ শুরু হয় এই শতকের গোড়ার দিকে এবং পৌরসভা ভবনের সামনের রাস্তা খোয়া বিছান হয় প্রথমে। এরপর ত্রিশের দশকে চেয়ারম্যান মহেন্দ্র কুমার ঘোষ পিচের রাস্তা তৈরী করেন। শহরের রাস্তাগুলির নামকরণ গঠনকালে সরকারী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণীয় করে রাখার মানসে তাদের নামে কিছু রাস্তার নামকরণ করা হয়। জেলার প্রথম প্রশাসক ডব্লিউ, এম, ক্লের নামে ক্লে রোড। তৃতীয় জেলা প্রশাসক (১৮৮৯) মিঃ বি, দের নামে বি, দে রোড, মহকুমা প্রশাসকের নামে ওয়েষ্ট মেকট রোড, পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান রেঃ গগণ চন্দ্র দত্তের নামে গগণ বাবু রোড, সিভিলসার্জন ও চেয়ারম্যান কে, ডি, ঘোষের নামে কে, ডি, ঘোষ রোড। চেয়ারম্যান কুঞ্জ বিহারী চক্রবর্তীর নামে কে, ভি, চক্রবর্তী রোড। তেমনি মহারাজ প্রতাপাদিত্যের নামে প্রতাপাদিত্য রোড। জেলার স্মরণীয় ব্যক্তি বিজ্ঞানী আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের নামে এ, পি, সি রোড। অপরদিকে সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন  কয়েকজনের নামে কয়েকটা রাস্তার নামকরণ করা হয়। বেনী মাধব রায়ের (কংগ্রেস নেতা) নামে বেনী বাবু রোড। অক্ষয় চ্যাটার্জির নামে অক্ষয় চ্যাটার্জী রোড, দীনবন্ধু ঘোষের নামে দীনবন্ধু রোড (বর্তমানে হাজী মহসিন রোড)। সারদা বাবুর নামে সারদা বাবু রোড (বর্তমান আহসান আহমদ রোড) এবং কৈলাশ দত্ত লেন (ঠিকাদার)। বাবু খান রোড এবং রামচন্দ্র দাস লেনের জন্যে জনাব বাবু খান ও রামচন্দ্র দাশ বাবু নিজেদের জমি দান করেছিলেন- সংগত কারণেই তাদের নামে এ দুটি রোডের নামকরণ করা হয়। এ ছাড়া শহরে এই শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ব্যক্তির নামে আর কোন রাস্তার নাম হয়নি।

শহরের বাকী রাস্তাগুলি যে লোকালয়ের মধ্যে ছিল অনেকাংশে সেই লোকালয়ের পরিচয়ে বা অবস্থান নির্ণয়ে নামকরণ হয়। যেমন বাজারের পুরাতন রাস্তা ওল্ড বাজার রোড। হেলাতলার মাঝের রাস্ত। হেলাতলা রোড। সাহেবের কবরখানার পাশের রাস্তা সিমেট্টি রোড। কালীবাড়ীর সামনের রাস্তা কালীবাড়ী রোড ইত্যাদি। তেমনি পৌর এলাকাভুক্ত গ্রামগুলির মাঝের অবস্থা একই রকম হয়। যেমন টুটপাড়া সেন্টাল রোড, টুটপাড়। বেনেখ, মার বাউণ্ডারী রোড। বাগমারা মেইন-রোড; বয়রা মেইন রোড ইত্যাদি। লোকালয় বা পাড়া ভিত্তিক যে রাস্তাগুলো তৈরী হয় সে গুলো স্ব স্ব পাড়ার নামে পরিচিতি হয়। যেমন রায়পাড়া রোড, বসু- পাড়া রোড, মিয়াপাড়া রোড, মিস্ত্রি পাড়া রোড, মুসলমান পাড়া রোড প্রভৃতি। এই সব রাস্তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে হয়েছিল বলে শোনা যায় না। ১৯২০ সালে জেলা জরিপের সময়ে লৌকিক নামগুলি (ক্যাডেস্টাল সার্ভে) রেকর্ড ভুক্ত করা হয়। লক্ষণীয় শহর বাদে পৌর এলাকার বাকী অংশে ব্যক্তিকে স্মরণীয় করে কোন রাস্তার নাম হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *