ষ্টীমার ও রেল

১৮৭৯ সালে যশোর থেকে খুলনা পর্য্যন্ত রেল লাইন সম্প্রসারণ ও স্টীমার সার্ভিস চালু করার তোড়জোড় শুরু হয় এবং ১৮৮০ সালে ক্লে রোডের উত্তর সীমায় ডেলটা ঘাট থেকে ষ্টীমার সার্ভিস চালু হয়। এর পরই জেলা ও জেলা সদর ঘোষিত হওয়ায় প্রকৃত পক্ষে শহর গঠনের অগ্রযাত্রা শুরু হয়।

১৮৮০ সালে যশোর থেকে খুলনা সদর পর্যন্ত রেল লাইন বসানো শুরু হয়। ষ্টেশন, রেল কর্মচারীদের বাসস্থান ও রেল লাইন বসানোর জন্যে চার্লীগঞ্জের হাটের নদীর পাড় দিয়ে একফালি জায়গা বাদে চাৰ্লী সাহেবের বাড়ীসহ সমস্ত চার্লীগঞ্জ হেলাতলার পশ্চিমাংশ মিয়াবাগ, শিববাড়ী গ্রানের বৃহদাংশ এবং শেখ পাড়া গ্রামের উত্তরের কিয়দংশ রেল এলাকার জন্য হুকুম দখল করে রেলওয়ের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। রেলের পার্ণাপাশি ষ্টীমার সার্ভিস রাখার জন্যে নদীর পাড় দিয়ে নড়াইল কাছারী থেকে সাত নম্বর ঘাট পর্য্যন্ত নদীর পাড় ও ষ্টেশনের উত্তর-পূব কোণে এক খণ্ড জমি স্টীমার কোম্পানীর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়। এই জমির উপর পাকা দেয়াল টিনের চালের স্টীমার ষ্টেশন নির্মিত হয়। ষ্টেশনের সামনে এক নম্বর ঘাট থেকে দুর পাল্লার যাত্রীবাহী ভারি ষ্টীমারগুলি যাতায়াত করতো।

বিস্তীর্ণ রেল এলাকার জন্যে নির্ধারিত হুকুম দখলী জমির উচ্ছেদকৃত বাসিন্দা চার্লীগঞ্জের কিছু ব্যবসায়ী পরিবার অবশিষ্ট হাট এলাকার মধ্যে উঠে আসেন এবং হেলাতলার (ক্লে রোডের পশ্চিম পাশের) বাকী বসতি ঐ অংশের পূর্ব-দিকে ও অন্যত্র সরে যায়। মিয়াবাগের সম্পূর্ণ এলাকা দখলীকৃত হওয়ায় বাসি দাগণ রেল এলাকার বাইরে আরও কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিমে সরে গিয়ে শিববাড়ীর পাশে পূর্ব নামে নতুন বসতি করেন এবং শেখপাড়ার উচ্ছেদকৃত পরিবারগুলি শেখপাড়ার মাঝে জায়গা করে নেয়। শিববাড়ী গ্রামের নদীর তীর ধরে বসতি পাল কুণ্ড ও কাকারের। এবং কয়েকটি বারুজীবী পরিবার বিভিন্ন জায়গায় বসতি করে। এ সবের মধ্যে পালদের কয়েকটা পরিবার নদীর অপর পারে দেয়।ড়া গ্রামে বসতি করে, বাকীরা বয়রা মধ্যে উঠে এসে নতুন পালপাড়া গঠন করে। কুণ্ড রাও অনুরূপভাবে কয়েকটি পরিবার রেনেখামার মধ্যে বাকী সকলে বয়রার দক্ষিণে বিলের পাশে বসতি করে কুণ্ডু পাড়া নামকরণ হয়। বারুজীবীরা সক লেই খালিশপুর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে বসতি করেন। আলোচিত এলাকার অম্লান মুসলিম পরিবার সোনাডাঙ্গায় বসতি করেন। এ ছাড়া রেলওয়ের দখলীকৃত সীমার মধ্যে তাম্যদের কোন বসতি ছিল কিনা তা পরিষ্কার নয়, থাকলেও সম্ভবতঃ তারা আরও সরে যেয়ে গ্রামের মধ্যে বসতি করেছিলেন।

আলোচিত রেল এলাকার মধ্যে তৎকালীন যশোর রোড (ক্লে রোড থেকে জোড়াগেট পর্যন্ত) অন্তর্ভূক্ত হয়। পরে জেলা সদর ঘোষিত হওয়ার পর রেল এলাকার দক্ষিণ পাশ দিয়ে বিকল্প রাস্তা বা বর্তমান যশের রোড (ডাক বাংলা থেকে জোড়াগেট) নির্মিত হয়। পূর্বতন যশোর রোডের দক্ষিণ পাশে ও ফেরীঘাট রোডের উত্তর প্রান্তের সামান্য পশ্চিমে প্রথম রেলষ্টেশন নির্মিত হয়। এই ষ্টেশনে যাতায়াতের পুরাতন যশোর সড়কই প্রধান রাস্তা ছিল। ১৮৮৫ সালে এই ষ্টেশন পর্য্যন্ত রেলগাড়ী চালু হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *