শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন
(অসম্পূর্ণ)
শহর খুলনার আদি পর্ব – আবুল কালাম সামসুদ্দিন
প্রকাশক : খুলনা সাহিত্য মজলিশ
প্রথম প্রকাশ : পৌষ ১৩৯৩’, ডিসেম্বর ১৯৮৬ ইং
মুদ্রণ সংখ্যা : এক হাজার
মুদ্রণে: এ, এফ, এম, শামসুর রহমান
দি ইষ্টার্ণ প্রেস, খুলনা।
প্রচ্ছদ : নিরঞ্জন রায়
ব্লক : সিটি ব্লক, খুলনা
মূল্য :
সাদা : সাতাশ টাকা মাত্ৰ
লেখক : বাইশ টাকা মাত্র
পরিবেশক : মডার্ণ বুক ডিপো
কে, ডি, ঘোষ রোড, খুলনা।
ষ্টুডেন্ট ওয়েজ
৯, বাংলাবাজার, ঢাকা–১, ফোন : ২৫১০৩৭
KHULNA SHAHORER AADI PARBA BY ABUL KALAM SHAMSUDDIN Published by Shahetya Majlish, Khulna. Printed at the Eastern Press, Sir Iqbal Road, Khulna. First Edition, December, 1986. Price; Taka Twenty Seven (White), Taka Twenty Two Only (Leakhak).
.
উৎসর্গ
মা–কে
[ আমার মা!
যার প্রভাব ছিল আমার পরে একটু বেশী। তিনি চেয়েছিলেন শহরের কথা লেখা হোক।
কেননা তার দেখা শহরের কিছু অতীত কথা লোকে জামুক। কিন্তু আমার মা’কে নতুন শহরে জায়গা দিতে যে নিঃস্ব আদিবাসী মা দুধের সস্তানকে বুকে নিয়ে আশ্রয়টুকু ছেড়ে দিলেন তার কথা কে বলবে? ]
.
প্রসঙ্গ কথা
আমরা খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বসবাসরত নাগরিক মূলতঃ খুলনা শহরের বুকে আজকের এই যে নিয়ন বাতির ঝলকানি—এটা কোন যাদু মন্ত্রের বিষয় নয় অনেক শতাব্দীর পথ ধরে, পরিবর্তন বিবর্তনের ধারা বেয়ে তবেই খুলনা শহরের আকাশমুখী যাত্রার শুরু হয়েছে। আশ্চর্য হলেও সত্য যে, যে মাটি আমাদের লালন করেছে—বড় করে তুলেছে তার উত্থান পতন সম্পর্কে বলতে গেলে আমরা অনেকেই কিছু জানিনা। কৌতূহল যে নেই তা নয় কিন্তু সাহসী কোন হাতের পথ চেয়েছিলাম। অবশেষে আমাদের সেই কৌতূহলের নিবৃত্তি ঘটাতে এগিয়ে এলেন জনাব আবুল কালাম সামসুদ্দিন শহর খুলনার আদি পৰ্ব নিয়ে।
সুতরাং, বলার অপেক্ষা রাখেনা, নিজের শহর খুলনার আদি গর্ব সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল হবো এবং আমাদের মতো অনেকেই আজকের খুলনাকে অতীত ইতিহাসের পটভূমিতে নূতন করে দেখার সুযোগ পাবেন, একথা ভেবেই খুলনা সাহিত্য মজলিশ সোল্লাসে বইটির প্রকাশনা পরিকল্পনার কিছু দায় দায়িত্ব
নিয়ে “শহর খুলনার আদি পর্ব” প্রকাশের পথে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। আমরা সকলেই এই ঐতিহাসিক গ্রন্থটির বহুল প্রচার কামনা করি।
আমীর আলী জোয়ার্দার
(অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ)
সভাপতি
খুলনা সাহিত্য মজলিশ
খুলনা।
.
লেখকের কথা
আমার কথাই শেষ কথা নয়। কথা ছিল, এখানে সেখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এখনও আছে, ভবিষ্যতেও কথা থাকবে। শহর খুলনার আদি পর্ব খুঁজতে গিয়ে যেসব তত্ত্ব ও তথ্য পেয়েছি তা আশাব্যঞ্জক না হলেও হতাশায় একেবারে দেউলে হইনি বরং একটি সত্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টায় গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে আমাকে ছুটতে হয়েছে। যেখানে যা পেয়েছি খুব যত্নভরে তুলে আনার চেষ্টা করেছি—তবুও অনেক কথা হয়তো এখনও আগামী দিনের কোন স্বতৃষ্ণ গবেষকের পথ চেয়ে পড়ে আছে।
তবে একথা সত্যি বাংলা নতুন নতুন দ্বীপ সৃষ্টি বা ভূমি গঠন করেছে গাঙ্গেয় পলির ছোঁয়া নিয়ে এবং তা ক্রমে এগিয়ে গেছে দক্ষিণ থেকে দক্ষিণে। মানুষও অবস্থানের পরিবর্তন এনেছে নতুন ভূমি আকর্ষণে। এক্ষেত্রে ভূমির গঠনের সাথে মানুষের বসবাস অবিচ্ছেদ্য। প্রাচীনকাল থেকে নদ-নদীর দু’কুল ধরে গড়ে উঠেছে বহু সমৃদ্ধ জনবসতি ও নগর জনপদ । প্রাকৃতিক বা রাজনৈতিক কারণে কখনও কখনও এসব এলাকা পরিত্যক্ত বা বিলুপ্ত হয়েছে। পরিবর্তে এই ধ্বংসস্তুপের উপর আবার গড়ে উঠেছে নতুন জনপদ। পৃথিবীর চলমান আবর্তে এ সব খেলা নতুন কোন ঘটনা নয়। এর প্রেক্ষিতে একদিকে পুরাতন বসতির ঐতিহ্য তাদের আচার- আচরণ-সাংস্কতিক পটভূমি মাটিগর্ভে বিলীন হয়ে যায়, অন্যদিকে সেখানেই মাথা উচু করে দাঁড়ায় আর এক সভ্যতা।
এ ভাবেই সুন্দরবনের গা-ঘেঁষে মানুষের বসতির গতিধারার পরিবর্তন বয়ে গেছে যুগের পর যুগ। এই বিবর্তিত ধারায় প্রায় দেড়শ’ বছর আগে খুলনা শহরে নতুন নগর জনপদের সূচনা হয়েছিল। ইংরেজ সরকার ভৈরব তীরের প্রাচীন বসতির যে অংশে মহকুমা সদরের পত্তন করেছিলেন তারও উত্থানপতন ও বিবর্তনের একটা ইতিবৃত্ত ছিল এবং স্বাভাবিকভাবে এ বসতি শহর পর্বে বিলীন হয়ে যায়। সে কথা আজ ঘুমিয়ে পড়েছে বিস্মৃতির কোলে।
বড় শহর বা ঐতিহাসিক নগরের একাধিক ইতিবৃত্ত লিখিত আছে, কিন্তু বর্তমান শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছোট জেলা শহর খুলনার আটষট্টি বছরে শহরের অধিবাসীরা কে কোথা থেকে এসেছেন ও কিভাবে শহর গড়ে উঠেছে তার সবকথা সবারই জানা, এর ইতিবৃত্ত কোথায়! আর পূর্ব বসতির নিম্ন পেশার দারিদ্র পীড়িত দু’চার জন যারা ছিলেন তারা নবাগতদের আর্থসামাজিক প্রতিপত্তির প্রতিযোগিতায় ও শহর গঠন ক্রিয়ায় নেহায়েত অবজ্ঞাত। যার ফলে কোন ইতিবৃত্তের কথা কেউ ভাবেননি। ’৪৭ সালে খুলনা পাকিস্তান ভুক্ত হলে এতোদিনের শহরের বসতির নতুন করে পরিবর্তন শুরু হয়।
পঞ্চাশের দশকে নতুন রাষ্ট্র পাকিস্তানের কাছে খুলনার গুরুত্ব গভীরভাবে অনুভূত হয় এবং নতুনভাবে বিন্ন্যাস করে বন্দর ও শিল্প নগরীতে রূপায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ সাপেক্ষে শহরের দ্রুত রূপান্তর হতে থাকে। এক পর্যায়ে নবাগত বসতির কাছে শহর গঠন পর্বের অনেক উপ-কথার সৃষ্টি হয় যার সাথে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক ছিলনা। এর ফলে ষাটের দশকে একটা বাস্তনানুগ তথ্যভিত্তিক ইতিবৃত্ত অনুভূত হয় কিন্তু তা আলো-পানির অভাবে নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে।
প্রায় এক দশক আগে আমার অনেক শুভানুধ্যায়ীর প্রেরণায় কাজ শুরু করি এবং সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নথিপত্র, শহরের প্রবীণদের সাক্ষাৎ সহ তাদের সাথে আলোচনা করে তথ্যভিত্তিক ইতিবৃত্ত তুলে ধরতে চেষ্টা করেছি। এদের অনেকেই আজ লোকান্তরিত। বাহুল্য হলেও সত্য যে, সেই চেষ্টার ফসলই “শহর খুলনার আদি পৰ্ব”, অবশেষে পাঠক ও অনুসন্ধিৎসু রাজনদের হাতে তুলে দিতে পেরেছি—এটা যে সম্ভব হবে তা আদৌ কোন দিন ভাবিনি আর ভাবিনি বলেই সমস্ত ভুল-ত্রুটি সংক্রান্ত অপবাদ আসতে পারে জেনেও কিছুটা আনন্দ বোধ করছি।
আবুল কালাম সামসুদ্দিন
৮ নং মির্জাপুর রোড, খুলনা।
২৫–১২—৮৬
.
যাদের সহযোগিতা পেয়েছি
প্রকাশনায় : শেখ মোহাম্মদ ইসমাইল, ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবী, মির্জাপুর রোড। রশীদ আহম্মেদ, প্রাক্তন ছাত্রনেতা, মুক্তিযোদ্ধা ও এন এ পি নেতা। মোহম্মদ আব্দুল গনি, ব্যবস্থাপক, মেরী টাইম এভেন্সী, খুলনা।
তথ্য সংগ্রহে : সৈয়দুর রহমান, কবি ও শিশুতোষ গল্প লেখক, মির্জাপুর রোড। মতিয়ার রহমান; কবি ও যুব নেতা—মতিয়াখালি। শাদত রিপন, ছড়াকার ও ছোট গল্প লেখক—মতিয়া খালি। মোহাম্মদ হানিফ, তরুণ অনুসন্ধিৎসু—মির্জাপুর রোড, খুলনা।
বিভিন্ন ভাবে : আবদুল হালিম, (এ্যাডভোকেট লেখক, পুরাঘটিত বর্তমান। মীর আমীর আলি, লেখক—খুলনা শহরের ইতিকথা। আলি হোসেন মনির, নাটক ও ছোট গল্প লেখক–বাগমারা প্রধান সড়ক।
প্রেসকপি লিখেছে : সাবিনা মমতাজ ডলি, ছাত্রী, তড়িৎ কৌশল। মির্জাপুর রোড, খুলনা।
.
সাক্ষাৎকার ও আলোচনা
সৰ্ব্ব জনাব, দেলদার আহম্মেদ, প্রবীণ আইনজীবী ও প্রাক্তন মন্ত্রী। আবু মহম্মদ ফেরদাউস, সভাপতি, খুলনা জেলা ন্যাপ। আবদুল ওয়াহেদ, প্রবীণ আইনজীবী ও খুলনা গার্লস কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক। এ, বি, এম, রোকন উদ্দিন, প্রবীণ আইনজীবী। আঃ লতীফ, প্রবীণ আইনজীবী—টুটপাড়া। নজির আহম্মদ, প্রাক্তন সভাপতি, মোক্তার বার সমিতি। দীন মহম্মদ, রাজনীতিবিদ – বেনেখামার। আবু মহম্মদ ইউনুছ, প্রাক্তন পোষ্ট মাষ্টার। শরত্চন্দ্র সাহা, প্রবীণ আইনজীবী। আবুল হোসেন, সম্পাদক, নাট্য নিকেতন। শামছুল হুদা, প্রাক্তন সম্পাদক, জেলা ক্রীড়া সংস্থা। আফিল উদ্দিন, প্রাক্তন সম্পাদক, জেলা মুসলিম লীগ। ডাঃ দেবেন্দ্ৰ নাথ পাল, চিকিৎসক ও প্রাক্তন কংগ্রেস কর্মী। কালিপদ দাস (কালাদা) গরামানিক পাড়া (তালতলা)। আবু আহমেদ, প্রাক্তন পৌর কমিশনার, গোবরচাকা। মুহম্মদ আজিজ হাসান, সম্পাদক, উমেশ চন্দ্র পাবলিক লাইব্রেরী। রবীন্দ্র নাথ মজুমদার, সম্পাদক, আর্য্য ধর্মসভা। শঙ্কর রায় চৌধুরী, সম্পাদক, কয়লাঘাট কালী – বাড়ী, আবদুস ছাত্তার (ক্যাপ্টেন সাহেব) প্রাক্তন খেলোয়াড়, মুসলিম ক্লাব ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, কলিকাতা। শ্যামাপদ চ্যাটার্জী, প্রাক্তন খেলোয়াড়, টাউন ক্লাব। অমুল্য কুমার ব্যানার্জী, বেনেখামার (ক্ষিরোদ ব্যানার্জীর ভাই)। নওসের আলি খান, (দৌহিত্র, বাবু খান)—টুটপাড়া। অনিল ঘোষ, ঠিকাদার, কালীবাড়ী রোড। কিরণ চন্দ্র সরকার, প্রাক্তন জুরি, টুটপাড়া। শিবপদ হুই, ব্যবসায়ী – মির্জাপুর রোড। সাধন সরকার, প্রবীণ গায়ক ও সুরকার—মির্জাপুর রোড। সামছুদ্দিন, প্রবীণ গায়কও সংগীত শিক্ষক—টুটপাড়া। অজিত কুমার দেবনাথ, সম্পাদক কেশব চন্দ্ৰ সংস্কৃত বিদ্যা মন্দির। কালীদাস ব্যানার্জী, অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, রূপসা শ্মশান ঘাট কালীবাড়ী। মনিলাল দাস, প্রতিষ্ঠাকালীন কর্মচারী, খুলনা ইলেকটিক সাপ্লাই কোঃ লিঃ- তালতলা রোড। যোগেশ চন্দ্র দাস, আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক। শেখ শহিদুল ইসলাম, শিক্ষক—সোনাডাঙ্গা। শ্রীমতী বীণা রায়, হীরালাল রায়ের কন্ঠা—রায়পাড়া রোড। শ্রীমতী মলিনা দাস, স্ত্রী, প্রমথ নাথ দাস। মৌলবী হাসান আলি, প্রাক্তন মৌলবী ও রেজিষ্ট্রার টুটপাড়া কবরখানা। শেখ কোরবান আলি, গৃহস্থ—বেনে খামার। শেখ মহম্মদ আলি, ব্যবসায়ী – বেনে- থামার। শেখ শের আলি, চাকুরীজীবী—বেনেখামার। শেখ লুৎফার রহমান, বেনে, খামার। আজিজুর রহমান (ফেলু ফকির) – বেনেখামার। চন্দ্র কান্ত রায়, বাগমারা। আশুতোষ রায়, বানরগাতী। ছাকায়াত হোসেন, প্রাক্তন শিক্ষক, সেন্ট যোসেফস স্কুল। গোপীনাথ দত্ত, প্রাক্তন কর্মচারী, চেম্বার অব কমার্স, নগেন্দ্ৰ নাথ পাল, দেয়াড়া, খুলনা।





Leave a Reply