ফারাজী পাড়ার পশ্চিমে মুসলিম প্রাধাণ্যপূর্ণ গ্রাম শেখ পাড়া। শেখ পাড়ার শেখের। এখানের পুরাতন অধিবাসী এবং তাদের বসতি আধিক্য হেতু নাম হয় শেখপাড়।। শেখ পাড়া গ্রামের স্বাতন্ত্র্য নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন যে, শেখপাড়া বিস্তীর্ণ শিববাড়ী গ্রামের একাংশ এবং শেখেরা এ অংশে বসতি করায় শেখপাড়া নামে পরিচিত হয়। পাড়াযুক্ত গ্রামের নামের জন্যে এ ধারণা অমূলক নাও হতে পারে, তবে শেখপাড়া অনেক আগে থেকে স্বতন্ত্র গ্রাম। ষাটের দশকের শেষের দিকে যশোর সড়ক থেকে শেখপাড়া প্রধান সড়কের প্রবেশ পথের ডান পাশের পুকুর পাড়ে (পুকুরটি এখন ভরাট করে একটা সিনেমা ঘর করা হয়েছে) রাস্তার পাশে একটা গর্ত খোড়ার সময় মানুষের কিছু হাড় পাওয়া যায়। এ ঘটনার কিছুদিন আগে এই গর্তের কাছেই টেলিফোন পোষ্ট পোতার সময়ও মানুষের কয়েকখানা হাড় পাওয়া যায়। হাড়দৃষ্টে গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ লোক এ জায়গা একটা পুরাতন গোরস্থান বলে অভিমত প্রকাশ করেন এবং গোরস্থানের অনেকখানি যশোর রোড প্রশস্ত করার সময় রাস্তার নীচে চলে যায়। এ থেকে অনুমিত হয় রেললাইন বসানোর সময় শেখপাড়ার উত্তরাংশ রেল কর্তৃক অধিগ্রহণ কালে উচ্ছেদকৃত কোন পরিবারের পারিবারিক গোরস্থান। শেখপাড়ার পশ্চিম সীমার মাঝামাঝি পুরানো মসজিদটি এ গ্রামের প্রথম মসজিদ। শেখপাড়া মুসলিম বসতি গড়ে ওঠার সময় এ মসজিদ নির্মিত হয়ে ছিল। মসজিদের পাশ দিয়ে গোররচাকা গ্রামের সাথে কয়েকটি রাস্তার সংযোগ শেখপাড়া গোবরচাকার ঘনিষ্ট যোগাযোগের আভাস দেয় এবং গোবরচাকা গ্রামের পূর্বাংশের লোক এই মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। মসজিদের দক্ষিণ পাশের জলাশয় ও তার পাড়ের প্রাচীন একটা তেঁতুল গাছ মসজিদের প্রাচীনত্বে অনুকূল পরিচয় বহন করে। এলাকার প্রবীণেরা প্রায় সকলে একমত যে কয়েক পুরুষ আগে মসজিদটি গ্রামবাসীদের উদ্যোগে নির্মিত হয়েছিল এবং কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে।
